মূল্যস্ফীতি কমাতে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ

মূল্যস্ফীতি কমাতে বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তারা উল্লেখ করেছেন, আমদানি ও উৎপাদনে সমান গুরুত্ব আরোপ করার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। এর মাধ্যমে বড় আমদানিকারকদের আমদানি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে মূল্যস্ফীতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধুমাত্র সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে মূল্যস্ফীতি কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ইতোমধ্যেই নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং আশা করা হচ্ছে রোজার সময় এর সুফল পাওয়া যাবে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “গত ১৫ বছরের ভুল নীতির কারণে বাজারে পণ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব এখনো চলছে।” তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণের পর কিছু ব্যাংক আমদানিকারকদের এলসি খোলার সুযোগ দিতে পারছে না, ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আমদানি না হলে বাজারে পণ্য সরবরাহ কিভাবে বাড়বে?”

প্রবীণ এই ব্যবসায়ী নেতা আরও বলেন, “বাজারে তিনভাবে পণ্য সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব। এক. শিল্পকারখানায় উৎপাদন বাড়ানো, দুই. আমদানি করা, তিন. চাষ করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা।” তিনি বলেন, “শিল্পকারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কাঁচামাল আমদানি করতে হবে, যা এলসি খুলতে না পারলে সম্ভব হবে না।” তিনি বলেন, জমির পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব নয়, তাই ফসল উৎপাদন বাড়াতে উন্নত বীজ ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে চাষাবাদ করতে হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবদুল মজিদ বলেন, “খাদ্যপণ্যসহ সব ধরনের পণ্য আমদানিতে বড় কিছু প্রতিষ্ঠান জড়িত। অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির অভিযোগে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ায় বাজারে পণ্যসংকট সৃষ্টি হয়েছে। রোজায় এই সংকট আরও বাড়তে পারে।”

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, “পণ্য সরবরাহ বাড়াতে এনবিআর বিভিন্ন শুল্ক কমিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা প্রত্যাহার করেছে। যদিও এতে রাজস্ব আদায় কমলেও জনগণের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমাদের দেশে বড় ২০-২৫টি প্রতিষ্ঠান অধিকাংশ পণ্য আমদানি করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দ হওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন টিসিবি, এসব বড় প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য সরবরাহ গ্রহণ করে থাকে, তাই পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, সরকারি উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত আমদানি-রফতানি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি খাদ্য পণ্য সংগ্রহের বিষয়েও সরকার কাজ করছে। বিভিন্ন বৈঠকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আলোচনা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যেসব আয়ে কর দিতে হবে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ব্যক্তির কিছু আয় আছে, যা করমুক্ত। এসব আয়ের বিপরীতে কর দিতে না হলেও আয়কর ফাইলে তা লিপিবদ্ধ করলে বৈধ উৎস হিসেবে সাদা টাকা তৈরি করবে। জেনে নেওয়া যাক সেসব আয় সম্পর্কে।

করদাতার করমুক্ত ও কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয় থাকলে তা রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে। ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়ের খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে—

(১) সরকারি পেনশন তহবিল থেকে করদাতার প্রাপ্য বা বকেয়া পেনশন;

(২) সরকারি আনুতোষিক তহবিল থেকে পাওয়া করদাতার অনধিক আড়াই কোটি টাকা আয়;

(৩) কোনো স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল, পেনশন তহবিল ও অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল থেকে সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা আয়;

(৪) সরকারি সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও তাদের নিয়ন্ত্রিত ইউনিট বা প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারী স্বেচ্ছায় অবসরের সময় এ উদ্দেশ্যে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

(৫) পেনশনারস সেভিংস সার্টিফিকেট থেকে সুদ হিসেবে পাওয়া অর্থ বা অর্থের সমষ্টি। তবে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের শেষে ওই সার্টিফিকেটে বিনিয়োগ করা অর্থের পুঞ্জীভূত অর্জিত মূল্য অনধিক পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত;

(৬) কোনো নিয়োগকারীর পক্ষ থেকে কোনো কর্মচারীর ব্যয় পুনর্ভরণের ক্ষেত্রে

(ক) ওই ব্যয় সম্পূর্ণভাবে ও আবশ্যকতা অনুসারে কর্মচারীর দায়িত্ব পালন বাবদ ব্যয় করা হয়;

