তিন ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান

দেশের বেসরকারি খাতের তিনটি ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে—এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসি বা এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি মো. নজরুল ইসলাম স্বপন। আর সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. এম সাদিকুল ইসলাম। এ ছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মেঘনা ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন।

শুক্রবার অনুষ্ঠিত পুনর্গঠিত এক্সিম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৭৪তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মো. নজরুল ইসলাম স্বপনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। গত ২৮ আগস্ট সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৫১৬তম সভায় অধ্যাপক ড. এম সাদিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এদিকে, গত ২৭ আগস্ট এক পরিপত্রের মাধ্যমে ৫ সদস্যের নতুন পরিচালনা পর্ষদে মোহাম্মদ নূরুল আমিনকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান করে বাংলাদেশ ব্যাংক




এস আলমের ব্যাংকসহ বেসরকারি ৯টি ব্যাংকের পে–অর্ডার, চেক ও ব্যাংক গ্যারান্টি সেবা বন্ধ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: এস আলমের মালিকানাধীন ব্যাংকসহ বেসরকারি ৯টি ব্যাংকের পে–অর্ডার, চেক ও ব্যাংক গ্যারান্টি সেবা বন্ধের নির্দেশনা জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সব বিভাগের কাছে এই চিঠি দেন সংস্থাটির প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুস শাকুর। এ নির্দেশনার ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষকে কেউ এসব ব্যাংকের চেক বা পে-অর্ডার দিতে পারবেন না।   যে ৯টি ব্যাংকের সেবা বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলো হলো গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে প্রথম ছয়টি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলমের মালিকানাধীন। সরকার পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকে থাকা এসব ব্যাংকের চলতি হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে এসব ব্যাংকের চেকের লেনদেন নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এ জন্য সতর্কতা হিসেবে এসব ব্যাংকের চেকগুলো না নেওয়ার জন্য বন্দরের সব বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক  বলেন, সাধারণত দরপত্র দাখিলের সময় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পে–অর্ডার নেওয়া হয়। আবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি নেওয়া হয়। বন্দর যাতে কোনো সমস্যায় না পড়ে, সে জন্য সতর্কতা হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




কমলো জ্বালানি তেলের দাম, আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা এবং পেট্রোল ও অকটেনের দাম ৬ টাকা কমছে। ১ সেপ্টেম্বর তথা আজ রাত ১২টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

শনিবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে খুলনার খালিশপুরে অবস্থিত নির্মাণাধীন রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রকল্প পরিদর্শনে যান জ্বালানি উপদেষ্টা। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

জ্বালানি উপদেষ্টা জানান, ডিজেলের দাম ১০৬.৭৫ টাকা থেকে ১.২৫ টাকা কমিয়ে ১০৫.২৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৩১ টাকা থেকে ৬ টাকা কমিয়ে ১২৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১২৭ টাকা থেকে ৬ টাকা কমিয়ে ১২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মধ্যে বেশিরভাগ যানবাহনে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। তারপর অকটেন ও পেট্রোল। অকটেন ও পেট্রোল উচ্চবিত্তরা ব্যবহার করে। এগুলোর পরিমাণ তুলনামূলক কম। এটা কমালে তেমন একটা প্রভাব পড়ে না। তবে ডিজেলের দাম ১ টাকা ২৫ পয়সা কমাতে কষ্ট হয়েছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে যেন ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের মূল্য আরও কমাতে পারি। আজ রাত ১২টার পর থেকেই জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর করা হবে।




ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীতে ইলিশের দাম চড়া

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে পরে বিদেশে ইলিশ রপ্তানি হবে – এমন খবরে স্বস্তি মেলেছে কম আয়ের মানুষের। তাদের আশা ছিল সাধ্যের মধ্যে আসবে দাম, পাতে উঠবে সুস্বাদু এই মাছ। কিন্তু সেই আশা নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখা যায় উল্টো চিত্র। একদিকে সরবরাহ কম, অন্যদিকে দামও নাগালের বাইরে। ফলে দাম শুনেই কপালে ভাঁজ পড়ছে ক্রেতাদের।

মৎস্যসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালীর নদী ও সাগর তীরবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

উপজেলার সদরের প্রাণকেন্দ্র বাহেরচর বাজারে ইলিশ নিয়ে এসেছেন তিনজন বিক্রেতা। হাতে গোনা তাদের কাছে এক কেজি বা তার চেয়ে কম ওজনের ৫-৬টি ইলিশ দেখা গেছে। বাকি সব জাটকা। চাহিদার তুলনায় তাও কম। তাই দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। জাটকা (২০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে। এক কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশের দাম ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত হাকছেন বিক্রেতা।

