বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অসহযোগ আন্দোলন শুরু

শিক্ষক পদোন্নতি জটিলতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় শিক্ষকসমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. ধিমান কুমার রায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে অনেক শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও ইউজিসির নির্দেশনার অজুহাতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে রাখা হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যেই বহু শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ড ও সিন্ডিকেট সভা আয়োজন না করে বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় ফেলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, একই দাবিতে এর আগে ‘কমপ্লিট একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কেবল পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হলেও পাঠদানসহ অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম এখনো স্থবির রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইউজিসির মতামতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২৫টি বিভাগের অধিকাংশেই একাধিক ব্যাচ চালু থাকলেও অনেক বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র তিন থেকে চারজন। অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী ৪০১টি শিক্ষকের পদ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অনুমোদিত রয়েছে মাত্র ২৬৬টি। এছাড়া প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পর্যায়ে অন্তত ৫১টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মোহসীন উদ্দীন, সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ইসরাত জাহান, আইন বিভাগের ডিন সরদার কায়সার আহমেদ, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তারা সাড়া দেননি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইঙ্গিত দেন তিনি।

এদিকে আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা দ্রুত সংকট সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।

“এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ : রাজধানীর সাতটি কলেজ নিয়ে গঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়া রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাভ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহ, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে জনমত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে অংশীজনদের যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী কাঠামো নির্ধারণ করাই ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য। মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে অগ্রগতির তথ্য সর্বসাধারণকে সময়মতো অবহিত করা হয়েছে।

২০১৭ সালে এই ৭ কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করা হয়। এগুলো হলো, ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত এই ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে।




শাকসু নির্বাচন, ইসির প্রজ্ঞাপন জারি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: অবশেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আচরণবিধি মেনে আগামী ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত তারিখেই এ নির্বাচন আয়োজন করা যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা–২ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানায় ইসি।

ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দেশিত শর্তাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করলে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

ইসির চিঠিতে উল্লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




ভিপি পদে এগিয়ে রিয়াজুল, জিএস পদে আলীম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা ৫ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মধ্যরাতে পুনরায় ভোট গননা শুরু করে  আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে নির্বাচন কমিশন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে চারটি বিভাগের (কেন্দ্র) ফলাফল ঘোষণা করছে।

ঘোষিত চার বিভাগের ফলাফলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে এগিয়ে আছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৪২৮ ভোট।

চার বিভাগে ভিপি পদে রিয়াজুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের এ কে এম রাকিব। তিনি পেয়েছেন ৩৯৪ ভোট

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৪১৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের আব্দুল আলীম আরিফ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের খাদিজাতুল কুবরা। তিনি পেয়েছেন ২০৬ ভোট।

সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে এগিয়ে অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৪০৮ ভোট। একই পদে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৩২২ ভোট।

নির্বাচন কমিশন জানায়, অন্য বিভাগগুলোর ফলাফল গণনা চলছে। ধারাবাহিকভাবে সেগুলো জানিয়ে দেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়।




জকসু নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু ৬৫ শতাংশ ভোটাররা ভোট দিয়েছেন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জকসু নির্বাচনের নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক জুলফিকার মাহমুদ জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে প্রায় ৬৫ শতাংশ। ।

ভোট গণনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখনই ভোট গণনার কাজ শুরু করব। প্রথমে ব্যালট পেপার ম্যানুয়ালি স্ক্রিনিং করে দেখা হবে, ব্যালটে ক্রস চিহ্ন ছাড়া অন্য চিহ্ন আছে কি না। ক্রস ছাড়া অন্য কোনো চিহ্ন কোনো প্রার্থী নামের পাশে থাকলে, ওই পদের ভোটটি বাতিল হবে।’

আজ সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ। তবে নির্ধারিত সময়ের পরও বেশ কয়েকটি বিভাগের কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এসব ভোটারও ভোট দিয়েছেন।

সব কেন্দ্রের ভোট শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স আনা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষে। ভোট গণনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে স্থাপনা করা এলইডি স্ক্রিনে সরাসরি দেখানো হবে।

নির্বাচন কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ২১টি পদে ১৫৭ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হলের সংসদের ১৩টি পদে ৩৩ জনসহ মোট ৩৪টি পদের বিপরীতে ১৯০ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জকসু নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। এতে মোট চারটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সেগুলো হলো ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বাম জোট–সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি–সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।

এ ছাড়া স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে বেশ কয়েকজন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে ভিপি (সহসভাপতি) পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদে ৯ জন আর এজিএস (সহসাধারণ সম্পাদক) পদে লড়ছেন ৮ জন।




আজ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে থাকার নির্দেশ, ভুল উত্তরে নম্বর কর্তন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশের ১৭টি কেন্দ্র ও ৪৯টি ভেন্যুতে আজ শুক্রবার সকাল ১০টায়  ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা  অনুষ্ঠিত হবে।

সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশনা অনুযায়ী, ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এরপর কেন্দ্রের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় গত বছরের তুলনায় ১৫ মিনিট বাড়িয়ে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট করা হয়েছে। লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কর্তন করা হবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, এবারের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার সময় ১৫ মিনিট বাড়িয়ে এক ঘণ্টা ১৫ মিনিট করা হয়েছে। এবারের নতুন যোগ হওয়া মানবিক গুণাবলি বিষয়ের কারণে ১৫ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের রঙিন প্রবেশপত্র, কালো কালির স্বচ্ছ বলপয়েন্ট কলম, এইচএসসি/সমমান পরীক্ষার প্রবেশপত্র/রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে হবে। কোনো ব্যাগ, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটরসহ যে কোনো ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ঘড়িসহ অন্য কিছু নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সকাল সাড়ে ৯টায় পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশ পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বছর লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের (এইচএসসি বা সমমানের সিলেবাস অনুযায়ী) প্রতিটি ১ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের বিষয়ভিত্তিক বিভাজন হলো যথাক্রমে জীববিজ্ঞান-৩০, রসায়ন-২৫, পদার্থ বিজ্ঞান-১৫, ইংরেজি-১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, প্রবণতা ও মানবিক গুণাবলি মূল্যায়ন-১৫।

পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০। পরীক্ষার সময় গত বছরের তুলনায় ১৫ মিনিট বাড়িয়ে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট করা হয়েছে। লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তর প্রদানের জন্য ০.২৫ নম্বর কর্তন করা হবে। এ ছাড়া, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হবে।

আর লিখিত পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে এই দুইয়ের যোগফলেই মেধাতালিকা চূড়ান্ত হবে।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কলেজে মোট আসন ১৩ হাজার ৫১টি। এর মধ্যে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৫ হাজার ১০০ এবং ডেন্টাল ইউনিটে ৫৪৫টি আসন রয়েছে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন রয়েছে ৬ হাজার ১টি এবং ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৪০৫টি। অর্থাৎ এমবিবিএস কোর্সে মোট ১১ হাজার ১০১টি এবং বিডিএস কোর্সে ১ হাজার ৯৫০টি আসন রয়েছে।




স্থগিত কর্মবিরতি—আজ থেকেই স্বাভাবিক পরীক্ষায় ফিরছে স্কুলগুলো

দেশের সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) চলমান কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আজ থেকে সারাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত সূচি অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা, একাডেমিক ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে অবকাশ সৃষ্টি করাই তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বুধবার থেকেই সারা দেশের সব বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মরত শিক্ষক, প্রশাসন ও দায়িত্বশীল সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।

সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, যেসব দাবি–দাওয়ার ভিত্তিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই চার দফা দাবি যথাযথভাবে এবং দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করে জানায়—সরকার যথোপযুক্ত উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষাকর্মসূচি ব্যাহত হবে না। সংগঠনের পরবর্তী নির্দেশনা আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই জানানো হবে।

উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর থেকে এন্ট্রি পদের বেতন ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা সহ চার দফা দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যান সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা এবং খাতা মূল্যায়ন থেকেও বিরত ছিলেন। তাদের এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। কর্মবিরতি স্থগিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন কমিটি গঠন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানি প্রতিরোধে নতুন অভিযোগ কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

বুধবার (২০ অক্টোবর ২০২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীনের স্বাক্ষরে এক অফিস আদেশে কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেহানা পারভীন। অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সরদার কায়সার আহমেদ,
  • বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও বরিশাল জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাফরুন নেছা রোজী,
  • মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, বরিশালের প্রোগ্রাম অফিসার জাহানারা পারভীন,
  • ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খাদিজা আক্তার (সদস্য-সচিব)।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট কর্তৃক যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংক্রান্ত নির্দেশনার আলোকে এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকি ভাতা প্রাপ্য হবেন এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ১৫ শতাংশ বাড়ালো অন্তর্বর্তী সরকার

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর অবশেষে তাদের দাবি আংশিক পূরণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শিক্ষকদের মূল বেতনের ওপর ১৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরারের সভাপতিত্বে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে প্রথম ধাপে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আরও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ি ভাতা কার্যকর হবে।

এ বিষয়ে শিক্ষক নেতা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ পেলাম। বিষয়টির সুন্দর সমাধান হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) থেকে আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাব।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জানান, “আজকের দিনটি শিক্ষা পরিবারের জন্য ঐতিহাসিক। দীর্ঘ আলোচনার পর সম্মানিত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ন্যায্য ভাতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এটি কোনো একক সাফল্য নয়—এটি যৌথ প্রয়াসের ফল।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছে। আমরা চেয়েছি একটি স্থায়ী সমাধান, যেখানে সম্মান, সংলাপ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমস্যার নিষ্পত্তি হবে। শিক্ষকদের আন্দোলন আমাদের বাস্তবতা শিখিয়েছে। এখন সময় শ্রেণিকক্ষে ফিরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর।”

শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি পূরণ করা শুধু আর্থিক বিষয় নয়, এটি শিক্ষা খাতের মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।”

সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সারাদেশে আন্দোলনরত শিক্ষক সমাজের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় ক্লাস শুরু হলে শিক্ষার্থীরাও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পাবে বলে আশা করছেন অভিভাবকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে কলেজের ৪ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি, খণ্ডকালীন শিক্ষকেই চলছে পাঠদান

পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুই শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ মাধ্যমিকের মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন চারজন। তাদের মধ্যে দুজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এ বছর গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১৮.৯৫ শতাংশ কম।

ফলাফলের তালিকায় পটুয়াখালীর এই কলেজের নাম উঠে আসে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের তালিকায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এস. এম. আবু তালেব বলেন, “আমরা নতুনভাবে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা শুরু করেছি। শিক্ষক সংকটের কারণে কেবল একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালানো হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনায় মনোযোগী নয়। তাই এমন ফল হয়েছে।”

প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, “যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করা গেলে পরিস্থিতি বদলাবে। আমরা চেষ্টা করছি ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য।”

উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ২০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজনও শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬৫টি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম