বরিশাল অফিস :: গ্যাসের অভাবে চরম দুর্ভোগ ভোলার শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে। তবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩ বছরের মধ্যে ভোলা পৌরসভার সব বাসা-বাড়িসহ শিল্প-প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। এতে কমবে দুর্ভোগ, ঘুড়ে দাঁড়াবে শিল্প-কারখানা। এছাড়া পাইপলাইনে বরিশাল ও পটুয়াখালী হয়ে ভোলার গ্যাস যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডেও।
মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, গ্যাসে সমৃদ্ধ দ্বীপজেলা ভোলা। এখানে এ পর্যন্ত তিনটি ক্ষেত্র শাহাবাজপুর, ভোলা উত্তর ও ইলিশা থেকে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। জেলায় মোট এক দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন গ্যাস মজুতের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ২২ লাখ মানুষের এই জেলায় সর্বপ্রথম ২০১৩ সালে আবাসিক গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে ২ হাজার ৩৭৪টি ঘর ও ১০টি শিল্পে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্যাসের অভাবে পর্যাপ্ত সুবিধা পাচ্ছে না ভোলাবাসী। ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না জেলার শিল্পখাত।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা এখানে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক আছি। যদি এখানে শিল্প কারখানা না হয়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যত কি হবে? ভোলার গ্যাস ভোলার মানুষের ব্যবহারের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি নজর দেবে।’
ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানার বিশাল সম্ভাবনা দেখছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তাই প্রথমে ভোলার পৌর এলাকা ও শিল্পে সরবরাহ কথা ভাবছেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক বাড়িতে গ্যাস মিটার দিয়ে, আমরা গ্যাসের সংযোগ দিয়ে তারপরে বাকি গ্যাস বরিশালে নিয়ে যাব। আগে ভোলাতে আমরা শিল্পে সংযোগ দেব।’
ভোলার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাইপলাইনে বরিশাল ও পটুয়াখালীতে নেওয়া হবে, যা যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে।
নসরুল হামিদ বলেন, ‘যে গ্যাস আমাদের খনন চলছে, সেখান থেকে প্রাপ্ত গ্যাস কীভাবে বরিশাল, পটুয়াখালিতে নিয়ে যাওয়া যায়, সেটারও পরিকল্পনা আমরা করে ফেলেছি ইতিমধ্যে। তার সাথে একটা পাইপলাইন আমরা কীভাবে নির্মাণ করব, সেটার রুট প্ল্যান হয়ে গেছে।’
বর্তমানে ভোলায় ৯টি গ্যাস কূপের সন্ধান মিলেছে। এখানে আরও ৯টি অনুসন্ধান কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ভোলায় নতুন কূপ অনুসন্ধানে আলোর মুখ দেখছেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী নদীর তলদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পাইপলাইন নির্মাণ করে এই গ্যাস দেওয়া হবে জাতীয় গ্রিডে। এতে কমবে দেশে গ্যাস সংকট।