সংসদে আজ পাস হবে অর্থবিল, বাজেট কাল




ভোলার গ্যাস রক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলে নাগরিক আন্দোলনের বিক্ষোভ ঘোষনা

বরিশাল অফিস :: ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে পাইপলাইনে সংযোগ দেয়ার দাবিতে বরিশালে নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

শনিবার ( ২৯শে জুন ) দুপুর ২ টার দিকে বাসদ বরিশাল জেলা কার্যালয়ে দেশী বিদেশী লুটেরাদের হাতে ভোলার গ্যাস না দিয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভোলার গ্যাস ভোলাসহ বরিশাল বিভাগে শিল্পাঞ্চলে ও আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগের দাবিতে নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধি সভা হয়। ১৫ জুলাই বরিশালে বিক্ষোভ,অক্টোবর মাসে গ্যাসের দাবিতে ভোলা অভিমুখী লংমার্চ ঘোষনা করা হয় ।

বরিশাল জেলা বাসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলার গ্যাস রক্ষায় দক্ষিণাঞ্চলের নাগরিক আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী ও পরিচালনা করেন,কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ মনীষা চক্রবর্ত্তী। বক্তব্য রাখেন ভোলার গ্যাস রক্ষায় নাগরিক আন্দোলন ভোলা জেলা শাখার আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নৃপেন্দ্রনাথ বাড়ৈ, সদস্য উপাধ্যক্ষ হারুন উর রশীদ, সদস্য বীরেন রায়, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য শহিদ হাওলাদার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, শিক্ষায়-সম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চল সরকারের অবহেলার কারণে এখন খানাভিত্তিক দারিদ্রে সারাদেশে প্রথম হয়েছে। ভোলা থেকে পাইপলাইন বসানোর জন্য সরকার অর্থ বরাদ্দ দিতে রাজি হচ্ছেনা অথচ ইন্ট্রাকোকে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার অনুমতি দিচ্ছে, বেসরকারি এল এন জি আমদানিকারকদের ক্রমাগত ভর্তুকি দিচ্ছে। আবার বাপেক্স কূপ খননে সক্ষম হলেও রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রমকে দরপত্র আহবান ছাড়াই চড়াদামে নতুন কূপ খননের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। অথচ পাইপলাইন না বসালে এই গ্যাস উত্তোলন করলেও দেশী বিদেশী লুটেরাদের মুনাফার কাজে লাগবে, জনগণ উপকৃত হবেনা।

বক্তারা অবিলম্বে ইন্ট্রাকো চুক্তি বাতিলের দাবি জানান এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোলার গ্যাস ভোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের উন্নয়নে শিল্পাঞ্চলে ও আবাসিক খাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযোগ দেয়ার দাবি জানান।

এ দাবিতে আগামী ১৫ জুলাই বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলায় বিক্ষোভ ও অক্টোবর মাসে গ্যাস সংযোগের দাবিতে ভোলা অভিমুখী লংমার্চ সফল করার জন্য নেতৃবৃন্দ জনগনের প্রতি আহবান জানান।




ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে লেবুর ভাসমান হাট

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলীর ভাসমান লেবুর হাট চলতি মৌসুমে জমে উঠেছে। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ লেবু কেনাবেচা হচ্ছে। পাইকাররা নৌকা থেকে লেবু কেনে গাড়িতে করে বরিশাল আড়তে নিয়ে বিক্রি করছেন। অনেকে আবার মালবাহী ট্রলার বা ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর ঝালকাঠি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ৯২ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে লেবুর ফলন প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর কম হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি। দেশীয় সুগন্ধিযুক্ত কাগজিলেবু ছোট হলেও ভেতরে পর্যাপ্ত রস থাকে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই লেবুর প্রতি সবারই কম-বেশি আকর্ষণ আছে। লেবুচাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গাছের পরিচর্যাসহ সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৩ কোটি টাকার বেশি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার ২২টি গ্রামের ৯২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুগন্ধি কাগজিলেবুর। ভিটামিন-সি যুক্ত রসাল এই লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা আশপাশের এলাকা। বাজারে বিভিন্ন জাতের লেবু ১২ মাস পাওয়া গেলেও মৌসুমি এ কাগজিলেবুর চাহিদাই বেশি। সদর উপজেলার কৃষি অঞ্চলখ্যাত কীর্তিপাশা, নবগ্রাম ও গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ২২টি গ্রামেই কাগজিলেবুর উৎপাদন হয়। গ্রামীণ হাট-বাজারে বিক্রি হলেও মূল মোকাম ভিমরুলী।

ফরমালিন ও কেমিক্যালমুক্ত রসাল সুগন্ধি কাগজিলেবু সবার কাছেই প্রিয়। ঝালকাঠির বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, কাফুরকাঠি, আটঘর, গাভারামচন্দ্রপুর, পোষণ্ডা, ডুমুরিয়া, খেজুরা, কীর্তিপাশা, মিরাকাঠিসহ ২২টি গ্রাম এখন লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা। প্রতিদিন এসব গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করে নৌকায় ভিমরুলী বাজারে নিয়ে আসেন। অপেক্ষমাণ পাইকাররা ট্রলারে বসেই লেবু কেনে নেন।

সরেজমিন আলাপ হয় স্থানীয় লেবুচাষিদের সঙ্গে। এ সময় তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে অনাবৃষ্টির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কম হওয়ায় দাম বেশি। গত বছর ১ পোন (৮০টি) লেবু ছিল আড়াইশ টাকা। এবার তা ৪শ টাকা। গ্রামের কৃষকরা সজ্জন পদ্ধতিতে (কাঁদি কেটে) লেবু চাষ করছেন। একেকটি কাঁদি ১শ থেকে ১১০ হাত লম্বা এবং ৭-৮ হাত চওড়া হয়। প্রতিটি কাঁদিতে ২২ থেকে ২৫টি গাছ লাগানো যায়। এ রকম ১ বিঘার কাঁদিতে লেবু চাষ করতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। ফল ধরার পরে প্রতি বছর লেবু বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়া যায়। সে হিসাবে লেবু বিক্রি করে প্রতি বছর কৃষকরা আয় করছেন দেড় থেকে ৩ কোটি টাকা।

লেবুর পাইকারি ব্যবসায়ী রহমান জানান, পটুয়াখালী থেকে মালবাহী ট্রলার এলে সেই ট্রলারে পটুয়াখালী মোকামে পাঠানো হয়। ওখানের কাঁচামাল বিক্রেতাদের সঙ্গে আগেই চুক্তি করা থাকে। কেনা দামের ওপর লাভ রেখে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, তীব্র গরমের কারণে ঘেমে মানুষের শরীর দুর্বল হয়। জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে লেবুর শরবত পান করলে আরোগ্য লাভ করা যায়। তাই কাগজিলেবুর চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার চাহিদা অনেকগুণ বেশি। এ জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য দিয়েই লেবু কেনে নেওয়া হচ্ছে। ভালো মানের একেকটি লেবুর ক্রয় মূল্যই হচ্ছে ৫ টাকা যা খুচরা বাজারে ৭-৮ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতি বছরই লেবুর চাহিদা থাকে। কিন্তু এ বছর চাহিদা অনেক বেশি।

কথা হয় লেবুচাষি বশিরের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, ঝালকাঠির কাগজিলেবুর কদর সবার কাছেই সমান। ফলন ধরার পর দুভাবে লেবু বিক্রি করে থাকি। প্রথমত স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে পাইকারদের কাছে। এ ছাড়া গাছে ফল আসার পর পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করি এককালীন নগদ টাকায়। ভিমরুলী থেকে নৌকা বা ট্রলারে করে পাইকাররা কেনে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।




ব্রাজিল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, বেশ কয়েকটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা




আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু




বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়েছে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেপ্টেম্বরে এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে বাকি ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সে লক্ষ্যে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ।

এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এটি মাইলফলক বলে মনে করছেন এই প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরএনপিএল) যৌথ বিনিয়োগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করে।

জেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে ৯১৫ একর জমির উপর ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। করোনাসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে টারবাইন, চুল্লি, কোল স্টোর, স্টিল স্ট্রাকচার, বয়লার, ওয়াটার ফিড ও জেনারেটর বসানোর কাজ। বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে কনস্ট্রাকশন ও রঙের কাজ। ৪ হাজার বাঙালি ও দেড় হাজার চাইনিজ শ্রমিক এ নির্মাণ কাজ করছেন।

আরো পড়ুন : মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

ইতোমধ্যে বয়লারে ফায়ারিংও করা হয়েছে। মোট কথা বর্তমানে বিদুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এ পাওয়ার প্লান্ট। এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন ও পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এ সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ।

বর্তমানে শেষ পর্যায়ের টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজ চলমান। জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে চায় প্রকল্পটি।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (তড়িৎ) আসিফ আহমেদ জানান, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন ও পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করেছি। এ সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ হয়েছে।

অপর নির্বাহী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) শওকত ওসমান বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের প্রথম ইউনিটের সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা বয়লারে ফায়ারিংও করেছি। মোটকথা আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করছি, জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পাব। এ ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে পারব বলে আশা করছি।




সুইস ব্যাংক থেকে নজিরবিহীন গতিতে টাকা তুলে নিচ্ছেন বাংলাদেশিরা




বুধবার থেকে নতুন সময়সূচিতে চলবে ব্যা




বরিশালে বাকিতে চামড়া কিনছেন ব্যবসায়ীরা

বরিশাল অফিস :: ঢাকায় কয়েক কোটি টাকা আটকা। তাই নগদ অর্থের অভাবে বরিশালে সবপশুর চামড়ার দাম বাকিতে পরিশোধ করছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (১৭ জুন) ঈদুল আযহার জামাতের পর কোরবানি শুরু হয়। সারা দিন চামড়া সংগ্রহের পর সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় আড়ত বা ট্যানারিতে।

(১৮) জুন সকালে আলাপকালে বরিশালের হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি বাচ্চু মিয়া বলেন, ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীদের কাছে বছরের পর বছর ধরে আমাদের বরিশালের আড়তদারদের কয়েক কোটি টাকা আটকা। তারপরও যারা এ ব্যবসা কোনোভাবে টিকে আছি, সংগ্রাম করতে হচ্ছে। কোরবানির কিছুদিন আগে কয়েক লাখ টাকা দিয়েছে ট্যানারি ব্যবসায়ীরা, যা দিয়ে পশুর বড় ধরনের চামড়ার মজুদ করা সম্ভব না। তাই এবারে নিজের এলাকার একটি মাদরাসার সংগ্রহকৃত পশুর চামড়া ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করছি না। তারা নগদ টাকা চায়। এখন যারা চামড়া নিয়ে আসছেন, তাদের সবাইকে সব টাকাও দিতে পারছি না, কিছু বাকিতেও রাখছি।তিনি বলেন, চামড়া শুধু রাখলেই হয় না, পরিষ্কার করে সেটিকে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। আর সেই লবণের দামও কোরবানির আগেই বস্তা প্রতি বেড়েছে।

সরকারের হস্তক্ষেপে গতবারের চেয়ে চামড়ার দর কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিক দিয়ে পরিষ্কার করে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখতে আকার ভেদে গড়ে হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এখন আমরা কি দাম পাবো সেটা বলতে পারছি না, আবার সংরক্ষণ করা সব চামড়ার যে দর পাবো তাও বলতে পারছি না। এটা নির্ভর করবে ট্যানারি ব্যবসায়ীদের ওপর। সরকারের উদ্যোগ ভালো, তবে তার একার পক্ষে সবকিছু সামলানো সম্ভব নয়। সবাইকে মিলে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে চামড়া শিল্প ভালো হয়।

যদিও মাঠ পর্যায়ে চামড়া সংগ্রহকারীরা বলছেন, যেটুকু বৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে তা ২০ থেকে ৫০ টাকার বেশি নয়। আর বরিশালে অল্প ব্যবসায়ী মাঠে থাকায় বাজারও যাচাই করা যাচ্ছে না।

বরিশাল নগরে এবার ৩-৪ জন ও জেলা মিলিয়ে ৫-৬ জনের বেশি চামড়া সংগ্রহ করছেন না
বলে জানিয়েছেন পদ্মাবতী এলাকার ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান মাসুম। তিনি বলেন, আগে
১০-১৫ জন এ ব্যবসায় জড়িত ছিল। ঢাকার ট্যানারির কাছে টাকা আটকে যাওয়ার পর এখন
৩-৪ জন নগরে এবং গোটা জেলা মিলিয়ে ৫-৬ জন চামড়া সংগ্রহ করেন। আর আমি তো
ব্যবসা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে এটা করছি। কোরবানির আগে ট্যানারি মালিকের কাছ থেকে কিছু টাকা পেয়েছি। আর এ টাকা দিয়ে যে কয়েক পিস চামড়া হবে তাই কিনবো। বাকি বাট্টার ঝামেলায় যাব না।

তিনি বলেন, বরিশালের বাজারে ২০-৩০ স্কয়ার ফিটের মধ্যে পশুর চামড়া পাওয়া যায়। যেখানে
মান ও আকার ভেদে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায় কিনছি। যা গতবারের থেকে তুলনামূলক বেশি। আর এ চামড়া সংরক্ষণে এভারেজে ৪০০ টাকার বেশি খরচ হবে। লবণসহ সংরক্ষণ ও পরিবহনের কারণে আমাদের খরচ বাড়লেও ট্যানারি কি দেবে সেটার ওপর নির্ভর করবে লাভ লোকসান। আবার সংরক্ষণ করা চামড়ার মধ্যে এই গরমে না হলেও ১৫ শতাংশ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ব্যবসা এখন ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বলা যায়।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারে বরিশাল জেলায় লাখের ওপর পশু কোরবানি

হবে। হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশন ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা সর্বোচ্চ ৫০-৬০
হাজার চামড়া সংগ্রহ করতে পারবেন। বাকিটা জেলার বাইরের ব্যবসায়ীরা সংগ্রহকরতে
পারবে।




বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হংকং, কম খরচ পাকিস্তান-নাইজেরিয়ায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীনের হংকং শহর। এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও এই তালিকার শীর্ষে ছিল চীনের বিশেষ প্রশাসনিক এই অঞ্চলটি।

সোমবার (১৭ জুন) প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকা প্রকাশ করে মার্সার কস্ট অব লিভিং সার্ভে। খবর সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, আবাসন খরচ বৃদ্ধি, স্থানীয় কর এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উচ্চ খরচের কারণে হংকং ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ডের চারটি শহর- জুরিখ, জেনেভা, বাসেল এবং বার্ন। অর্থাৎ শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে সুইজারল্যান্ডেই চারটি শহর রয়েছে।

ব্যয়বহুল শহরের তালিকা করতে বিশ্বের ২২৬টি শহরের অন্তত ২০০টি বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন, খাদ্য, পোশাক, গৃহস্থালী সামগ্রী ও বিনোদন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যয়বহুল আবাসন বাজার এবং পরিবহন ব্যবস্থা, পণ্য ও পরিষেবার জন্য শহরগুলোতে বসবাসের খরচ বিশেষভাবে বেশি।

এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং প্রবাসী কর্মীদের বেতন এবং সঞ্চয়ও এই তালিকা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শহর নিউইয়র্ক রয়েছে সপ্তম স্থানে। গত বছর এই তালিকায় লন্ডন ছিল ১৭তম স্থানে কিন্তু এই বছর লন্ডন রয়েছে অষ্টম স্থানে। নবম স্থানে রয়েছে যৌথভাবে বাহামার রাজধানী শহর নাসাউ ও বাহামা শহর। সর্বশেষ দশম স্থানে রয়েছে লস এঞ্জেলেস।

অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার সবশেষ অবস্থানে অর্থাৎ তুলনামূলক কম খরচের শহরের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং নাইজেরিয়ার লাগোস এবং আবুজা।