মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, জাল-নৌকা তুলে নিচ্ছেন জেলেরা

বরিশাল অফিস :: ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। জেলেরা নদী থেকে জাল, নৌকা ও ট্রলারসহ মাছ শিকারের সরঞ্জাম নদী থেকে উঠিয়ে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার জন্য নৌকা ও ট্রলার তীরে নিয়ে এসেছেন। জালসহ মাছ শিকারের সকল উপকরণ গুছিয়ে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কোনো কোনো জেলে ভোর থেকে নদীতে দল বেঁধে মাছ শিকার করছেন।

তুলাতুলি এলাকার নাছির মাঝি জানান, দুই মাসের জন্য সরকার নদীতে সবধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এজন্য নৌ ও ট্রলারসহ সবকিছু নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি। দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবার নদীতে গিয়ে মাছ ধরবো।

মো. লিটন মাঝি জানান, অভিযানের সময় সরকারিভাবে যে চাল বিতরণ করা হয় সেটি এক সপ্তাহের মধ্যে বিতরণ ও দুই মাসের জন্য বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে নেওয়া কিস্তি আদায়ও বন্ধের জন্য দাবি করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকারের নিষোধাজ্ঞা চলবে। এ বছর নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার জন্য সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলেদের ভিজিএফের চাল মার্চ মাসের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, ভোলার সাত উপজেলায় সরকারি নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৭৫ জন। এদের মধ্যে ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন ৮৯ হাজার ৬০০ জন।




বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্প বাতিল করছে অ্যাপল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির এক দশকের দীর্ঘ প্রচেষ্টা থেকে সরে এসেছে। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, মঙ্গলবার অ্যাপলের অভ্যন্তরীণভাবে দেওয়া এই ঘোষণা প্রকল্পে কর্মরত প্রায় দুই হাজার কর্মীকে বিস্মিত করেছে। চিফ অপারেটিং অফিসার জেফ উইলিয়ামস এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন লিঞ্চ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

তারা কর্মীদের বলেছিলেন যে প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে শুরু হবে এবং তাদের অনেককে কোম্পানির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগে স্থানান্তরিত করা হবে।

অবশ্য অ্যাপল এবং এর সিইও টিম কুক কখনই প্রকাশ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রকল্পটির বিষয় স্বীকার করেননি।




ছয় মাস জ্বালানি তেল রপ্তানি করবে না রাশিয়া

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাশিয়া আগামী ছয় মাসের জন্য জ্বালানি তেল রপ্তানি না করার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। জ্বালানি তেলের স্থানীয় চাহিদা বাড়তে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এ প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।

আগামী ১ মার্চ রাশিয়া থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ হওয়ার কথা রয়েছে। সরবরাহে ঘাটতি এড়ানো ও স্থানীয় বাজারে দাম বেড়ে যওয়ার কারণে গত বছরেও একই রকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।

রাশিয়ার গণমাধ্যম আরবিসি জানিয়েছে, পেট্রোল রপ্তানি বন্ধের এ প্রস্তাব করেন উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক।

পেট্রোল রপ্তানি বন্ধের এ সিদ্ধান্ত ইউরাশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের (ইএইইউ) সদস্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এসব দেশ হলো আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান। এ ছাড়া মঙ্গোলিয়া, উজবেকিস্তান এবং জর্জিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া আবখাজিয়া ও সাউথ ওসেটিয়ার ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

গত সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করেছিল রাশিয়া। শীত আসার আগে ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। সে সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম বাড়ে এবং বাজারে ঘাটতি দেখা গিয়েছিল। ওই সময়ে বেলারুশ, কাজাখস্তান, আর্মেনিয়া ও কিরগিজস্তানকে এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে বেশির ভাগ বিধিনিষেধ নভেম্বরে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ দফার নিষেধাজ্ঞা আরও বেশি সময়ের জন্য হচ্ছে। এমন ধারণা পাওয়া গেছে যে মার্চের ১৫ থেকে ১৭ তারিখে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ক্রেমলিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছে।

পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ করার কারণে তেল শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য সময় বের করা যাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব শোধনাগারের অনেকগুলো হামলার শিকার হয়েছিল। জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে রাশিয়া কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট কান্ট্রিজের সদস্য নয়, এমন দেশগুলোতে গত মাসে পেট্রল রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছিল।




৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, মার্চ থেকে কার্যকর : প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি সর্বনিম্ন ৩৪ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গেজেট মঙ্গলবারই জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।

নসরুল হামিদ জানান, বিদ্যুতের নতুন দাম মার্চ মাস থেকে কার্যকর হবে। গ্যাসের দামও বাড়ছে। তবে বাসাবাড়ির গ্রাহক ও শিল্পপর্যায়ে এখন দাম বাড়বে না। শুধু যে গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয় সেই গ্যাসের দাম বাড়তে পারে।




কলাপাড়ায় বিলুপ্তির পথে মহিষ পালন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): একটা সময় গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে পারিবারিক খামারে মহিষ পালতে দেখা যেত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বিলে দেখা যেত মহিষের পাল। দলবেঁধে খাওয়া আর বিলকে মাতিয়ে রাখাই ছিল মহিষের কাজ। গ্রামের মধ্যে যাদের জমি বেশি থাকত তাদের মহিষও বেশি থাকত। মহিষের দুধ আর মাংসের জন্য লালন-পালন করত তখনকার কৃষকরা। হালচাষের জন্য ছিল মহিষের আলাদা কদর।

সময়ের পরিবর্তনে এখন আর চোখেই পড়ে না মহিষ পালন। দলবেঁধে ঘুরতে দেখা যায় না বিলে। বর্ষা মৌসুমে হালচাষে নেই মহিষের উপস্থিতি। দুধ আর মাংসের জন্য বিখ্যাত হলেও এখন আর নেই এসবের সহজলভ্যতা। হারিয়ে যেতে বসছে ঐতিহ্যের মহিষ পালন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারে বাবা-দাদার পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। একদিকে মহিষের খাদ্য সংকট অন্যদিকে গ্রামগঞ্জের খাল দখলে পানি না থাকায় একেবারে হারিয়ে যেতে বসেছে মহিষ পালন।

কৃষকরা জানান, একটা সময় আমরা বিলে মহিষ ছেড়ে দিয়ে লালন-পালন করতাম। পুরো খালে বিলে পানি আর ঘাসে পরিপূর্ণ থাকত। রোগ বালাই কম হতো। বিশেষ করে হালচাষ করার প্রধান মাধ্যম ছিল মহিষ। সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা হালচাষ করা যেত। তখনকার সময় পাওয়ার টিলার ছিল না। খরচ লাগত কম হালচাষে। এখন আর মহিষ দিয়ে কেউ হালচাষ করে না। আমরা যারা মহিষ পালন করি তারা খুব কষ্টে আছি। খাবার, পানি, চিকিৎসা সব মিলিয়েই সংকট। হয়তো কয়েক বছর পর কেউ মহিষ পালন করবে না।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাকির হাওলাদার বলেন, আমাদের একটা সময় ৬০ থেকে ৭০টি মহিষ ছিল। এ গ্রামে অনেকেই মহিষ পালন করত। এখন আমাদের পরিবারে ২০টির মতো মহিষ আছে। খাবার, পানির অভাবের কারণে মহিষ পালন করা যায় না। মহিষের খাবার কিনে খাওয়ানো সম্ভব নয়। প্রতিদিন ২ মণ খাবার ও ১ মণ পানির প্রয়োজন হয়। এখন আর মহিষ দিয়ে হালচাষ হয় না। সব মিলিয়ে বিলুপ্তপ্রায় এ মহিষ জাতটি।

পশু চিকিৎসক আবু সাইদ জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নে হাতে গোনা ৩-৪টা পরিবারে দেখা যায় মহিষ পালন। তবে খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সহজলভ্য হলে আগ্রহ বাড়ত কৃষকদের।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলুল হক সরদার বলেন, মহিষ পালন একেবারে কমে যাচ্ছে ধারণা ভুল। কলাপাড়া উপজেলায় দুটি উৎপাদন গ্রুপ আছে। প্রত্যেক গ্রুপে ৪০ জন সদস্য আছে। কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার মহিষ আছে যা পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠছে। তবে খাদ্য সংকট আছে। আমরা মুজিব কিল্লায় ও পরিত্যক্ত জঙ্গলে ঘাস উৎপাদন করা যায় কিনা এটার ব্যপারে পদক্ষেপ নেব।




বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা : বিশ্বব্যাংক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশকে ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশনস) আন্না বিজার্ড। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে জরুরি ভিত্তিতে গভীর সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের সংস্কার প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।



পাল্টেছে মির্জাগঞ্জের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদসহ উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টে গেছে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বিগত এক দশকে কয়েক কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তায়িত করেছে উপজেলা এলজিইআরডি বিভাগ।

শহরের আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাচ্ছে গ্রাম। শহরের সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামেও। বদলে গেছে গ্রামীণ জীবন। গ্রামের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন হলে শহরের সকল সুবিধা পাওয়া যায় গ্রামে। গ্রামে মাটির ঘর এখন আর নেই। পাকা পাকা ভবনের ভীরে কাঠের টিনের ঘরও হারিয়ে যেতে বসেছে। অধিকাংশ গ্রামেই দেখা মেলে পাঁকা বা আধাপাঁকা বাড়ি। সরকারের স্থায়িত্বে উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে আর ক্রমশ বদলে যাচ্ছে সবকিছু। ভূমিহীন-গৃহহীনরা সরকারের দেয়া বিনা পয়সায় ঘর পাচ্ছে। সরকার গৃহীত নানা প্রকল্পের কারণেই গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তন এসেছে।

উপজেলা এলজিডি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গত অর্থ বছরে নতুন ১৮টি রাস্তার ২৬ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং করা হয়েছে। সড়কগুলো হচ্ছে-পটুয়াখালী-বেতাগী আরএইচবি এইচও ইসমাইল মাষ্টার রোড, পূর্ব রামপুর জিপিএস কাজীবাড়ি আনন্দ বাজার আক্কাস সিকদার সন্তোষপুর জিপিএস, উত্তর বাজিতা জিপিএস পশ্চিম এইচও খালেক মৃধা রোড, মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ মুন্সিরহাট ইউনিয়ন রোড, মাধবখালী আশ্রাফ প্রফেসার উত্তর মাধবখালী জিপিএস রোড, ছোট ছৈলাবুনিয়া শ্রীমন্ত পর্যন্ত রোড ও কাঠালতলী বাজার রোড।

এছাড়াও চারতলা উপজেলা পরিষদ ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে, ৫০০ শয্যা অডিটরিয়াম, উপজেলা পরিষদের মধ্যে সড়কগুলোর লাইটের আলোর নতুনরুপ সাজানো হয়েছে। শ্রীমন্ত নদীর উপরে ঝাটিবুনিয়া ও রামপুর এলাকায় দুইটি ব্রীজ। এতে উপজেলার চিত্র পাল্টে গেছে।

পিছিয়ে পড়া মানুষ গ্রামে বাস করে, তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ গ্রামীণ উন্নয়নে কাজ করেন একমাত্র এলজিইডিই বিভাগ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. মাসুদ রানা জালাল জোমাদ্দার বলেন, গ্রামাঞ্চলের অনেক রাস্তা-ঘাটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অগ্রগতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জীবিকা ও উন্নত জীবন ব্যবস্থা তথা মানবসম্পদ উন্নয়নসহ গ্রামীণ অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তনে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, রাস্তা ভাল হওয়ায় এলাকার ছেলেমেয়ে সহজে স্কুলে যেতে পারে। কেউ কেউ অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালিয়েও জীবিকা নির্বাহ করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর বাদশা জানান, গত অর্থবছরে মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের ১৮টি কার্পেটিং রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে এবং আরো করেকটি কাজ চলমান আছে। টেকসই গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত এসব সড়ক সারা বছরের জন্য চলাচলের উপযোগী করে রাখার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করে যাচ্ছে উপজেলা এলজিইডি বিভাগ। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক সকল কর্মকান্ড চাঙ্গা থাকে, সাশ্রয় হয় অর্থের, আর মানুষ পায় নিরাপদ ও শান্তিময় পথ চলার আনন্দ। নদ-নদী ও খালের উপর ব্রীজ / কালভার্ট নির্মাণ করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি বিভাগ জনজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মেচন করেছে। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলজিইডি নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।




