বরিশালে পানচাষে চাষীদের উদ্বেগ, দরপতনে ক্ষতির শঙ্কা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পানচাষে চাষীরা দরপতনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন। উপজেলার বাকাল, বাশাইল, গৈলা ও রাজিহার ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় অসংখ্য পান বরজ চাষীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে বর্তমানে বাজারে হঠাৎ দরপতনের ফলে চাষীরা দিশেহারা।

গৈলা ইউনিয়নের পানচাষী আকবর মৃধা বলেন, “বরজ তৈরির বাঁশ, দড়ি, শ্রমিক মজুরি, সার ও কীটনাশকসহ সব খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। অথচ প্রতি পোন পানের দাম এখন মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কয়েক মাস আগে একই পরিমাণ পানের দাম ছিল ১২০-১৫০ টাকা। এতে আমরা শুধু ক্ষতির মধ্যে পড়ছি।”

অন্য চাষীরা জানান, বরজে সারা বছর বিনিয়োগ করতে হয়। এই দর থাকলে ঋণ শোধ করা তো দূরের কথা, জীবনধারণও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

বরিশাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পীযুষ রায় বলেন, “চাষীদের প্রাপ্য মূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত নজরে রাখা হচ্ছে।”

বরিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বনিক জানান, “চাষীদের সহায়তা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।”

চাষীরা আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করা হলে তারা ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে পারবেন এবং বরিশালের পানচাষ পুনরায় লাভজনক হয়ে উঠবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় যোগ হতে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংক, এমএফএস, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু হবে। এ ব্যবস্থায় ক্যাশ আউটের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।

সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তঃলেনদেন প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুষ্ঠান থেকে গেটস ফাউন্ডেশনের মোজালুপের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি চুক্তি সই হয়। এই চুক্তির আওতায় মোজালুপের এই প্লাটফর্মের নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি)।

গভর্নর বলেন, লেনদেনে স্বচ্ছতা আনার জন্য ডিজিটাইজেশনের বিকল্প নেই। আর এজন্য আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে এ ব্যবস্থায় যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এতে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে।




ভূমিকম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে জাতীয় গ্রিডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভূ-কম্পনের তীব্রতা কিছু স্থানে এতটাই ছিল যে, তা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলোর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। ফলে হঠাৎ করেই গ্রিড ট্রিপ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর থেকেই পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জরুরি মেরামত ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে দ্রুত অবস্থার মূল্যায়ন করছেন এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে দিন-রাত কাজ করছেন।

পিডিবির তথ্যমতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ঘোড়াশাল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূমিকম্পের অভিঘাতে হঠাৎ গ্রিড ট্রিপ করায় পুরো কেন্দ্রের উৎপাদনে ধাক্কা লাগে। শুধু তাই নয়, বাঁশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট আগেই বন্ধ ছিল—এরপর ভূমিকম্পে গ্রিড অচল হয়ে যাওয়ায় অন্য ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও চাপের মুখে পড়ে।

এদিকে সিলেটের বিবিয়ানা এলাকায় ইউনাইটেডের একটি ইউনিটও ভূমিকম্প-উৎপন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ইউনিট স্বাভাবিকভাবে চালু করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প উৎপাদন উৎসগুলো থেকে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ মনে করছে, ভূমিকম্পের প্রভাব সাময়িক হলেও পুরো গ্রিড সিস্টেমকে স্থিতিশীল করতে সমন্বিত প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের বিশেষজ্ঞরা সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুতই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং যেসব এলাকায় লোডশেডিং দেখা গেছে সেগুলোও জরুরি ভিত্তিতে পুনঃসংযোগের আওতায় আনা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব বাংলাদেশের পোশাক খাতে কমছে রপ্তানি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :    যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের পোশাক খাতে । চলতি বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এই পতনের জন্য গত আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন আরোপিত নতুন পাল্টা শুল্ককে দায়ী করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১.৭৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ মিলিয়ন ডলার বা ২.৮৮ শতাংশ কম।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি কমার মূল কারণ হচ্ছে- বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক। এর ফলে বাজার সংকুচিত হয়েছে। তাঁদের ধারণা কম চাহিদার কারণে আগামী মাসগুলোতেও ওই বাজারে রপ্তানি কমতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে বিক্রি কমেছে। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২.৫৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বিগত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২.৪৬ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ ৫.১৪ শতাংশের একটি সামান্য প্রবৃদ্ধি। এই প্রবৃদ্ধি মূলত জুলাই মাসের চালানে শক্তিশালী উল্লম্ফনের কারণে হয়েছে, যা ছিল ১৯ শতাংশ।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নতুন শুল্ক ৭ আগস্ট কার্যকর হওয়ার আগে অগ্রিম ক্রয়ের কারণেই এ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এই

উল্লম্ফন মূলত প্রত্যাশিত শুল্কের প্রভাব পড়ার আগে অগ্রিম ক্রয়ের কারণে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী তিন মাসে নেতিবাচক বা দুর্বল প্রবৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা অন্তর্নিহিত চাহিদা ও নীতিগত অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।

গত আগস্ট থেকে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা বেশিরভাগ পণ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য শুল্ক আরোপ করেছে। নতুন শুল্ক কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়েছে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ প্রায় সব প্রতিযোগী দেশই এই নতুন শুল্কের আওতায় এসেছে। তাদের মধ্যে চীন ও ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক বাংলাদেশের তুলনায় আরও বেশি।

এর ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের প্রত্যাশা ছিল, মার্কিন ক্রেতারা চীন ও ভারত থেকে অর্ডার সরিয়ে বাংলাদেশে আনবে। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি।

 




ভোলায় শিল্প স্থাপনে কম দামে গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা

দেশে শিল্পকারখানায় বর্তমানে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৪০ টাকা। ক্যাপটিভ পাওয়ারে এ দাম ৪২ টাকা। কিন্তু দ্বীপ জেলা ভোলায় কেউ কারখানা স্থাপন করলে তাদের জন্য পুরোনো দাম, অর্থাৎ প্রতি ইউনিট ৩০ টাকায় গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করছে পেট্রোবাংলা। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানোর কাজ চলছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে দেশে শিল্পকারখানায় দুই ধরনের গ্যাস মূল্য কার্যকর হবে। ব্যবসায়ীদের মতে, এটি একই বাজারে বৈষম্য তৈরি করবে এবং এমন সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। চলতি বছরের এপ্রিলে শিল্প ও ক্যাপটিভে গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। এর আগে শিল্পে গ্যাসের দাম ছিল ইউনিটপ্রতি ৩০ টাকা। যা এখন ৪০ টাকা। ক্যাপটিভে ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে শিল্প ও ক্যাপটিভের ব্যবহারকারীরা এ নতুন দামই দিচ্ছেন। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাসের বড় অংশই ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সেখানে পাইপলাইন স্থাপনে নানা বাধা আছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও গ্যাসের ব্যবহার আশানুরূপ হচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে সরকার দুই দিক বিবেচনা করছে- ভোলার গ্যাস ব্যবহারের পথ খুঁজতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সম্প্রতি ভোলার দুটি স্থান পরিদর্শন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা— শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ভোলায় কারখানা স্থাপনে আগের দামে গ্যাস দেওয়ার বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও এর প্রতি সরকারের আগ্রহ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

পেট্রোবাংলার এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভোলায় কেউ শিল্প স্থাপন করলে তারা আগের দামে গ্যাস পেতে পারে। নতুন দাম সেখানে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আমাদের পরামর্শ দিয়েছে। খুব দ্রুত আমরা বিইআরসিতে প্রস্তাব পাঠাব।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, “ভোলার শিল্পকারখানায় গ্যাসের দাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো পেট্রোবাংলা থেকে কোনো লিখিত প্রস্তাব পাইনি।”

ভোলায় তিনটি গ্যাসক্ষেত্র আছে। সেখানে নয়টি কূপ খনন করা হয়েছে। মোট উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু চাহিদা কম হওয়ায় ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। বাকি গ্যাস ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। নতুন করে আরও ১৫টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যা শেষ হলে উৎপাদন ৩০০–৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়বে। বর্তমানে একটি দেশীয় কোম্পানি ভোলা থেকে সিএনজি আকারে দৈনিক প্রায় ৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এনে ব্যবহার করছে।

আরও ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজি আকারে আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি গ্যাস সংকট সমাধানে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোলা–বরিশাল অংশের প্রাক-সমীক্ষা শেষ হয়েছে। বরিশাল–ঢাকা অংশের সমীক্ষা চলছে।




দুমকিতে পদ্মা ব্যাংকের লেনদেন স্থবির, গ্রাহকদের চরম দুর্ভোগ

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পদ্মা ব্যাংক শাখায় দীর্ঘদিন ধরে টাকা উত্তোলন করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন প্রায় কয়েক হাজার গ্রাহক। প্রতিদিন ব্যাংকে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। জরুরি প্রয়োজনেও তারা নিজেদের সঞ্চয় তুলতে পারছেন না—ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। উপজেলা সদরের সরকারি জনতা কলেজসংলগ্ন পদ্মা ব্যাংক শাখাটি দীর্ঘদিন ধরে চার হাজারের মতো গ্রাহকের লেনদেন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংকটির কার্যক্রম ব্যাহত হতে শুরু করে। নতুন আমানত গ্রহণ বন্ধ রয়েছে, পাশাপাশি পুরোনো ডিপোজিটও ফেরত দিচ্ছে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ফলে দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে গ্রাহক ভোগান্তি।

নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি সার্জেন্ট (অব.) এসএম ফজলুল হক জানান, তার ও পরিবারের চার সদস্যের অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৩ লাখ টাকা রয়েছে। কিন্তু চেক দিলেও দুই হাজার টাকার বেশি পাওয়া যায় না, সেটিও পেতে সপ্তাহজুড়ে ঘুরতে হয়। রাইসমিল ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা হাওলাদার বলেন, জমি বিক্রির ৯ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রাখার পর থেকে তিনি চরম অনিশ্চয়তায় আছেন।

মাসে মাত্র দুই হাজার টাকা তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ঘুরিয়ে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর এলাকার গ্রাহক মো. জসিম উদ্দিন জানান, চিকিৎসার জন্য জরুরি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু ৫ লাখ টাকা জমা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিচ্ছে—টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।

লেবুখালির গ্রাহক মো. রিপন বলেন, “দেড় হাজার টাকা খরচ করে দশ মাস ধরে ঘুরছি। অথচ মাত্র দুই হাজার টাকা তুলতে পেরেছি।” শ্রীরামপুরের মফিজ গাজী জানান, প্রতিবন্ধী দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা টাকাও তুলতে পারছেন না। একই ধরনের অভিযোগ করেন পিরতলা বাজারের ব্যবসায়ী আবুল বাশার, মো. হোচেন আলী ও মোশারফ হোসেনসহ অনেকেই। তাদের দাবি—ব্যাংক কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন, ‘টাকা নেই, এলে দেওয়া হবে।’

এই পরিস্থিতি নিয়ে জানতে দুমকি শাখার ব্যবস্থাপক শাহিনুর আক্তার ও ব্যাংকের পাবলিক রিলেশন বিভাগে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। স্থানীয়দের আশঙ্কা—দ্রুত লেনদেন স্বাভাবিক না হলে তাদের অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।




বরগুনার পান চাষিরা পেল না ন্যায্য দাম, হতাশায় নিমজ্জিত চাষিরা

চলতি মৌসুমে বরগুনার পান চাষে ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও চাষিরা ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে কম দামে প্যান বিক্রি হওয়ায় অনেক চাষি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বরগুনার কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় মোট ৪১১ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়েছে। আবহাওয়ার অনুকূলে ফলন হয়েছে বাম্পার। তবে বাজারে অস্বাভাবিকভাবে কম দাম এবং সার- কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাষিরা ন্যায্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

গত বছর ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে ১৮৪ হেক্টর জমির পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এতে ৭৩৬ টন উৎপাদন ব্যাহত হয়, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা। অনেক চাষি ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করছেন, কিন্তু বাজারে দাম না পাওয়ায় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

বরগুনা সদরের হেউলিবুনিয়া গ্রামে দেখা যায়, বরজে পাটকাঠির সঙ্গে ঝুলে আছে চিরসবুজ পান। চাষিরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বরজে কাজ করছেন। বাম্পার ফলন থাকা সত্ত্বেও তারা দামের অস্থিরতার কারণে হতাশ। হরেন সাধু নামের এক চাষি বলেন, “আমরা এই ব্যবসা বংশপরম্পরায় করি। পানের দাম না থাকায় ঋণ নিয়ে চাষ করতে হচ্ছে, যা এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

কুমড়াখালী এলাকার মেহেদী হাসান জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। কৃষি অধিদপ্তরের আশ্বাস রয়েছে যে মানসম্মত পানের উৎপাদন হলে তা বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, “এ বছর জেলার ৩,৬০৪টি বরজে পানের আবাদ হয়েছে। আধুনিক চাষাবাদে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করার কাজ চলছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দেশে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৮০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে বাজুসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (২ নভেম্বর) থেকে দেশের বাজারে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা।
এছাড়া—

  • ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৯৬ টাকা,
  • ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮১ টাকা,
  • এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে, স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা দরে।

বাজুস জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৭৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ বার বেড়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে

স্বর্ণের বাজারে এই ধারাবাহিক উত্থান নিয়ে সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে স্থানীয় বাজারেও প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, অনেকে মনে করছেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গ্রামীণ নারীরা পুষ্টি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, গ্রামীণ নারীরা হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল পালন করে শুধু নিজেদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হচ্ছেন না, বরং দেশজুড়ে ডিম, দুধ ও মাংস সরবরাহের মাধ্যমে পুষ্টি নিশ্চিত করছেন। এ কারণে দেশের পুষ্টি ও অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীদের অবদান অপরিসীম।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মিলনায়তনেজলবায়ু অভিযোজনে গ্রামীণ নারী” শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

উপদেষ্টা আরও বলেন, মাইক্রো লেভেলে পুষ্টির অধিকাংশ অবদানই গ্রামীণ নারীদের। যদি তারা এই প্রাণী পালন না করতেন, বাংলাদেশ কখনও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতো না। তিনি জানান, নারীরা ঠিকই আছেন, কিন্তু তাদের অবদান দৃশ্যমান করা হয় না। সামান্য উৎসাহ ও সহায়তা পেলে তাদের ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।

সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা জেলেদের ন্যায্য মজুরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দাদন প্রক্রিয়ার কারণে জেলেরা যথাযথ মজুরি পাচ্ছেন না। এই প্রথার অবসান জরুরি। এজন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জেলে পরিবারের নারীদের স্বীকৃতি দেওয়াও সমানভাবে জরুরি।

উপদেষ্টা বাল্যবিয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাল্যবিয়ে রোধ না করতে পারলে গ্রামীণ নারীরা সম্পূর্ণভাবে শক্তিশালী হতে পারবেন না। তাই জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকা জরুরি এবং নারীদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে দিতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন:

  • ড. মো. হযরত আলী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক
  • ক্যাথারিনা কোয়েনিগ, সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের উপদলনেতা
  • রেহানা খান, সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার (গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও লিঙ্গ সমতা)
  • মেহের নিগার ভূঁইয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের “স্থিতিস্থাপক জীবিকা কর্মসূচি”–এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার

সেমিনারে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম স্বাগত বক্তৃতা দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প কর্মকর্তা (ক্যাম্পেইন ও যোগাযোগ) তাজওয়ার মাহমিদ

বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু সহনশীলতায় নারীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সমাজে ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রায়ই অদৃশ্য থেকে যায়। তারা নারী-সংবেদনশীল কৃষি ও জলবায়ু নীতি প্রণয়ন, ভূমি, অর্থ ও প্রযুক্তিতে সমান প্রবেশাধিকার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারী কৃষক, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশগ্রহণ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাবান্ধা দিয়ে নেপালে রপ্তানি ১,৪০৭ টন আলু

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে নেপালে এক দিনে রপ্তানি করা হয়েছে ১,৪০৭ টন আলু। এই রপ্তানি কার্যক্রমে এস্টারিক্সসহ দেশের বিভিন্ন প্রজাতির আলু সংযুক্ত ছিল।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক নুর হাসান জানিয়েছেন, একদিনে সর্বোচ্চ ৬৭টি ট্রাকে আলু নেপালের বাজারে পাঠানো হয়। এসব আলু উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ফার্ম থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং বাছাই করার পর রপ্তানি করা হয়।

এর আগে, গত বুধবার ২৮ ট্রাকে করে ৫৮৮ টন আলু নেপালে পাঠানো হয়েছিল। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৩৯,০৩৯ টন আলু রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে দেশের আলু উৎপাদনকারী অঞ্চলের কৃষকদের আয়ের উৎসে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং নেপালের বাজারে স্বচ্ছন্দে আলু সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।

বাংলাবান্ধা বন্দরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগামীদিনেও রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল ও নিয়মিত করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদিত আলু বাজারজাতকরণ সহজ হবে এবং দুই দেশের মধ্যে খাদ্যপণ্য ব্যবসার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম