অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে, লাইনচ্যুত হয়নি: সালেহউদ্দিন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে, কিন্তু লাইনচ্যুত হয়নি বলে মন্তব্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অর্থনীতির সংস্কার প্রয়োজন।

শনিবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা ঠিক করাই এখন প্রধান কাজ বলে মন্তব্য করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি যদি থমকে যায়, মন্থর হতে পারে। থমকে গেলে কিন্তু অনেক সময় লাগে (একটা গাড়ি মতো)। তাদের ব্যাংকের ওপর চাপ পরে। তাই চাচ্ছি গতিটা যেন সচল করতে পারি।

তিনি বলেন, ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ওপর একটি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আমি বলি ছাত্র-জনতা সবার পক্ষ থেকে সেটি দেওয়া হয়েছে। এটি খুব কঠিন সময়। আমাদের কনসার্ন হলো দেশের ছাত্র-জনতার সংগ্রামে এটি আসছে। আমাদের এখন প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা। এটা যদি আমরা না করতে পারি তাহলে কিন্তু সমস্যা তৈরি হবে। আইনশৃঙ্খলা শুধু রাস্তাঘাটের নয়, ব্যাংকগুলো চালু করাসহ যেগুলো আছে, সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি ইমেডিয়েটলি ঠিক করতে। চ্যালেঞ্জ যেগুলো আছে তারমধ্যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তো আছেই। সামষ্টিক ক্ষেত্রে, মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে যে সমস্যা আছে আমরা ইমেডিয়েটলি চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অফুরন্ত কর্মসংস্থান আছে। সুতরাং আমার মনে হয় নেতৃত্ব আর ব্যবস্থাপনা থাকলে সমস্যা হবে না। দ্রুত সবকিছু সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা একটা মসৃণ পথ করে যাবো, খুব বেশিদিন তো আমাদের থাকার ইচ্ছা নেই, সেক্ষেত্রে পরে বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে।




পদত্যাগ করে‌ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর




অন্তর্বর্তী সরকারে ব্যবসায়ীদের সমর্থন আছে: এ কে আজাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের প্রধান সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদ।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে বঙ্গভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা আশা করবো নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনবে।

সরকারের প্রতি তিনি প্রত্যাশা রেখে আরও বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ, ব্যাংকগুলো ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুখ্য কাজ হবে প্রধানমন্ত্রীর যে অসীম ক্ষমতা, এই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার। এগুলো করার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন তা ছাত্র জনতা ও রাজনীতিবিদদের দেওয়া উচিত।




মেগা প্রকল্পের বেশির ভাগই নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্বে শীর্ষে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের ইতিহাসে টাকার অংকে সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যত ‘নন-আরবান হেভি রেল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, তার মধ্যে এ প্রকল্পের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় সবচেয়ে বেশি। একইভাবে প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ঢাকার ‘এমআরটি লাইন-৬’। ঢাকার দ্বিতীয় (এমআরটি লাইন-১) ও তৃতীয় (এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুট) মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় আরো বেশি। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ২০০ কোটি টাকার বেশি, যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে চার-ছয় লেনের মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, রেলপথ, রেল সেতু, বিমানবন্দরের টার্মিনালের মতো যেসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, তার বেশির ভাগেরই নির্মাণ ব্যয় গোটা পৃথিবীতে সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বা অন্যতম সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার পর্যালোচনার হিসাবেও বিষয়গুলো বারবার উঠে এসেছে।

দেশের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি পদ্মা সেতু। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সেতুটি নির্মাণে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমজাতীয় সেতুর কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় যদি আমরা হিসাব করি, তাহলে দেখা যাবে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুই থেকে তিন গুণ বেশি খরচ হয়েছে। কেন বেশি খরচ হয়েছে তা খুঁজলে দেখা যাবে, এ প্রকল্পের সঙ্গে সামরিক-বেসামরিক স্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এমন নজির পাওয়া যাবে না। এখানে থানা হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা, সচিবদের থাকার জন্য বাংলো বানানো হয়েছে। এমন নানা অকার্যকর অনুষঙ্গের জন্য বিপুল পরিমাণ জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু পদ্মা সেতু নয়, প্রত্যেক প্রকল্পেই এমন ‘‌শ্যাডো কস্ট’ নির্মাণ ব্যয় বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌বাংলাদেশে প্রকল্প মানেই দামি গাড়ি কেনা। যে কাজের জন্য দরকার পিকআপের মতো যানবাহন, সে কাজের জন্য কেনা হয় পাজেরো। ফ্রিতে পাওয়া জ্বালানি তেল পুড়িয়ে সে গাড়ি ব্যবহার করা হয় ব্যক্তিগত কাজে। ট্রান্সফার অব টেকনোলজির নামে করা হয় বিদেশ ভ্রমণ। যারা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাদেরও খুশি রাখতে হয়। এটা সরকার ও প্রশাসনের চেইন অব কমান্ডের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত করা হয়। কারো কারো সুযোগ-সুবিধা যখন প্রত্যেকটা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখনই দেখা যায় ব্যয় বেড়ে গেছে। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের অভাবে এসব ঘটনা দেশে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।’

ভারতে আট লেনের জাতীয় বা প্রাদেশিক মানের এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১৫ লাখ ডলার। জেলা ও শহরাঞ্চলের জন্য দুই লেনের প্রতি কিলোমিটার সড়ক তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৬ লাখ ডলার। প্রান্তিক সড়কের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে নির্মাণ ব্যয় পড়ে প্রায় ৪ লাখ ডলার। সঠিক পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, দক্ষ জনশক্তি, নির্মাণ উপকরণ ও যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানাবিধ কারণে এশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে কম খরচে সড়ক তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে ভারত।

ঠিক উল্টো অবস্থা বাংলাদেশের। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল। এখানে প্রতি কিলোমিটার চার বা ততোধিক লেনের সড়ক নির্মাণ করতে ২৫ লাখ থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার জন্য উচ্চমাত্রায় দুর্নীতি, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা না থাকাকে দায়ী করেছে বিশ্বব্যাংক।

শুধু সড়ক, মেট্রোরেলের নির্মাণে অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ঢাকার প্রথম মেট্রো নির্মাণে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে প্রথম মেট্রো তৈরি হয় ভারতের দিল্লিতে। ঢাকা এমআরটি-৬-এর অর্ধেকেরও কম খরচে লাহোরে প্রথম মেট্রো তৈরি করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে প্রথম মেট্রো তৈরি করেছে চীন। দেশটির সাংহাই শহরের প্রথম মেট্রোটির নির্মাণ ব্যয় ঢাকার এমআরটি-৬-এর নির্মাণ ব্যয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। ঢাকার চেয়ে কম খরচে দুটি মেট্রোরেল নির্মাণ করা হচ্ছে ভিয়েতনামের দুটি শহরে। ঢাকায় নির্মাণাধীন দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় আরো বেশি।

যমুনা নদীতে বিদ্যমান সেতুর সমান্তরালে নির্মিত হচ্ছে একটি রেল সেতু। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেল সেতু নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ৩ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিলোমিটারপ্রতি ব্যয়ের দিক থেকে এ অংক প্রতিবেশী ভারত ও চীনের দীর্ঘ ও বৃহদায়তনের রেল সেতুগুলোর চেয়েও অনেক বেশি। অন্যদিকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আশপাশের দেশগুলো কম খরচে অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বুয়েটের আরেক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, মহাসড়ক, রেলপথ নির্মাণের যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এখনো যেগুলোর কাজ চলমান, সেগুলোর কারিগরি মান আশপাশের দেশে বাস্তবায়িত সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর মতোই। কিন্তু আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর নির্মাণ ব্যয় অনেক বেশি। আমরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে যে অর্থ ব্যয় করেছি, তার তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় আশপাশের দেশগুলো একই প্রকল্প করেছে।

আশপাশের দেশগুলো যদি কম খরচে মেট্রোরেল, সড়ক, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে পারে, আমরা কেন পারব না, এটা বড় প্রশ্ন। আমি মনে করি, যেখানে বিনিয়োগটা ভারী হয়, সেখানে যারা ব্যক্তিগতভাবে প্রকল্প থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে, তাদের জন্য একটা সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’

বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে প্রকল্প ব্যয় ফুলিয়ে-ফাপিয়ে বড় করে দেখানোর এক ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‌প্রকল্পগুলোর ব্যয় এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যেন সেগুলো মেগা আকৃতি ধারণ করে। অথচ এ ব্যয়টা হওয়ার কথা ছিল গবেষণাভিত্তিক। কীভাবে কম খরচে ভালো অবকাঠামো তৈরি করা যায় সেই চেষ্টা আমাদের দেশে নেই। আমি মনে করি, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কিনা, কারিগরি অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।’

যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। প্রকল্পে ব্যয় হওয়া ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার সিংহভাগই এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। ঋণের পরিমাণ ২৬৭ কোটি ডলার। চুক্তিতে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ধরা হয় ৭৮ টাকা ৮৫ পয়সা। প্রতি ডলারের বর্তমান বিনিময় হার ১১৮ টাকা। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ঋণের পরিমাণ ও ঋণ পরিশোধের চাপ—দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।

উচ্চ ব্যয়ের এ প্রকল্প থেকে যে রিটার্ন সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে, তা ঋণের কিস্তির তুলনায় নগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌আমরা প্রকল্প বাস্তবায়নে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করেছি। যে ব্যয় করা উচিত তার চেয়ে দ্বিগুণ, তিন গুণ বেশি ব্যয় করে আমাদের ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের রিটার্নের সঙ্গে বিনিয়োগ অসামঞ্জস্য হয়ে গেছে। এর খেসারত কিন্তু দেশের জনগণকে দিতে হবে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কথাই যদি আমরা ধরি, এ প্রকল্পে দিনে দুই-তিনটা ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে এখন। ট্রেনগুলো পরিচালনা করে যে রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে, প্রকল্পের ঋণের কিস্তির পরিমাণ কিন্তু তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হচ্ছে।’

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হওয়ার পেছনে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যুক্তি দিয়ে আসছিলেন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কথা। তারা বলেছেন, নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণে সেতু-কালভার্ট বেশি করতে হয়েছে। উঁচু সড়কবাঁধ তৈরি করতে হয়েছে। নরম মাটির কারণে পিলার গভীরে নিতে হয়েছে। আর ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর বেশির ভাগই আমদানি করতে হয়েছে। এসব বিষয় অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা। সরকারি কর্মকর্তারাও একই সুরে কথা বলেছেন।

যদিও এ যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এসব ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বেশি হতে পারে। এসব ব্যয় আমলে নিলেও দেখা যাবে এখানে নির্মাণ ব্যয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন তুলনামূলক স্টাডি করা হয়েছে, সেখানেও কিন্তু এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার বিষয়গুলো অবশ্যই পর্যালোচনা করা দরকার, যেন সামনের দিনে আমরা যখন এ ধরনের স্থাপনা করব, সেগুলো যাতে আমরা ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে করতে পারি।




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যদের পরিচয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের সবার নজর এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে। স্বাভাবিকভাবেই জানতে ইচ্ছে করে এদের পরিচয়। পাঠকদের জন্য তাই এ আয়োজন :

ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন সামাজিক উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক। তিনি ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্রবিত্ত ধারণার প্রবর্তনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

ড. ইউনূস অর্ধশতাধিকেরও বেশি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সম্মান পেয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মাননাও।

সালেহউদ্দিন আহমেদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নবম গভর্নর ছিলেন ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

ড. ফখরুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব ত্যাগের পর তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে আসীন ছিলেন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে।

এম সাখাওয়াত হোসেন

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশি সামরিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও লেখক। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ছিলেন।

এম সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তিনি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পত্রিকায় কলাম লেখেন। তা ছাড়া, ২০টিরও অধিক বই লিখেছেন তিনি।

চাকরি ও নির্বাচন কমিশন থেকে অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে গবেষণার কাজ করছেন। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকার কলামলিস্ট এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

আসিফ নজরুল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি একজন লেখক, ঔপন্যাসিক, রাজনীতি বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট। টিভি টক-শো ও সাহসী কলামের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। তিনি দশের অধিক গ্রন্থের রচয়িতা।

২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আসিফ নজরুল বাংলাদেশি লেখক হুমায়ূন আহমেদের মেয়ে শীলা আহমেদকে বিয়ে করেন। তার প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী।

হাসান আরিফ

ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি, এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন হাসান আরিফ। তিনি একজন বাংলাদেশি আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন।

মো. তৌহিদ হোসেন

সাবেক পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করা মো. তৌহিদ হোসেন দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার ছিলেন।

১৯৯৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমির প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

সাবেক এ পররাষ্ট্র সচিব ১৯৫৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান একজন বাংলাদেশি আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী। তিনি পরিবেশ নিয়ে কাজ করা এনজিও বেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ফ্রেন্ডস অফ আর্থ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী সদস্য; এনভায়রনমেন্টাল ল’ এলায়েন্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং এনভায়রনমেন্টাল ল’ কমিশন অব দ্যা আইইউসিএনের সদস্য।

তিনি তার কাজের স্বীকৃতিসরূপ বেশকিছু খেতাব ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ, হিরোজ অফ এনভায়রনমেন্ট। এছাড়া তিনি ২০১২ সালে রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার পান। ২০২২ সালে তিনি আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পান।

শারমিন মুরশিদ

অধিকার ভিত্তিক সংগঠন ব্রতী সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে রয়েছেন শারমিন মুরশিদ। সংস্থাটি ২০০১ সাল থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিশেষ করে আদিবাসী জনগনের অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছে।

তিনি ড. ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফারুক-ই-আজম

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টায় যুক্ত হচ্ছেন ফারুক-ই-আজম। তিনি হলেন নৌকমান্ডো ফারুক-ই-আজম (বীর প্রতীক)। তার বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র সমন্বিত যুদ্ধাভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’। চট্টগ্রাম বন্দরে আক্রমণের জন্য গঠিত ওই অভিযানিক দলের উপ-অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

আদিলুর রহমান খান

আদিলুর রহমান খান একজন মানবাধিকার কর্মী এবং মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাংলাদেশের একজন আইনজীবী এবং সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সম্মুখসারিতে ছিলেন তিনি।

সুপ্রদীপ চাকমা

নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ১৬ উপদেষ্টার মধ্যে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্তব্যরত রয়েছেন। ২০২৩ সালে ২৪ জুলাই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সুপ্রদীপ চাকমার জন্ম ১৯৬১ সালে খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। সুপ্রদীপ চাকমা বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি সপ্তম বিসিএসে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।

মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত ছিলেন সুপ্রদীপ চাকমা।

ফরিদা আখতার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার একজন লেখক, গবেষক ও আন্দোলনকর্মী।

ফরিদা আখতারের জন্ম চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার হারলা গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন। নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য সম্পদ, তাঁত শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নমূলক বিষয়ে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করছেন তিনি।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে পরিচালিত কার্যক্রমের মারাত্মক কুফল ও নারী স্বাস্থ্যের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে লেখালেখি এবং প্রতিকার আন্দোলের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপরিচিত ফরিদা আখতার। তিনি বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।

বর্তমানে তিনি উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) এর নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে নারী ও গাছ, কৈজুরী গ্রামের নারী ও গাছের কথা।

নবীন-প্রবীণে অন্তর্বর্তী সরকার, কার কী পরিচয়

মশিউর রহমান (জারিফ)

মশিউর রহমান (জারিফ)
৮ আগস্ট ২০২৪, ২১:১৭
422Shares
facebook sharing button
অ+
অ-
নবীন-প্রবীণে অন্তর্বর্তী সরকার, কার কী পরিচয়



ব্যাংক থেকে এক লাখ টাকার বেশি তোলা যাবে না আজ




১৫ বছরে আওয়ামী সরকার ঋণ করেছে সাড়ে ১৫ লাখ কোটি টাকার বেশি

চন্দ্রদ্বীপ বিজনেস ডেস্ক :: ১৮ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার সরকারি ঋণ রেখে দেশ থেকে পালিয়েছেন সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে এ ঋণ নেয়া হয়েছে। অথচ ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। সে হিসাবে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলেই সরকারের ঋণ স্থিতি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ২০৬ কোটি টাকা বেড়েছে, যা সরকারের মোট ঋণের প্রায় ৮৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যে গত দেড় দশকে সরকারের অস্বাভাবিক ঋণ বৃদ্ধির এ চিত্র উঠে এসেছে।

ঘোষিত বাজেটে সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটানো ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে এ ঋণ নেয়া হয়েছে। যদিও শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির বেশুমার অভিযোগ রয়েছে। এ সময়ে অবাধ লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে দেশের ব্যাংক খাত। জনগণের লুণ্ঠিত এসব অর্থ পাচার হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া হিসাব অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে দেশ থেকে অন্তত ১৪ হাজার ৯২০ কোটি বা ১৪৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ১৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলারে ১১৮ টাকা ধরে)। যদিও বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবহারযোগ্য নিট রিজার্ভ রয়েছে মাত্র ১৬ বিলিয়ন ডলারেরও কম।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্তও দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। চলতি বছরের মার্চে এসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। আর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর সময় দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অন্তত ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অনিয়ম-দুর্নীতি দমনের দায়িত্ব ছিল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটির। যদিও খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তারাই বলছেন, ব্যাংক খাত লুণ্ঠনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সহযোগীর ভূমিকা পালনে বাধ্য করা হয়েছে। গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নরও স্বীকার করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। চাকরি বাঁচানোর স্বার্থে অর্পিত দায়িত্ব আমরা পালন করতে পারিনি।’ গতকাল গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার বাংলাদেশ ব্যাংকে যাননি।

গত কয়েক বছরে পুনঃতফসিল, অবলোপনসহ বিভিন্ন নীতিমালার উদারীকরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র ধামাচাপা দেয়া হয়েছে। আবার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ‘মালিকানায়’ থাকা ব্যাংকগুলোকে অবাধে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ দেয়া হয়েছে। ওই ব্যাংকগুলোয় যথাযথভাবে নিরীক্ষাও করা হয়নি। ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ব্যাংক খাত থেকে নেয়া বেনামি ঋণ, পুনঃতফসিলকৃত ও অবলোপনকৃত ঋণসহ আদায় হবে না এমন ঋণের পরিমাণ অন্তত ৭ লাখ কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে বের হয়ে যাওয়া এ ঋণের বড় অংশই দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে।

আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নয়নের দোহাই দিয়ে শেখ হাসিনার সরকার রাস্তা, ব্রিজ, মেট্রোরেলের মতো কিছু অবকাঠামো তৈরি করেছে। কিন্তু তার বিপরীতে অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে পঙ্গু করে দিয়েছেন। দেশের আর্থিক খাতসহ প্রতিটি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে অর্থনীতিকে টেনে তোলার ও কার্যকর সংস্কার করা সম্ভব না হলে বাংলাদেশের সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন,গত দেড় দশকে দেশের কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, সেটির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কারণ দেশের কোনো পরিসংখ্যানই ঠিক নেই। কয়েক বছর ধরে সরকার ক্রমাগতভাবে তথ্য গোপন করেছে। অর্থনীতির ক্ষতি নিরূপণ করার জন্য ত্বরিত গতিতে একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করতে হবে। সে কমিশন অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে একটি শ্বেতপত্র তৈরি করবে। এরপর অর্থনীতিকে টেনে তুলতে সঠিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।’

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি জঞ্জালে রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা আগে বলতাম অর্থনীতি খাদের কিনারায়। কিন্তু এখন অর্থনীতি পুরোপুরি খাদের মধ্যে পড়ে গেছে। এখান থেকে টেনে তুলতে হলে কঠোর পরিশ্রম, উদ্যোগ ও মনোযোগ দরকার। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পাশাপাশি নতুন সরকারের প্রাথমিক দায়িত্ব হবে অর্থনীতিকে গর্ত থেকে টেনে তোলা।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণ ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশী উৎস থেকে নেয়া হয়েছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ২০ কোটি টাকার ঋণ। বাকি ১ লাখ ১৫ হাজার ৮১০ কোটি টাকার ঋণ ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। ব্যাংক খাতের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য খাত থেকে এ পরিমাণ ঋণ নেয়া হয়।

আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদ তথা ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সরকারের ঋণ বৃদ্ধির হার মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে এ সময়ে দেশের ব্যাংক খাতে বেসিক ব্যাংক লুণ্ঠন, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ কেলেঙ্কারির মতো বেশকিছু বড় লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো লুণ্ঠনের শিকার হলেও তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল বেসরকারি খাতের ব্যাংক। ২০১৪ সালে বিরোধী দলের বর্জনের মুখে একতরফা নির্বাচনে আবারো ক্ষমতাসীন হয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশের ব্যাংক খাতে নতুন উদ্যমে লুণ্ঠন শুরু হয়। এ সময়ে লুণ্ঠন ও মালিকানার পরিবর্তন হয় দেশের বেসরকারি খাতের অনেক ব্যাংক। দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ অনেক ব্যাংক থেকেই মূল উদ্যোক্তারা ছিটকে পড়েন। একই সময়ে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণও অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে। বিপরীতে কমতে শুরু করে জিডিপির অনুপাতে সরকারের রাজস্ব আহরণ। ফলে বেহাল দশায় পড়ে দেশের অর্থনীতি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরি যাওয়ার মতো পৃথিবী কাঁপানো সাইবার অপরাধও সংঘটিত হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল—এ পাঁচ বছরেই ব্যাংকসহ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বাড়ে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষেও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের মোট ঋণ ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। ২০২২ সাল শেষে তা ৭ লাখ ১৭ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। ব্যাংক খাতে সরকারকে ঋণ দিতে ব্যর্থ হলে গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই নতুন টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেয়। এতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত, সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে জনগণের কাছ থেকে এ ঋণ নিয়েছে সরকার। সরকারের ঋণের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এর সুদহারও দ্বিগুণ-তিন গুণ বেড়ে গেছে। ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার এখন ১২ থেকে ১৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। যদিও দুই বছর আগে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার ছিল ১ থেকে ৬ শতাংশ।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা বলে গত দেড় দশকে বিদেশী উৎস থেকেও অস্বাভাবিক হারে ঋণ নিয়েছে সরকার। ২০১০ সালেও বিদেশী উৎস থেকে নেয়া সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল মাত্র ২০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে এ ঋণের স্থিতি ৫৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪ সালের মার্চ শেষে সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশী ঋণের স্থিতি ৭৯ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১১৮ টাকা হারে) বাংলাদেশী মুদ্রায় সরকারের ঋণের স্থিতি ৯ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

গত দেড় দশকে দেশের অর্থনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধঃপতন ঘটেছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার যে অধঃপতন হয়েছে, সেখান থেকে টেনে তোলার জন্য সৎ, যোগ্য, দক্ষ অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর দরকার। দেশের ছাত্র-জনতা যে বিপ্লব ঘটিয়েছে, সেটি অবিস্মরণীয়। কিন্তু এ বিপ্লব যাতে কোনোভাবেই বেহাত বা ব্যর্থ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

এ অর্থনীতিবিদ বলেন,দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এ মুহূর্তে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতা, রিজার্ভ সংকটসহ বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। যথাযথ পদক্ষেপ নিলে এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুতই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে সেটি ঠিক করতে অনেক সময় লাগবে। যে ছাত্রদের হাত ধরে দেশে গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তাদের দাবি ছিল রাষ্ট্রের সংস্কার। রাষ্ট্রের সংস্কার করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোরও সংস্কার করতে হবে।’

বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই)। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৯ হাজার কোটি বা ৯০ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে পাচার হয়েছে ৬৪০ কোটি ডলার। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এ গড় বেড়ে ৮২৭ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালের পর দেশ থেকে অর্থ পাচার আরো বেড়ে যায়। তবে ২০১৪-২০১৮ সময়ের গড়কে বিবেচনা করা হলে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৪ হাজার ১৩৫ কোটি ডলার পাচার হয়েছে। সে হিসাবে ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামালে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ১৪ হাজার ৯২০ কোটি বা ১৪৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশী মুদ্রায় পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ১৭ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

আগে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর মধ্যে ছিল সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ করস্বর্গ খ্যাত কিছু দ্বীপরাষ্ট্র। তবে গত কয়েক বছরে অর্থ পাচারের গন্তব্যে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা পূর্ব ইউরোপের মতো দেশগুলোকে অর্থের নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশী পাচারকারীরা। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা, পুলিশসহ সরকারি চাকরিজীবী, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান-পরিচালক, ঊর্ধ্বতন ও মাঝারি স্তরের কর্মকর্তাও দেশ থেকে অর্থ পাচার করছেন।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) তথ্যানুসারে, ২০২১ সালে দেশটিতে বাংলাদেশীদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার সুইস ফ্রাঁ। এটিই ছিল দেশটিতে বাংলাদেশীদের জমানো সবচেয়ে বেশি অর্থ। এর পর থেকে আমানতের পরিমাণ কমতে থাকে। ২০২২ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমাকৃত আমানতের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ ১১ হাজার সুইস ফ্রাঁ এবং ২০২৩ সাল শেষে এটি নেমে এসেছে ১ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার সুইস ফ্রাঁয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন ইস্যুতে কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপিয়ানদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এ পরিপ্রেক্ষিতেই সুইস ব্যাংকগুলো থেকে বাংলাদেশী পাচারকারীরা অর্থ অন্য গন্তব্যে সরিয়ে নেয়।

গত এক যুগে যুক্তরাজ্যের গোটা প্রপার্টি বাজারেই বাংলাদেশীদের উপস্থিতি বেশ জোরালো হয়। এ তালিকায় অফশোর প্রপার্টি হিসেবে বেনামে নিবন্ধিত সম্পত্তির পাশাপাশি বাংলাদেশের ঠিকানায় নিবন্ধনকৃত প্রপার্টিও রয়েছে অনেক। ব্রিটিশ সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালের জানুয়ারিতেও যুক্তরাজ্যের আবাসন খাতে সম্পত্তি মালিকের বাংলাদেশের ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধিত প্রপার্টির সংখ্যা ছিল ১৫। ছয় বছরের মাথায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২-তে। এর পাঁচ বছর পরে ২০২১ সালের আগস্টে এ সংখ্যা বেড়ে ১০৭-এ দাঁড়ায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনীদের বিনিয়োগ কোটায় অভিবাসনসংক্রান্ত সেবা দিচ্ছে লন্ডনভিত্তিক অ্যাস্টনস। সংস্থাটির তথ্যানুসারে, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে প্রাইম সেন্ট্রাল লন্ডনের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ৯৮টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ১২ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড মূল্যের প্রপার্টি কিনেছেন বাংলাদেশীরা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের (সি৪এডিএস) সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি জানিয়েছে, বাংলাদেশে তথ্য গোপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে প্রপার্টি কেনেন ৪৫৯ বাংলাদেশী। ২০২০ সাল পর্যন্ত তাদের মালিকানায় সেখানে মোট ৯৭২টি প্রপার্টি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে, কাগজে-কলমে যার মূল্য সাড়ে ৩১ কোটি ডলার। তবে প্রকৃতপক্ষে এসব সম্পত্তি কিনতে ক্রেতাদের ব্যয়ের পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুবাইয়ে বাংলাদেশীদের প্রপার্টি ক্রয়ের প্রবণতা আরো ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কিনেছেন বাংলাদেশীরা, যার তথ্য তারা দেশে পুরোপুরি গোপন করে গেছেন। বিভিন্ন মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুবাইয়ে বাংলাদেশীদের গোপনে কেনা প্রপার্টির অর্থমূল্য এখন কম করে হলেও ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম বড় হাব সিঙ্গাপুর। বৈশ্বিক আর্থিক গোপনীয়তার সূচকে দেশটির অবস্থান এখন তৃতীয়। এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এ আর্থিক ও বাণিজ্যিক হাবের সুবিধাগুলোকে কাজে লাগিয়ে সেখানে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মূলত আমদানি-রফতানি বাণিজ্যই সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের সবচেয়ে বড় মাধ্যম। বস্ত্র ও পোশাক খাতের যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য খাতটির অনেক ব্যবসায়ীকে নিয়মিতভাবেই সেখানে আসা-যাওয়া করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের অনেকে সেখানে অর্থ স্থানান্তর করছেন।

মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় নিবাস গড়ার ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায়ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশীরা। এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬০৪ জন বাংলাদেশী মালয়েশিয়ায় ‘সেকেন্ড হোম’ গড়েছেন বলে গত মার্চে জানিয়েছেন দেশটির শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী টিয়ং কিং সিং।

বারবুডা, কেম্যান আইল্যান্ড, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের মতো অফশোর বিনিয়োগের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত দ্বীপদেশগুলোয়ও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশীদের বিনিয়োগের তথ্য শুনতে পাওয়া যায়। অতীতেও পানামা পেপার্স ও প্যান্ডোরা পেপার্স নথিতে অফশোর বিনিয়োগে সহায়তা কোম্পানির সহযোগিতায় এমন কিছু দেশে বিনিয়োগ করা বাংলাদেশীর তথ্য উঠে এসেছিল। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও কানাডায়ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। কানাডার বেগমপাড়ায় বাংলাদেশীদের অর্থ পাচার করে সম্পদ কেনার বিষয়টি বেশ আলোড়ন তুলেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশী অভিবাসীদের বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এছাড়া দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ বর্তমানে তুরস্ক, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া ইত্যাদির মতো পূর্ব ইউরোপের কিছু দেশেও সরিয়ে আনা হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাওয়া গেছে।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। তার সঙ্গে পালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও। কয়েকদিন ধরেই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, সংসদ, প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, সরকার ঘনিষ্ঠ বড় ব্যবসায়ী, ক্ষমতাসীন দলের বহু নেতা দেশ থেকে পালিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব রাজনৈতিক, আমলা ও ব্যবসায়ীর বিদেশে বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পদ আছে। সম্পদের মোহের কারণেই তারা সাধারণ নেতাকর্মীদের ছেড়ে এত সহজে বিদেশ পালাতে উৎসাহিত হয়েছেন।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, ‘আওয়ামী লীগ গত দেড় দশকে কিছু রাস্তাঘাট, ব্রিজ, মেট্রেরেলের মতো অবকাঠামো তৈরি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ, বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নির্বাচন কমিশনসহ কোনো প্রতিষ্ঠানই বেঁচে নেই। এসব প্রতিষ্ঠানকে জীবিত করতে দেশের বহু বছর সময় লাগবে। এসব ক্ষতির কোনো মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্ররা রাষ্ট্রের খেলোয়াড়ের বদল চায়নি, তারা খেলার বদল চেয়েছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক কাঠামো থেকে শুরু করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।




তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ বিজিএমইএ’র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশে চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশের সব তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। রোববার (৪ আগস্ট) বিজিএমইএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক ও কর্মচারীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশের সব তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি অনুরোধ করা হলো।

প্রসঙ্গত, দেশে চলমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার (৫ আগস্ট) থেকে বুধবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার (৪ আগস্ট) এ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সাধারণ ছুটির ফলে এই তিন দিন সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া, অনির্দিষ্ট কালের জন্য হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের সব বিচারিক এবং দাফতরিক কার্যক্রমও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।




দেশের সব পোশাক ও বস্ত্র কারখানা বন্ধ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের সব পোশাক ও বস্ত্র কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা ও তিনদিন সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক বার্তায় জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক-কর্মচারী ভাইবোনদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারাদেশের সব পোশাক শিল্প কারখানা বন্ধ রাখার জন্য মালিক ভাইবোনদের অনুরোধ করা হলো।

এদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমইএ) সেক্রেটারি জেনারেল বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাকির এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ৫ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমএ’র সদস্যভুক্ত সব কারখানা বন্ধ থাকবে।

পরিস্থিতি এবং সরকারের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলেও বিবৃতিতে জানান তিনি।




বরিশালের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি হচ্ছে বিদেশে

বরিশাল অফিস :: বরিশালে পথে ঘাটে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল আয়ের পথ দেখিয়েছে দরিদ্রদের। এতে টনকে টন বর্জ্য থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ। আর পরিত্যক্ত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশেও। ময়লা আবর্জনার স্তূপ থেকে সংগ্রহ করা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল বাছাই করে রিসাইক্লিংয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন নারী শ্রমিকরা। এসব বোতল পরিষ্কার করে কাটিং মেশিনের মাধ্যমে টুকরো করে পাঠানো হয় ঢাকাতে।

সেখানে এসব টুকরো করা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয় নতুন প্লাস্টিক পণ্য। আর প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করেই চলছে নারীদের সংসার। বরিশাল নগরীতে প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের মাত্র দুটি কারখানা থাকলেও পদ্মা সেতু চালু হবার পর তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৭টিতে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বেকার নারী-পুরুষের।

নারী শ্রমিকরা বলেন, ‘আগে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হতো। তবে এখন প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায় কাজ করে মাসে ৬ থেকে ১০ হাজারের বেশি বেতন পাই। আর সেই বেতন দিয়েই সুখে চলছে সংসার। ছেলে-মেয়েদেরও করাতে পারছি লেখাপড়া। শুধু তাই নয় প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা কাজ করে তাদের জীবন পাল্টে দিয়েছে। নারীরা প্রতিদিনই কাজে আসেন। করছেন আয়। ঈদে পাচ্ছে বোনাসও।

বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর ঘেরের পাড় এলাকায় অবস্থিত প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করা নারী শ্রমিকরা বলেন, নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। স্বামীয় আয়ের পাশাপাশি আমরাও এখন আয় করতে পারি। প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায় আমাদের চাকরি হইছে। প্রতি মাসে বেতন পাই। আর কি চাই জীবনে।

প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করা পুরুষ শ্রমিক বলেন, রিসাইক্লিং করা এসব প্লাস্টিকের টুকরো থেকে নতুন পণ্য তৈরির পাশাপাশি বিদেশে করা হচ্ছে রফতানি।

পলাশপুর এলাকার প্লাস্টিক কারখানা মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত শেষে ঢাকায় বিক্রি করছেন তারা। আর এই প্লাস্টিকের টুকরো থেকে নতুন পণ্য তৈরির পাশাপাশি বিদেশেও হচ্ছে রফতানি। দেশের আয়ও বাড়ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, পুরো বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন উগ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। সেখানের নারী পুরুষের কর্মসংস্থান বাড়ছে। যারা নতুন উগ্যোক্তা রয়েছে তাদের সব সময় সহযোগীতার জন্য জেলা প্রশাসক পাশে রয়েছে। প্রতি বছর বরিশাল নগরীর ৭টি কারখানা থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন কাটা প্লাস্টিকের বোতল রাজধানীতে পাঠানো হয়।