রূপালী ব্যাংকের বিভাগীয় ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): রূপালী ব্যাংক পিএলসি বরিশাল বিভাগের শাখা ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণে ব্যবসায়িক সম্মেলন-২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালীর কুয়াকাটাস্থ হোটেল গ্রেভার ইন ইন্টারন্যাশনালে অনুষ্ঠিত হয় এ সম্মেলন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আব্দুর রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও বিভাগীয় প্রধান রোকনুজ্জামান। এ সময় রূপালী ব্যাংক বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের জোনাল ম্যানেজার ও ডিজিএম মো. আমিনুল ইসলাম, পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের জোনাল ম্যানেজার ও ডিজিএম মো. মনজুর হোসেন, ভোলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের জোনাল ম্যানেজার ও ডিজিএম মো. শফিকুর রহমান, পিরোজপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের জোনাল ম্যানেজার ও এজিএম বিপুল কৃষ্ণ সন্নমত এবং বিভাগের আওতাধীন শাখা ব্যবস্থাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।




কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলে যেসব কাজ করবেন না

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে রাত যাপনের জন্য আবাসিক হোটেল ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এসব হোটেলগুলো কমদামি বা বেশি দামি হয়ে থাকে। তবে সব হোটেলেই কিছু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে।

দেখা যায় সেই নিয়মগুলো ঠিকভাবে না বোঝার কারণে এমন কিছু ভুল করে বসেন, যার মাশুল গুনতে হয় বিশাল পরিমাণের। হোটেলে অবস্থানের ক্ষেত্রে এই ভুলগুলো যেন কখনোই না হয়, সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোন ভুলগুলো সম্পর্কে আমাদের সতর্ক থাকা জরুরি-

১/ চট করে দরজা খুলবেন না : দরজায় কড়া নাড়া হলো আর কিছু না বুঝেই বললেন, ‘কাম ইন।’ এই বিশাল ভুলটি কখনোই করতে যাবেন না। হোটেল কিন্তু দিন শেষে কখনোই তেমন নিরাপদ জায়গা নয়। সুতরাং পরিচয় জেনে তার পরে দরজা খুলুন।

মনে রাখবেন, অচেনা জায়গায় অচেনা কেউ তো আপনার সঙ্গে দেখা করার কথা নয়। কাজেই সাবধান। আর সব সময় দরজা লাগিয়ে রাখতে ভুলবেন না।

২/ হোটেলের মিনিবারের পানীয় নয় : কোমল কিংবা কঠিন, যেমন পানীয়ই খান না কেন, সেটি হোটেলের মিনিবার থেকে খেতে যাবেন না। কারণ, সাধারণত হোটেলের মিনিবারগুলোতে পাঁচ টাকার খাবারের দাম অন্তত ৫০ টাকা রাখা হয়!

শেষে দেখবেন, আপনার রুম ভাড়ার চেয়ে মিনিবারের বিলই গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ-তিন গুণ!

৩/ ছারপোকায় সাবধান : যত বিলাসবহুল কক্ষই হোক আর সুসসজ্জিত বিছানা হোক, ছারপোকা ঠিকই জানে কীভাবে নিজের জায়গা করে নিতে হয়। কাজেই এ ব্যাপারে ভালোমতো তল্লাশি চালান, ছারপোকার সামান্য আনাগোনা দেখলেই সবকিছু ঠিকঠাক করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন। কারণ, এই ছারপোকা কেবল আপনাকে কামড়াবে তা-ই শুধু নয়, আপনার সঙ্গে সওয়ার হয়ে আপনার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে যাবে অবলীলায়।

৪/ কলের পানি খাবেন না : এক ব্রিটিশ দম্পতি লস অ্যাঞ্জেলেসে বেড়াতে এসে ট্যাপ বা কল থেকে পানি পান করেন। সেই পানিতে কেমন যেন বিচিত্র স্বাদ, এমন স্বাদের পানি নাকি তারা কখনোই খাননি। পরে অনুসন্ধানে জানা গেল, হোটেলের জলাধারে একটি মৃতদেহ! কার ভাগ্যে কী থাকে, তা তো আর বলা যায় না। সুতরাং ভুলেও কিছু টাকা বাঁচানোর জন্য হোটেলরুমের কলের পানি খাবেন না। ভরসা রাখুন দোকান থেকে কেনা মিনারেল ওয়াটারের বোতলে।

৫/ রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করবেন না : হোটেলটি সুলভ বা বিলাসবহুল যেমনই হোক না কেন, এতে জীবাণুর উপস্থিতির সম্ভাবনা বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। আর এসব জীবাণুর একটি বড় অংশ থেকে যায় টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোলে। ঘরদোর যতই ঝেড়ে পরিপাটি করা হোক, রিমোট কিন্তু সেভাবে পরিষ্কার করা হয় না। কাজেই এতে জীবাণু বহাল তবিয়তে রয়ে যায়। সুতরাং সাবধান!

৬/ মূল্যবান জিনিস রুমে রাখবেন না : মূল্যবান জিনিসপত্র অনেকেই হোটেলরুমের গোপনীয় কোনো একটি জায়গায় রেখে দেন। এটি চরম ভুল। হোটেলরুম থেকে চুরি করতে যারা ওস্তাদ, তারা কিন্তু ওই সব ‘গোপন’ জায়গার হদিস আপনার চেয়ে ভালো জানে! সুতরাং একটু পয়সা খরচ করে কর্তৃপক্ষের লকারে নিজের মূল্যবান জিনিস রেখে দিন। নিরাপদ থাকবেন।

৭/ ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন : দরজা লাগিয়ে দিলেই কিন্তু হলো না। যতক্ষণ না ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ সাইন বাইরে ঝুলিয়ে দিচ্ছেন, ততক্ষণ যে কেউ এসে উটকোভাবে আপনার ব্যক্তিগত সময়ে বাদ সাধতে পারে। আবার ঘর পরিষ্কারের চিন্তা থাকলে সেটি সরিয়ে ফেলুন। কারণ, ওই সাইন ঝোলানো থাকলে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও আপনার ঘরের আশপাশে ঘেঁষবে না।

৮/ রুম নম্বর বলবেন না : যেখানে সেখানে বা চেক-ইনের সময় আপনার হোটেলের রুম নম্বরটি নিজে উচ্চারণ করবেন না। দুষ্কৃতকারীরা এসব তথ্যের জন্যই মুখিয়ে থাকে। এ বিষয়টি যতটা পারেন গোপন রাখুন, নতুন পরিচিত কাউকেই রুম নম্বর জানাতে যাবেন না।




সাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল ৪০ কেজির সেইল ফিশ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলীপুর মৎস্য বন্দরে ৪০ কেজি ওজনের একটি পাখি মাছ (সেইল ফিশ) বিক্রি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছটি নিয়ে আসেন এক জেলে।
পরে বন্দরের জালাল ঘরামি নামে এক পাইকার ১৩ হাজার টাকায় মাছটি কিনে নেন।

ওই জেলে বলেন, গত তিনদিন আগে মাছটি আমরা জালে পেয়েছি, আজকে আলীপুর এসে বিক্রি করলাম। সাধারণত বছরে দু-একবার এরকম বড় আকারের পাখি মাছ পাওয়া যায়।

মৎস্য ব্যবসায়ী জয়নাল ঘরামি বলেন, এ মাছগুলো বেশ দ্রুত গতিসম্পন্ন তাই অনেকে পাখি নামেও চিনে থাকে। বছরের এ মৌসুমে মাছগুলো জেলেদের জালে ধরা পরে। বেশ সুস্বাদু হওয়ায় এই মাছের চাহিদা অনেক বাজারে।

পাইকার জালাল ঘরামি বলেন, আজকের মাছটি ১৩ হাজার টাকায় কুয়াকাটার গাজী রেস্তোরাঁ কিনে নিয়েছে। আমি মূলত মাছ কিনে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মাছগুলো খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ার দেশের বাইরে বেশ চাহিদা রয়েছে। এর ইংলিশ নাম সেইল ফিশ।