বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২৯তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর পূর্বাচলে এই মেলার উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

প্রতি বছরের মতো এবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করছে। এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রথমবারের মতো অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল ও প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো ই-টিকিটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে বিশেষ ছাড়ে উবার সার্ভিস।

মেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সম্মানার্থে তৈরি করা হয়েছে ‘জুলাই চত্বর’ ও ‘ছত্রিশ চত্বর’। এছাড়া দেশের তরুণ সমাজকে রপ্তানি বাণিজ্যে উদ্বুদ্ধ করতে তৈরি করা হয়েছে ইয়ুথ প্যাভিলিয়ন।




আরও ৩ মাস সময় পাচ্ছে দুর্বল ব্যাংকগুলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গ্যারান্টির আওতায় ধার পাওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলো প্রথম ধাপের ঋণ শোধ করতে পারেনি। ফলে ধার শোধে ব্যাংকগুলোকে আরও তিন মাস সময় বাড়িয়ে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে দুর্বল পাঁচটি ব্যাংকে সবল ব্যাংক থেকে ধার নিতে গ্যারান্টি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো- ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক।

এই ব্যাংকগুলো প্রথম ধাপে সবল ব্যাংক থেকে ৯০০ কোটি টাকার গ্যারান্টি পায়। শর্ত ছিল তিন মাসে এ ধার শোধ করতে হবে। তবে তিন মাস সময় পার হয়ে গেলেও ব্যাংকগুলো অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে ব্যাংকগুলোকে ঋণ শোধে আরও তিন মাস সময় বাড়িয়ে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে এমন একটি প্রস্তাবনা গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করাও হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশসহ প্রায় ডজনখানেক ব্যাংক থেকে কয়েকটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠী নামে-বেনাম ঋণ বের করে নেয়। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে নতুন গভর্নর হিসেবে যোগদান করে ড. আহসান এইচ মনুসর। এরপর ব্যাংকগুলোর আসল চিত্র বেরিয়ে আসে। ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে— এখন গ্রাহকের টাকাও দিতে পারছে না।

এমন পরিস্থিতি গত সেপ্টেম্বরে তারল্য সংকটে পড়া ব্যাকগুলোকে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে তহবিল পেতে গ্যারান্টি পদ্ধতি চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই গ্যারান্টির মাধ্যমে সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো ভালো ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিতে পারে।




১২ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করলো বিএফআইইউ

বৈধ আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সন্দেহে ১২ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈধ আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সন্দেহে ১২ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ‌্যও দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হিসাব তলব করা সাংবা‌দিকরা হ‌লেন— সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বাদল, ঢাকা টাইমসের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন, বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম হাসিব, নাগরিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক দ্বীপ আজাদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপ-প্রদান বার্তা সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সাবেক মহাপরিচালক জাফর ওয়াজিদ, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হোসনে আরা মমতা ইসলাম সোমা, দৈনিক জনকণ্ঠের ডেপুটি এডিটর ওবাইদুল কবীর মোল্লা, দৈনিক জাগরণের সম্পাদক আবেদ খান, ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত এবং গ্লোবাল টিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশ‌তিয়াক রেজা।




রমজান ও ঈদ উপলক্ষে বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রস্তুতি : বাণিজ্য উপদেষ্টা

রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, রমজান সংশ্লিষ্ট সকল পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে, ফলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং নিত্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী থাকবে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে প্রান্তিক জনগণের কাছে কিছুটা স্বস্তি পৌঁছানো।” তিনি আরও বলেন, রাজশাহী জেলার এক লাখ মানুষের কাছে টিসিবির পণ্য কেনার জন্য কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া চলছে। দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসরত প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের মধ্যে অন্তত এক কোটি প্রকৃত দরিদ্র জনগণকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সকলকে টিসিবির কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়, তবে স্থানীয় প্রশাসন জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত উপযুক্ত উপকারভোগী নির্বাচন করবে। সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

এদিকে, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা ইকবাল জানান, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এক কোটি কার্ডের মধ্যে ৫৭ লাখ কার্ড স্মার্টকার্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কার্ড বাতিল করা হবে। বাকি ৪৩ লাখ কার্ডের বিষয়ে কাজ চলছে।

সভায় জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, রাজশাহী বিভাগের কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আলমগীর রহমান, আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম, এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ডলারের দাম বাড়ায় বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। একইসঙ্গে যোগ হয়েছে দাতা সংস্থার ঋণ ও অনুদান। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা এ তথ‌্য নি‌শ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিদেশি অনুদান যোগ হয়েছে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো, এসব কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম মেনে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ-এর পরিমাণ এখন ২১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবেও আগের চেয়ে বেড়েছে রিজার্ভ।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের ‘বিপিএম-৬’ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

তবে এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, তা হলো ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ। এ তথ‌্য আনুষ্ঠা‌নিকভাবে খুব একটা প্রকাশ করে না কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক। সেখানে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়।

চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে বৈধ পথে ২৪২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপ‌রিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৯ হাজার ৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। বিশেষ করে ডলারের দাম ১২০ টাকায় ছিল দীর্ঘদিন ধরে। তবে গত সপ্তাহে ডলারের চা‌হিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়ে যায়। যার কারণে রে‌মিট‌্যান্স প্রবাহও বেড়েছে। যা রিজার্ভ বাড়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।




সিলেটে তেলের মজুদ: দেড় কোটি ব্যারেল উত্তোলনযোগ্য

সিলেটের তেলের খনিতে উত্তোলনযোগ্য মজুদ প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্লামবার্জার নামক কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল হারে তেল উত্তোলন করা সম্ভব হলে আগামী ১০ বছর পর্যন্ত এই মজুদ উত্তোলন করা যাবে।

সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকৌশলী মো. রেজাউল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মজুদ আরও বেশি হতে পারে। স্লামবার্জারের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিলেটের খনিতে মোট ১৪.৮ মিলিয়ন ব্যারেল (প্রায় দেড় কোটি) উত্তোলনযোগ্য তেল রয়েছে। এতে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল তেল উত্তোলন সম্ভব বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এছাড়া, সিলেট-১০ কূপের ১৩৯৭-১৪৪৫ মিটার গভীরতায় তেলের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় প্রথম দিনে ২ ঘণ্টায় ৭০ ব্যারেল তেল উত্তোলন হয়, যদিও কূপটি বর্তমানে বন্ধ রাখা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকার জানিয়েছেন, সিলেট-১০ থেকে উত্তোলিত তেলের কোয়ালিটি অত্যন্ত উন্নতমানের। বুয়েট এবং ইস্টার্ন রিফাইনারী কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষার পর তেলটি উৎকৃষ্ট মানের বলে প্রতিবেদন দিয়েছে।

এছাড়া, সিলেট-১০ কূপে গ্যাসের তিনটি স্তর পাওয়া গেছে, যার সম্ভাব্য মজুদ ৪৩.৬ থেকে ১০৬ বিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে। গ্যাস উত্তোলনের প্রস্তুতি চলছে, তবে পাইপলাইনের অভাবে এখনো উত্তোলন শুরু হয়নি।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানিয়ে দেন, পাইপলাইন নির্মাণের কাজ শিগগিরই শেষ হবে এবং ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের গ্যাস ফিল্ডগুলোর উৎপাদন কমে আসছে, এবং আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৭ লাখ ৬১ হাজার ৩২০ টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র ৮ শতাংশ তেল দেশীয় উৎস থেকে এসেছে। বাকি ৯২ শতাংশ আমদানি করা তেল। ডিজেল এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল বর্তমানে দেশের প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইয়েমেনকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইয়েমেনের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নতুন অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সৌদি আরব।

এই সহায়তা ইয়েমেনি সরকারের বাজেট শক্তিশালী করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ইয়েমেনি জনগণের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেওয়া হবে।

শুক্রবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, এই প্যাকেজের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা হবে, যা দেশটির অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি উন্নত করবে। বাকি ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যবহার করা হবে ইয়েমেনের বাজেট ঘাটতি পূরণে।

নতুন এই সহায়তা সৌদি উন্নয়ন ও পুনর্গঠন কর্মসূচির (এসডিআরপিওয়াই) মাধ্যমে পরিচালিত ১.২ বিলিয়ন উদ্যোগের অংশ। যা ইয়েমেনের খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মজুরি ও অপারেটিং খরচে সহায়তা এবং ইয়েমেন সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।




বাংলাদেশের রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে : গভর্নর

বাংলাদেশের রিজার্ভ বর্তমানে ২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রয়েছে। গত পাঁচ মাসে দেশটি পেয়েছে ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, এবং আগস্ট মাসের পর থেকে আর কোনো ডলার বিক্রি করা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য জানান। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা অডিটোরিয়ামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০তম শাখা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

গভর্নর জানান, রিজার্ভে কোনো পতন হয়নি, বরং রিজার্ভ বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, “ব্যাংকিং খাতে যেসব সংকট ছিল, সেখান থেকে দেশের ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আগে শঙ্কা ছিল, কিন্তু এখন আর কোনো ব্যাংক ধ্বংস হবে না। আমাদের দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন করতে গেলে ব্যাংকিং খাতকে পুনর্গঠন করতে হবে।”

ড. আহসান মনসুর আরো বলেন, “বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে বিপুল ঘাটতি এবং রিজার্ভের পতনের আশঙ্কা থাকলেও আমরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ এখন আর কমবে না, বাড়বেই। রেমিট্যান্সের প্রবাহও গত পাঁচ মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।”

এছাড়াও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০৩৯ সালে বিশ্বে ২১তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: সিইবিআর

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২১তম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে স্থান দখল করবে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ড এবং সুইডেন যথাক্রমে ২২তম এবং ৩০তম স্থানে থাকবে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৪৩৪ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে বিশ্বের ৩৭তম বৃহৎ অর্থনীতি। সিইবিআর’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১৬ ধাপ এগিয়ে ২১তম অবস্থানে পৌঁছাবে।

সিইবিআর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী,

২০২৫ সালে বাংলাদেশ হবে ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতি।

২০২৯ সালে বাংলাদেশ অবস্থান করবে ২৭তম।

২০৩৪ সালে বাংলাদেশের স্থান হবে ২৩তম।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৯ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি হবে ৮,০৬১ মার্কিন ডলার, যা ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১২৩তম অবস্থানে রাখবে বাংলাদেশকে।

২০৩৯ সালেও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। চীন এবং ভারত যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের পাশাপাশি ওষুধ এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে সফল বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কার্যকর ব্যবহারের ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



 শীতকালীন সবজিতে স্বস্তি, তবে বাড়ছে মুরগি ও চালের দাম

শীত মৌসুম শুরু হওয়ার পর রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। তবে একদিকে দাম কমলেও মুরগি এবং চালের দাম বাড়ছে। শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে শীতকালীন শাক-সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাবে দাম কমেছে নানা ধরনের শাক-সবজির।

এদিকে, মুরগির দাম বেড়ে গেছে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০০ থেকে ২১০ টাকা, লেয়ার মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৫০ টাকা, হাইব্রিড সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা, এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এসব মুরগির দাম ছিল তুলনামূলকভাবে কম, তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আড়ত থেকে মুরগির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে খুচরা বাজারে তা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

**সবজির বাজার**:
সবজির বাজারে কিছু স্বস্তি এসেছে। বর্তমানে আলু ৫০ টাকা কেজি, টমেটো ৮০ টাকা কেজি, গাজর ৬০ টাকা কেজি, পেঁপে ৫০ টাকা কেজি, পটল ৫০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৫০ টাকা জোড়া, পাতা কপি ৪০ টাকা পিস, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি, সিম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, কাঁচা মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা প্রতি পিস, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা কেজি, এবং দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে দাম কিছুটা উর্ধ্বমুখী। রুই মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি, কাতল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি, টেংড়া ৬৫০ টাকা কেজি, সরপুঁটি ২৫০ টাকা কেজি, মলা ৪০০ টাকা কেজি, এবং দেশি কই ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও, ইলিশ মাছের দামও বেড়েছে; ১ কেজি থেকে ১ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২৪০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে গত সপ্তাহের মতো একই দাম রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা, লাল ডিমের ডজন ১৩০-১৩৫ টাকা এবং হাসের ডিমের ডজন ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের বাজারে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে। চালের দাম কেজি প্রতি ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বরিশাল রাইছ এজেন্সির বিক্রেতা জানান, মিলার ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কারসাজিতে চালের দাম বেড়েছে। বর্তমানে মিনিকেট চাল কেজি ৭২-৭৫ টাকায়, নতুন আটাইশ ৫৫-৫৭ টাকা, পুরাতন আটাইশ ৬০-৬২ টাকা এবং নাজিরশাইল ৭৬-৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, শীতকালীন সবজির দাম কমলেও, মুরগি, মাছ, ডিম এবং চালের বাজারে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম