এখনো অদৃশ্য সিন্ডিকেটের জালে বাঁধা বাজার ব্যবস্থা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাজারে দরকারি পণ্যের দাম কমার কোন লক্ষণ নেই। বরং পাইকারি-খুচরা দুই পর্যায়েই কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের চেয়ে মুরগির দাম বেড়েছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। কাঁচামরিচ এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে সাধারণ ক্রেতাদের। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা, বাজার নিয়ন্ত্রণে কথার চেয়ে দৃশ্যমান কার্যকরী পদক্ষেপের।

বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। সাপ্তাহিক কেনাকাটা করতে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে এসেছেন কারওয়ান বাজার। কাঁচা বাজার শেষে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ করে তিনি বলেন, দোষের ওপর দোষ। আগে যে সরকার ছিল সে জামায়াত-বিএনপির দোষ দিতো। এখন যে সরকার এসেছে সেও আওয়ামী লীগের দোষ দিচ্ছে। কোনো পরিবর্তন আসেনি। শুধু লোক পরিবর্তন হয়েছে। বাজারে তদারকি নেই, কার্যক্রম নেই। যা যার ইচ্ছামত দাম রাখছে।

দরকারি পণ্যের লাগামছাড়া দশায় যে অস্বস্তি ছিল শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে। পতনের পরেও একই হাল। ক্রেতাদের অভিযোগ, এখনো অদৃশ্য সিন্ডিকেটের জালে অষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা বাজার ব্যবস্থা।

বাজার করতে আসা ক্রেতারা জানান, বাজারে সব কিছুর দাম বেশি। শুধু মানুষের কোনো দাম নেই। ২ থেকে ৩ ধরণের তরকারি কিনলেই ৫শ’ টাকা শেষ। তরকারিতেই যদি এমন টাকা যায় তাহলে মাসে এর পেছনেই খরচ ১৫ হাজার টাকা। বাসা ভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়া কিভাবে চলবে। সিস্টেম একই আছে, শুধুমাত্র হাত বদল হয়েছে।

বাজারে প্রায় সব সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ন্যূনতম ৬০ টাকার কমে মিলছে না কোন সবজি। এটি কারওয়ান বাজারের দাম, বলা বাহুল্য এলাকাভিত্তিক বাজারে এই দাম আরও বেশি।

বিক্রেতারা জানান, পেঁপের দাম সবচেয়ে কম, ৪০ টাকা কেজি। আর সব কিছুর দাম বেশি। অন্য সব সবজির দাম ৭০/৮০ টাকার মত। এদিকে দু সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ অনেকটা বেড়েছে খোলা তেলের দাম, বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। যদিও অপরিবর্তিত আছে বোতলজাত তেলের দাম।

তেল বিক্রেতা জানান, পাম তেলের দাম ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা বেশি। আর বোতলজাত তেলের দাম ১০ টাকা করে বৃদ্ধির কথা তবে এখনও বাড়েনি।

শুধু চাল-ডাল-সবজিই নয়, বেড়েছে মুরগির দামও। ২০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে ব্রয়লার মুরগি, যা গত সপ্তাহেও ছিল ১৯০। এছাড়া কেজি ৩০ টাকা বেড়ে সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।

মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম ভেঙে কঠোর হাতে বাজার নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা ক্রেতাদের।

 




 ‘আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দায়িত্বশীল বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থায়িত্ব এখন আর বিকল্প নয়, এটি প্রয়োজনীয়তা। ব্যাংকগুলোকে টেকসই উন্নয়ন, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীলতায় আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টালে ব্র্যাক ব্যাংকের ‘সাসটেইনেবলিটি রিপোর্ট ২০২৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এসব কথা বলেন। যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ দূষণ করে, তাদের ঋণ না দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্লুম ইনটু দ্য ফিউচার’- শিরোনামের প্রতিবেদনটি ব্যাংকের টেকসই ব্যাংকিংয়ের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, যেখানে ব্যাংকের কার্বন নিঃসরণ কমানো, সবুজ অর্থায়ন সমর্থন এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক অনুশীলন প্রচারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি ব্যাংকের জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজিএস)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে এবং বাংলাদেশের পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার কথা উল্লেখ করেছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহেরিয়ার এম হাসান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর. এফ. হুসাইনও বক্তব্য রাখেন।

 




ডিম, তেল ও চিনির আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট কমালো এনবিআর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সরকার বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উদ্যোগ নিয়েছে। ডিম, ভোজ্যতেল ও চিনির সরবরাহ বাড়াতে এবং মূল্য সহনীয় রাখতে শুল্ক ও ভ্যাট হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সৈয়দ এ মু’মেন জানিয়েছেন, ডিমের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আমদানিকৃত ডিমের দাম কমে যাবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ডজন ডিমের মূল্য ১৩ টাকা ৮০ পয়সা কমবে। তবে এই শুল্ক অব্যাহতি সুবিধা ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশেষত, এই শুল্ক কমানোর ফলে দেশে ডিমের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং কনফেকশনারি, বেকারি ও অন্যান্য ডিম নির্ভর শিল্পখাতের খরচও কমে আসবে।

এছাড়া, ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে এনবিআর। পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম তেল সরবরাহে স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। অপরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম তেলের আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সুবিধাও ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চিনির ক্ষেত্রে এনবিআর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। পরবর্তীতে, চিনির ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক প্রতি টনে ৬ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে বাজারে চিনির সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং দাম সহনীয় হবে বলে এনবিআর আশাবাদী।




এস আলমের কালো টাকা সাদা করায় বরখাস্ত ৩ কর কর্মকর্তা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আলোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের দুই ছেলের কর ফাঁকির ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন অতিরিক্ত কর কমিশনার সাইফুল আলম, যুগ্ম কর কমিশনার এ কে এম শামসুজ্জামান এবং সহকারী কর কমিশনার মো. আমিনুল ইসলাম।

এস আলমের দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহির ৫০০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সময় তারা মাত্র ৫০ কোটি টাকা কর প্রদান করেন, যেখানে ১২৫ কোটি টাকা কর দেওয়ার কথা ছিল। এই বিশেষ সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে ঘুস গ্রহণের অভিযোগে ওই তিন কর কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।

এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই উড়োজাহাজ লিজের অর্থ বিদেশে পাঠানো যাবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ ব্যাংক দেশীয় এয়ারলাইন্স এবং তথ্য প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অর্থ বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে। এখন থেকে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো তাদের উড়োজাহাজের ভাড়া বা লিজের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে পাঠাতে পারবে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু উড়োজাহাজ লিজই নয়, ক্লাউড সেবা, আইটি অবকাঠামো, সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনের ব্যয়ও অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে পাঠানো যাবে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজনীয় আইটি সেবা গ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানে অর্থ পাঠাতে পারবে ব্যাংকের মাধ্যমে। আগে এসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হতো।

এছাড়া প্রবাসীদের জন্যও অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিদেশের ব্যাংকে অর্থ জমা রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি আর লাগবে না। এতে তাদের কাজ আরও সুবিধাজনক হবে।

 




সুদহার বাড়ছে সঞ্চয়পত্রের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ব্যাংকে আমানতের সুদহার বাড়ার কারণে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া এখন থেকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের প্রতি মাসে সুদের টাকা দেওয়া হবে। মাস শেষে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদের টাকা জমা হবে।

একই সঙ্গে ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডসহ সঞ্চয় অধিদপ্তর পরিচালিত ১১টি সঞ্চয় স্কিমের বিনিয়োগগুলো মেয়াদ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনঃবিনিয়োগ হিসেবে গণ্য হবে।

গতকাল মঙ্গলবার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। মূলত সরকারের রাজস্ব আয়ে

ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট মোকাবিলায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সভা সূত্রে জানা গেছে।




শিল্প বাঁচাতে এসএস পাওয়ার সবসময় চালু রাখার অনুরোধ ব্যবসায়ীদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবস্থিত এস. আলম বিদ্যুৎকেন্দ্র (এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট) চট্টগ্রামের শিল্পকারখানাগুলোকে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে যাচ্ছে, যা লোডশেডিং প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে এনেছে। ব্যবসায়ীরা অনুরোধ করেছেন, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সবসময় চালু রাখতে হবে, যাতে শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে উৎপাদন আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হলে তা মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এস আলম বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু থাকলে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সুরক্ষিত থাকবে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের ৭০ শতাংশ এবং চীনা কোম্পানি সেপকো থ্রি ও এইচ টিজির ৩০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ২০২৩ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পর থেকেই দেশের বিদ্যুৎখাতে বিশাল ভূমিকা রাখছে।




ভোজ্য তেল আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ভোজ্য তেল আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আরোপিত সমুদয় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী নেতাদের এক বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ১৪.৮ শতাংশ এবং পাম তেলের দাম ১৮.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য না বাড়িয়ে বিদ্যমান দাম বহাল রাখার চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম উদ্দিন, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মইনুল খানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।




সংকটের অর্থনীতি আর কতদিন চাপে থাকবে জানালো বিশ্বব্যাংক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: এক বছর আগে থেকেই দেশের অর্থনীতি নানা কারণে চাপে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের চলমান পরিবর্তনের কারণে ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে।(জিডিপি)। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি কমে দাঁড়াতে পারে ৪ শতাংশ। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশে।

উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ ও শিল্পে দুর্বল প্রবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক বন্যার ফলে কৃষিতে মাঝারি মানের প্রবৃদ্ধি হবে।

মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য অনলাইনে ওয়াশিংটন থেকে বক্তব্য রাখেন- বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকনোমিস্ট ধ্রুব শর্মা, ইকনোমিস্ট নাজমুস খান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহেরিন এ মাহবুব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বহিস্থ খাতের চাপ, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি খুব বেশি বাড়বে না।

সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কেননা এখনো ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ কর্মসংস্থান অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। এটি অত্যন্ত উচ্চ সংখ্যা। ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান কমেছে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ হারে।

আর্থিক খাত নিয়ে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে নানা ধরনের সংকট রয়েছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ অনেক বেশি।

সরকারের অনেক প্রচেষ্টার পরও সেটি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া মূল্যস্ফীতি কমাতে ঋণের সুদেও হার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ গ্রহণ কমেছে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, মধ্যবর্তী পয়েন্ট হবে ৪ শতাংশ। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংক এপ্রিলে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বভাস দিয়েছিল।

চলমান অর্থবছরের বাজেটে সদ্য পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। সেই হিসাবে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস সরকারি লক্ষ্যের চেয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম হবে।

বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী কমে গেলে তা হবে কোভিড মহামারির পর সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।




আল আকসা অভিযানের পর ইসরাইলে তুর্কি ইস্পাত রপ্তানি ১০০ গুণ বেড়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যদিও তুর্কি রাষ্ট্রনায়করা দাবি করেছেন যে তারা ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর কাছে ইস্পাত রপ্তানি সীমিত করেছে তবে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানগুলোর মাধ্যমে এটা দেখা যাচ্ছে যে ইসরাইলের কাছে দেশটির ইস্পাত রপ্তানি ১০০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তুর্কি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা টিআইএম একটি প্রতিবেদনে ঘোষণা করেছে যে গত ৮ মাসে ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর কাছে তুরস্কের ইস্পাত রপ্তানি ১০০ গুণ বেড়েছে। পার্সটুডে জানাচ্ছে যে তুর্কি সাংবাদিক মেতিন জেইহান এই প্রসঙ্গে বলেছেন, তুরস্ক ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জন্য ইস্পাতের চাহিদা সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। তবে শুল্ক নথিতে ফিলিস্তিনের নামে রপ্তানির মিথ্যা নথিভুক্ত করেছে।

মিডল ইস্ট আই ওয়েবসাইটও এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে তুর্কি ব্যবসায়ীরা ইসরাইলে কিছু পণ্য রপ্তানি বাড়িয়েছে। কারণ সরকার এ বিষয়ে কঠোর নয়। আল-আকসা তুফান অভিযানের কয়েকদিন পর তুর্কি সরকার ঘোষণা করেছিল যে তারা ইসরাইলে ইস্পাতসহ কিছু পণ্য রপ্তানির মাত্রা কমিয়ে আনবে। ইসরাইল তার গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরিতে ইস্পাত ব্যবহার করে। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে ইহুদিবাদী ইসরাইলের ইস্পাত চাহিদার ৬৫ ভাগ তুরস্ক সরবরাহ করে।