ইসলামী ব্যাংকের মুনাফায় বড় পতন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চলতি ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে মুনাফা হারিয়েছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের হিসাবে ব্যাংকটির নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৩ শতাংশ কমেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে মাত্র ৬২ পয়সা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৬৬ পয়সা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের আয় কমেছে ১ টাকা ৪ পয়সা বা প্রায় ৬২ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

তবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকের অবস্থান কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় দাঁড়িয়েছে ২০ পয়সায়, যা গত বছরের একই সময়ের ৫৫ পয়সা লোকসানের বিপরীতে ইতিবাচক পরিবর্তন নির্দেশ করে।

ব্যাংকের নগদ পরিচালন প্রবাহেও বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নগদ পরিচালন প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৪৪ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এটি ছিল ঋণাত্মক ৩ টাকা ২ পয়সা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ৩২ লাখ টাকার সেতু দুই বছরেও ব্যবহারের অনুপযোগী, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ

অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৪৮ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের ৪৫ টাকা ৩৭ পয়সার তুলনায় সামান্য কম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংকের আমানত প্রবাহ, বিনিয়োগ ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক মন্দার চাপ এ মুনাফা হ্রাসের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে আমানত পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বাড়লে মুনাফার হার কিছুটা উন্নত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নতুন যুগের সূচনা, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিজিএমইএ-এনপিওর চুক্তি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক, উৎপাদনশীল ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর এনপিও কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিতে সই করেন বিজিএমইএ পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম এবং এনপিও সভাপতি মো. নুরুল আলম। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নের জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় পোশাক খাতকে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ যুগের উপযোগী করে তুলতে যৌথভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার, কর্মশালা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ‘5S’, ‘Kaizen’ এবং ‘Lean Manufacturing’-এর মতো আধুনিক আন্তর্জাতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী প্রতিবছর তিনটি তৈরি পোশাক কারখানাকে “মডেল এন্টারপ্রাইজ” হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। এসব কারখানায় এনপিওর কারিগরি সহায়তায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে অন্যান্য কারখানাও এই মডেল অনুসরণ করে দক্ষতা ও গুণগত মান বাড়াতে পারে।

একই সঙ্গে উভয় সংস্থা এশিয়ান প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (APO)-এর সহায়তায় গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করবে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে টেকসই এবং উদ্ভাবনী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : ১১ বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুরোনো ভবনেই রোগীর ঠাঁই নেই

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ প্রতিনিধি বলেন, “বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এই সময়ে শুধুমাত্র কম খরচ নয়, বরং গুণগত মান, গতি ও উদ্ভাবনের সমন্বয়ই শিল্পের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”

বিজিএমইএ পরিচালক জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে রূপান্তর করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি, ইনোভেশন ও ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) সংযুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের পোশাক খাতে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ঘটাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খেলাপি ঋণ বেড়ে চাপে ব্যাংক খাত, রিজার্ভ ব্যবহারে আইএমএফের উদ্বেগ

দেশের ব্যাংকিং খাতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে দিন দিন। আগামী বছরের মধ্যে খেলাপি ঋণ কমানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও, বাস্তবে চিত্রটা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাশাপাশি রিজার্ভ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) গঠন ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইএমএফের প্রতিনিধি দল এসব বিষয়ে তাদের আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির ডেভেলপমেন্ট ম্যাক্রো ইকোনমিকস বিভাগের প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, এবং নির্বাহী পরিচালক ড. এজাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

আইএমএফ প্রতিনিধি দল জানায়, রিজার্ভ থেকে ইডিএফ তহবিল গঠন ও পুনঃঅর্থায়ন নীতিমালা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে। এই তহবিলের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করে তারা। একই সঙ্গে মুদ্রানীতির কাঠামো, মূল্যস্ফীতি, সুদের হার, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট নিয়েও বিস্তারিত তথ্য নেয় প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত এক বছরে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা বেড়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬৭ হাজার কোটি টাকায়। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপির হার ৪০ শতাংশ, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের বেশি

এ অবস্থাকে দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবিত সিদ্ধান্তের কারণে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তারা আরও বলেছে, রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন তহবিল গঠন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।

আরো পড়ুন : ১১ বছরেও চালু হয়নি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পুরোনো ভবনেই রোগীর ঠাঁই নেই

তবে আইএমএফ মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় প্রশংসা করলেও, অতিরিক্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কিনা—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিনিধি দল ব্যাংক খাতের প্রভিশন ঘাটতি, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের পুনঃমূলধন, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও সবুজ অর্থায়ন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের আমলে গোপন রাখা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় সংস্থাটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, “আইএমএফের পঞ্চম রিভিউ মিশন নিয়মিত সফরের অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা সুদের হার নির্ধারণ, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং খেলাপি ঋণ কমাতে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ দেখিয়েছে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন: অক্টোবরের ২৯ দিনে দেশে এসেছে ২৪৩ কোটি ডলার

চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ২৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা প্রতিদিন গড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ২২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশের বেশি

শুধু ২৯ অক্টোবর একদিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট এসেছে ১ হাজার ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে এসেছে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। ধারাবাহিক এ প্রবৃদ্ধি প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোয় সরকারি প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং প্রবাসীদের আস্থা বৃদ্ধিই এ প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। তারা বলছেন, এই গতি অব্যাহত থাকলে বছর শেষে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বাংলাদেশ।

আল-আমিন



বিশ্বের পাঁচ দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার আনছে বাংলাদেশ

দেশের কৃষিখাতে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিশ্বের পাঁচটি দেশ থেকে মোট ২ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ১৭৮ কোটি ৭৭ লাখ ৪২ হাজার টাকা। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, সারগুলোর মধ্যে রয়েছে এক লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬০ হাজার টন টিএসপি এবং ৩৫ হাজার টন এমওপি সার। এছাড়া ২০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯২.৩৩ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৯২ কোটি টাকা

এছাড়া সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকেও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনা হবে। একই দরে সার সরবরাহের বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৯২ কোটি টাকারও বেশি

বাংলাদেশের কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকেও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার কেনা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৩৮০ মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৫৬.২৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫২ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

এছাড়া মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুটি ধাপে এই সার আসবে—প্রতিটি ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৫৪৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪০২ কোটি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে।

অন্যদিকে ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফসফরিক এসিড কেনারও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই (ইউএই) থেকে ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানি করা হবে। এই ক্রয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকারও বেশি, যেখানে প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৭৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে সরকার আগেভাগেই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জিটুজি (Government to Government) চুক্তির মাধ্যমে সার আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা মোকাবিলা করে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখতে এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। এতে আগাম মৌসুমে সার ঘাটতির কোনো আশঙ্কা থাকবে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৪ ঘণ্টায় আবারও কমলো সোনার দাম, চার দফায় ভরিতে কমেছে ২৩ হাজার টাকার বেশি

দেশের বাজারে টানা চতুর্থ দফায় কমলো সোনার দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম কমানো হয়েছে আরও ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা। ফলে এখন এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম হ্রাস পাওয়ায় নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে সোনার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

এর আগে টানা তিন দফায় ২৪ অক্টোবর, ২৭ অক্টোবর ও ২৮ অক্টোবর সোনার দাম কমানো হয়েছিল। সেই হিসাবে চার দফায় ২২ ক্যারেটের এক ভরিতে দাম কমলো মোট ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা

বাজুসের নতুন তালিকা অনুযায়ী—

  • ২২ ক্যারেটের সোনা: ভরিতে ১০,৪৭৪ টাকা কমে এখন ১,৯৩,৮০৯ টাকা
  • ২১ ক্যারেটের সোনা: ভরিতে ৯,৯৯৬ টাকা কমে এখন ১,৮৫,০০৩ টাকা
  • ১৮ ক্যারেটের সোনা: ভরিতে ৮,৫৭৩ টাকা কমে এখন ১,৫৮,৫৭২ টাকা
  • সনাতন পদ্ধতির সোনা: ভরিতে ৭,৩১৪ টাকা কমে এখন ১,৩১,৬২৮ টাকা

তবে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৪,২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪,০৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩,৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ২,৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা ও ডলারের মান কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দর নিম্নমুখী প্রবণতায় রয়েছে।


আল-আমিন

 




১৩% পোশাক শ্রমিক এখনো পাচ্ছেন না বর্ধিত মজুরি!

দেশের তৈরি পোশাক খাতে সরকারের ঘোষিত সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে এখনও পূর্ণ সফলতা আসেনি। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রমিকদের প্রায় ১৩ শতাংশ এখনো পুরোপুরি বর্ধিত মজুরি পাচ্ছেন না। কেউ আংশিকভাবে পাচ্ছেন, আবার কেউ সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত রয়েছেন।

২০২৫ সালের মে থেকে জুন মাসের মধ্যে ঢাকাসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলার ৬০টি পোশাক কারখানায় ২৪০ জন শ্রমিকের উপর জরিপ চালিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন: অবস্থা ও প্রভাব’ শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে আওয়াজ ফাউন্ডেশন, মন্ডিয়াল এফএনভির সহায়তায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তার

২০২৩ সালে সরকার পোশাক খাতের প্রবেশ পর্যায়ের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করে, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

গবেষণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাকির হোসেন জানান, ৮৭ শতাংশ শ্রমিক নতুন কাঠামো অনুযায়ী মজুরি পাচ্ছেন, তবে বাকি ১৩ শতাংশের মধ্যে ৮ শতাংশ আংশিক এবং ৫ শতাংশ এখনো পুরনো কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ইউনিয়ন থাকা কারখানাগুলিতে মজুরি বাস্তবায়নের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কিন্তু অনেক শ্রমিকই অভিযোগ করেছেন যে, বেতন সময়মতো মিলছে না, অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) টাকা ১-১০ মাস পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে—
৫২ শতাংশ শ্রমিক কাজের চাপ ও উৎপাদন টার্গেট বৃদ্ধিতে সমস্যায় পড়ছেন,
২২ শতাংশ চাকরির অনিশ্চয়তায় ভুগছেন,
১৪ শতাংশ অনিয়মিত বেতন পান,
এবং ১১ শতাংশ গ্রেড ও পদোন্নতি নিয়ে বিভ্রান্ত।

এছাড়া, ১৪ শতাংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা বার্ষিক ৯% ইনক্রিমেন্ট সম্পর্কে জানেন না। অন্যদিকে, দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক জানিয়েছেন তারা ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন, তবে ১৩ শতাংশ এখনো পাননি।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা এখন মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন।”
তবে তিনি গবেষণায় উল্লেখিত ১৩ শতাংশ কারখানার বিষয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।

অন্যদিকে, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, তাদের কোনো সদস্য কারখানা বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়নি। তবে কিছু কারখানায় আংশিক বিলম্ব হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রতিনিধি নীরান রামজুথন বলেন, “সময়ে ও পূর্ণ বেতন প্রদান শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার। বেতন না দেওয়া শুধু শ্রমিকদের নয়, শিল্প খাতের ভাবমূর্তির জন্যও বড় ঝুঁকি।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিদর্শন ও তদারকি জোরদার করা, ফলাফল প্রকাশ এবং ক্রেতাদের দায়িত্বশীল ক্রয়নীতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার বলেন, “মজুরি গেজেটে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাবেই অনেক মালিক ইচ্ছামতো গ্রেড নির্ধারণ করছেন, ফলে শ্রমিকরা বৈধ বেতন বৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”

তিনি আরও জানান, ছোট কারখানাগুলো ধীরে ধীরে ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে, তবে বড় কারখানাগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে, ফলে রপ্তানি আয়ও ক্রমশ বাড়ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদেশে গ্রাহকের মোটা অঙ্কের ডলার খরচ, ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা

বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা বিধি থাকা সত্ত্বেও, ব্যাংক এশিয়ার কয়েকজন গ্রাহক সেই সীমা লঙ্ঘন করে বিদেশে বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় করেছেন। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, একজন বাংলাদেশি নাগরিক বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশে ব্যয় করতে পারেন। কিন্তু ব্যাংক এশিয়ার কয়েকজন গ্রাহক ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি অর্থ বিদেশে খরচ করেছেন, যা স্পষ্টতই নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানলেও গোপন রেখেছে এবং অনিয়মের সুযোগ দিয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন বিভাগ সম্প্রতি ব্যাংকটির দুটি রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব পরিদর্শন করে। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সেখানে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলার জমা হয় এবং পরে সেই অর্থ বিদেশে খরচ করা হয়।

তদন্তে দেখা যায়, এক গ্রাহক ফারহানা করিম পুরোনো ভ্রমণ তারিখ দেখিয়ে একই দিনে একাধিকবার ১০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা দেন। আরও আশ্চর্যের বিষয়, বিদেশে অবস্থানকালেও দেশের ভেতর থেকে তার নামে ডলার জমা হয়েছে, যা স্পষ্টতই বেআইনি। এভাবে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার জমা হয় তার হিসাবে, যা পরে বিদেশে ব্যয় করা হয়।

অন্যদিকে, আলায়না চৌধুরী নামে আরেক গ্রাহক বিদেশে থাকাকালীন তার পক্ষে অন্য একজন ব্যাংকে গিয়ে ৬৮ হাজার ডলার জমা দেন। পরে সেই অর্থও বিদেশে ব্যবহার করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব লেনদেন “সম্পূর্ণ নিয়মবিরোধী”। দেশীয় কার্ব মার্কেট থেকে সংগৃহীত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা করা হলেও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদেশে খরচ করা, যা ব্যাংকের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।

এই অনিয়মের দায়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংক এশিয়াকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সোহেল আর কে হুসেইন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছে যখন আমি এমডি ছিলাম না। তবে যতটুকু জানি, দুই গ্রাহকের ক্ষেত্রে নিয়মের অতিরিক্ত অর্থ জমা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী ঘোষণা ছাড়া ডলার গ্রহণের সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের জরিমানা করেছে, এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অনিয়ম শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা মনে করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের আরএফসিডি হিসাবের ওপর আরও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সব ব্যাংকের আরএফসিডি হিসাব ও কার্ড লেনদেন কার্যক্রম পুনরায় পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে আইএমএফের প্রশংসা

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক উন্নয়ন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, রিজার্ভের এই বৃদ্ধি কেবল অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীকই নয়, বরং আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির লক্ষ্য পূরণের দিকেও বড় একটি অগ্রগতি।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপ-পরিচালক থমাস হেলব্লিং বলেন, “রিজার্ভের সঞ্চয় আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশ এখনো পেমেন্ট ভারসাম্যের চাপে রয়েছে, তাই এই রিজার্ভ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট ভারসাম্যের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রচেষ্টা ও সফলতাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।”

হেলব্লিং জানান, চলতি মাসেই ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের দল বাংলাদেশ সফর করবে। দলটি মাঠপর্যায়ে মূল্যায়নসহ বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করবে এবং দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপগুলো ঘোষিত বিনিময় হার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা।

আইএমএফের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের ১৯.৯৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক লেনদেন, আমদানি ব্যয় ও মুদ্রা বিনিময় নীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এতে দেশীয় অর্থনীতিতে আস্থা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। পাশাপাশি আইএমএফ ও অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নিচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বুধবার (২২ অক্টোবর) ৩২ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ ২৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে অবস্থান করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভের বৃদ্ধি মূলত রেমিট্যান্স আয়ের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের কারণে হয়েছে। জুন মাস শেষে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার হয়।

গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ২০২ কোটি ডলার পরিশোধের কারণে রিজার্ভ কমে ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। বিপিএম-৬ অনুযায়ী তখন তা ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার ছিল। এরপর প্রবাসী আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিজার্ভ ধীরে ধীরে বেড়ে এসেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ডলারের মূল্য ১২২-১২৩ টাকায় বজায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রেখেছে, তবে মাঝে মাঝে বাজার থেকে ডলার ক্রয় করে। একই সঙ্গে দাতা সংস্থার অনুদানও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। করোনা পরবর্তী সময়ে সংকট মোকাবিলায় রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়েছিল, ফলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে কমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর এটি আবার বেড়েছে এবং স্থিতিশীল হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম