বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে: গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের আশাবাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হচ্ছে। তিনি আজ ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আগের সরকারের সময়ে রিজার্ভ প্রতি মাসে ১.৩ বিলিয়ন (১৩০ কোটি) ডলার করে কমছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি ইতিবাচক পথে ফিরছে।”

গভর্নর উল্লেখ করেছেন যে, সার, বিদ্যুৎ এবং আদানি-শেভরনের বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ দেওয়া হয়েছে। গত দুই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১.৮ বিলিয়ন (১৮০ কোটি) ডলার পরিশোধ করে অপরিশোধিত বিল ২.৫ বিলিয়ন (২৫০ কোটি) ডলার থেকে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি) ডলারে নামিয়ে এনেছে।

৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৯.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর মোট রিজার্ভ ২৪.৯৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দুই মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হলে বাজারের তরলতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

এছাড়াও, গভর্নর দেশের বাড়তে থাকা বৈদেশিক ঋণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা বর্তমানে ১০৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তিনি জানান, ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে, তবে সফলভাবে এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে অন্তত এক বছরের সময় লাগবে।

 




নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ কিনতে পদ্মার পাড়ে ক্রেতাদের ভিড়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারিভাবে ইলিশ শিকার, সংরক্ষণ, বিপণন, ক্রয় করা নিষিদ্ধ থাকলেও মাদারীপুর জেলার শিবচরের পদ্মা পাড়ের চিত্র একটু ভিন্ন। নদী থেকে সদ্য ধরে আনা তাজা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে নদীর পাড়েই।

আর তা কিনতে দুর্গম চরাঞ্চলে ছুটে আসছেন সাধারণ ক্রেতারা!। অনেকটা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন নিষিদ্ধ মৌসুমে গড়ে উঠা অস্থায়ী ইলিশের হাটে।

শিবচরের পদ্মানদী বেষ্টিত বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ী, চরজানাজাত ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ে এভাবেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। এদিকে গোপনে গড়ে উঠা এসব অস্থায়ী ইলিশের হাট দ্রুত গুড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পদ্মার পাড়েই মাছের হাট বসে। পদ্মা নদীর ৪/৫টি স্থানে প্রতিদিন ভোর এবং বিকেলে বিক্রি হয় ইলিশ মাছ।

দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষ কিছুটা সস্তায় তাজা ইলিশ কিনতে ছুটে আসেন পদ্মা পাড়ে।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ রক্ষায় পদ্মা নদীতে উপজেলা মৎস্য অফিস, প্রশাসন, নৌপুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। সময় ভাগ করে একাধিক টিম পদ্মায় অভিযান পরিচালনা করছেন। জেলে আটকসহ জব্দ করা হচ্ছে লাখ লাখ মিটার কারেন্ট জাল। গত ৬ দিনে পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিস ও নৌপুলিশ কমপক্ষে ৫ লক্ষাধিক মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছে। এছাড়াও ট্রলার জব্দ, জেলে আটক, জরিমানা এবং মা মাছ উদ্ধারও হচ্ছে।

তবে নদীতে অভিযান চলমান থাকলেও পদ্মার পাড়ে বিগত বছরগুলোর মতো এ বছরও বসেছে ইলিশের হাট! একশ্রেণির অসাধু জেলেরা মাছ ধরে এনে নদীর পাড়ে বিক্রি করছেন। মাছ বিক্রির খবর পেয়ে ব্যাগ নিয়ে নারী-পুরুষেরা ছুটছেন পদ্মার পাড়ে।




সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের বাজারে সোনার দাম এক দফা বাড়ানোর পর এবার প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৬১২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৬১ টাকায়। নতুন এই দাম রোববার থেকে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী:
– ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি: ১ লাখ ৪০ হাজার ৬১ টাকা
– ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি: ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭০৪ টাকা
– ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি: ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৯ টাকা
– সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি: ৯৪ হাজার ১১৭ টাকা

সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার-নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।




বিদ্যুৎ বন্ধ করায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেন পবিস কর্মকর্তারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তারা শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরিচ্যুতদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুক্তভোগীদের পরিবার এবং কর্মকর্তাদের ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা পবিস-১ এর জুনিয়র প্রকৌশলী (আইটি) তামজিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ১৭ অক্টোবর দেশের ৬৭টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ শাটডাউন করার বিষয়টি পরিকল্পিত ছিল না। নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাকে আটক করার পর অফিসাররা ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এই কারণে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।” কর্মকর্তারা আরইবি কর্তৃক সৃষ্ট অস্থিতিশীল পল্লী বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য মামলা প্রত্যাহার এবং চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া, গ্রাহকের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য সমিতি ও বোর্ড সংস্কার করে একীভূত করার দাবি জানান।

নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “১৭ অক্টোবর আরইবি কর্তৃক উসকানি মূলক পদক্ষেপ হিসেবে ৩১ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বর্তমানেও বিভিন্ন সমিতিতে কর্মকর্তাদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।”

প্রতিক্রিয়ায় কর্মকর্তারা বলেন, “শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য নিরসন এবং উন্নত গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সংস্কার প্রয়োজন। সরকারকে অনুরোধ, প্রকৃত সত্য আড়াল করে কারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে অপচেষ্টা করছে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম পবিস-১ এর এজিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন, নরসিংদী পবিসের ডিজিএম (টেকনিক্যাল) আব্দুল্লাহ আল হাদী, এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।




২০২৪ আর্থিক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি ১.৮ ট্রিলিয়ন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ২০২৪ সালের আর্থিক বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটে আর্থিক ঘাতটির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তৃতীয়বারের মত রেকর্ড স্থাপন করেছে। শনিবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে (২০২৪) বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার। কোভিড-১৯ মহামারির পর এটাই সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতি। মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, অবসরকালীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সামরিক খাতে ট্যাক্স বৃদ্ধির কারণে মোট ঘাটতির পরিমাণ ১.৮৩৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালের অর্থবছর শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত ঘাটতি বেড়ে ৮ শতাংশ বা ১শ ৩৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি কোভিড মহামারির পর তৃতীয় বাজেট ঘাটতি। ২০২০ সালে বাজেট ঘাটতি ছিল ২.১৩২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২১ সালে ২.৭৭২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

২০২৩ সালে বাইডেন প্রশাসনের স্টুডেন্ট লোন প্রোগ্রামের খরচের কারণে বাজেট ঘাটতির পরিমাণ কমে ৩৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি ২ ট্রিলিয়ন মার্কের উপরে চলে যেতে পারে।

আগের আর্থিক বাজেটের তুলনায় ২০২৪ সালের জিডিপির পার্থক্য বেড়ে ৬.৪ শতাংশ হতে পারে। এটি ৫ নভেম্বরের আগে কমলা হ্যারিসের প্রতিশ্রুতির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে, যা ট্রাম্পের জন্য একটি সুযোগ হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের বাজেট ডিরেক্টর শালন্দা ইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন ক্লিন এনার্জি, স্থাপনা এবং অ্যাডভান্স ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্রে আরো বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।

 




বিজিএমইএ: শ্রমিক অসন্তোষে পোশাক শিল্পে ক্ষতি ৪০০ মিলিয়ন ডলার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আনুমানিক প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই তথ্য শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে কিছু অর্ডার প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।” এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন যে, আগস্টে মার্কিন পোশাক আমদানি বেড়েছে ১.৫%, তবে বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমেছে ৩.৮%।

রফিকুল ইসলাম আরও জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপে আমদানি বেড়েছে ৩.৩%, যেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়েছে মাত্র ২.৮%। অন্যদিকে, ভারত, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান, “পোশাক শিল্পের চ্যালেঞ্জিং সময় পেরিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।” সরকার, মালিক, শ্রমিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিজিএমইএ বোর্ড প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে এবং ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

সিকিউরিটির জন্য সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যা পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে। আগস্ট মাসের বেতন পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে বিজিএমইএ অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯টি পোশাক কারখানা সেপ্টেম্বর মাসের বেতন দিতে পারছে না। এসব কারখানার বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

এছাড়া, পোশাক শিল্পের ৪০ লাখ শ্রমিকের জন্য ন্যায্য মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যা গত ১৬ অক্টোবর উদ্বোধন করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।




রিজার্ভের পতন থেমেছে, ডলার বাজার স্থিতিশীল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ায় দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রবাসীরা গত আগস্ট মাস থেকে বৈধ চ্যানেলে বেশি পরিমাণ আয় পাঠাচ্ছেন। তাতে এ খাতে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যয় হ্রাস পাওয়া ও বাড়তি বৈদেশিক ঋণের প্রতিশ্রুতির ফলে বহিস্থ খাতে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। সব মিলিয়ে বিনিময় হারে একধরনের স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে বলে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি, খাদ্যমূল্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এতে বাংলাদেশে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, শুরু হয় ডলারের সংকট। ডলারের এই সংকটে ওলট–পালট হয়ে যায় দেশের প্রায় সব আর্থিক সূচক। ব্যবসা–বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংকট মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে একসময়ের ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। একপর্যায়ে প্রকৃত বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ১৩ বিলিয়ন ডলারে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। বাড়তে থাকে প্রবাসী আয়। আমদানিও কিছুটা কমে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করে। রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি একেবারেই বন্ধ করে দেওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের পতন থেমেছে। ব্যাংকে এখন ডলার ১২০ টাকা ও খোলাবাজারে ১২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমে এলেও মুরগি, ডিম ও সব ধরনের সবজি উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে মানুষের কষ্ট বেড়েছে।




রিজার্ভে হাত না দিয়েই দেনা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভে কোন অর্থ খরচ না করে, গত দুই মাসে ১.৫ বিলিয়ন ডলার দেনা পরিশোধ করেছে। ফলে, দেশের তেল, গ্যাস ও সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা কমতে শুরু করেছে। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সব দেনা মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

জ্বালানি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। তবে, গত দুই বছর ধরে ডলার সংকটের কারণে বকেয়া তৈরি হয়। আদানি, কাফকো, শেভরনসহ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার অনাদায়ী ছিল। এর মধ্যে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি উন্নত করার চেষ্টা করছে।

গভর্নর বলেন, “বর্তমানে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের অনাদায়ী বকেয়া রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনবো। এতে করে বাজারে অর্থের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ১০৩ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি ঋণ ও পরিশোধের চাপ নিয়ে গভর্নর কিছুটা চিন্তিত। তিনি বলেন, “অবস্থা সামাল দিতে অন্তত এক বছর ধৈর্য ধরতে হবে।”

গভর্নর এ সময় শ্রম অসন্তোষের কারণে রপ্তানি কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন।




 বাজারে কমেছে ডিমের দাম, সরকারের পদক্ষেপের সুফল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খুচরা পর্যায়ে ডিমের দাম ডজন প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।

জনগণের জন্য ডিম সাশ্রয়ী করতে সরকার আমদানি শুল্ক কমিয়ে ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) জারি করা এক আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এই শুল্ক ছাড় ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

কাওরান বাজারের ঢাকা পোল্ট্রির মালিক কাওসার আহমেদ বলেন, সরকারি উদ্যোগে বাজারে ডিমের সরবরাহ বেড়েছে, যার কারণে দাম কমেছে। তিনি আরও বলেন, আজ পাইকারি পর্যায়ে প্রতি শত ডিম বিক্রি করছি ১ হাজার ১০১ টাকায়। গতকাল দাম ছিল ১ হাজার ১৭০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা।

কাওসার জানান, আজ প্রতি ডজন ডিম পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩২ টাকা ১২ পয়সায়, যা গতকাল ছিল ১৪১ টাকা ৬০ পয়সা।

ঢাকার বাসিন্দা আবু সুফিয়ান জানান, তিনি আজ খিলগাঁও তালতলা বাজার থেকে এক ডজন ফার্মের ডিম কিনেছেন ১৫০ টাকায়, যা দুদিন আগে ছিল ১৮০ টাকা।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারের তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ডিএনসিআরপি) সহকারী পরিচালক ফাহমিনা আক্তার বলেন, তিনি পশ্চিম শেওড়াপাড়া কাঁচাবাজার ও তালতলা কাঁচাবাজারে অভিযান চালিয়ে দেখেছেন ডিমের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের কাছাকাছি।

সরকার নির্ধারিত মূল্যের আওতায় প্রতিটি ডিম উৎপাদক পর্যায়ে ১০.৫৮ টাকা, পাইকারি ১১.০১ টাকা এবং খুচরা ১১.৮৭ টাকায় বিক্রি করতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রিটেইল চেইন সুপারশপ স্বপ্নে প্রতিটি খুচরা ডিমের দাম ১১.৬৭ টাকা।

এদিকে সরবরাহ বাড়াতে ও দাম নিয়ন্ত্রণে ঢাকার প্রধান দুই পাইকারি বাজার তেজগাঁও ও কাপ্তান বাজারে প্রতিদিন ২০ লাখ ডিম সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। গতকাল কাপ্তান বাজারে ডিম সরবরাহ শুরু করেছে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো। এই উদ্যোগের মূল সমন্বয়কারী বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল।

প্রাথমিকভাবে ঢাকায় এ কার্যক্রম শুরু হলেও এর প্রভাব পুরো দেশে পড়বে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

 




এবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে মুরগির দাম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: এবার অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি মুরগি কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা আর ব্রয়লারের দাম বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত। মাছের দামও চড়া। আর গেল কয়েকদিনের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে সবজির দাম।

সরকার পরিবর্তনের পর প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম নেমে আসে একশ পঞ্চাশ টাকায়। আর সোনালী মুরগি দুইশ বিশ টাকায়। কিন্তু গেল তিন সপ্তাহ থেকে আবারও অস্থির মুরগির বাজার।

এই সময়ের ব্যবধানে এই দুই জাতের মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৮০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারে সবধরণের মাছেরও রয়েছে পর্যাপ্ত সরবরাহ। তবে, দাম নিয়ে অসন্তোষ ক্রেতাদের মধ্যে।

সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম কিছুটা কমলেও এখনো ৮০ টাকার কমে মিলছেনা বেশিরভাগ সবজি।

এদিকে, হঠাৎ করে মোটা ও আটাশ চালের দাম বেড়েছে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা। সরকার পরিবর্তনের পরও নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে আনতে না পারায় ক্ষুব্ধ মানুষ।

অন্যদিকে, সরকারের তদারকিতে বাজারে কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম।