নতুন মূল্য নির্ধারণ, ১২ কেজি এলপিজি ১৪৫৯ টাকা

ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এর দাম ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৫৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত ২ জানুয়ারি ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১৪৫৫ টাকা।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিইআরসি ভ্যাট সমন্বয় করে নতুন এলপিজি দর ঘোষণা করেছে। এখন ১২ কেজি এলপিজির দাম কেজিপ্রতি ১২১.৫৬ টাকা, যা আগে ছিল ১২১.১৯ টাকা। পাশাপাশি, অটো গ্যাসের দাম লিটার প্রতি ৬৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৭.২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যদিও চলতি জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমেছে, তবুও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিইআরসি প্রথমে দাম অপরিবর্তিত রাখে। ডিসেম্বরে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় দাম টন প্রতি ১৩.৩৩ ডলার কমলেও, ডলারের দর বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বাড়াতে হয়েছে।

এলপিজির দাম ঘোষণা করার সময় বিইআরসি জানিয়েছিল, সৌদি আরবের বাজারে দাম ওঠানামা করলে ভিত্তিমূল্যও পরিবর্তিত হবে। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে এলপিজির দর ঘোষণা শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত প্রতিমাসে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে, বাজারে কখনও বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরকারি চাকরীজীবীদের বেতন বাড়ানো-কমানোর হার নির্ধারণ হতে পারে প্রতিমাসে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সিভিল সার্ভিসের ২৬টি ক্যাডারের পরিবর্তে ছয়টি করার সুপারিশ করার কথা ভাবছে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন। পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস থেকে ক্যাডার শব্দটি বাদ দেওয়া, অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের সুপারিশ আসতে পারে। এছাড়া ডিসির পূর্ণাঙ্গ নাম ডেপুটি কমিশনারের পরিবর্তে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট করা এবং ভূমি, সিটি করপোরেশন, পাসপোর্ট, জন্ম ও মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দরিদ্র মানুষের হয়রানি নিরসনে দেওয়া হতে পারে একগুচ্ছ সুপারিশ।

কমিশনসংশ্লিষ্টরা জানান, কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের সুপারিশ করতে পারে। এ পদ্ধতিতে দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি ঘটলে বেতন বাড়বে আবার দ্রব্যমূল্য কমলে বেতন কমবে। প্রতিদিন সরকারি সংস্থাগুলো বাজার মনিটরিং করবে। প্রতিদিনের বাজারদর বিশ্লেষণ করে বেতন বৃদ্ধি বা কমার হার নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন সরকার নির্ধারিত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রধান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী রোববার বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে না। কিছু কাজ এখনো বাকি। কী থাকছে সুপারিশে এমন প্রশ্নে কমিশনপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। যা থাকবে তা প্রতিবেদন দিলেই জানতে পারবেন।

কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিভিল সার্ভিসে মোট ২৬টি ক্যাডার রয়েছে। ক্যাডারগুলোর মধ্যে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। যা নিয়ে দ্বন্দ্ব ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। একে অপরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ তুলছে। এ দ্বন্দ্ব, বাকযুদ্ধ ও লেখালেখি যে নতুন করে শুরু হয়েছে তা কিন্তু নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৬ সালে তৎকালীন ২৬ ক্যাডার (ইকোনমিক ক্যাডারসহ) ও প্রশাসন ক্যাডার প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। এর আগেও প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সংগঠন (প্রকৃচি) নানা সময়ে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিয়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিল। কিন্তু বিগত সরকারগুলো আন্তঃক্যাডার দ্বন্দ্ব নিরসনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে প্রযুক্তি প্রসারের ফলে এখন ক্যাডারগুলোর দ্বন্দ্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো বিব্রত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্যাডারের ১০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।




চীনা আধিপত্যের লাগাম টানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, শিপ বিল্ডিং শিল্পে নতুন কৌশল

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক সামুদ্রিক শিল্পে আধিপত্য বিস্তার করতে চীনের অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। চীন যে ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তরের চাপ এবং মেধাস্বত্ব চুরির মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে প্রভাব বিস্তার করছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

২০২৪ সালের এপ্রিলে মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) ক্যাথরিন টাই-এর অধীনে শুরু হওয়া তদন্তে চীনের শিপ বিল্ডিং শিল্পে ত্বরান্বিত অগ্রগতি এবং মার্কিন শিল্পের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। ২০০০ সালে বৈশ্বিক ১৫০ বিলিয়ন ডলারের শিপ বিল্ডিং বাজারে চীনের শেয়ার ছিল মাত্র ৫ শতাংশ, যা বর্তমানে ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে।

এদিকে, চীনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, শ্রমিকদের মজুরি কৃত্রিমভাবে কমিয়ে রাখা, বিদেশি কোম্পানির জন্য অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা। এই পরিস্থিতি মার্কিন শিল্পের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ বা পোর্ট ফি বৃদ্ধি করতে পারে।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং নির্বাচনী দল চীনকে নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে। এর আগে, ট্রাম্প প্রশাসন চীনা পণ্যের ওপর হাজার হাজার কোটি ডলারের শুল্ক আরোপ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি এবং চীনা পণ্যের ওপর আরও শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে শংকা প্রকাশ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই শিপ বিল্ডিং শিল্প পুনর্গঠন করতে কয়েক দশক এবং বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রে জাহাজ নির্মাণের বেসরকারি ও সরকারি কারখানাগুলোর সংখ্যা বর্তমানে অত্যন্ত সীমিত, এবং এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন।

এছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক কেলি সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ একত্রে কাজ করছেন যাতে মার্কিন জাহাজ নির্মাণশিল্পের পুনর্গঠন সম্ভব হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কর আরোপে ক্ষুব্ধ বরিশালের সাধারণ মানুষ

সম্প্রতি, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন করে কর আরোপ করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকার দাবি করছে, বাজার এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কিন্তু বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আসলে পরিস্থিতি ভিন্ন। শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা কমলেও, অন্যান্য পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। নতুন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে, সরেজমিনে বরিশালের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শীতকালীন সবজি যেমন ফুলকপি ও শালগমের দাম কমলেও, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো আকাশচুম্বী। মুদি দোকানগুলোতে চিনি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, এবং ২৮ কেজি চালের বস্তা ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকার গৃহিণী হাসিনা আক্তার জানান, “বাজার করতে গেলে প্রতিদিন দুশো-তিনশো টাকা লাগে। আলু, তেল, ডালের দাম সব আকাশচুম্বী। তার সঙ্গে মোবাইল আর গ্যাসের দাম বাড়লে কীভাবে ঘর চালাব? সরকার কি আমাদের নিঃশেষ করে দিতে চায়?”

শ্রমিক আমিনুল হক বলেন, “চিনি ১৭০, রসুন ২২০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে কি আর সংসার চালানো সম্ভব?”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইল রিচার্জ, কলরেট, এবং ইন্টারনেট সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে মোবাইল ফোনে ১০০ টাকার রিচার্জে গ্রাহককে ৫৬ টাকার বেশি কর দিতে হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি হলেও, সাধারণ জনগণের পক্ষে এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল নগরীর বিবি পুকুর পাড়ের মোবাইল রিচার্জ দোকানের মালিক রাসেল মিয়া জানান, “এখন প্রতিদিন রিচার্জ কম হচ্ছে। মানুষ তো মোবাইল ব্যবহার কমাচ্ছে। শুল্ক বাড়ানোর পর গ্রাহক কমে যাবে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, “জনগণ এখন সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করছিল। এই মুহূর্তে নতুন করে কর আরোপ জনমানসের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার প্রমাণ।”

বরিশালের পোর্ট রোডের মুদি দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, “চিনি, ডাল, চাল এসব পণ্য কিনে আনতে গিয়ে দাম বেড়েই চলছে। এখন এই নতুন শুল্ক যোগ হয়ে গেলে দাম আরও বেড়ে যাবে। খুচরা বিক্রিতে গ্রাহকরা তো বেশি দামে নিতে চান না।”

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। বিএনপির বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক জানান, “তিনি এখনও এই বিষয়ে জানেন না।” অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মহানগর আমীর জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর জানান, “বিষয়টি বিস্তারিত জানার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।”

এমন পরিস্থিতি দেশে এক সংকটজনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সরকার যেখানে সমাধান খুঁজতে চেয়েছে, সেখানে নতুন কর আরোপ জনগণের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শিক্ষার্থী পর্যন্ত সবাই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, কিন্তু রাজনীতিতে বিরাজ করছে এক অস্বাভাবিক নীরবতা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পায়রা বন্দরে জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প: বাংলাদেশে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের পাশে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক ও টেকসই জাহাজ নির্মাণ এবং মেরামত কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) এবং অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক জেন্টিয়াম সলিউশন যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্যের সিএমএন নেভাল।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে ৭০% মালিকানা থাকবে জেন্টিয়াম সলিউশনের, আর বিএসইসি পাবে বাকি ৩০%। শুরুতে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে জেন্টিয়াম সলিউশন দেবে ৩৫ কোটি এবং বিএসইসি দেবে ১৫ কোটি টাকা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের কাছে চর নিশানবাড়িয়া ও মাধুপাড়ায় ১০১ একর খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এই জমি হস্তান্তর করা হয়। এখানে জাহাজ নির্মাণ কারখানা স্থাপন প্রকল্পটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির একটি অংশ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ডাচ প্রতিষ্ঠান ডামেন শিপইয়ার্ড গ্রুপের সহযোগিতায় স্থানীয় শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি শেখার সুযোগ পাবেন। এতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও জাহাজ রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। চীন, কোরিয়া, ও জাপানের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি কম হলেও দক্ষতা বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্ব জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বাজার ১ হাজার ৬০০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশের নির্মাণ ব্যয় কম হওয়ায় এই শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা প্রবল। বাংলাদেশ যদি মাত্র ১% বাজার দখল করতে পারে, তা থেকে আয় হতে পারে ১৬ বিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা (আইএমও) ২৫ বছরের পুরোনো জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ৩ হাজারের বেশি জাহাজ অকেজো হয়ে পড়বে। এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ হতে পারে অন্যতম বিকল্প।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও বাংলাদেশ একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিশ্বমানের জাহাজ রপ্তানিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা আসছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অর্থ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের খসড়া চূড়ান্ত করেছে, যা অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হবে। ১ থেকে ৩য় গ্রেডে মহার্ঘ ভাতা হবে মূল বেতনের ১০ শতাংশ, ৪ থেকে ১০ গ্রেডের চাকরিজীবীরা ২০, ১১ থেকে ২০ গ্রেডধারীরা ২৫ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এতে সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বেতন বাড়বে। স্কেলের মারপ্যাঁচের কারণেও কেউ ৪ হাজার টাকার কম এ ভাতা পাবেন না। তবে মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হওয়ার পর আগের সরকারের দেওয়া ৫ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনা সুবিধাটি আর বহাল থাকবে না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা আরও জানিয়েছেন, পেনশন ভোগরত কর্মকর্তা-কমর্চারীরাও মহার্ঘ ভাতা পাবেন।

জনপ্রশাসন সচিব আরও বলেন, মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দুটি সভা হয়েছে। এবার যারা পেনশনে গিয়েছেন তাদেরও মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। যারা মহার্ঘ ভাতা পাবেন, ইনক্রিমেন্টের সময় সেই ভাতা বেসিকের সঙ্গে যোগ হবে। কত শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে? এ প্রশ্নের জবাবে মহার্ঘ ভাতা পর্যালোচনা কমিটির এ সদস্য অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

সরকারি কর্মচারীদের সর্বশেষ পে-স্কেল দেওয়া হয় ২০১৫ সালে। এরপর আর বেতন বাড়েনি তাদের। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে। চাকরিজীবীদের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় মূল বেতনের সঙ্গে নির্দিষ্ট হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারি চাকরিজীবীদের কার কত বেতন বাড়ছেসরকারি চাকরিজীবীদের কার কত বেতন বাড়ছে
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করতে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের দাবি ছিল মহার্ঘ ভাতার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণে কমিটি গঠন করে। কমিটি বিষয়ে অর্থ বিভাগের জারি করা আদেশে বলা হয়েছিল, সরকারি কাজে নিয়োজিত জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫-এর আওতাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা সংস্থানের বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির কার্যপরিধি ছিল মহার্ঘ ভাতার প্রযোজ্যতা ও প্রাপ্যতার বিষয় পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দাখিল করবে কমিটি।

সাধারণত পাঁচ বছর অন্তর একটি নতুন বেতন স্কেল ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু ২০১৫ সালের পর আর কোনো নতুন পে-স্কেল দেওয়া হয়নি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়। সর্বশেষ পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিন। তিনি নতুন পে-কমিশন না করে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে বেতন কমিশন গঠনের সুপারিশ করেন। কিন্তু আগের সরকার এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। বাড়তি মূল্যস্ফীতিতে বেতন বাড়াতে নতুন পে-স্কেল ঘোষণাসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়ে আসছিলেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ৭৮০০ ও সর্বনিম্ন ৪০০০ টাকা বেতন বাড়বেসরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ৭৮০০ ও সর্বনিম্ন ৪০০০ টাকা বেতন বাড়বে
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, করপোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৪ লাখ কর্মচারী কর্মরত। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে তাদের বেতনভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। বাজেটে মহার্ঘ ভাতায় কোনো বরাদ্দ নেই। তবে কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ হার চূড়ান্ত করে পরিচালন বাজেটের অন্য খাতের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর সরকারি কর্মচারীদের জন্য সংশোধিত বাজেটে মহার্ঘ ভাতার বরাদ্দ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। ওইদিনের একনেক বৈঠক শেষে তিনি বলেছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের বহু ধরনের দাবিদাওয়া মেটাতে গিয়ে বেতনভাতা বাড়ানোর বিষয় আছে। মহার্ঘ ভাতার বিষয় আছে। তাই রাজস্ব খাতে ব্যয় কমিয়ে রাখা খুবই কঠিন। কাজেই সবকিছু উন্নয়ন বাজেটের ওপর এসে পড়ে। উন্নয়ন বাজেট কমাতে হবে। বাজেট-ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে উন্নয়ন বাজেট সমন্বয় করতে হবে।




শীতকালীন সবজির দাম কমেছে, তবে চাল-মুরগি-মাছ আগের মতোই চড়া

এখনকার বাজারে সবজি থেকে শুরু করে চাল, মুরগি এবং মাছের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও শীতকালীন সবজির দাম কমে এসেছে, তবে চাল, মুরগি এবং মাছের দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। বিশেষত, আলুর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা কমেছে, কিন্তু অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

আজ, শুক্রবার (১০ জানুয়ারি), রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে। সাপ্তাহিক বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় অনেকটা দাম কমেছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি ও টমেটোর দাম প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে কমেছে। অন্যান্য সবজিগুলোর দাম আগের মতোই রয়েছে।

সবজির দাম ও বাজার পরিস্থিতি::

– গোল ও লম্বা বেগুন: প্রতি কেজি ৫০ টাকা
– মুলা: প্রতি কেজি ২০ টাকা
– পেঁপে ও শালগম: প্রতি কেজি ৩০ টাকা
– ফুলকপি ও বাঁধাকপি: প্রতি পিস ১৫-৩০ টাকা
– লাউ: প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা
– কলা: প্রতি হালি ৩০ টাকা
– কাঁচামরিচ: প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা
– শিম: প্রতি কেজি ৪০-৫০ টাকা
– শসা: প্রতি কেজি ৫০ টাকা

এছাড়া, মিরপুর ১২ নম্বর কাঁচাবাজারে করলা, পটোল, ঝিঙা, গাজর, টমেটো, লালশাক, পালং ও কলমি শাকের দামও আগের মতোই রয়েছে। তবে আলুর দাম গত সপ্তাহের ৫৫-৬০ টাকার জায়গায় এখন ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাল, মুরগি ও মাছের দাম::

মুরগি এবং মাছের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চালের দাম নিয়ে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ।
– সোনালি মুরগি: প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা
– ব্রয়লার মুরগি: প্রতি কেজি ২০০-২১০ টাকা
– গরুর মাংস: প্রতি কেজি ৭৫০-৭৮০ টাকা
– খাসির মাংস: প্রতি কেজি ১১০০-১১৫০ টাকা

এছাড়া, মাছের দামও অনেকটাই বেশি। আকারভেদে পাবদা, রুই, টেংরা ও পাঙাশ মাছের দাম ২০০-৬৫০ টাকা কেজি পর্যন্ত রয়েছে।

চালের বাজারের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। নাজিরশাইল, মিনিকেট, বিআর-২৮ সহ বিভিন্ন ধরনের চালের দাম ৬০-১২৫ টাকার মধ্যে রয়েছে। বিশেষত, পাইজাম, বাসমতী ও পোলাওয়ের চালের দাম অনেক বেশি, যা ক্রেতাদের জন্য খুবই কষ্টকর।

মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচাবাজারের চাল ব্যবসায়ী হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, বাজারের পরিস্থিতি সরবরাহ ও মজুতের ওপর নির্ভর করে কিছুটা কমবেশি হয়, তবে মূলত চালের দাম স্থিতিশীলই রয়েছে।

