এফবিসিসিআই ও রিহ্যাবের মধ্যে বৈঠক, বৈষম্য দূর করার আহ্বান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) নেতৃবৃন্দ। রোববার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মতিঝিলের এফবিসিসিআই কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে রিহ্যাবের পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম, মিরাজ মোক্তাদির, ড. মো. হারুন অর রশিদ, মুহাম্মদ লাবিব বিল্লাহ্ এবং মো. ইমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রিহ্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্যমূলক ড্যাপের কারণে জনমানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, বৈষম্যমূলক ড্যাপ বাতিল না করলে জনগণের ক্ষোভ বেড়ে যাবে। রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক ড্যাপে ফার-এর বৈষম্য দূরীকরণ এবং নির্মাণ বিধিমালা সংস্কারে এফবিসিসিআই-এর সহযোগিতা চান।

এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, রিহ্যাবের যৌক্তিক দাবির সঙ্গে তারা সবসময় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে এফবিসিসিআই, রাজউক, রিহ্যাব এবং গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি যৌথ সভা করার প্রয়োজন হতে পারে।




বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুত সরকার: উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীর টিএসসি মিলনায়তনে ভোক্তা অধিকার সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে যেকোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার। তিনি বলেন, সরকার কর্পোরেটদের হাতে বন্দি নয় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে টাস্কফোর্স সক্রিয় রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কমাতে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, অর্থ পাচার ও ঋণ খেলাপির কারণে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে কর্মীদের চিন্তার কিছু নেই, কারণ প্রতিষ্ঠান সচল রাখতে সরকার সচেষ্ট।

তিনি জানান, টাস্কফোর্সে ছাত্র প্রতিনিধি যোগ করার সুপারিশ করা হয়েছে এবং ভোক্তা অধিকার আইন আরও শক্তিশালী করতে সংশোধন করা হচ্ছে। বাজারে সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের থেকে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পণ্য পৌঁছানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।




৭ ব্যাংকে সালমান এফ রহমানের ঋণ ৪১ হাজার ৭৬৯ কোটি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের অন্যতম শীর্ষ ঋণখেলাপি ও বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান সাতটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৪১ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। সাবেক বিনিয়োগ উপদেষ্টা হওয়ার সুবাদে তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এ ঋণ নিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা পরিশোধ করেননি, ফলে ঋণগুলো খেলাপি হয়ে গেছে।

অনানুষ্ঠানিক সূত্র মতে, সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে জনতা ব্যাংক থেকে ২৩ হাজার কোটি, সোনালী ব্যাংকে ১ হাজার ৮৩০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংকে ১ হাজার ৪০৯ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক থেকে ৯৬৫ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও এবি ব্যাংক থেকে যথাক্রমে ২ হাজার ৯৫২ কোটি, ১১ হাজার কোটি এবং ৬০৫ কোটি টাকা ঋণ নেন তিনি।

এই ঋণ খেলাপির কারণে ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট দেখা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, জনতা ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ নেয়ার পর থেকে ব্যাংকটি সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। সালমান এফ রহমান বেক্সিমকো গ্রুপের ১৭টি কোম্পানির নাম ব্যবহার করে নানা নামে ঋণ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেফতার হন এবং বর্তমানে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।




পুঁজিবাজারে মূলধন কমেছে ২৫ হাজার ৮৪ কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের উভয় পুঁজিবাজারে বিদায়ী সপ্তাহে (২০ থেকে ২৪ অক্টোবর) প্রধান সূচকের পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই-সিএসই) মোট বাজার মূলধন কমেছে ২৫ হাজার ৮৪ কোটি টাকা।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪৩.৩৮ পয়েন্ট বা ২.৭৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৫১.২২ পয়েন্ট বা ২.৬৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৭৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০.১২ পয়েন্ট বা ২.৫৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৪৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৮ লাখ টাকা। গত সপ্তাহে বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৬৯ হাজার ১৬৬ লাখ টাকা, ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১২ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এই সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ১ হাজার ২৭২ কোটি ২ লাখ টাকার তুলনায় ৪২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫১৮.৯০ পয়েন্ট বা ৩.৫০ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৩০২ পয়েন্টে পৌঁছেছে। সিএসইর বাজার মূলধন ৬ লাখ ৯২ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৭ লাখ ৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা।




কাটছে না মাছের বাজারের অস্থিরতা, দাম বাড়তেই থাকে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীর মাছের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সব ধরনের মাছের দাম নিয়মিত বেড়ে চলেছে। ক্রেতাদের মতে, মাছের বাজারের এই পরিস্থিতি শীঘ্রই পরিবর্তিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। অন্যদিকে, বিক্রেতাদের অভিযোগ, ফিডের দাম বৃদ্ধির কারণে মাছের দাম বাড়ছে, যা কমার সম্ভাবনা নেই।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি ও লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা, কক মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির দাম আগের মতো ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় স্থির রয়েছে।

মাংসের বাজারেও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে, মাছের বাজারে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি চাষের কই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, রুই ৩৬০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা, পাঙাস ২০০ টাকা, কাঁতল ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং চিংড়ি প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী তুহিন আহমেদ বলেন, “মাছের দাম দীর্ঘদিন ধরে কমেনি। একসময়ে পাঙাস, তেলাপিয়া ও চাষের কইয়ের দাম কম ছিল, কিন্তু এখন সেগুলোর দামও বেড়ে গেছে।”

আরেক ক্রেতা শহিদুল ইসলাম জানান, “সরকারের পক্ষ থেকে মাছের বাজার মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ নেই। বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে।”

রামপুরা বাজারের মাছ বিক্রেতা বিদ্যুৎ সরকার বলেন, “মাছের খাবারের দাম বৃদ্ধির পর থেকেই বাজারে দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজার থেকে মাছ কিনতে গেলে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে বিক্রির উপর প্রভাব ফেলছে।”

এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।




মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে আইনজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ নিয়োগের সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে জনসাধারণ। বিশেষ করে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণে ভোক্তারা ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্দেশ্যে কাজ করার কথা থাকলেও, এখানে আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদের অভাব রয়েছে। এই কারণে, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছে না কমিশন।

মার্জিয়া মুমু জানান, কমিশনের বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ ও ব্যবসায়ীদের অযথা হয়রানির অভিযোগ উঠছে। আইন বিশেষজ্ঞরা কমিশনের কাঠামোর সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকেই ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ঘটছে।

কমিশন, স্বপ্রণোদিতভাবে বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পোলট্রি খামার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন না করেই। এর ফলে, জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হাইকোর্টে আপিল করেছে এবং কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পেয়েছে।

এদিকে, সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাজারে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্রিডারস এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি কাজী জাহিন হাসান জানান, বাজার বিশ্লেষণের জন্য একজন অর্থনীতিবিদ নিয়োগ দেওয়া হলে সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ এ নাসের বলেছেন, কমিশনের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আইন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ প্রয়োজন। তিনি জানিয়েছেন, বাজার গবেষণা করার জন্য কমিশনে পর্যাপ্ত জনবল নেই।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির মন্তব্য করেন, কমিশনের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিযোগিতা আইন ২০১২-এর কিছু ধারার সংস্কার করা জরুরি, অন্যথায় জনগণের আস্থা সংকটে পড়বে।




বাজারের কারসাজি ঠেকাবে ডিজিটাল বোর্ড!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বর্তমান বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যমূল্য ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনার সঠিক প্রদর্শনের জন্য নতুন একটি ডিজিটাল বোর্ড উদ্ভাবন করা হচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জেড এম দাবি করছে, এই বোর্ডের মাধ্যমে পণ্যের দাম এবং উৎপত্তির স্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা বাজারের স্বচ্ছতা বাড়াবে।

জেড এম ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ডিজিটাল বোর্ডে পাইকারি, খুচরা ও যৌক্তিক মূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম রাখার সুযোগ হারাবেন। এটি ভোক্তাদের জন্যও উপকারি হবে, কারণ তারা বাজারে এসে পণ্যের দাম সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পেতে পারবেন।

জাকির আহমেদ আরও জানিয়েছেন, একটি ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করতে মোট খরচ হবে ৩ লাখ টাকা, যা বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের মাধ্যমে পূরণ হবে, ফলে সরকারের পক্ষে কোনো খরচ হবে না।

কারওয়ানবাজার বৃহত্তর পাইকারি কাঁচাবাজার আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান চৌধুরী বলেন, এ ধরনের প্রযুক্তি বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন, যাতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয়েই উপকৃত হন।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্রে প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি জরুরি, যা বাজারে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে এবং এতে পণ্যের দাম হ্রাস পেলে মূল্যস্ফীতিও কমবে।




আধা সেদ্ধ চাল রপ্তানি থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নিল ভারত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ভারত সরকার আধা সেদ্ধ চালের রপ্তানি শুল্ক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করেছে। মূলত দেশটিতে চালের মজুত বেড়ে যাওয়ার কারণে এবং এ বছর ভালো বর্ষার পর চাল উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আধা সেদ্ধ চালের রপ্তানি শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার পর এবার পুরোপুরি প্রত্যাহার করেছে। কয়েক মাস ধরে ভারত সরকার চাল রপ্তানি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে। গত মাসে তারা বাসমতী ছাড়া অন্যান্য চালের রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল, তবে সরকার চালের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য প্রতি টন ৪৯০ ডলার নির্ধারণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে চাল রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়বে।

এর আগে, স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে আধা সেদ্ধ চালের রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত। সেবার গম ও চালের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষ করে অকালবৃষ্টির কারণে গমের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং পূর্বাঞ্চলে কম বৃষ্টির কারণে চাল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তবে সেবার ভারতে চালের মজুত কমেনি।

ভারতের চাল রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি বিভি কৃষ্ণা রাও জানান, শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আফ্রিকার ক্রেতারা ভারত থেকে চাল কেনা বাড়াবে, যাদের সাধারণত মূল্যের বিষয়ে সংবেদনশীল। সমিতির সহসভাপতি দেব গর্গ বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত নতুন মৌসুমের ফসল নিয়ে সরকারের আস্থার প্রতীক।

বর্তমানে চালের উদ্বৃত্ত মজুত তৈরি হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খরিফ (বর্ষাকালীন) মৌসুমে স্থানীয় বাজার থেকে চাল কেনার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসের প্রথমার্ধে ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য সংস্থাগুলো মজুতের অভাবে চাল কেনা অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে। এসব কারণে রপ্তানির বাধা কমিয়ে আনছে সরকার।

গত মাসে বাসমতী ছাড়া সাদা চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ভারতের চাল রপ্তানিকারকরা সন্তুষ্ট হয়েছেন। এ সিদ্ধান্তকে তাঁরা চালের বাজারের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চাল রপ্তানিকারক সংগঠন রাইস ভিলার প্রধান নির্বাহী সুরজ আগরওয়াল জানান, এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে শুধু রপ্তানিকারকদের আয় বৃদ্ধি পাবে না, বরং কৃষকদেরও উপকার হবে।

ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রপ্তানিকারক দেশ। বিশ্ববাজারের প্রায় ৪০ শতাংশ চাল রপ্তানি হয় ভারত থেকে। অন্যান্য শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। চালের প্রধান ক্রেতা দেশ হলো চীন, ফিলিপাইন ও নাইজেরিয়া। ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ভারতের কাছ থেকে প্রয়োজনের সময় চাল কেনে। অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিলে এই দেশগুলো ভারত থেকে চাল কেনে, যা বিশ্বের চালের বাজারে দামের ওঠানামার ওপর প্রভাব ফেলে।

আগে থেকেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে, ভারত চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে। আগস্ট মাসের শুরুতে ভারত সরকারের শীর্ষ গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নীতি আয়োগের সদস্য রমেশ চাঁদ জানিয়েছিলেন, এবার ধানের আবাদ বেড়েছে এবং মজুতও আছে পর্যাপ্ত, ফলে চাল রপ্তানি হলেও ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।




সিন্ডিকেট বন্ধে বিকল্প কৃষিবাজার তৈরি করবে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার দক্ষিণ বেগুনবাড়িতে টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সরকার বিকল্প কৃষিবাজার চালুর পরিকল্পনা করছে। এই বাজারের মাধ্যমে কৃষকেরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন, যা সিন্ডিকেটের প্রভাব কমাবে।

আজ সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যসচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন ও টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা ইকবাল। টিসিবির মাধ্যমে এখন ঢাকা মহানগরের ৫০টি ও চট্টগ্রাম মহানগরের ২০টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতি মাসে এক কোটি পরিবারের কার্ডধারীর মধ্যে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে আসছে। এবার সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ট্রাকে করে ভর্তুকি মূল্যে তেল, ডাল ও চাল বিক্রি করা হচ্ছে, যাতে পরিবার কার্ড না থাকা সত্ত্বেও নিম্ন আয়ের মানুষ টিসিবির ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারেন।

শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সিন্ডিকেট এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। তাই দীর্ঘমেয়াদী সিন্ডিকেট ভাঙতে সরকার সম্ভাব্য সব উপায়ে কাজ করছে। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা কমিয়ে আনাও জরুরি।

বাণিজ্যসচিব মোহাং সেলিম উদ্দিন বলেন, অতি মুনাফার উদ্দেশ্যে কেউ দাম বাড়ালে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

বর্তমানে দেশে নিত্যপণ্যের উচ্চ দামের কারণে সাধারণ মানুষ চরম কষ্টে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের স্বস্তি দিতে সরকার খোলাবাজারে কৃষিপণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

টিসিবির ট্রাক থেকে একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার ভোজ্যতেল, পাঁচ কেজি চাল ও দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। এর মধ্যে প্রতি লিটার ভোজ্যতেলের দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা, প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা ও মসুর ডাল ৬০ টাকা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে গৃহকর্মী মায়া আক্তার বলেন, “কম দামে কিছু জিনিস পেলে তো উপকার হয়। তবে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। সরকার বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমালেই বেশি উপকার হবে।”

 




বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সতর্কতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে যে, বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে গেলে বৈশ্বিক জিডিপির বড় ধরনের সংকোচন হতে পারে। এই সংকোচনের পরিমাণ ইউরোপের দুই বড় দেশ ফ্রান্স ও জার্মানির সম্মিলিত জিডিপির সমান হতে পারে।

নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার নির্বাচনে জয়লাভ করলে এই উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণায় জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর সর্বজনীন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে, যা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, “শুল্ক হলো অভিধানের সবচেয়ে সুন্দর শব্দ।” তাঁর এই মন্তব্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল এবং বাইডেন প্রশাসনও তা অব্যাহত রেখেছে।

আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গীতা গোপীনাথ জানান, ট্রাম্পের বাণিজ্য পরিকল্পনার প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হলে বা বড় পরিসরে শুল্ক আরোপ করা হলে বিশ্ব জিডিপি প্রায় ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।” এই পরিমাণ সংকোচন ফ্রান্স ও জার্মানির অর্থনীতির সমান হবে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

গীতা গোপীনাথ আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং দেশগুলোর উচিত হবে, আপৎকালের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া। সংকট এখনও শেষ হয়নি, ভবিষ্যতে আরও সংকট আসার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, “অতীতে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়েছে, তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।”