সচিব থেকে পিওন পর্যন্ত সবাই মহার্ঘ ভাতা পাবেন : সিনিয়র সচিব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সচিব থেকে পিওন পর্যন্ত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মহার্ঘ ভাতা পাবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেস উর রহমান।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জনান।

তিনি জানান, সচিব থেকে পিয়ন পর্যন্ত সবাই এই ভাতা পাবেন। তবে হয়তো একটা স্ল্যাব করা হবে l

এর আগে ১২ ডিসেম্বর জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘মহার্ঘ ভাতা’ প্রণয়নে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবও রয়েছেন।




১০ বাস নিয়ে বিআরটি চালু হচ্ছে আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রকল্প শুরুর এক যুগ পর আজ চালু হচ্ছে আলোচিত-সমালোচিত বিআরটি প্রকল্প। শুরুর দিকে চলবে ১০ টি বাস। যা পর্যায়ক্রমে বাড়ান হবে।

গাজীপুরের শিববাড়ী বিআরটিসি লেনে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের এই প্রকল্প উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০টি বিআরটিসি এসি বাস গাজীপুরের শিববাড়ী বিআরটি টার্মিনাল থেকে বিআরটি লেনে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার এবং এয়ারপোর্ট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ২২ কিলোমিটারে ৪২.৫ কিলোমিটার পথ চলাচল করবে।

শিববাড়ী থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ভাড়া ৭০ টাকা এবং শিববাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ভাড়া ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রী চাহিদা এবং স্টেশনসমূহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসের সংখ্যা পরে বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া বিআরটি করিডরে বিআরটিসির এসি বাস সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

 




ব্যাংকিং সিস্টেমে ঋণের বিশাল অনিয়ম, অর্থ পাচার নিয়ে গভর্নরের সতর্কতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের কিছু ব্যাংকে বিতরণ করা মোট ঋণের ৮৭ শতাংশ একমাত্র গ্রাহক কর্তৃক নিয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই ঋণের অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে বিদেশে চলে গেছে।

রাতে রাজধানীর শেরাটন ঢাকায় ‘ড্রাইভিং চ্যালেঞ্জ: আনলকিং দ্য পটেনশিয়াল অব বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল মার্কেট’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে গভর্নর এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড এই আয়োজন করে।

গভর্নর জানান, গত ১৫ বছরে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়েছে, যা সুপরিকল্পিতভাবে সংগৃহীত ছিল। তিনি আরো বলেন, ইসলামি ধারার কয়েকটি ব্যাংকের ঋণের ৮৭ শতাংশ এক গ্রাহক নিয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এই অর্থ ফেরত আনা অত্যন্ত কঠিন হবে, তবে ঋণ পুনরুদ্ধার এবং অর্থ ফেরত আনার জন্য নতুন ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

এছাড়া, গভর্নর আরও জানান যে, দেশে কিছু ব্যাংক বর্তমানে তারল্য সংকটে ভুগছে এবং আগামী জানুয়ারী থেকে ব্যাংকগুলোর সম্পদ পর্যালোচনা শুরু হবে। তিনি আমানতকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং জানিয়ে দেন যে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর সব তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হবে এবং অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং আগামী অর্থবছরে এটি আরও ৫ শতাংশে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, যদি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করা হবে।

এছাড়া, গভর্নর জানান, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্থিতিশীল রয়েছে। প্রবাসীরা গত চার মাসে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ বিষয়ে বক্তৃতা করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, অর্থনীতিবিদ মোশতাক হোসেন খান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ, এশিয়ান টাইগারের চেয়ারম্যান ইফতি ইসলাম, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মহার্ঘ ভাতা প্রণয়নে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫-এর আওতাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘মহার্ঘ ভাতা’ প্রণয়নে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগ প্রবিধি-৩ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

উপসচিব সৈয়দ আলী বিন হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের কর্মে নিয়োজিত জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর আওতাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকূলে ‘মহার্ঘ ভাতা’-এর সংস্থানের বিষয়টি পর্যালোচনাপূর্বক সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে নির্দেশক্রমে নিম্নরূপ কমিটি গঠন করা হলো।




২১ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

বাংলাদেশ সরকার সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব থেকে মোট ২১ হাজার ৯৪৩ কোটি ৭৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার জ্বালানি তেল আমদানি করতে অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ২৩৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) এবং ১০ হাজার ৭১০ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার পরিশোধিত তেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অপরিশোধিত তেল আমদানি

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডিএসওসি) থেকে ২০২৫ সালের জন্য ৬ লাখ টন মারবান গ্রেজের অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আমদানির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২০৮ কোটি ৩৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সৌদি আরবের তেল আমদানি

এছাড়া, সৌদি আরবের সৌদি এরাবিয়ান অয়েল কোম্পানি থেকে ২০২৫ সালের জন্য ৭ লাখ টন এরাবিয়ান লাইট ক্রড (এএলসি) গ্রেডের অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ২৫ কোটি ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

পরিশোধিত তেল আমদানি

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে আন্তর্জাতিক কোটেশন (দরপত্র) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১০ হাজার ৭১০ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকার পরিশোধিত তেল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড, ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুবাইয়ের ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড থেকে এই তেল আমদানি করা হবে।

এই জ্বালানি তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কাজ করবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সরকার বদলের পর ব্যাংকে কমছে কোটিপতি গ্রাহক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। গত সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি আর লুটপাটের কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছে দেশ। এর সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ে ব্যাংকে টাকা জমানোর পরিমাণ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকা রয়েছে, এমন অ্যাকাউন্টের (হিসাব) সংখ্যাও কমেছে।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে কোটি টাকার বেশি রয়েছে— এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সংখ্যা তিন মাসে ১ হাজার ৬৫৭টি কমেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা পিষ্ট। সাধারণ মানুষ এখন সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে ব্যাংকে টাকা জমানোর চেয়ে অনেকে আগের জমানো অর্থ ভেঙে খাচ্ছেন। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর সাবেক এমপি মন্ত্রী ও নেতাসহ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হিসাব নেওয়া শুরু হয়েছে। অনেকের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করা হয়েছে। ফলে বড় অঙ্কের আমানতকারীরা ভয়ে টাকা সরিয়ে ফেলছেন। এসব কারণে বিত্তশালী ও বড় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের (হিসাব) সংখ্যা ১৬ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার ২৫৫টি। এসব হিসাবে জমা আছে ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। জুন প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৫ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৫২৩টি এবং এসব হিসাবে জমা ছিল ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে তিন মাসে হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও টাকার অংকে আমানতের পরিমাণ কমেছে।




সিটি ব্যাংকের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, নতুন বছরে ৩০০ কোটি টাকা বাড়বে ব্যয়

ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সিটি ব্যাংক তার কর্মীদের জীবনযাত্রা সহজ করতে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ২০২৪ সালের জন্য ১৬২ কোটি টাকার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। এতে আগামী বছরে ইনক্রিমেন্ট, বোনাসসহ ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংকটির বার্ষিক বেতন ব্যয় মোট ৩০০ কোটি টাকা বাড়বে, এবং আগামী বছরে এ ব্যাংকের মোট বার্ষিক বেতন দাঁড়াবে ১,২১০ কোটি টাকায়।

সম্প্রতি সেরেব্রাস কনসালট্যান্টস লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত এক সমীক্ষার ভিত্তিতে সিটি ব্যাংক তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন পুনর্গঠন করেছে। বাজারের সঙ্গে বেতনের এই সমন্বয় আনয়নে যেসব কর্মীর বর্তমান বেতন বাজারের মানের তুলনায় কম ছিল, তাদের বেতন যথেষ্ট পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, যাদের বেতন বাজার গড়ের কাছাকাছি ছিল, তাদের বেতন কিছুটা কম বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার থেকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত সব পদে বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ, যার গড় বৃদ্ধি ২৩ শতাংশ। এ প্রকল্পের আওতায় সিটি ব্যাংকের সব কর্মীর অবস্থান নির্বিশেষে সর্বনিম্ন বেতন বেড়েছে ১০,০০০ টাকা, এবং সর্বোচ্চ বেড়েছে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যাংকের সাপোর্ট স্টাফ, আউটসোর্সড স্টাফ ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া স্টাফরাও এই বেতন বৃদ্ধির আওতায় পড়েছেন।

এ নতুন বেতন কাঠামো ১ নভেম্বর ২০২৪ থেকে কার্যকর হবে এবং ব্যাংকের কর্মীরা নভেম্বর মাসের বকেয়াসহ ডিসেম্বর মাসে নতুন বেতন পাবেন।

সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার বলেন, “আমাদের কর্মীরা সিটি ব্যাংকের মেরুদণ্ড। বাজারের অবস্থার সাথে বেতন-ভাতা সমন্বয় করে আমরা আমাদের ব্যাংকটিকে দেশের সেরা কর্মক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখি।” সিটি ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মাসরুর আরেফিন উল্লেখ করেন, “ব্যাংকের মুনাফা অনেক বেড়েছে। আমি এমডি হওয়ার আগের ৬৯৯ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা এবার ২০০০ কোটি টাকার বেশ ওপরে চলে যাচ্ছে। তাই এটি এখন আমাদের কর্মীদের নৈতিক অধিকার যে, তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে আরও ভালো থাকবেন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হ‌য়ে‌ছে। এ ছাড়া ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এবং চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাতের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করা হয়েছে। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লেনদেন তলব করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তলব করা ব্যক্তির নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হিসাব তলব করা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।




২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পরিকল্পনা জমা দেবে এনবিআর

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বর্ধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শিগগিরই এনবিআর আইএমএফকে এই পরিকল্পনা জানাতে চায়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ে ৩০ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা ঘাটতি দেখা গেছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো মাসেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, যা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফের বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনা শিগগিরই আইএমএফের ওয়াশিংটনের পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে।

এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য এনবিআরকে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে, তবে কর ও শুল্ক বৃদ্ধি করা কঠিন হতে পারে, কারণ এর প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে এনবিআর কর রেয়াত এবং শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক রয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলেছেন, আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে ভ্যাট শাখা, এবং বকেয়া কর, শুল্ক ও ভ্যাট আদায়ে তৎপরতা বাড়ানো হতে পারে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে চাপ রয়েছে কর অব্যাহতি ব্যাপকভাবে কমানোর জন্য। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য করছাড় দেওয়া হলেও এখন তা কমাতে হবে।

এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এনবিআর তিন লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ০ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, চলতি মাসগুলিতে রাজস্ব আদায় কমেছে, যার ফলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এনবিআর।

এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রাজস্ব আদায়ে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সহনীয় রাখতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিদ্যুৎখাতে প্রতিযোগিতার অভাব এবং গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে আমাদের অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি খাতে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা প্রতি মানুষের মাথাপিছু প্রায় ৩০০০ টাকার সমান।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত জ্বালানির সহনীয় মূল্য ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, “গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৮.৫৫ টাকা দিলেও সরকার তা ১২-২৫ টাকা দামে কিনে থাকে। এলএনজি আমদানিতে ৭০ টাকা খরচ হলেও, শিল্পখাতে ৩০ টাকা দামে সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে এই পার্থক্য সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে মেটাতে হচ্ছে।”

তিন বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে প্রতিযোগিতার অভাব এবং গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে অধিক মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করতে হচ্ছে। আমাদের ৪ হাজার এমএমসিএফটি গ্যাসের প্রয়োজন, যদিও আমাদের রয়েছে ৩ হাজারের কম। ঘাটতি মেটাতে নিজের গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম বাড়াতে হবে।” তিনি আরও জানান, ভোলায় প্রায় ৭০ সিএমএফএফটি গ্যাস মজুদ রয়েছে এবং এর উত্তোলন কার্যক্রমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এখন থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়া কোনো দরপত্র আহ্বান করা হবে না বলে জানান উপদেষ্টা। “তেল আমদানির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ কম মূল্যে পেয়েছি, এর ফলে ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে,” বলেন তিনি।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতে আইপিপি-এর পরিবর্তে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবস্থা চালু হবে এবং পর্যায়ক্রমে ৪০টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। এছাড়াও, সরকার থেকে প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান করা হবে এ ধরনের প্রকল্পগুলোর জন্য।

এছাড়া, সরকারি কিছু সংস্থা যেমন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেল, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগের অনেক জমি রয়েছে, যেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না, সেখানে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ১৫ বছরের কর অব্যাহতির সুযোগ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, “শিল্পখাতে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি বৃদ্ধি করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশীয় মজুদকৃত কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যদিও কয়লা উত্তোলনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।”

ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, “সৌরবিদ্যুতের প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পরেও জমি বরাদ্দে জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোনো হয়ে পড়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা এখনই চিন্তা করা প্রয়োজন।”

পারমাণবিক শক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং জ্বালানি আমদানি নীতিমালা সংশোধন করে মূল্য স্থিতিশীল রাখার কৌশলও গ্রহণ করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম