বিলাসিতা কমিয়ে শ্রমিকদের দিকে নজর দিন : শেখ হাসিনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : মালিকদের বিলাসিতা কমিয়ে শ্রমিকদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে, তাদের ন্যায্য পাওয়া বঞ্চিত করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

আজ (১ মে) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মে দিবস উপলক্ষ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে শ্রমের অধিকার আদায়ে মহান মে দিবসে আত্মত্যাগকারী শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন আওয়ামী লীগের লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে, তাদের ন্যায্য পাওনা বঞ্চিত করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

“শোষিত মানুষের মুক্তির জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কাজ শুরু করেছিলেন এদেশে। দেশের মানুষের বৈষম্য তিনি দূর করতে চেয়েছিলেন। এই অঞ্চলের কোনো শিল্প কারখানা ছিল না। যুদ্ধের পর এই দেশ ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত। মা যেমন একজন রুগ্ন সন্তানকে লালন-পালন করে সুস্থ করেন, তেমনি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ গড়ে তুলে শ্রমিকের কর্মসংস্থানসহ জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেছিলেন। শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা-আইএলও-এর সদস্যপদ লাভ করেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “কেউ যদি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে সে যেই হোক না কেন, যত বড়ই হোক না কেন, যদি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি হলেও আমরা ছাড়ি না, ছাড়বো না। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে, তাদের ভালো মন্দ দেখতে হবে।”

শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে এবং সহজলভ্য করতে ট্যাক্স তুলে দিয়েছি। যাতে শিল্প কারখানা নিরাপদ হয়। আজ সারা বিশ্বের মধ্যে সেরা ১০টি গ্রিন শিল্প কারখানা বাংলাদেশে।”

শ্রমিকদের দুঃসময়ে সরকার সবসময় পাশে থেকেছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, “মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিলো বিএনপি-জামায়াত জোট। বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চ এমন কিছু নেই যাতে আগুন দেয় নাই। ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেকের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। বিনাখরচে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। শ্রমিকদের কল্যাণ দেখা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।”

রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক কল্যাণে আর্থিক সেবা দিতে কেন্দ্রীয় কল্যাণ গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় শ্রমনীতি ২০১২ যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”

করোনার পর রাশিয়ায়-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সম্প্রতি ফিলিস্তিনির ওপর ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডে সারা বিশ্বের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব এবং মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের দেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান যাতে ভালো থাকে সেজন্য সবার বেতন আমরা পাঁচ ভাগ বাড়িয়েছি। সেখানে শ্রমজীবী মানুষের জন্য আমরা এই হার ৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় উন্নীত করেছে। শুধু গার্মেন্ট শিল্প কারখানা নয় ৪২টি সেক্টরে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।”

এ সময় শ্রমিকদের প্রতি মালিকের এবং মালিকের প্রতি শ্রমিকের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে প্রতিষ্ঠান আপনাদের কাজের সুযোগ করে দিয়েছে, রুটি-রুজির ব্যবস্থা করে দিয়েছে, সেখানে আপনাদেরও যেমন দায়িত্ব আছে, সেই সঙ্গে মালিকদেরও দায়িত্ব আছে যে শ্রমিকরা তাদের শ্রম দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে, জীবন জীবিকাকে উন্নত করা বা বিলাসবহুল জীবন যাপন করার সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা বিলাসিতা একটু কমিয়ে শ্রমিকদের দিকে বিশেষ নজর দেবে সেটাই আমি চাই। বিলাসিতা কিছুটা ছেড়ে দিয়ে শ্রমিকরদের দেখবেন।”

মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্কের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশটা আমাদের সবার। এ দেশ যত উন্নত হবে, ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে। কারখানা মালিকরা নতুন নতুন বাজার পাবে, তারা লাভজনক হবে। আমাদের শ্রমিকরাও ভালো জীবন পাবে।”

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “শ্রমিকরা নিরাপদে, সুষ্ঠু পরিবেশে কাজ করবে। তাদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। কোনো বৈষম্য থাকে না। বৈষম্যহীন একটা সমাজ আমরা চাই। এভাবে শ্রম আর মাটি, মানুষদের নিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো, বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো।”

শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৯৬ সালে মজুরি আটশ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা করেছিলাম। ২০০৯ সালে আমি যখন সরকার গঠন করলাম তখন দেখলাম ১৬৬২ টাকা মাত্র মজুরি পায়। তখন আমি নিজে মালিকদের ডেকে কথা বলেছিলাম, তখন তাদের মজুরি ১৬শ টাকা থেকে ৩ হাজার ২শ টাকায় বৃদ্ধি করি। ২০১৩ সালে একই কারণে পুনরায় আবার ৫ হাজার ৩শ টাকায় উন্নীত করেছিলাম।

শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি জানি আমাদের দেশে কিছু ভাড়াটিয়া লোক; আমি বলবো, কথায় কথায় তারা শ্রমিকদের নিয়ে রাস্তায় নামার চেষ্টা করে। শ্রমিকদের ভাত কাপড়ের ব্যবস্থা করছে, কাজের ব্যবস্থা করছে, জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করছে। সেই কারখানা নিজেরা যদি ধ্বংস করতে চান। ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া সেই ধরনের কাজ যদি করে তাহলে ক্ষতি কার হচ্ছে। নিজের ক্ষতি হচ্ছে পরিবারের ক্ষতি হচ্ছে। মালিকদেরও ক্ষতি হচ্ছে। মালিকদের তো একটা ব্যবসা থাকে না, তারা অন্য ব্যবসা থেকে পুষিয়ে নিতে পারেন। তাহলে ক্ষতি কার হচ্ছে নিজেদের ক্ষতি হচ্ছে। “আপনাদের কোনো অসুবিধা যদি হয়, আমার দুয়ার খোলা।”

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. মাহবুব হোসেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এইচ এম ইব্রাহীম, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি আরদাশীর কবির, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর কুতুব আলম মান্নান।




পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ৩ গরুর মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গভীর রাতে বজ্রপাতে এক কৃষকের তিনটি গরু মারা গেছে। মঙ্গলবার (৩০ মে) রাত ২টার দিকে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তীব্র গরমের কারণে গরুগুলো রাতে মাঠেই বেঁধে রাখা হয়েছিল। এ সময় বজ্রপাতে দরিদ্র কৃষক মো. আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের (রাজা মিয়া) তিনটি গরু এক সঙ্গে মারা যায়।

চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যার গরু মারা গেছে তিনি গরিব কৃষক। মারা যাওয়া গরুগুলোর বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষককে সহায়তা দেওয়া হবে।




দাম বেড়েছে ডিজেল-অকটেন-পেট্রোলের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ মার্চ থেকে চালু করেছে সরকার। এ হিসাবে প্রতি মাসে নতুন দাম ঘোষণা করা হচ্ছে। প্রথম দুই দফায় ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে কমেছিল জ্বালানি তেলের দাম। এবার তৃতীয় দফায় মে মাসের জন্য ঘোষিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বেড়েছে এক টাকা। পেট্রোল ও অকটেনের দাম বেড়েছে লিটারে আড়াই টাকা।



৫০ কোটি টাকার কর ফাঁকি, ব্র্যাক ব্যাংকে এনবিআরের অভিযান




ইইউর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক  : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ব‌লে‌ছেন, ইইউর (ইউ‌রোপীয় ইউনিয়ন) সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে বাংলা‌দেশ। যাতে বিশ্বে কোথাও মানুষকে যুদ্ধের ভয়াবহতা সহ্য করতে না হয়। আমাদের লক্ষ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায় এবং বিশ্বজুড়ে মানবতার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা।




সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন সম্পন্নকারীর সংখ্যা এক লাখ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সর্বস্তরের জনগণকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছে সরকার। শুরুতে সর্বজনীন পেনশনে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেলেও মাঝে নিবন্ধনে কিছুটা ধীরগতি আসে।

তবে এপ্রিল মাসে এসে সর্বজনীন নিবন্ধনের সংখ্যা এক লাখের মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন পেনশন স্কিম উদ্বোধন করেন। এরপর পরই আবেদন শুরু হয়ে যায়।

সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুর পর ইতোমধ্যে আট মাস পার হয়েছে। আট মাস পরে এসে নিবন্ধন সম্পন্নকারীর সংখ্যা এক লাখ স্পর্শ করলো।

প্রাথমিকভাবে প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা এবং সমতা— এই চার স্কিম নিয়ে সরকার সর্বজনীন পেনশন চালু করে সরকার। পরবর্তীতে সব স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীন অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ‘প্রত্যয় স্কিম’ নামে নতুন স্কিম চালু করার ঘোষণা দেওয়া হয়। আগামী ১ জুলাই থেকে এই স্কিম কার্যকর হবে।

সর্বজনীন পেনশনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে মাঠ প্রশাসনকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং মাঠ প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিভাগভিত্তিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে কমিশনার, জেলাপ্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে যথাক্রমে বিভাগ, জেলা ও উপজেলাভিত্তিক নিবন্ধন মনিটরিং ও বাস্তবায়ন করছেন।

 

বিভাগীয় পর্যায়ে সর্বজনীন পেনশন মেলা ও কর্মশালার আয়োজন করে সব শ্রেণি-পেশায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৯ এপ্রিল রাজশাহীতে বিভাগীয় পেনশন মেলা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে অবশিষ্ট সাত বিভাগে বিভাগীয় মেলা অনুষ্ঠিত হবে। বিতরণের জন্য মাঠ প্রশাসনের কাছে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফ্লায়ার বুকলেট পাঠানো হয়েছে এবং তা অনাহত আছে। এছাড়া সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমে ইউডিসি (ইউনিয়ন ডিজিটাল দেড়টার) উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে আজ নিবন্ধন সংখ্যার মাইলফলক এক লাখ অর্জিত হয়েছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে চাঁদাদাতাদের অর্থ থেকে নিরাপদ ট্রেজারি বন্ডে ৪২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সবার সহযোগিতায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সর্বজনীন পেনশনের ধারণা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। এ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত সর্বজনীন পেনশন স্কিম নাগরিকদের বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ, যা সব নাগরিকের অবসরকালীন আর্থিক মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ একটি অধিকতর কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বজনীন পেনশন নিবন্ধন সংখ্য এক লাখ স্পর্শ করে। বিকেল ৫টার দিকে নিবন্ধন সম্পন্ন করে চাঁদা পরিশোধকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১ হাজার ৩৩৮ জন। নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি দারিদ্র মানুষ, যাদের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার টাকার কম। অপরদিকে সব থেকে কম নিবন্ধন করেছেন প্রবাসীরা।

সূত্রটি জানিয়েছে, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন সম্পন্ন করা ১ লাখ ১ হাজার ৩৩৮ জন ইতোমধ্যে ৫২ কোটি টাকার বেশি চাঁদা জমা দিয়েছেন। চাঁদা বাবদ জমা পড়া টাকা থেকে এরই মধ্যে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সম্পূর্ণ টাকায় বিনিয়োগ করা হয়েছে ট্রেজারি বন্ডে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সব থেকে বেশি দরিদ্র মানুষ, যাদের বর্তমান আয় সীমা বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা। এই শ্রেণির মানুষের জন্য চালু হয়েছে সমতা স্কিম। এই স্কিমে চাঁদা দিয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৫৫ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ৭ কোটি ২৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধকারীদের ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ দরিদ্র মানুষ। এই স্কিমের মাসিক চাঁদার হার ১ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্কিম গ্রহণকারী চাঁদা দেবেন ৫শ টাকা এবং বাকি ৫শ টাকা দেবে সরকার।

চাঁদা দেওয়া এবং নিবন্ধন করা দুই দিক থেকেই সবার নিচে রয়েছে প্রবাসীরা। বিদেশে অবস্থান করা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য চালু করা হয়েছে প্রবাস স্কিম। এই স্কিম গ্রহণ করে ইতোমধ্যে চাঁদা দিয়েছেন ৬৩৩ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ৩ কোটি ৫ লাখ ১২ হাজার ৫শ টাকা। অর্থাৎ নিবন্ধনকারীদের মাত্র দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবাসী। আর মোট জমা পড়া চাঁদার ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ এসেছে প্রবাসীদের কাছ থেকে।

চাঁদা দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত বা স্বকর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি যেমন- কৃষক, রিকশাচালক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি ইত্যাদি পেশার ব্যক্তিরা। তাদের জন্য চালু করা হয়েছে সুরক্ষা স্কিম। এই স্কিম গ্রহণ করে চাঁদা পরিশোধ করেছেন ৩১ হাজার ৪৬৬ জন। তাদের জমা দেওয়া চাঁদার পরিমাণ ১৭ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫শ টাকা। অর্থাৎ মোট চাঁদার ৩৪ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ এসেছে এই স্কিমের মাধ্যমে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন সুবিধাভোগী ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এবং ৫০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়স্ক একজন সুবিধাভোগী ন্যূনতম ১০ বছর চাঁদা দিয়ে আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন। পেনশনে থাকাকালীন ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে পেনশনারের নমিনি পেনশন স্কিম গ্রহণকারীর ৭৫ বছর পূর্ণ হওয়ার অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত পেনশন পাবেন। চাঁদাদাতা কমপক্ষে ১০ বৎসর চাঁদা দেওয়ার আগেই মারা গেলে জমা করা অর্থ মুনাফাসহ তা নমিনিকে ফেরত দেওয়া হবে। চাঁদাদাতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেবল তার জমা করা অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ঋণ হিসাবে উত্তোলন করা যাবে।




ইউএস-বাংলা গ্রুপে চাকরির সুযোগ




বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি ভারতের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশসহ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ছয়টি দেশে ৯৯ হাজার ১৫০ টন পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে ভারতের সরকার। শনিবার দেশটির ভোক্তা, খাদ্য ও জন বিতরণ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পেঁয়াজ রপ্তানির সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।



গলাচিপার সু-স্বাদু মুগডাল যাচ্ছে জাপানে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের পরিবারগুলোর প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় ভাতের পরই ডালের স্থান। এ দেশের প্রায় সব রকমের ডালই চাষ করা হয়। এসবের মধ্যে মুগডাল অন্যতম।

গলাচিপায় মাঠে মাঠে মুগডালের সমারহ। এটি খেতে যেমন সু-স্বাদু, তেমনি চাষ করেও ভালো দাম পাওয়া সম্ভব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুগডালের আবাদ হয়ে থাকে। এর মধ্যে পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল জেলায় আবাদ বেশি হয়। গলাচিপায় উৎপাদিত ডাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপায় মুগডালের আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৮০০ হেক্টর, ফেলন (পেলেন ডাল) ডাল ৭৭০ হেক্টর ও খেসারী ডাল ৮৫০ হেক্টর। এ বছর ডালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজর ৫০০ হেক্টর। তবে তা ছাড়িয়ে গেছে। কম বেশি ডালের আবাদ করলেও চাষীর সংখ্যা ২২ হাজার ৫০০-এর মতো। বর্তমান সরকার রবি মৌসুমে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে গলাচিপা উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ চাষীকে বিনামূল্যে জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে বীজ মুগডাল বারী-৬, ২০ কেজি করে ড্যাব ও এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : নির্মাণের ১৫ দিনের মধ্যেই ভাঙা হলো ২ লাখ টাকার ঘাটলা

সূত্রে আরো জানা গেছে, এলাকাভেদে মুগের বপন সময়ের তারতম্য দেখা যায়। রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলের জন্য বপনের উত্তম সময় হচ্ছে পৌষ-মাঘ মাস (জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ হতে ফেব্রুয়ারির মধ্য ভাগ)। আষাঢ় মাসে (মধ্য জুন থেকে মধ্য জুলাই) অবিরাম বৃষ্টিতে মুগের ফল পচে যায়। চৈত্র মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে (মধ্য মার্চ) বীজ বপন সম্পন্ন করতে পারলে আষাঢ় মাসের আগেই ফসল সংগ্রহ করা যায় এবং ফল পচনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়। তীব্র তাপদাহের কারণে কৃষক-কৃষাণীরা ডাল তোলার জন্য সূর্য উঠার আগ থেকেই ক্ষেতে কাজ শুরু করে। সূর্যের তাপের তীব্রতার কারণে ক্ষেত থেকে ডাল তোলা সমস্যায় পড়তে হয় কৃষকদের। এছাড়া গাছগুলো ভালোভাবে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বা গরু দিয়ে মাড়াই করে মুগডাল সংগ্রহ করা হয়।

সরেজমিনে গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিকাপুর গ্রামের কৃষক আ: ছালাম মৃধা (৭৩) জানান, তিনি ৬০ শতাংশ জমিতে মুগডাল আবাদ করেছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে ট্রাক্টর বাবদ ২৭০০ টাকা, দৈনিক ৭০০ টাকা মজুরি বাবদ ছয় দিনে ৪২০০ টাকা, সার বাবদ ৪৫০ টাকা, ওষুধ বাবদ ১২২০ টাকা ও বীজ বপন করতে ১০০০ টাকা খরচ হয়েছে। তার উৎপাদিত ডাল হয়েছে দুই মণ। যার বাজার মূল্য ৮৪০০ টাকা। আরো কিছু ডাল ক্ষেতে হতে পারে।’

তিনি আরো জানান, ‘গলাচিপায় বর্তমানে প্রচণ্ড খরা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ার কারণে গরমে ডালের শাখা-প্রশাখা বাড়েনি। পাতা মুচরিয়ে রয়েছে। ফলন এ বছর কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জমিতে উপযোগী পরিবেশ না পাওয়ায় ডালের উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে।’

গলাচিপা উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমাদের এখানে দেশী বা সোনা মুগ, বারি মুগ-০৬ এর চাষ হয়। বারি মুগ-৬ এর হেক্টর প্রতি ফলন ১ থেকে ১.৫ টন। বিগত তিন-চার বছর ধরে এই এলাকার মুগডাল গ্রামীন ইউগ্লোনা কোম্পানির মাধ্যামে জাপান রফতানি হচ্ছে। তীব্র তাপদাহে মুগডালের ফুল শুকিয়ে যাচ্ছে। মাটিতে রসের ঘাটতি দেখা দেয়ায় ডালের আকার ছোট হচ্ছে, ডালের ছড়ার সংখ্যা কম হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, ‘তীব্র তাপদাহে কৃষকরা কিছুটা বিপাকে রয়েছে। তবে ক্ষেতে সেচ দেয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ফলন বাড়ার সুযোগ রয়েছে।’




ভোলায় গ্যাস প্রসেস প্লান্ট কয়েক খাতে দ্বিগুণ ব্যয়ের প্রস্তাব

বরিশাল অফিস :: ভোলায় ২৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য প্রসেস প্লান্ট স্থাপন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। ৬০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পের জন্য কয়েকটি খাতে প্রায় দ্বিগুণ ব্যয় প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। সমজাতীয় সমাপ্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে কাজ ৯০ কোটি টাকায় করা হয়েছে সেই কাজের জন্য ১৭১ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, বাপেক্স কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘ভোলা নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য ৬০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেস প্লান্ট সংগ্রহ ও স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পটির ওপর গত ২১শে মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২৩৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ১লা এপ্রিল ২০২৪ থেকে ৩০শে জুন ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন শেষে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্প উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এ ছাড়া উৎপাদিত গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন সম্ভব হবে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সভা সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪ ইঞ্চি ব্যাসের গ্যাস গ্যাদারিং লাইনপাইপ, প্রায় ৫৬০ মিটার ৪টি খাল ক্রসিং ও আনুষঙ্গিক সুবিধাসহ প্রসেস প্লান্ট সংগ্রহ, স্থাপন ও কমিশনিং বাবদ ১৭১ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। যেখানে সমজাতীয় সমাপ্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯০.৯০ কোটি টাকা। সভায় অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

দ্বিগুণ ব্যয়ের বিষয়ে সভায় বাপেক্সের মহাব্যবস্থাপক বলেন, বার্ষিক ৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার রেট বৃদ্ধির কারণে ৬০ এমএমএসসিএফ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেস প্লান্ট ও মালামালের খরচের জন্য ১০৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু মালামাল ক্রয় করতে হবে যা সমজাতীয় সমাপ্ত প্রকল্পে ছিল না।

ফলে মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে বাপেক্সের মহা-ব্যবস্থাপক বলেন, বাপেক্সের আওতাধীন শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রে একটি ৬০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন গ্লাইকল ডিহাইড্রেশন টাইপ প্রসেস প্লান্ট এবং একটি ২ী৩৫ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্লাইকল ডিহাইড্রেশন টাইপ প্রসেস প্লান্ট বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত প্রসেস প্লান্টের মাধ্যমে মোট ৫টি কূপ থেকে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক কমবেশি ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে। ভোলা জেলার ভেদুরিয়া সংলগ্ন স্থানে ভোলা নর্থ-১ কূপটি ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত হয়।

বর্তমানে ৩টি কূপে (টবগী-১, ইলিশা-১ এবং ভোলা নর্থ-২) বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য প্রাকৃতিক গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২ এবং ইলিশা-১ কূপগুলো প্রস্তাবিত ভোলা নর্থ ক্ষেত্র থেকে ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে অবস্থিত, কিন্তু শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্র থেকে আলোচ্য কূপগুলো অনেক দূরবর্তী হওয়ায় অর্থনৈতিক এবং কারিগরি বিবেচনায় শাহবাজপুর গ্যাস ক্ষেত্রের প্রসেস প্লান্টের সঙ্গে উল্লিখিত কূপগুলোর সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব নয়। সে প্রেক্ষিতে ভোলা নর্থ-১, ভোলা নর্থ-২, এবং ইলিশা-১ গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদিত গ্যাস প্রসেসিংয়ের নিমিত্তে প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল মহাসড়কের ভেদুরিয়া ফেরিঘাট রোডের পাশে প্রসেস প্লান্ট স্থাপনের জন্য বাপেক্সের কারিগরি কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকল্পটির কয়েকটি খাতে বেশি ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন থেকে প্রকল্পের প্রধান প্রধান বিভিন্ন আইটেমের সঙ্গে সমজাতীয় প্রকল্পের প্রধান প্রধান আইটেমের তুলনামূলক ব্যয় বিবরণী ও ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করে ডিপিপি পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ডিপিপিতে সম্পাদনাজনিত ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং অন্যান্য অসামঞ্জস্যতা দূর করতে বলা হয়েছে।