মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে ৩৫ লাখ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক দিন দিন কমেই চলেছে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে ৩৫ লাখ গ্রাহক কমেছে। গ্রাহকরা জানান, প্যাকেজ সমন্বয়ের নামে মোবাইল অপারেটরগুলো ইন্টারনেটের দাম বাড়ানোই তারা ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছেন।

তবে একই সময়ে তুলনামূলক গ্রাহক বেড়েছে আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেটের।

বিটিআরসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী—২০২৩ সালের আগস্টে মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে গ্রাহক কমতে শুরু করে। সেপ্টেম্বরে ২০ হাজার গ্রাহক কমে ১১ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজারে নেমে যায়।

অক্টোবরে এক লাফে ৩ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহক কমে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজারে। নভেম্বর প্রায় ৫ লাখ গ্রাহক কমে যায়। ওই মাসে গ্রাহক ছিল ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার। এরপর ডিসেম্বর তা কমে ১১ লাখ ৮৪ লাখ ৯০ হাজারে নেমে যায়। সবশেষ জানুয়ারি মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা কমে ১১ কোটি ৬০ লাখ ৩০ হাজারে নামে।

এদিকে, মোবাইল ইন্টারনেটের গ্রাহক কমলেও আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট গ্রাহক উল্টো বেড়েছে। সেপ্টেম্বর আইএসপি ও পিএসটিএন গ্রাহক ছিল এক কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার। অক্টোবর ও নভেম্বরে এ ইন্টারনেটের গ্রাহকের সংখ্যায় হেরফের হয়নি। ডিসেম্বরে আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার। সবশেষ জানুয়ারি মাসেও একই গ্রাহক সংখ্যা অটুট রয়েছে।

বিটিআরসির মহাপরিচালক (এসএস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে গ্রাহকরা কী বলেন, সেটা আমরা শুনবো এবং তা আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’




বরিশালে সরিষা ফুলের মধুতে লাভবান চাষিরা

বরিশাল অফিস:: মাঠের পর মাঠ সরিষা ক্ষেত। মধু চাষিরাও ব্যস্ত ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহে। বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রায় সব ফসলের মাঠেই দেখা গেছে এমন চিত্র। এসব মাঠ থেকে মধু চাষিরা খাঁচা পদ্ধতিতে মৌমাছির মাধ্যমে মধু সংগ্রহে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এতে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে সরিষা চাষি ও মৌচাষি দুজনেই।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সরিষা ক্ষেতের পাশে মধু চাষের কারণে পরাগায়ন ঘটছে ফসলের। এতে সরিষারও ফলন ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। সরিষা ক্ষেত থেকে মধু সংগ্রহ লাভজনক ব্যবসা হিসেবে দেখা দিয়েছে। মধু বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তারা।

জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, এ বছরই জেলায় প্রথম এত বড় পরিসরে সরিষা আবাদ হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করছেন এক খামারি। টাঙ্গাইল জেলা থেকে খবর পেয়ে সরিষা ক্ষেতের পাশে করেছেন মধু সংগ্রহের খামার।

টাঙ্গাইল থেকে আসা মধু চাষি মো. আয়নাল হক  বলেন, ‘১০৫টি বাক্সে ৮ শতাধিক চাক বসিয়েছি। এখান থেকে এরই মধ্যে ১৫ দিনে ৭ মণ মধু আহরণ করেছি। বাকি সময়টাতে আরও ৫ মণ মধু আহরণের আশা করছি। প্রতি কেজি মধু ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। স্থানীয়রা ও আশপাশের এলাকার লোকজন সরাসরি ক্ষেত থেকে মধু কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চাহিদা মিটিয়ে এই মধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাচ্ছি।’

মধু কিনতে আসা সাব্বির বলেন, ‘এভাবে কখনো মধু আহরণ দেখিনি। সরাসরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে মেশিনের মাধ্যমে তা প্রস্তুত করে দিচ্ছেন। এখানে ভেজালের কোনো সুযোগ নেই। তাই নিজের চোখে দেখে মধু কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

আরেক ক্রেতা জুবায়ের বলেন, ‘সরাসরি ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করা মধু নিচ্ছি। এখানে কোনো ভেজাল করার মতো কিছু নেই। সবকিছু চোখের সামনেই দেখছি। তাই নির্দ্বিধায় কিনে নিচ্ছি। এছাড়া দামও অন্যান্য জায়গার তুলনায় কম।’

উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের কৃষক এনায়েত করিম বলেন, ‘শুধু এই গ্রাম নয়, উপজেলার সব গ্রামেই শত একর জমিতে হলুদের সমারোহ। আবাদ ভালো দেখে মাঠের পর মাঠ সরিষার আবাদ। কোনো মাঠে হলুদ ফুলে ভরে গেছে আবার কোনোটায় সরিষার দানা চলে এসেছে। ক্ষেতের পাশেই মধু চাষের কারণে প্রতিবারের চেয়ে এবার ২০ শতাংশ ফলন বেশি হয়েছে।’

আরেক কৃষক টিটু বলেন, ‘এবার পুরো মাঠজুড়ে বিনা সরিষা-১১ আবাদ করেছেন। প্রতি বছর এর আবাদ সীমিত হলেও এ বছর বিনা সরিষা-১১ এর ফলন আশা জাগিয়েছে লাভবান হওয়ার। তাছাড়া এ বছর ক্ষেতের পাশেই মধু চাষ শুরু করায় ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। অল্প জীবনকালের এই সরিষা আবাদে খুশি কৃষকরা।’

বরিশাল বিনা উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. ছয়েমা খাতুন বলেন, ‘মৌমাছি বসন্তের সময়টুকুতে ফুলের মৌ-রস সংগ্রহ করতে গিয়ে পরাগায়ন ঘটায়। এতে আবাদ যেমন বেড়েছে, তেমনই অর্থনৈতিকভাবে দুজনই লাভবান হচ্ছেন। জেলায় এ বছর ৫০০ হেক্টর জমিতে বিনা সরিষা-১১ এর আবাদ হয়েছে। প্রতি একরে ১৫-১৬ মণ সরিষা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।




বরিশালে ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে টেইলার্সগুলোতে

বরিশাল অফিস:: মজানের ঈদ মানেই নতুন কাপড় কেনার ধুম। কেনা কাপড়ের পাশপাশি ঈদে চাহিদার তুঙ্গে থাকে বানানো কাপড়ের। নিজস্ব মাপ ও ডিজাইন করে নিজের পোশাক বানিয়ে নেওয়া যায় বলেই দর্জির কদর একটু বেশিই।দর্জিদেরও নেই দম ফেলার ফুসরত। একের পর এক কাজ করে চলেছেন দেদারসে। ইতিমধ্যে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করেছ অনেক দোকান।

সরেজমিনে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন জায়গার টেইলার্সগুলোতে ঘুরে এই অবস্থা দেখা যায়।টেইলার্সগুলোতে মেশিনগুলো চলছে বিরামহীন। কেউবা জামা, পাঞ্জাবি কাটছেন। কেউ ডিজাইন করছেন আবার কেউ দিচ্ছেন সেলাই। অনেকেই লাগাচ্ছেন বোতাম এবং কেউ কেউ করছেন লন্ড্রি। কারও সময় নেই কোনোদিকে তাকানোর। দোকানের মালিকরা ব্যস্ত অর্ডার নিতে। গ্রাহকদের দেখাচ্ছেন নতুন ডিজাইন, বুঝিয়ে দিচ্ছেন হয়ে যাওয়া কাজ। দর্জির হাতের ছোঁয়াতে একটি কাপড় রূপ নিচ্ছে নান্দনিকভাবে।মেয়েদের কাপড়ে সেলাইয়ের জন্য এক এক টেইলার্সে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন দাম। জামা ৩০০-৫০০, গাউন ৮০০-১০০০ টাকা, সুতি থ্রিপিছ ৩০০-৫০০ টাকা, জরজেট থ্রিপিছ ৫০০-৭০০ টাকা।

এ ছাড়া, ডিজাইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় দাম। নগরীর কাটপট্টি এলাকার এ্যারো নামক লেডিস টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী আল আমিন সিকদার বলেন, আমাদের এখন অনেক কাজের চাপ। কাজের অর্ডারও ভালো হচ্ছে। সেলাইয়ের দাম আগের চেয়ে একটু বেড়েছে। ডিজাইন ও কাপড়ের মান বেধে দাম আলাদা হয়ে থাকে।তিনি আরো জানান, আমাদের কাজের চাপ এখন বেশি। খুব বেশি অর্ডার নিচ্ছি না, কাজগুলো ঠিকঠাক করে গ্রাহকের হাতে দিতে পারলেই শান্তি।

তবে তিনি জানান, ইচ্ছে না থাকলেও ২৫ রমজান পর্যন্ত পর্যন্ত অর্ডার নিতে হবে। কেনা কাপড়ের চেয়ে বানানো কাপড়ের প্রতি আগ্রহ কেন জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, কেনা কাপড়ের চেয়ে বানানো কাপড় ভালো হওয়ার কারণ হচ্ছে ইচ্ছেমতো কাপড় বানিয়ে নেওয়া যায়।

ডিজাইন ও কাপড় নিজে চয়েজ করে কাপড় বানানো যায় বলেই বানানো ড্রেস ভালো। এদিকে নগরীর পুরুষদের পোষাক তৈরির টেইলার্স ঘুরে দেখা গেছে, পাঞ্জাবি ও কাবলি ড্রেসের পোষাক তৈরির অর্ডার বেশী হচ্ছে। কাজের চাপে অনেক টেইলার্স অর্ডার নেয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন।দোকানীরা জানান, সেহরির আগ পর্যন্ত তারা কাজ করছেন। চাপ সামলাতে তারা অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।




টকটকে লাল ও সুস্বাদু রাঙ্গাবালীর ‘রাঙা তরমুজ’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

তরমুজের নগরী খ্যাত পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালীর রাঙা তরমুজের কদর দেশের সব জায়গাতেই। তাই, প্রতিদিন ক্ষেত থেকেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এখানকার ‘রাঙা তরমুজ’ টকটকে লাল ও অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার তরমুজের সুনাম দেশেজুড়ে।

রাঙ্গাবালীর এক তরমুজ মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ ভরা শুধু তরমুজ আর তরমুজ। মাঠের পর মাঠজুড়ে তরমুজ ক্ষেত। দেখতে পাওয়া যায়, কৃষকরা ক্ষেত থেকে তরমুজ তুলে স্তূপ করে রাখছেন ক্ষেতের বা পার্শ্ববর্তী সড়কের পাশে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে ভিড় করছেন সেখানে। তারা তরমুজ কিনছেন। সেই তরমুজ তারা লঞ্চ, ট্রলার, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায় কিংবা রাজধানী শহর ঢাকায়। রাঙ্গাবালীতে তরমুজকে ঘিরে চলছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ।
রবি মৌসুমের এ ফসলটির চাহিদা দেশের সর্বত্র। তরমুজ চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষিদের মধ্যে আগ্রহও বেড়েছে। পটুয়াখালীর এ উপজেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে তরমুজ চাষ। এবার ফলন কম হলেও দাম ভালো পাওয়ায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তরমুজ।

চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে তরমুজের চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় ছোট তরমুজ বাজারজাত করছেন চাষিরা। এতে ফলন কিছুটা কমে যাচ্ছে এবং বাজারে তরমুজের দামও কমছে।

তরমুজ চাষি ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, প্রথম দিকে তরমুজের দাম খুবই ভালো ছিল।
এ বছর তরমুজের দাম ভালো। তবে ফলন ভালো হয়নি। যে কারণে তরমুজ চাষিদের আশানুরূপ লাভ হবে না।
তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ পেলে রাঙ্গাবালীতে তরমুজের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

আড়ৎদাররা বলেন, রাঙ্গা তরমুজের সুনাম রয়েছে সারা দেশে। কিন্তু বেশি দামের আশায় প্রধান মৌসুমের আগেই বাজারে উঠে আসছে অপরিপক্ব তরমুজ।

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জুয়েল বলেন, তরমুজ পরিপক্ব হওয়ার আগেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তরমুজ বাজারজাত শুরু করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, রাঙ্গাবালী কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার উপজেলায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে।

আরো পড়ুন : ২ টাকা লাভে পণ্য বিক্রি



বাংলাদেশ সরাসরি চীনের সঙ্গে লেনদেনে যাচ্ছে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ডলারের বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন বাড়াতে এবার চীনের সঙ্গে সরাসরি লেনদেন চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ জন্য দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নায় অ্যাকাউন্ট খুলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক লেনদেনের বার্তা প্রেরণে সুইফটের আদলে গড়ে ওঠা চায়নার সিআইপিএসে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ চীনের মাধ্যমে পরিশোধ করা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের প্রাথমিক কাজের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে পারছে না বাংলাদেশ। যে কারণে দেশটির পাওনা প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার সোনালী ব্যাংকে একটি ‘স্ক্রো’ হিসাব খুলে সেখানে জমা করা হচ্ছে। রাশিয়ার অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া এ প্রকল্পে চুক্তিমূল্যের ৯০ শতাংশ তথা ১ হাজার ১৩৮ কোটি ডলার অর্থায়ন করছে দেশটি। প্রকল্পের মূল ঋণ পরিশোধ শুরু হবে ২০২৭ সালের মার্চ থেকে। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা ও দেশটির লেনদেন ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে রাশিয়ার ঋণ পরিশোধের চিন্তা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছরের এপ্রিলে রূপপুরের পাওনা সরাসরি রাশিয়াকে পরিশোধ না করে পিপলস ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে পরিশোধের জন্য একটি প্রটোকল চুক্তি সই হয়। তবে বাংলাদেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় অন্য যে কোনো দেশের লেনদেন নিষ্পত্তির বার্তা পাঠানোর একমাত্র উপায় ‘সুইফট’। ফলে এভাবে অর্থ পরিশোধের বিষয়টি সুইফট যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কায় ওই পরিশোধ করা হয়নি।

জানা গেছে, চীনের আমন্ত্রণে গত ৫ থেকে ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দেশটি সফর করে। এ সময় তারা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করে অ্যাকাউন্ট খোলা ও লেনদেনের বার্তা প্রেরণের মাধ্যম দ্য ক্রসবর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে (সিআইপিএস) যুক্ত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানান, বড় ব্যবসায়িক সহযোগী বেশির ভাগ দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হলেও দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। তবে চীনের মুদ্রা ইউয়ান অফিসিয়াল কারেন্সি হওয়ার পর সরাসরি আমদানি ও রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেউ ইউয়ানে এলসি নিষ্পত্তি করতে চাইলে করতে পারে। এখন দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি যেন নিষ্পত্তি করতে পারে, সে জন্য এ রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইতালি, ফ্রান্সসহ ১১টি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পত্তি হয়। চীনের সঙ্গে লেনদেন নিষ্পত্তিতে বেশি ব্যবহার হয় এইচএসবিসি। অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ লেনদেন হয় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের মাধ্যমে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেরও বেশির ভাগ রক্ষিত আছে সেখানে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন (সুইফট) বার্তা পাঠানোর একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাইরে বড় অর্থনীতির কয়েকটি দেশ বেশ আগে থেকে ডলারের প্রভাব কমিয়ে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন চালুর জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে রাশিয়া ও চীন। সম্প্রতি ভারতও নিজেদের মুদ্রা শক্তিশালী করতে নানা পন্থা অবলম্বন করছে। বাংলাদেশকে রাশিয়া তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব লেনদেনের বার্তা প্রেরণ ব্যবস্থা ফাইন্যান্সিয়াল মেসেজিং সিস্টেমে (এসপিএফসি) যুক্ত করার জন্য ২০১৬ সাল থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর আগে ২০১৮ সাল থেকে চীনের মুদ্রায় এলসি খোলার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আবার গত বছরের জুলাই থেকে ভারতের সঙ্গে সরাসরি রুপিতে লেনদেন নিষ্পত্তির একটি ব্যবস্থা চালু হয়েছে।




জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট বেকার থাকছেন!

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পড়াশোনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে। তবে এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করা ২৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট তিন বছর পরও বেকার থাকছেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এসব কলেজ থেকে পাস করা ৪২ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করছেন। এছাড়া ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে আছেন এবং ১৩ দশমিক ২২ শতাংশের বেশি খণ্ডকালীন কাজ করছেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বিআইডিএস এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ফেলো বদরুন নেসা আহমেদ। তিনি জানান, বিআইডিএস সম্প্রতি (২০২৩ সাল) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। ওই গবেষণায় তিন বছর আগে পাস করা শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার তিন বছর পরও প্রায় ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট চাকরি পাচ্ছেন না।

যে ২৮ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী বেকার, তারা কোন কোন বিষয়ে পড়েছেন, তাও দেখা হয়েছে গবেষণায়। এতে দেখা যায়, যারা বেকার থাকছেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বিএ (পাস) ডিগ্রিধারী। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারের হার তুলনামূলক বেশি। বিপুলসংখ্যক নারীও বেকার থাকছেন।

দেশের উচ্চশিক্ষায় যত শিক্ষার্থী আছেন, তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ কেন এখনো চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না, সেটাও খোঁজা হয়েছিল গবেষণায়।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা ফেলো বদরুন নেসা আহমেদ জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যেটি জানা গেছে তার মধ্যে একটি হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে সমসাময়িক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। যার কারণে পাস করেও অনেকেই চাকরি পাচ্ছেন না। ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রেও ঘাটতি আছে। বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেসব সুবিধা পায়, তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে। সেসব সুবিধা দেওয়া গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেকারত্বের হার কমে আসবে।

‘বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে বদরুন নেসা আহমেদ আরও বলেন, সার্বিক বেকারত্বের হার কমিয়ে আনা গেছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার এখনো বেশ উচ্চ হারে রয়ে গেছে। যারা বেকার রয়ে গেছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি দেখা হয় তাহলে দেখা যাবে, ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু তারা বেকার রয়ে গেছেন। তার মানে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও তারা চাকরির বাজারে নিজেদের সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারেননি। যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৮ শতাংশ, যা জাতীয় বেকারত্ব হারের প্রায় দ্বিগুণ।

এই গবেষক বলেন, গত দুই দশকে (২০০৬-২৩) শিক্ষার কলেবর বেড়েছে এবং ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৪৫ থেকে বেড়ে ৭৬ শতাংশ হয়েছে। বেকারত্বের হারও কমেছে। ঝরে পড়ার হার ৪৯ থেকে কমে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যাও ছিল ৯। সেখান থেকে সরকার সারা দেশে ১৬৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র করেছে।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

 




২২ দিনে সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছে প্রবাসীরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চলতি মার্চ মাসের ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছে ১৪১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪৮৮ কোটি ২২ লাখ টাকা)। এ সময়ে প্রতিদিন দেশে এসেছে ছয় কোটি ৪২ লাখ ৯৩ হাজার ১৮২ মার্কিন ডলার।

যা আগের মাস ফেব্রুয়ারি বা আগের বছর মার্চের একই সময়ের চেয়ে কম।

রোববার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে (২০২৪) গড়ে প্রতিদিন সাত কোটি ৭৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৩ ডলার দেশে এসেছিল। আর আগের বছরের মার্চ মাসে (২০২৩) প্রতিদিন প্রবাসী আয় এসেছিল ছয় কোটি ৭৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৬ ডলার। সে হিসাবে চলতি মার্চের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসী আয়ের গতি কিছুটা কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে আরও জানানো হয়, এ মাসের ২২ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৮ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে দুই কোটি ১৫ লাখ ডলার। একই সময়ে দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ১২০ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

তবে রোজার শেষের দিকে ঈদ আগে প্রবাসী আয় বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।




হঠাৎ তরমুজের দরপতন, বিপাকে কৃষকেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীতে প্রচুর তরমুজ থাকলেও ক্রেতার অভাবে একেবারেই দাম নেই। পচনশীল হওয়ায় পানির দামেই পাইকারদের কাছে অনেকে ছেড়ে দিচ্ছেন তরমুজ। ফলে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের।

কৃষকেরা জানান, তরমুজের এখন যা পাইকারি দাম তাতে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, পরিবহন খরচই উঠছে না। তরমুজ বিক্রি করে গাড়ি ভাড়ার খরচ দিয়ে পকেট শূন্য।

হঠাৎ দরপতন হওয়ার কারণ হিসেবে পটুয়াখালী চরবিশ্বাস এর কৃষক শামীম পালোয়ান জানান, ব্যাপারীরা যারা ক্ষেত কিনে রেখেছিলেন তারা গত দুই দিন বৈরি আবহাওয়ার কারণে অপরিপক্ক  সহ সব তরমুজ কেটে বাজারে নিয়ে গেছেন। বাজারে তরমুজ সরবরাহ থাকলেও ক্রেতা নেই। কাঁচা থাকার কারণে ক্রেতারা তরমুজ কিনছেন না।

আরো পড়ুন :বাজারে এসেই জাটকা হয়ে যাচ্ছে ‘চাপিলা মাছ’

ফরহাদ নামের আরেক কৃষক জানান, ক্ষেতে এখনো ৪০ থেকে ৫০ ভাগ তরমুজ রয়েছে। দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতি হচ্ছে। এক ট্রাক তরমুজ কয়েকদিন আগেও বিক্রি করছি ৭/৮ লাখ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ২/৩ লাখ টাকা। ক্ষেতের তরমুজ ৪/৫ দিনের মধ্যে পেকে যাবে। তখন তরমুজ সরবরাহ আরো বাড়বে। তখনো দাম কম থাকলে কৃষকেরা পকেটের টাকা গচ্চা দিয়ে তরমুজ নিয়ে বাজারে হয়তো যাবেন না। তখন ক্ষেতেই ক্ষেতেই পঁচে যাবে।

কৃষকেরা জানান, সবচেয়ে ভালো মানের ৮-১২ কেজি ওজনের ১০০টি তরমুজ পাইকারি বিক্রি ছিল ৪ হাজার টাকা, যা এখন কমে হয়েছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, পটুয়াখালীতে এবার আগাম তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও শেষ মুহূর্তে দাম হঠাৎ কমে যাওয়ায় চরম হতাশ কৃষকেরা। নিদারুণ কষ্ট- রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এবং নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে উৎপাদিত এ ফসলের মূল্যপতন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ঝেড়েছেন তারা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা



মেঘনা গ্রুপে নিয়োগ, ২৯ মার্চ পর্যন্ত আবেদন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস (সিমেন্ট প্ল্যান্ট) বিভাগ সিনিয়র ম্যানেজার/ ম্যানেজার পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গত ২১ মার্চ থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।



এমভি আবদুল্লাহতে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র বসিয়েছে জলদস্যুরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিজস্ব নৌবাহিনী। অন্যদিকে নিজেদের ‘শক্ত’ অবস্থান জানান দিতে ফাঁকা গুলি ছুড়ছে জলদস্যুরা।

এ ছাড়া জাহাজের পাশে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র বসিয়েছে তারা। ইইউ জাহাজের উপস্থিতিতে বন্দি ২৩ নাবিকের ওপর কড়াকড়িও আরোপ করছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। তবে এখনো পর্যন্ত সব নাবিক সুস্থ আছেন।

শুক্রবার (২২ মার্চ) রাতে জিম্মি এক নাবিকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান নাবিক পরিবারের এক সদস্য।

তিনি বলেন, জাহাজে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। সে জন্য পানি ব্যবহার নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে নাবিকদের। ৩০ থেকে ৩৫ সশস্ত্র জলদস্যু জাহাজে সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকছে। যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতির পর থেকে জলদস্যুরা নাবিকদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। কেবিনে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের। একটি টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে সবাইকে। খাবার নিয়েও কষ্টে আছেন নাবিকরা।

এদিকে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জলদস্যুদের বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। দ্য ডেইলি সোমালিয়া ও ভারতীয় বিমানবাহিনীর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই ছবি প্রকাশ করা হয়।

বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রের ছবিটিতে দেখা যায়, কাপড় মুড়িয়ে সমুদ্রের দিকে তাক করে রাখা হয়েছে অস্ত্রটি।

অন্যদিকে উত্তর-পশ্চিম ভারত মহাসাগরের নিরাপত্তায় ইউরোপীয়ান নেভাল ফোর্স গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বাহিনীটি এমভি আবদুল্লাহর কাছে তাদের অবস্থানের তিনটি ছবি ও একটি ভিডিও প্রকাশ করে।

ইইউ নেভাল ফোর্সের সদস্যদের নজরদারির পাশাপাশি ওই আকাশসীমায় তাদের হেলিকপ্টারও টহল দিতে দেখা যায় ভিডিওতে। ইইউ নেভাল ফোর্স যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করলেও কোনো অভিযানের বিষয়ে জানায়নি।

সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী জাহাজটি এখন সোমালিয়ার গদভজিরান উপকূল থেকে দেড় নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করে রেখেছে দস্যুরা।

গত ১২ মার্চ দুপুরে শিল্প গ্রুপ কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি জিম্মি করে সোমালিয়ান দস্যুরা। সেখানে থাকা ২৩ নাবিককে একটি কেবিনে আটকে রাখা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় জাহাজের ইন্টারনেট সংযোগও। ছিনিয়ে নেওয়া হয় নাবিকদের কাছে থাকা মোবাইল, সঙ্গে থাকা ডলার।