হালাল পণ্যের বিশাল বাজারে পিছিয়ে বাংলাদেশ

বিশ্বে হালাল পণ্যের বাজারের পরিমাণ এখন প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, অথচ বাংলাদেশ সেই বাজারে অংশ নিচ্ছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারেরও কম। হালাল শিল্পে কাঠামোগত ঘাটতি, স্বতন্ত্র কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি এবং আধুনিক ইকোসিস্টেম না থাকায় বাংলাদেশ এই সম্ভাবনাময় খাতে পিছিয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের হালাল শিল্পখাতের উন্নয়ন : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় এই বিষয়টি উঠে আসে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হালাল পণ্যের রপ্তানি প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন ডলার, যার অধিকাংশই কৃষি ও খাদ্যভিত্তিক। অথচ বৈশ্বিক বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে এই বাজারের পরিমাণ ৯.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় না রাখা, পরীক্ষাগার সংকট, সনদ প্রদানের জটিলতা এবং দক্ষ জনবলের অভাব বাংলাদেশের এই খাতের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিসিসিআই নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশে হালাল পণ্যের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই উভয় প্রতিষ্ঠান হালাল সনদ প্রদান করায় অনেক সময় ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইউবিএটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের হালাল খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ, আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডিং এবং একটি স্বতন্ত্র নীতিনির্ধারক সংস্থা গঠন করা জরুরি।

আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, বিডা’র মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আরিফুল হক, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রাণী কর্মকার, বিএসটিআইর উপপরিচালক (হালাল সার্টিফিকেশন) এসএম আবু সাইদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ডা. মো. আবু সালেহ পাটোয়ারী, বেঙ্গল মিটের এজিএম সায়েদুল হক ভূঁইয়া, মেটামরফোসিস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাদিক এম আলম এবং প্যারাগন গ্রুপের সহকারী ম্যানেজার (এক্সপোর্ট) মো. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

বেঙ্গল মিটের প্রতিনিধি সায়েদুল হক ভূঁইয়া বলেন, “ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পশু থেকে শুরু করে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।”

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রাণী কর্মকার বলেন, “হালালের বৈশ্বিক বাজার প্রতি বছর প্রায় ১২.৮ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ ছাড়া এই খাতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব নয়।”

এছাড়া বিডা মহাপরিচালক মো. আরিফুল হক জানান, এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণে হালাল ইন্ডাস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য সরকার একটি বিশেষ হালাল অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ যদি সময়মতো হালাল খাতের সার্টিফিকেশন, ব্র্যান্ডিং এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মনোযোগ দেয়, তবে বৈশ্বিক বাজারে দেশের অংশীদারিত্ব কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যাংক-ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গ্যাসের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব — আলী রেজা ইফতেখার

দেশে ব্যাংক ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয় বাড়লে রিটেল গ্যাসের হঠাৎ মূল্য বৃদ্ধি কার্যকরভাবে রোধ করা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলী রেজা ইফতেখার।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত “বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা” শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এক প্যানেল আলোচনায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ডলার ফ্লাকচুয়েশন, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও সাপ্লাই চেইনের অস্থিরতা রিটেল কনজুমারের ওপর হঠাৎ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ব্যাংক এসব ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।”

আলী রেজা ইফতেখার আরও বলেন, “রিটেল গ্যাস খাত ইতোমধ্যে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে—প্রতি বছর প্রায় ২০ শতাংশ হারে। ব্যাংক যদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাইস নির্ধারণ ও রিস্ক ম্যানেজমেন্টে কাজ করে, তাহলে সাধারণ ভোক্তার ওপর দাম বৃদ্ধির ধাক্কা কমবে।”

তিনি তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন—
১️⃣ ডলার ফ্লাকচুয়েশন: আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দামও বেড়ে যায়।
২️⃣ সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা: ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকর করা সম্ভব।
৩️⃣ আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা: ফ্রেট খরচ ও বৈদেশিক চাপ ব্যাংকিং প্রিমিয়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক দামে পরিবর্তন এলে আগেভাগেই ফিক্সড প্রাইসে বুকিং দিলে স্থানীয় বাজারে হঠাৎ দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ

 

আল-আমিন

 




বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ১০.৭ কোটি ডলার কিনেছে

বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে দেশের ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার কেনেছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

তিনি জানান, “বাজারে বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি রয়েছে। রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় বাজারমূল্য ধরে রাখতে গত জুলাই থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছে।”

বৃহস্পতিবারের ডলার ক্রয় করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে, মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে। যেখানে এক ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২১ টাকা ৮০ পয়সা

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে আলাদা সময়ে ১৩ দফায় ডলার কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক্রয়গুলো হলো:

  • ১৩ জুলাই: ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার
  • ১৫ জুলাই: ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার
  • ২৩ জুলাই: এক কোটি ডলার ১২১ টাকা ৯৫ পয়সায়
  • ৭ আগস্ট: ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার ১২১ টাকা ৪৭–৫০ পয়সায়
  • ১০ আগস্ট: ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার
  • ১৪ আগস্ট: ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার
  • ২৮ আগস্ট: ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার
  • ২ সেপ্টেম্বর: ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার
  • ৪ সেপ্টেম্বর: ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার
  • ৯ সেপ্টেম্বর: ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার
  • ১৫ সেপ্টেম্বর: ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার
  • ২২ সেপ্টেম্বর: ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার
  • ৬ অক্টোবর: ১০ কোটি ৪০ লাখ ডলার ১২১ টাকা ৭৮–৮০ পয়সায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ক্রয়মূলক নীতির মাধ্যমে রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে ডলারের মূল্য স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে।

 

আল-আমিন

 




রেমিট্যান্সে চাঙা সূচনা অক্টোবরের

চলতি অক্টোবরের প্রথম সাতদিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে এসেছে নতুন গতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময় দেশে এসেছে ৬৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে প্রবেশ করেছে ১০ কোটি ডলার করে রেমিট্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৬৯ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৬৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ৮২৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী সেপ্টেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যা আগস্টের (২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়েও এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সর্বাধিক রেমিট্যান্স এসেছিল মার্চ মাসে, তখন প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ডলার, যা ছিল পুরো অর্থবছরের সর্বোচ্চ। ওই অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স আসে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি

অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক এই উত্থান প্রমাণ করছে—বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রবাসী আয় এখনো সবচেয়ে বড় ভরসা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সরকার এখন প্রবাসী আয়ের গতি আরও বাড়াতে উৎসাহমূলক প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। এর ফলে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘সহজক্যাশ’ নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানে লেনদেনে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক নাগরিকদের সতর্ক করেছে ‘সহজক্যাশ’ নামে একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্পষ্ট ঘোষণা—এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেশে আর্থিক লেনদেন বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগ বা চাকরির প্রতিশ্রুতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি জাতীয় কিছু পত্রিকায় ‘সহজক্যাশ লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি নাকি প্রাক-পরিচালন পর্যায়ে রয়েছে এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস চালুর অনুমোদন পেতে যাচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ জানায়, ‘সহজক্যাশ লিমিটেড’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমএফএস চালুর অনুমোদনের আবেদন পাওয়া যায়নি। এমনকি বর্তমানে এ ধরনের কোনো আবেদনও প্রক্রিয়াধীন নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানায়, দেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস পরিচালনার অনুমোদন দেওয়ার একমাত্র কর্তৃপক্ষ হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই এই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে কেউ যেন আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি কিছু প্রতারক চক্র এমএফএস বা ব্যাংকিং সেবার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত তালিকায় না থাকে, তবে তাদের সঙ্গে কোনো আর্থিক কার্যক্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ মানুষকে সচেতন করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে—যে কোনো সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম বা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানায় কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ সেলে জানাতে হবে। এতে প্রতারণা রোধ ও জনস্বার্থ সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর জন্য এবার নতুন নির্দেশনা জারি করে বলা হয়েছে, তারা যেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে যেসব সংস্থা পাচার করা সম্পদ শনাক্ত, উদ্ধার এবং ফেরত আনার ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা দিতে সক্ষম।