ক্রেতারা চালের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, “৭০ টাকার নিচে ভালো চাল পাওয়া যায় না। ভরা মৌসুমে চালের এত দাম হলে অন্যান্য সময় কী হবে?” রমজান মাসে চালের দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক ক্রেতা।

বাজারে পণ্যের দাম কমা বা বেড়ানোর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি পড়ছে। তাই, বাজারে আরও মনিটরিং প্রয়োজন যেন সাধারণ মানুষ সুবিধা পেতে পারে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




রেস্তোরাঁ-ইন্টারনেট ও পানীয়সহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক-ভ্যাট বৃদ্ধি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হোটেল, রেস্তোরাঁ, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক-ভ্যাট বৃদ্ধি করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় আরও যুক্ত হবে মিষ্টি, ওষুধ, এলপি গ্যাস, ফলের রস, ড্রিংক, বিস্কুট ও চশমার ফ্রেমসহ নানা পণ্য।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সই করা অধ্যাদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অধ্যাদেশ জারির পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। এর ফলে এই অধ্যাদেশের পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে গেছে।

এর আগে ফ্রিজ, এসি ও মোটরসাইকেলেন করপোরেট কর বাড়ানোর পর শতাধিক পণ্যের ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ায় সরকার। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়ে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএফএম) শর্ত পরিপালনে কিছু কিছু পণ্য ও সেবায় ভ্যাট বাড়ানো এবং যৌক্তিকীকরণ করার পরিকল্পনা নেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। উপদেষ্টাদের সভায় এনবিআরের দেওয়া প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে, যা অনুমোদন দেওয়া হয়।

যেসব পণ্য ও সেবার খরচ বাড়বে

আগে মোবাইলফোনের সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের ওপর ২০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপ হতো। এটি বাড়িয়ে এখন ২৩ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মুঠোফোনে কথা বলা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচও বাড়বে। ইন্টারনেট সেবা বা আইএসপির উপর প্রথমবারের মতো ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

আমদানি পর্যায়ে যেসব পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বেড়েছে

অধ্যাদেশ অনুযায়ী—সুপারি বাদাম ৩০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ, পাইন বাদাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ, তাজা বা শুকনা সুপারি ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ, আম, কমলালেবু, লেবুজাতীয় ফল, আঙ্গুর, লেবু, পেঁপে, তরমুজ, আপেল ও নাশপাতি, ফলের রস, সবজির রস, তামাক, বাদাম, পেইন্টস, পলিমার, ভার্নিশ ও লেকার, সাবান ও সাবান জাতীয় পণ্য, ডিটারজেন্ট, ফু্রট ড্রিংকস, আর্টিফিশিয়াল বা ফ্লেভার ড্রিংকস ও ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস (কার্বোনেটেড ও নন-কার্বোনেটেড), তামাকযুক্ত সিগারেট ইত্যাদি। এসব পণ্যে সম্পূরক শুল্ক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সরবরাহ পর্যায়ে যেসব পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে

এনবিআর বলছে, যেসব হোটেলে মদ বা মদ জাতীয় পানীয় সরবরাহ করা হয় সেসব হোটেল বা বারের বিলের উপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া রেস্তোরাঁরা ক্ষেত্রেও একইভাবে মদ বা মদজাতীয় পণ্য সরবরাহ করা হলে—তার বিলের উপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করা হয়েছে।

যেসব পণ্যের ভ্যাট বা মূসক বাড়ানো হয়েছে

এনবিআর বলছে, পটেটো ফ্ল্যাকস, কর্ন, মেশিন প্রস্তুত বিস্কুট, হাতে তৈরি বিস্কুট, আচার, চাটনি, টমেটো পেস্ট বা টমেটো কেচাপ বা সস, আম, আনারস, পেয়ারা ও কলার পাম্প, তেঁতুলের পেস্ট, ব্যবহারের অযোগ্য ট্রান্সফরমার অয়েল, লুবব্লেয়িং অয়েল, এলপি গ্যাস, বাল্ক ইম্পোটেড পেট্রোলিয়াম বিটুমিন, বিআরটিএ থেকে নেয়া লেমিনেটেড ড্রাইভিং লাইসেন্স, কঠিন শিলা, ফেরো-ম্যাঙ্গানিজ ও ফেরো-সিলিকো ম্যাঙ্গানিজ, ফেরো সিলিকন অ্যালয়, এইচ আর কয়েল থেকে সি আর কয়েল, সি আর কয়েল থেকে জিপি শীট, জি আই ওয়্যার, ৫ কেভিএ থেকে ২ হাজার কেভিএ বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, চশমার প্লাস্টিক ফ্রেম, চশমার মেটাল ফ্রেম, রিডিং গ্লাস, নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি ম্যাট্রেস। এসব পণ্যের ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া রেস্তোরাঁর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ, ইনভেন্টিং সংস্থার ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

দেশীয় যেসব পণ্যের ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে

কিচেন টাওয়াল, টয়লেট টিস্যু, ন্যাপকিন টিস্যু, ফেসিয়াল টিস্যু, হ্যান্ড টাওয়াল, সানগ্লাস, নন এসি হোটেল, মিষ্টান্ন ভান্ডার, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা, নিজস্ব ব্রান্ড সম্বলিত তৈরি পোশাকের শো-রুম বা বিপনী বিতান—এসব পণ্য ও সেবার উপর প্রযোজ্য ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক খুঁটি, ইলেক্ট্রিক পোল, মোটর গাড়ীর গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপ, ডক ইয়ার্ড, ছাপাখানা, চলচ্চিত্র স্টুডিও, চলচিত্র প্রদর্শনী (সিনেমা হল), চলচ্চিত্র পরিবেশক, মেরামত ও সার্ভিসিং, স্বয়ংক্রিয় বা যন্ত্রচালিত করাতকল, খেলাধুলা আয়োজক, পরিবহন ঠিকাদার, বোর্ড সভায় যোগানকারী, টেইলারিং শপ ও টেইলার্স, ভবন রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা, সামাজিক ও খেলাধুলা বিষয়ক ক্লাব ইত্যাদি। এসব সেবার ক্ষেত্রে ভ্যাট ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী পর্যায়ে যে পরিমাণ ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে

স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ, ওষধের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এলপি গ্যাসের স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট ২ শতাংশ বাতিল করা হয়েছে।

সিগারেটের ক্ষেত্রে রাজস্ব

সিগারেটের চারটি স্তরে দাম ও শুল্ক—দুটোই বাড়ানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে—নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের দাম ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রযোজ্য সম্পূরক শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া মধ্যমস্তরে ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ; উচ্চস্তরে ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ শতাংশ এবং অতি উচ্চস্তরের দাম ১৬০ টাকা থেকে ১৮৫ টাকা এবং সম্পূরক শুল্ক ৬৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ শতাংশ করা হয়েছে। লাইম স্টোন ও ডলোমাইটে ১০ শতাংশ হারে সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

অপরদিকে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেন ৩০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা হলেই টার্নওভার কর দিতে হতে পারে। বর্তমানে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারে কর দিতে হয়। নতুন প্রস্তাব অনুসারে, বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকা পেরোলে পণ্য ও সেবা বেচাকেনায় ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বসতে পারে। এ ছাড়া মদের বিলের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মদের পাশাপাশি আমদানি, উৎপাদন ও সেবা পর্যায়ে বেশ কিছু পণ্য ও সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। যেমন আমদানি পর্যায়ে ফলের রসে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ; তামাকে ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ; সুপারিতে ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে।

বিমান টিকেটের দাম বাড়বে

চলতি বছর ব্যাংক খাতে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিমান টিকেটে গত কয়েক বছর ধরে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়নি। ব্যাংক খাতে আর্থিক নিরাপত্তা ও বাধ্য হয়ে মানুষ টাকা রাখে। তার উপর প্রায় সব হিসাবধারীকে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু বিদেশ ভ্রমণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে নয়—কখনো কর্মের, আবার কখনো ভ্রমণের জন্য যেতে হয়। ফলে বিমান টিকেটে আবগারি শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করে এনবিআর। শুধু বাড়ানো নয়, কিছু ক্ষেত্রে যৌক্তিকীকরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এনবিআর প্রতিবেদনে ‘দি এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট এক্ট, ১৯৪৪’ সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, অভ্যন্তরীণ রুট ও সার্কভূক্ত দেশের বিমান টিকেটে ৫০০ টাকা হারে আবগারি শুল্ক দিতে হয়। এটা যৌক্তিকীকরণ করা প্রয়োজন। সেজন্য অভ্যন্তরীণ রুটে ২০০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা ও সার্কভূক্ত দেশে বর্তমানের দ্বিগুণ বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হচ্ছে। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোতে দুই হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা এবং ইউরোপের দেশগুলোতে তিন হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে চার হাজার টাকা করা হয়েছে। আবগারি শুল্ক বাড়ার ফলে টিকেটের দাম বাড়তে পারে।




জেসিআই বরিশালের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত, নতুন নেতৃত্বে নকিবুল হক

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) বাংলাদেশের বরিশাল চ্যাপ্টারের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার পূর্বাচলে ক্যাডেট কলেজ ক্লাব লিমিটেডের মাল্টিপারপাস হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বরিশাল চ্যাপ্টারের ২০২৫ সালের জন্য লোকাল প্রেসিডেন্ট হিসেবে নকিবুল হক নির্বাচিত হন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল চ্যাপ্টারের মেন্টর স্টিভ বেনেডিক্ট ডি’সিলভা।

প্রধান আয়োজন ও নির্বাচনের প্রক্রিয়া:

সদ্য সাবেক লোকাল প্রেসিডেন্ট জামিল খান বিগত বছরের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেন জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৪ ভাইস প্রেসিডেন্ট বিপ্লব ঘোষ রাহুল।

নকিবুল হকের নেতৃত্বে নতুন বোর্ডে ১২ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। নতুন বোর্ডের সদস্যরা হলেন:

লোকাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট: ইশতি আহমেদ

ভাইস প্রেসিডেন্ট: মইনুল আলম চৌধুরী ও জয়ন্ত ভূষণ রায়

লোকাল সেক্রেটারি জেনারেল: ইমাম মেহেদী

লোকাল ট্রেজারার: আসাদ ইকবাল

লোকাল জেনারেল লিগ্যাল কাউন্সিলর: লিপি ঘোষ

লোকাল কমিটি চেয়ার: নিশাত জাহান

লোকাল ডিরেক্টর: নাঈম সালেহীন, প্রীতি দেবনাথ ও ইসরাত জাহান

সভা শেষে শপথপাঠের মাধ্যমে নবনির্বাচিত বোর্ড সদস্যরা তাদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান সদ্য নির্বাচিত লোকাল প্রেসিডেন্ট নকিবুল হক।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




পবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ শরফুদ্দিন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য হিসেবে মো. শরফুদ্দিনকে তিন বছরের জন্য মনোনয়ন দিয়েছে সরকার।

পবিপ্রবি আইন, ২০০১ এর ধারা ১৮ (১)(ট) ও ১৮ (৪) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডে সরকার কর্তৃক শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে ইনোভা আইটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরফুদ্দিনকে তিন বছরের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়।

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাসিন্দা মো. শরফুদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিনিউয়েবল এনার্জি টেকনোলজি বিষয়ে এমএস এবং এপ্লাইড ফিজিক্স, ইলেকট্রনিকস এ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (বর্তমানে ত্রিপলি) এ বিএসসি ডিগ্রী অর্জন করেছেন।

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্পে গবেষণা সহকারি হিসেবে কাজ করেছেন।তার রচিত `Physics Panacea’ নামে এইচএসসি এবং এ লেভেল শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি গাইড বেশ সুনাম অর্জন করেছে। একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য টেলিভিশন সাংবাদিকতা ও লিডারশিপ ম্যানেজমেন্টসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রশিক্ষণ-ও নিয়েছেন।

কর্মজীবনে তিনি এমজিআরএস টেক এন্ড ট্রেড, প্যানাসিয়া প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন, এনিপন্য গ্লোবাল বিজনেস, জিজাজো বাংলাদেশ, এবিএস ইন্টারন্যাশন্যাল, এবিসি লার্নিং, ফোকাস স্কিল ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, সেন্টার ফর মিডিয়া রিচার্সসহ বিভিন্ন খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি এমআই ইউ এর ত্রিপলি বিভাগের এডজাসেন্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে আছেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বির্তকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং জনসেবায় সক্রিয় অংশ অংশগ্রহণ করে আসছেন। মো. শরফুদ্দিন ঢাকা বিশ্বব্যিালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল ডিবেটিং ক্লাব ও বাধন ব্লাড ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী সদস্য, এসএএম ফাউন্ডেশনের সাবেক সদস্য সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দশমিনা স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এবং সেন্টার ফর ইয়োথ ভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম