২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেয়ে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সাধারণ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা হ্রাস পেয়ে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নভেম্বর মাসে ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা নভেম্বর মাসে ছিল ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে কমে ৯ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যদিও নভেম্বর মাসে এটি ছিল ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

শহর ও গ্রামীণ উভয় এলাকায় মূল্যস্ফীতির হার ডিসেম্বরে কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় ডিসেম্বরে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির হার ১১ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নভেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। অ-খাদ্য মূল্যস্ফীতি গ্রামীণ এলাকায় ডিসেম্বরে ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশে নেমে এসেছে, নভেম্বর মাসে ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ।

শহরাঞ্চলে ডিসেম্বরে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ ছিল, যা নভেম্বরে ছিল ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ডিসেম্বরে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরে ছিল ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতির হার শহরাঞ্চলে ডিসেম্বরে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ ছিল, নভেম্বর মাসে ছিল ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

জাতীয় পর্যায়ে ডিসেম্বরে সাধারণ মজুরি হার পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ১০ শতাংশ।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




মেট্রোরেলের সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজধানীর জনপ্রিয় বাহন মেট্রোরেলের সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) এনবিআরের ভ্যাট বিভাগের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী সই করা চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, যেহেতু মেট্রোরেল বাংলাদেশের সর্বাধুনিক ও জনপ্রিয় গণপরিবহন; মেট্রোরেল যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি কর্মঘণ্টা সাশ্রয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে; মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে যাতায়াত ব্যয় সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন। সেহেতু এনবিআর মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন) এর ধারা ১২৬ এর উপ-ধারা (৩) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, দ্রুতগামী, নিরাপদ, সময় সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও দূর নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহণ ব্যবস্থা মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপণীয় মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেওয়া হলো। আর এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং ২০২৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ l
বাড়ছে শুল্ক-ভ্যাট, বাড়তি টাকা গুনতে হবে ভোক্তাদের
আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ল
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেল চলাচল মতিঝিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাস নেই। সব যাত্রী একই ভাড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে পারেন।




জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪.২৩ শতাংশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত বছরের তুলনায় এ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে মোট দেশজ উপাদানের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪.২৩ শতাংশ।

সোমবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য প্রকাশ করে।

বিবিএস জানায়, চলতি অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ হার দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬ দশমিক ০৪ l
এতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের ৩ মাসে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ১৬ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। সেবা খাতে গত তিন মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ।




দুই-আড়াই টাকার ফুলকপি হাত বদলে পটুয়াখালীতে ২৫-৩০ টাকা

পটুয়াখালীর বাজারে ফুলকপির দামে বড় বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকরা ফুলকপি বিক্রি করছেন মাত্র ২-৩ টাকায়, অথচ শহরের বাজারে সেই ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকায়। এমন মূল্যবৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) পটুয়াখালীর নিউমার্কেট, পুরান বাজার, নতুন বাজার, কলাতলা ও হেতালিয়া বাধঘাটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গুনগত মানের ওপর ভিত্তি করে ফুলকপি ২০-৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে উৎপাদন স্থানের তুলনায় এমন দামের পার্থক্যে অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিক্রেতারা দাবি করছেন, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বাড়ছে।

শিমুলবাগ এলাকার বাসিন্দা মোহন খন্দকার পৌর নিউমার্কেটে সবজি কিনতে এসে বলেন, “কৃষকরা যেখানে ২-৩ টাকায় ফুলকপি বিক্রি করছে, আমাদের কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকায়। জিজ্ঞেস করলেই বলা হয়, ডিজেলের দাম বেশি তাই সবজির দাম বেশি। এই অবস্থায় কৃষকরা উৎপাদনে অনাগ্রহী হবে আর আমাদের পকেটের ক্ষতি হবে। আমার মতে, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে।”

নিউমার্কেটের খুচরা বিক্রেতা কাওসার আহমেদ বলেন, “আমরা পাইকারি বাজার থেকে ১৫ টাকায় কিনে ২০ টাকায় বিক্রি করি। লাভের পরিমাণ খুবই সীমিত।”

একই বাজারের বিক্রেতা মো. শুক্কুর জানান, “আমরা যেভাবে পাই, সেভাবেই বিক্রি করি। সবজির দাম কম বলে শোনা যায়, কিন্তু আমাদের কিনতে হয় বেশি দামে। আমরা কম দামে কিনতে পারলে অবশ্যই ক্রেতাদের কম দামে দিতে পারতাম।”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। তারা কৃষকদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ফুলকপি কিনে শহরের বাজারে চড়া দামে বিক্রি করছে।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ শোয়াইব মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এটা পুরোপুরি মার্কেট অ্যানালাইসিসের বিষয়। প্রকৃতপক্ষে তারা কী দামে কিনছে এবং পরিবহন খরচ কত হচ্ছে, সেটা তারাই জানে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০ শতাংশ অর্ডার বাতিল, বন্ধের ঝুঁকিতে শত পোশাক কারখানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: করেছে বিদেশি ক্রেতারা। শ্রমিক অসন্তোষে এখনও আস্থা পাচ্ছেন না তারা। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আশুলিয়া এলাকার কারখানাগুলো নিয়ে আস্থা কম তাদের। বিজিএমইএ ও বিকেএমইয়ের হিসাবে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ৬ মাসে সারাদেশে প্রায় ১০০ কারখানা বন্ধ হবে।

সাভার ও আশুলিয়ায় ছোট-বড় পোশাক কারখানার সংখ্যা ৪৫০টি। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী শ্রমিক অসন্তোষের কবলে এই এলাকার কারখানাগুলো। বন্ধ হয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর তালিকাভুক্ত প্রায় ২০০ কারখানা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আশুলিয়া এলাকার শ্রমিক অসন্তোষ পর্যবেক্ষণ করছেন বিদেশি ক্রেতারা। এসব কারখানায় কাজ দিতে আস্থা পাচ্ছেন না তারা।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘ব্র্যান্ড ও বায়াররা এখন আশুলিয়া বেল্টের যে কোনো ফ্যাক্টরিতে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে খুব সতর্ক, সচেতন। তারা অনেকটাই আস্থাহীনতায় ভুগছে। আমাদের অর্ডার যে অন্য জায়গায় যাচ্ছে তার প্রমাণটা সামনে পাওয়া যাবে।’

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৬ মাসের অস্থিরতার ধকল আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বইতে হবে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে আগামী ৬ মাসে আরও ১০০ কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘তারা হয়ত চেষ্টা করছে ব্যাংকের সাথে কোনো নেগোসিয়েশন করে একটা পর্যায়ে গিয়ে আবার যদি পারে চালু করবে। না হলে তারা হয়ত পার্মানেন্টলি বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ আগামী ১ বছরে আরও শ খানেক ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আমরা করছি।’

শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ বলেন, ‘শতভাগ ফ্যাক্টরি সচল রাখতে পারলেই কিন্তু আমরা ব্যাংকের ঋণ শোধ বা কর্মীদের বেতন চালু রাখতে পারব। কিন্তু এখন যদি আমার ২০ ভাগ ক্যাপাসিটিতে ফ্যাক্টরি চালাতে হয় তাহলে যেটা হবে আমি তো আর্থিকভাবে সবল হবো না।’

যদিও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ থেকে গড়পড়তা সস্তা পোশাক কিনছে। ফলে তারাও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। তাই সাময়িক অস্বস্তি থাকলেও বড় আকারে বাজার হারানোর আশঙ্কা নেই।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ভিয়েতনাম বলি কম্বোডিয়া বলি, কারও এত বড় সাপ্লাই বেজ নেই। সুতরাং বড়ভাবে এখান থেকে মার্কেট শিফট হয়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে সাময়িক কারণে কিছু সময়ের জন্য হয়ত কিছু অর্ডার এদিক সেদিক হতে পারে।’




বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ অনিয়ম নিয়ে সোনালী ব্যাংকের বড় ঘোষণা

সোনালী ব্যাংক থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের নেওয়া ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট দাবি করেছে যে তারা ঋণ আদায়কে কেন্দ্র করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত, হলমার্ক গ্রুপের ঋণের বিপরীতে দেওয়া সম্পত্তির পরিমাণও আরও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, নতুন জমির সাথে ১৬৭ একর জমি সংযুক্ত করা হয়েছে। এসবের ফলে ব্যাংকটির ঋণ আদায়ে সহায়তা প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে।

২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, হলমার্ক এবং টিএম ব্রাদার্সের মতো বড় ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ আদায়ে তারা কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছেন না। এছাড়া, সোনালী ব্যাংক ২০২৪ সালে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে এবং এটি ব্যাংকটির ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।

এদিকে, ব্যাংকের সাম্প্রতিক মুনাফা এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রদান বৃদ্ধি নিয়েও সোনালী ব্যাংক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তার মতে, তারা ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করছে এবং ২০২৪ সালে তাদের প্রভিশন ঘাটতি কমে আসবে।

এছাড়া, সোনালী ব্যাংক তাদের কর্মীদের মোটিভেট করতে পদোন্নতি প্রদান করেছে এবং ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ বেড়ে ১৬৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বেশি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি জানান, তারা ২০২৫ সালে আরও সমৃদ্ধির পথে চলার জন্য প্রস্তুত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, ৪.৬৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৭.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি

২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২.৮৪ শতাংশ। মোট আয় হয়েছে ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২১.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

পোশাক খাতে আয়ের বৃদ্ধি

ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭.৭৫ শতাংশ, আয় হয়েছে ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ৩.২১ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩.২৮ শতাংশ, আয় হয়েছে ১৯.৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ১৭.৫৫ বিলিয়ন ডলার।

ফলমূল, মাছ এবং অন্যান্য খাতে আয়ের বৃদ্ধি

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে হিমায়িত এবং জীবন্ত মাছ থেকে রপ্তানি আয় বেড়ে ১৩.০১ শতাংশ হয়ে ২৬৪ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২১৭ মিলিয়ন ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০.৪৪ শতাংশ, আয় হয়েছে ৫৭৭ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ৫২৩ মিলিয়ন ডলার। কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় বেড়ে ৯.৩১ শতাংশ হয়েছে, আয় হয়েছে ৫৯৬ মিলিয়ন ডলার।

পাট, পাটজাত পণ্য এবং অন্যান্য খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

পাট ও পাটজাত পণ্যে ৮.১১ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং আয় হয়েছে ৪১৭ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ৪৫৪ মিলিয়ন ডলার। চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১১.১০ শতাংশ কমে ১৬২ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, গত বছর ছিল ১৮২ মিলিয়ন ডলার।

রপ্তানিকারকদের মতামত

স্নোটেক্সট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ জাগো নিউজকে জানান, বিশ্বব্যাপী পোশাক ক্রেতারা চীন থেকে তাদের ক্রয় স্থানান্তর করছে এবং সোর্সিং হাব হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিচ্ছে। এর ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে তবে মজুরি বৃদ্ধি ব্যবসায়িক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।”

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “বৈশ্বিক বাজারে ক্রিসমাস, ব্ল্যাক ফ্রাইডে, নিউ ইয়ারের মতো উৎসবে পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে এই সময়ে রপ্তানি বেড়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “এই সময়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত: ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের হুমকি

ভ্যাট বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। ভ্রমণ, সিগারেট, এলপিজি, পোশাক, রেস্তোরাঁর খাবার সহ একাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের ব্যবসায়ী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪-৫ মাসের মন্দা পরিস্থিতির পর যখন ব্যবসা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রেস্তোরাঁর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া নন-এসি হোটেলের ভ্যাটও দ্বিগুণ করে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া বিমান টিকিটের ওপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি প্রস্তাবিত হয়েছে, যা স্থানীয় ফ্লাইটে ৭০০ টাকা, সার্ক দেশে ১,০০০ টাকা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এ পদক্ষেপের মাধ্যমে এনবিআর ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, “এভাবে মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর মানে হয় না। ছোট ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্ট্রাইকে চলে যাব এবং সবার সঙ্গে কথা বলব।”

অরুনিমা রিসোর্টের চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, “এখনো পর্যটন খাত খুবই সংকটাপন্ন। যদি বিমান ভাড়াও বাড়ানো হয়, তাহলে এই খাতের ক্ষতি আরও বাড়বে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নতুন ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের ওপর আরও চাপ পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন করতে পারে। সরকার যদি এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভ্যাট বাড়লেও নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব পড়বে না : অর্থ উপদেষ্টা

রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪৩টি পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও নিত্যপণ্যের দামের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের জন্য নয়, বরং রাজস্ব বৃদ্ধির জন্যই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিন তারকা ও এর ওপরের মানের হোটেলগুলোর ক্ষেত্রে কর বাড়ানো হয়েছে, তবে সাধারণ হোটেল ও রেস্তোরাঁর ওপর কোনো ভ্যাট বাড়ানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এই ভ্যাট বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না। এ বছর দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, ব্যাংক খাতকে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করা হবে এবং আগামী বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো ডিসেম্বরে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার বা ২৬৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।

একক মাস হিসাবে আগে কখনোই এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি। এর আগে করোনাকালীন ২০২০ সালের জুলাই ২ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এবার সেই রেকর্ড ভাঙলো ২০২৪ সালের বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।