ঘরে বসে আয়কর রিটার্ন জমা যেভাবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সকল সরকারি কর্মচারীর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি দেশের প্রত্যেক আয়করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ায় উদ্বুদ্ধ করছে সরকার।

এনবিআর গত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বিষয়টিকে উৎসাহ দিয়ে আসছে। ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের রিটার্ন জমা ও কর পরিপালন সহজ করতে এনবিআর গত ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন রিটার্ন দাখিল সিস্টেম উন্মুক্ত করে।

এনবিআর বলছে, ঝামেলা এড়াতে একজন করদাতাকে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোন কাগজ জমা দিতে হবে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা সহজে নিজের রিটার্ন তৈরি করে অনলাইনে জমা দিতে পারছেন। এর জন্য প্রথমেই ই-রিটার্নের জন্য সাইটটিতে গিয়ে নিবন্ধন করে নিতে হবে।

সেজন্য করদাতার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত কি না, তা আগে যাচাই করে নিতে হবে। যাচাই করার জন্য ১৬০০১ নম্বরে ডায়াল করতে হবে।

নিজের নামে বায়োমেট্রিক করা থাকলে তার কোনো অসুবিধা হবে না।

আয়ের ও সম্পদের বিপরীতে কত টাকা কর আসবে তার কোনো হিসাবও নিজের করতে হবে না। সেটি স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে হিসেব করা হয়ে যাবে।

এর জন্য আগের বছরের ১ জুলাই থেকে পরের বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত (অর্থবছর) সময়ের ব্যাংক হিসাবের স্থিতি, সুদের তথ্য ও ব্যাংক হিসাবের নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। কোনো প্রমাণ বা কাগজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।

এ সিস্টেম থেকে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট (ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করদাতারা কর পরিশোধ করতে পারবেন।

জমা দেওয়া রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, টিআইএন সনদ ডাউনলোড ও প্রিন্টের সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া আগের বছরের জমা তেওয়া ই-রিটার্ন ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যাচ্ছে।

ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোন সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা দিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি সার্ভিস সেন্টার তৈরি করেছে। সেখানে ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে অফিস চলাকালীন ফোন করলে করদাতাদের ই-রিটার্ন সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক সমাধানও দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd এর eTax Service অপশন থেকে করদাতারা ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা লিখিতভাবে জানালেও তার সমাধানও মিলছে।




অনাড়ম্বর আয়োজনে বরিশালে ডিএইচএল অফিস উদ্বোধন

জার্মানভিত্তিক লজিস্টিক কোম্পানি ‘ডিএইচএল’ সম্প্রতি বরিশালে তাদের নতুন শাখার উদ্বোধন করেছে। কুরিয়ার, প্যাকেজ ডেলিভারি এবং এক্সপ্রেস মেইল সেবা প্রদান করে কোম্পানিটি দক্ষিণাঞ্চলে তার কার্যক্রম প্রসারিত করছে। গত রোববার (১০ নভেম্বর) বাদ আসর শহরের নবগ্রাম রোডের হাতেম আলী কলেজ সংলগ্ন স্থানে সাদামাটা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির নতুন অফিস উদ্বোধন করা হয়।

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ। এ ছাড়া এটিএন নিউজের বরিশাল ব্যুরো প্রধান হুমায়ন কবির উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বরিশাল শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন, তাদের মধ্যে সুশীল সমাজ, সাংবাদিক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিক্ষাবিদরা ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল অঞ্চলের কর্ণধার, দেশ জনপদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মির্জা রিমন জানিয়েছেন, ‘ডিএইচএল’ এতদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর এবং জেলা শহরগুলোতে তাদের সেবা প্রদান করলেও দক্ষিণাঞ্চলে এর কার্যক্রম তেমন গতিশীল ছিল না। যার ফলে, বরিশালের মানুষ বিদেশ থেকে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে এখন থেকে ‘ডিএইচএল’ বরিশালের মানুষের এই প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে, এমনটাই জানিয়েছেন মির্জা রিমন।

ডিএইচএল-এর বরিশাল শাখা উদ্বোধন হওয়ায় খুশির খবর হচ্ছে, এখন থেকে বিদেশ থেকে কোনো পণ্য পাঠানো হলে তা স্বল্প সময়ে দেশে পৌঁছাতে পারবে এবং এতে ভোগান্তির সুযোগ থাকছে না। বরিশালবাসী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা বলে জানিয়েছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগান্তর পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো অফিসের স্টাফ রিপোর্টার ও দেশ জনপদ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এসএন পলাশ, রূপালী বাংলাদেশ পত্রিকার বরিশাল ব্যুরোপ্রধান ও বরিশালটাইমস পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, অধ্যাপক আরিফুর রহমান, বরিশাল মডেল স্কুল ও কলেজের প্রভাষক মামুন, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন বরিশালের সাধারণ সম্পাদক অ্যালবার্ট বল্লভ রিপন, দেশ জনপদ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সজীব, বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক শাহিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তুহিন এবং স্পেন প্রবাসী শামীম রেজা সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১ জানুয়ারি থেকে স্মার্ট কার্ডেই মিলবে টিসিবির পণ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য দেয়া হবে। হাতে লেখা কার্ডে আর পণ্য দেয়া হবে না।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ে রমজান উপলক্ষে আগাম প্রস্তুতি বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, ‘রমজান উপলক্ষে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, সেসবেরও প্রস্তুতি নেয়া শেষ। রমজানে পণ্যের কোনো সংকট হবে না।’

‘তেল, ডাল, চিনির পাশাপাশি খেজুর ও ছোলা ঢাকা ও অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় দেয়া হবে। ছোলা ও খেজুরের জন্য এরইমধ্যে চুক্তি হয়ে গেছে। জানুয়ারির ভেতর পণ্য টিসিবির গুদামে চলে আসবে’, যোগ করেন টিসিবির মুখপাত্র।

হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘একটি পরিবার থেকে যেন এক ব্যক্তির বেশি না পায়। এজন্য স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড করা হচ্ছে। ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন ডিলার নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে ডিলারের প্রয়োজন হলে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে বিঘ্ন হচ্ছে না। তবে মনিটরিংটা ঠিকমতো হচ্ছে না। ভোক্তার কাছে সঠিকভাবে যেতে যে সহযোগিতা দরকার, সেটাতে কমতি রয়েছে।’

বর্তমানে স্থানীয় প্রতিনিধিরা নিজ নজ এলাকায় না থাকায় পণ্য সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ডিসি অফিস ও সিটি করপোরেশনে চিঠি দেয়া হয়েছে বলেও জানান টিসিবির মুখপাত্র।

তিনি বলেন, ‘বণ্টন ও মনিটরিংয়ের জন্য স্থানীয় প্রশাসন দায়বদ্ধ থাকে। তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সভার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রিজার্ভে উন্নতি

জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে প্রবাসী রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই আন্দোলন চলাকালে প্রবাসীরা ঘোষণা করেছিলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা রেমিট্যান্স পাঠাবেন না। গত ৫ আগস্ট, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা ছেড়ে ভারতের উদ্দেশে চলে যান এবং তিন দিন পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন। এর পরই প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে মুখ খুলেন।

এই সময়ে, আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৭০২ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন থামানো সম্ভব হয়েছে এবং এটি ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ৬ নভেম্বর রিজার্ভ ২৫.৭৩ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছিল। আগের বছর একই সময়ের তুলনায়, রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে।

সেখানে, দেশের শীর্ষ পাঁচ ব্যাংকের ব্যাংকারদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে রিজার্ভের পতন রোধ হয়ে দেশীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অক্টোবর মাসে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিমাণ অর্থ দেশে আসার ফলে, দেশের রিজার্ভের অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংকিং খাতেও, যেখানে ইসলামী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় সংগ্রহ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, রিজার্ভের পতন রোধ করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘অর্থপাচার রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং রিজার্ভ বাড়ানোর দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’

অর্থনীতি এবং রিজার্ভের এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের জন্য একটি আশার প্রতীক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রমজানে টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করবে ছোলা, খেজুরসহ ৯টি পণ্য

রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এই উদ্দেশ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে ৯টি পণ্য বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

শনিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টিসিবির আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, রমজানে নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের উৎপাদকদের সরাসরি পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা যুক্ত করা।

টিসিবি জানিয়েছে, রমজান উপলক্ষে ছোলা, খেজুরসহ রাজধানী ও অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং জানুয়ারির মধ্যে পণ্য টিসিবির গুদামে চলে আসবে।

হুমায়ুন কবির আরও জানান, পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো সংকট হবে না এবং এসব পণ্য সহজলভ্য থাকবে। তিনি বলেন, “তেল, ডাল, চিনি, খেজুর ও ছোলা ঢাকা এবং অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকায় দেওয়া হবে।”

এছাড়া, টিসিবি বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছে, যাতে পণ্য পেতে ক্রেতারা কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নেপাল ভারত থেকে বাংলাদেশের জন্য ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে

নেপাল ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার অনুমতি চেয়েছে। কারণ, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপালকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। ভারত নেপালের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিগগিরই অনুমতি প্রদান করবে, এমন আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি।

নেপালের জ্বালানি ও পানিসম্পদমন্ত্রী দীপক খাড়কা ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সফর করেন। সফরের সময় তিনি ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার এবং পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে তারা জ্বালানি, পানিসম্পদ এবং সেচ সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দীপক খাড়কা জানিয়েছেন, ভারত সফর শেষে নেপালে ফিরে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতীয় ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। নেপাল গত ১৫ জুলাই থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের জন্য এই অনুমতি পেয়েছে। তবে, নেপালের পক্ষে ভারতের সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় পক্ষ নেপালের অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং শিগগিরই অনুমতি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ৩ অক্টোবর কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারতের মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) এবং ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এর প্রতিনিধিরাও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৬০ শতাংশ কমালো আদানি

চন্দ্রদ্বীপ আন্তজার্তিক  :: গত মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয় ভারতের আদানি গ্রুপ। নভেম্বরে এসে সরবরাহ আরও ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে তারা।

সবমিলিয়ে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ কমালো বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গ্রুপটি।
বাংলাদেশের গ্রিড অপারেটর এবং এই পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের তথ্য অনুসারে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ডাটা থেকেও জানা গেছে এই তথ্য।

বকেয়া ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আদায়ের চেষ্টায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে আদানি গ্রুপ – এমনটাই বলা হচ্ছে।

শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করে আদানি।

গত আগস্ট মাসেও এই কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে।

কিন্তু অক্টোবরের শেষ দিকে এটি ৭০০ থেকে ৭৫০ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনে তারা।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশে মাত্র ৫২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তারা।

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে বকেয়া পরিশোধ করছি এবং কেউ সরবরাহ বন্ধ করলে বিকল্প ব্যবস্থা নেব। আমরা কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীকে আমাদের জিম্মি করতে দেব না। ’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, দ্রুত বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বরের বকেয়া সময়সীমা প্রত্যাহার করে আদানি। তা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমা অব্যাহত রয়েছে।

রয়টার্সকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কমিয়ে দেওয়া ও বকেয়া আদায়ের বিবরণের বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি আদানি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।

তবে আদানির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের চাহিদা এবং একইসঙ্গে বকেয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।




শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও বাজারে দাম চড়া, ক্রেতারা বিপাকে

বাজারে সিম, ফুলকপি, বাধাকপিসহ বিভিন্ন মৌসুমী সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষ করে সিম, করলা, বেগুনের মতো কিছু সবজির কেজি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, আর তাল বেগুনের দাম উঠেছে ১৪০ টাকায়। এদিকে মৌসুমের নতুন আলু কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

ক্রেতাদের অভিযোগ, শীতের সবজি বাজারে আসার সাথে সাথে দামে স্থিতিশীলতা আসার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। এক ক্রেতা জানান, “শীতের সবজি আসা শুরু করলেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।” আরেকজন ক্রেতা বলেন, “বাজারে সবজির সরবরাহ ভালোই আছে, কিন্তু দাম কমছে না।”

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা সবজির দাম কিছুটা কমাতে পারে। তবে গ্রীষ্মকালীন সবজির যোগান কমে যাওয়ায় কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।

এদিকে, ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরকারি নির্ধারিত মূল্যের কাছাকাছি দামে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ক্রেতারা নিত্যপণ্যের এই চড়ামূল্যের কারণে গরু ও খাসির মাংস কেনা থেকে বিরত থাকছেন। বাজারে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং লেয়ার মুরগির দাম ৩০০ টাকা প্রতি কেজি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শোধে সরকারের নজর, বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। শেখ হাসিনা সরকারের বিগত সময়ে অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর ফলে এই ঋণ দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই মূল্যস্ফীতির হার বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম চার মাসে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নতুন করে কোনো ঋণ গ্রহণ করেনি। বরং চাহিদা পূরণের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারের রাজস্ব আয়ের ঘাটতি মোকাবিলায়, গত চার মাসে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫৬ হাজার ২২৯ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই ঋণের একটি বড় অংশ, প্রায় ৩৯ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুরনো ঋণ শোধ করতে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপর আরও নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি ব্যয়ের চাহিদা পূরণে বাণিজ্যিক ব্যাংকের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণগ্রহণের এই প্রবণতা ক্রমবর্ধমানভাবে সুদের হার বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এ কারণে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে সরকারকে পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মার্কিন বাণিজ্য নীতি বদলাবে গেম! বাংলাদেশি পোশাক শিল্পের নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে চান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই এ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ। তাদের মতে, ব্যক্তি বা দল নয়, বরং দেশের স্বার্থে নতুন নীতি কৌশল নিয়ে কাজ করা উচিত।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্যনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিদেশি পণ্যের ওপর ট্যারিফ বাড়ানো হবে। বিশেষ করে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশেও পৌঁছাতে পারে। ইউরোপীয় পণ্যের ওপরও কর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির প্রভাব বাংলাদেশে কেমন হবে? কারণ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বাড়লে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট এ সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে ব্যক্তি বা দলকে প্রাধান্য না দিয়ে নতুন নীতি কৌশল গ্রহণ করা উচিত। এই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্যনীতি যেদিকেই যাক, সেটি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এখন শুধু অপেক্ষা ট্রাম্পের কার্যক্রম কোন দিকে মোড় নেয় সেটির দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম