প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ, তবু রাজস্বে ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস অতিক্রম করলেও রাজস্ব সংগ্রহে লক্ষ্য অর্জন হয়নি, বরং ঘাটতি আরও গভীর হয়েছে। প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ স্পর্শ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় গতি ফিরলেও আদায়ে চাপ থেকে গেছে। পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ সময়ে লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা পুরো রাজস্ব ব্যবস্থাকে উদ্বেগে ফেলেছে।

প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশের বেশি হলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদদের অনেকেই আয়করের দুর্বলতা, আমদানি কমে যাওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা প্রবাহকে দায়ী করছেন। এনবিআরের পরিসংখ্যান বলছে—রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় অংশ বা স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে এসেছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, তবে তা লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক খাত থেকে আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর মিলিয়ে এসেছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। কিন্তু ভ্যাট খাতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ঘাটতি বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, বিপরীতে ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। আমদানি খাতেও পিছিয়ে পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকার লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে তার চেয়ে অনেক কম, ফলে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। মূসক খাতেও ঘাটতি কম নয়—৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন—ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাব, আমদানি হ্রাস, আয়করে স্থবিরতা এবং জটিলতা—এসব কারণে রাজস্ব আদায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শুধু নভেম্বর মাসের হিসেবেই দেখা যায়, লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, আর আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা, যার ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ৯ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি ৬৫ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেটের এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে রয়েছে। প্রবৃদ্ধি থাকলেও ঘাটতির চিত্র উদ্বেগজনক। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার বিস্তার না হলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সরকার রাজস্ব ঘাটতি কমাতে কর আহরণ জোরদার, কর ফাঁকি রোধ, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সক্রিয় করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলো কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাজারদর, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, শুল্কনীতি এবং ব্যবসায়ী শ্রেণির অংশগ্রহণের ওপর। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই ঘাটতি কমাতে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




হাদী হত্যা: মূল অভিযুক্ত মাসুদের অস্বাভাবিক লেনদেনে নজরদারি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে—মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ১২৭ কোটির বেশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২১৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক রেকর্ড ও লেনদেনের চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী সিআইডি পৃথকভাবে অর্থপাচারের অনুসন্ধান শুরু করেছে, যা ঘটনাটিকে শুধু হত্যাকাণ্ড নয় বরং বড় ধরনের অপরাধচক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয়।

গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শরীফ ওসমান বিন হাদী। ঘটনার পরপরই সিআইডি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং তদন্তকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সিসিটিভি ফুটেজ, গুলির খোসা, ফরেনসিক নমুনা, নথি ও প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। হত্যার পেছনে পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও অস্ত্রব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে।

তদন্তে অগ্রগতির অংশ হিসেবে গ্রেফতার অভিযানের সময় একাধিক ব্যাংকের চেকবই উদ্ধার করা হয়, যেখানে কোটি কোটি টাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। যদিও কিছু লেনদেন সম্পন্ন হয়নি, তথাপি রেকর্ড অনুযায়ী এগুলোর পরিমাণ প্রায় ২১৮ কোটি টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সিআইডি জানিয়েছে।

মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এখনো পলাতক থাকলেও তার পরিবারের সদস্যসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে—আলামত ধ্বংস ও পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে। গোয়েন্দারা মনে করছে, এ ঘটনায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা তদন্তাধীন।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। একজন সম্ভাব্য জনপ্রতিনিধিকে প্রকাশ্যে হত্যা এবং তার সাথে বিপুল আর্থিক লেনদেনের সংশ্লিষ্টতা—রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নির্বাচনী পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার ওপর বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। অনুসন্ধানে সিআইডি জানিয়েছে—ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট চক্রের পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও অর্থের উৎস উদ্ঘাটনে বহুমুখী টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা হত্যার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অপরাধী যত প্রভাবশালী হোক—গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করা হবে। সন্ত্রাসী কার্যক্রম, মানিলন্ডারিং এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২৭ বিমা কোম্পানির নিরীক্ষকের মতামতে বিএসইসির উদ্বেগ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তালিকাভুক্ত ২৭টি বিমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা। কোথাও প্রতিকূল মতামত, কোথাও শর্তযুক্ত মতামত, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিরীক্ষকদের এ ধরনের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে যদি ‘গোয়িং কনসার্ন’ বা ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ থাকে, তবে সেটি পুঁজিবাজারের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। এসব কারণেই বিমা খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আইডিআরএর চেয়ারম্যান বরাবর বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে আসা পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড, জনতা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোথাও আর্থিক তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে, কোথাও আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিরীক্ষকরা বিশেষ কোনো বিষয়ে আলাদা করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছেন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ব্যবসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় একত্রে বিমা খাতের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের ওপর প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ ধরনের প্রতিকূল বা শর্তযুক্ত মতামত বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বিমা খাতে আর্থিক সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কমিশন।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের মতামতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইডিআরএকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন মনে করেন, আর্থিক খাত সংস্কারের আলোচনায় বিমা খাত অনেকটাই উপেক্ষিত। দাবি পরিশোধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। তার মতে, ফরেনসিক নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে দ্রুত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাদী হামলা, মাসুদের হিসাব জব্দ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। একই সঙ্গে তার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’-এর ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় আনা হয়েছে।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্দেহভাজনের আর্থিক লেনদেন, আয়-ব্যয়ের উৎস এবং সম্ভাব্য অপরাধ সংশ্লিষ্ট অর্থের গতিপথ যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না।

ফয়সাল করিম মাসুদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তার মালিকানাধীন ‘অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড’ ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট ও সফটওয়্যার সল্যুশন নিয়ে কাজ করা এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সদস্য হিসেবেও তালিকাভুক্ত। এছাড়া ২০১৬ সালে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের পৃষ্ঠপোষকতা এবং বেসিসের সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কম্পিউটার গেম ‘ব্যাটল অব ৭১’ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াইসিইউ টেকনোলজি লিমিটেডের মালিকও ছিলেন তিনি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হাদীর ওপর হামলার ঘটনার পরপরই ফয়সাল করিমের নাম সামনে আসে। বিভিন্ন স্থানে ওসমান হাদীর সঙ্গে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির সঙ্গে হামলাকারীর চেহারার সাদৃশ্য পাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারণা করছে, ঘটনার আগে কিছুদিন ধরে হাদীর চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে। ফয়সাল করিম মাসুদ একসময় কার্যক্রমনিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ১১ মে ঘোষিত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে গঠিত আসনভিত্তিক সমন্বয়ক কমিটিতেও তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি এখনো চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

এই ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী হামলাকারীকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার কথা জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন। ওই মামলায় র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করে। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। জামিনে থাকা অবস্থাতেই এবার ওসমান হাদীর ওপর হামলার ঘটনায় তার নাম উঠে এলো।

এনবিআর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, আর্থিক হিসাব জব্দের মাধ্যমে হামলার পেছনের অর্থনৈতিক যোগসূত্র, পরিকল্পনা ও সহযোগীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বন্ধ কারখানা, লাফানো শেয়ারদর

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ, চার বছর ধরে আর্থিক প্রতিবেদন অনুপস্থিত—এমন অনিশ্চিত বাস্তবতার মধ্যেও শেয়ারবাজারে চমক দেখিয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল মাত্র ১ টাকা ৪০ পয়সা। এরপর ধীরে ধীরে দর বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ এক মাসের কম সময়ে শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২১ গুণ।

অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডিএসইর কর্মকর্তারা ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে রিজেন্ট টেক্সটাইলের কারখানায় কোনো উৎপাদন কার্যক্রম খুঁজে পাননি। স্টক এক্সচেঞ্জের প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানিটির কারখানা ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী কোনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে রিজেন্ট টেক্সটাইল এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করাও কোম্পানিটিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিজেন্ট টেক্সটাইল। এরপর চার বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো আর্থিক তথ্য বিনিয়োগকারীদের সামনে আসেনি। ফলে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থা, দায়-দেনা কিংবা ব্যবসায়িক সক্ষমতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীরা অন্ধকারেই রয়েছেন।

সর্বশেষ প্রকাশিত ২০২০-২১ অর্থবছরের আর্থিক তথ্যে দেখা যায়, ওই বছরে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরে আয় ছিল ৮৬ কোটি টাকা। তবে আয় বাড়লেও লোকসানের বোঝা আরও ভারী হয়। ওই অর্থবছরে কর পরবর্তী নিট লোকসান দাঁড়ায় ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি, যেখানে আগের অর্থবছরে লোকসান ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা।

একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়ায় ১ টাকা ৬২ পয়সায়, আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩১ পয়সা। ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) হিসাব করা হয়েছিল ২৬ টাকা ৫২ পয়সা। তবে ওই অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি রিজেন্ট টেক্সটাইল কর্তৃপক্ষ। আগের অর্থবছরে মাত্র ১ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ, আর্থিক প্রতিবেদন অনুপস্থিত এবং ধারাবাহিক লোকসানের পরও এমন দর বৃদ্ধি স্বাভাবিক নয়। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেনের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্রিয় নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইইউতে কমলো, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়লো পোশাক রপ্তানি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নতুন বা অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের পোশাক খাত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৩ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৬১১ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরে ব্যবধানে সামগ্রিকভাবে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হলেও সেখানে রপ্তানিতে সামান্য ভাটা পড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৮৩ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ৭৯১ কোটি ডলার। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। আলোচ্য পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৮৪ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ডলার। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এদিকে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোতে পোশাক রপ্তানি কমেছে। এই বাজারের আওতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এসব নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৬৭ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ২৭৫ কোটি ডলার। ফলে নতুন বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

ইপিবির সার্বিক পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩ কোটি মার্কিন ডলারে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ৯৯১ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন এবং বাজারভেদে নীতিগত পার্থক্যের কারণে রপ্তানিতে এই বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধি পোশাক খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে দেশের ভেতর ও বাইরে

দেশের ভেতরে এবং বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে লেনদেনের হার উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের নাগরিকরা বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট খরচ করেছিলেন ৪৪৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৪ কোটি ২ লাখ টাকা, অর্থাৎ এক মাসে লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ১ লাখ টাকা

বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্থান, যেখানে খরচ হয়েছে ৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা। এরপরের অবস্থানগুলো হলো:

  • থাইল্যান্ড: ৫৯ কোটি ৯ লাখ টাকা
  • যুক্তরাজ্য: ৫৪ কোটি ১ লাখ টাকা
  • সিঙ্গাপুর: ৪০ কোটি ৪ লাখ টাকা
  • মালয়েশিয়া: ৩৪ কোটি টাকা
  • ভারত: ৩২ কোটি ৩ লাখ টাকা
  • নেদারল্যান্ডস: ২৫ কোটি টাকা
  • সৌদি আরব: ২৪ কোটি টাকা
  • কানাডা: ২১ কোটি টাকা
  • অস্ট্রেলিয়া: ১৭ কোটি টাকা
  • আয়ারল্যান্ড: ১৬ কোটি টাকা
  • চীন: ১৫ কোটি টাকা
  • অন্যান্য দেশ: ৯২ কোটি টাকা

বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে খরচ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কত খরচ করেছেন তাও জানা গেছে। আগস্টে বিদেশিরা খরচ করেছিলেন ১৮৩ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা সেপ্টেম্বরে সামান্য কমে দাঁড়ায় ১৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে খরচ কমেছে ৮ কোটি টাকা

বিদেশিদের মধ্যে সর্বাধিক খরচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা (৩৮ কোটি ৬ লাখ টাকা), এরপর যুক্তরাজ্য (১৭ কোটি টাকা) এবং ভারত (১৭ কোটি টাকা)

দেশের অভ্যন্তরে লেনদেনের অবস্থা

দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে লেনদেন ছিল ৩,১৪৪ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৩৯৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ এক মাসে লেনদেন বৃদ্ধি পায় ২৫১ কোটি টাকা

বাংলাদেশে এবং বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক চিত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেয়ারবাজারে ফের দরপতন, লেনদেনে সীমিত উত্থান

এক কার্যদিবসের স্বল্প উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর দেশের শেয়ারবাজারে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ফের দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ায় সবকটি সূচকই পতনের মুখে। তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও সূচক কিছুটা বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনের লেনদেনের চিত্র

সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ডিএসইতে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল। তবে তৃতীয় কার্যদিবসে সূচক কিছুটা বেড়ে গেলে দিনের শুরুতে লেনদেন কিছুটা ইতিবাচক মনে হচ্ছিল। দিনের শেষ পর্যন্ত ভালো ও মন্দ সব খাতের শেয়ারের দরপতনের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম কমে যায়।

দিনশেষে ডিএসইতে ৯৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ২৩৬টির দাম কমেছে, আর ৬৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

লভ্যাংশভিত্তিক শেয়ারের চিত্র

  • উচ্চ লভ্যাংশ (১০% বা তার বেশি): ৪১টির দাম বেড়েছে, ১৪০টির দাম কমেছে, ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত।
  • মাঝারি লভ্যাংশ (১০% এর কম): ২৩টির দাম বেড়েছে, ৫১টির দাম কমেছে, ৬টির দাম অপরিবর্তিত।
  • জেড গ্রুপ (লভ্যাংশ নেই): ৩১টির দাম বেড়েছে, ৪৫টির দাম কমেছে, ২০টির দাম অপরিবর্তিত।
  • মিউচুয়াল ফান্ড (৩৫টি): ৮টির দাম বেড়েছে, ১০টির কমেছে, ১৭টির অপরিবর্তিত।

সূচকের চূড়ান্ত অবস্থা

  • ডিএসইএক্স সূচক: ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৯২৭।
  • ডিএসই শরিয়াহ সূচক: ৪ পয়েন্ট কমে ১,০৩৪।
  • ডিএসই–৩০ সূচক: ৭ পয়েন্ট কমে ১,৮৯৮।

লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪০৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আগের দিনের ৩৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকার তুলনায় ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বৃদ্ধি হয়েছে।

শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান

  • সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ: ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা
  • খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ: ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা
  • লাভেলো আইসক্রিম: ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা

শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, মুন্নু ফেব্রিক্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, একমি পেস্টিসাইজ ও সায়হাম কটন।

সিএসই চিত্র

সিএসইতে লেনদেন করা ১৮১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৩টির দাম বেড়েছে, ৭৯টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক CASPI ১০ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণ হয়েছে ১৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বর্ণের ভরিতে আবারো দাম বৃদ্ধি

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হলো স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হবে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে—বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকায়, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

স্বর্ণের বাজারে এ পরিবর্তন এলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ভরিপ্রতি ২ হাজার ৬০১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ভরিপ্রতি ২ হাজার ৪০৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ায় বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং ডলারের চাপ স্বর্ণের দামে ওঠানামা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারেও।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় অবৈধ হাঙর শিকারের অদৃশ্য অর্থনীতি

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লেম্বুর চরে অবৈধ হাঙর শিকার ও শুঁটকি তৈরির চিত্র নজরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, ভোরের আলো ফোটার আগেই ছোট ট্রলারে ধরা হাঙরগুলো লেম্বুরচরের বাঁশের মাচায় শুকানো হয়। নিষিদ্ধ হাঙরগুলোকে ‘গোছা’ নামে পরিচিত করে চট্টগ্রামে পাইকারদের কাছে পাঠানো হয়।

জেলেরা শিকারকৃত হাঙর ধরার বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেন না। একজন জেলে বলেন, “সাগর যা দেয়, তাই তো আনতে হয়। না আনলে পরিবার চলবে কেমনে।” ধরা হাঙরের পাখনা, পেট ইত্যাদি ছুরি দিয়ে আলাদা করে মাচায় রাখা হয়, শুঁটকি প্রস্তুতির জন্য।

স্থানীয় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, লেম্বুরচরের বিভিন্ন মাচায় দিনে হাজারের বেশি হাঙর শুকানো হয়। চারজন শ্রমিক পলিথিনে ভরে পাইকারদের কাছে পাঠান। এছাড়া ‘কালো হাঙর’ নামের হাঙরও রাখা হয় চট্টগ্রামে বিক্রির জন্য।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী হাঙর ধরা নিষিদ্ধ। ২০১২ সালে ১৮ প্রজাতি, পরে ২০২১ সালে আরও ১০ প্রজাতি এই তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে উচ্চ চাহিদার কারণে অবৈধ বাণিজ্য চলমান। বড় বাজার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চল, পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা রয়েছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কিছু হাঙর প্রজাতি বছরে ৭-১৫টি বাচ্চা দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক হতে ৩-৪ বছর লাগে। অতিরিক্ত শিকারে প্রজাতি টিকে থাকা কঠিন। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত কমছে।

বরিশাল বিভাগীয় বন্যপ্রাণী কর্মকর্তা মিহির কুমার দো জানান, জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক চাহিদা থাকায় শিকার ঠেকানো কঠিন। বনবিভাগ, কোস্টগার্ড, কাস্টমস ও মৎস্য বিভাগ মিলিয়ে ‘ইন্টিগ্রেটেড মেরিন ওয়াইল্ড লাইফ ক্রাইম টাস্কফোর্স’ গঠন এবং বিকল্প জীবিকা—যেমন কাঁকড়া চাষ ও ইকো ট্যুরিজম—প্রয়োজন।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক জানিয়েছেন, তিনি নিজে লেম্বুরচরে গিয়ে হাঙর শিকারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