গত সোমবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর নির্বাহী পরিচালক মফিজুর রহমান খান চৌধুরী, গভর্নরের উপদেষ্টা ফারহানুল গনি চৌধুরী এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিলে তা কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে। এসব প্রতিষ্ঠান পাচারকৃত অর্থের উৎস, গন্তব্য ও আইনি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ ফেরাতে সহযোগিতা করবে। সফলভাবে অর্থ উদ্ধারে পারলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কমিশন হিসেবে নির্ধারিত অংশ পাবে।

বৈঠকে জানানো হয়, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ব্যাংকগুলো চাইলে নিজেদের বিবেচনায় বিদেশে সম্পদ পুনরুদ্ধারে অভিজ্ঞ অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও চুক্তি করতে পারবে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, সরকার গঠিত ১১টি তদন্ত দল ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিল্পগোষ্ঠীর পাচার করা বিপুল অর্থের সন্ধান পেয়েছে। এসব অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগের আকারে রয়েছে বলে জানা গেছে।

একইসঙ্গে, পাচার হওয়া অর্থের মাধ্যমে বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলারও প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। ইতোমধ্যে প্রায় ৫৭ হাজার ২৬০ কোটি টাকার সম্পদ ও শেয়ার জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে।

বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, “বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক আইন ও সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবে এবং অন্যান্য ব্যাংক তাদের সঙ্গে সমন্বয় করবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “অর্থপাচারের ঘটনায় ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬ থেকে ৭টি সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে ব্যাংকগুলো চাইলে নিজস্বভাবে যোগ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারবে।”

অর্থপাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে অর্থনীতিবিদরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অর্থ ফেরানোর প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সেপ্টেম্বরে সামান্য বেড়েছে মূল্যস্ফীতি, সবচেয়ে বেশি চাপ গ্রামীণ জনগণের ওপর

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা গত আগস্ট মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এ হার মানে হচ্ছে—২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যে পণ্য ১০০ টাকায় কেনা যেত, এ বছর সেই একই পণ্যের দাম দাঁড়িয়েছে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে একই পণ্যের জন্য বেশি টাকা গুনতে হয়েছে ক্রেতাদের।

গত অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশেরও বেশি। যদিও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মূল্যস্ফীতিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই লক্ষ্য অর্জন এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সিপিআই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা আগস্টে ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। অপরদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকার অবমূল্যায়ন, আমদানি ব্যয়ের চাপ, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহ ঘাটতি—এই কারণগুলোই মূলত দাম বাড়ার জন্য দায়ী।

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এখন মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। ভারতে বর্তমানে এই হার ২ দশমিক ০৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালে ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২ দশমিক ২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভূটানে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ

গ্রাম ও শহরের তুলনায় দেখা গেছে, গ্রামীণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে বেশি। গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ, আর শহরে ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিশেষ করে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ব্যয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ, যা শহরের তুলনায় অনেক বেশি। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ

যদিও গত বছরের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি এসেছে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, যার মধ্যে খাদ্যে ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ

অর্থনীতিবিদদের মতে, পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে বাজার মনিটরিং জোরদার করা, আমদানি ব্যয় কমানো, ভর্তুকি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড, তিন মাসে সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই রেমিট্যান্সে এসেছে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯২ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার সমান (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে)। এই অঙ্কটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

রোববার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন স্বস্তি এনে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের কঠোর নজরদারি, প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ফলেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৩২ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা)। এর আগে আগস্ট মাসে রেমিট্যান্স ছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা) এবং জুলাই মাসে আসে ২৪৮ কোটি ডলার (প্রায় ৩০ হাজার ২৩০ কোটি টাকা)। ধারাবাহিকভাবে তিন মাসের এই রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রমাণ করে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হয়ে উঠেছেন।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি দেশের ডলার সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রবাসীদের উৎসাহ দিতে ব্যাংকগুলো এখন আরও দ্রুত লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা ও বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর সুবিধা বাড়ায় রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে।

দেশের অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে প্রবাসী আয় ভবিষ্যতেও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখবে—এমনটাই আশা অর্থনীতিবিদদের। তাদের মতে, প্রবাসীদের পাঠানো প্রতিটি ডলার দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে, যা উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইসলামী ব্যাংকের ফেসবুক পেজ হ্যাকড, সাইবার হামলার শঙ্কা

দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ হ্যাক হয়েছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে ব্যাংকের ভেরিফায়েড পেজ থেকে হ্যাকার গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়, যেখানে ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি আসন্ন সময়ে ফেসবুক পেজ ও ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সাইবার হামলার হুমকি দেওয়া হয়।

ফেসবুক পেজটি ঘুরে দেখা যায়, নাম অপরিবর্তিত থাকলেও প্রোফাইল ছবি ও কভার ফটো বদলে ফেলা হয়েছে। সেখানে হ্যাকার গ্রুপের নিজস্ব ছবি ও বার্তা সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রকাশিত বার্তায় বিশেষভাবে ‘Team MS 47OX’ নামটি উল্লেখ করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম জানান, “ভোরে ব্যাংকের অফিসিয়াল পেজ হ্যাক হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আমাদের আইটি বিভাগ দ্রুত কাজ শুরু করেছে।” তবে এ ঘটনায় ব্যাংকের অনলাইন সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর ব্যাংকের গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই জানান, হ্যাকের সময় পেজে অস্বাভাবিক কিছু পোস্ট দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের আর্থিক খাতে সাইবার সুরক্ষা জোরদার করার এখনই উপযুক্ত সময়। অন্যথায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের সাইবার আক্রমণের এই ঘটনা কেবল আর্থিক খাতের জন্য নয়, বরং সাধারণ গ্রাহকদের জন্যও সতর্কবার্তা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যাংকগুলোর সাইবার সিকিউরিটি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা জরুরি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আগামী বছরের প্রথম দুই মাসে ফিরবে পাচারের অর্থের একটি অংশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ   সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে  বলেন ,দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই ফিরিয়েআনা সম্ভব হবে

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, টাকা যারা পাচার করে তারা বুদ্ধিমান ,তারা জানে কীভাবে করতে হবে। এটা আনতে গেলে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। অনেক লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়তো কিছু আসতে পারে। বাকিটার জন্য আমরা ক্ষেত্রে প্রস্তুত করছি।

তিনি বলেন, এই ফরমালিটি কোনো সরকার অ্যাভয়েড করতে পারবে না। মনে করেন, আমি বললাম টাকা দিয়ে দাও সেন্ট্রাল ব্যাংকে। সুইস ব্যাংকে বলে দিলাম টাকা দিয়ে দাও। দেবে না তো। ওটা আপনার লিগ্যাল ওয়েতে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন ১১-১২টা আমরা একেবারে হাই প্রায়োরিটিতে দেখছি। আর বাকিগুলোর মধ্যে যেগুলো ২০০ কোটি টাকার বেশি তাদেরকেও ধরা হচ্ছে।

নতুন সরকার আপনাদের ধারাবাহিকতা রাখবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, রাখতে তারা বাধ্য। কারণ যে প্রসেসগুলো আমরা চালু করলাম, ওইটা চালু না থাকলে তো টাকা ফেরত আনতে পারবে না। ওরা যদি বসে থাকে ফেরত আসবে না। আর যদি আনতে হয় এই প্রসেসগুলো মেনটেইন করতে হবে। এটা তো ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিস। এটা ছাড়া কীভাবে আনবে।

কী পরিমাণ টাকা ফেরত আনা সম্ভব হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সেটা আমি বলতে পারবো না। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রশ্ন করেন।