বিদেশি ঋণের স্থিতি কমেছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের বেসরকারি খাতে স্থগিতকৃত বৈদেশিক ঋণের স্থিতি কমতে শুরু করেছে। ডলার সংকট ও ঋণ শোধের বোঝা কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে ব্যাপকভাবে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এই ঋণের স্থিতি ৮৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার থেকে কমে ৬৮ কোটি ৮৫ লাখ ডলারে নেমে এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮২৬২ কোটি টাকা।

সম্প্রতি ডলারের বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। করোনাকালীন সময় ও পরবর্তী ডলার সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি, ফলে তাদের কিছু ঋণ স্থগিত করা হয়েছে। এসব ঋণের উপর বর্ধিত সুদের চাপ এবং বাজারমূল্যের বিনিময়ে ডলার কিনতে বাধ্য হওয়ার কারণে ঋণের কিস্তি পরিশোধে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সময়কালে দেশের ব্যাংকিং খাত কিছু ঋণ খেলাপির ঘটনা দেখেছে, যেখানে বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে এলসি খোলা হলেও পণ্য দেশে আসেনি, বরং সেই অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্দে উঠে এসেছে।

ডলার সংকট ও বৈদেশিক ঋণের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে আগের চেয়ে আরও বাড়তি চার্জ ও কমিশন পরিশোধ করতে হচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কমিশন পরিশোধের অংক বেড়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯১৫ কোটি টাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঋণ পরিশোধে জোর দিয়েছে এবং এর ফলে ঋণের স্থিতি কমে আসছে।




রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী গতি, অর্থনীতিতে নতুন গতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। গত অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৮৯৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, প্রথম মাস জুলাই থেকেই রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়তে থাকে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী গতির পর, অক্টোবর মাসে প্রতিদিন গড়ে ৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৭২ কোটি ডলার এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ১৫৪ কোটি ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকেও রেমিট্যান্স আসলেও কিছু ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ আসেনি।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা এসেছে এবং রিজার্ভও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার না নিয়েও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সুবিধা হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।




বছরে আয় সাড়ে ৩ লাখের কম হলে করমুক্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বাৎসরিক আয় সাড়ে ৩ লাখ টাকার নিচে হলে ব্যক্তিরা করমুক্ত থাকবেন এবং তাদের কোনো আয়কর দিতে হবে না। এই সীমার ওপরে আয় হলে ন্যূনতম আয়কর প্রযোজ্য হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান এই তথ্য জানান। রবিবার শের ই বাংলা নগরে এনবিআর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘আয়কর তথ্য-সেবা মাস’ উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়, যেখানে কর সচেতনতা বাড়ানো ও আয়কর তথ্যসেবা কার্যক্রমের ব্যাপক আয়োজনের কথা বলা হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের সরকারি কর্মকর্তা, তফসিলি ব্যাংক এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া সকল করদাতাকে অনলাইনে ই-রিটার্ন ও আয়কর দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।




দুইভাবে সুবিধা নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, করছেন পকেট ভারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বর্তমান সময়ে বিশ্ব বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম নিম্নমুখী। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরেই পণ্যের দাম কমে যাবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই দাম কমার ফলে আমদানির খরচও হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব ইতিবাচক পরিবর্তনের পরও বাজারে পণ্যের দাম কমার পরিবর্তে বেড়ে চলেছে। ফলে দুভাবে ব্যবসায়ীদের পকেট ভারি হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মধ্যে খাদ্যপণ্যের দাম আরও ৯ শতাংশ কমবে। জ্বালানি তেলের দাম কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারে আসবে। কিন্তু দেশে যেসব ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হয়, তার প্রায় সবগুলোর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে। যদিও এর প্রতিফলন দেশের বাজারে ঘটছে না।

উদাহরণ হিসেবে, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমেছে ৫.৫২ শতাংশ, কিন্তু দেশে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে ১৬০ টাকা প্রতি লিটার হয়েছে। একইভাবে, পাম অয়েলের দামও বেড়েছে ১৫০ টাকা প্রতি লিটারে। দেশের খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিলাররা সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে।

চালের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কমলেও দেশের বাজারে দাম বেড়েছে। বর্তমানে মোটা জাতের চালের দাম প্রতি কেজিতে ৫২-৫৬ টাকা। একইভাবে, আটা এবং চিনির দামও বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গম ও মুরগির মাংসের দাম কমলেও দেশে দাম বেড়েছে।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের এই পকেট ভারির কারণে ভোক্তাদের জন্য জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও, ব্যবসায়ীদের কারণে দেশের বাজারে দাম কমছে না, বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি ভোক্তাদের জন্য একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।




গণহত্যায় জড়িত ও মদদদাতাদের বিচারে কৌশলপত্র প্রণয়ন করবে অর্থনীতি সমিতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি গণহত্যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এবং মদদদাতা রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য একটি কৌশলপত্র প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি ড. আজিজুর রহমান।

তিনি জানান, অর্থনীতি সমিতির গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সংগঠনটির নেতারা সচেষ্ট রয়েছেন। এ সময় তিনি ‘ড. কাজী খলীকুজ্জমান-অধ্যাপক আইনুল’ কমিটিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা অভিযোগ করেন, ড. কাজী খলীকুজ্জামান, আবুল বারকাত, আইনুল ইসলাম ও জামাল উদ্দীন সিন্ডিকেট ঐতিহ্যবাহী এই সমিতিকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনে পরিণত করেছে।

নেতারা আরও বলেন, সমিতির ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ধ্বংসের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। তারা পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার উপায় এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে জাতীয় ভিত্তিক কর্মকৌশল নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানান। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনকে কালো টাকার প্রভাব মুক্ত রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

গত ১ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আজিজুর রহমানকে সভাপতি করে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব সৈয়দ মাহবুব ই জামিল।

এডহক কমিটি জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির জরুরি সভায় গত মে মাসে অনুষ্ঠিত একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ২৯ সদস্যবিশিষ্ট এডহক কমিটি ২০২৪ গঠন করা হয়।




অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মধ্যেই ভালোর দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার: রিজওয়ানা হাসান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, চ্যালেঞ্জের মধ্যে থেকেও অন্তর্বর্তী সরকার দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে সাংবাদিক এহসান মাহমুদের বইয়ের পাঠ আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা গত তিন মাস ধরে অর্থনৈতিকভাবে সততার সঙ্গে কাজ করছেন, যা বিগত সরকারের সময় দেখা যায়নি। তবে ঋণ এবং পাওনা পরিশোধের জন্য নতুনভাবে অর্থের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে, যা একটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।”

তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়ায় নতুন পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে কিছুটা মানসিক দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা রয়েছে, এবং বিপুল আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বিগত সরকারের নেতিবাচক এনার্জি আমাদেরও বিভ্রান্ত করে।”

অনুষ্ঠানে প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহারাব হোসেন মন্তব্য করেন, “বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংস্কৃতির শিকার। যারা ক্ষমতায় থাকে তারা যেন দখলদার হয়ে ওঠে। এটি দূর করতে পারলে দেশের বৈষম্য কমবে।”

সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, “অন্দোলনকারীরা যদি দাবি করে, তাহলে পূর্ববর্তী সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না। ভিন্ন মতের চর্চা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সমঝোতা প্রয়োজন, যাতে অস্থিরতা তৈরি না হয় এবং স্বৈরাচারের মিত্ররা আবার ফিরে আসতে না পারে।”

 




টানা পাঁচ বছর পর সচল হচ্ছে আমদানি বাণিজ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দীর্ঘ পাঁচ বছরের স্থবিরতার পর দেশের আমদানি বাণিজ্য আবার সচল হওয়ার পথে রয়েছে। ২০২০ সালে করোনার সংক্রমণ, বৈশ্বিক মন্দা, দেশের ডলার সংকট এবং অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আমদানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। তবে সম্প্রতি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

এখন দেখা যাচ্ছে, আড়াই বছর ধরে চলা ডলার সংকট ক্রমশ কেটে যাচ্ছে, এবং বৈদেশিক ঋণের স্থিতি কমতে শুরু করেছে। ফলে ঋণ পরিশোধের চাপও কমছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির দিকে ইঙ্গিত করে।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং আগামী বছরে তা আরও কমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের দামও কমে প্রতি ব্যারেল ৭৩ ডলারে নেমে আসতে পারে। এর ফলে আশা করা হচ্ছে, আমদানি বাণিজ্য আগামীতে বাড়বে।

গত পাঁচ বছরে আমদানি কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতার কারণ ছিল করোনার সংক্রমণ ও বৈশ্বিক লকডাউন। এরপর ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর তা আরও বেড়ে যায়।

ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বপ্রথম অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বাদে অন্যান্য পণ্যে ২৫% এলসি মার্জিন আরোপ করে। পরে তা বৃদ্ধি করে শতভাগ মার্জিন আরোপ করা হয়। এর ফলে আমদানিনির্ভর শিল্পগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।

২০১৮ সাল থেকে দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়েছিল, যা করোনার কারণে আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ২০২০-২১ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়ে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ডলারে পৌঁছে যায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮ হাজার ২৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

এখন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এলসি মার্জিন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই অবস্থার কারণে ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কম দামে এখন বেশি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে, যা আমদানিনির্ভর শিল্পগুলোর উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।




১৭ ব্যক্তির অর্থ পাচার অনুসন্ধানে সিআইডি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। পাচারকারীর তালিকায় রয়েছেন হেভিওয়েট রাজনীতিক ও আওয়ামীঘেঁষা ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতিবছর ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার অর্থ পাচার হচ্ছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারের পতনের পর বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। বর্তমানে সিআইডি ১৭ ব্যক্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাচারের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি পাঠিয়েছে ব্যাংক হিসাবের তথ্যের জন্য। সিআইডি প্রধান মো. মতিউর রহমান শেখ জানিয়েছেন, অনুসন্ধান মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডির অনুসন্ধানের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, এস আলম গ্রুপের মো. সাইফুল আলম, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, এবং অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার সংকট, অর্থনৈতিক সংকট এবং মূল্যস্ফীতি সহ নানা কারণে দেশে অর্থ পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। সিআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আলু-পেঁয়াজ ও চালের বাজারে উত্তাপ, সবজিতে কিছুটা স্বস্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: দেশের বাজারে আলু, পেঁয়াজ ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম ১০ টাকা বেড়ে ৭০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, আর পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মজুদদারদের কারসাজির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। তারা জানান, সরকার নয়, বরং অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

বাজারে স্থিতিশীলতা যেন একটি অলীক স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে আলু এবং পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি ক্রেতাদের জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে। এক ভোক্তা জানিয়েছেন, “আগে যেখানে দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতাম, এখন সেখানে এক কেজি কিনতে হচ্ছে।” বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সংকটের কারণে তারা বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সকল প্রকার চালের দামও বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেটকে দায়ী করে জানান, মিল মালিকদের কারসাজির কারণে এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে, শীতকালীন সবজির যোগান কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। কিছু সবজির দাম কমেছে এবং ডিম ও মুরগির দামও নিম্নমুখী হয়েছে। বিশেষ করে আদা, হলুদ এবং শুকনো মরিচের দামও কমেছে।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ভোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। সরকারের উচিত বাজারের নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাতে সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকে।




চাল আমদানিতে শুল্ক পুরোপুরি তুলে নিল সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সরকার দেশের বাজারে চালের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকার চাল আমদানির ওপর বিদ্যমান সকল শুল্ক এবং রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। ফলে, দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ভোক্তা সাধারণের জন্য চাল সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চালের ওপর ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এখন মোট শুল্ক-কর মাত্র ২ শতাংশ (অগ্রিম আয়কর) রাখা হয়েছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

এই সিদ্ধান্তের ফলে, কৃষকদের উৎপাদিত চাল বাজারে আসার সুযোগ পাবে এবং বাজারে চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। এনবিআরের পরিচালক সৈয়দ এ মু’মেন ঢাকা পোস্টকে জানান, “সরবরাহ বৃদ্ধি করে ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং চালের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ের সীমার মধ্যে রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চালের ওপর সমুদয় আমদানি শুল্ক এবং রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে।”

সরকারের এই উদ্যোগের প্রেক্ষিতে, ২০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনে আগে চালের ওপর বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ এবং রেগুলেটরি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছিল। এরপর, শুক্রবারের ঘোষণার মাধ্যমে সরকার সমগ্র আমদানিতে শুল্ক ও কর তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তা বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতা রক্ষা করবে এবং চালের দাম ক্রেতাদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। এটি দেশের কৃষি খাতকেও শক্তিশালী করবে এবং কৃষকদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করবে।

সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজারে চালের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে, ভোক্তা পর্যায়ে চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চালের সুলভতা নিশ্চিত হবে।