দ্রুতই ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে রেল যাবে পায়রায়: রেলপথ মন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ: রেলপথমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় রেল সংযোগ ও রেল পৌঁছে দেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দরে রেল পৌঁছে দেওয়া হবে। যার লক্ষ্যে রেলের কোচ ও ইঞ্জিন আমদানি করা হয়েছে। আরও কিছু আমদানি হবে।

আজ শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে রাজবাড়ী স্টেশনে এসে পরিদর্শন শেষে একথা বলেন রেলপথমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, রাজবাড়ীতে ১০৫ একর জায়গা নিয়ে একটি কারখানা করা হবে, যা সৈয়দপুর কারখানার চেয়েও বড়। এখানে সকল প্রকার মেরামত ও বগি তৈরির কারখানাও করা হবে।




ট্রান্সকম গ্রুপের দুই পরিচালকসহ ৫ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শতকোটি টাকা আত্মসাৎ ও অবৈধভাবে শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগে দেশের ট্রান্সকম গ্রুপের দুই পরিচালকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।



সূতাবাড়িয়া নদীতে নতুন ব্রিজ দৃশ্যমান

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের সূতাবাড়িয়া নদীতে স্বাধীনতার ৫২ বছর পরে ব্রিজের নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে নতুন ব্রিজ দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

ব্রিজের অভাবে হাজার হাজার মানুষের চরম দূর্ভোগ ও সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শুধুমাত্র ব্রীজটি না থাকায় সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা সদর পটুয়াখালী সহ দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার হাজার হাজার মানুষ ব্রিজের অভাবে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

উপজেলার আলীপুরা  ইউনিয়নের সূতাবাড়িয়া নদীর উপর সেতু নির্মান না করায় দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা সদরের মানুষ তাদের ভাগ্য পাল্টাতে পারছে না। বর্তমানে নদীর দুই প্রান্তে মানুষসহ যাত্রীরা নৌকা ও ট্রলারে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছে। প্রতিদিন অত্র এলাকার বাসিন্দারা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এভাবেই নদী পার হতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া মটর সাইকেল ও বাইসাইকেল যাত্রীদের পড়তে হয় মহা বিপদে। এভাবে পারাপার করতে গিয়ে প্রায়ই দূর্যটনা ঘটছে।

বিগত ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলীপুরা নদীতে একটি ব্রিজ নির্মানের পরিকল্পনা হাতে নেয়। তৎকালিন সময়ে সমীক্ষা চালিয়ে ব্রিজ নির্মানের স্থান নির্বাচিত করা হলেও পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। নদীর পূর্ব প্রান্তে খেয়াযাটের পার্শ্বে দশমিনা এবং পশ্চিম প্রান্তে গলাচিপা উপজেলা থেকে আসা টেম্পু ও টমটম থেকে যাত্রীরা নেমে নদী পারপার হয়। অথচ ব্রিজটি নির্মিত হলে বিভিন্ন যানবাহন সরাসরি গন্তব্যে যেতে পারতো। এতে সাধারন মানুষের সময় ও অর্থের অপচয় কম হতো। ব্রিজ না থাকায় বর্তমানে উল্লেখিত ২টি উপজেলার বাসিন্দারা কষ্ট করে যাতায়াত করছে। এতে যাত্রীসহ সাধারন মানুষের সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খেয়াঘাট নামে পরিচিত আলীপুরা নদীর দুই প্রান্তে যাত্রীদের জন্য কোন যাত্রী ছাউনি নেই। ফলে ঝড়-বৃষ্টির সময়ে সকলেরই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নদীর উপর ব্রিজ নির্মিত হলে দশমিনা, গলাচিপা উপজেলাসহ অত্র অঞ্চলের কৃষকদের ভাগ্য পাল্টে যাবে।

২টি উপজেলার বাসিন্দাদের দীর্যদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আলীপুরা নদীতে একটি অত্যাধুনিক ব্রিজ নির্মানের জন্য সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করা হলে অবশেষে আশা পূরণ হচ্ছে।

জেলা সদর পটুয়াখালীর সাথে সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আলীপুরা নদীর এই খেয়াযাটটি গুরুত্বপূর্ন বলে বিবেচিত। উপজেলা সদরে কোন কাজে আসতে হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। ফলে ২টি উপজেলার হাজার হাজার মানুষের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমানে ব্রিজের নির্মান কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি বছরেই নির্মান কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়।




রাঙ্গাবালীর চর হেয়ার পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াবে

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা চরটিতে রয়েছে পাখপাখালির অবাধ বিচরণ আর লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি। সেই সাথে রয়েছে ঝাউবাগান। প্রকৃতির এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মেলে পটুয়াখালীর চর হেয়ার দ্বীপে। এখানে হতে পারে পর্যটনের নতুন আকর্ষণ।

সাদা বক, পানকৌড়ি, বালিহাঁস ও গাংচিলসহ নানা পাখিদের অবাধ বিচরণ এ দ্বীপে। পাখা মেলে মুক্ত আকাশে এদের ওড়াউড়ি আর সমুদ্রের পানিতে খুনসুটি। গর্ত থেকে বের হয়ে আবার ঢুকে পড়া, এমন লুকোচুরিতে ব্যস্ত লাল কাঁকড়া। কখনো আবার দল বেঁধে বালিয়াড়িতে ছুটোছুটি।

প্রকৃতির এমন মনমাতানো রূপের দেখা মিলবে রাঙাবালী উপজেলার চর হেয়ারে।

শত বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা ডিম্বাকৃতির এ দ্বীপটির চারদিকে তিন কিলোমিটার বালুকাময় সমুদ্রসৈকত। আর মাঝখানে সারি সারি ঝাউবাগান। সৈকতে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত।

দ্বীপটির পরই বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। আর পশ্চিম পাশেই রয়েছে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকত। দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতটি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে।

এখানে ঘুরতে এসে মুগ্ধ পর্যটকরা বলেন, এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে ভালো লাগছে। এখানে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে। অতিথি পাখি, লাল কাঁকড়া আমাদের মুগ্ধ করেছে। এখানে কোনো প্লাস্টিক বর্জ্য নেই।

এদিকে চর হেয়ারকে ঘিরে আধুনিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। পটুয়াখালী-৪ সংসদ সদস্য (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী) অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, জাহাজমারা এবং চর হেয়ার পর্যটন বিকাশের জন্য একটি সুন্দর এলাকা।

জাহাজমারা এমন একটি এলাকা যেখানে সূর্যাস্ত ও সূর্যোয়ের পরিপূর্ণতা একসঙ্গে দেখা যায়। এ ছাড়া চর হেয়ার বনাঞ্চলে ঘেরা খুবই অনিন্দ্য সুন্দর। ভবিষ্যতে জাহাজমারা ও চর হেয়ারকে সংযুক্ত করার আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সাথে পর্যটনের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও। ইতোমধ্যে জাহাজমারা রাস্তা বরাবর উন্নয়ন কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এ দুই অঞ্চলের পর্যটনের বিকাশের স্বার্থে আমরা অবকাঠামো বিকাশের ব্যবস্থা নিয়েছি।

ইতোমধ্যে জাহাজমারা সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি সংস্থাগুলো উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দ্বীপটিতে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম রাঙ্গাবালী থেকে ২০ কিলোমিটার নৌপথ। স্পিডবোট বা ট্রলারযোগে এখানে পৌঁছাতে হবে।




জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় বিবাহবিচ্ছেদ কমে গেছে যুক্তরাজ্যে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্যমতে, ২০২২ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ৮০ হাজার ৫৭টি বিবাহবিচ্ছেদ অনুমোদন করা হয়েছে। ১৯৭১ সালের পর বার্ষিক বিবাহবিচ্ছেদের এই সংখ্যাটি এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।

এ বিষয়ে ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিবাহবিচ্ছেদ এক-চতুর্থাংশেরও বেশি (২৯.৫ শতাংশ) কমে গিয়েছিল। ২০২১ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বিচ্ছেদ হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৫ দম্পতির।

বিবাহবিচ্ছেদের হার কমে যাওয়াকে বিস্ময়কর বলে বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ আইন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে চার্লস রাসেল স্পিচলিসের অংশীদার সারাহ জেন বুন মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংকটের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক চ্যালেঞ্জগুলো বিবাহবিচ্ছেদের হার হ্রাসে সম্ভবত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কারণ, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক দম্পতি একসঙ্গে থাকার অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোকেই হয়তো বিবেচনা করছেন।

বুডল হ্যাটফিল্ডের অংশীদার কেটি ও’ক্যালাগান বলেন, ‘এটি একটি অভূতপূর্ব হ্রাস। জীবনের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর ওপর যে চাপ সৃষ্টি করেছে, তা হেলাফেলার নয়। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য অনেকে বিচ্ছেদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে এখন সতর্ক।’

এদিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের এপ্রিলে যুক্তরাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদ আইন ও প্রক্রিয়া সংস্কার করে নতুন আইন কার্যকর করা হয়। বিচ্ছেদের মুখোমুখি দম্পতিদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সম্ভাবনা এবং একে অপরকে দোষারোপের প্রবণতা হ্রাস করাই এই সংস্কারের উদ্দেশ্য ছিল। এ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের জন্য দম্পতিদের যৌথভাবে আবেদনের পদ্ধতি চালু করা হয়। এই পদ্ধতিও বিচ্ছেদ কমাতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন অনেকে।




ভোলার গ্যাস কেন বরিশালবাসী পাবেন না?

বরিশাল অফিস :: নদী যুগ যুগ ধরে বরিশালকে রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। সেটা ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জন্মগত দুঃখ। আর এই বিচ্ছিন্নতার কারণে কৃষি, মৎস্য, পর্যটনশিল্পে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থা পিছিয়ে ছিল। উন্নয়নের দিক দিয়েও ছিল পশ্চাৎপদ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে রাষ্ট্রীয় বণ্টন ছিল অসম।

কিন্তু পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের সেই দুঃখ মোচন হয়েছে। খুলে গেছে ভাগ্যদুয়ার। যোগাযোগব্যবস্থা মসৃণ হওয়ায় এখন বরিশাল আর ঢাকার দূরত্ব মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার। সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক পুনঃস্থাপিত হওয়ায় বরিশালকে ঘিরে দেশের অর্থনীতিতে নতুন এক স্বপ্ন দানা বেঁধেছে।

কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের গতি মন্থর করেছে শিল্প বিকাশের সুযোগ-সুবিধা কম। বরিশালে গ্যাস নেই। অথচ বরিশালের ভোলায় দেশের অন্যতম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। সেখানে উত্তোলিত গ্যাস ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

ভোলার গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা কোম্পানি সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার পাওয়া গ্যাস সেখানকার চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে ৮১ থেকে ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রতিদিন ব্যবহৃত হচ্ছে। এরই মধ্যে ভোলা আরও একটি বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রে আবিষ্কৃত হয়েছে।

ইলিশায় আবিষ্কৃত নতুন গ্যাসকূপকে ভোলার শাহবাজপুর আর ভোলা নর্থ নামে বর্তমানে আলাদ যে দুই গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, তা থেকে আলাদা মনে করছেন বাপেক্সের কর্মকর্তারা। শাহবাজপুর বা ভোলা নর্থ ফিল্ড থেকে এটা আলাদা একটা এলাকা, মাটির নিচে আলাদা একটা ফল্টে রয়েছে ইলিশার ক্ষেত্রটি। এখানে মাটির প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মিটার গভীরে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গ্যাস রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছর ভোলার উদ্বৃত্ত সেই গ্যাস ক্যাসকেড সিলিন্ডার পদ্ধতিতে অন্যত্র সরবরাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাইপলাইন স্থাপন না করায় সেই গ্যাস ভোলাবাসী যেমন পাচ্ছে না, তেমনি বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। অথচ ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারে করে নিয়ে ঢাকার রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলে কাজে লাগানো হচ্ছে। এটাকে অন্যায্য পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন এ অঞ্চলের মানুষ।

দেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেখানে গ্যাসের সরবরাহ রয়েছে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

প্রায় ছয় শ থেকে সাত শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এ জন্য সরকার সিএনজিতে রূপান্তর করে কনটেইনারে ভরে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে ভোলার গ্যাস রপ্তানিনির্ভর শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আপাতত শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে এই গ্যাস নেওয়া হচ্ছে।

গত মার্চ মাসে এ জন্য ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ বছরের জন্য কোম্পানিটির এই সরবরাহ কাজ করার কথা।

পরিতাপের বিষয় হলো বরিশাল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে ভোলা গ্যাস পুরো দক্ষিণাঞ্চলের আবাসিক ও শিল্প খাতে সরবরাহের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালে বরিশালের এক জনসভায় এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।

২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর পর এই দাবি শতভাগ যৌক্তিক। বরিশালের যে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, তাকে কাজে লাগাতে হলে গ্যাস আনার কোনো বিকল্প নেই।

এখন ঢাকা থেকে কিংবা খুলনা থেকে কুয়াকাটা যেতে আর কোনো ফেরি নেই। কিন্তু এরপরও নিরবচ্ছিন্ন এই যোগাযোগব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন না বরিশাল অঞ্চলের মানুষ। এর পেছনে একমাত্র কারণ গ্যাস। গ্যাস সংযোগ স্থাপন না হওয়ায় কেবল বিদ্যুতের ওপর ভর করে এখানে এখনো শিল্পকারখানা স্থাপনের ঝুঁকি নিচ্ছেন না কেউ।

পদ্মা সেতু উন্মুক্ত হওয়ার পর মাওয়া থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের দুপাশকে ঘিরে দেশের বড় শিল্পোদ্যোক্তারা জমি কিনেছেন। আবার বেকুটিয়া সেতু উন্মুক্ত হওয়ার পর খুলনা ও মোংলার সঙ্গে বরিশাল ও পায়রা বন্দরের যোগাযোগে নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছে। দুটি সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে আন্তযোগাযোগ সহজ হওয়ায় এখানে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতেও কোনো বাধা নেই।

এখন ঢাকা থেকে কিংবা খুলনা থেকে কুয়াকাটা যেতে আর কোনো ফেরি নেই। কিন্তু এরপরও নিরবচ্ছিন্ন এই যোগাযোগব্যবস্থার সুফল পাচ্ছেন না বরিশাল অঞ্চলের মানুষ। এর পেছনে একমাত্র কারণ গ্যাস। গ্যাস সংযোগ স্থাপন না হওয়ায় কেবল বিদ্যুতের ওপর ভর করে এখানে এখনো শিল্পকারখানা স্থাপনের ঝুঁকি নিচ্ছেন না কেউ।

গ্যাস কেন প্রয়োজন:–

জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব, তার বড় ভুক্তভোগী এ অঞ্চলের মানুষ। সে ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে না, দারিদ্র্য হার কমছে না বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটা অশনিসংকেত। এ জন্য এ অঞ্চলে দারিদ্র্য কমাতে, সম্ভাবনাগুলোকেও কাজে লাগাতে ভোলার গ্যাস কার্যকর সমাধান হতে পারে।

বরিশালকে ঘিরে বিপুল সম্ভাবনার কথা আলোচিত হচ্ছে জাতীয়ভাবে। এরই মধ্যে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দর ও বরগুনার তালতলী উপজেলা ঘিরে দেশের অন্যতম বিদ্যুৎ উৎপাদনের হাব গড়ে তোলা হয়েছে।

পটুয়াখালীতে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। বরিশালের লামছড়িতে আরও একটি ইপিজেড করার আলোচনাও চলছে। এসব সম্ভাবনাই বাস্তবে রূপ নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে বরিশালে ভোলার গ্যাস আসা না–আসার ওপর। কেননা, গ্যাস ছাড়া শিল্পের বিকাশ একেবারেই অকল্পনীয়। পদ্মা সেতু চালুর পর যে গতিতে বরিশালের অর্থনৈতিক খাত এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। গত দুই বছরেও বরিশালে ভারী কোনো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার নজির নেই। এ জন্য এ অঞ্চলের দারিদ্র্য আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।

রংপুরকে একসময় বলা হতো মঙ্গাকবলিত এলাকা। কিন্তু গত ছয় বছরের ব্যবধানে রংপুরে দরিদ্রতা কমেছে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। বিপরীতে একই সময়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ দরিদ্রতা বেড়েছে বরিশাল বিভাগে। শুধু তা–ই নয়, জাতীয়ভাবে দরিদ্রতার চেয়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশ হার বেশি বরিশালে। এটা কোনোভাবেই আশার খবর নয়।

ভোলার গ্যাস সিলিন্ডারজাত করে ঢাকার শিল্পাঞ্চলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বরিশালে এর প্রতিবাদে নাগরিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এর উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাসদ নেতা মনীষা চক্রবর্তী। এই দাবিতে বরিশাল ও বৃহত্তর ফরিদপুরের জেলায় নাগরিক কমিটিও গঠিত হয়েছিল। এই কমিটির নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন হলেও ভোলার গ্যাস ঢাকার শিল্পাঞ্চলে নেওয়া যেমন রোধ হয়নি, তেমনি পাইপলাইন স্থাপনের ব্যাপারে সরকারি কোনো উদ্যোগের কথা শোনা যায়নি।

তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতাকে অস্বীকার করা যায় না। কারণ, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বিকাশের স্বার্থে বরিশাল অঞ্চলের নেতাদের ঐকমত্যের নজির এই বিভাগে খুব কমই আমরা দেখেছি। ভোলার গ্যাস বরিশালে আনার ব্যাপারেও তা ব্যতিক্রম নয়।

চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে সেখানকার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের দলীয় মতপার্থক্য ভুলে স্থানীয় উন্নয়নের ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছানোর নজির আছে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক খাতে সমৃদ্ধির ব্যাপারে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব এক এবং অভিন্ন অবস্থানে থাকেন, এটা ওই অঞ্চলের জন্য একটি বড় আশীর্বাদ।

কিন্তু বরিশালে কেন আমরা সেই ধরনের নজির স্থাপন করতে পারিনি, সেটা বড় প্রশ্ন। কারণ, গ্যাসের পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়টি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। শুধু নাগরিকদের আন্দোলন সেখানে খুব বড় একটা চাপ তৈরি করতে পারে না। যতটা পারে রাজনৈতিক নেতৃত্বে সক্রিয় তৎপরতা। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সোচ্চার ভূমিকা ছাড়া এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করানো সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে দলমত–নির্বিশেষে আঞ্চলিক উন্নয়নকে সবার আগে প্রাধান্য দেওয়ার সংস্কৃতিটা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

গত ৭ জানুয়ারি দেশে দ্বাদশ নির্বাচন হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ একটানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে। বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুরের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এবং এ অঞ্চলের আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ের ক্ষমতাসীন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা এই দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হলে সরকারের পক্ষে এই দাবি অগ্রাহ্য করা অসম্ভব।

একটা কথা তো সত্য, এ অঞ্চলে শিল্পের বিকাশ হলে অর্থনীতি গতি পাবে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য কমবে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি, রাজনীতি ও জীবনব্যবস্থায়। রাজনীতি যদি মানুষের কল্যাণের জন্যই হয়ে থাকে, তাহলে এ অঞ্চলের মানুষ তাঁদের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে এতটুকু কি খুব বেশি চাওয়া।




২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি




বাণিজ্য মেলায় বিক্রি ৪০০ কোটি, রপ্তানি আদেশ ৩৯২ কোটি টাকার




আগামী মাস থেকে বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

চন্দ্রদীপ নিউজ: মার্চ থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে। এই দফায় দাম বাড়বে ৫ শতাংশ। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের দামও বাড়ানো হবে। তবে আবাসিকে গ্যাসের দাম বাড়বে না। এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানা গেছে।

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর হতে পারে মার্চ মাস থেকেই। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে দেশেও ওঠা-নামা করবে জ্বালানি তেলের দামও।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, বিদ্যুতের দাম গ্রাহক পর্যায়ে বাড়লেও গ্যাসের দাম শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই বাড়বে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়ে গেছে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। আগে ডলার ৭৮ টাকায় পাওয়া যেত, এখন প্রায় ১২০ টাকার মতো হয়ে গেছে। প্রতি ডলারে প্রায় ৪০ টাকার মতো বেশি খরচ হচ্ছে। এতে বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দাম সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে বড় গ্রাহকদের দাম বাড়ানো হবে যাতে কম ব্যবহানরকারীরা ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ পায়।

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মার্চ থেকেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় কার্যকর হবে।’

আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত পুরোপুরি ভর্তুকিমুক্ত করতে হবে। সরকারও এ ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে আসতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন রমজানের আগেই বিদ্যুতের দাম বাড়ছে।

গত বছরে ১৮ জানুয়ারি শিল্পসহ অন্য খাতে গ্যাসের রেকর্ড ১৭৮ শতাংশ দাম বৃদ্ধি করা হয়। তবে সেবারও আবাসিকে গ্যাসের দাম বাড়েনি।

এদিকে ২০১০ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১২ বার বেড়েছে।  শুধু ২০২৩ সালে তিন দফায় বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম নির্বাহী আদেশে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাড়ানো হয়।




সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। ‘দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ বিষয়ক টাক্সফোর্সের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সম্প্রতি ভোজ্যতেলের শুল্ক কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকে গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, এস আলম, বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধিরা আছেন। আমি ওনাদের বলেছি, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন আমাদের যারা শিল্প এবং ব্যবসায়ী বড় আকারের আছেন তাদেরও সোশ্যাল একটা দায়িত্ব আছে। সবকিছু বিবেচনায় বলবো না যৌক্তিকভাবে, কিছুটা অযৌক্তিকভাবেও আমরা উনাদের অনুরোধ করেছি এবং উনারা ভোজ্যতেলের দাম ১০ টাকা প্রতি লিটারে কমানোর জন্য একমত হয়েছেন। উনারা নিজেরাই প্রস্তাবটা করেছেন।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ বাজারমূল্য রমজানে প্রতি এক লিটারের বোতল ১৬৩ টাকা করার বিষয়ে আমরা একমতে পৌঁছেছি। যে মূল্যটা ছিল ১৭৩ টাকা এবং তার আগের বছরে ১৮৫ টাকার মতো ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সার্কুলারটা এসেছে ৮ ফেব্রুয়ারি, যে কোনো জাহাজের বিদেশ থেকে আসতে প্রায় এক মাস লেগে যায় এবং সেটা খালাস করে ভোক্তা পর্যায়ে যেতে মিনিমাম দুই মাস লাগে। দুই মাস আমাদের রমজানের নেই। ওনারা আমাদের বিশেষ অনুরোধে বাজারমূল্য ১ মার্চ থেকে কার্যকর করবেন।

টিটু বলেন, যেহেতু তেলের সঙ্গে অনেক কিছু সম্পৃক্ত, ভোক্তা পর্যায়ে একটি স্বস্তি বাজারে আসবে এবং খুচরায় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনবো। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি লুস পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূল্য থাকবে ১৪৯ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতল ৮০০ টাকায় বিক্রি হবে। আশা করছি, এতে আমাদের ভোক্তা সাধারণ উপকৃত হবেন।