ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমে আসছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোও সতর্ক অবস্থানে থাকায় দেশে মার্কিন ডলারের সংকট কিছুটা কমেছে। রেমিট্যান্সে ডলার এখন ১১৪-১১৫ টাকা দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ১২০ টাকায় উঠেছিল। অবশ্য ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম ১১০ টাকা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, ডলার- সংকট কমে আসার পেছনে কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো-কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপাচাপির কারণে আমদানি কমে এসেছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ডলারের দাম নিয়ে কড়াকড়ি আরোপের অবস্থান থেকে সরে আসায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বেড়েছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, একদিকে আমদানি কমে এসেছে, অন্যদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয় বেড়েছে। এ কারণে ডলারের দাম কমেছে। সামনে বোঝা যাবে বাজার কোন দিকে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় টাকার জোগান দিচ্ছে। এতে টাকার সরবরাহ বেড়েছে। এটা বাজারের উত্তাপ কমাতে ভূমিকা রেখেছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশে মার্কিন ডলারের সংকট শুরু হয়। যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি খরচ হঠাৎ বেড়ে যায়। যে কারণে ঐ বছরের জুনে ৮৩৭ কোটি ডলারের আমদানি দায় শোধ করতে হয় বাংলাদেশকে। এরপর ঋণপত্র খোলায় কড়াকড়ি ও ঋণপত্র খোলার বিপরীতে শতভাগ পর্যন্ত নগদ টাকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। এতে আমদানি দায় কমতে থাকে।




ব্যাধিতে আক্রান্ত বরিশালের বিসিক

বরিশাল অফিস :: গ্যাস আর বিদ্যুৎ স্টেশন না থাকায় ১২ মাসে ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) বরিশালের উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ পলিমার অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের। এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নাজমুন নাহার রিনা বলেন, এগুলো থাকলে আমার এক টাকাও লস হত না, বরং উৎপাদন বাড়াতে পারতাম। গ্যাস না থাকায়, বিদ্যুৎ স্টেশন চালু না হওয়ায় উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো বড় ব্যাধিতে আক্রান্ত। এগুলো না পারছি সঠিকভাবে পরিচালনা করতে, আর না পারছি বন্ধ করে দিতে।

নাজমুন নাহার রিনা কারখানা চালু করার পর এই সংকট উপলব্ধি করতে পারলেও গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না মুনাফা খাটানো দুটি পোশাক কারখানা। শুধু গ্যাস আর বিদ্যুতের অভাবই নয়, প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পার হলেও উৎপাদনবান্ধব হয়ে ওঠেনি বরিশাল বিসিক। এখানে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। নেই দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন। নিরাপত্তার জন্য কোনো পুলিশ ফাঁড়িও নেই। ফলে সম্ভাবনাময় এই খাত নিয়তই ধুকছে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রিফাত ফেরদৌস বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল বিসিকে ইনভেস্ট বেড়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে এখানকার কর্মপরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। এখানে আন্তর্জাতিক মানের কয়েকটি উৎপাদন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো সুন্দরভাবে চলতে হলে যেসব মৌলিক সাপোর্ট দরকার তা না থাকাটা হতাশার। বিসিক সুন্দরভাবে চলতে হলে গ্যাস দরকার। ভোলাতে গ্যাস আছে। সেই গ্যাস যদি বরিশালে সরবরাহ করা হয় তাহলে উৎপাদন যত বাড়বে পণ্যের দামও কমবে। এর পাশাপাশি শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, কর্মস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু ও পায়রা সমুদ্র বন্দর চালুর পাশাপাশি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি বিসিকের প্রতি সরকার নজর দেয় তাহলে পদ্মা সেতু আর পায়রা বন্দরের মতো বৃহৎ দুটি প্রকল্পের সুফল এই অঞ্চলের মানুষ পেতে পারে। যার প্রবৃদ্ধি যুক্ত হবে জাতীয় অর্থনীতিতে।

জানা গেছে, ১৯৬১ সালে ১৩০ দশমিক ৬১ একর জমি নিয়ে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। ১৯৮৯ সালে প্রকল্পটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়। বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেখানে ৪৪৬টি প্লট নির্মাণ করা হয়। জমির পরিমাণ অবস্থান ও ধরন ভেদে প্লটগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। ৩৭.৮৮ শতাংশ আয়তনের এ গ্রেডের প্লটের এককালীন দাম ধরা হয়েছিল ১১ লাখ টাকা, ২০.৬৬ শতাংশ আয়তনের বি গ্রেডের প্লটের দাম ৬ লাখ টাকা, ১৩.৭৭ শতাংশের সি গ্রেডের প্লটের দাম ধরা হয় ৪ লাখ টাকা এবং এফ গ্রেডের প্লটের দাম ধরা হয় ২ লাখ টাকা। সুযোগ-সুবিধার ভিত্তিতে প্লটগুলোতে উন্নত ও অনুন্নত দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নত প্লট ১৬৫টি ও অনুন্নত ১৩৩টি। প্লটের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩৭৫টি। পরবর্তীতে জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করে ২৩০ একরে উন্নীত করে দেশের সবচেয়ে বড় বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করা হয়।

পদ্মা সেতু চালুর পর ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে বিসিক। বন্ধ ইউনিটগুলো চালু হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তারা কারখানা করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

বিসিক অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে বিসিকে ৪৭০টি প্লট রয়েছে। ১৭৭ জন ব্যক্তির অনুকূলে এরমধ্যে ৩৭৭টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উৎপাদনে আছে ১২৬টি শিল্প ইউনিট।

কারখানার মালিক জামাল হোসেন বলেন, গ্যাস না থাকায় প্রতিটি পণ্য উৎপাদনে বাড়তি খরচ হচ্ছে। আমাদের খরচ কম হলে অনেক কম দামে পণ্য বাজারজাত করা যেত। এখন সীমিত আয়ে টিকে থাকতেই কারখানা চালিয়ে রাখতে কষ্ট হচ্ছে। গ্যাসের দাবিতে এমপি-মন্ত্রীর কাছে অনেকবার গিয়েছি। তাদের প্রচেষ্টা থাকলেও আমরা গ্যাস পাচ্ছি না।

পোশাক কারখানা করার পরিকল্পনায় প্লট নিয়ে রেখেছেন মনির হোসেন। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মুনাফা খাটাতে চান না। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি খারাপ। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে যুদ্ধ চলছে। তার ওপর বিসিকে গ্যাস, আলাদা বিদ্যুৎ স্টেশন নেই। যে কারণে আরও পরে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করতে চাই।

নাজমুন নাহার রিনা বলেন, বরিশাল বিসিকে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থাকলে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতো। শ্রমিকরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। শ্রমিক নিরাপত্তায় নেই কোনো পুলিশ ফাঁড়িও।

অর্থনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক পান্না লাল রায় বলেন, অর্থনীতি সচল রাখতে হলে উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোর ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু গুরুত্ব নয় উৎপাদনমুখী কারখানাগুলো সঠিকভাবে যেন সচল থাকতে পারে সেজন্য উপযোগী পরিবেশ, জ্বালানি সরবরাহ না করলে সুষম অর্থনীতি তৈরি হবে না। বরিশাল বিসিকে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ স্টেশন নেই। আলাদা ফায়ার স্টেশনও নেই। প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্টেশন থাকলে উৎপাদনে বিঘ্ন হত না। বাজারেও কমমূল্যে পণ্য যেত। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হত। ফায়ার সার্ভিস থাকলে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হত। কিন্তু বিসিক আছে অথচ কারখানা সচল রাখতে আয়ত্তের মধ্যে জ্বালানি ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় মুনাফা খাটিয়েও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে অর্থনীতির।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল  বলেন, বিসিকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিসিক যেহেতু বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতায় তাই ওখানে চিকিৎসাকেন্দ্র করার প্রধান দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। তবে সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনে যেকোনো সহায়তা করলে আমরা সহায়তা করবো।

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইজরাইল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে বরিশাল ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি-২ এর প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম  বলেন, বিসিককে গুরুত্ব দিয়ে ওই এলাকার কাছেই আমরা ৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি উপকেন্দ্র স্থাপন করেছি। কিন্তু ওই উপকেন্দ্রে জনবল এখনো নিয়োগ না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে উপকেন্দ্রটি চালু করা যাবে।

বিসিকে অগ্নিনির্বাপণ উপকেন্দ্র দরকার রয়েছে কি না জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান অসুস্থ জানিয়ে বক্তব্য দেননি।

বিসিক বরিশালের উপ-মহাব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম  বলেন, বিসিকের বেঙ্গল বিস্কুট কারখানার উৎপাদনে অনেক জ্বালানির দরকার হয়। গ্যাস থাকলে উৎপাদন খরচ কমে আসত। বেঙ্গল বিস্কুটের বৃহদাকারে উৎপাদন প্লান্ট। এজন্য গ্যাস ছাড়া উৎপাদনে তাদের টিকে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। যেসমস্ত উদ্যোক্তা পোশাক কারখানা করার জন্য মুনাফা খাটিয়েছেন তারা গ্যাস না থাকায় এখনই উৎপাদনে যাচ্ছেন না। আমি বিশ্বাস করি দ্রুতই বরিশালবাসী বিশেষ করে বরিশাল বিসিক গ্যাস পাবে। গ্যাস এলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস করতে গেলে এক একরের বেশি জায়গা লাগে। সেই জায়গা বিসিকে নেই। যে কারণে বিসিক এলাকার মধ্যে আসলে আলাদা ফায়ার স্টেশন হওয়ার সুযোগ দেখছি না। তবে কোনো ঘটনা ঘটলে নিকটস্থ কাউনিয়া থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যে কারণে ফাঁড়ির দরকার আছে বলে মনে হয় না।

এই কর্মকর্তা বলেন, বিসিকের উন্নয়নে ২০১৮ সালে ৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। ওই টাকার বেশির ভাগ কাজই সম্পন্ন হয়েছে। চারপাশে দেয়াল ও নিচু জমি ভরাটের কাজ প্রায় শেষ হয়। এখন শুধু ড্রেন ও কালভার্টের কাজ বাকি। এই কাজ শেষ হলে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান হবে। উদ্যোক্তাবান্ধব বিসিক গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, আয়তনের দিক থেকে দেশের বড় শিল্পনগরী বরিশালে। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিসিককে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও শক্তিশালী করতে সর্বাত্মক সহায়তা করা হচ্ছে। বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিরসনে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি।




মিরসরাইয়ে লাউয়ের জোড়া ৮ টাকা!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কৃষকেরা প্রতি পিস লাউ ৪ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারছেন না। একজোড়া লাউ মাত্র ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাই ক্ষোভে অনেক কৃষক লাউ গাছ কেটে ফেলেছে। বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে না পেরে বাজারে ফেলে যাচ্ছেন অনেকে। চরম বিপাকে পড়েছেন উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভার কৃষকেরা।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার প্রায় ৩০০ একর জমিতে লাউ চাষ করা হয়। গ্রীষ্মকালীন সময়ে অনেক কৃষক লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হলেও এবার রমজান মাস শুরু হওয়ায় লাউয়ের চাহিদা কমে যায়। এতে করে ভোক্তারা আগের মতো লাউ ক্রয় না করায় চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে চাষিদের।

জানা গেছে, লাউ চাষ করতে সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক, মাচা তৈরিসহ অনেকটা টাকা খরচ করতে হয়। প্রথম দিকে প্রতিপিস দেড়-দুই কেজি ওজনের একটি লাউ বিক্রি করেছেন ৪০-৪৫ টাকায়। মাঝামাঝি সময়ে বিক্রি করেছেন ২৫-৩৫ টাকা প্রতি পিস। শেষ সময়ে রমজান শুরুর সময় থেকে প্রতিপিস লাউ ৩-৫ টাকা বিক্রি করেছেন।

খৈয়াছড়া এলাকার কৃষক আকতার হোসেন, গত মঙ্গলবার জমি থেকে ১৫৫ পিস লাউ তুলেছিলেন। লাউ তুলতে শ্রমিক খরচ হয় ৩৫০ টাকা। বাড়ি থেকে বড়তাকিয়া বাজারে নিতে ভ্যানভাড়া খরচ হয়েছে ১৫০ টাকা। বাজারের হাসিল দিয়েছেন ৭০ টাকা। তার মোট খরচ হয়েছে ৫৭০ টাকা। আকতার বলেন, লাউয়ের মাচায় এখনো ৩০০ পিস লাউ ঝুলে আছে। এগুলো তুলে বিক্রি না করলে মাচা ভেঙে ক্ষতির মুখে পড়ব। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এত কম দামে লাউ বিক্রি হয়নি। এবার পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ী কেউ লাউ কিনছে না। ফলে পানির দরে লাউ বিক্রি করতে হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, এবার উপজেলায় ৩০০ একর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। মৌসুমে শুরুতে লাউয়ের দাম ভালো ছিল। শীত কমে যাওয়ার কারণে লাউয়ের চাহিদা কমে গেছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে লাউয়ের উৎপাদন হয়েছে। তবে অন্যান্য জিনিসপত্রের যে দাম কৃষক সে তুলনায় এখন লাউয়ের একেবারে দাম পাচ্ছে না।




৭০ হাজার সরকারি কর্মীকে ছাঁটাই করছে আর্জেন্টিনা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রেকর্ড মূল্যস্ফীতিতে টালমাটাল অর্থনীতির গতি ফেরাতে ৭০ হাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জেভিয়ার মিলেই । সেই সঙ্গে সরকারের চলমান সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে ২০ হাজার কর্মসূচি শিগগির বন্ধ হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর ব্লুমবার্গের।

চাকরি ছাঁটাই ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি বন্ধের পক্ষে যুক্তি হাজির করে তিনি বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে আর্জেন্টিনার অর্থনীতির ন্যূনতম ভারসাম্য ফেরানোর লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। সেই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে এই ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সরকারি সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচির বেশির ভাগই বর্তমানে ‘চরম দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

আমেরিকা মহাদেশভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট ইন্টরন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম অব আমেরিকাসের (আইইএফএ) লাতিন বিভাগের সম্মেলন শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এইরেসে। বুধবার সেই সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে এসব তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ডলারের মজুত তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় করোনা মহামারির পর থেকে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে আর্জেন্টিনায়। কয়েক মাস আগে বিশ্বকাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন এই দেশের ইতিহাসে প্রথম বারের মতো মূল্যস্ফীতি ছুঁয়েছে ১০০-এর কোঠায়। ফলে খাদ্য-ওষুধ-জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের লাগামহীন আকাশছোঁয়া মূল্যে নাভিশ্বাস উঠছে দেশটির সাধারণ জনগণের।




আরও কমলো রিজার্ভ




বিবিএস’র জরিপ : সাবলেট ভাড়াটিয়া পরিবার বেড়েছে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চলমান সংকটের ধাক্কা লেগেছে জীবনযাত্রায়। বাড়িভাড়াসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে টিকে থাকতে গিয়ে মানুষের স্বাভাবিক বসবাস বিঘ্নিত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মানুষ বাসস্থান ভাগ করে নিচ্ছেন। আর এ কারণে দেশে সাবলেট ভাড়াটিয়া পরিবারের (খানা) সংখ্যা বেড়েছে। শহর ও গ্রামে সাবলেট দেওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নতুন জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস-২০২৩’ শীর্ষক প্রতিবেদনে খানার (পরিবার) বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে মাঠপর্যায় থেকে সাবলেটের এ তথ্য তুলে আনা হয়েছে।

বুধবার স্যাম্পল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম ইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (এসভিআরএস) প্রকল্পের পরিচালক আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে দ্রব্যমূল্য ব্যাপক হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বাড়ি ভাড়াও। তবে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের আয় বাড়েনি। ফলে যারা একক বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা সাবলেট দিচ্ছেন। কেউ কেউ একক বাসা ছেড়ে দিয়ে সাবলেটে উঠছেন। এক্ষেত্রে আয় ও ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এমন কাজ করছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গ্রামে সাবলেট বেড়ে যাওয়ার কারণ-গ্রামেও এখন বিভিন্ন এনজিও, ব্যাংকের শাখা, স্কুল বা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এগুলোতে যারা চাকরি করেন তাদের অধিকাংশই ভাড়া থাকেন। ভাড়া দেওয়ার জন্য শহরের মতো আলাদাভাবে বাড়ি গ্রামে সাধারণত কেউ করেন না। তবে নিজের থাকার বাড়িতেই সাবলেট ভাড়া দিয়ে থাকেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে গেছে। উদাহরণ দিতে গিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, শরীয়তপুর ফিল্ড ভিজিটের সময় দেখেছি-প্রত্যন্ত গ্রামের অনেক বাড়িতে সাবলেট ভাড়াটিয়া আছেন। কারণ মানুষগুলো পদ্মার বিভিন্ন চরের। নদীভাঙা কিংবা অন্য কোনো কারণে তারা এসব বাড়িতে পরিবার নিয়ে সাবলেট ভাড়া থাকেন। কিন্তু চর জাগলে তারা সেখানে গিয়ে থাকেন ও চাষাবাদ করেন।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে সাবলেট বাসাভাড়া গ্রহণকারী পরিবারের সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। সেটি বেড়ে ২০২২ সালে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ হয়। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। সাবলেট ভাড়া প্রদানকারী পরিবারও বেড়েছে। ২০২১ সালে এ হার ছিল শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২২ সালে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়ায়। এ অবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমেছে একক খানায় (পরিবার) বসবাসকারীর সংখ্যা। ২০২১ সালে এ হার ছিল ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ, পরের বছর সেটি কমে হয় ৯৬ শতাংশ, ২০২৩ সালে আরও কমে হয়েছে ৯৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরি বলেন, কোভিড পরবর্তী সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। ফলে মানুষের স্থানান্তরও বেড়ে গেছে। অর্থাৎ শহর থেকে টিকতে না পেরে অনেক পরিবার গ্রামে চলে গেছে। আবার গ্রাম থেকে অনেক পরিবার শহরে আসছে। আঞ্চলিক স্থানান্তরও বেড়েছে। এসব পরিবার সাবলেট বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেকে বড় বাসা ছেড়ে সাবলেটে চলে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব জীবনযাত্রার মানের ওপর পড়ছে। এমন পরিস্থিতি স্বল্প ও নিু আয়ের মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। গ্রামে বা পল্লী অঞ্চলে সাবলেট ভাড়াটিয়া পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২১ সালের হিসাবে এ হার ছিল ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ, ২০২২ সালে বেড়ে হয় ২ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে সেটি আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশে।




দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী কমেছে

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিকল্পিত পরিবার গঠনে এক সময় দেশে সাফল্য ছিল বেশ। তবে সেই সাফল্যে যেন ছেদ পড়েছে। কমেছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত পরিবার গঠনের দিকে আর সরকারের দৃষ্টি নেই। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর দামও অনেক বেড়েছে। প্রচার-প্রচারণায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক ঘাটতি। আর এসব কারণে কমছে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৩ সালের ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসে’র তথ্য বলছে, ২০২২ সালে দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ছিল ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা পরের বছরে কমে গেছে। ২০২৩ সালে ওই হার হয়েছে ৬২ দশমিক ১ শতাংশ। বিবিএস গত রোববার এই ফল প্রকাশ করে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, শহর-গ্রাম উভয় এলাকাতেই জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহাকারী কমেছে। তবে শহরের চেয়ে গ্রামে কমেছে বেশি (১ দশমিক ৩ শতাংশ)। গ্রামের ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ২০২২ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করলেও ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে ৬১ দশমিক ৬ শতাংশ। বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ফল বলছে, ২০২২ সালে শহরের ৬৪ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতেন, যা ২০২৩ সালে হয়েছে ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে শহরাঞ্চলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কমার হার শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।

চিকিৎসকরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মেয়ের কিশোরী বয়সে বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তারা জানেই না, আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি কী। আরেকটি বড় সমস্যা হলো, বিরাট সংখ্যক নারী মনে করে– দরকার হলে ইমার্জেন্সি পিল খেয়ে নেব। তারা জানেন না, এটি কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নয়। ইমার্জেন্সি পিল বারবার খেলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়– তাও তারা জানেন না।’ দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারকারী বাড়াতে প্রচার-প্রচারণায় জোর দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।




আজ থে‌কে রাতে ১ ঘণ্টা বে‌শি চল‌বে মে‌ট্রো‌রেল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আজ থে‌কে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত রা‌তে ১ ঘণ্টা বে‌শি চলবে মে‌ট্রো‌রে‌লের ট্রেন। মতিঝিল স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন ছাড়‌বে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। উত্তরা থেকে সর্বশেষ ট্রেন ৯টা ২০ মিনিটে ছাড়বে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ইস্কাটনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রতিষ্ঠান‌টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম এ এন ছিদ্দিক।

মঙ্গলবার পর্যন্ত মতিঝিল স্টেশন থেকে সর্বশেষ ট্রেন যাত্রা ক‌রছে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে। উত্তরা থেকে সর্বশেষ ট্রেন যাত্রা ক‌রে রাত ৮টা ২০ মিনিটে যাত্রা। এম এ এন ছি‌দ্দিক জানান, বাড়তি সময়ে ১২ মিনিট পরপর ১০টি ট্রেন চলবে। এখন দিনে ১৮৪ বার ট্রেন চলে। বুধবার থে‌কে চলবে ১৯৪ বার। প্রতি ট্রেনে ২ হাজার ৩০৮ জন করে মোট ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫২ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন।




লঞ্চে যাত্রী চাপ কম : শেষ মুহূর্তে ভিড় বাড়ার আশা

চন্দ্রদীপ নিউজ: ঢাকা নদী বন্দরের (সদরঘাট) টার্মিনাল। ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ২৫টি পন্টুন পাশাপাশি এক সারিতে সাজানো। এসব পন্টুনে কমবেশি একশ লঞ্চ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বেশিরভাগ লঞ্চই অলস বসে আছে। হাতেগোনা কয়েকটি লঞ্চে যাত্রী তোলা হচ্ছে। এসব লঞ্চের সামনে কর্মচারীদের হাঁকডাক। যাত্রী ডেকে ডেকে তুলছেন লঞ্চে। মঙ্গলবার বিকালের দৃশ্য এটি। এদিন সকালে ছিল আরও করুণ দৃশ্য। শুধু চাঁদপুর ঘাটে কিছু সংখ্যক যাত্রী দেখা যায়। লঞ্চের মালিক-শ্রমিক জানান, ঈদের মাত্র অল্প কয়েকদিন বাকি থাকলেও নৌপথে যাত্রী চাপ নেই বললেই চলে। যাত্রী সংকট থাকায় লঞ্চ শ্রমিকেরা ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছেন। তবে তাদের আশা, ঈদের আগের কয়েকদিন যাত্রী চাপ বাড়বে। যাত্রী চাপ অনুযায়ী বাড়তি লঞ্চও চালাবেন মালিকরা। গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্র্যন্ত যানজট কমিয়ে আনার দাবি মালিক সমিতির। মঙ্গলবার সরেজমিন সদরঘাটে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) একাধিক কর্মকর্তা জানান, সদরঘাট থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর ৪১টি রুটে লঞ্চ চলাচল করত। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে লঞ্চের যাত্রী অনেক কমে গেছে। যাত্রী না থাকায় ৭-৮টি রুটে কোনো লঞ্চ চলাচল করে না। বাকি রুটগুলো সচল থাকলেও সীমিত আকারে লঞ্চ চলাচল করছে। তারা আরও জানান, পদ্মা সেতু চালুর আগে সাধারণ সময়ে প্রতিদিন সদরঘাট থেকে ৬৫-৭৫টি লঞ্চ ছেড়ে যেত। সেখানে রোববার ও সোমবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) ৪৭টি করে লঞ্চ ছেড়ে গেছে। তার আগে শনিবার ৪৫টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। এসব লঞ্চে গড়ে ৫০০ জন যাত্রী ঢাকা ছেড়েছেন বলে ওই কর্মকর্তাদের ধারণা। এই অবস্থায় মালিকদের খরচ পোষাতে লঞ্চে যাত্রীর পাশাপাশি মোটরসাইকেল বহনের অনুমতি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। আকারভেদে বড় লঞ্চগুলোতে সর্বোচ্চ ছয়টি মোটরসাইকেল বহন করা যাবে।

লঞ্চে যাত্রী কমে যাওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহণ) সংস্থার প্রেসিডেন্ট মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম গণমাধ্যমকে বলেন, আগের মতো যাত্রী সংকট চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পর যাত্রী কিছুটা বাড়লেও তা উল্লেখ করার মতো না। বেশিরভাগ লঞ্চ কেবিন ফাঁকা রেখে চলাচল করছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দীর্ঘদিন থেকে নৌপথে যাত্রী সংকট থাকায় মালিকরা লঞ্চ চালিয়ে পোষাতে পারছেন না। লোকসানের মুখে ২০০টির বেশি লঞ্চ স্ক্র্যাপ (ভেঙে বিক্রি করা হয়েছে) হয়ে গেছে। মাহবুব উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আরও বলেন, মালিকদের পক্ষ থেকে আমরা ১৮ দফা দাবি জানিয়ে আসছি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-সদরঘাট পর্র্যন্ত যাতায়াতের পথ নির্বিঘ্ন এবং যানজটমুক্ত রাখা। নদী বন্দরে কুলি-হয়রানি, হকার, ক্যানভাসার, ছিনতাইকারীমুক্ত রাখা। তাহলে যাত্রীরা নৌপথে যেতে আগ্রহী হবেন।




আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি হতে কী কী যোগ্যতা লাগবে