ইলিশ কিনতে বাজারে এসে চড়া দাম দেখে অনেকেই অন্য মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাদেরই একজন সিদ্দিক হোসেন। পেশায় কৃষক।

সিদ্দিক বলেন, ‘ইলিশ মাছ কিনতে আসছিলাম। যে দাম, কেনার অবস্থা নাই। তাই অন্য মাছ দেখছি।’

মিরাজ নামের আরেকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময় জাটকার কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বড় ইলিশ কেজি ছিল হাজারের মধ্যে। আর এখন যে দাম, এতে গরিবের পাতে ইলিশ উঠবে না।’

বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ও বঙ্গোপসাগরঘেঁষা চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস বাজারে কোনো ইলিশ ওঠেনি। মাছ কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন ফরিদ উদ্দিন নামের একজন ক্রেতা।
তিনি বলেন, ‘সাগরপাড়ের এলাকায় থেকেও ইলিশ খাইতে পারি না। বাজারে পাঙ্গাশ, চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ওঠে। কিন্তু ইলিশ পাই না। ঘাটে গিয়ে দুই-একজনে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কেনে; তাও দাম বেশি।’

অথচ ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তবুও নদ-নদীতে জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমুদ্রে যাওয়া জেলেদের জালে গত কয়েকদিন ধরে মোটামুটি ভালোই ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু বড় ইলিশ তুলনামূলক কম হলেও ছোট ইলিশ এবং জাটকা পরিমাণে বেশি। জালে উঠছে অন্যান্য মাছও। তবুও স্থানীয় হাট-বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম।

এর কারণ খুঁজতে গেলে জানা যায়, সমুদ্রগামী বেশিরভাগ জেলে-ট্রলার মালিকরা পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দরের মহাজনদের কাছ থেকে দাদন এনে ব্যবসা করেন। এ কারণে মহাজনদের মালিকানাধীন কিংবা তাদের
নির্ধারিত মৎস্য আড়তেই মাছ বিক্রি করতে হয় তাদের। তাই সাগর থেকে মাছ ধরে সরাসরি মৎস্য বন্দরে নিয়ে যান জেলেরা। এ কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে সাগরের ইলিশ সরবরাহ নেই বললেই চলে।

খুচরা বাজার ঘুরে জানা যায়, নদ-নদীতে ক্ষুদ্র জেলেদের ধরা ইলিশ পাইকারদের মাধ্যমে হাত বদলে বাজারে ওঠে। বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম নাগালের বাইরে- বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বাহেরচর বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মিরন আকন বলেন, আমরা যে দামে কিনি, সীমিত লাভেই বিক্রি করি। কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা লাভ হয়। জেলেরা মাছ বেশি পেলে দাম কমবে যাবে। তখন আমরাও কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে পারব।

তবে জেলে পর্যায় থেকে ইলিশের দাম কেন কমছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেদের বরাত দিয়ে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, ‘ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে জেলেরা মাছ ধরেন। সেক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বেশি। নিত্যপণ্যের বাজার চড়া। মাহজনের দাদন, ঋণের কিস্তি এবং পরিবারের খরচ মেটাতে হয় জেলেদের। সবকিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে এলে জেলেরাও কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারবে। আর অন্য কিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে না এনে মাছের দাম কমালে জেলেরা তো না খেয়ে মরতে হবে।’

এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ইলিশ যে ধরা পড়ছে, বিষয়টা এমন নয়। নদ-নদীতে ইলিশ খুবই কম ধরা পড়ছে। এর পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরেও ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেশি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি-বৈরী আবহাওয়া শেষে জেলেদের জালে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়বে। জেলেরা লাভবান হবেন। তখন দামও কমবে। কিন্তু নিত্যপণ্য এবং জ্বালানি তেলের দাম না কমিয়ে মাছের দাম কমালে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




রিজার্ভ পরিস্থিতি ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চিতি বা রিজার্ভ পরিস্থিতি ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সঞ্চিত রিজার্ভের পরিমাণও কিছুটা বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের মানদণ্ড বিপিএম-৬ মডেল অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া সরকারের যাবতীয় চলতি দায় ছাড়া ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ উন্নীত হয়েছে ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারে।

এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণেও সক্ষম হলো বাংলাদেশ। সংস্থাটির শর্ত ছিল আগামী সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ ১৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে ধরে রাখতে হবে। তার এক মাস আগেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছাল দেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হক আজকের পত্রিকা’কে বলেন, ডলার-সংকট নিরসনে পণ্য আমদানি-রপ্তানির আড়ালে পাচার ঠেকাতে পণ্যের মূল্য যাচাই, ঋণপত্র খোলায় মার্জিন বৃদ্ধিসহ কড়াকড়ি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রক্রিয়া আরও সহজ, হুন্ডি প্রতিরোধ এবং রপ্তানি পণ্যের সঠিক হিসাব নির্ণয়ের মতো সমন্বিত পদক্ষেপে ডলার সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। এতে রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে, যার প্রভাবে বৈশ্বিক ডলারের দামও চড়তে থাকে। অন্যদিকে চাহিদা মেটাতে আমদানি বৃদ্ধি এবং পরিস্থিতি সামলাতে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমানোর ফলে দেশে ডলারের সরবরাহ সংকট আরও গভীর হতে থাকে। দামও বাড়তে থাকে লাগামহীন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা ধাপ পার করে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ডলারকে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থায় নিয়ে আসে। এতে স্থানীয় বাজারে ডলার নিয়ে সৃষ্ট শঙ্কা দূর হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগের হালে হাওয়া দিয়েছে দেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন। অনেক দিন থেকেই দেশে রেমিট্যান্স আসার প্রবাহ কম ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা মুখ ফিরিয়ে থাকা বাংলাদেশে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাতে শুরু করেছেন। ড. ইউনূস সরকারের ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটা ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে ঋণ, অনুদান ও এফডিআই আসার পথ তৈরি হয়েছে। এসবের ইতিবাচক একটা প্রভাব বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে পড়ছে।

এর ফলে যেখানে জুলাই মাসের হিসাবে চলতি দেনা বাদ দিয়ে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ ছিল ১৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, সেখানে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেই দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন  ডলার




পাঁচদিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ফিরেছে দুই হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা 

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় ভল্টের একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি টাকা এলেই তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের চেষ্ট শাখায় জমা করতে হয়। সরকার পতনের পর কয়েকদিন নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা নিচ্ছিল ব্যাংকগুলো। তবে গেল সপ্তাহের পাঁচ দিনে যত টাকা নিয়েছে, জমা করেছে তার চেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জমা হয় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গত ১৮ আগস্ট তা ছিল ১০ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে নোটস ইন সার্কুলেশন বা প্রচলনে থাকা টাকার পরিমাণ কমে গতকাল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৪৬৯ কোটিতে নেমেছে। গত ১৫ আগস্ট তা ছিল তিন লাখ ২২ হাজার ৬১ কোটি টাকা।

এর আগে সরকার পতনের পরদিন গত ৬ আগস্ট কারেন্সি ইন সার্কুলেশন ছিল তিন লাখ ১৫ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা। আর সরকার পরিবর্তনের পর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ৯ দিনে মানুষের হাতে টাকার পরিমাণ বেড়ে যায় ৬ হাজার ৫২২ কোটি টাকা ।




নগদের ডিজিটাল ব্যাংকিং লাইসেন্স স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ অর্থনীতি :: ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের ডিজিটাল ব্যাংকিং লাইসেন্স আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। আজ বৃহস্পতিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘তাদের (নগদের) ডিজিটাল ব্যাংকিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া পুনরায় রিভিউ (পর্যালোচনা) করা হবে। রিভিউ অনুযায়ী যদি তারা যোগ্য হয়, তাহলে পুনরায় তারা লাইসেন্স পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নগদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) পরিষেবা ধ্বংস করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, এটাকে আরও শক্তিশালী করব।’

এর আগে গতকাল বুধবার নগদের প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম অফিসে কর্মরত পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদারকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গভর্নর বলেন, ‘যেহেতু নগদ প্রচার করতো তারা ডাক বিভাগের প্রতিষ্ঠান, সেজন্য আমরা এ প্রতিষ্ঠানকে ডাক বিভাগের অধীনে নিয়েছি। আমরা এ প্রতিষ্ঠানের জন্য বিকাশ (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস)-এর মতো শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করতে কাজ করব। নগদের অর্থপাচার ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে নীরিক্ষা করা হবে।’

গত ৩ জুন বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে নগদ ডিজিটাল ব্যাংককে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহারের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘‘২০২৪ সালের ৩ জুন থেকে ‘নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’-কে তফসিলি ব্যাংক হিসাবে তালিকাভুক্ত করা হয়।’




ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, নতুন চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শরীয়াভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে ব্যাংকটি পরিচালনার জন্য ৫ সদস্যের নতুন পর্ষদ গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। ফলে ব্যাংকটি এস আলম গ্রুপ থেকে মুক্ত হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বুধবার এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্ত ইসলামী ব্যাংককে জানিয়েছে। ৫ সদস্যের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই আদেশ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানোর জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমানতকারী ও ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার কথা বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশে বলা হয়েছে।

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর নিয়োগের পর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ নিয়ে দুটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করা হলো। এর আগে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে নতুন করে গঠন করা হয়।

চেয়ারম্যান পাশাপাশি ব্যাংক স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ফাইন্যান্স সাবেক অধ্যাপক ড. এম মাসুদ রহমান এবং চার্টার্ড একাউন্টেন্ট মো. আবদুস সালাম।



‘আমরা বাঁধের মুখ খুলিনি, একা একা খুলে গেছে’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তে বন্যার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ডুম্বুর বাঁধ খুলে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সকালে নয়াদিল্লি এক বিবৃতিতে জানায়, বাঁধটি খুলে দেওয়া হয়নি; বরং অতিরিক্ত পানির চাপের কারণে বাঁধটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা বাংলাদেশে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখেছি যে, ত্রিপুরার গোমতী নদীর উজানে ডুম্বুর বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশের পূর্ব সীমান্তের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে বাস্তবে এটি সঠিক নয়।’

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, গোমতী নদীর ক্যাচমেন্ট এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে এবছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশের বন্যা মূলত এই বৃহৎ ক্যাচমেন্ট এলাকা থেকে আসা অতিরিক্ত পানির কারণে হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ডুম্বুর বাঁধটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং এটি একটি কম উচ্চতার (প্রায় ৩০ মিটার) বাঁধ। এই বাঁধটি বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ভারতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশও এখান থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পায়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ১২০ কিলোমিটার নদীপথে অমরপুর, সোনামুড়া এবং সোনামুরা ২-এ তিনটি জলস্তর পর্যবেক্ষণ সাইট রয়েছে। ২১ আগস্ট থেকে ত্রিপুরা এবং পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে অতিরিক্ত পানি প্রবাহের কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাঁধের পানি মুক্তি ঘটেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার অভিন্ন নদীগুলোর বন্যা একটি যৌথ সমস্যা, যা উভয় দেশের জনগণের জন্যই দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এর সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজন।




লাভ ছাড়া দুই বছর সয়াবিন তেল বিক্রিতে প্রস্তুত বসুন্ধরা গ্রুপ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী দুই বছর সয়াবিন তেল কোনো লাভ ছাড়া বিক্রি করতে প্রস্তুত বসুন্ধরা গ্রুপ। এ জন্য কাঁচামাল আমদানি ও এলসি খুলতে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন বলে বলে জানিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ফুড বিভাগের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান মো. রেদোয়ানুর রহমান।

বুধবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর রমনায় অবস্থিত প্রতিযোগিতা কমিশনের কার্যালয়ে ভোজ্য তেল, চিনিসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, শিল্প, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষে থেকে এ কথা জানানো হয়।

সভায় শিক্ষার্থীদের সয়াবিন তেলের দাম কমানোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মো. রেদোয়ানুর রহমান বলেন, ‘আমি বলি কোন জায়গায় কাজ করার সুযোগ আছে। আমি আমাদের কম্পানির তথ্য সব কিছু নিয়ে এসেছি। এখানে তা প্রকাশ করতে পারি। এখানে আমি কিছু প্রস্তাব দিতে পারি।

 দুই বছর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বলেছিলাম, যত দিন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ চলবে আমরা কোনো লাভ ছাড়া পণ্য (সয়াবিন তেল) বিক্রি করত পারি। এতে এক টাকাও প্রফিট করব না। আমাদের কারখানা চার মাস বন্ধ ছিল। আমরা তখন সরকারকে বলেছিলাম আপনারা আমাদের ক্রুড ওয়েল দেন।
যেহেতু ডলার সংকটের কারণে আমদানি করতে পারছি না। কারণ আমাদের কারখানায় ৫-৭ হাজার লোক কাজ করে তারা বেকার হয়ে যাবে।’তিনি বলেন, ‘যে এডিবল অয়েল বিক্রি করা হয় তা সফটওয়্যারে উল্লেখ থাকে। ভ্যাট চালান ছাড়া কোনো পণ্য বের হবেই না। আজকে ২১ তারিখ, আমি আপনাদের কম্পানির পক্ষ থেকে বলছি, অন্তর্বর্তী সরকার বলেন, বা অন্য কোনো সরকার বলেন।

আমরা আরো দুই বছর জিরো প্রফিটে ব্যবসা করা লাগে আমরা করব। বসুন্ধরা গ্রুপ প্রস্তুত আছে। আমরা জিরো প্রফিটে ব্যবসা করতে চাই। আমাদের কোনো সমস্যা নাই। এখন এডিবল অয়েলে ৩০টি কম্পানি আছে।’তিনি বলেন, ‘সাপ্লাই চেইন ঠিক করতে হবে। ক্রুড ওয়েল ব্রাজিল থেকে আনতে ৪৫ থেকে ৫৫ দিন লাগে। তেলবীজ এনে সেটা বাজার জাত করতে ৬০ দিনের ওপরে সময় লাগে। এ সময় কমিয়ে আনতে হবে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আমরা ডলার কিনতে পারি না। ডলারের দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের দাম অনুসারে পাওয়া যায় না। সব ব্যাংকেই ডলারের দাম বেশি রাখে। এই খরচটা গ্যাপ থেকে যায়। এই জায়গা ঠিক করতে হবে।’

সয়াবিন তেল ১২০, চিনি ৯০ ও আলুর দাম ২৫ টাকায় নামানোর আলটিমেটাম

একই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতি কেজি ভোজ্য তেলের দাম ১২০ টাকা, চিনির দাম ৯০ টাকা ও আলুর দাম ২৫ টাকায় নামিয়ে আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি যত প্রতিষ্ঠান আছে তাদেরসহ বেসরকারি যত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আছে তাদেরও এ আলটিমেটাম দিচ্ছি। আপনারা এক সপ্তাহের মধ্যে কিভাবে এই দাম নির্ধারণ করবেন, সেটা আপনাদের দায়িত্ব। ছাত্র ও জনতার পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে এ দামের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’

একই সঙ্গে দুর্নীতি, দখলদারি, সিন্ডিকেট ও স্বৈরাচারী রোধে একটি ট্রুথ কমিশন গঠন করতে হবে বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

ব্যবসায়ী বিভিন্ন সংগঠনকে উদ্দেশ করে ইয়ামিন মোল্লা বলেন, ‘এত দিন বাংলাদেশে যেভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিগত সরকারের রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্রব্যমূল্যকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মানুষকে শোষণ করা হয়েছে। আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান জানাব আপনারা জনবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠন করার যে মূল্যবোধ সেটিকে আপনারা ধারণ করে ব্যবসা করবেন। অতি মুনাফা পরিহার করবেন। দেশের মানুষ যেন চারটা ডাল, ভাত ও ডিম খেতে পারে সে ব্যবস্থা করবেন। কারণ দ্রব্যমূল্যের ঊধ্বগতিতে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। সে ক্ষেত্রে আপনাদের মানবিক হয়ে ব্যবসা পরিচালনা করবেন বলে আমরা আশা করছি।’

ছাত্র-জনতাকে সারা দেশে সুশৃঙ্খলভাবে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সাজাতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিটি গ্রুপের প্রতিনিধি অমিতাভ চক্রবর্তী বলেন, ‘ট্যারিফ কমিশন থেকে খোলা চিনির দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই চিনি এখন বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা। তার মানে কমিশনের চেয়ে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। আবার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬ টাকা কমে সয়াবিন তেল ও পাম ওয়েল বিক্রি করা হচ্ছে।’

ভারতে ৭৮ টাকা কেজি চিনি বিক্রি হয় কিভাবে ছাত্রদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিক্রি ভারত চিনির ৫৭ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি করে বাকিটা তারা নিজেরা উৎপাদন করে। ওরা প্রতি কেজি চিনিতে সব ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্সসহ দেয় ৩ টাকা ৭২ পয়সা। আর আমদের দিতে হয় ৪০-৪২ টাকা। এ অবস্থায় আমাদের চিনির দাম বেড়ে যায়। সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপের লোকসান হয়েছে ভারত থেকে চোরাপথে চিনি আসার কারণে। এখন ভারত থেকে ৪০ শতাংশ চিনি চোরাকারবারির মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এটা বন্ধ করতে হবে। গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে হবে। ব্যাংকে এলসি খোলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। যেখানে সরকার নির্ধারিত দামে ডলার পাওয়া যাবে।’

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে মেঘনা, সিটি, এস আলম, দেশবন্ধু, এডিবল অয়েল, টি কে গ্রুপ, শিল্প মন্ত্রণালয়, ট্যারিফ কমিশন, ভোক্তা অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ ও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা