খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান মঙ্গলবার বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা এক যোগে কারসাজি করে এলপিজি গ্যাসের দাম বাড়িয়েছেন। এ মন্তব্য তিনি সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান।

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির বলেন, “যারা আশা করেছিল এলপিজির দাম বাড়বে, তারা এই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিইআরসি যেভাবে দাম বাড়িয়েছে, তা ব্যবহার করে অনেকে অস্বাভাবিক লাভের চেষ্টা করছে। আমরা ইতোমধ্যেই কেবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছি, প্রতিটি জেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম তদারকি করতে।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এ অস্বাভাবিক দামের পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই, এটি সম্পূর্ণরূপে কারসাজির ফল। সরকার জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

উপদেষ্টা আরও নিশ্চিত করেন, কারা এই কারসাজিতে জড়িত তা খুঁজে বের করা হচ্ছে। “খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলিতভাবে এই কাজে লিপ্ত হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে,” জানান তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে বিএনপি

দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের চলমান সংকট নিরসনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করেই সামনে এগোতে হবে।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন জানান, তারা মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শোক জানাতে গিয়েছিলেন। তবে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বর্তমান সংকটের বিষয়গুলো শুনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন।

মীর নাসির হোসেন বলেন, বৈঠকে জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে নোট নিয়েছেন এবং স্পষ্টভাবে বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন চাইলে ব্যবসায়ীদের সফল হওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতায় গেলে ব্যবসা-বান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, কর্মসংস্থান কমছে এবং পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় ব্যবসায়ীরা তারেক রহমানের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাঁদাবাজি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যখন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন, তখন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু বর্তমানে প্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে, বেকারত্ব বাড়ছে। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে হলে ব্যবসায়ীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের সঙ্গে নিয়েই কাজ করতে হবে। তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রেখে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারকে সক্রিয় করা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফেরানো এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা মব কালচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এই বৈঠকে এফবিসিসিআই, বিসিআই, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, বিএসএমএ, বিএবি, আইসিসি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন এবং অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এলপি গ্যাসে নৈরাজ্য

সারাদেশে এলপি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যত মানা হচ্ছে না কোথাও। এরই মধ্যে নতুন করে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দাম বাড়ানোর আভাসে ভোক্তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এলপি গ্যাসের সংকট এখন চরমে। রংপুরের পীরগঞ্জে কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ১৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক জায়গায় এই দাম ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডারই নেই। ফোন করলেও কোম্পানির প্রতিনিধিরা সাড়া দিচ্ছেন না। এতে খুচরা বিক্রেতারা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি সাধারণ গ্রাহকরাও পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে এই দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে বাজারে সেই দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান জানান, বিইআরসি দর ঘোষণার পর আমদানিকারকরা দুই দফায় দাম বাড়িয়েছে। ফলে পরিবেশক পর্যায়েই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে ১৩২৯ টাকা দিয়ে। অথচ খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দাম ১২৫৩ টাকা। তিনি আরও বলেন, বাজারে ২৭টি কোম্পানি থাকলেও কার্যত মাত্র তিনটি কোম্পানি সীমিত আকারে এলপিজি সরবরাহ দিচ্ছে। বাকিগুলো প্রায় অদৃশ্য। এতে সরবরাহ কমে গিয়ে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, ৫ আগস্টের পর বসুন্ধরা, ওরিয়ন, নাভানাসহ কয়েকটি বড় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি কার্যক্রম বন্ধ বা সীমিত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলসি জটিলতা ও জাহাজ সংকট। ডিসেম্বরে যেখানে মাসিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টন, সেখানে আমদানি হয়েছে মাত্র ৯০ হাজার টন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, এলপিজি সংকট নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ২৯টি জাহাজ এলপিজি পরিবহন থেকে বাদ পড়েছে। এতে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে এবং নতুন জাহাজ ব্যবস্থা করতে সময় লাগছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

বেশি দামে বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। তবে বাস্তবতা হলো, অভিযান চললেও বাজারে দামের লাগাম টানা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, শীত মৌসুমে বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বাড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাহাজ সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি। ফলে আগের মাসের তুলনায় আমদানি কমে গেছে। যদিও ভোক্তাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি শ্রেণি অতিরিক্ত মুনাফা লুটছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে বিইআরসি প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ শুরু করে। সৌদি আরবের ঘোষিত দর অনুযায়ী প্রতি মাসে দাম সমন্বয়ের নিয়ম করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কখনোই বাজারে সেই নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না। আর কার্যকর তদারকির অভাবে বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়ম চলছেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন বছরে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম কমালো সরকার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে ।

নতুন দর অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে দুই টাকা করে কমানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিজেল লিটারে ১০৪ টাকা থেকে কমে ১০২ টাকা, অকটেন ১২৪ টাকা থেকে কমে ১২২ টাকা, পেট্রল ১২০ টাকা থেকে কমে ১১৮ টাকা এবং কেরোসিন ১১৬ টাকা থেকে কমে ১১৪ টাকা দরে বিক্রি হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা সরকারি গেজেট অনুযায়ী, এই নতুন মূল্যহার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।




তরুণদের কর্মসংস্থানে ১৫ কোটি ডলারের বেশি অর্থায়ন দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

দেশের নিম্নআয়ের তরুণ জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত ১৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার (১৫০.৭৫ মিলিয়ন) অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এই অর্থায়নের মাধ্যমে বিশেষভাবে নারী এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অফ ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (RAISE)’ প্রকল্পের আওতায় এই অতিরিক্ত অর্থায়ন করা হচ্ছে। নতুন এই তহবিল যুক্ত হওয়ায় প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে আগের ২ লাখ ৩৩ হাজারের সঙ্গে আরও ১ লাখ ৭৬ হাজার তরুণকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা পাবেন—

  • বাজারচাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
  • শিক্ষানবিশ (Apprenticeship) কর্মসূচি
  • উদ্যোক্তা উন্নয়ন সহায়তা
  • ক্ষুদ্রঋণ ও আর্থিক সহায়তা

এ ছাড়া নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়াতে মানসম্মত শিশু যত্ন কেন্দ্র (চাইল্ড কেয়ার) এবং জলবায়ু সহনশীল জীবিকাভিত্তিক কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর গেল মার্টিন বলেন,
“একটি ভালো চাকরি শুধু একজন মানুষের জীবন নয়, একটি পরিবার ও একটি সমাজকে বদলে দিতে পারে। প্রতিবছর বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত কাজ পায় না। এই অতিরিক্ত অর্থায়ন নিম্নআয়ের তরুণদের—বিশেষ করে নারীদের—বাজারচাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।”

প্রকল্পের টিম লিডার অনিকা রহমান বলেন,
“RAISE প্রকল্প ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে যে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে শিশু যত্নের মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ যুক্ত করা হচ্ছে, যা নারীদের কর্মজীবনে যুক্ত হতে আরও সহায়ক হবে।”

বিশ্বব্যাংক আরও জানায়, প্রকল্পটি শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়—এটি গ্রামীণ পর্যায়েও সম্প্রসারিত করা হবে। বাড়িভিত্তিক মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিশু যত্ন সেবা চালু করতে নারীদের প্রশিক্ষণ ও স্টার্টআপ অনুদান দেওয়া হবে। এতে একদিকে নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ছাড়া চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে সংযোগ তৈরিতে চাকরি মেলা (Job Fair) আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে শুরু হওয়া RAISE প্রকল্পের ফলাফল ইতোমধ্যেই আশাব্যঞ্জক। প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ শেষ করার তিন মাসের মধ্যেই কর্মসংস্থান পেয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি করোনা-ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বিদেশফেরত অভিবাসী এই প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মেট্রোরেলে ভ্যাট অব্যাহতি বাড়ল, কার্যকর থাকবে ৩০ জুন পর্যন্ত

রাজধানীবাসীর জনপ্রিয় ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতির মেয়াদ আগামী ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমীন শেখ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং মেট্রোরেলকে আরও জনপ্রিয় ও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে মেট্রোরেলকে উৎসাহিত করতে সরকার এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছিল। পরবর্তীতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান অব্যাহতি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ডিসেম্বর নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল পরিষেবা চালু হয় উত্তরা থেকে আগারগাঁও রুটে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল করছে মেট্রোরেল। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াতের জন্য এই সেবা গ্রহণ করছেন।

মেট্রোরেলে কোনো শ্রেণিভেদ বা আলাদা ক্লাস ব্যবস্থা নেই। সকল যাত্রী একই ভাড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারেন, যা এটিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ভ্যাট অব্যাহতি বহাল থাকায় মেট্রোরেলের ভাড়া তুলনামূলকভাবে সহনীয় থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাট অব্যাহতি বাড়ানোর ফলে গণপরিবহনে মানুষের আগ্রহ বাড়বে, যানজট কমবে এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা, লেনদেন বৃদ্ধি

ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ (জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক) – টানা পাঁচ কার্যদিবস দরপতনের পর দেশের শেয়ারবাজার সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ সবকটি মূল্যসূচক বেড়েছে, একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসইতে সূচক ও লেনদেনের তথ্য:

  • প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪,৮৭৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
  • ডিএসই-৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১,৮৭১ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
  • ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১,৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
  • লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ৩৯৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসের ২৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ১০২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বৃদ্ধি।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ৩০২ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেড়েছে, ৩৭টির দাম কমেছে এবং ৪৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী ১৬৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে।

বড় লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান:

  1. বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন – ১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা
  2. সায়হাম কটন – ১৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা
  3. কে অ্যান্ড কিউ – ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

অন্যান্য শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান: রহিমা ফুড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, মুন্নু ফেব্রিক্স।

সিএসই-এর তথ্য:

  • সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৮ পয়েন্ট বেড়েছে।
  • লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৫৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৮টির দাম বেড়েছে, ৫০টির দাম কমেছে এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
  • লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, আগের কার্যদিবসের ১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি।

শেয়ারবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের আস্থার পুনরুদ্ধার ও লেনদেন বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




স্বর্ণের বাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধি

দেশের স্বর্ণবাজার আবারও দামের ঊর্ধ্বগতির মুখে। স্থানীয় বাজারে খাঁটি তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় জুয়েলারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন দামের তালিকা ঘোষণা করেছে। তাদের সর্বশেষ মূল্য সমন্বয় অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে এক হাজার টাকার বেশি দাম বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের নতুন করে হিসাব-নিকাশে ফেলতে পারে।

রবিবার রাতে বাজুস থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের ওঠানামা চলমান। এর প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও পড়ছে। সম্প্রতি খাঁটি (পিওর) সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে বাধ্য হয়েই দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দামের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য সোমবার থেকে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিতে নতুন যুক্ত মূল্য এক হাজার পঞ্চাশ টাকা। এর ফলে স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য বাজেট কিছুটা বাড়তে হবে। বিশেষ করে যারা বিয়েসহ বড় কেনাকাটার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য নতুন মূল্য বেশ চাপের কারণ হতে পারে। তবে প্রয়োজনীয়তা ও বাজার চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।

এদিকে, বিভিন্ন ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের দাম নতুন তালিকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দুই লাখ আট হাজার টাকার বেশি নির্ধারিত হয়েছে। একইভাবে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি কিছুটা কম হলেও তা এখনো উচ্চমুখী। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম অন্যান্য ক্যারেটের তুলনায় নিম্ন হলেও সেটিতেও বৃদ্ধি রয়েছে।
স্বর্ণের দামে হঠাৎ বৃদ্ধি অনেক ভোক্তার কাছে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য এই বাড়তি মূল্য ক্রয়ক্ষমতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এই পরিবর্তন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়বে নাকি কমবে, তা অনেকটাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

অন্যদিকে রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের দামেই রুপা বিক্রি হচ্ছে। ফলে যারা কম দামে অলংকার খুঁজছেন, তাদের জন্য রুপা এখনো স্বস্তির জায়গা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ২২ ক্যারেট রুপা চার হাজার পাঁচশ টাকার ঘরে থাকায় রুপার চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল হবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে দেশের বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে পারে। সেক্ষেত্রে দাম কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আপাতত মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকেই যাচ্ছে।
স্বর্ণ দেশের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অংশ। বিয়ে, উৎসব ও বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বর্ণের ব্যবহার অপরিহার্য। ফলে দামের বৃদ্ধি আনন্দের মুহূর্তগুলোতে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে অনেকে মনে করছেন, স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ হিসেবেও লাভজনক। তাই বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হলেও অনেকেই বিকল্প বিনিয়োগ পরিকল্পনায় স্বর্ণকে রাখবেন।

যদিও বাজারে স্থিতিশীলতা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাঙ্খিত, তবুও দেশের বাজারে আন্তর্জাতিক প্রভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে নতুন দামে স্বর্ণ কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সচেতন ও হালনাগাদ তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




গ্যাস আমদানিতে বড় প্রকল্পের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে মহেশখালী–বাখরাবাদ তৃতীয় সমান্তরাল গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ব্যয় প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩২০ কোটি টাকা। প্রাক-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী এই অবকাঠামো নির্মাণে সময় লাগতে পারে প্রায় পাঁচ বছর। পাইপলাইনটি গড়ে উঠলে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়বে, যা ভবিষ্যতের গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দুইটি এফএসআরইউ মিলিয়ে দৈনিক প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। কিন্তু বিদ্যমান পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় আমদানি বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। এদিকে দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন ক্রমাগত কমছে। একসময় দৈনিক উৎপাদন ছিল প্রায় ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে ২০ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন নেমেছে ১৭৪৮ মিলিয়নে। বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে, যা দেশের মোট উৎপাদনের বড় অংশ জোগান দেয়। সেখানে উৎপাদন দ্রুত কমে গিয়ে ৮৫৫ মিলিয়নে ঠেকেছে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গ্যাসের এই ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলা একাধিক নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তৃতীয় এফএসআরইউ ও ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন। এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দৈনিক আমদানি সক্ষমতা ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়াবে। ভাসমান টার্মিনাল দ্রুত নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে জি-টু-জি ভিত্তিতে দরপত্র দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে এবং সৌদি আরব, কাতার, আজারবাইজানসহ চারটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে সময় সাশ্রয় হলেও ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যাচাই এখনো আলোচ্য পর্যায়ে রয়েছে।
বিদ্যমান দুটি এফএসআরইউর মধ্যে একটি সামিট গ্রুপ এবং অন্যটি এক্সিলারেট পরিচালনা করছে। তবে আগের সরকারের সময় সামিটের সঙ্গে নতুন চুক্তি হলেও নিরাপত্তা জামানত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তা বাতিল হয় এবং বিষয়টি আদালতে রয়েছে। এই কারণে নতুন টার্মিনালকে চতুর্থ টার্মিনাল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে যাতে জটিলতা এড়ানো যায়।

তবে শুধুমাত্র টার্মিনাল নির্মাণ করলেই গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। পাইপলাইন নির্মাণ এবং সংযোগ সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। পিডিপিপিতে পাঁচ বছরের সময়সীমা উল্লেখ থাকায় ২০২৬ সালের শেষ থেকে ২০২৭ সালের শুরুতে দেশে তীব্র গ্যাস সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে বছরে গড়ে দৈনিক উৎপাদন ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমছে। এ অবস্থায় আমদানি বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই, কিন্তু এলএনজি আমদানি ব্যয়বহুল হওয়ায় অর্থনৈতিক চাপও বাড়বে। পাশাপাশি অবকাঠামো নির্মাণে সময়, ব্যয়, বিদেশি অর্থায়ন নির্ভরতা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, বিদেশি অংশীদারিত্ব এবং সময় ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে সামলানো জরুরি। দেশীয় উৎপাদন হ্রাস, আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে চালিত এই বাস্তবতা বাংলাদেশের সামগ্রিক জ্বালানি নীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের দাবি তুলছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




ডিসেম্বরের ২০ দিনে রেমিট্যান্সে এলো ২১৭ কোটি ডলার

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গতিতে বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন স্বস্তি এনেছে। মাসের প্রথম ২০ দিনে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সমান (ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হিসাবে)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান প্রবাহ অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ডলারের বাজারে ভারসাম্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যখাতে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে ব্যাঙ্কগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ কোটি ডলার ক্রয় করেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে প্রতিটি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.৩০ টাকা। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২ হাজার ৯৩২ মিলিয়ন বা ২.৯৩ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে, যা ডলার বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

আগের বছরের তুলনায় প্রবাসী আয় বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা থেকে চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। শুধু অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী জুলাই থেকে ডিসেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ, সরকারি প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে পাঠানো অর্থ নিরাপদ এবং দ্রুত আসায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আশা করছে, এ ধারাবাহিকতা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এবং আমদানি ব্যয় নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অন্যদিকে নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আরও বেশি ছিল। মাত্র এক মাসেই দেশে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা সমান। এসব তথ্য দেশের প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, যা আগামী মাসগুলোতে আরও ইতিবাচক ফল দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”