বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আসছে

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো প্রণয়নের পর এবার বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রস্তাবনা যাচ্ছে জাতীয় বেতন কমিশনে (পে কমিশন)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) জানিয়েছে, তারা বেসরকারি খাতের জন্য ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের প্রস্তাবনা তৈরি করছে।

সংগঠনের মহাসচিব মো. আলমগীর গণমাধ্যমকে জানান,

“আমরা প্রস্তাবনাটি প্রস্তুত করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা বেতন কমিশনে জমা দেওয়া হবে। সার্বিকভাবে আমাদের প্রস্তাব থাকবে—বেসরকারি খাতে সর্বনিম্ন বেতন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, একটি পরিবারের চার সদস্যের ন্যূনতম জীবনযাত্রা বজায় রাখতে যে পরিমাণ আয়ের প্রয়োজন, সেটিই হওয়া উচিত একটি ‘মানবিক বেতন’।

“প্রাইভেট সেক্টর সবসময় চায় কম খরচে বেশি উৎপাদন। কিন্তু একজন কর্মীরও তো মানবিক মর্যাদা আছে। তার পরিবারের খাবার, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যয় বিবেচনা করে ন্যূনতম আয় নিশ্চিত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।

এফবিসিসিআই মহাসচিব আরও বলেন,

“বিদেশি কর্পোরেট সেক্টরে কর্মীদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দেশীয় অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনও কাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। তবে অর্থনৈতিকভাবে আমরা যত উন্নত হব, তত বৈষম্য কমে আসবে।”

তিনি মূল্যস্ফীতির প্রভাব তুলে ধরে বলেন,

“যদি কারও বেতন ২০ হাজার টাকা হয় এবং মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ বাড়ে, তাহলে প্রকৃত আয় কমে দাঁড়ায় ১৮ হাজার টাকায়। তাই বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হবে, প্রতিবছর এই সমন্বয় করা গেলে।”

তিনি আরও মন্তব্য করেন,

“আমরা চাই সরকার ও বেসরকারি খাত আলাদা না দেখে নাগরিকের মানবিক মর্যাদার দিকটা বিবেচনা করুক। একটি মানুষ যেন তার ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে পারে, সেটাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য। অন্যথায় বৈষম্য ও দুর্নীতি বাড়বে।”

বর্তমান শ্রমবাজারের অবস্থা নিয়েও মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই মহাসচিব।

“চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বেতন বৃদ্ধির সুযোগ কমে যায়। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একজনকে চাকরিতে না নেয়, তখন অন্যজন সেখানে যোগ দেয়। শ্রমবাজারে জনবল থাকলেও ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা নেই। এটা আধুনিক যুগের এক ধরনের শোষণ,” বলেন তিনি।

তিনি আরও যোগ করেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে অডিট না হওয়াও বেতন বৃদ্ধি না হওয়ার একটি বড় কারণ। সময় এসেছে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য সুষ্ঠু বেতন কাঠামো তৈরির, যাতে কর্মীদের জীবনমান উন্নত হয় এবং উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুবাই ও মিয়ানমার থেকে একলাখ টন চাল আমদানি করবে সরকার

দেশের সরকারি খাদ্য মজুত বৃদ্ধি এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য মিয়ানমার ও দুবাই থেকে মোট একলাখ টন নন বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতিটি দেশ থেকে ৫০ হাজার টন করে চাল আমদানি করা হবে। এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৬ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৫৭০ টাকা।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র ও জিটুজি (G2G) পদ্ধতিতে এই চাল আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুবাইয়ের মেসার্স ক্রেডেন্টওয়ান এফজেডসিও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি টন ৩৫৫.৯৯ মার্কিন ডলারে ৫০ হাজার টন নন বাসমতি সিদ্ধচাল আমদানি করা হবে। বাংলাদেশের মুদ্রায় এর পরিমাণ ২১৬ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ টাকা। প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪৩ টাকা ৩৮ পয়সা।

মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টন আতপ চাল আমদানি করা হবে। প্রতি কেজি আতপ চালের দাম ধরা হয়েছে ৪৫ টাকা ৮৭ পয়সা।

এ ধরনের উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি বিতরণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য মজুত বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




অক্টোবরের প্রথমার্ধে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন, দেশে এসেছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা

চলতি অক্টোবরের প্রথম ১৮ দিনেই দেশের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সে দেখা দিয়েছে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা টাকায় প্রায় ১৯ হাজার ২০৩ কোটি টাকা

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় বেড়েছে প্রায় ৫ কোটি ১০ লাখ ডলার, যা প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৯১৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই মাসে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

এর আগে, গত অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ এক মাসের হিসাবে রেকর্ড ছুঁয়েছিল — ৩২৯ কোটি ডলার, যা ওই অর্থবছরের সর্বোচ্চ আয় ছিল।

পুরো ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে।


আল-আমিন




২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই রাজস্ব আয়ের রেকর্ড!

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) শেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এনবিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তিন মাসে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯০ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে এক প্রান্তিকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আহরণের রেকর্ড।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের ২৪ হাজার কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি। অর্থাৎ এই খাতে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ১৮.২৬ শতাংশ

অন্যদিকে, আমদানি ও রফতানি খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা, যা গত তিন অর্থবছরের তুলনায় সর্বোচ্চ। এনবিআর জানায়, এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১১.৭৪ শতাংশ

স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাত থেকেও এসেছে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব — ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে আদায় ছিল ২৬ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা, ফলে এ বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯.৭৪ শতাংশ

এনবিআর বলছে, তিনটি প্রধান খাত — আয়কর ও ভ্রমণ কর, মূসক এবং আমদানি-রফতানি — প্রত্যেকটিতেই এবার নতুন রেকর্ড গড়া হয়েছে।

তুলনামূলকভাবে দেখা যায়,

  • ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭৫ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা
  • ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে ছিল ৭৬ হাজার ৬৮ কোটি টাকা,
  • আর ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ছিল ৬৮ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা

অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরে প্রথম তিন মাসেই গত বছরের তুলনায় ১৫ হাজার ২৭০ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এনবিআরের হিসেবে এটি ২০.২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

বিশ্লেষকরা বলছেন, কর প্রশাসনের সংস্কার, রাজস্ব আহরণে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের গতি ফেরায় এই ইতিবাচক ফলাফল এসেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চট্টগ্রাম বন্দরে ৪১% মাশুল বৃদ্ধি, দামে আগুন লাগার আশঙ্কা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নতুন সিদ্ধান্তে রাতারাতি বেড়ে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দরের সেবা খরচ। গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত থেকে বন্দরটির সব সেবা খাতে গড়ে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি মাশুল কার্যকর করা হয়েছে। ফলে উৎপাদনমুখী শিল্প, ভোগ্যপণ্য ও বাণিজ্যিক আমদানি–রপ্তানি খাতে একযোগে চাপ বেড়েছে, যার চূড়ান্ত বোঝা পড়বে সাধারণ মানুষের কাঁধে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরের এই মাশুল বাড়ানোর সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে। কারণ অতিরিক্ত খরচ আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা তাদের বিলের সঙ্গে যোগ করবেন, যা শেষ পর্যন্ত বাজারে দামের উর্ধ্বগতি ঘটাবে।

টি কে গ্রুপের ফাইন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন ডিরেক্টর মোহাম্মদ শফিউল আতহার তসলিম বলেন, “বন্দরের এই মাশুল শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ঘাড়েই গিয়ে পড়বে। কারণ এটি বাড়লে কোম্পানিগুলোর অপারেটিং খরচ বেড়ে যায়, যা পণ্যের দামে সমন্বয় করতে হয়।”

১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বন্দরের ৫২টি সেবা খাতের মধ্যে ২৩টিতে সরাসরি নতুন মাশুল প্রযোজ্য হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে কনটেইনার পরিবহনে—প্রতি ২০ ফুট কনটেইনারের মাশুল ১১,৮৪৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,২৪৩ টাকা, অর্থাৎ গড়ে ৩৭ শতাংশ বেশি। ফলে আমদানিকারকদের প্রতি কনটেইনারে গুনতে হচ্ছে ৫,৭২০ টাকা বেশি, আর রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে বাড়তি ৩,০৪৫ টাকা

এইচকেসি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, “এ সিদ্ধান্তে পোশাক খাত নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের কারণে আমাদের রপ্তানি ইতিমধ্যেই চাপে আছে, এর মধ্যে বন্দরের খরচ বাড়ানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।”

দেশে আমদানিনির্ভর পণ্যের মধ্যে ভোগ্যতেল, চিনি, গম, ডাল ও সারসহ বহু পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই আসে। এই খাতে মাশুল বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে সরাসরি বাজারে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।

বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, “আমরা বছরে দেড় মিলিয়ন টন প্লাস্টিক কাঁচামাল আমদানি করি, যার ৯৯ শতাংশ আসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। নতুন মাশুলের ফলে আমাদের খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। একবার আমদানিতে, আবার রপ্তানিতে বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে। এতে আমরা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা হারানোর ঝুঁকিতে আছি।”

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু রপ্তানিই নয়, দেশের উৎপাদন খাতেও স্থবিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ কাঁচামালের আমদানি ব্যয় বাড়লে উৎপাদন ব্যাহত হবে, ফলে বাজারে সরবরাহ কমে দাম আরও বাড়বে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে—বিদেশি অপারেটরদের সুবিধা দিতেই নতুন মাশুল কার্যকর করা হয়েছে। তারা বলছেন, সরকারের উচিত ছিল বাণিজ্যবান্ধব নীতি গ্রহণ করা, কিন্তু এখন বন্দরটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ব্যয়বহুল বন্দরে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বিদেশি অপারেটরদের স্বার্থ রক্ষায় ট্যারিফ বাড়ানো হয়েছে। মাশুল বৃদ্ধির নেপথ্যের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা না করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি।”

বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদন এক গভীর সংকটে পড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে নড়াচড়া শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিসিয়াল বার্তায় বলা হয়, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৈষম্যে ভোগা শিক্ষক-কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না তাদের দাবি। তাই এবার তারা ‘প্রজ্ঞাপন ছাড়া ঘরে ফিরবেন না’ বলে ঘোষণা দেন। দুপুর ১২টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন না জারি হলে শাহবাগ অবরোধের ঘোষণা দেন তারা, যা পরে বাস্তবায়ন করা হয়।

পুলিশ প্রথমে শাহবাগ থানার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এই সময় পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে—“প্রজ্ঞাপন চাই, প্রতিশ্রুতি নয়।”

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
🔹 ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি,
🔹 দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ,
🔹 কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীতকরণ।

প্রায় চার দিন ধরে লাগাতার এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষকরা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ—সরকার কথা দিলেও বারবার তা বাস্তবায়ন করছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।

তারা আরও বলেন, শিক্ষা খাতে যারা কাজ করছেন, তাদের সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর তুলনায় অনেক কম। সরকার চাইলে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে, কিন্তু তা না করে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, সরকার যদি দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের দাবি পূরণ করে, তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষক সমাজ পুনরায় আস্থার জায়গায় ফিরে আসবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৬ ব্যাংক থেকে ৩৮ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশের ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ৬টি ব্যাংক থেকে মোট ৩৮ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান

তিনি জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় রিজার্ভ থেকে বিক্রির পরিবর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকেই ডলার কিনছে। এতে একদিকে রিজার্ভ বাড়ছে, অন্যদিকে মুদ্রাবাজারের তারল্যও স্থিতিশীল থাকছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাল্টিপল অকশন পদ্ধতিতে এই ৩৮ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়। নিলামে ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত গিয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক গৃহীত মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ২ হাজার ১২৬ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৯ দফায় ডলার কিনেছিল। সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর ৮টি ব্যাংক থেকে ১৪০ মিলিয়ন ডলার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২৬ ব্যাংক থেকে ৩৫৩ মিলিয়ন ডলার এবং ৪ সেপ্টেম্বর ১৩৪ মিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এতে বাজারে ডলারের দাম কিছুটা কমে আসে। তবে, ডলারের দর আরও কমে গেলে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে নতুন পদ্ধতি চালু করে। এর ফলে ব্যাংক ও গ্রাহকরা এখন নিজেরাই বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিনিময় হার নির্ধারণ করছে।


আল-আমিন




যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বাংলাদেশের সংস্কার অগ্রগতিতে

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও চলমান সংস্কার কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ ও সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। অর্থ উপদেষ্টা জানান, গত এপ্রিলের বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকের পর গত ছয় মাসে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল হয়েছে, রিজার্ভ বেড়েছে এবং রাজস্ব আয়ও উন্নতির পথে।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “সরকার লেনদেন ও পেমেন্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা নিরসন করেছে এবং দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। আমাদের সংস্কার এখন দৃশ্যমান—যার ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে।”

বৈঠকে মার্কিন ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব প্রশাসন ও বীমা খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তারা কর রিফান্ড ও নিয়ন্ত্রক সংস্কারের বিষয়েও পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ না হলে এমন অগ্রগতি সম্ভব হতো না।

অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, “আমরা এসব সুপারিশ ইতোমধ্যে অনলাইন নীতিমালার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছি। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর বাস্তব প্রভাব দেখা যাবে।” তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো—সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য গন্তব্যে পরিণত করা।

সরকারের প্রতিনিধি দল জানায়, শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। ফলে ইউএস চেম্বারের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারধর্মী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।

বর্তমানে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ২০২৫ সালের আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৯৮ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার সমান। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে এই হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

রোববার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসী আয় এসেছে ৯৮ কোটি ৭৬ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার। গত বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২০ কোটি ১১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১০ কোটি ২৯ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে সর্বোচ্চ ৬৮ কোটি ৪ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার এবং সেপ্টেম্বরে এসেছে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। ধারাবাহিক এই প্রবৃদ্ধি রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রবাসী আয় পাঠাতে নানা প্রণোদনা এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম সম্প্রসারণের ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারের নতুন নীতিতে পাঁচ শর্তে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির অনুমোদন

দেশের রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করতে এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার প্রথমবারের মতো পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্তে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির (Deemed Export) অনুমোদন দিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (মূসক আইন ও বিধি) ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সীর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি ৯ অক্টোবর জারি করা হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে প্রকৃত রপ্তানিকারকের কাছে পণ্য বা সেবা সরবরাহ করেন, তাহলে সেটি “মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২” এর ধারা ২(৬২) অনুযায়ী প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দেশের অভ্যন্তরেই পণ্য বা সেবা সরবরাহ করে রপ্তানি সুবিধা ও প্রণোদনার আওতায় আসতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সরবরাহকারীদের অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হবে।
প্রথমত, সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবাটি অবশ্যই অনুমোদিত স্বত্বাধিকারক বা প্রকৃত রপ্তানিকারকের জন্য হতে হবে।
দ্বিতীয়ত, পণ্য বা সেবার মূল্য লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে অর্থ লেনদেন স্বচ্ছ থাকে।
তৃতীয়ত, সরবরাহের আগে স্বত্বাধিকারক বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে লিখিত চুক্তি থাকতে হবে।
চতুর্থত, প্রতিটি সরবরাহের জন্য সিস্টেমভুক্ত ইনভয়েস থাকতে হবে।
পঞ্চমত, সরবরাহ সংক্রান্ত লেনদেনের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে হবে, যাতে সরকার সহজে তথ্য যাচাই ও পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়ায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রচ্ছন্ন রপ্তানি নীতিমালা কার্যকর হলে স্থানীয় শিল্প ও উৎপাদনকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবেন। পাশাপাশি, রপ্তানি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও কর সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে—এই নীতিমালার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও (এসএমই) রপ্তানি সুবিধার আওতায় আসবেন, যা তাদের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে প্রচ্ছন্ন রপ্তানির আওতা আরও বাড়ানো হবে এবং ডিজিটাল ভ্যাট সিস্টেমে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম