রিজার্ভ চুরি : তদন্তে সাবেক গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১২ কর্মকর্তার নাম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। এরপর পানি গড়িয়েছে অনেক দূর পর্যন্ত। সময় অতিবাহিত হয়েছে আট বছর। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বেই চাউর হয় এই রিজার্ভ চুরির ঘটনা। কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে জনগণের গচ্ছিত অর্থ এবং দেশের সম্পদ লুটের সেই ঘটনা তদন্তে এবং রহস্য উদঘাটনে অনেক দেশের সহযোগিতা নেয় বাংলাদেশ সরকার। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও মামলা হয় ভয়ঙ্কর এই চুরির ঘটনায়। বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির ওই ঘটনায় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষের দিকে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তৎকালীন গভর্নরসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ৭৬ জন বিদেশি আসামিকে শনাক্ত করেছে সিআইডি।

বাকি কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন একজন নির্বাহী পরিচালক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), একজন মহাব্যবস্থাপক (বর্তমানে ডেপুটি গভর্নর), চারজন যুগ্ম পরিচালক (তাদের দুজন বর্তমানে উপ-মহাব্যবস্থাপক, একজন যুগ্ম পরিচালক ও একজন অবসরে), তিনজন উপ-মহাব্যবস্থাপক (দুজন বর্তমানে জিএম) ও দুজন উপ-পরিচালক।

 




বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিলো ভারত

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশে সরকারিভাবে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে ভারত। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় উদ্দেশে এসব দেশে সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

 এর আগে, পবিত্র রমজান মাসে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমাতে নির্দিষ্ট পরিমাণে চিনি ও পেঁয়াজের অনুমতি দিতে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার। রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয় নিজ দপ্তরে বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের জানান, রোজার আগেই ভারত থেকে দেড় লাখ টন চিনি ও পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ও ১ লাখ মেট্রিক টন চিনি।

এক্ষেত্রে ভারতের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ১৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা ছিল উল্লেখ করে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জার্মানিতে থাকায় বৈঠকটি হতে একটু দেরি হচ্ছে। আশা করছি, সোম থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে কোনো এক সময় তারা বৈঠকে বসবেন।

বিশ্ব বাজারের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ রপ্তানিকারক ভারত। গত বছরের ডিসেম্বরে স্থানীয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির সরকার। জাতীয় নির্বাচনের আগে ভারতের বাজারে ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় দফায় আগামী মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ায় দেশটি।

 রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে দেশটির সরকার প্রথমে পেঁয়াজের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তারপরও আশানুরূপ ফল না মেলায় পেঁয়াজের রপ্তানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে ভারত।

সূত্র: ইকোনমিক টাইমস




বরিশালে বাড়ছে সয়াবিন চাষ

বরিশাল অফিস :: বরিশালে সয়াবিন চাষ বাড়ছে। আবহাওয়া ও মাটির গুণগত মানের কারণে সয়াবিনের উৎপাদনও ভালো হচ্ছে। কৃষকও হচ্ছেন লাভবান। তবে এ অঞ্চলের উৎপাদিত সয়াবিন ভোজ্যতেলের জন্য নয়, বরং বিক্রি হচ্ছে ফিশারিজ ও পোলট্রি ফিডের জন্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সয়াবিনই ভোজ্যতেল উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব। কৃষকদের আগ্রহ থাকায় উৎপাদনও বাড়ানো যেতে পারে। তবে সয়াবিনকে ভোজ্যতেলে রূপান্তর করতে যে ধরনের যন্ত্রপাতি ও কারখানা প্রয়োজন, তা এখনো দেশের কোথাও চালু হয়নি। কারখানা চালু হলে সয়াবিনের চাহিদা বাড়বে এবং কৃষক আরও লাভবান হবেন।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, বিভাগে ২০২৪ সালের বারি মৌসুমে ২৭ হাজার ৪৪ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে। এক মাস বাকি থাকতেই ২৬ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ শেষ হয়েছে।

গত বছরে একই মৌসুমে ২৭ হাজার ১১২ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যেখানে ২৭ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল। ২০ হাজার ৪৫১ হেক্টরেই উৎপাদন হয়েছিলে ৩২ হাজার ১৯৭ টন ফসল।

 

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. শওকত ওসমান বলেন, নিঃসন্দেহে সয়াবিনের আবাদ ও উৎপাদন এ অঞ্চলে বেড়ে যাওয়াটা সুখবর। তবে এখানকার উৎপাদিত সয়াবিন ভোজ্যতেলের জন্য নয়, যাচ্ছে ডেইরি, ফিশারিজ ও পোলট্রি ফিড তৈরির কারখানায়। বলতে গেলে এ কারণেই বরিশাল অঞ্চলে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে। বিভাগের মধ্যে বরিশাল ও ভোলা জেলার কয়েকটি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি সয়াবিন আবাদ হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারমূল্য পাওয়ায় সয়াবিনে কৃষকদের আগ্রহ বেশ। নদী তীরবর্তী এ অঞ্চলের মাটি বেলে দো-আঁশ হওয়ায় সয়াবিন চাষের জন্য বেশ উপযোগীও। আবার আমাদের এখানে আমন কাটতে কিছুটা দেরি হওয়ায় সরিষা চাষে তেমন একটা সময় হাতে থাকে না, থাকলেও ১৫ দিনের মতো। সেক্ষেত্রে সয়াবিন চাষের জন্য সময় হাতে থাকে দুই মাস।

এ কৃষিবিদ বলেন, সয়াবিন দিয়ে ভোজ্যতেলের পাশাপাশি সয়া ডাল, সয়া দুধ, বিস্কুট, লাড্ডুসহ ডেইরি, ফিশারিজ ও পোলট্রি ফিড তৈরি করা হয়। তবে স্থানীয় ঘানিতে ভেঙে তেল বের করার পদ্ধতি এখনো হয়নি দেশে। উত্তরবঙ্গে একটি বেসরকারি প্রজেক্ট চলমান। তবে সেটি চালু হলে হয়তো সয়াবিন থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আবাদ বাড়লেও সয়াবিনে লোকসান হওয়ার শঙ্কা নেই কৃষকদের। এর চাহিদা অন্যান্য বারি ফসলের চেয়ে অনেক বেশিই থাকবে। কারণ এ একটি ফসল দিয়ে নানান পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব। সয়াবিন চাষের কারণে জমিতে উর্বরতা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি এর শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

বরিশালের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, বরিশাল অঞ্চলে চাষ হওয়া বারি সয়াবিন-৫ এবং এর সঙ্গে বারি সয়াবিন-৬ আধুনিক জাত। স্থানীয় জাতের চেয়ে আমাদের এসব জাতের সয়াবিন থেকে ৪০ শতাংশ (কেজিতে ৪০০ গ্রাম) ভোজ্যতেল বের করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের কৃষকরা সয়াবিন পোলট্রি ফিডের জন্য চাষ করা হয় বলেই জানেন। কিন্তু এ ধারণা ঠিক নয়, কারণ সয়াবিনের ভ্যালু অন্য ফসলের মতো নয়। এ সয়াবিন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কেক, দুধ, সস, বিস্কুট, জুস, ভোজ্যতেল, ফিশারিজ ও পোলট্রি ফিড উৎপাদন করা যায়। তাই উৎপাদন বাড়লেও এর দামে প্রভাব পড়ার শঙ্কা নেই, তাই এটি লাভজনক ফসলই বলা যায়। সেক্ষেত্রে এ অঞ্চলের চাষিদের সয়াবিন চাষে আগ্রহী করা যেতে পারে। আর চাষ জনপ্রিয় করা গেলে ভোজ্যতেল উৎপাদনের দিকে ধাবিত হওয়া যাবে।

মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সয়াবিন থেকে ভোজ্যতেল বের করে তার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষঙ্গ মিশ্রণের যে প্রক্রিয়া, সেই প্রক্রিয়ার জন্য উপযুক্ত ঘানি বা কারখানা দেশে এখনো তৈরি হয়নি। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর আগে এমন উদ্যোগ নিলেও পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকায় সেখান থেকে তারা পিছু হটে। তখন তাদের দাবি ছিল, সারা দেশে উৎপাদিত সয়াবিন দিয়ে তেল উৎপাদন কারখানা পরিচালনা সম্ভব নয়। তবে কৃষকরা আগ্রহী হলে সয়াবিনের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশালে উৎপাদিত সয়াবিন লক্ষ্মীপুরের একটি ফিড কোম্পানি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কৃষকদের হাটে নেয়াসহ বাজারজাতকরণে কোনো ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয় না।

বরিশাল সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, চাষবিষয়ক যেকোনো পরামর্শ কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দেয়া হয়ে থাকে। ডিসেম্বর থেকে মার্চের প্রথম দিক পর্যন্ত বিশেষ করে শীতল আবহাওয়া সয়াবিন আবাদের জন্য ভালো সময়। আর তেমন কোনো রোগবালাই নেই এবং আবহাওয়াও অনুকূলে। ডিসেম্বরে যারা আবাদ করেছেন, ৯০ দিন পর অর্থাৎ মার্চের শুরুতে তারা ফসল ঘরে তুলবেন।

বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদের কৃষক সোহেল প্যাদা বলেন, দুই-তিন বছর ধরেই সয়াবিনের চাষ করছি, দিন দিন আবাদের পরিমাণের সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ছে। আর এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে ১৫ মণ সয়াবিন হলে বাড়িতে বসেই কোম্পানির কাছে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। অনেক সময় তা ৩৮-৩৯ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়। আর সয়াবিনে রোগবালাই তেমন নেই। নিয়মের বাইরে বেশি পরিচর্যারও প্রয়োজন হয় না, তাই উৎপাদন খরচও কম।




বাণিজ্যমেলার পর্দা নামছে আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :  শেষ হচ্ছে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ২৮তম আসরের। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ মেলার পর্দা নামবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেলার পরিচালক বিবেক সরকার। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণিজ্যমেলা উদ্বোধন করেন। দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ মেলা হতো শেরেবাংলা নগরে। কোভিড মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এরপর মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে ২০২২ সালে প্রথমবার মেলার আয়োজন করা হয় পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে। এবার তৃতীয়বারের মতো স্থায়ী ভেন্যু বাংলাদেশ-চীন এক্সিবিশন সেন্টারে বাণিজ্যমেলা অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে মেলার পরিচালক বিবেক সরকার বলেন, ব্যবসায়ীরা মেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানালেও মেলার সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। এর আগে বিকেল ৪টায় মেলা প্রাঙ্গণের দ্বিতীয়তলায় এক সমাপনী অনুষ্ঠান করা হবে। এ বছর প্রায় দেড় লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটেছে। বেচাবিক্রি কেমন হয়েছে তা এখন বলা সম্ভব না। আগামীকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া যাবে।




গলাচিপার চাঞ্চল্যকর সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

মো. আল-আমিন (পটুয়াখালী): র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং অপহরন, ধর্ষণ ও হত্যাসহ, বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতারে র‌্যাব নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারী ও আভিযানিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ বিকালে র‌্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার সবুজবাগ এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানার মামলা নং- ২৬, তারিখ- ২১/১১/২০২৩, ধারাঃ ১৪৩/ ৩২৩/ ৩২৬/ ৩০৭/ ৫০৬ দন্ডবিধি এবং সংযোজন- দন্ডবিধি ৩০২ ধারা; মামলার এজাহার নামীয় পলাতক প্রধান আসামী মোঃ আইয়ুব আলী (৩০), পিতা-মৃত ইদ্রিস সরদার, সাং-ধরান্দী, থানা-গলাচিপা, জেলা- পটুয়াখালী’কে গ্রেফতার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভিকটিম সোহাগ ও আসামিরা পরস্পর নিকট আত্মীয়। ভিকটিম সোহাগের সাথে আসামীদের টাকা লেনদেন নিয়ে পূর্ব হতে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২০/১১/২০২৩ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ০৬.৩০ ঘটিকার সময় আসামী আইয়ুবসহ অন্যান্য আসামীরা পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া এলাকায় একটি ঔষধের দোকানের সামনে অবস্থান করে। এসময় ভিকটিম উক্ত স্থানে আসা মাত্র  পূর্ব হতে ওৎ পেতে থাকা আসামীরা তাদের সঙ্গে থাকা লাঠি – সোটা, লোহার রড দিয়ে ভিকটিম সোহাগকে এলোপাথারি আঘাত করতে থাকে। ভিকটিমের ডাক চিৎকারে আসে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা উক্ত ঘটনাস্থল হতে চলে যায় ।
পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজন ভিকটিমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। ভিকটিমের শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাৎক্ষনিক ভাবে ভিকটিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম গত ২৮/১১/২০২৩ তারিখ রাতে মৃত্যুবরন করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামি উক্ত হত্যাকান্ডের সাথে তার সম্পৃক্ততার সত্যতা স্বীকার করেছে। সে মামলা রুজুর পর থেকে রাজধানীর সবুজবাগসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিল বলে জানা যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




যাত্রী নেই, কমছে লঞ্চ

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালী : পদ্মা সেতুর কারণে সড়কপথে ঢাকা-পটুয়াখালী চলাচল সহজ হয়েছে। নৌপথে কমেছে যাত্রীর সংখ্যা।

এদিকে লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেলের দাম কমলে ভাড়া কমানো যাবে অনেকটাই, তখন নৌপথে বাড়বে চলাচল।

এক সময় নৌযান শ্রমিক, কুলি আর হকারদের হাকডাকে সরগরম পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এখন অনেকটাই নীরব, কারণ আগের মতো আর লঞ্চ চলে না।
আগে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও পাটুয়াখালীতে চলাচল করতো স্বল্প দূরত্বের রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, বাউফল, মির্জাগঞ্জ ও দুমকির অভ্যন্তরীণ লঞ্চ। সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় এখন বেশিরভাগ লঞ্চই বন্ধ। এতে উপার্জন হারিয়েছেন লঞ্চঘাটের ফেরিওয়ালা, হকার, ক্ষুদ্র দোকানদার।

পদ্মাসেতু চালুর আগে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে প্রতিদিন চলতো চারটি বিলাসবহুল বড় লঞ্চ। এখন লঞ্চ চলে একটি। এক সময় নৌপথে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগতো ১২ ঘণ্টা। এখন সড়কপথে ৬ ঘণ্টায় যাওয়া যায় কুয়াকাটা। অবশ্য এখনো আয়েশী ভ্রমণের জন্য লঞ্চই পছন্দ করেন কেউ কেউ।




গলাচিপায় ইয়াবা সহ গ্রেফতার ১

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর গলাচিপায় ১৩৩ পিস ইয়াবা সহ একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ ।

ঘটনা সূত্রে জানা যায় শনিবার ১১টা ৫০ মিনিটের সময় গলাচিপার চিকনিকান্দি বাজারে ইয়াবা বেচা কেনার সময় তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তি হলেন চিকনিকান্দি ইউনিয়নের মাঝগ্রামের মোঃ নাসির প্যাদার ছেলে মোঃ রুবেল প্যাদা(৩২)।

উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীকে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে র‌্যাব বাদী হয়ে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানায় মাদকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।




বরিশালে মন্টু ভাইয়ের অনন্য স্বাদের চা

 বরিশাল অফিস :: ‘সন্ধ্যার পর মন টানে মন্টু ভাইয়ের দোকানে। এই দোকানের এক কাপ চা পান না করলে মনটা কেমন লাগে! চায়ের স্বাদ দীর্ঘসময় মুখে লেগে থাকে।’ বরিশাল নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কের পাশে টংঘরে মন্টু খানের চায়ের কথা এভাবেই বর্ণনা দিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান নামে নগরের রূপাতলীর এক যুবক।

মেহেদী প্রায় প্রতিদিনই এখানে চা পান করতে আসেন। শুধু তিনি একা নন, বন্ধুদেরও সঙ্গে নিয়ে আসেন। চা পান করতে করতে আড্ডা দেন।

সম্প্রতি সিঅ্যান্ডবি সড়কের উপজেলা পরিষদের সামনে মন্টু খানের চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা গেল, অনেক তরুণ-তরুণী বেঞ্চে বসে চা পান করছেন। সামনে অনেকগুলো মোটরসাইকেল সারবদ্ধভাবে দাঁড় করানো। মন্টু একের পর এক চা তৈরি করছেন আর তুলে দিচ্ছেন ক্রেতাদের হাতে।

মন্টু খানের চায়ের এত চাহিদা কেন, সে প্রশ্ন রাখতেই চায়ের মগে লম্বা চামচ দিয়ে ঘুটতে ঘুটতে মন্টু হাসলেন। এক কাপ চা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘একটু চুমুক দেন। হ্যোরপরই উত্তর পাইয়্যা যাইবেন।’ কাপ থেকে গরম চায়ের ধুয়া উড়ছে। চুমুক দিতেই বোঝা গেল, কেন এই চা পান করতে দূরদূরান্ত থেকে এখানে ক্রেতারা আসেন। দুধ জ্বালাতে জ্বালাতে গাঢ় হয়ে যাওয়ায় চিনি ছাড়াই মিষ্টি স্বাদ পাওয়া গেল।

মন্টু বললেন, ‘এই যে ডেকচিতে ঘন দুধ দেখেন, এতে কোনো কিছু মিলাই না। সব গরুর খাঁটি দুধ। ব্যবসা একটু কম করি, কিন্তু জিনিসটা ভালা দিই। মানুষ আমারে বিশ্বাস করে, চায়ে ভিন্ন স্বাদ পায়। এই জন্য সবাই আসে।’

এখানে দুই ধরনের দুধ চা পাওয়া যায়। গাঢ় দুধের চা ও স্পেশাল মালাই চা। গাঢ় দুধের অর্ধেক মগ চায়ের দাম ৩০ টাকা, পুরো মগ ৫০ টাকা। আর স্পেশাল মালাই চা এক কাপ ১০০ টাকা। মালাই চায়ের বিশেষত্ব সম্পর্কে মন্টু খান বলেন, ‘দুধ জ্বালানোর পর প্রথম যে সর পড়ে, সেটা তুলে রাখি। এরপর সেই সর মিশিয়ে তৈরি হয় মালাই চা। ফলে এই চায়ের স্বাদটা অন্য রকম।’

মন্টু খানের বয়স এখন ৫১ বছর। বাড়ি উপজেলা পরিষদের সামনের গলিতে। এখানেই বাবা-চাচাদের পৈতৃক বাড়ি। তাঁর তিন ছেলে। বড় ছেলে এইচএসসি পাস করেছে। মেজ ছেলে ভোকেশনালে একাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। স্ত্রী মমতাজ সংসার সামলান আর মন্টু দোকান।

মন্টু যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, পড়াশোনা ছেড়ে লেগে যান বাবার চায়ের দোকানের কাজে। বাবাকে সহায়তা করেন। এরপর থিতু হন এই ব্যবসায়। বিয়ের পর সংসার বড় হয়, চায়ের দোকানের আয়ে সংসার চলছিল না। তখন সিদ্ধান্ত নেন, ব্যবসার ধরন পাল্টাতে হবে। সেই অনুযায়ী মন্টু শুরু করেন বিশেষ ধরনের চা বানানো। এখন প্রতিদিন ৩০ কেজি দুধের চা বিক্রি করেন। এতে দোকানভাড়া, সব ব্যয় মিটিয়ে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা রোজগার হয়।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নাইমা সুলতানা, তনুশ্রী দত্তসহ কয়েকজন বসে চা পান করছিলেন। নাঈমা বললেন, ‘আমরা বান্ধবীরা মিলে প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি মন্টু ভাইয়ের চা পান করতে। না হলে মনে হয়, কী যেন একটা মিস করেছি। চায়ের স্বাদ অনন্য।’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজু রাজ বলছিলেন, ‘মন্টু ভাইয়ের মালাই চায়ের স্বাদ অতুলনীয়।’




পায়রা সেতুতে টোল আদায়ে ডিজিটাল লুটপাট: রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কের আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত ‘পায়রা সেতুর’ টোলের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেতুর টোল আদায় হলেও অর্থ লুটপাট ঠেকাতে পারেনি প্রযুক্তি। সেতু উদ্বোধনের পর থেকেই অর্থ লুটের মহোৎসব অব্যাহত রেখেছে পটুয়াখালী সওজ বিভাগ।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এএম আতিকুল্লাহর কাছে ২০২৩ সালের ৬ জুন লিখিতভাবে তথ্য চাইলেও আজ পর্যন্ত তিনি তা দেননি। পরে কৌশলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন- ‘সেতু থেকে ২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত টানা ৯ মাসে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ এর জুন পর্যন্ত টানা এক বছরে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ১৫ হজার ৭৯৫ টাকা টোল আদায় হয়েছে।’
অথচ সূত্র বলছে, সওজের দেয়া ওই তথ্যের চেয়ে পায়রা সেতুতে দুই থেকে আড়াই গুন বেশি টোল আদায় হয়েছে।

এসব জানতে সওজের কাছে একাধিকবার তথ্য চাইলেও তারা নানা কৌশলের আশ্রয় নেন। সর্বশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি আবার আবেদনের পরামর্শ দেন এবং পূর্বের আবেদন পাননি বলে দাবি করেন।
টোলের দুই-তৃতীয়াংশ লুটপাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনি কি পেয়েছেন সেটা আপনার ব্যাপার। আমাকে তথ্য দিতে হলে জেনে দিতে হবে। অন্য দিকে এসব প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সওজ। যে কারণে পায়রা সেতু সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

২০১৩ সালের ১৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীর লেবুখালী ফেরিঘাটসংলগ্ন পায়রা নদীর ওপর ‘পায়রা সেতুর’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। ২০২১ সালে নির্মাণ শেষ হবার পর ২৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করেন এবং সেতুতে যান চলাচল শুরু হয়। চট্টগ্রামের কর্নফুলী সেতুর আদলে নির্মিত ফোরলেন বিশিষ্ট ১২৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে অ্যাপ্রোচ সড়কের ‘পায়রা সেতু’ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ৪ মার্চ যানবাহন পারাপারে সেতুর টোল নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীই টোল বহাল রয়েছে।

সূত্র বলছে, সেতু খুলে দেয়ার পর টোল আদায়ে নিযুক্ত করা হয় এমএম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। যানবাহন চলাচল শুরু হলে ওভার লোডেড যানবাহন পারাপারের ক্ষেত্রে স্কেল ব্যবহার না করায় অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎসহ অব্যস্থাপনার অভিযোগ ওঠে সওজের বিরুদ্ধে। সেতুর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্কেল ব্যবহার শুরু করে সওজ। এতে টোলের অর্থ বাড়লেও দুর্নীতি বন্ধ হয়নি।

সূত্র বলছে, শুরু থেকেই আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে টোল আদায় করছে সওজ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে টোল আদায় হলেও প্রতিদিন আদায় করা টোলের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ভাগাভাগি ও লুটপাট করছেন সওজের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এছাড়াও টোল আদায়ে নিয়োজিত সংস্থা ও শ্রমিকরাও যে যার মতো অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পটুয়াখালীর লাউকাঠি নদীতে নির্মিত পটুয়াখালী সেতুতে গড়ে প্রতি মাসে টোল আদায় হচ্ছে প্রায় কোটি টাকা, যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ১১ কোটি টাকা। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পটুয়াখালী সেতুর থেকে পায়রা সেতুতে ১৪২.৪৫ শতাংশ বেশি টোল আদায় হচ্ছে। অথচ পটুয়াখালী সেতুর সঙ্গে সমতা রেখে কোষাগারে পায়রা সেতুর টোল জমা দিয়ে আসছে পটুয়াখালী সওজ।

সূত্র আরও বলছে, পটুয়াখালী – বাউফল সড়কের বগা ফেরি থেকে আনুষঙ্গিক খরচ ব্যয়ের পর প্রতিদিন গড়ে ৭৫-৭০ হাজার টাকা টোল আদায় করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার পরিমাণ বছরে দাঁড়ায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়াও গলাচিপা-বাউফল-দশমিনা রুটের সব যানবাহনকে পায়রা সেতু পাড় হয়েই গন্তব্যে যেতে হয়।
সূত্রমতে-বগা ফেরি পারাপার হওয়া এসব যানবাহন পায়রা সেতু পাড় হতে গেলে বগা ফেরির তিনগুণ টোল গুনতে হয়। যা বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকা।
সওজের সূত্রমতে পটুয়াখালী সেতুর থেকে পায়রা সেতু ১৪২.৪৫ শতাংশ এবং বগা ফেরি টোলের চেয়ে পায়রা সেতুতে ৬৩৫.০৫ শতাংশ বেশি টোল নির্ধারিত রয়েছে। আনুষঙ্গিক খরচ ছাড়া পটুয়াখালী ও বগা ফেরি থেকে বছরে প্রায় ১৯ কোটি টাকা টোল আদায় করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পটুয়াখালী সেতু ও বগা ফেরির টোলের থেকে পায়রা সেতুতে আড়াই/তিনগুণ টোল আদায় করা হচ্ছে। অথচ পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ গত বছরের ১৭ জুলাই যুগান্তরকে দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৩,৬৩,১৫,৭৯৫ টাকা এবং সেতু উদ্বোধনের পর ২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত ৮,৪৯,৭৭,০০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালী সওজের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে পায়রা সেতু থেকে ‘অপারেশন মেন্টেনেজ’ পদ্ধতিতে প্রতিদিন ৭ লাখ টাকা আদায় করছে সিএমএস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যা বছরে দাঁড়ায়-২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

সূত্র বলছে, পটুয়াখালী সওজের তৎকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশির ভাগ অর্থ লুটপাট করেছেন যা বিশেষ কৌশলে এখনো অব্যাহত রয়েছে। পটুয়াখালী সওজের নিযুক্ত টোল আদায়কারী সিএমএস প্রতিষ্ঠান শর্তানুযায়ী টোল আদায়ের ১৬ শতাংশ লভ্যাংশ পাচ্ছে। সূত্রের দাবি টোলের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে সওজ কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় এএম বিল্ডার্সের চুক্তি বাতিল করে সিএমএসকে নিয়োগ দেয় সওজ।

আরেকটি সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা গেছে-সওজের মধ্য ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব ও গণমাধ্যম এর পক্ষ থেকে টোল সম্পর্কিত তথ্য চাওয়া হলে ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট পটুয়াখালী সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিবুল জাহাঙ্গীর পায়রা সেতুর টোল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদনে-২০২৩ সালের ৫ আগস্ট ৫,৩৩,২৬০ টাকা, ৬ আগস্ট ৪,৬৬,৯৫৫ এবং ৭ আগস্টে ৩,৯৪,১২৫সহ মোট ১৩,৯৪,৩৪০ টাকা আদায় দেখিয়েছেন। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরে টোলের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ১৭ কোটি টাকা। অথচ সওজের দাবি ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৩,৬৩,১৫,৭৯৫ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

এছাড়াও টোলের দুর্নীতি ঢাকতে ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট পটুয়াখালী সওজের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান বরগুনা সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে সমন্বয়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এছাড়াও ওই বছরের ৩১ অক্টোবর নামকাওয়াস্তের একটি অডিট করে সওজ।
সূত্র বলছে, সওজ তাদের আর্থিক দুর্নীতি ঢাকতেই এসব তদন্ত ও অডিট করেছে। এ তদন্ত-অডিট নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতেও নারাজ সওজ।

এসব প্রসঙ্গে কথা বলতে তৎকালীন পটুয়াখালী সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সারা দেননি। আর পটুয়াখালী সওজের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ করিম এবং বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম আজাদ রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে, তারাও সাড়া দেননি।




মহিপুরে ২৪ কেজির দাতিনা মাছ ১ লাখ ২৫ হাজারে বিক্রি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২৪ কেজি ওজনের দুটি দাতিনা মাছ। এফবি মায়ের দোয়া নামে একটি ট্রলারে মাঝি লক্ষি মিয়ার জালে মাছ দুটি ধরা পড়ে। পরে মাছ দুটি ডাকের মাধ্যমে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় কেনেন মৎস্য ব্যবসায়ী সজীব হোসেন।

এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারে এ মাছ দুটি গত তিন দিন আগে গভীর সাগরে ধরা পড়ে। এরপর শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মৎস্য বন্দর মহিপুরের কুতুবদিয়া ফিস এ মাছ দুটি বিক্রির জন্য উঠানো হয়।

এ বিষয় মাঝি লক্ষি মিয়া বলেন, সচরাচর দাতিনা মাছ তেমন একটা পাওয়া যায় না। আমরা সাগরে ইলিশ ধরার জন্য জাল ফেলি। তখন হঠাৎ দেখি বড় কোনো মাছ, প্রথমে ভেবেছিলাম কোরাল মাছ পরে কাছাকাছি গিয়ে দেখি দুটি দাতিনা মাছ।

মহিপুর কুতুবদিয়া ফিসের মালিক বলেন, দাতিনা মাছ দুটি ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মণ হিসেবে কেজি প্রতি ৬ হাজার টাকা দরে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। মাছ দুটির ওজন ছিল ২৪ কেজি ৬৫০ গ্রাম।

এ বিষয় মৎস্য পাইকার সজিব হোসেন বলেন, দাতিনা মাছ মূলত সচরাচর ঘাটে তেমন একটা আসে না। আজ হঠাৎ দেখে ডাকের মাধ্যমে কিনে নিলাম। মাছ দুটি ৬ হাজার টাকা কেজি দরে কিনেছি, এখন বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠাব। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।

এ বিষয় কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নদ-নদী এবং সাগরের কাছাকাছি এলাকায় এই প্রজা‌তির মাছ পাওয়া যায় না। এরা মূলত গভীর সাগরের মাছ। এ মা‌ছের ফুলকা বিদেশে রপ্তানি করা হয়, যা দি‌য়ে ওষুধ তৈ‌রি করা হয়। মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দাতিনা ভোল মাছ তেমন একটা দেখা যায় না। তবে এই প্রজাতির মাছগুলো খুবই সুস্বাদু।