বন্যা, এবার পরিস্থিতি ভয়াবহ




নেছারাবাদে নানা সঙ্কটে জাহাজ শিল্প পেশা পাল্টাচ্ছেন শ্রমিকরা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জাহাজ শিল্প নানা সঙ্কটে পড়েছে। এই শিল্পওকে ঘিরে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ না পেয়ে এখন পেশা পাল্টাতে শুরু করেছেন। উপজেলাটি মূলত শিল্পসমৃদ্ধ একটি এলাকা। এখানে কৃষিপণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি কাঠ ও জাহাজ শিল্পের ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। শুধু এই এলাকার মানুষই নন, জাহাজ শিল্পকে ঘিরে উপজেলার বাইরে খুলনা, রাজবাড়ী, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করছেন।

স্টিলের তৈরি লঞ্চ, ট্রলার ও কার্গো তৈরির লক্ষ্যে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর, সোহাগদল, সুটিয়াকাঠি, তারাবুনিয়া, নাওয়ারা, কালীবাড়ি, বরছাকাঠি, ডুবিরহাট ও বালিহারিতে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে। জানা গেছে, নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা এসব ডকইয়ার্ডে বিভিন্ন পেশায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। এদের প্রত্যেকের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ওভারটাইম নিয়েও কাজ করেন অনেক শ্রমিক।

আরো জানা গেছে, বর্তমানে নৌযান নির্মাণের পেইন্ট, ঝালাইকাঠি ও রংসহ নানা ধরনের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান তৈরির ব্যয়ও বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর এ কারণে ডকইয়ার্ডগুলোতে নতুন নৌযান নির্মাণ কমে গেছে। শুধু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই নয়, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে পণ্য পরিবহন বেড়ে গেছে। এ কারণে ট্রাকের কাঠামোসহ পরিবহনের নৌযান তৈরি কমে গেছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের আয়-রোজগারের ওপর।

হাওলাদার ডকইয়ার্ডের কন্ট্রাক্টর জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, জাহাজ তৈরির জন্য যে পেইন্টসহ অন্যান্য কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ইদানীং জাহাজ নির্মাণ বা মেরামতে মালিকদের আগ্রহ কমে গেছে। আগের ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকার প্রতি টন পেইন্ট এখন এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনতে হয়। শুধু ডকইয়ার্ডেই নয়, এ শিল্পকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, হার্ডওয়্যার, রং ও যন্ত্রপাতির দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানেও বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের আয়ও কমে গেছে।

ফরাজি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুম ফরাজি জানান, আগে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার রং বিক্রি হতো। বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ কমে যাওয়ায় মাসে ২০ লাখ টাকাও বিক্রি করতে পারি না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাহাজ নির্মাণের এ শিল্পের প্রসারতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলে এ শিল্প থেকে কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেত। আর এর মাধ্যমে খুলে যেতে পারে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার।

নেছারাবাদ বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম আসাদ বলেন, প্রায় ৪০ বছর স্থানীয় পর্যায়ের কিছু ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে এই ব্যবসা চালু করেছেন। এর ফলে এখানে বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকার এই সম্ভাবনাকে বিবেচনা করে কিভাবে এর পরিসর আরো বাড়ানো যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।

এ ব্যাপারে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা উপজেলা প্রশাসন সবসময় করে আসছে।




কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৫০ হাজারেরও বেশিবার গুরুত্বপূর্ণ ৮টি ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিস্থিতিতে ৫০ হাজারেরও বেশিবার গুরুত্বপূর্ণ ৮টি ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। তবেএসব হামলায় কোনো ওয়েবসাইট থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য নিতে পারেনি হ্যাকাররা।

চলমান সময়ের সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অংশীজনদের সাথে জরুরী বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট হামলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি আর্থিক ব্যবস্থাপনাও। ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হামলা করা হয়েছে। এমন তথ্য জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক ভিপিএন’র অতিরিক্ত ব্যবহারে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।সা

মাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে ফেসবুক, টুইটার, টিকটককে। ইতোমধ্যে টিকটক ই-মেইলে সাড়া দিয়েছে। বাকী দুটো সামাজিক মাধ্যম থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে আইসিটি বিভাগ। ইন্টারনেট গতি নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো নির্দেশনা নেই, এমন মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষতিপূরণের জন্য তাদের সেবা রপ্তানীতে যেন ইনসেনটিভ দেয়া যায় সে চেষ্টা করা হবে আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে। ব্যাংক, তৈরি পোষাক, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও শিক্ষা খাতে সাইবার হামলার আশঙ্কা আছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারের চিহ্নিত ৩৫ টি ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মধ্যে মাত্র ৮টি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিমালা মেনে চলছে।




ব্যাংক লেনদেনের নতুন সময়সূচি

বরিশাল অফিস :: রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। লেনদেনের পরে অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা চলবে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।

শনিবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার পর কার্ফু মধ্যে বুধবার থেকে সীমিত পরিসরে ব্যাংকের লেনদেনসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু হয়।

এর আগে গত সপ্তাহে তিনদিন (রবি, সোম ও মঙ্গলবার) সাধারণ ছুটি থাকে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা-সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ জুড়ে উত্তপ্ত অবস্থার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাত সারা দেশে কারফিউ জারি করা হয়।

মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। এখনো কারফিউ বলবত আছে।

এদিকে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি অফিস চলবে।




বিদেশে সাজাপ্রাপ্তদের বিষয়ে সরকার খুবই উদ্বিগ্ন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি দেখাতে গিয়ে অনেকেই আইনের আওতায় এসেছেন এবং সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব প্রবাসীর ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

শনিবার (২৭ জুলাই) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব ঘটনা ঘিরে আমাদের অন্য প্রবাসীরা যেন আর কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দূতাবাসগুলো কাজ করছে। সরকার প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর।

এর আগে, বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিক্ষোভ করায় ৫৭ প্রবাসী বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন দেশটির আদালত। এদের মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং একজনকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।




ভোলায় পরিত্যক্ত ভাঙা কাঁচ থেকে তৈরি হচ্ছে বাহারি চুড়ি

বরিশাল অফিস :: ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিত্যক্ত ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে কাঁচের চুড়ি তৈরি করা হচ্ছে। ফেলে দেওয়া বিভিন্ন বোতল ভাঙা, নানান ধরনের ফেলে দেওয়া ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে হচ্ছে বাহারি ধরনের চুড়ি। উপজেলার টবগী ইউনিয়নের নতুন হাকিমুদ্দিন বাজার এলাকায় উদ্যোক্তা আফজাল হোসেন ও বাদল মিয়া গড়ে তুলেছেন কাঁচের চুড়ির এ কারখানা। বর্তমানে এখানে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ জন কর্মচারী কাজ করছেন। তবে ঈদের মৌসুমে তাদের কাজের চাপ বেশি থাকে। তখন এর দ্বিগুণ কর্মচারী কাজ করে।

চুড়ি তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল হিসেবে অব্যবহৃত কাঁচ ঢাকা ও স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া ভোলার কয়েকটি স্থান থেকেও এ চুড়ি তৈরিতে ভাঙা কাঁচ সংগ্রহ করা হয়।

কারখানায় গ্যাস ব্যবহার করে বিশাল একটি চুল্লীতে আগুন জ্বালিয়ে এসব কাঁচ গলানো হয়। পরে মেশিনের সহায়তায় তৈরি করা হয় লাল, নীল, হলুদ, সবুজসহ হরেক রঙয়ের কাঁচের চুড়ি। এরপর ঢাকায় নিয়ে তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে চুড়িগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। এরপর তা বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে বাজারজাত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. আওলাদ হোসেন জানান, ঈদের সময় দুই শিফটে কাজ হলেও বর্তমানে এক শিফটে কাজ চলছে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কাজ হয় এখানে। এছাড়া দৈনিক ২৫০ থেকে ৩০০ ব্রুজ চুড়ি তৈরি করা হয়। প্রতি ব্রুজ চুড়ির দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের।

তিনি আরও জানান, চুরি তৈরির কারিগরদের অন্য জেলা থেকে নিয়োগ দিলেও প্রায় অধিকাংশ শ্রমিক স্থানীয়ভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রত্যেক শ্রমিককে দৈনিক ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দেওয়া হয়।

চুড়ি তৈরিতে কাজ করা নারী শ্রমিক স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া বেগম ও নাসরিন আক্তার জানান, তারা প্রতি ব্রুজ চুড়ি থেকে ১০ টাকা করে পান। সেই হিসেবে দৈনিক প্রায় ৪০ ব্রুজ থেকে ৪০০ টাকা করে ইনকাম হয় তাদের।

অপর নারী শ্রমিক শাহানুর বেগম জানান, তিনি মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতন পান। এতে করে তার পরিবারে বাড়তি আয়ে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

জেলা বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক এস এম সোহাগ হোসেন বলেন, “ফেলে দেওয়া ভাঙা কাঁচ দিয়ে কাঁচের চুড়ি তৈরি একটি ভালো উদ্যোগ। এতে করে উদ্যোক্তারা একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছেন, অন্যদিকে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করছে। সরকারিভাবে এসব উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।




মিলছে না কাক্সিক্ষত ইলিশ উপকূলে জেলেদের হতাশা

বরিশাল অফিস :: সাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া টানা ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই ইলিশ মাছ ধরার প্রস্তুতি শুরু করলেও আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় অধিকাংশ ইঞ্জিনচালিত মাছধরা ট্রলার নিরাপদে ঘাটে বাঁধা রয়েছে। ২৩ জুলাই রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে বরগুনার জেলেপাড়াগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে। বৈরী আবহাওয়া ও কাক্সিক্ষত ইলিশ ধরা না পড়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় জেলেরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই মাসের বেশী সময় ধরে বেকার হয়ে ছিল জেলার উপকূলীয় জনপদের জেলেপাড়ার বাসিন্দারা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারি সহায়তা দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের জেলে মোশাররফ হাওলাদার বলেন, এ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের বাইরেও অনেক জেলে রয়েছে। নিবন্ধিত হয়েছে কিছুসংখ্যক। যারা নিবন্ধিত হয়েছে তারা নিষেধাজ্ঞার সময় সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে। বেশিরভাগ জেলে পরিবারের দু’মাস মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছে।

বরগুনা সদরের নলটোনা ইউনিয়নের জেলে শামসুল আলম বলেন, দীর্ঘ দুমাস পর নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের কিছুটা উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। অনেকের ঋণ রয়েছে। কিন্তু দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এখন মাছ ধরে নিজেও চলতে হবে, ঋণও পরিশোধ করতে হবে। এবার অনেক আশায় নিয়ে আমরা সাগরে নেমেছিলাম। কাক্সিক্ষত ইলিশ মাছ পাচ্ছি না। গত ২/৩ দিন যে মাছ পেয়েছি তাতে খরচই পোষাবে না। গত বছরও আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যায়নি। এ বছর ভাগ্যে কি রয়েছে জানিনা।

বরগুনা জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, এসব জেলের দাবি, তারা এখন সাগরে কাক্সিক্ষত মাছ পেলে নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। একই এলাকার জেলে মো. নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটিয়েছি। এখন সাগরে যদি মাছ পাই, তবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারব।’

পাথরঘাটার চার ভাইবোন ট্রলারের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল বলেন, নিষেধাজ্ঞা জারীর আগেও সাগরে তেমন মাছ পাইনি। এর মধ্যে আবার নিষেধাজ্ঞা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ। চরম অভাব অনটনের মধ্যেই দিনাতিপাত করতে হয়েছে।

বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলের জেলেরা কঠিন সময় পার করেছেন। তবে তারা আশা করছেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে জালে যে হারে ইলিশ ধরা পড়েছে, এখন তার থেকেও বেশি ইলিশ পাবেন। কাঙ্খিত ইলিশ পেলে দুরাবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে।

পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের বিপণন কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং যা দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, বরগুনা জেলায় মোট ৩৬ হাজার ২২ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে অবৈধ জাল বিনষ্ট করা ও অসাধু জেলেদের আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ৬৫ দিন শেষে বরগুনার জেলেরা সমুদ্রে আশানুরূপ মাছ পেলে অর্থনৈতিক দুর্দশা-দৈন্য কাটিয়ে উঠতে পারবেন।




আন্দোলন সহিংসতা কারফিউ ছুটি ইন্টারনেট বন্ধ অর্থনীতিতে ক্ষতি ৭৭ হাজার কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা, ইন্টারনেট বন্ধ ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির কারণে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে আসে। আমদানি-রপ্তানিসহ শিল্পের চাকা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়। এসব কারণে অর্থনীতিতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ কোটি ডলার বা ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ৬ দিন প্রায় সবকিছুই বন্ধ ছিল।

এ হিসাবে ক্ষতি হয়েছে ৬০০ কোটি ডলার বা ৭০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যা থেকে ও ১৭ জুলাই আধাবেলা আন্দোলনের কারণে আংশিক বন্ধ ছিল। এ দুই দিনের আধাবেলার ক্ষতি ৫০ কোটি ডলার বা ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে সাড়ে ৬ দিনে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তবে অনেকের মতে, এ ক্ষতি ৭০০ কোটি ডলার বা ৮২ হাজার ৬০০ কোটি টাকাও হতে পারে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা আরও বলেছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে। কারণ ডলারের দাম ১১৮ টাকা করে ধরলে ওই পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ডলার ১২২ থেকে ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ কারণে ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে আরও বাড়বে। সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলার জন্য তারা সব বন্দরের পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় ডেমারেজ চার্জ মওকুফ, নতুন চার্জ আরোপ না করা, ঋণের বিপরীতে বাড়তি সুদ আরোপ না করা, কম সুদে ঋণ দেওয়াসহ অন্যান্য নীতিসহায়তার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় বিদেশ থেকে আমান মেয়াদ বৃদ্ধি, দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম ব্যুারো জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এ বন্দরের কার্যক্রম টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কার্যক্রম ও পণ্য ডেলিভারি বন্ধ থাকায় এ খাতে পাঁচ দিনে ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম কাস্টমসই ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

এ পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থনীতির চাকা বন্ধ হলে ক্ষতি হতেই থাকে। এই চাকা এক মুহূর্তেই বন্ধ করা যায়। কিন্তু চালু করতে সময় লাগে। ফলে ক্ষতির পুরো হিসাব এখনই করা যাবে না। তবে ক্ষতির অঙ্ক অনেক বড় হবে। গবেষণায় গড় হিসাবে প্রতিদিন অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি ডলার হবে। টানা ছয় দিন বলতে গেলে সবকিছুই বন্ধ ছিল। সাড়ে ৬৫০ কোটি থেকে ৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে যারা ‘দিন আনে দিন খায়।’ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্ষতির পরিমাণটা আরও বেড়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তারাও অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অর্থনীতি এমনিতেই করোনার পর থেকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দায় এ চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।

তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের ইমেজ। দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যেসব বিদেশি উদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন তারা অনিশ্চয়তায় ভুগবেন। ফলে এ ধরনের সংকট যাতে না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।

উদ্যোক্তারা জানান, সৃষ্ট অস্থিরতায় রপ্তানি খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। একদিকে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। অন্যদিকে ক্রেতাদের আদেশ অনুযায়ী রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। এতে এ খাতে এখনকার ক্ষতির চেয়ে আগামীতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। এখন পর্যন্ত উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গত ৬ দিনের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া বিভিন্ন চার্জ ও ঋণের সুদ ও রপ্তানি পণ্য স্টক লট হলে কম দামে বিক্রি করতে হবে। তখন ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির সব খাতেই ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতির পরিমাণ আগামীতে আরও বাড়বে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ইমেজ সংকট। ক্রেতা ধরে রাখাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জিং। কারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা ধরে রাখতে পণ্য এখন বিমানে পাঠাতে হবে। এতে খরচ বাড়বে। যা রপ্তানিকারকদের ক্ষতির তালিকায় পড়বে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়. আমদানি কার্যক্রম ও পণ্য ডেলিভারি বন্ধ থাকায় এ খাতে পাঁচ দিনে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। টাকার অঙ্কে এই ক্ষতির পরিমাণ কত তা  সুনির্দিষ্ট করে  বলা না গেলেও ক্ষতির অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম কাস্টমসই ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংঘর্ষ ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় দুর্বৃত্তদের হামলার জেরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেট পরিষেবা। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে জারি করা হয় কারফিউ। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হওয়ার কারণে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমও বন্ধ হয়ে যায়।  তাই শুল্ক আদায়ও বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পণ্য ডেলিভারি। বুধবার থেকে ম্যানুয়ালি এবং বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ার পর পুরোদমে বন্দর-কাস্টমসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে ১৮০ কোটি টাকা করে ৫ দিনে ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার।  প্রতিদিন আমদানি পণ্য ছাড়ের জন্য ৪-৫ হাজার বিল অব এন্ট্রি (বিই) দাখিল হতো। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে এসব পণ্যের বিএই দাখিল করা যায়নি। এ ছাড়া প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮-১০ হাজার ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, লরি পণ্য নিয়ে বের হয়।

এই পাঁচ দিন কোনো পণ্য ডেলিভারি হয়নি। শিল্পের কাঁচামাল না পাওয়ায় শত শত মিল-কারখানায় বন্ধ ছিল উৎপাদন। স্টিল সেক্টর, সিমেন্ট সেক্টরসহ প্রায় সব সেক্টরেই পড়েছে এই প্রভাব। এছাড়া বন্দর থেকে সময়মতো পণ্য ছাড় করতে না পারায় আমদানিকারকদের ওপর উঠেছে পোর্ট ও শিপিং লাইনের বিপুল অঙ্কের ডেমারেজ। বন্দরে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৬-৭ হাজার কনটেইনার জমে যায়।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ দিন সব কিছু বন্ধ থাকার কারণে কেবল আমদানি খাতেই কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে টাকার অঙ্কে এই ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তবে বন্দর-কাস্টমসহ সব সেক্টরে প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে করণীয় নির্ধারণে চেম্বার বৃহস্পতিবার সব সেক্টরের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক থেকে বলা হয়েছে, বড় ধরনের বিপদ থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।  আর একটি সেকেন্ডও যাতে ওয়েস্টেজ না হয় সেভাবে সবাইকে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহŸান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়শনের সহসভাপতি ও শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খাইরুল আলম সুজন বলেন, ‘পণ্য নিয়ে অনেক জাহাজ এলেও চার দিনে খালাস করতে পারেনি। পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে জমে যায় বাড়তি ৬-৭ হাজার কনটেইনার। পণ্য না পেয়ে মিল-কারখানায় উৎপাদন বিঘিœত হয়েছে। যার ভয়াবহ প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সফটওয়্যার রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অফিস বন্ধ থাকায় সফটওয়্যার তৈরির কাজও করা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে গত ৫ দিনে এ খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। দেশ থেকে যারা সফটওয়্যার বা তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য কিনেছেন তাদের রপ্তানিকারকরা বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকেন অনলাইনে। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এ সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সেবা বাবদ অর্থও মিলবে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সফটওয়্যার ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা সেবা না পাওয়ায় তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। এতে দেশের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। কারণ এসব পণ্য রপ্তানির পর পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা হলে সেবা দিতে হয়।
জানা গেছে, ওষুধ উৎপাদন, রপ্তানি ব্যাহত, কাঁচামাল ছাড় করাতে না পারায় ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এ খাতে যেসব কাঁচামাল বন্দরে আটকে ছিল সেগুলোর গুণগত মান কমার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এ খাতের সবকিছুই চলে ঘণ্টা গুণে।

রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সিরামিক খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। রি-রোলিং মিলস খাতে শুধু উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি। ই-কমার্স খাতে ক্ষতি হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। ইন্টারনেট না থাকায় দেশের কলসেন্টারগুলোর কার্যক্রম একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ৫ দিনে এ খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

গণপরিবহণ না চলার কারণে এ খাতেও অনেক ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। এছাড়া গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় এ খাতেও মোটা অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে।

কৃষির উৎপাদন ব্যবস্থায় তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে বিপণন ব্যবস্থায় ক্ষতি ব্যাপক হয়েছে। কারফিউর কারণে পণ্য পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কৃষকের পণ্য পচে নষ্ট হয়েছে।




পায়রা বন্দর থেকে একমাসে রাজস্ব আয় অর্ধশত কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে হামলা-সংঘর্ষে সারাদেশ যখন স্থবির, মানুষের বিরাজ করছে চাপা আতঙ্ক, ঠিক তখনই পায়রা সমুদ্র বন্দরের ইনার এ্যাঙ্করে নিরাপদে কয়লা খালাস করছে সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে ছিনতাই হওয়া সেই জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। এই কয়লা দিয়েই সচল রয়েছে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা আর দেশজুড়ে কারফিউয়ের কারণে দেশের আমদানি রপ্তানি যখন তলানিতে, ঠিক সে সময় তিনটি জাহাজ এই বন্দর ব্যবহার করে পণ্য খালাস করেছে। আর চলতি বছরের জুলাই মাসে বন্দরে ভিড়েছে আটটি বিদেশি জাহাজ। চলতি মাসে এসব জাহাজ থেকে অর্ধশত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে সরকার।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প ব্যবস্থাপনায় বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কাজ করা হচ্ছে। বন্দরের প্রথম জেটি, ছয় লেনের সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজও চলছে স্বাভাবিক গতিতে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান বলেন, পায়রা বন্দরের পণ্য লোডিং-আনলোডিং কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। গত ১৮ জুলাই থেকে বন্দরে সি স্পিরিট এবং এমভি আব্দুল্লাহ নামে দুটি মাদার ব্যাসেল পায়রা বন্দরে আগমন করে। এছাড়া ১৯ জুলাই এমভি ব্রাইট নামে একটি জাহাজ কয়লা খালাস করে বন্দর ত্যাগ করেছে। জুলাই মাসে এ পর্যন্ত বন্দরে মোট আটটি মাদার ভ্যাসেল পায়রা বন্দরে আগমন করে যা থেকে সরকারের প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে।

পায়রা সমুদ্র বন্দরে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী বলেন, সরকারের জারি করা কারফিউয়ের মধ্যেও বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তা সহ বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বন্দরের ৩১ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৪৮ জন আনসার সদস্য এবং নৌ বাহিনীর ৪২ জন সদস্য কাজ করছে।




কলা চাষে অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের স্বপ্ন পটুয়াখালীর কৃষকের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় কলা চাষে অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক আব্দুস সালাম চুন্নু মোল্লা (৭০)। পৌরসভার শান্তিবাগে নিজের পৈত্রিক ৯০ শতক অ-কৃষি জমিতে ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ বছর সময় নিয়ে নিজের উদ্যোগ ও কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে ৭০০ কলা গাছের চারা রোপন করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন প্রজাতির কলার বাগান। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছে। এখন তার মুখে ফুটে উঠেছে সুখের হাসি। প্রতিনিয়ত আশপাশের গ্রাম থেকে বিভিন্ন মানুষ দেখতে আসেন এই বাগান। অনেকে আবার তার কাছ থেকে বাগান করার পরামর্শও নিচ্ছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বাজারে কলা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বছরে কলা ও গাছের চারা বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন এই কৃষকের।

সরেজমিনে দেখা যায়, গলাচিপা পৌরসভার শান্তিবাগে ওয়াবদা বেড়িবাঁধের বাহিরে আব্দুস সালাম চুন্নু মোল্লা গড়ে তুলেছেন সাগর, শবরী, চম্পা ও কাঁচাকলা প্রজাতির কলার বাগান। নিজের শ্রম ও লোকবল নিয়োগ করে একটি লাভজনক কলাবাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। বাহির থেকে বিভিন্ন পশু কিংবা অন্য কেউ যাতে গাছের অনিষ্ট করতে না পারে সেজন্য বাগানটির চারদিক দিয়ে তারকাটা দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত গাছে সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ গাছের পরিচর্যা করছেন তিনি। অধিকাংশ গাছেই ফল ধরেছে।

জানা যায়, গত বছর আষাঢ় মাসের শুরুর দিকে নিজের পৈত্রিক ৯০ শতক জমিতে সাত শত কলা গাছের চারা তিনি রোপন করেছেন। বাগানটি তৈরি করতে গত ১ বছরে ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করেছেন এই কৃষক। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে কলা ও চারা কলা গাছ বিক্রি করে তিনি বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে চান। পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভিটামিনের অভাব দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

ঝড়-বন্যার কবলে বাগানের সামান্য ক্ষতি হলেও সার্বক্ষণিক সার, কীটনাশক ও পরিচর্যার মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ঝড়-বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিলম্ব হলেও বাগানের অধিকাংশ গাছে ফুল-ফল ধরতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে অচিরেই সম্ভাবনাময় স্বপ্ন পুরণ হবে বলে আশা করছেন তিনি। বর্তমানে তার বাগানে যে পরিমাণ কলা গাছের চারা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে একাধিক বাগান করা সম্ভব। তাই তিনি বাগান থেকে চারাগাছ বিক্রি করা শুরু করেছেন।

আব্দুস সালাম চুন্নু মোল্লা বলেন, ‘আমি প্রথমে শখের বশে কলার বাগান তৈরি করি। ঝড়-বন্যার মধ্যেও বাগানটি টিকে আছে। গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করেছে। অনেকে বাগান থেকে চারা গাছ কিনে নিচ্ছে। এখন আমি বাণিজ্যিকভাবে কলা ও চারা গাছ বিক্রি করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। আশা করছি বাগান থেকে বছরে পাঁচ লাখ টাকা আয় করা যাবে। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আমাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন।’

উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ্রাবন্তী মন্ডল বলেন, ‘আমি চুন্নু মোল্লার কলা বাগান একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি এবং পাশাপাশি তাকে সবজির বাগান করারও পরামর্শ দিচ্ছি।’