এমভি আবদুল্লাহ : কত দিতে হলো মুক্তিপণ?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সোমালিয়ান জলদস্যুদের সঙ্গে অবশেষে হলো চূড়ান্ত সমঝোতা। মুক্তিপণ দিয়েই জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক ও এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ মুক্ত হয়েছে। সোমালিয়ার উপকূল থেকে মুক্ত হয়ে জাহাজটি রওনা হয়েছে আরব আমিরাতের দিকে। কিন্তু কত টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হলো এম ভি আবদুল্লাহ? সেই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি মালিকপক্ষের কেউ। তবে সোমালিয়ার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে লেনদেন হওয়া মুক্তিপণের পরিমাণ ৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৫ কোটি টাকা! সেখানকার পান্টল্যান্ড মিরর নামের সংবাদ মাধ্যম ডলারের এই অঙ্ক উল্লেখ করে দিয়েছে ব্রেকিং নিউজ। তবে মালিক পক্ষের আরেকটি সূত্র মুক্তিপণ বাবদ দেয়া টাকার অঙ্ক আরও কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে জলদস্যুদের সঙ্গে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছে কেএসআরএম গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত। নতুন বছরের শুরুর দিনই এমন সুসংবাদ দিলেন তিনি।

মালিকপক্ষের মুখপাত্র ও মিডিয়া অ্যাডভাইজার মিজানুল ইসলাম বলেন, মুক্তিপণের বিষয়টি কৌশলগত কারণে আমরা বলতে পারব না। গণমাধ্যমকে এটা নিয়ে প্রশ্ন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ।




১৯ এপ্রিল দুবাই পৌঁছাবেন নাবিকরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া ২৩ নাবিকসহ জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ দুবাইয়ের পথে রওনা হয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে জাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে। পরে সেখান থেকে বিমানযোগে নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে জানিয়েছে জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএম।

রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রামে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন একথা জানিয়েছেন কেএসআরএমের উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।

কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুবাই পৌঁছার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এর আগে, গত ১২ মার্চ দুপুরে কেএসআরএম মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি জিম্মি করে সোমালিয়ান দস্যুরা। ৫৮ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে গত ৪ মার্চ আফ্রিকার মোজাম্বিকের মাপুটো বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এমভি আবদুল্লাহ।

জিম্মি হওয়ার ৩১ দিন পর বিভিন্নভাবে দেনদরবার শেষে মুক্তিপণের মাধ্যমে অক্ষত অবস্থায় সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাত থেকে শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে মুক্ত হন বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর ২৩ নাবিক। জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।




আজ থেকে চালের বস্তায় জাত ও মূল্য লেখা বাধ্যতামূলক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: চালের বস্তার গায়ে ধানের জাত, মিলের ঠিকানা ও দাম লেখা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে মাস দুয়েক আগে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল তা কার্যকর হচ্ছে আজ পহেলা বৈশাখ থেকে। এর ব্যত্যয় ঘটলে রয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

আজ রোববার থেকে চালের বস্তায় ধানের জাত, মিলগেটের মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এমনকি প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানের অবস্থান (জেলা ও উপজেলা) উল্লেখ করতে হবে। থাকতে হবে ওজনের তথ্যও।

গতকাল শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের চাল উৎপাদনকারী কয়েকটি জেলায় পরিদর্শন করে নিশ্চিত হওয়া গেছে বাজারে একই জাতের ধান থেকে উৎপাদিত চাল ভিন্ন ভিন্ন নামে ও দামে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম অযৌক্তিক পর্যায়ে গেলে বা হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে মিলার, পাইকারি বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। এতে ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে পছন্দমত জাতের ধানের চাল কিনতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ অবস্থার উত্তরণের লক্ষ্যে চালের বাজার মূল্য সহনশীল ও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে ধানের নামেই যাতে চাল বাজারজাতকরণ করা হয় তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে নির্দেশনায় কয়েকটি বিষয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- চালের উৎপাদনকারী মিলমালিকদের গুদাম থেকে বাণিজ্যিক কাজে চাল সরবরাহের প্রাক্কালে চালের বস্তার ওপর উৎপাদনকারী মিলের নাম, জেলা ও উপজেলার নাম, উৎপাদনের তারিখ, মিল গেট মূল্য এবং ধান বা চালের জাত উল্লেখ করতে হবে। বস্তার ওপর এসব তথ্য কালি দিয়ে লিখতে হবে। যা আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কার্যকর হবে।

চাল উৎপাদনকারী মিল মালিকের সরবরাহ করা সবধরনের চালের বস্তা ও প্যাকেটে ওজন উল্লেখ থাকতে হবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে মিলগেট দামের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান চাইলে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করতে পারবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬ ও ধারা ৭ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনটির ধারা-৬-এর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ রয়েছে। আর ধারা-৭-এর শাস্তি হিসেবে রয়েছে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান।




রিজার্ভ বেড়ে ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে 




পদ্মা সেতুতে একদিনে প্রায় ৫ কোটি টাকা টোল আদায়ের রেকর্ড

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : একদিনে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে পদ্মা সেতু। মঙ্গলবার পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের এই নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়েছে ৪৫ হাজার ২০৪টি যানবাহন। এতে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৭ হাজার ৫০ টাকা। যা একদিনে টোল আদায়ের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থাপনা পদ্মা সেতু সাইট অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আমিরুল হায়দার চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গতকাল পর্যন্ত একদিনে ৫ কোটি টাকার টোল আদায় হয়নি।




ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক




ঈদের আগে হিলি বন্দর দিয়ে এলো ৪৭ ট্রাক আলু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টানা ছয়দিন বন্ধের একদিন আগে হিলি স্থলবন্দরে ৪৭টি ভারতীয় ট্রাকে ১ হাজার ১৯৮ মেট্রিক টন আলু আমদানি হয়েছে। যা আলু আমদানি অনুমতির পর এটিই সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রেকর্ড পরিমাণ আলু আমদানি হওয়ায় ঈদের ছুটিতে আমদানি বন্ধ থাকলেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানান আমদানিকারকরা।

সোমবার (৮ এপ্রিল) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব আলু ভারত থেকে হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করেছে।

হিলি স্থলবন্দর জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক বলেছেন এর আগে চলতি মাসের ৩ তারিখে ২৬ ট্রাকে ৬৭৮ মেট্রিকটন আলু আমদানি হয়েছিল। যেটি ছিল এই বন্দরে সর্ব্বোচ্চ আলু আমদানির পরিমাণ।

সোহরাব হোসেন মল্লিক জানান, ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে হিলি স্থলবন্দরের টানা ৬ দিন আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও পানামা পোর্ট সরকারি ছুটি ব্যতীত পণ্য লোড-আনলোড স্বাভাবিক রয়েছে। তাই রেকর্ড পরিমাণ আমদানি করা আলু আমদানিকারকদের চাহিদা মোতাবেক আলুর গাড়িগুলো ছাড়করণ করা হচ্ছে।




১০ দিনে কলাপাড়ায় মৎস্য আড়তে ৪৭৫ টন ইলিশ বিক্রি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। গত ১০ দিনে মৎস্য বন্দর মহিপুর ও আলীপুরসহ কলাপাড়ার বিভিন্ন আড়তে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৭৫ মেট্রিক টন ইলিশ। এবার ইলিশের দাম অনেক চড়া। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। সাগরে জেলিফিশের প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছের উৎপাদন বেড়েছে বলে দাবি মৎস্য বিভাগের।

সরেজমিনে কলাপাড়ার বৃহৎ মৎস্য বন্দর মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা, ধুলাসার, ধোলাইবাজার ও আঁশাখালী আড়তে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর পরিমাণে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। কারণ, গত ১০ দিন গভীর সাগর থেকে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ নিয়ে ঘাটে এসেছে ট্রলারগুলো।

জানা গেছে, মৎস্য বন্দরগুলোতে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৬০০ টাকা কেজি দরে। ৮০০ গ্রামের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ১২০০-১৩০০ টাকা, ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৮০০-৯০০ টাকা। বাজারে জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে।

আরো পড়ুন : আগুনে পুড়ে ছাই ঈদের আনন্দ

মহিপুরের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী সলেমান মিয়া বলেন, গত ১০দিন (সোমবার পর্যন্ত) সব জেলেরাই সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফিরেছেন। দামও ভালো পেয়েছেন তারা। মূলত পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মাছের দাম কমেনি। আমরা যারা পাইকারি ব্যবসা করি আমরাও ঢাকায় মাছের ভালো দাম পেয়েছি।

ধুলাস্বর এলাকার জেলে ইউসুফ মিয়া বলেন, আমরা মূলত ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করি। প্রতিদিন সাগরে যাই আবার ফিরে আসি। সাগরে জেলিফিশ কমে যাওয়ার পর আমাদের জালে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। এভাবে মাছ আসলে আমরা ধারদেনা কাটিয়ে উঠতে পারবো।

কলাপাড়া মাছ বাজারে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতা ফজুল মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে ইলিশের প্রচুর দাম চাচ্ছেন। যেভাবে দাম চাচ্ছে মনে হয় সোনা কিনতে এসেছি। আমরা বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাচ্ছি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

অপর ক্রেতা সাইফুল মিয়া বলেন, বিক্রেতারা ১ কেজি ইলিশের দাম চাচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকা। এভাবে ইলিশের দাম বাড়লে আমরা কোনোভাবেই এই মাছটি আর কিনে খেতে পাড়বো না। বাজারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়লে ইলিশের দাম কমতে পারে।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, গত ১০ দিনে কলাপাড়া উপজেলার জেলেরা ৪৭৫ মেট্রিকটন ইলিশ বিক্রি করেছেন। এছাড়া চিংড়ি, লইট্যা, পোয়া, তুলার ডাডি ও সোনাপাতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছও পাচ্ছেন জেলেরা। আশা করছি, বৃষ্টি হলে মাছের পরিমাণ আরও বাড়বে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা বাজার মনিটরিং করছি। পণ্যের দাম বেশি রাখলে তার (ব্যবসায়ী) বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন হওয়ায় ধরা পড়ছে ইলিশের ঝাঁক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাগরে জাল ফেললেই উঠে আসছিল জেলিফিশ। এ কারণে জেলেরা মাছ ধরা কার্যত বন্ধই রেখেছিলেন। তবে এখন জেলিফিশের উপদ্রব কমে গেছে। জেলেদের জালেও ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

গত এক সপ্তাহে পটুয়াখালীর আলীপুর ও মহীপুরে কমপক্ষে দুই-তিন হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা পালন করার সুফল পাচ্ছেন জেলেরা।

আরো পড়ুন : বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

সরজমিনে দেখা গেছে, মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেপল্লী ও কলাপাড়া উপজেলার দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র আলীপুর এবং মহিপুরে ফিরেছে কর্মব্যস্ততা। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে দুই হাজার মণ ইলিশ মাছ বেচাকেনা হয়েছে। গত শনিবার সকালে এফবি আল্লাহর দয়া-১ নামের একটি ট্রলার ১৫০ মণ ইলিশ নিয়ে আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নোঙর করে। ওই ট্রলারে পর্যাপ্ত বরফ না থাকায় ২০ মণ ইলিশ মাছ যায়। বাকি ১৩০ মণ ইলিশ নিলামে ৪০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়।

মহিপুর মৎস্য আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ রাজা বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সমুদ্রে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যাচ্ছে। ঈদের আগমুহূর্তে জেলেদের জালে মাছ ধরা পড়ায় জেলে পল্লীতে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে।’

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালন হওয়ায় আগের চেয়ে সব ধরনের মাছের উৎপাদন বেড়েছে। সরকারি বিধিনিষেধ মানার সুফল পাচ্ছেন উপকূলের জেলেরা। বর্তমানে সমুদ্রে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। আশা করছি, এবার বর্ষা মৌসুমে আরো বেশি ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে।’




এবার সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে বেসিক ব্যাংক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বেসরকারি ভালো ব্যাংকের তালিকায় থাকা সিটি ব্যাংকের সঙ্গে এবার একীভূত হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক একীভূত হবে স্বেচ্ছায়।

সোমবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে গত ১৯ মার্চ সিটি ব্যাংকের পর্ষদকে বেসিক ব্যাংককে একীভূত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তারপর সিটি ও বেসিক ব্যাংকের পর্ষদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই ব্যাংকের কমকর্তারা এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। ব্যাংক দুটি একিভূত হলেও আগামী তিন বছর পৃথক আর্থিক প্রতিবেদন করবে৷

বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়টি সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন নিশ্চিত না করলেও গণমাধ্যমকে বলেন, স্বতঃপ্রণোদিত একত্রীকরণ নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নীতি সহায়তা বাধ্যতামূলক একত্রীকরণ থেকে অনেক বেশি, তাই সবল ব্যাংক হিসেবে কোন দুর্বল ব্যাংককে সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা যায়, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। সিটি নিজেই ২০০৭ সালে একটা প্রবলেম ব্যাংক ছিল। আজ আমরা দেশ সেরা স্থানীয় ব্যাংক। আমরা ব্যাংক পুনর্গঠনে অভিজ্ঞ। ব্যালান্স শিট একত্রীকরণে তিন বছর সময় পাওয়া যাবে। এ তিনটা বছর ভালোভাবে কাটলে আমি আশাবাদী, সময় আরও বাড়বে। আমরা যেন আরও সবল ও বড় ব্যাংক হয়ে উঠি এবং আর্থিক খাতের সংকটেও পাশে দাঁড়াতে পারি, এমন অবস্থান থেকেই ব্যাংক পুনর্গঠনে দক্ষ হিসেবে দুর্বল ব্যাংকগুলো নিয়ে আমাদের বিশ্লেষণ চলছে-এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের আলোচনা হচ্ছে। একীভূত হওয়া নিয়েও অনেকের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে; চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হলে আমরা জানাব।

এ নিয়ে মোট আটটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, এর মধ্যে সরকারি ব্যাংক পাঁচটি আর বেসরকারি ব্যাংক তিনটি। গত মার্চ মাসে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হতে চুক্তি করেছে পদ্মা ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংক একীভূত করার ধারা শুরু হয়। এ ছাড়া রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংককে (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।