কলাপাড়ায় তরমুজ ক্ষেতে পাইকারদের হুমড়ি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম ইবাদতের মাস পবিত্র মাহে রমজান। তবে তেজদীপ্ত রোদেলা আবহাওয়ায় সংযমী হতে একটু বেশিই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন রোজদাররা। ফলে দিন শেষে ইফতারিতে পিপাসা মেটাতে হরেক রকম অয়োজন করে থাকেন অনেকেই। এর মধ্যে জনপ্রিয়তার তালিকায় অন্যতম হচ্ছে জিভে জল আনা রসালো তরমুজ।

তবে সম্প্রতি রোজাকে কেন্দ্র করে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ক্ষেতে গিয়ে ইফতারির এই অনুষঙ্গের খোঁজ করছেন বড় ক্রেতারা। ফলে তরমুজ চাষিদের মাঠে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন পাইকাররা।

চলমান মাহে রমজানে মিষ্টি স্বাদের রসালো তরমুজের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। তাই পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিস্তীর্ণ তরমুজ আবাদের মাঠজুড়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আর তরমুজ মৌসুমেই রমজান থাকায় বেশ দামও হাঁকাতে পারছেন চাষিরা। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পাইকারদের ভিড়ে এক প্রকার তরমুজশূণ্য স্থানীয় বাজারগুলো।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে চাষিদের ক্ষেত থেকেই তরমুজ ট্রাকে তুলে নিচ্ছেন পাইকাররা। আর অর্থের বিনিময়ে এই কাজে সহায়তা করছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।

উপজেলার টিয়াখালী ইউপির দক্ষিণ টিয়াখালী গ্রামের তরমুজ ক্ষেতে কথা হয় চাষি রুহুল গাজীর সঙ্গে। তিনি জানান, তিনটি ক্ষেতে মোট ৪১ একর জমিতে বিট ফ্যামিলি এবং ড্রাগন প্রজাতির তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এই মৌসুমে উৎপাদন ব্যয় বাবদ দৈনিক ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ৪৬ লাখ টাকা খরচ করেছেন এই চাষি। ফলে সাড়ে চার মাসে ঘাম ঝরানো সঠিক পরিচর্যায় পরিপক্ক ফসল পেয়েছেন তিনি। এখন তিনটি ক্ষেত বিক্রি করেছেন ৭১ লাখ টাকায়। কোনো রোগবালাই না থাকায় রমজানের মধ্যে বেশ বাজার মূল্য পেয়েছেন বলে জানান এই উদ্যোক্তা।

ভোলা থেকে এই চাষির তরমুজ কিনতে আসা পাইকার মাসুম বিল্লাহ জানান, ৪৬ লাখ টাকায় রুহুল গাজীর ২৫ একরের একটি ক্ষেত কিনেছেন তিনি। আরো চাহিদা থাকলেও তরমুজ সঙ্কটে নিতে পারেননি। তবে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাদ দিয়েও ৬ লাখ টাকা লাভ হবে তার।

এছাড়া রসালো এই মৌসুমি ফল কিনতে আগত পাইকাররা বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন বলে জানান বিনিয়োগকারী।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় ১৩শ ২৩ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন চাষিরা। তবে এর মধ্যে ধানখালী, বালীয়াতলী ও টিয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি তরমুজের ফলন হয়েছে।

এবছর কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার পাশাপাশি তরমুজ চাষে স্থানীয় সরকারের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

 




হলমার্ক কেলেঙ্কারি: তানভীর-জেসমিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ ও তার স্ত্রী এবং গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. আবুল কাশেম এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের হিসাবে সুতা রপ্তানির নামে ৫২৫ কোটি ৬২ লাখ ৯২ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের সুতা রপ্তানি করা হয় বলে নথিপত্রে দেখানো হয়। ওই হিসাবে পুরো অর্থ জমা করা হলে তা থেকে ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা হলমার্কের আরেক ভুয়া প্রতিষ্ঠান অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়, যা পরে তানভীর ও তার স্ত্রী তুলে নেন। ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থের অপব্যবহার এবং পাচারের অভিযোগে রাজধানীর রমনা থানায় এ মামলা করে দুদক। ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লা মামলার অভিযোগ গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এ বদলির আদেশ দেন।

এ মামলার আসামিরা হলেন, হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, তানভীরের ভায়রা ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ।

টি অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক তসলিম হাসান, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক মীর জাকারিয়া, প্যারাগন গ্রুপের এমডি সাইফুল ইসলাম রাজা, নকশী নিটের এমডি মো. আবদুল মালেক ও সাভারের হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন সরকার।

 এছাড়া সোনালী ব্যাংকের হোটেল শেরাটন বা রূপসী বাংলা শাখার সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. সাইফুল হাসান, নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মতিন ও সোনালী ব্যাংক ধানমন্ডি শাখার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেসা মেরি। সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের জিএম অফিসের জিএম ননী গোপাল নাথ ও মীর মহিদুর রহমান, প্রধান কার্যালয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির, ডিএমডি মাইনুল হক, ও সফিজউদ্দিন এবং এজিএম মো. কামরুল হোসেন খান।

এর মধ্যে আসামি জামাল উদ্দিন সরকার জামিনে রয়েছেন। এছাড়া সাইফুল, মতিন, হুমায়ুন, গোপাল নাথ, তসলিম, সাইফুল, মেরী ও জাকারিয়া পলাতক রয়েছেন।




এমভি আবদুল্লাহ উদ্ধারে সোমালিয়ায় অভিযানের প্রস্তুতি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ উদ্ধারে দেশটির পুলিশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর সদস্যরা মিলে যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। জলদস্যুদের হাত থেকে ভারতীয় নৌবাহিনী অন্য একটি জাহাজ উদ্ধারের দুদিন পর সোমবার এই অভিযানের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে দেশটির পুন্টল্যান্ড অঞ্চলের পুলিশ জানিয়েছে।

সোমবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমভি আব্দুল্লাহকে উদ্ধারে সোমালি পুলিশ ও আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রস্তুতির তথ্য জানানো হয়েছে।

মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ভারত মহাসাগরে গত ১২ মার্চ সোমালি জলদস্যুদের হাতে ছিনতাইয়ের শিকার হয় এমভি আব্দুল্লাহ। ওই সময় জাহাজটিতে ২৩ বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন।

সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল পুন্টল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকায় দেশটির জলদস্যুদের অনেক ঘাঁটি রয়েছে। ওই অঞ্চলের পুলিশ বাহিনী বলেছে, তারা উচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছেন। একই সঙ্গে এমভি আবদুল্লাহকে জিম্মি করে রাখা জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘এমভি আবদুল্লাহকে মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অভিযানের পরিকল্পনা করছে এমন খবর পাওয়ার পর পুন্টল্যান্ড পুলিশ বাহিনীও প্রস্তুতি নিয়েছে।’’

তবে ভারত মহাসাগরে কয়েকটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেওয়া ভারতের নৌবাহিনী এমভি আব্দুল্লাহকে ঘিরে অভিযানের প্রস্তুতির ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রোববার পুন্টল্যান্ড পুলিশ জানায়, তারা এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে অবস্থানরত জলদস্যুদের সরবরাহ করার কাজের জন্য মাদক খাত থেকে নেওয়া একটি গাড়ি জব্দ করেছে।

সোমালিয়ার জলদস্যুদের এই ধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ২০১১ সালে। ওই সময় সোমালি জলদস্যুদের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। এর মধ্যে কয়েক মিলিয়ন ডলার তাদের কাছে গিয়েছিল মুক্তিপণ হিসেবে।

সূত্র: রয়টার্স।




কেজিতে তরমুজ বিক্রি হয় জানে না চাষি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

ঢাকা শহরে তরমুজের কেজি ৭০-৮০ টাকা। রমজানে চাহিদা থাকায় দাম অনেকটা বাড়তি। তবে প্রান্তিক কৃষকের অনেকে জানেনই না, তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হয়। তারা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। এরপর যতবার তরমুজ হাত বদল হয় ততবারই দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ভোক্তার কাছে এসে ঠেকে কেজিতে। যার দাম কৃষকের কাছে অকল্পনীয়।

দেশে তরমুজ চাষে সুনাম রয়েছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার। দেশের বাজারে সরবরাহকৃত তরমুজের বড় একটি অংশ আসে এই এক উপজেলা থেকে। উপজেলার প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তরমুজ চাষ, ব্যবসা, বহনের সঙ্গে জড়িত।

উপজেলার কয়েকজন প্রান্তিক তরমুজ চাষিরা জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাকে তরমুজ কেজিতে বিক্রি হয়—এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা শুরু থেকেই তরমুজ পিস হিসেবে বেচা-কেনা করে আসছেন। ঢাকায় তরমুজের কেজি কত সে সম্পর্কে কেউ কেউ সংবাদ মাধ্যম থেকে জানলেও অনেকের অজানা।

তরমুজ চাষিরা জানিয়েছেন, দুইভাবে তরমুজ বিক্রি করেন তারা। প্রথমত ক্ষেত চুক্তি, এতে পুরো ক্ষেতের তরমুজ অনুমান করে একসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে মূল চাষির ব্যয়ের সঙ্গে লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করে তারা। বিক্রির পর ব্যবসায়ীরা তাদের সময়-সুযোগ অনুযায়ী ক্ষেত থেকে তরমুজ নিয়ে যান।
দ্বিতীয়ত, ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে শ হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন ও আকার অনুযায়ী ক্যটাগরি নির্ধারণ করা হয়।

তরমুজ চাষি শাখাওয়াত, সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আনুমানিক পাঁচ কেজি ওজনের একটি তরমুজ তারা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। এদিকে ঢাকায় ৮০ টাকা কেজি হলে তরমুজটির দাম হয় ৪০০ টাকা। মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরাই এই লাভ করছেন। প্রান্তিক চাষিরা সামান্য লাভেই তরমুজ বিক্রি করছেন।
তাদের দাবি, শহরে দাম এতো বেশি হলে তরমুজের বাজারে বিরুপ প্রতিক্রীয়া হবে। যার প্রভাব পড়বে ক্ষেতের তরমুজে। ভোক্তা তরমুজ কেনা বন্ধ বা কমিয়ে দিলে মাঠে অবিক্রিত তরমুজ নষ্ট হবে বলে ধারণা তাদের। অথবা লসে বিক্রি করতে হবে চাষিদের।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭ থেকে ১০ কেজির একটি তরমুজ পিস হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন চাষিরা। আর ছোট তরমুজ (পাঁচ কেজির নিচে) ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিদের কাছ থেকে কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজ ট্রলারে নেওয়া হয় গলাচিপা উপজেলায়। এতে প্রতি পিস তরমুজে খরচ হয় পাঁচ টাকা। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হয় তরমুজ।

আড়ৎদার, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বড় ট্রাকে বড় সাইজের (৭-১০ কেজি) ২৫০০ পিসের মতো তরমুজ ধরে। আর তরমুজ মাঝারি ও ছোট মিলে তিন থেক সাড়ে তিন হাজার তরমুজ নেওয়া যায়। এতে ট্রাক প্রতি খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এতে গড়ে তরমুজ প্রতি প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

ট্রাকচালক ইমরান শেখ বলেন, ‘আমাদের তেল এবং টোল খরচেই চলে যায় টাকা। এর বাইরেও টুকটাক খরচ আছে। পথে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে টাকা তোলা হয়। সব মিলিয়ে মালিকের তেমন কিছু থাকে না।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই মৌসুমে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অনুকূলে পরিবেশ থাকলে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদনের আশা ব্যক্ত করেছিল কৃষি বিভাগ। তবে পোকার আক্রমন এবং রোগের কারণে প্রায় ৩৫ হেক্টরের মত তরমুজের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে উৎপাদন ও আবাদ কম হওয়ায় ৩৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে ধারণা।
উপজেলার কাউখালী এলাকায় প্রায় ১৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন ছোট বাইশদিয়ার চাষি মিথেল হাওলাদার। শুরুতেই জমি সমস্যায় তার প্রায় ৩ হেক্টর জমির গাছ মরে গেছে। সব সমস্যার পরেও যা ফলন হয়েছে তাতেও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিথেল হাওলাদার বলেন, ‘তরমুজ চাষে কখনও কপাল খোলে কখনও পথে বসতে হয়। তবুও আমরা থেমে থাকি না। এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি তবুও লাভের আশায় আছি। কিন্তু শুনেছি ঢাকায় তরমুজ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়, দামও অনেক। তরমুজকে যদি মানুষের সাধ্যের বাইরে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা তবে এর ওপর থেকে ভোক্তা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে বড় ক্ষতি হবে আমাদের। মাঠের তরমুজ নিয়ে পথে বসতে হবে আমাদের।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাঙ্গাবালীতে আসা আড়ৎদার ও তাদের প্রতিনিধিদের দাবি, তারা ঠিক দামে বিক্রি করলেও কারসাজি হয় খুচরা বাজারে। এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫-৩০ টন তরমুজ হয়ে থাকে। কৃষকরা তরমুজ পিস হিসাবে বা সমগ্র ক্ষেতের তরমুজ একত্রে বিক্রি করে দেয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতি কেজি তরমুজের দাম ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম কৃষক পায়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে ক্রয়কৃত তরমুজ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। এর চাপ পড়ে ভোক্তাদের ওপর।’




অক্টোবরে পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল উদ্বোধন

অক্টোবরে পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল উদ্বোধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

দেশের আধুনিক তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। এটি উদ্বোধন হবে অক্টোবরের মধ্যেই। যার জন্য পুরোদমে চলছে নির্মাণকাজ। টার্মিনাল চালুর পরেই বন্দরের কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে।

শুধু এ নয়, সড়কপথে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রথম টার্মিনালের সাথে ছয় লেনের ৬ দশমিক ৩৫০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কাজও চলমান রয়েছে।

এ ছাড়াও আন্ধারমানিক নদীতে এক দশমিক ১২ কিলোমিটার চার লেনের সেতুর নির্মাণ কাজও শুরু হয়েছে।

পায়রা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দরের প্রথম টার্মিনালে পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ানোর লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। রাবনাবাদ চ্যানেলের চারিপাড়ায় এ টার্মিনালে একই সাথে ২০০ মিটারের তিনটি মাদার ভেসেল ভেড়ানোর সক্ষমতা থাকবে। এ ছাড়া ৬৫০ মিটার দীর্ঘ মূল টার্মিনাল, তিন লাখ ২৫ হাজার বর্গমিটার ব্যাকআপ ইয়ার্ড ও ১০ হাজার বর্গমিটার সিএফএস সুবিধা থাকছে।

উদ্বোধনের পরেই প্রথম টার্মিনাল থেকে সড়ক পথে আন্ধারমানিক নদীর উপর সেতু দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হবে। ভাড়ি যানবাহন চলাচলের জন্য শিগগিরই ওই নদীতে ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে। এ ছাড়াও নদীর উপর যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল, ছয় লেন সড়ক ও চার লেন সেতু নির্মাণসহ এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫১৬ কোটি টাকা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, পায়রা একটি অপারেশনাল বন্দর হিসেবে কাজ শুরু করেছে। এ বন্দর ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা এরই মধ্যে সিমেন্টের কাঁচামালসহ অনেক ধরনের পণ্য নিয়ে আসছেন। বিদেশী বিনিয়োগের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

 




পর্যটক শূন্য কুয়াকাটা, লোকসানে ব্যবসায়ীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

চারদিকে শুনসান নিরবতা। কোথাও নেই কোলাহল। খালি পড়ে আছে সৈকতে পাতা বেঞ্চি। অযত্ন অবহেলায় আছে ঘোড়াগুলো। বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ দোকানপাট। অলস সময় পার করছে ক্যামেরাম্যানরা।

রমজানের শুরু থেকেই পর্যটক শূন্য হয়ে পড়ায় এই অবস্থা বিরাজ করছে কুয়াকাটা সৈকতের।

ইতিমধ্যে লোকসানের মুখে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। ছুটি দেয়া হয়েছে অনেক হোটেল মোটেলের কর্মচারীদের। তাই সহয়তার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদের সহায়তার ব্যাপারে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহনের কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন।

 




আড়াই ঘণ্টা পর হাতিরপুলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাজধানীর হাতিরপুল কাঁচাবাজার এলাকার রাজ কমপ্লেক্স নামক ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের আড়াই ঘণ্টা চেষ্টায় রাত সাড়ে ৮টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, হাতিরপুলে সন্ধ্যায় ৬টা ৪ মিনিটে আগুনের সংবাদ পাওয়া যায়।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ৭ ইউনিট কাজ করে রাত সাড়ে ৮টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনের সূত্রপাত তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। তবে আগুনের সময় ছাদে আটকেপড়া চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে চারপাশে কোনো জানালা না থাকার কারণে দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা।

এরপর ভবনে ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া চার ব্যক্তিকে ছাদ থেকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।




একীভূত হচ্ছে এক্সিম ও পদ্মা ব্যাংক 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শ‌রীয়াহভি‌ত্তিক বেসরকারি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক।




অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে সোমালি জলদস্যুরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : কয়েক বছর তৎপরতা মোটের ওপর কম থাকলেও সম্প্রতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সোমালিয়ার কুখ্যাত জলদস্যুরা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার তারা বাংলাদেশি একটি জাহাজ ছিনতাই করে ২৩ জন নাবিককে জিম্মি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার সুযোগে সোমালি জলদস্যুরা ভারত মহাসাগরে আবারও তৎপর হয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

যেভাবে উত্থান

ইতালির ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ১৯৬০ সালে স্বাধীনতা পায় সোমালিয়া।

নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৬৯ সালে অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করেন সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিয়াদ বারে। ১৯৯১ সালে সিয়াদ বারের সামরিক শাসনের পতনের পর থেকে দেশটিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে গৃহযুদ্ধ চলে। এ সময় কোনো কার্যকর সরকার ছিল না। মাছসহ সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে বিদেশি নৌযানের তৎপরতা বাড়তে থাকে সোমালিয়ার উপকূলে।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জেলেদের একাংশ এক পর্যায়ে দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে বলে মনে করা হয়। তাদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই জলপথে সামরিক উপস্থিতি বাড়ায়। এতে আবার অনেকটাই থমকে যায় সোমালি জলদস্যুদের তৎপরতা।সাম্প্রতিক তৎপরতা

ইদানীং সোমালি জলদস্যুদের উৎপাত আবারও বেড়েছে।

পূর্ব আফ্রিকা উপকূলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌবাহিনীর ভাষ্য, গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সোমালিয়া উপকূলে অন্তত ১৪টি জাহাজ ছিনতাই হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পতাকাবাহী একটি নৌকার জেলে এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি জাহাজের নাবিকদের উদ্ধার করা হয়েছে।
লাইবেরিয়ার জাহাজ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট মার্কিন নৌবাহিনীর ধারণা, আক্রমণকারীরা সম্ভবত সোমালিয়ার জলদস্যু ছিল। ডিসেম্বরে মাল্টার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ছিনতাই করে এর ১৭ জন নাবিককে জিম্মি করে জলদস্যুরা। এখনো তাঁরা জিম্মি।
সামুদ্রিক অপরাধ মোকাবেলায় কাজ করা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম ব্যুরোর (আইএমবি) মতে, ছয় বছরের মধ্যে এটিই ছিল সোমালি জলদস্যুদের প্রথম সফল ছিনতাই।গত জানুয়ারির এক সপ্তাহে তিনটি অভিযান চালিয়ে ১৯ জন জিম্মিকে উদ্ধার করে ভারতীয় নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য, জিম্মিরা সোমালি দস্যুদের হাতে বন্দি ছিলেন।

সবশেষ গত মঙ্গলবার মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে দুবাইয়ের দিকে যাওয়ার পথে সোমালি দস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ।

হুতি ঠেকাতে গিয়ে অরক্ষিত সোমালিয়া উপকূল

রয়্যাল ড্যানিশ ডিফেন্স কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ট্রোয়েলস বুরচাল হেনিংসেন জানান, ২০০৫ থেকে ২০১২ সালে এডেন উপসাগর অঞ্চলে ব্যাপকভাবে জলদস্যুতা বেড়ে গিয়েছিল। তখন আন্তর্জাতিক বাহিনী ওই জলসীমায় টহল জোরদার করে। কিন্তু সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে বেশ কিছু জাহাজে আক্রমণ করায় সেই দিকে মনোযোগ দিয়েছে পশ্চিমারা। আর এই সুযোগটাই নিয়েছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা।

ছিনতাইনির্ভর অর্থনীতি

সোমালিয়াসহ উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মানচিত্রের আকার একত্রে শিংয়ের মতো বলে এর নাম ‘হর্ন অব আফ্রিকা’। এই হর্ন অব আফ্রিকা হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দস্যুদের অর্থ আদায়ের একটি হিসাব করেছে বিশ্বব্যাংক। সেই হিসাব অনুযায়ী, নাবিকদের জিম্মি করে ৩৫ থেকে ৪২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আদায় করেছে দস্যুরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওশান বিয়ন্ড পাইরেসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাগরে দস্যুতার কারণে বছরে ৭০০ থেকে এক হাজার ২০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোমালিয়ায় জলদস্যুতা এখন বিশাল বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসী সোমালিরা এই খাতে বিনিয়োগ করে থাকেন। এমনকি সোমালিয়ার সেনাবাহিনী, সরকারের মন্ত্রী ও নেতা থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ীরা লুটের অর্থের ভাগ পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, জলদস্যুতায় তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো আয় হওয়ায় তা  সোমালিয়ার অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।

আইওসির দাবি, সোমালিয়াভিত্তিক সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাব জাহাজ ছিনতাইয়ে মদদ দিচ্ছে। খবর রটেছে, আল-শাবাব ও জলদস্যুদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর আওতায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জলদস্যুদের সুরক্ষা দেয়। বিনিময়ে আদায় করা মুক্তিপণের একটি বড় অংশ পায় তারা।

দস্যুরা কেন অপ্রতিরোধ্য

জলদস্যুদের কবল থেকে বাঁচতে জাহাজের মালিকদের দ্রুতগতিতে ভ্রমণের পরামর্শ দিয়ে থাকে আইএমবি। কিন্তু প্রায়ই রাতের আঁধারে হামলা চালায় দস্যুরা। তাই কিছু টের পাওয়ার আগেই জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা। একবার তারা জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ এতে জাহাজে থাকা জিম্মিদেরও হতাহতের শঙ্কা থাকে। এ ছাড়া গভীর সাগরে আটক জলদস্যুদের বিচার নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে কখনো কখনো তাদের ছেড়ে দিতে হয়।

উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায় জলদস্যুতা প্রতিরোধে নিয়োজিত সামরিক কর্তৃপক্ষ ইইউন্যাভ ফর আটালান্টা বলেছে, ওই অঞ্চলে ভারতীয় নৌবাহিনী ছাড়া জলদস্যুতা প্রতিরোধে সক্রিয় থাকা অন্য নৌবাহিনীগুলোর তৎপরতা কমে গেছে। এটাও দস্যুদের তৎপরতা বাড়ার কারণ।

সূত্র : বিবিসি




জেনেভায় জেআরপির বৈঠক : রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের বছরে প্রয়োজন ৮৫ কোটি ডলার

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর ও এর অংশীদার মানবিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা ও সহায়তায় ৮৫ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রতি ডলার ১১০ টাকা হিসাবে ৯ হাজার ৩৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা) তহবিল চেয়েছে।

গত সন্ধ্যায় জেনেভায় বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবেলায় ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের যৌথ পরিকল্পনা বা ‘জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের (জেআরপি)’ আওতায় ওই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আশ্রিত রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণ মিলিয়ে মোট সাড়ে ১৩ লাখ মানুষের সহায়তায় ওই সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশের উদারতায় এ দেশে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় পেয়েছে। তাদের বেশির ভাগই মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছে সাত বছর আগে।

কর্মপরিকল্পনা ও আনুষঙ্গিক আর্থিক চাহিদা জেনেভায় দাতাদের সামনে তুলে ধরেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক এমি পোপ।

জাতিসংঘ জানায়, মিয়ানমারে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের এই সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতি এবং শরণার্থীদের সুরক্ষা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। যৌথ কর্মপরিকল্পনায় যুক্ত থাকছে ১১৭টি সংস্থা, যার প্রায় অর্ধেকই বাংলাদেশি।