(৭) কোনো অংশীদারি ফার্মের অংশীদার হিসেবে মূলধনি আয় বাবদ প্রাপ্ত আয়ের অংশ, যার ওপর ওই ফার্ম কর পরিশোধ করেছে;

(৮) হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের সদস্য হিসেবে একজন করদাতা যে পরিমাণ অর্থ প্রাপ্ত হন, যার ওপর ওই পরিবার কর পরিশোধ করেছে;

(৯) বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি করদাতার বিদেশে উপার্জিত আয়, যা তিনি প্রবাসী আয় হিসেবে বাংলাদেশে এনেছেন;

(১০) কোনো করদাতার ওয়েজ আর্নারস ডেভেলপমেন্ট ফান্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, ইউরো ইনভেস্টমেন্ট বন্ড, পাউন্ড স্টারলিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বা পাউন্ড স্টারলিং প্রিমিয়াম বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়;

(১১) রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি—পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির আয়, যা পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত হয়েছে;

(১২) কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তির কৃষি খাত থেকে অনধিক দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয়, যদি ওই ব্যক্তি—

(ক) পেশায় কৃষক হন;

(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের নিম্নবর্ণিত আয় ছাড়া অন্য কোনো আয় না থাকে, যথা—

(অ) জমি চাষাবাদ থেকে আয়;

(আ) সুদ বা মুনাফা বাবদ অনধিক ২০ হাজার টাকা আয়;

(১৩) সফটওয়্যার তৈরিসহ তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কয়েকটি খাতের ব্যবসায় আয়। খাতগুলো হলো এআই বেজড সলিউশন ডেভেলপমেন্ট; ব্লকচেইন বেজড সলিউশন ডেভেলপমেন্ট; রোবোটিকস প্রসেস আউটসোর্সিং; সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস; সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিস; ডিজিটাল ডেটা অ্যানালিটিকস ও ডেটা সায়েন্স; মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস; সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও কাস্টমাইজেশন; সফটওয়্যার টেস্ট ল্যাব সার্ভিস; ওয়েব লিস্টিং, ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট ও সার্ভিস; আইটি সহায়তা ও সফটওয়্যার মেইনটেন্যান্স সার্ভিস; জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস; ডিজিটাল অ্যানিমেশন ডেভেলপমেন্ট; ডিজিটাল গ্রাফিকস ডিজাইন; ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি ও প্রসেসিং; ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ও ই-পাবলিকেশন; আইটি ফ্রিল্যান্সিং; কল সেন্টার সার্ভিস; ডকুমেন্টে কনভারশন, ইমেজিং ও ডিজিটাল আর্কাইভিং।

তবে শর্ত থাকে যে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ওই ব্যবসায়ের সব আয়, ব্যয় ও বিনিয়োগ শতভাগ ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

(১৪) ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে হস্তশিল্প রপ্তানি থেকে আয়;

(১৫) যেকোনো পণ্য উৎপাদনে জড়িত ক্ষুদ্র বা মাঝারি শিল্প থেকে আয়, যার—

(ক) শিল্পটি নারীর মালিকানাধীন হলে বার্ষিক লেনদেন ৭০ লাখ টাকার কম;

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকার টাকা;

(১৬) শর্ত সাপেক্ষে, ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত ব্যক্তির জিরো কুপন বন্ড থেকে কোনো আয়; যেমন (ক) বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন নিয়ে কোনো ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান জিরো কুপন বন্ড ইস্যু করলে;

(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদন নিয়ে ব্যাংক, বিমা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানের ইস্যু করা জিরো কুপন বন্ড;

(১৭) ‘চাকরি থেকে আয়’ হিসেবে পরিগণিত আয়ের এক–তৃতীয়াংশ বা সাড়ে চার লাখ টাকার মধ্যে যেটা কম;

(১৮) কোনো ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সম্মানী বা ভাতা বাবদ সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ;

(১৯) সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত কোনো পদক/পুরস্কার;

(২০) কোনো বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা থেকে আয়;

(২১) আইসিবির ইউনিট ফান্ড থেকে অর্জিত আয়;

(২২) ৩০ জুন ২০৩০ তারিখের মধ্যে কোনো সমুদ্রগামী জাহাজ থেকে অর্জিত আয় প্রবাসী আয় হিসেবে দেশে আনা হলে।

করমুক্ত আয় করদাতার মোট আয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে না। এসব আয় রিটার্নে করমুক্ত আয়ের কলামে প্রদর্শন করতে হবে। তবে কর দিবসের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে এসব আয়ে কর অব্যাহতি সুবিধা পাওয়া যাবে না।




৫ হাজার ৯১৫.৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ৫,৯১৫.৯৯ কোটি টাকা। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের (ক্যাচমেন্ট ২ এবং ৪) পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা।

আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে দুটি নতুন এবং তিনটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে ১,০৯৫.৯৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের অংশ থেকে, ৪,৭৮৭.৫০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা থেকে এবং বাকি ৩২.৫৫ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:

  1. চট্টগ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন
  2. পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ
  3. যুব উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সক্ষমতা বৃদ্ধি
  4. মংলা বন্দরের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
  5. রোহিঙ্গা সংকট ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্প্রসারণ

বৈঠক শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কিছু নীতিগত বিষয় সমন্বয় করার সময় এসেছে এবং দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতি পরিকল্পনা কমিশন শীঘ্রই অনুরোধ জানাবে।

তিনি আরো জানান, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নের হার কম ছিল, এবং এডিপি ছাঁটাই হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা অধিক সংখ্যায় এগিয়ে আসবে এবং অর্থনীতির গতি আরও বাড়বে।

মো: তুহিন হোসেন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে, ফাউন্ডেশনের সব লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বিএফআইইউ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ২৩(১) (গ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সূচনা ফাউন্ডেশনের পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবগুলোর বিস্তারিত তথ্য, যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ফরম, এবং লেনদেন বিবরণী সংযোজিত এক্সেল শিট আকারে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, লেনদেন স্থগিত থাকা হিসাবগুলোর ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর ২৬(২) ধারা প্রযোজ্য হবে।

সূচনা ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিদের মধ্যে আছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, মুজহারুল মান্নান এবং জয়ন বারী রিজভী। ফাউন্ডেশনটি মানসিক অক্ষমতা, স্নায়বিক অক্ষমতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় কাজ করে আসছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চীনা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান বিডার

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চীন-ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (২৪ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, আশিক মাহমুদ এক চিঠিতে বলেন, চীন-ভিত্তিক যেসব ব্যবসায়ী তাদের উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তর বা বৈচিত্র্য আনতে আগ্রহী, তাদের জন্য বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হতে প্রস্তুত।

আশিক মাহমুদ বলেন, “মার্কিন নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে চীন-ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য শুল্ক ও শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমরা চীনের বিনিয়োগকারী বন্ধুদের আহ্বান জানাই এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাদের সমর্থন জানাতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, সোলার ভ্যালু চেইন এবং অটোমোটিভের মতো শিল্পে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনা দেখছে এবং তাদের জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনা কর্মসূচি এবং সুবিধাসহ একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত মাসে বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ, বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানির অন্তত ২০০ জন প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং জানান, নতুন মার্কিন প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে। তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে চীন-ভিত্তিক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তাদের ঝুঁকি এবং উৎপাদন বৈচিত্র্যময় করার ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহের কথা জানতে পেরেছি।”

চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাংলাদেশ এর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং ২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) বৃহত্তম উৎস হিসেবে উঠে আসে। আশিক চৌধুরী আশা করেন, নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।

আশিক চৌধুরী বলেন, “বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে গত এক দশক ধরে চীনা ব্যবসায়ীদের আঞ্চলিক সম্প্রসারণ আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। নতুন মার্কিন রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে চীনা ব্যবসায়ীদের আঞ্চলিক সম্প্রসারণের প্রবণতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই বিনিয়োগকারীদের উপযোগী প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশ তাদের ‘স্বাগত’ জানাতে আগ্রহী। এটি আমার প্রতিশ্রুতি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক ম্যাগাজিন ফোর্বস সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণ ‘রিয়েল টাইম’ ২০২৪ সালের বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। এবারের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক l

বাংলাদেশ সময় বেলা দুইটার দিকে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়।

মার্কিন সাময়িকী জানিয়েছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনী তালিকায় রয়েছেন-ইলন মাস্ক, ল্যারি এলিসন, জেফ বেজোস, মার্ক জাকারবার্গ, বার্নার্ড আরনল্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি, ওয়ারেন বাফেট, ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, জেনসেন হুয়াং ও আমানসিও ওরতেগা।

তাদের ব্যবসা, টাকার উৎস, সম্পদের পরিমাণ, শিক্ষা, পরিবারসহ লাইফস্টাইলের নানা দিক নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকে তুঙ্গে।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ ধনীর কার কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক বিজনেস ম্যাগাজিনের তথ্য থেকে আসুন জানার চেষ্টা করি।




একদিনের ব্যবধানে আবারও বাড়ল সোনার দাম

দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ২৩ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৮২৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম রোববার (২৪ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ২৬৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৫ হাজার ৬৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি ছিল গত এক সপ্তাহে সোনার দাম বাড়ানোর দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে, ২১ নভেম্বর সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৯৯৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। সেই দাম ২২ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছিল।

সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার এই প্রবণতা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবের কারণে স্বর্ণের দাম উঠানামা করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শীতে সবজির দাম বৃদ্ধি, মাছ-মুরগির বাজার স্থিতিশীল

শীতের তীব্রতার সঙ্গে সবজি, মাছ, এবং মুরগির বাজারে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরবরাহ কমায় সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি মূল্য বেড়েছে, তবে মাছ এবং মাংসের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

সবজির দাম

বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজি আসলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়ে গেছে। বর্তমানে, প্রতি কেজি বেগুন ৭০-৮০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, লতি ৭০ টাকা, কহি ৬০ টাকা, ধুন্দুল ৫০ টাকা এবং পটোল ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, শিম ১০০ টাকা, শালগম ১২০ টাকা, এবং শসা ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

তবে কিছু সবজি যেমন ধনেপাতা, পেঁয়াজের কালি, এবং চিচিঙ্গা ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি এবং বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকায়, লাউয়ের দাম ৫০-৭০ টাকা। শীতকালীন শাকের দামও বেড়েছে, লালশাক, পাটশাক, পুঁইশাক, মুলাশাক, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকায়।

ক্রেতারা অভিযোগ করছেন যে ব্যবসায়ীরা বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন। সুরঞ্জরন নামে এক ক্রেতা বলেন, “দাম বেড়ে আবার ১০০ টাকা ছাড়াতে পারে, যদি দ্রুত বাজারে অভিযান না চালানো হয়।”

মাছ-মাংসের দাম

মাছ এবং মাংসের দাম এখনো বাড়েনি। তবে, মাছের বাজারে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে। বিক্রেতারা জানান, নতুন করে দাম বাড়েনি, তবে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বাড়তে পারে।

রাজধানীসহ বিভিন্ন বাজারে, রুই মাছের দাম ৩৮০-৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০-৪৮০ টাকা, চাষের শিং ৫৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা, এবং তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বোয়াল ৭০০-৮০০ টাকা, পোয়া ৪৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪৫০ টাকা, আইড় ৮০০-৯০০ টাকা এবং দেশি কৈ ১ হাজার ৩০০-১ হাজার ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে, প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪৪-১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিম ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের দাম

গরু, খাসি, এবং ছাগলের মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ৫০-১ হাজার ১০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির বাজারে, ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০-৬০০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ২৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

চাল ও অন্যান্য

চালের দামেও নতুন করে কোন বৃদ্ধি দেখা যায়নি। তবে, বাজারে মিনিকেট ৭০-৭২ টাকা, আটাইশ ৬০-৬২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সামগ্রিক অবস্থা

সবজি ও মাছের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতারা এবং বিক্রেতারা দুশ্চিন্তায় আছেন। সঠিক মনিটরিং এবং বাজারে অভিযান চালানো না হলে ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করতে পারেন বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় প্রান্তিক মানুষদের মাঝে ঋণ বিতরণ

বরগুনা জেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রান্তিক মানুষদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল কর্মসূচির আওতায় গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বরগুনার আরডিএফ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১০ টাকার হিসাবধারী ৬৯ জন গ্রাহকের হাতে ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়।

এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি এই অনুষ্ঠানটির মূল আয়োজক হিসেবে কাজ করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক সোহেলী আফরীন। এ সময় এনআরবিসি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং ডিভিশন ও বরিশাল-খুলনা জোনের প্রধান এসইভিপি একেএম রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক দেবাশীষ রায়, মাইক্রো ফাইন্যান্স ডিভিশনের প্রধান মো. রমজান আলী ভূইয়াঁসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ১৮টি বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিনা জামানতে ঋণ বিতরণ করে। এতে সবচেয়ে বেশি ঋণের চেক দেয়া হয় এনআরবিসি ব্যাংকের ২৩ জন গ্রাহককে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ৭ জন, অগ্রণী, বাংলাদেশ কৃষি ও ইসলামী ব্যাংকের ৫ জন করে এবং ইউসিবি, উত্তরা, রূপালী, জনতা, আল আরাফাহ, পূবালী ও ব্র্যাক ব্যাংকের ২ জন করে গ্রাহক ঋণের চেক পায়। ঋণের পরিমাণ ছিল সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক সোহেলী আফরীন বলেন, “দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ব্যাংকিং সেবা খোলার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। তারা খুব সাধারণ তথ্য দিয়ে ঋণ সুবিধা পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য লাভজনক। আমরা চাই এই ছোট উদ্যোক্তারা বড় উদ্যোক্তা হয়ে উঠবে।”

এনআরবিসি ব্যাংকের একেএম রবিউল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের জন্য ঋণ বিতরণ করে যাচ্ছি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় ৯৩ কোটি টাকা ৩ হাজার উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করেছি।”

এনআরবিসি ব্যাংকের মো. রমজান আলী ভূইয়াঁ বলেন, “আমরা ব্যাংকিং সেবা দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নত করতে কাজ করছি, যার ফলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডিম আমদানি বন্ধের আহ্বান জানাল বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন

বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) প্রান্তিক খামিদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ডিম আমদানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলছে, দেশে ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সিন্ডিকেট ভাঙা এবং উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

বুধবার (২০ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিপিএ জানায়, দেশের পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির বাচ্চার উৎপাদন বাণিজ্যিকভাবে বাড়িয়ে প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করা গেলে সিন্ডিকেট ভেঙে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে খামারিরা ন্যায্যমূল্যে ফিড ও বাচ্চা কিনতে পারবে এবং ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ কমবে। এর ফলে ভোক্তা এবং খামারিরা লাভবান হবে।

বিপিএ আরও জানায়, দেশের ডিম ও মুরগির বাজারে প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন বাড়াতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বড় করপোরেট কোম্পানির একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান জরুরি। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের ডিম ও মুরগির সংকট দূর হবে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

করপোরেট কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং দাম বাড়ছে। করোনার আগ পর্যন্ত দেশীয় খামারিরাই প্রধানত ডিম ও মুরগির উৎপাদনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, কিন্তু এখন করপোরেট কোম্পানির আধিপত্যের কারণে প্রতিযোগিতা হ্রাস পেয়েছে এবং প্রান্তিক খামারিরা সঠিক দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারছে না।

বিপিএ জানায়, দেশের ডিম ও মুরগির সংকট নেই বরং সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ডিম আমদানি না করে, যদি প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সহায়তা দেয়া হয়, তাহলে দেশেই ডিমের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

ফিড ও মুরগির বাচ্চার বাজারে করপোরেট কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে খামারিদের ব্যবসা চলমান রাখতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। কন্ট্রাক্ট ফার্মিং পদ্ধতি এই সংকটের মূল কারণ। বিপিএ জানায়, এই পদ্ধতিতে খামারিদের বাজারে স্বাধীনভাবে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ নেই এবং তাদের লাভ কমে যাচ্ছে।

ডিম ও মুরগির সরবরাহ বাড়াতে সরকারকে ৫টি প্রস্তাব দিয়েছে বিপিএ:

1. সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর ব্যবস্থা: ফিড ও মুরগির বাচ্চার বাজারে করপোরেট সিন্ডিকেট বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করে প্রান্তিক খামারিদের সরাসরি পণ্য বিক্রির সুযোগ দিতে হবে।

2. ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ: ক্ষুদ্র খামারিদের জন্য ব্যাংক ঋণ সহজলভ্য করা এবং সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে তাদের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

3. প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা: খামারিদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

4. ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা: ডিম ও মুরগির ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করতে হবে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে হবে।

5. কন্ট্রাক্ট ফার্মিং নিয়ন্ত্রণ: করপোরেট কোম্পানির কন্ট্রাক্ট ফার্মিং পদ্ধতির অপব্যবহার রোধে আইন প্রণয়ন করতে হবে এবং ক্ষুদ্র খামারিদের স্বাধীনতা রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

বিপিএ আশা প্রকাশ করেছে, প্রান্তিক খামারিদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা ও উপকরণ সরবরাহ করা হলে দেশে ডিম ও মুরগির উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর মাধ্যমে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এতে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম