ঈদের আগে বাড়ল রিজার্ভ




নদীতে আশানুরূপ মাছ না পেয়ে দশমিনায় হতাশ জেলেরা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে ইলিশসহ অন্য মাছ শিকার করতে নেমে আশানুরূপ মাছ না পেয়ে হতাশ জেলেরা।

আশানুরূপ মাছ না পেয়ে জেলেদের কষ্টই বৃথা হয়ে যাচ্ছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে জাল ফেলার পর আশানুরুপ মাছ পাচ্ছে না। ফলে জেলেরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, হাজীরহাট, গোলখালী মৎস্য ঘাট এবং বাঁশবাড়িয়াঘাটসহ হাট-বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়ে অনেক জেলে বসে আছেন। কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে জেলের মুখ হয়ে আছে মলিন। কারণ নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাদের খরচের টাকাই উঠছে না।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কার্ডধারী ১০ হাজার ১৭১ জন বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী জেলে রয়েছে। আর সরকারি সাহায্য সহযোগীতার আওতায় ভিজিএফ’র ছয় হাজার জেলে সমুদ্রগামী।

উপজেলার গোলখালী এলাকা থেকে একাধিক জেলে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন মাছ শিকারে। রাতে তিনটি ‘খেও’ (জাল ফেলে) দেয়ার পর অল্প কিছু পোয়া মাছ ও রাম ছোর পেয়ে ঘাটে এসে নোঙর করে দুরচিন্তায় বসে আছে।

জেলেরা বলেন, ‘অভিযান (নিষেধাজ্ঞার) সময় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাইনায়। ওই সময় গেলে মাছ বেশি পাইতাম। অভিযান (নিষেধাজ্ঞা) শেষে নদীতি নামি দেহি কোনো মাছ নেই। রাতভর তিন খেপ দিয়া মাত্র দুই-তিন কেজি পোয়া আর ছোর মাছ পাইছি । তাও সব ছোট মাছ আর ২৮০ টাকা কেজি দরে বেঁচিছি। কি আর করমু। মনডা বেশি ভালা নাই। তাই চুপচাপ বইসা আছি।’

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মাছ ধরতে আসা শাহ আলম খাঁ, জাহাঙ্গীর ও লাল মিয়াসহ আর প্রায় শতাধিক জেলে হতাশার সুরে বলেন, ‘নৌকা নামাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেই গরু-বাছুর বিক্রি করে আর কেউ ঋণ নিয়ে জাল-নৌকা নামাইছি। তয় নদীতে কোথাও মাছ নাই। গেল বছর প্রতি খেয় ২০-৩৫ কেজি কইরা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ পাইছি। এবার দুই খেও দিইয়া মাত্র পাঁচ কেজি মাছ পাইছি।’

তারা আরো বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে অধিকাংশ জেলের মুখ ছিল মলিন। কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাদের খরচের টাকাই উঠছে না। বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়বে ভেবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন কিনতে এসেছেন বাজারে। না পেয়ে তারা হতাশ মুখে ফিরে যাচ্ছেন। অধিকাংশ মাছের আড়ৎ ঘরের সামনে ডালায় সামান্য কিছু মাছ দেখা যায়। ক্রেতাদের ভিড়ে মাছের বাজারও বেশ চড়া।

মৎস্য ব্যবসায়ী বাঁশবাড়িয়া ঘাটে মিরাজ খাঁ বলেন, ‘অন্য বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতের মাছ ধরা পড়ত। গত বছর অনেক মাছ বেচাকেনা করেছি। অভিযানের সময় কেউ কেউ লুকিয়ে মাছ ধরেছে। মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছে অনেকে। অভিযান শেষে ভালো মাছ ধরা পড়বে এই আশায় অনেকে ধারদেনা হয়ে জাল ও নৌকা নামিয়েছে। নদীতে নেমে মাছ না পেয়ে আমরা হতাশ হচ্ছি।’

উপজেলা মৎস্য মেরিল ফিসারিজ কর্মকর্তা মো: নাজমুল ইসলাম জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্রের ওপর ভারসাম্যহীন আঘাতের এবং তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে গভীরতা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ায় ইলিশের প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত হয়। অন্য বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছের সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম।




বরিশালে কোরবানির গরু কিনতে খামারে ভিড় করছেন ক্রেতারা

বরিশাল অফিস :: গরুর হাট এখনো জমেনি বেশিরভাগ এলাকায়। যে দু চারটি জমজমাট বাজারের কথা শোনা যায়, সেখানেও পছন্দের গরু না পাওয়ায় হতাশ কোরবানির গরু কিনতে আগ্রহী ক্রেতারা। তারা এখন সার্চ দিচ্ছেন অনলাইনে, ঠিকানা খুঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন খামারে।

বরিশালের লোক ছুটে যাচ্ছেন ঢাকা কিম্বা চট্টগ্রাম, আবার ঢাকা চট্টগ্রামের লোকেরা ছুটে আসছেন বরিশালে। নগর ও মহানগরীর বাইরে প্রত্যন্ত গ্রামের অসংখ্য গরু খামার এখন অনলাইনে যুক্ত হয়ে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করার প্রতিযোগিতার নেমেছে বলে জানালেন একাধিক ব্যবসায়ী ও ক্রেতা। এমনকি গরুর হাটের ইজারাদার থেকে শুরু করে ক্ষুদে গরু ব্যবসায়ী এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বললেন, অনলাইন খামারিদের যন্ত্রণায় আর ডাক নেয়া যাবেনা। ক্ষুদে গরু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে। মোটাতাজা করার মেডিসিন খাওয়া গরু খেয়ে মানুষ যখন প্রতারিত হবে তখন বুঝবে, বলে আক্ষেপ করেন একাধিক গরু ব্যবসায়ী।


তাদের এ বক্তব্যের প্রতিবাদে বরিশালের আমতলা মোড়ের একজন বাড়িওয়ালা মিরাজ হোসেন বললেন, আমি ইন্টারনেট সার্চ করে ঢাকার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পিএসবি এগ্রো থেকে পছন্দের গরুটি কোরবানির জন্য কিনে এনেছি। ওখানে তারা প্রাকৃতিক ঘাস,খড়,ভুসি, খড়কুটো, ভুট্টা ইত্যাদি খাবার দিয়ে গরু লালনপালন করছেন। তাদের গরু যথেষ্ট হৃষ্টপৃষ্ঠ ও সুন্দর।

সরেজমিনে শনিবার (১৫ জুন) দুপুরে
বরিশালের গড়িয়ারপাড় এলাকার কেমিস্ট্র এগ্রো বায়োটেক ঘুরে দেখা গেল এখানে দূর দূরান্ত থেকে ক্রেতারা গরু কিনতে এসেছেন। এখানে গরু কিনতে আসা ঢাকার ইন্দিরা রোডের একজন ক্রেতা জাকির হোসেন বললেন, অনলাইনে দেখে ঠিকানা নিয়ে আমরা সরাসরি চলে এসেছি বরিশালের কাশিপুরে। এখানে গড়িয়ার পাড়ের রেন্ডিতলা বলতেই মহসড়ক সংলগ্ন এই কেমিস্ট এগ্রো বায়োটেক খামারটি স্থানীয়রা দেখিয়ে দিলেন । এখানে এসে যাচাই-বাছাই করে পছন্দের গরুটি কিনে নিয়েছি। খুবই তৃপ্তি পাচ্ছি এখন। আমার সাথে আমার ছেলে এসেছে। সেও মহাখুশি। খামারের লোকেরাই খরচ নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে দেবেন গরুটি।

যশোর থেকে আসা ক্রেতা বললেন, এখানে এসে এদের কথা ও কাজের মিল পেয়েছি বলেই গরুটি কিনতে পারলাম।

এদিকে বরিশালের গরুর হাটগুলো দুদিন ধরে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার ভিতরে স্থায়ী ২টি এবং অস্থায়ী ৬টি কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। আর জেলায় স্থায়ী ১০টি ও অস্থায়ী প্রায় অর্ধশত পশুর হাট হয়েছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ। বরাবরের মতো চরমোনাই ময়দানেও গরুর হাট সাজানো হয়েছে। যেখানে কখনোই হাসিল দিতে হয়না।


অন্যদিকে বিভাগীয় কমিশনার অফিস থেকে জানানো হয়েছে, এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৩২৮টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। ছয় জেলায় ২৬ হাজার ৫৭৮ জন খামারি কোরবানিযোগ্য ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৪ পশু লালন পালন করেছেন। আর বিভাগে এবারের কোরবানিতে মোট পশুর চাহিদা ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬১১টি। খামারিরা বলছেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে কোরবানির পশুর দামে। খামারে লাইভ ওয়েট মেশিনে বিক্রি করা পশুর দামও কেজি প্রতি ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান তারা। হাটের চেয়ে খামারে লালনপালন করা পশু ঝুঁকি মুক্ত জানিয়ে এমন বাস্তবতা ক্রেতারাও মেনে নিয়েছেন। যে কারণে হাটগুলোতে এখনো পশু ও ক্রেতার উপস্থিতি কম। বরিশালে এমইপি অ্যাগ্রো ফার্মের ইনচার্জ মো. রাফিউর রহমান জানিয়েছেন, ভারতীয় গরু না এলে কোরবানির বাজার স্থানীয় গরুর দখলে থাকবে।

অন্যদিকে প্রায় ৯০ শতাংশ গরু অনলাইনেই বিক্রি হয়ে গেছে জানিয়ে গর্বিত কেমিস্ট এগ্রো বায়োটেক লিমিটেড এর পরিচালক ওয়ালিউল্লাহ। তিনি বলেন, অন্যদের কথা জানিনা, আমাদের এখানে প্রায় ২৫০টি গরু রয়েছে। প্রতিটি গরুর লালন-পালনে নিজস্ব উৎপাদিত খাবার সরবরাহ করা হয়, আমাদের ক্ষেতেই ঘাস,কুড়া, ভুট্টা, ধান চাষ হয়। এগুলো নয়টি উপাদানের মিশ্রণে আমাদের কেমিস্ট ল্যাবরেটরিজ এর নিজস্ব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া হয়। ফলে আমাদের মাংসের দাম কিছুটা বেশি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পরবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঝিনাইদহ থেকে ১২টি গরু নিয়ে বরিশালের কাউনিয়া হাটে বসে হতাশা প্রকাশ করলেন গরু ব্যবসায়ী ইসমাইল মোল্লা। বললেন, এই গরমে গরুগুলো নিয়ে আতঙ্কে আছি। এখন পর্যন্ত ক্রেতার দেখা পাইনি। গরমের তীব্রতায় একটি গরুর ক্ষতি হলে আমরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবো বলে জানালেন একাধিক গরু ব্যবসায়ী।




দক্ষিণাঞ্চলে কোরবানি উপলক্ষে বসছে ৩২৮ পশুর হাট

বরিশাল অফিস :: আগামী ১৭ জুন মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদ উল আযহা। পশু কোরবানির মাধ্যমে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দিনটি উদযাপন করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তাই দক্ষিণাঞ্চলবাসির কোরবানির পশুর চাহিদা পুরণে প্রতিবারের ন্যায় এবারো বসছে পশুর হাট।

প্রাণীসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় কোরবানি উপলক্ষে মিলবে মোট ৩২৮টি গরু-ছাগলের হাট। এ হাটগুলোতে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রাণীসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে গঠন করা হয়েছে ১৩৬টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। যারা হাটগুলোতে কৃত্তিম উপায়ে মোটাতাজা করা, রোগমুক্ত এবং কোরবানি দেওয়ার উপযুক্ত পশু বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করণে দায়িত্ব পালন করবেন।

এখনো জমে ওঠেনি কোরবানির পশুর হাট
বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. লুৎফর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোরবানির তিনদিন আগে শেষ দিন পর্যন্ত হাটগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যরা।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য মতে, বিভাগের ছয়টি জেলায় এবার স্থায়ী এবং কোরবানি উপলক্ষে অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ৩২৮টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৭০টি, ভোলা জেলায় সর্বোচ্চ ৯৮টি, পটুয়াখালীতে ৪৭টি, ঝালকাঠিতে ৩৪টি, পিরোজপুরে সর্বনিম্ন ২৫টি এবং বরগুনা জেলায় ৪৯টি পশুর হাট বসছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন এবং সদর উপজেলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবারো বরিশাল সিটি এলাকায় তিনটি স্থায়ী এবং অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে রূপাতলী এলাকায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢালে, কাউনিয়া টেক্সটাইল মোড়ে একটি করে অস্থায়ী এবং বাঘিয়া এলাকায় একটি স্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে সিটি করপোরেশন। এছাড়া সদর উপজেলার চরমোনাই, কাগাশুরা, রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নে সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি করে স্থায়ী পশুর হাট বসছে। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সদর উপজেলা থেকে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বরিশাল জেলার ৭০টি হাটের জন্য ৩৬টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, ভোলার ৯৮টির জন্য ২১টি, পটুয়াখালীর ৪৭টির জন্য ২৮টি, ঝালকাঠির ৩৪টির জন্য ১১টি, পিরোজপুরের জন্য ২৫টির জন্য ২০টি এবং বরগুনা জেলার ৪৯টি হাটের জন্য ১৬টি মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদ অনুমোদিত অস্থায়ী হাটগুলো কোরবানির তিনদিন আগে থেকে বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সাপ্তাহিক স্থায়ী হাটগুলোও কোরবানি উপলক্ষে ঈদের আগে টানা তিনদিন বেচা-বিক্রি করতে পারবে।

বরিশাল গৌরনদী-আগৈলঝাড়ায় নির্বাচিত হয়েছেন মনির হোসেন ও যতীন্দ্রনাথ মিস্ত্রি
তিনি জানিয়েছেন, হাটে কোরবানির উপযোগী পশু বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করতে কাজ করবে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম। বিশেষ করে পশু রোগাক্রান্ত বা কৃত্তিম উপায়ে মোটাতাজা করে হাটে আনা হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি দেখবেন টিমের সদস্যরা।

এই কর্মকর্তা জানান, প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে। যে কারণে পর্যাপ্ত মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। যারা আছেন তাদের দিয়েই পুরো বিভাগের কোরবানির পশুর হাটে সেবা দেওয়া হবে। যারা সেবা দিবেন তাদের মধ্যে ৩২ জন সার্জন এবং ৩৮ জন চিকিৎসক কর্মকর্তা পশুর হাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, গত বছর বরিশাল বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬১১টি। গত বছর যে সংখ্যক পশু কোরবানি হয়েছে সেই সংখ্যক পশুই এবার কোরবানির চাহিদা নির্ধারণ করেছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর। চাহিদার অনুকূলে এবার বিভাগে ২৬ হাজার ৫৭৮ জন খামারীর খামারে হৃষ্ট-পুষ্ট বা মোটা-তাজাকরণসহ কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা রয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪৫৪টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় ১৬ হাজার ৮৪৩টি পশু বেশি রয়েছে বরিশাল বিভাগে।

এর পাশাপাশি রয়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ী, গৃহস্থ ঘরে লালন-পালন করা পশু। তাছাড়া কোরবানি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে আসা হয় অসংখ্য গরু-ছাগর। যে কারণে এবার দক্ষিণাঞ্চলে কোরবানির পশুর সংকট হবে না বলে আশাবাদী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।




ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি ঘোষণা




সরকারি কর্মকর্তারা সর্বজনীন পেনশন স্কিমে যুক্ত হবে : অর্থমন্ত্রী




১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ




বাজেটে যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে




বাজেট : দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের




প্রস্তাবিত বাজেট : দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের