উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ৬ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর থেকে এ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ ইউনিট থেকে দৈনিক ২০০-২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।

এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়। ওই ইউনিটটি ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হলেও সেটি থেকে প্রতিদিন ৬০-৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বর্তমানে গড়ে দুটি ইউনিট থেকে ২৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। এতে দেশের উত্তরাঞ্চলের লোডশেডিং অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

তথ্যমতে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। ২০২০ থেকে ২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের চুক্তি মোতাবেক আগামী বছর তাদের মেয়াদ শেষ হবে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সরবরাহকৃত কয়লার ওপর নির্ভর করে এই তাপবিদ্যুকেন্দ্রটি। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিন ইউনিটের হলেও দুটি ইউনিট থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। বাকি একটি ইউনিট ওভার ওয়েলের জন্য বন্ধ থাকে। এর মধ্যে চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে বন্ধ হয়ে যায় ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন। টানা ৩৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ইউনিটটি চালু হলেও দুই দিন পর (৯ সেপ্টেম্বর) ওয়েল পাম্প নষ্ট হওয়ার কারণে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

জানা গেছে, বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে কয়লা মজুত রয়েছে দুই লাখ ৫০ হাজার টন। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে দৈনিক কয়লা সরবরাহ করা হয় প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টন। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিট চালু রেখে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় চার হাজার ৮০০ টন কয়লার প্রয়োজন। তবে, তিনটি ইউনিট একই সঙ্গে কখনো চালানো হয়নি।

এ বিষয়ে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। চায়না থেকে নতুন ওয়েল পাম্প এনে স্থাপনের পর তৃতীয় ইউনিট থেকে উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। যা থেকে ২০০-২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের লোডশেডিং কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




স্বাভাবিক উৎপাদনে পোশাক কারখানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তৈরি পোশাক কারখানা ফিরছে স্বাভাবিক চেহারায়। দুই সপ্তাহের শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গতকাল রোববার দেখা যায় কর্মচাঞ্চল্য। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। দিনভর চলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম।

গত শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা, কারখানা মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরই পরিস্থিতির নতুন মোড় নেয়। ওই বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি জেনে ব্যবস্থা এবং কারখানায় বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে গতকাল কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সরকারের পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন করেন।




মুরগি-ডিমের নতুন দাম নির্ধারণ করলো সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি এবং ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হকের সই করা চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের এ দাম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ডিম উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি পিস ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, পাইকারি ১১ টাকা ০১ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে সোনালি মুরগি উৎপাদক পর্যায়ে কেজিপ্রতি ২৬০ টাকা ৭৮ পয়সা, পাইকারি ২৬৪ টাকা ৫৭ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ২৬৯ টাকা ৬৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 




সালমান-রউফসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেডের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরমানুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। মামলার বাদী ফরমানুল ইসলাম গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাদীকে বল প্রয়োগ করে সালমান এফ রহমানের তিস্তা সোলার প্রকল্পে ১৪০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ঋণ প্রস্তাব দিতে বলেন। কোম্পানির পলিসি অনুযায়ী তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে সাবেক গভর্নর রউফ বাদীর ওপর ক্ষেপে যান। এরপর সেই প্রকল্পের অনুকূলে ২০০ কোটি টাকা জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ করার কথা বলে সেই টাকা আগাম ঋণ হিসেবে চাইলে বাদী পর্যাপ্ত ফান্ড নেই বলে জানান। এতে আবারও বাদীর ওপর ক্ষিপ্ত হন সাবেক এই গভর্নর।
বাদী পর্যায়ক্রমে অবৈধ সুবিধা চাইতে থাকলে তাতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা বাদীকে জোরপূর্বক চাকরি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। এতে বাদীর অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতি, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ করা l

 




বাংলাদেশকে ২০০ মি‌লিয়ন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশকে ২০০ মি‌লিয়ন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা ‘ইউএসএইড’।



পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে মার্কিন প্রতি‌নি‌ধিদলের সঙ্গে আলোচনা




যাদের আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত আয় বর্ষের আয়ের ওপর ব্যক্তি শ্রেণির আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করদাতাদের কর প্রদান সহজ করার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার ব্যবস্থা প্রচলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সর্বশেষ আয়কর আইন অনুযায়ী করযোগ্য আয় রয়েছে এবং এর বাইরে বেশ কিছু সেবা গ্রহণের জন্যও আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাদের মধ্যে যাদের বার্ষিক আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকা অতিক্রম করেছে, তাদের আয়কর রিটার্ন দিতে হবে। তবে মহিলা বা যাদের বয়স ৬৫ অতিক্রম করেছে, তাদের বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা হলে বা করদাতা তৃতীয় লিঙ্গের হলে বার্ষিক আয় পৌনে ৫ লাখ টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের আয় ৫ লাখ টাকা হলে আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক।

এর বাইরে আরও কিছু ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। সর্বশেষ আয় বছরে করযোগ্য আয় না থাকলে যদি আগের তিন বছরের মধ্যে যে কোনো বছর কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে বা আয়করযোগ্য হয়ে থাকলে তাকে রিটার্ন দিতে হবে। কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হলে, কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার  হলে, সরকারি কর্মচারী হলে, কোনো ব্যবসায় বা পেশায় যে কোনো নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে বেতনভোগী কর্মী হলে এবং কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য আয় থাকলে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।

২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিতে হলে, আমদানি বা রপ্তানি নিবন্ধন সনদ পেতে বা বহাল রাখতে, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স পেতে বা নবায়ন করতে, সমবায় সমিতির নিবন্ধন পেতে, সাধারণ বীমা তালিকাভুক্ত সার্ভেয়ার হতে ও লাইসেন্স পেতে বা নবায়ন করতে, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যে কোনো জমি বা ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি বা লিজ বা হস্তান্তর বা বায়নানামা বা আমমোক্তারনামা নিবন্ধন করতে রিটার্ন জমা দিতে হবে। ক্রেডিট কার্ড নিতে বা বহাল রাখতে, বিয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে লাইসেন্স পেতে বা নিয়োগ পেতে, ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ পেতে বা বহাল রাখতে, ড্রাগ বা ফায়ার লাইসেন্স পেতে বা নবায়ন করতে বা পরিবেশ ছাড়পত্র বা বিএসটিআই লাইসেন্স বা ছাড়পত্র পেতে, যে কোনো এলাকায় গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগ পেতে বা বহাল রাখতে, সিটি করপোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাস সংযোগ নিতে বা বহাল রাখতে, লঞ্চ বা স্টিমার বা মাছ ধরার ট্রলার বা কার্গো বা কোস্টার বা ডাম্ব বার্জসহ যে কোনো ধরনের ভাড়ায় চালিত নৌযানের সার্ভে সার্টিফিকেট পেতে বা বহাল রাখতে, পরিবেশ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইট উৎপাদনের অনুমতি পেতে বা নবায়ন করতে জমা দিতে হবে রিটার্ন।

সিটি করপোরেশন বা জেলা সদর বা পৌরসভা এলাকার ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে শিশু বা পোষ্য ভর্তিতে, সিটি করপোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে বা বহাল রাখতে, কোনো কোম্পানির এজেন্সি বা ডিস্ট্রিবিউটরশিপ পেতে বা বহাল রাখতে, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে বা বহাল রাখতে, আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খুলতে, ৫ লাখ টাকার বেশি পোস্ট অফিস সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে, যে কোনো ব্যাংকে ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত (টার্ম ডিপোজিট) হিসাব খুলতে বা বহাল রাখতে, ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে, ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া পৌরসভাসহ জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নিতে, মোটরযান বা স্পেস বা বাসস্থান বা অন্যান্য সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে শেয়ারড ইকোনমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে, ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনিক বা উৎপাদন কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানকারী পদমর্যাদার কর্মকর্তা ব্যক্তির বেতন-ভাতাদি পেতে, মোবাইল ব্যাংকিং বা মোবাইল ফোনের হিসাব রিচার্জের মাধ্যমে কমিশন পেতে, অ্যাডভাইজরি বা কনসালট্যান্সি বা ক্যাটারিং বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট বা জনবল সরবরাহ বা নিরাপত্তা সরবরাহ সেবা বাবদ কোনো দেশীয় কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ পেতে জমা দিতে হবে আয়কর রিটার্ন।

এমপিওভুক্ত ১৬ হাজার টাকার বেশি পেতে, বীমা কোম্পানির এজেন্ট লাইসেন্স পেতে, চার চাকার মোটরযানের নিবন্ধন বা মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নকালে, এনজিও ব্যুরো বা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি থেকে লাইসেন্স পেতে বা বিদেশি অনুদানের অর্থ ছাড় করতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশি ভোক্তাদের কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে, কোম্পানি বা সোসাইটি আইনের অধীনে নিবন্ধিত ক্লাবের সদস্যপদ পেতে, পণ্য সরবরাহ বা চুক্তি সম্পাদন বা সেবা সরবরাহের উদ্দেশ্যে নিবাসীর টেন্ডার দাখিলে, কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ধরনের পণ্য বা সেবা সরবরাহ গ্রহণকালে, পণ্য আমদানি বা রপ্তানির বিল অব এন্ট্রি দাখিলে, রাজউক বা অনুরূপ কর্তৃপক্ষের থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন নিতে, স্ট্যাম্প বা কোর্ট ফি বা কার্টিজ পেপারের ভেন্ডর বা দলিল লেখক হিসেবে নিবন্ধন বা লাইসেন্স নিতে বা তালিকাভুক্ত হতে বা বহাল রাখতে, ট্রাস্ট বা তহবিল বা ফাউন্ডেশন বা এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ বা সোসাইটি বা সমবায় সমিতির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বা চালু রাখতে, সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িভাড়া বা লিজ নিতে, হোটেল বা রেস্টুরেন্ট বা মোটেল বা হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স পেতে বা নবায়ন করতে, সিটি করপোরেশন এলাকায় কমিউনিটি সেন্টার বা কনভেনশন হলের সেবা নিতে হলে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে।

এ ছাড়া আয়করদাতা চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি বা সার্ভেয়ার বা সমজাতীয় পেশায় নিয়োজিতদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

 




রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুর্নীতি প্রসঙ্গে রুশ দূতাবাসের বিবৃতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাশিয়ার আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে (আরএনপিপি) দুর্নীতি বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধে প্রকল্পের ব্যয় সংক্রান্ত এক বিবৃতি দিয়েছে ঢাকার রুশ দূতাবাস। অ্যাম্বাসি অব দ্য রাশিয়ান ফেডারেশন অব বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আরএনপিপি’র দুর্নীতি বিষয়ে প্রচারিত সংবাদ ও তথ্যগুলোকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ বিষয়ে আরও অযৌক্তিক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটাতে, রাশিয়ান রফতানি ক্রেডিট ব্যবহারের পদ্ধতি এবং রূপপুর এনপিপি নির্মাণে এরই মধ্যে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করি।’

এতে বলা হয়, আরএনপিপি-তে যেকোনো দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে না তার প্রমাণ হলো, রাশিয়ান ফেডারেশনের আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রীয় রফতানি ঋণ প্রদানে সার্বভৌম ঋণ গ্রহীতার কাছে সরাসরি টাকা স্থানান্তর করা হয় না। রফতানি চুক্তির অধীনে বিদেশী গ্রাহককে প্রদত্ত যেকোনো পণ্য, কাজ বা পরিষেবাগুলোর অর্থায়ন রাশিয়ান রুবেলে রুশ অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ রপ্তানিকারক সংস্থাকে সরাসরি দেয়। রুশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রদত্ত নথি অনুযায়ী এ লেনদেনগুলো করা হয় এবং পূর্বে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর ওপর বিশেষায়িত বৈধ এজেন্ট ভিইবি-আরএফ দ্বারা সে নথিগুলো অনুমোদিত হয়। রাষ্ট্রীয় রফতানি ঋণের ব্যবহৃত পরিমাণ রুশ ফেডারেশনের প্রতি বিদেশী রাষ্ট্র ঋণ গ্রহীতার ঋণ হিসাবে বিবেচিত হয়।

বিবৃতিতে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে আর্থিক লেনদেন ও ব্যয়ের তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য রাশিয়া কর্তৃক প্রদত্ত মোট ১ হাজার ১৯০ কোটি মার্কিন ডলার পরিমাণের রাষ্ট্রীয় রফতানি ঋণ (স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট) থেকে মোট ৭৮০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যবহৃত হয়েছে। দুটি পৃথক চুক্তির অধীনে সর্বমোট এ পরিমাণ ঋণ বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারিতে করা প্রথম চুক্তির অধীনে ব্যবহৃত ৪৯ কোটি ১৩ লাখ মার্কিন ডলার (ঋণের মোট পরিমাণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত) দেয়া হয়। এ ঋণ ব্যবহারের মেয়াদ ২০১৭ সালেই শেষ হয়ে যায়।

২০১৬ সালের ২৬ জুলাই থেকে দ্বিতীয় চুক্তির অধীনে রফতানি ঋণের পুরো পরিমাণ হলো ১ হাজার ১৩৮ কোটি মার্কিন ডলার। চুক্তির অধীনে এ পর্যন্ত ব্যবহৃত ৭৩৩ কোটি ১৮ লাখ মার্কিন ডলার। এ থেকে এখন পর্যন্ত ৬৪ শতাংশ ব্যবহৃত হয়েছে এবং এই ঋণ ব্যবহারের মেয়াদ ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।

বিবৃতিতে রূপপুর এনপিপিতে ‘দুর্নীতি’ বিষয়ে প্রকাশিত খবরকে ইচ্ছাকৃতভাবে এ উচ্চাভিলাষী প্রকল্পটিকে কলঙ্কিত করার এবং মস্কো ও ঢাকার মধ্যে স্থিতিশীল এবং পারস্পরিকভাবে উপকারী সম্পর্ককে নষ্ট করার চেষ্টা বলে অভিযোগ করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ আগস্ট আরএনপিপি’র দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম পরপর দুটি বিবৃতি দেয়। কিন্তু এ সংক্রান্ত বিভিন্ন অসত্য তথ্য ও খবরের প্রচার দেখে রুশ দূতাবাস এ বিবৃতির মাধ্যমে পুনরায় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করছে বলে উল্লেখ করে।




বাংলাদেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেবে চীন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চীন বাংলাদেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন। অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশকেও (এলডিসি) এ সুবিধা দেবে l

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জসীম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আজ চীনের রাষ্ট্রদূত আমাদের যেটি জানিয়েছেন, সেটি হলো— কয়েকদিন আগে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিনো-আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে সেখানে বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জসীম উদ্দিন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর চীন থেকেই সবচেয়ে বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে, যার পরিমাণ আট মিলিয়ন ডলার। আমরা আশা করছি, চীনে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে। দেশ থেকে চীনে আম রপ্তানির প্রক্রিয়া মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী বছর থেকেই চীনে আম রপ্তানি শুরু হবে। কাঁঠাল ও পেয়ারার মতো অন্যান্য ফলও রপ্তানি করা হবে।

২০২০ অর্থবছরে চীন দুই দশমিক চার ট্রিলিয়ন মূল্যমানের পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এ তথ্য এটাই নির্দেশ করছে যে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।




ভারতে ইলিশ পাঠাতে পারব না, এটি দামি মাছ: মৎস্য উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, ‘এবারের দুর্গোৎসবে বাংলাদেশের হিন্দুধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য নাগরিকরা যেন ইলিশ খেতে পারেন সেটি নিশ্চিত করা হবে।ভারতের চেয়ে দেশের জনগণকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে। আমরা ক্ষমা চাচ্ছি, কিন্তু আমরা ভারতে কোনো ইলিশ পাঠাতে পারব না। এটি দামি মাছ।’

শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইট্টিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৎস্য উপদেষ্টা বলেছেন, ‘আমরা দেখেছি আমাদের দেশের মানুষই ইলিশ খেতে পারেন না। কারণ সব ভারতে পাঠানো হয়। যেগুলো থাকে সেগুলো অনেক দামে খেতে হয়। আমরাও দুর্গোৎসব পালন করি। আমাদের জনগণও এটি উপভোগ (খেতে) পারবে।’

মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ইলিশ নিয়ে ভারতের কোনো ইস্যু সৃষ্টি করার দরকার নেই। যদি তারা বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় তাহলে তাদের তিস্তার পানি বন্টনের সমস্যার সমাধার করা উচিত। ’

বন্ধুত্বের নজির হিসেবে দুর্গাপূজার সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ হাজার টন ইলিশ ভারতে পাঠাতেন। হাসিনার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ‘ভারতে মাছ পাঠানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না। ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কথা বলে তার মাছ পাঠানো ঠিক হয়নি। তিনি বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজনীয়তাকে উপেক্ষা করেছেন।’

দুর্গাপূজার সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাড়ে ইলিশের চাহিদা। ইলিশকে পূজার অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবেও বিবেচনা করেন অনেকে। এই দুর্গাপূজার আগে কলকাতার মানুষের জন্য ইলিশ পাঠাতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এবার পূজায় পশ্চিমবঙ্গে আর ইলিশ পাঠাবে না বাংলাদেশ। এতে করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কলকাতায় বাড়বে ইলিশের দাম। এছাড়া বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হবেন তারা।