এস আলম গ্রুপের সব সম্পত্তির তালিকা হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ




অবশেষে কমল স্বর্ণের দাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের বাজারে অবশেষে কমল স্বর্ণের দাম। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে টানা চার দফা বাড়ানোর পর এবার স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট বা ভালো মানের স্বর্ণের দাম ১ হাজার ২৬০ টাকা ক‌মিয়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৮ টাকা করা হয়েছে।

শনিবার বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দাম কমায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল রবিবার থেকে স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৩১ হাজার ১৯৬ টাকা করা হয়েছে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম করা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯২ হাজার ২৮৬ টাকা করা হয়েছে।

স্বর্ণের দাম বাড়ানো হ‌লেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে রুপার দাম। ক্যাটাগরি অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটে প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ১০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ১ হাজার ৭১৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ১ হাজার ২৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৫ সেপ্টেম্বর, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২১ সেপ্টেম্বর ও ১৪ সেপ্টেম্বর স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়।




১৪ মাস পর চাল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলল ভারত




জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলো ভোলার মহিষের দুধের দই

বরিশাল অফিস :: দ্বীপ জেলা ভোলার দুই শ বছরের ঐতিহ্য মহিষের দুধের কাঁচা টক দই বা ‘মইষা দই’ জিওগ্রাফিকাল আইডেনটিফিকেশন (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি মিলেছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২৯ নম্বর শ্রেণিতে জিআই-৫৫ হিসেবে স্বীকৃতি পায় পণ্যটি।

পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মুনিম হাসানের বিষয়টি চদ্বীপ নিউজ২৪.কম-কে নিশ্চিত করেছেন ।

এর আগে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. আরিফুজ্জামান মহিষের দুধের কাঁচা দইকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতির জন্য পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে আবেদন করেন।

দীর্ঘদিন পর এ স্বীকৃতি পাওয়ায় জেলার দই ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। জানতে চাইলে ঘুইংহাট বাজারের বিসমিল্লাহ দধি ঘরের মালিক মো. মামুন বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খামারিরা দুধ দিয়ে যায় এবং সেগুলোকে ছোট ছোট হাঁড়িতে বেলা একটার মধ্যে বসিয়ে পর দিন সেগুলো দধিতে পরিণত হয়।’

তিনি বলেন, ‘মহিষের কাঁচা দুধের দই এর প্রচুর চাহিদা, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার দোকানে দই কিনতে আসেন। দৈনিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার দই তার বিক্রি হয়।’

বাজারে দই কিনতে আসা মো. জাবেদ ও মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মহিষের কাঁচা দই খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বস্তিকর। যে কেউ একবার খেলে তা বারবার খেতে চাইবে।’ তারা প্রতিদিন দই খাওয়ার জন্য একবার হলেও চলে আসে দধি ঘরে, ভোলায় দধি খাওয়ার জন্য একবার হলেও সবাইকে আমন্ত্রণ জানান তারা।

জেলার প্রবীণ সাংবাদিক মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘আটশো বছরের পুরোনো দ্বীপজেলা ভোলা, ধান সুপারির পরে এ জেলা গ্যাসের জন্য সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত। মহিষের দধি আগেও মানুষের কাছে প্রিয় ছিল কিন্তু এটি স্বীকৃতি পায়নি। জেলার চরাঞ্চলে নানা সমস্যা ও বিভিন্ন রোগের কারণে মহিষের পালন কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অনেক মহিষ মারা যাচ্ছে, মহিষের চারণ ভূমিগুলো আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে, মহিষের জন্য যে খাদ্য প্রয়োজন তা পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত ছিল কিন্তু তা করা হয়নি, এখন স্বীকৃতি পেয়েছে আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে একটি বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করবে।’

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজাদ জাহান বলেন, ‘ধান–সুপারি, ইলিশের গোলা এ তিনে ভোলা। এখন সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহিষের দই। ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দইয়ের স্বীকৃতি সেটি অন্য জেলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। মহিষের দুধের কাঁচা দই ভোলার ঐতিহ্য। এটি অন্য জেলার হতে পারে না। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের চেষ্টায় জিআই-৫৫ নম্বরে এটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।’

তিনি বলেন, ‘ভোলাবাসী এটি নিয়ে গর্বিত। এর মাধ্যমে এটির বৈশ্বিক স্বীকৃতি মিলেছে। জিআই হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রথমত এই পণ্যটি ভোলার বলে চিহ্নিত হলো। দ্বিতীয়ত, এই স্বীকৃতির মাধ্যমে পণ্যটির বাণিজ্যিকীকরণের সুবিধা বাড়ল। এই দধি এখন দেশের বাইরেও রপ্তানি করা যাবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে দধি উৎপাদনে মানের উন্নতি হবে। কেননা জিআই স্বীকৃতি পণ্যের মান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

মো. আজাদ জাহান আরও বলেন, ‘মহিষের কাঁচা দইয়ের উৎপাদন বাড়াতে শিল্প ও একটি বৃহত্তম প্রকল্পের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবে জেলা প্রশাসন।’




দেশের রিজার্ভ কত, জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত এক মাসে ৯৭ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার কমে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা ২৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের দাঁড়িয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবের মান অনুযায়ী এ মাসের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫৬ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ১৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গ্রস বা মোট রিজার্ভের পরিমাণ ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা ২৪ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট নিট রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ২০ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৫৫৬ কোটি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার বা ২৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। এর বাইরে ব্যবহারযোগ্য (সব দায়দেনা বাদ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকা ব্যবহার করার মতো রিজার্ভ।) রিজার্ভের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স আসার গতি ভালো রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এ মাস আড়াই বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স আসবে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার পেছনে সচেতনতা কাজ করছে। আবার বৈধ পথে ডলারের দরবৃদ্ধিতে হুন্ডি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারা। এতে বাড়ছে রেমিট্যান্স আসার গতি




ডিম-মুরগি-মাছ সবই দাম নাগালের বাইরে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের বাজারে দফায় দফায় বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। অবস্থা এমন যে, মাছ-মাংস-ডিম কিছুই ছুঁয়ে দেখতে পারছেন না মধ্য ও নিম্নবিত্তরা। একদিকে বাজারে দাম বেড়েছে ডিম ও মুরগির, সেই সঙ্গে বেড়েছে মাছের দামও।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, যা এখন ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। সোনালি মুরগির দামও ১০ টাকা বেড়ে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা হয়েছে। যা ২৬০ থেকে ২৭০ টাকা ছিল গেল সপ্তাহে।

খুচরা বাজারে একটি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ১৪ টাকা, হালি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে একটি ডিম ১৫ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। সে হিসাবে হালি ও ডজনের দাম দাঁড়ায় আরও বেশি। ডজন ১৮০ টাকাও উঠেছে।

চলতি সপ্তাহে মাছের দামও বাড়তি দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়, চাষের কই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়, প্রতি কেজি পাঙাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, রুই প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায়, কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, শিং মাছ প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, গলসা প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, টেংরা প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, পাবদা প্রতি কেজি ৪৮০ টাকা, চাপিলা প্রতি কেজি ৬০০ টাকা, চিংড়ি প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, বোয়াল প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, সরপুঁটি প্রতি কেজি ৩০০ টাকা, রুপচাঁদা প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ মাছও অতিরিক্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর চেয়ে কিছুটা ছোট ইলিশ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে ছাড়া অন্য কোনো সবজি প্রতি কেজি ৫০ টাকার নিচে মিলছে না।

রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, ‘বাজারে ইলিশ মাছের দাম বেশি থাকায় অন্য মাছের দামও কমছে না। এ ছাড়া অন্য নিত্যপণের দামও বেশি রয়েছে।’

এদিকে হঠাৎ বাজারে ডিমের দামে অস্থিরতা নিয়ে তেজগাঁও ডিম ব্যবসায়ীরা বলেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে ডিমের সরবরাহ কম। এর ফলে দাম কিছুটা বেড়েছে। বৃষ্টিপাত কমলে, বাজারে শাকসবজির সরবরাহ বাড়লে ডিমের ওপর থেকে চাপ কমবে। তখন হয়তো দাম কমতে পারে।

শুক্রবাদ বাজারে কথা হয় মমিনুল হক নামের এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো হিসাব করে চলা মানুষ আর ইলিশ মাছ-গরুর মাংস খেতে পারবে না। কমদামে ব্রয়লারও এখন কেনা যায় না। মাছের দামও বেড়েছে। আমরা এখন কী খাবো।




শেয়ারবাজারে বড় দরপতনে দিশেহারা বিনিয়োগকারী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের শেয়ারবাজারে চরম আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই কমছে সূচক ও শেয়ারের দাম; নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ফলে দিন দিন বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে। ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের আয় কমে যাওয়ায় তারাও বিপাকে; কোনো কোনো হাউস কর্মচারীদের বেতন দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক হাউসই ব্যয় সংকোচনে নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ একেবারেই কমে গেছে।

এদিকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত নিম্নমানের কোম্পানির সংখ্যা আরও বেড়েছে। একসঙ্গে ২৮ কোম্পানিকে নতুন করে জেড শ্রেণিভুক্ত করেছে ডিএসই। এর ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এখন ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত। এটি বাজারের জন্য খুবই ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, গত ১৫ বছরে একের পর এক মানহীন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেওয়াতেই এমন হয়েছে। বিএসইসির আগের দুই কমিশন এমন অনেক কোম্পানিকে বাজারে এনেছে, যেগুলো কোনোভাবেই উপযুক্ত ছিল না।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট রয়েছে। এ ছাড়া বাজারে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের সংখ্যা খুবই কম। যেসব কোম্পানি রয়েছে, সেগুলোতে বিনিয়োগের পর দিনই দাম কমে যাচ্ছে। বিনিয়োগের মতো ভালো কোম্পানির অভাব রয়েছে। এ জন্য নতুন কোম্পানি আনার বিকল্প নেই। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে কার্যকর সংস্কার করতে হবে। তা হলেই কেবল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঞ্চার হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শেয়ারবাজারে মন্দাভাব চলছে। চলতি বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিলÑ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেয়ারবাজার আলোর মুখ দেখবে। স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। সেখানে কোনো ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ থাকবে না।

শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুনর্গঠিত বিএসইসি শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে পারছে না। বিনিয়োগকারীসহ শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান সূচক ৯৭ পয়েন্ট কমেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩১ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩০ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার কোটি টাকা। আর আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে ২৬৬ কোটি টাকা। ডিএসইতে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে তার চারগুণেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ঢালাও দরপতন হয়েছে। বাজারটিতে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে তার প্রায় ছয়গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে। ফলে এ বাজারটিতেও কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৭২ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৯৯ প্রতিষ্ঠানের। আর ২৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ২৭ ব্যাংকের শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৬টির শেয়ার দাম কমেছে। ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৩০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৯৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন কমেছে ২৬৬ কোটি ৮ লাখ টাকা।

অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২০৮ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৮টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা।




ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্তে পরিবর্তন

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের প্রধান নিয়ন্ত্রককে চিঠি দিয়ে ২ হাজার ৪২০ টন ইলিশ রপ্তানি অনুমতির কথা জানানো হয়েছে। ৪৯টি প্রতিষ্ঠানকে এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ২ হাজার ৪০০ টন, আর একটি প্রতিষ্ঠান ২০ টন ইলিশ রপ্তানি করবে।ইলিশ রপ্তানির অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদনের শেষ সময় ছিল গত সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত। নতুন ও পুরোনো সব আবেদনপত্র এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ইলিশ রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বিপরীতে দেওয়া হয় আটটি শর্ত। শর্তে বলা হয়েছে, অনুমতির মেয়াদ কার্যকর থাকবে আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত।

যেসব শর্ত দিয়ে প্রতিবছর ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়, এবারও সেগুলোই রাখা হয়েছে। শর্তগুলো হচ্ছে বিদ্যমান রপ্তানিনীতির বিধিবিধান মানা, শুল্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইলিশের কায়িক পরীক্ষা করানো এবং প্রতিটি চালান (কনসাইনমেন্ট) শেষে রপ্তানিসংক্রান্ত কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা।

এছাড়া অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি ইলিশ রপ্তানি না করা, অনুমতি কোনোভাবেই হস্তান্তর না করা এবং অনুমোদিত রপ্তানিকারক ছাড়া ঠিকায় (সাব–কন্ট্রাক্ট) রপ্তানি না করার শর্তও থাকছে। বলা হয়েছে, সরকার যেকোনো সময় রপ্তানি বন্ধ করতে পারবে। সব সময়ই এসব শর্ত থাকে।

ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আরিফ সি ফুডস, জারা এন্টারপ্রাইজ, সততা ফিশ ফিড, এস এ আর এন্টারপ্রাইজ, নাহিয়ান এন্টারপ্রাইজ, তানিশা এন্টারপ্রাইজ, রুপালী সি ফুডস লিমিটেড, লাকি এন্টারপ্রাইজ, টাইগার ট্রেডিং, রিপা এন্টারপ্রাইজ, জেবিএস ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মাশফি অ্যান্ড ব্রাদার্স, মহিমা এন্টারপ্রাইজ, সেভেন স্টার ফিশ প্রসেসিং কোম্পানি লিমিটেড, রহমান ইমপেক্স, আসিফ ইমপেক্স, নোমান এন্টারপ্রাইজ, যমুনা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, রুপালী ট্রেডিং করপোরেশন, সততা ফিশ, প্যাসিফিক সি ফুডস লিমিটেড, জেজে ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, বিশ্বাস ইন্টারন্যাশনাল, ক্যাপিটাল এক্সপোর্ট ইমপোর্ট অ্যান্ড কোম্পানি, অর্পিতা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, সুমন ট্রেডার্স, সাজ্জাদ এন্টারপ্রাইজ, সততা ফিশ, আঁচল এন্টারপ্রাইজ, ২ এইচ ইন্টারন্যাশনাল, এমএপি ইন্টারন্যাশনাল, সরদার এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট, ইউভা ট্রেডিং, ফারিয়া ইন্টারন্যাশনাল, আসফা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, স্ট্যান্ডার্ড ফুড করপোরেশন, জেএস এন্টারপ্রাইজ, পদ্মা অ্যাগ্রো ফিশারিজ, ন্যাশনাল অ্যাগ্রো ফিশারিজ, মেসার্স আহনাফ ট্রেডিং, নাফিজা এন্টারপ্রাইজ, ডিপ সি ফিশারিজ লিমিটেড, মাসুদ ফিশ প্রসেসিং, আরকে ট্রেডার্স, বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ ও লোকজ ফ্যাশন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লোকজ ফ্যাশন ২০ টন, আর বাকি সবকটি প্রতিষ্ঠান ৫০ টন করে ইলিশ রফতানির অনুমোদন পেয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারতে ৩ হাজার টন ইলিশ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।

এর আগে গত ১১ আগস্ট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছিলেন, ‘দেশবাসী ইলিশ পাবে না, আর বিদেশে রপ্তানি হবে, এটা হতে পারে না। আগে দেশকে গুরুত্ব দিতে হবে। এরপর রপ্তানি করা হবে।’

পরে গত ২১ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই ভারতে তিন হাজার টন ইলিশ রপ্তানির কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বৃহত্তর স্বার্থে এবং সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তে ভারতে ইলিশ মাছ রপ্তানি করা l




সংস্কারের জন্য বাংলাদেশকে ৩.৫ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক




বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার ইঙ্গিত আইএমএফের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাষ্ট্র সংস্কারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ড. ইউনূস সরকারের ‘পাশে আছে’ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, আইএমএফ এ সরকারের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি দ্রুত অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বাংলাদেশে আইএমএফের একটি মিশন পাঠিয়েছেন এবং তারা এখন ঢাকায় রয়েছে। ঢাকা সফর শেষে মিশনটি আগামী অক্টোবর মাসে আইএমএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফ পরিচালনা পর্ষদ  মিশনের  প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করতে পারে অথবা গত বছরের শুরুর দিকে চালু হওয়া বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আরও ঋণ দিতে পারে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান  ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।