বর্তমান সরকার কোনো উন্নয়ন কাজ বন্ধ করেনি – উপদেষ্টা সাখাওয়াত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো উন্নয়ন কাজ বন্ধ করেনি এবং করবেও না। অনেকেই মনে করেছিলেন কী না কী হয়, প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে আমরা কোনো কাজ বন্ধ করিনি। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে, তার মধ্যে থেকে ২০-৩০ শতাংশ পায়রা বন্দরের মাধ্যমে করা যায় কি না, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা করতে পারলে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের চাপ কমবে।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদিনের বিশেষ সফরে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করবে না।

পায়রা সমুদ্র বন্দরে যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো নিজস্ব গতিতেই চলবে। এছাড়া বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন এবং অগ্রগতির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কাজ করছে, যোগ করেন উপদেষ্টা।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন এবং প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

সোমবার তিনি পায়রা বন্দরের সক্ষমতায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্কিমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

এসময় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব সঞ্জয় কুমার বণিক, প্রকল্প পরিচালক কমোডোর রাজিব ত্রিপুরাসহ বন্দর ও মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা মিলছে না

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দেখা মিলছে না। ছোট আকারের হাতেগোনা যে ইলিশ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ভিড়ছেন, তারও দাম আকাশছোঁয়া। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলে ও ব্যবসায়ীরা। দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে যেতে পারছেন না বলে জানালেন জেলেরা।

মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জুলাই থেকে অক্টোবর ইলিশের ভরা মৌসুম। প্রতি বছর এই সময়ে নদী ও সাগরে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। কিন্তু এ বছরের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে ২৩ জুলাই জেলেরা সাগরে নামলেও জালে ধরা পড়ছে না কাঙ্ক্ষিত বড় ইলিশ। এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের। ফলে চলতি মৌসুমে তেমন ইলিশ ধরতে পারেনি জেলেরা‌। এতে লোকসানে পড়তে হবে বলে জানালেন তারা।

সর্বশেষ রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে আলীপুর মৎস্যবন্দর ঘাটে ট্রলার নোঙর করে অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় আছেন জেলেরা। যারা সমুদ্রে যাচ্ছেন তাদের অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। কেউ বড় ইলিশের পরিবর্তে অল্প পরিমাণ জাটকা নিয়ে ফিরছেন। বড় ইলিশ কম পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা মৌসুমি বায়ু ও নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় উপকূলের জেলেরা ঘাটে বসে অলস সময় পার করেছেন। গত সোমবার শেষ বিকাল থেকে মঙ্গলবার বিকালের মধ্যে হাজার হাজার মাছধরা ট্রলার গভীর সমুদ্রে ইলিশের সন্ধানে যায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। তখন মাঝিরা ঘাটের উদ্দেশে ট্রলার নিয়ে রওনা হন। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বাতাস কমে গেলেও মাছ কম থাকায় তারা ঘাটে ফিরে এসেছেন। এর মধ্যে শনিবার ও রবিবার অনেকে সমুদ্রে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। বৈরী আবহাওয়া কেটে গেলে আবারও সমুদ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা।

তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন উপকূলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য গভীর সমুদ্রে যেতে জেলেদের নিষেধ করা হয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন জেলেরা।

জেলেরা জানিয়েছেন, আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এবার মৌসুমের শুরুতেই সামুদ্রিক মাছ আহরণের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। এরপর দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশানুরূপ ইলিশের দেখা পাননি এখানকার জেলেরা। সব মিলিয়ে হতাশ হাজার হাজার জেলে। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। আবার অনেকে দাদন নিয়ে বাধ্য হয়ে এই পেশাই পড়ে আছেন।

মাছ না পাওয়ার কথা জানিয়ে আলীপুরের জেলে জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার যখনই সমুদ্রে নামি তখনই আবহাওয়া খারাপ। মাঝে দুদিন ছিলাম সমুদ্রে। মাছ তেমন পাই নাই। বড় ইলিশের দেখা নেই, ছোট কয়টা জাটকা পেয়েছি। বিক্রি করলে তাতে বাজার খরচ হয় না। মালিকের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছি। যদি সমুদ্রে মাছ পেতাম, তাহলে ধারদেনা শোধ করে সংসার চালাতে পারতাম। কিন্তু এবার মাছই পাচ্ছি না।’

বৈরী আবহাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে জেলেদের
মাছ না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন কাজী বলেন, ‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সমুদ্রে শুরু হয়েছে দফায় দফায় নিম্নচাপ। যার ফলে ট্রলার নিয়ে বারবার সমুদ্রে গিয়ে খালি হাতে ঘাটে ফিরে আসছেন জেলেরা। ফিরে আসা ট্রলারগুলোর প্রত্যেকটিকে কয়েক লাখ টাকার বাজার করে সমুদ্রে পাঠাতে হয়। কিন্তু কখনও নিম্নচাপ কখনও লঘুচাপ; সব মিলিয়ে ইলিশ না পেয়ে খালি হাতে ফিরলে বড় রকমের ক্ষতির মধ্যে হচ্ছে আমাদের। এতে ট্রলার মালিকদের পাশাপাশি জেলেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এবার তেমন মাছ পাওয়া যায়নি।’

আলীপুরের এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারের মাঝি ইউসুফ আলী বলেন, ‘এবার নিষেধাজ্ঞার পর এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখিনি‌। বাজার সদাই করে যখনই সমুদ্রে নামি, এক-দুদিন মাছ ধরার পরই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। কোনও উপায় না পেয়ে ঘাটে ফিরে আসি। এভাবে চলতে থাকলে এই পেশা ছাড়তে হবে।’

মহিপুর আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে এবার শুরু হয়েছিল সাগরে মাছ ধরা। মাঝে ২০-২২ দিন মাছ ধরার সুযোগ পেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাননি জেলেরা। মাছঘাটগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। যা কিছু ইলিশ নিয়ে জেলেরা ঘাটে ভিড়ছেন, তার দাম আকাশছোঁয়া। এবার মূলত ইলিশ কম থাকায় এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিপাকে পড়েছি আমরা।’

একই হতাশার কথা জানালেন আলীপুর মৎস্য আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিল ঘরামী।
তিনি বলেন, ‘গত চার বছরে আমরা লাভের মুখ দেখিনি। তবু লাভের আশায় লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে জেলেদের সমুদ্রে পাঠাচ্ছি। কিন্তু ঘুরেফিরে হতাশ। এভাবে চলতে থাকলে পেশা টিকিয়ে রাখা যাবে না।’

সমুদ্রে ইলিশ না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র বার বার খারাপ আবহাওয়ার কবলে পড়ছে। ফলে গত কয়েক বছর আমরা দেখেছি, গভীর সমুদ্রে লম্বা জালে কিছু মাছের দেখা মিললেও ভাসান জাল, কালো কট বা লাল জালের অধিকাংশ জেলেরা তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না। সমুদ্রের মোহনা খনন এবং সমুদ্রের ভেতরে ১২-১৪ কিলোমিটারে যে পলি বা চর পড়ে গেছে, তা খনন করতে হবে। সেই সঙ্গে মানুষের যে দূষণ, উপকূলবর্তী দূষণ, পলি ও রাসায়নিক দূষণরোধ করতে হবে। তবেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছি। চেষ্টা করতেছি ইলিশের এই সংকট অবস্থা দূর করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়। সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেবে বলেছে সরকার। আশা করছি, পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে গভীর সমুদ্রের সবখানে ইলিশ পাওয়া যাবে।




বাংলাদেশের সঙ্গে অক্টোবরে বিদ্যুৎ চুক্তি করতে চায় নেপাল




ইউনূস-বাইডেন সাক্ষাৎ বিরল ঘটনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় মাস পার করেছে। এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট নানা জটিলতায় কিছুটা বেকায়দায় আছে সরকার। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিকভাবে কিছুটা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ইউনূসের সরকারকে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তিনি। নিউইয়র্কে কোনো দেশের শীর্ষ নেতার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ পাওয়া কিছুটা বিরল ঘটনা। ড. ইউনূস নোবেল লরেট হওয়ায় এবং বৈশ্বিকভাবে পরিচিত মুখ হওয়ায় এ সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব ঠিক থাকলে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউনূস-বাইডেন বৈঠকে বসবেন। স্বাভাবিকভাবে বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিকভাবে অন্তর্বর্তী সরকার যে প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছে, সেটি নিয়ে বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন ড. ইউনূস l

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার এক কূটনীতিক বলেন, নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ পাওয়া বিরল ঘটনা। যদি পাওয়া যায় সেটি হবে এক্সক্লুসিভ। সব ঠিক থাকলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে।




বড় প্রকল্পের টাকার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই – নৌপরিবহন উপদেষ্টা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নৌপরিবহন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের অর্থনীতির জন্য পায়রা একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। বড় প্রকল্পে বরাদ্দের টাকার যেন শতভাগ সদ্ব্যবহার করা হয়, আমি সেটা নিশ্চিত করতে চাই। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাজারের বেশি মানুষ জীবন দিয়েছে। এই গণজাগরণ থেকে পরিবর্তন আনতে হবে, দেশে দুর্নীতি কমাতে হবে৷ সাধারণ মানুষের দুর্দশা কমাতে হবে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে বন্দর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন।

এর আগে, পায়রা বন্দরের চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে পায়রা বন্দরে আরো বিনিয়োগের প্রয়োজনীতার কথা বলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমডোর রাজীব ত্রিপুরা।

সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় কুমার বণিক, চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী,সদস্য পরিমল চন্দ্র বসু (যুগ্মসচিব), সদস্য ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (ট্যাজ), ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জাহিদ, ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমানসহ (প্রকল্প পরিচালক, পাবক) সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত পায়রা বন্দরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীলতার ফলে দেশের জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।




২১ দিনে প্রবাসী আয় এলো ১৬৩ কোটি ডলার

চন্দ্রদ্বীপ অর্থনীতি :: চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৩ কোটি ৪২ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতিদিন গড়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৩ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, আগস্টের প্রথম ২১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫০ কোটি ৩৬ লাখ ডলার। সে হিসেবে চলতি মাসে বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।

এসময় রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৮ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার ডলার ও বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এর আগে, গত জুন মাসে ২৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসার পর চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় এসেছিল প্রায় ১৯১ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম আয় ছিল।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরমধ্যে আগস্টে সর্বোচ্চ ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।




১৩ অক্টোবর থেকে যে কারণে বন্ধ থাকবে ইলিশ ধরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত (২২ দিন) দেশে ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। প্রজনন মৌসুমে ইলিশের ডিম ছাড়া নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে এক সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে “প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ অ্যাক্ট, ১৯৫০” অনুযায়ী মা ইলিশ রক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজনন সময় বিবেচনা করে ও আশ্বিন মাসের পূর্ণিমাকে ভিত্তি ধরে প্রতিবছর এই সময়ে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে এ বছর আগামী ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুতও নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার আইন ভঙ্গ করলে আইন ভঙ্গকারী কমপক্ষে ১ বছর থেকে ২ বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেরও বিধান রয়েছে।

এ সময় জেলেদের সহায়তার জন্য সরকার থেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। তবে এ বছর চালের জায়গায় সহায়তা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানিয়েছেন মৎস উপদেষ্টা।




যে অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যাচ্ছে ইলিশ, জানালেন উপদেষ্টা




ভারতে ইলিশ পাঠানোর খবরের প্রভাব পড়েছে বরিশালের বাজারে

বরিশাল অফিস :: আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ পাঠানোর সরকারি নির্দেশনায় প্রভাব পড়েছে নগরীর পোর্টরোড ইলিশ মোকামে। বিগত দিনে প্রতি দুর্গাপূজায় এই মোকাম থেকে বিপুল পরিমান ইলিশ ভারতে রপ্তানি করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তা বন্ধ ছিল। যদিও এতে কম দামে ইলিশ খেতে পারেননি বরিশালের মানুষ।

স্থানীয় নদীতে ইলিশ মাছ ধরা পড়লেও দাম কমছিলোনা তেমন একটা। তবে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভারতে ইলিশ পাঠানোর অনুমতির খবরে বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পোর্ট রোড মোকাম। স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রিতে আগ্রহ হারিয়ে বিক্রেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতে রপ্তানীর।

ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে ইলিশ বিক্রির তুলনায় রপ্তানি অনেকটা সহজ। এক সাথে বেশি বিক্রি করা যায়, তাই ঝামেলাও অনেক কম। সংরক্ষনে খরচও কম। বিগত বছরগুলোতে রপ্তানির পরিমান কোন নির্ধারিত ছিলনা, এবার তা ৩ হাজার টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই দেশের বিভিন্ন স্থানের রপ্তানিকারকদের সাথে যোগাযোগ করছেন। যারা অনুমতি পাবেন রপ্তানি করার তাদের মাধ্যমে এখন তারা মাছ পাঠানোর পূর্ব প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সূত্র মতে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ মাছ রপ্তানির সিদ্ধান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় শনিবার। রপ্তানিকারকদের আবেদনের বিপরীতে নির্ধারিত শর্তাবলি পূরণ সাপেক্ষে তিন হাজার মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী ইয়ার হোসেন সিকদার বলেন, শনিবার পোর্ট রোড মোকামে প্রায় হাজার মণ ইলিশ মাছ বেঁচা কেনা হয়েছে। শুক্রবার একটু কম এসেছে। তাও প্রায় ৯০০ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে।

তিনি জানান, কয়েকদিন আগে সাগর উত্তাল ছিলো। তাই জেলেরা সাগরে যেতে পারেনি। সাগরে মাছ না আসায় ও চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি। জেলেরা সমুদ্রে মাছ শিকারে গেছে। তারা ফিরে এলে মাছের দাম কমবে বলে আশাবাদ তার।

স্থানীয় বাজারে বিক্রির ব্যয় রপ্তানির তুলনায় বেশি জানিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, ভারতে রপ্তানির খবর পেয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রেতাদের আগ্রহ কিছুটা কমেছে। কারণ স্থানীয় বাজারে বিক্রির ব্যয় অনেকটাই বেশি। এখন তারা রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাছ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শুধু তিনিই নন, মোকামের সকল আড়ৎদার ও কমিশন এজেন্টরাই এই প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

মোকামের একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বর্তমানে মোকামে সিংহভাগ ছোট সাইজের ইলিশ। শনিবার পোর্ট রোড পাইকারী বাজারে দেড় কেজি সাইজের ইলিশ মাছ দুই হাজার থেকে ২২শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এক কেজি ২০০ গ্রাম সাইজের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি এক হাজার ৮শ, এক কেজি সাইজের মাছ এক হাজার ৭শ ও এক কেজির নীচে এলসি সাইজ এক হাজার ৬শ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে ভারতে মাছ রপ্তানির খবরে কিছুটা বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সাধারন ক্রেতাদের মাঝে। পোর্ট রোড বাজারে ইলিশ মাছ কিনতে আসা সরকারী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বলেন, চারটি মাছ কিনেছি। সাতশ-আটশ গ্রাম ওজন সাইজের ওই মাছ প্রতিকেজি এক হাজার ৫০০ টাকা দরে ক্রয় করেছি। বর্তমানে ইলিশ মাছের ভরা মৌসুমে মাছের দাম যত কম হওয়ার কথা ছিলো, তা হয়নি। এরমধ্যে ভারতে পাঠানো হলে আর মাছ মিলবেনা স্থানীয় ক্রেতাদের ভাগ্যে। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের বেশি দামে কিনতেও সমস্যা নেই। তবে দাম অব্যাহত থাকলেও মধ্য ও নিম্নবিত্ত মানুষের কপালে ইলিশ জুটবেনা।




বরিশালের ২২ গ্রামে পেয়ারার রাজত্ব

বরিশাল অফিস :: এখন পেয়ারার মৌসুম। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে ওঠে বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির পেয়ারা হাটগুলো। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠির পেয়ারা স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে আসছে।

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া ও পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি উপজেলার ২২টি গ্রামজুড়ে দেশের সবচেয়ে বড় পেয়ারা বাগান অবস্থিত। স্বরূপকাঠি উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, আদমকাঠি, ধলহার, কঠুরাকাঠি গ্রাম এবং ঝালকাঠি ও বরিশালের বানারীপাড়ার মোট ২২টি গ্রামের কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়। আটঘর-কুড়িয়ানা বাংলার আপেলখ্যাত পেয়ারাসমৃদ্ধ গ্রাম। এশিয়ার বিখ্যাত এ পেয়ারাকে স্থানীয় ভাষায় গইয়া কিংবা শবরি বলা হয়। তবে জাতীয়ভাবে এটি পেয়ারা নামে পরিচিত। পুষ্টিমানের দিক থেকে একটি পেয়ারা চারটি আপেলের সমতুল্য বলে কৃষি বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।

 

আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্রের অর্ধেক– এই আড়াই মাস জমে ওঠে পেয়ারা বেচাকেনা। পেয়ারা চাষ ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে ২০টিরও বেশি ছোট-বড় ব্যবসাকেন্দ্র ও হাট। স্থানীয়ভাবে বলা হয় পেয়ারার মোকাম। এ মোকামগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে– আটঘর, কুড়িয়ানা, ভিমরুলী, ডুমুরিয়া, শতদশকাঠি, বাউকাঠি। প্রতিদিন সকালে এসব মোকামে চাষিরা ছোট ছোট ডিঙিতে করে সরাসরি বাগান থেকে পেয়ারা নিয়ে এসে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকাররা তা কিনে ট্রাক ও ট্রলারযোগে নিয়ে যান ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আটঘর-কুড়িয়ানাখ্যাত বাগান থেকে ছোট ও মাঝারি নৌকায় করে বিপুল পরিমাণ পেয়ারা ভিমরুলীর ভাসমান হাটে নিয়ে আসেন চাষিসহ বাগান পর্যায়ের ক্রেতারা। সেখান থেকে পাইকারসহ খুচরা ব্যবসায়ীরা পেয়ারা কিনে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন বাজারে। ট্রলার ছাড়াও লঞ্চ, বাস, পিকআপ ও ট্রাকে করেও ভিমরুলী থেকে পেয়ারা যায় দেশের বিভিন্ন বাজার ও মোকামে।

আটঘর-কুড়িআনার এ পেয়ারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে গত এক দশক ধরে প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার আগরতলা বাজারেও বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেয়ারার চাষ হয় পিরোজপুরের নেছারাবাদে। এ উপজেলায় ৬০০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে অন্তত ৭ হাজার ৬৫৬ টন পেয়ারা উৎপাদন হয়। ঝালকাঠি সদরে ৫৯১ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয় ৬ হাজার ৩৫৫ টন ও বরিশালের বানারীপাড়ায় ২১০ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হয় ২ হাজার ৯৪০ টন পেয়ারা। সব মিলিয়ে এ তিন উপজেলায় এক হাজার ৬৩৬ হেক্টর জমিতে ১৬ হাজার ৯৫১ টন পেয়ারা উৎপাদিত হয়; যার দাম প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি।

স্থানীয় প্রবীণ কৃষক লাল মিয়া জানান, ষাট-সত্তর দশকে ঢাকায় পেয়ারা পাঠানো হতো লঞ্চে। আশির দশকে ঝালকাঠি থেকে স্টিমারে তুলে দেওয়া হতো পেয়ারা। নব্বই দশকে বানারীপাড়ার জম্বুদ্বীপ থেকে প্রতিদিন দু-চারটি পিকআপে ঢাকায় পেয়ারা পাঠানো শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালে মিনি ট্রাক এবং ২০১৯ সাল থেকে বড় ট্রাকের ব্যবহার শুরু হয়। এখানকার আড়তদারদের মতে, লঞ্চ-ট্রাক যে পথেই পাঠানো হোক, ঢাকার ভোক্তাদের কাছে পেয়ারা পৌঁছাত এক দিন পর। দ্রুত পচনশীল পণ্য হওয়ায় এ সময়ের মধ্যে পেয়ারার রং-স্বাদ নষ্ট হতো। পচে যেত অর্ধেক পেয়ারা। এতে চাষিরা ন্যায্য দাম পেতেন না। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এখন সকালে গাছ থেকে সংগৃহীত পেয়ারা দুপুরের আগেই পৌঁছে যাচ্ছে ঢাকায়। এতে রং-স্বাদ দুটিই থাকছে অটুট।

আটঘর কুড়িয়ানা এলাকার চাষি নিজামুদ্দিন জানান, আগে পেয়ারা আর লেবু বিক্রি করে কম দাম পেতাম। এ কারণে পেয়ারা বাগান পরিবর্তন করে অন্য কিছু চাষাবাদের চিন্তা করছিলাম। এখন সেই চিন্তা বাদ দিয়েছি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বেড়েছে দাম। ফলে আমরা লাভবান হতে শুরু করেছি।

স্বরূপকাঠি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চপল কৃষ্ণ নাথ জানান, নেছারাবাদের ২২টি গ্রামে ৬০০ হেক্টর জমিতে গড়ে ১০ টন করে পেয়ারার ফলন হচ্ছে। প্রতি মণ পেয়ারা ৩৫০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারা বাগানে ফুল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সার্বক্ষণিক মাঠে কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের সহায়তায় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। সার, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে। পেয়ারা চাষ করে এ অঞ্চলের কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।