বিগত সরকারের কারণে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে সমালোচনা করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বিগত সরকার দেশের দুটি “কিডনি” খেয়ে ফেলেছে— একটি ফিন্যানসিয়াল সেক্টর এবং অন্যটি এনার্জি সেক্টর। শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীতে ‘পলিসি ডায়ালগ অন ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ড. দেবপ্রিয় আরও বলেন, বিগত সরকারের দেওয়া জিডিপি প্রবৃদ্ধির তথ্য মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তথ্য-উপাত্তের রাজনীতিকরণ করা হয়েছে, যেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের অভাব এবং ট্যাক্স জিডিপির বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়টি উপেক্ষিত। এমনকি সামাজিক খাতে, বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় গুরুতর অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমরা এখন মধ্যম আয়ের ফাঁদে পড়েছি। যদি রাষ্ট্রের মেরামত না হয়, তাহলে সামান্য সংস্কার দিয়ে কোনো লাভ হবে না। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা না আনলে সংস্কারের পথ চলা সম্ভব নয়।”

ড. দেবপ্রিয় আরও অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে মাসোহারা দিয়ে অনভিজ্ঞ লোকদের রাখা হয়েছিল, যারা টাকা ছাপিয়ে ভুয়া রিজার্ভ দেখিয়েছে। এমন অযোগ্যদের ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে অর্থনৈতিক দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পলিসি ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টার

দেশ থেকে অর্থ পাচার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, যদিও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার কাজ সময় সাপেক্ষ, তবে ভবিষ্যতে এমন একটি পলিসি তৈরি করা হবে যাতে কেউ আর অর্থ পাচার করতে না পারে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ছিল “ফাইন্যান্সিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক রিফর্মস ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক, যেখানে দেশের আর্থিক খাতে চলমান চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে আমাদের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তার স্বল্পমেয়াদি সংস্কার কাজ চলছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রায় কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে। তবে পুরো অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন দ্রুত সম্ভব নয়।” তিনি বলেন, সরকার এখন নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আসা সরকারগুলোকে এই পথ অনুসরণ করতে হবে, অন্যথায় দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও উন্নয়ন বয়ানের সমালোচনা করে বলেন, “যতটা প্রবৃদ্ধি দেখানো হচ্ছে, তার পেছনে তথ্য-উপাত্তের রাজনীতিকরণ রয়েছে। অর্থনীতির অনেক খাতে সঠিক পরিবর্তন আনা হয়নি, যা আমাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”

তবে তিনি দেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের কাছে আবেদন জানান। এর পাশাপাশি, দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে নতুন পলিসি প্রণয়নও জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আলু-পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

দেশের বাজারে আলু ও পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে আলুর দাম বর্তমানে প্রতি কেজি ৭০-৭৫ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যেখানে গত মাসেও আলুর দাম ছিল ৫৫-৬০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ১১০-১২০ টাকা। তবে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কিছুটা কম দামে, প্রায় ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলু ও পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার ক্ষেত্রে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী ক্রেতা জামাল উদ্দিন বলেন, “আলুর দাম ৭০ টাকা এবং পেঁয়াজের ১৫০ টাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু, পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে আমাদের এই দামেই কিনতে হচ্ছে।”

কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, আলু ও পেঁয়াজের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, চলতি বছরের শুরু থেকেই এই দুই পণ্যের দাম ছিল চড়া। তাই, বাজার এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, সবজির বাজারে দেখা গেছে সামান্য স্বস্তি। ঢ্যাঁড়স, পটোল, ঝিঙা, চিচিঙার মতো সবজির দাম কমে ৫০-৬০ টাকায় নেমেছে। বেগুন, বরবটি, করলা, কাঁকরোল ৮০-১০০ টাকায় এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও এসব সবজির দাম ১০০ টাকার ওপরে ছিল।

বাজারের তেলের দিকেও নজর দেয়া যায়, যেখানে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খোলা তেলের দাম বেড়ে প্রতি লিটার ১৭০-১৭১ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দাম কমে এখন ১৭৫-১৮০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহে ২০০ টাকার ওপরে ছিল।

সবজি বিক্রেতা আবু হানিফ জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সামনে দাম আরও কমবে বলে আশা করছেন তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় বিপাকে সাধারন ক্রেতারা

বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ক্রমশ বেড়েই চলেছে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, আগানগর, নয়াবাজার এবং কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে গেছে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে এক মাসের ব্যবধানে এই তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৭৫-১৮০ টাকায়, যেখানে বোতলজাত সয়াবিন তেল এখনও আগের দাম ১৬৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইসঙ্গে খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে লিটারপ্রতি ১৮০ টাকা ছুঁয়েছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবি’র তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ এবং খোলা পাম তেলের দাম ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এরই মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত অক্টোবর মাসে ভোজ্যতেলের ওপর মূসক হ্রাস করলেও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না।

এনবিআর এর ঘোষণা অনুযায়ী, পরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ মূসক মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া আমদানির ক্ষেত্রে অপরিশোধিত তেলগুলোর মূসক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এই সুবিধা চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

তবে বাজারে এর প্রভাব না পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ডিলাররা রমজান মাসকে সামনে রেখে তেল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে দাম বেড়ে যাচ্ছে। কারওয়ান বাজারের মুদি দোকানি রবিউল জানান, ডিলাররা পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ করছেন না, যার ফলে দাম বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহও কমে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুনরায় আমদানি শুল্ক কমানোর চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের আশঙ্কা, রমজান মাসের আগেই বাজারে আরও এক দফা দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



টেলিকম খাতে অনিয়ম: সালমান এফ রহমান সিন্ডিকেটের কবলে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা লোপাট

দীর্ঘ দেড় দশকে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে টেলিকম খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রসার ঘটেছে। সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের প্রভাবে এই খাত হয়ে উঠেছে দুর্নীতির অভয়ারণ্য। অভিযোগ উঠেছে, আন্তর্জাতিক গেটওয়ে অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) এর মাধ্যমে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার সুবিধা লুটে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সম্প্রতি এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে আইওএফ গঠনের মাধ্যমে রাজস্ব ভাগাভাগিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, আইআইজিসহ বিভিন্ন খাতের লাইসেন্স প্রদানে দুর্নীতির তথ্যও উঠে এসেছে।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, লভ্যাংশ শেয়ার করার প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি রয়েছে। লটারির মাধ্যমে লভ্যাংশ ভাগ করা হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে বিটিআরসি কাজ করছে।

২০১৫ সালে সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সিন্ডিকেট আন্তর্জাতিক কল ব্যবসা দখলে নেয়। অভিযোগ রয়েছে, ভয়েস কলে নামমাত্র ট্যারিফ নির্ধারণ করতে বিটিআরসিকে বাধ্য করা হয়। ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ে, যদিও ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ারেরা লাভবান হয়েছে।

রবির করপোরেট বিভাগের চিফ সাহেদুল আলম জানান, আইওএফ এর মাধ্যমে প্রতিমাসে মোবাইল অপারেটরদের বিশাল পরিমাণ টাকা ফাঁকি দেয়া হয়েছে। তাদের মতে, সরকারেরও প্রতি মাসে ১শ’ থেকে দেড়শ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

প্রযুক্তিবিদদের মতে, আইএলডিটিএস পলিসি পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, “২০০৮ সালের পুরনো পলিসি এখন বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না, যা পুনর্গঠন করা উচিত।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালুর আশ্বাস

দেশের সকল বন্ধ চিনিকল আবারও চালু করার পরিকল্পনার কথা জানালেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, চিনির উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে চলতি মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

শিল্প উপদেষ্টা আরও বলেন, বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় সচল করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি চিনিকল চালুর প্রতিবন্ধকতাগুলো পর্যবেক্ষণ করে সমাধানের পথ বের করবে। জনগণের সমর্থন পেলে সমন্বিত উদ্যোগ ও সাহসের মাধ্যমে সফলতার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চান বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে কলকারখানার সংখ্যা কম হওয়ায় অর্থনৈতিক পরিবর্তনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এই এলাকাগুলোতে কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে জীবন-জীবিকার উন্নতি আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অবশ্যই পরিবর্তনের ধারা শুরু করবে, যা পরবর্তী নেতৃত্ব আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের পরিচালক এটিএম কামরুল ইসলাম, নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এবং পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হোসাইন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিল ও আয়কর পরিশোধে অনলাইনে নামমাত্র চার্জ

২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিল ও আয়কর পরিশোধে সহজ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনায় অনলাইন রিটার্ন দাখিল সিস্টেম (ই-রিটার্ন) ব্যবহারে ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড পেমেন্ট, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ওয়ালেটে আয়কর পরিশোধে সর্বোচ্চ নামমাত্র চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই চার্জের মধ্যে, বাংলাদেশে ইস্যুকৃত কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ২৫,০০০ টাকার পর্যন্ত লেনদেনে গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা (ভ্যাটসহ) এবং ২৫,০০০ টাকার ঊর্ধ্বে লেনদেনে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা (ভ্যাটসহ) আদায় করা যাবে। এমএফএস বা পিএসপি ওয়ালেট ব্যবহার করলে লেনদেন প্রতি এক শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা (ভ্যাটসহ) আদায় করা যাবে। এই লেনদেনের বিপরীতে কোনো চার্জব্যাক প্রযোজ্য হবে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৪-২৫ করবর্ষে ই-রিটার্ন সিস্টেম চালু করে করদাতাদের জন্য আয়কর পরিশোধ প্রক্রিয়া আরও সহজ করেছে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে এখন করদাতারা নির্ধারিত চার্জ দিয়ে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন। এনবিআর করদাতাদের যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য কল সেন্টার এবং ইমেইল সেবা চালু করেছে। কল সেন্টারের নম্বর ০৯৬৪৩৭১৭১৭১, যেখানে করদাতারা তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সহায়তা পেতে পারেন। এছাড়া, www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটে করদাতারা ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা ইমেইলের মাধ্যমে জানাতে পারবেন।

এ-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২.৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যা কর পরিশোধের সঠিক পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সুইজারল্যান্ড থেকে ১৭৫ কোটি টাকায় ৫০ হাজার টন গম কেনা হচ্ছে

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য সুইজারল্যান্ড থেকে ৫০ হাজার টন গম কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই গম কেনার জন্য সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৫ কোটি ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন গমের দাম হবে ২৯২.১৪ মার্কিন ডলার।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই গম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এতে বলা হয়, প্যাকেজ-২ এর আওতায় ৫০ হাজার টন গম কেনা হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, গত ৬ নভেম্বর সরকার ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কিনতে সিঙ্গাপুরের এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেডের কাছ থেকে প্যাকেজ-১ এর আওতায় ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ কোটি ৮২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতি টন গমের দাম পড়বে ৩০১.৩৮ মার্কিন ডলার।

এ খাতে সুইজারল্যান্ডের এম/এস অ্যাস্টন এগ্রো-ইন্ডাস্ট্রিয়াল এএস কোম্পানি এবং স্থানীয় এজেন্ট গ্লোবো-পিউ ইনক কে দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। এ কোম্পানির মাধ্যমে সরকার ৫০ হাজার টন গম কিনবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই গম ক্রয় সরকারকে দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত করতে সাহায্য করবে। আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দামের ওঠানামার প্রভাব সামলাতে এবং দেশের কৃষি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে ভোক্তাদের জন্য গমের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কৃষি উৎপাদনের জন্য সারের আমদানিতে ঋণপত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

কৃষি উৎপাদনকে স্থিতিশীল রাখতে এবং সারের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সার আমদানির ঋণপত্র খুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে সারের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সার আমদানির ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক, দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সারের আমদানির ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। কৃষকদের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কৃষি উৎপাদনে ব্যাঘাত না ঘটানোর জন্য ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সারের আমদানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অযথা বিলম্ব বা বাধা যাতে না আসে, তা নিশ্চিত করার জন্য এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এর ফলে কৃষকদের জন্য সারের মূল্য সহজলভ্য হবে এবং সারের কোনো অভাব ঘটবে না। এর সাথে আরও বলা হয়েছে যে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সারের সঠিক পরিমাণে সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, সার আমদানি ঋণপত্র স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নগদ মার্জিনের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হবে। এর ফলে ঋণগ্রহীতাদের জন্য ঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং সারের দাম কম থাকবে। কৃষকরা যাতে কম খরচে সারের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারেন, সেজন্য ব্যাংকগুলোকে এই নির্দেশনা মানতে বলা হয়েছে।

এই নির্দেশনা থেকে পরিষ্কার যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সারের সরবরাহের নিশ্চয়তা ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সারের আমদানি নিরবচ্ছিন্ন রাখার মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। এর মাধ্যমে সারের সরবরাহ এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে। কৃষকদের জন্য সারের সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় আইসিবিকে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)কে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দিচ্ছে। এই ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আইসিবি পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনয়নে কাজ করবে এবং সুদের হার কমানোর মাধ্যমে নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ঋণের গ্যারান্টি প্রদান করা হবে।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এই ঋণ পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং অতিরিক্ত সুদে ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে আইসিবির আর্থিক পরিস্থিতি শক্তিশালী হবে।

এছাড়া, সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে যে, যদি আইসিবি ঋণের মূল টাকা ও সুদ পরিশোধে অসমর্থ হয়, তবে সরকার তা পরিশোধ করবে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সরকারকে প্রদেয় মুনাফা থেকে কোনো ঋণ বা সুদ সমন্বয় করা যাবে না। গ্যারান্টির মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম