ব্যাংকারদের জন্য সুখবর দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দাপ্তরিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকারদের বিদেশযাত্রায় সব ধরনের বাধা উঠিয়ে নিয়েছে। ফলে এখন থেকে তাদের বিদেশে ভ্রমণে আর কোনো বাধা থাকল না।রোববার এক সার্কুলার জা‌রি ক‌রে এ নির্দেশনা দি‌য়ে‌ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১১ জুন জারিকৃত নির্দেশনায় ব্যাংকের অর্থায়নে প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও স্টাডি ট্যুরে অংশগ্রহণের জন্য ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ ছিল।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, দাপ্তরিক প্রয়োজনে ব্যাংকের বিদেশ ভ্রমণের নীতিমালা মেনে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের বাইরে যেতে পারবেন।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো ব্যবহারে সতর্কতা, অনলাইনে প্রতারণার শিকার হতে পারেন সাধারণ জনগণ

বাংলাদেশ ব্যাংক তার লোগো অবৈধভাবে ব্যবহার করে অনলাইনে আয় করার সুযোগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘটনায় সাধারণ জনগণকে সতর্ক করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম বা লোগো ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি তুলে ধরে সতর্কতা জানায়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং, যারা এসব বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করতে বা আয় করার প্রলোভনে পড়ছেন, তারা অবিলম্বে সতর্ক থাকবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইট থেকে সঠিক তথ্য জানার জন্য সকলকে পরামর্শ দিয়েছে। লোগো বা মনোগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন ধরনের অনুমতি না থাকলে, এটি অবৈধ ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম হিসেবে গণ্য হবে। আর এসব বিজ্ঞপ্তি বা সুযোগ থেকে সাধারণ জনগণের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের প্রতারণামূলক কাজের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে এবং সকলকে সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে ১২০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স প্রেরণ

২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১২০ কোটি ৬৮ লাখ ৮০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স প্রেরণ করেছেন। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। এর মানে হলো, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮১৮ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আসছে। এভাবে রেমিট্যান্সের প্রবাহ অব্যাহত থাকলে পুরো জানুয়ারিতে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৫ কোটি ৮৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৫ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮৯ কোটি ৩৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭ লাখ ২০ হাজার ডলার।

এই সময়ে এমন ৯টি ব্যাংক রয়েছে, যেখানে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এদের মধ্যে সরকারি খাতের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বেসরকারি খাতের কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক রয়েছে।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রেরিত হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল ২৬৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এ পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশীয় মুদ্রায় ৩১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার বেশি ছিল। এটি ছিল অতীতে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স প্রেরণের পরিমাণ ছিল ২৬৪ কোটি ডলার, যা গত বছরের ডিসেম্বরে প্রেরিত রেমিট্যান্সের তুলনায় ৬৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি।

এই সাফল্যের মধ্যে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বরে) এক হাজার ৩৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স প্রেরণ করেছেন প্রবাসীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রেরণ হয়েছিল এক হাজার ৮০ কোটি ডলার, যা এবারের তুলনায় ২৯৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেশি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিজের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার জন্য সময়ও বেঁধে দেয়া হয়েছে সেই সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব জমা দেয়ার তাগিদ দিয়ে আসছে অন্তর্বর্তী সরকার। এবার সর্বসাধারণের জন্য নিজের আর্থিক অবস্থা তুলে ধরলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সম্পদের বিবরণী নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এক পোস্টে সেই বিবরণী লিখে প্রকাশ করেন তিনি।

“২০০০ সালের দিকে আমার বাবা ঢাকা শহরের নিম্নমধ্যবিত্ত এলাকা ডেমরার কাছে জুরাইন এবং যাত্রাবাড়ীর মধ্যবর্তী দনিয়া এলাকায় পাঁচতলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করেন। সেই ভবনের একটি ১,১৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আমি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। ২০১০ সালে দনিয়া ছেড়ে চলে আসলেও এখনো সেই ফ্ল্যাট আমার মালিকানায় আছে। একসময় আমি সেটি আমার এক ভাইয়ের কাছে বিক্রি করার কথা ভেবেছিলাম, যিনি এখনো সেখানে থাকেন। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করি। জীবনের এক পর্যায়ে হয়তো আবার দনিয়ায় ফিরে যাব। বাবা-মায়ের বাড়িতে গেলে আমি এখনো সেই সরু করিডোরগুলোতে তাদের হাঁটতে দেখি। আমার প্রয়াত বাবার কোরআন তেলাওয়াতের শব্দ শুনি, মা যেভাবে বিনয়ের সঙ্গে সালাত আদায় করতেন তাও যেন দেখতে পাই।

২০১৪ সালে আমি শাহীনবাগে ১,১০০ বর্গফুটের একটি তিন বেডরুমের ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। ভাই এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন কিছু টাকা দিয়েছিলেন, আর বাকিটা আমার সঞ্চয় থেকে দিয়েছিলাম। আমি জায়গাটি ভালোবাসি। তবে নিরাপত্তার কারণে হয়তো খুব শিগগিরই এই ফ্ল্যাট ছেড়ে যেতে হবে। সম্প্রতি দেখছি, আমাদের এলাকার মসজিদের ভিক্ষুকরাও আমাকে চেনেন। কিছুদিন আগে কয়েকজন তরুণ আমাকে তাদের আড্ডার সামনে দিয়ে হাঁটার সময় ‘গণশত্রু’ বলে ডেকেছিল। এ কারণে আমাকে হয়তো শিগগিরই সরকারি একটি ফ্ল্যাটে চলে যেতে হবে। আমার পরিবার এই নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত।

প্রায় পাঁচ বছর আগে আমি আমার এক শ্যালকের কাছ থেকে ময়মনসিংহে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। খুব সস্তায় পেয়েছিলাম সেটি। একই ভবনে আমার স্ত্রী তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন। এই দুটি ফ্ল্যাট আমাদের জন্য মাসিক আয়ের একটি উৎস। এছাড়া গ্রামে আমার ৪০ শতাংশ আবাদি জমি আছে। বহু বছর ধরে একটা ভ্রান্ত ধারণায় ভুগেছি যে, অবসরে গ্রামে ফিরে যাব। শুধু লিখব আর হাঁটব—এটাই ছিল পরিকল্পনা। কিন্তু এখন মনে হয়, গ্রামে আর কখনো ফিরে যাওয়া হবে না। হয়তো আমি মরে গেলে আমার সন্তানরা আমাকে বাবা-মায়ের পাশেই কবর দেবে।

বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
আমার একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে যেখানে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা (১১.৪ মিলিয়ন টাকা) সঞ্চিত আছে। এই আগস্টে আমি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপিতে দুই দশকের চাকরি ছেড়েছি। অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের বেশিরভাগই আমার এএফপির চাকরির পেনশন এবং গ্র্যাচুইটির। কিছু মানুষ আমার কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ধার নিয়েছে। আমার ধারণা, বছরের শেষে আমার সঞ্চয় হয় অপরিবর্তিত থাকবে, নয়তো খরচের কারণে কমে যাবে। আমার একটি গাড়ি আছে। ঢাকা শহরে একটি গাড়ি পরিচালনা এবং ড্রাইভার রাখার মাসিক খরচ প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

আমি জানি না, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে কাজ শেষ করার পর আমার ভাগ্য কোথায় নিয়ে যাবে। তবে নিশ্চিত জানি, এই সঞ্চিত অর্থ দিয়ে কোনো কাজ না পেলেও আমি মধ্যবিত্তের মতোই সাধারণ জীবনযাপন করতে পারব। ক্ষমতায় থাকলে অনেকেই আপনার উপার্জন নিয়ে মিথ্যা রটায়। এটাই আমার পূর্ণাঙ্গ সম্পত্তির প্রকাশ।”




চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে হবে ৪.১ শতাংশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করছে বিশ্বব্যাংক।

গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জিডিপি প্রবৃদ্ধির নতুন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমে গেছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এমন পরিস্থিতি এবং নীতি অনিশ্চয়তার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

অর্থনীতির গতি দুর্বল হওয়ার কারণ হিসেবে আরও সমস্যার কথা জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, দেশে জ্বালানি ঘাটতিসহ সরবরাহ-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা এবং আমদানিতে বিধিনিষেধ শিল্প কার্যক্রমকে দুর্বল করেছে। চাপ বেড়েছে মূল্যস্ফীতির। উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে মন্থর হয়ে গেছে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি। দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে মূল্যস্ফীতি কমে এলেও বাংলাদেশে তা উচ্চ পর্যায়ে স্থির রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমাতে আরও সংকোচনমূলক করা হয়েছে মুদ্রানীতি। তবে চলতি বছরও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হতে পারে।

গত বছর দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লেও বাংলাদেশ ও মালদ্বীপে তা কমেছে। এটি মুদ্রাবাজার চাপে থাকার প্রতিফলন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোসহ বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে গেলে তা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলবে। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে সবেচেয়ে বেশি রপ্তানি করে থাকে বাংলাদেশ। আর দেশের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই হয় ইউরোপে।




ওষুধ ও পোশাকের ভ্যাট পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত অর্থ উপদেষ্টার

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ওষুধ ও পোশাকসহ বেশ কিছু পণ্যে প্রস্তাবিত ভ্যাট পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূসক আইন ও বিধি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সী জানিয়েছেন, কয়েকটি পণ্যে ভ্যাট কমানোর চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

গত ৯ জানুয়ারি অধ্যাদেশ জারি করে হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভ্যাট আবারও ৫ শতাংশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর আজ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করবে বলে জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মূল্যস্ফীতি ও ভ্যাট বৃদ্ধিতে ভোক্তাদের বিপর্যস্ত অবস্থা

দেশজুড়ে চলমান মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন প্রতিনিয়ত কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেও খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ১২.৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে গুঁড়া দুধ, পোশাক, ফল, বিস্কুটসহ প্রায় ১০০টিরও বেশি পণ্যে আরোপিত হয়েছে বাড়তি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক। এতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরীর মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থায় এই ভ্যাট বৃদ্ধি জনজীবনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ তিন বছরের বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। নতুন ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত পূরণের লক্ষ্যে রাজস্ব আদায় বাড়াতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়লেও সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় আদৌ সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ড. মুজেরী বলেন, “রাজস্ব ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও ফাঁকফোকরের কারণে প্রকৃত রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করহার বৃদ্ধি না করে এই ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হলে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর ফাঁকির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে কর আদায়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। এছাড়া দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং রাজস্ব প্রশাসনের দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সরকারের জন্য এখন প্রয়োজন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। তাতে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পাবে এবং অর্থনীতি পুনরায় সচল হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তলব করা সাংবাদিকরা হলেন- এপির ব্যুরো চিফ জুলহাস আলম, ইউএনবির উপদেষ্টা সম্পাদক ফরিদ হোসেন, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান সরদার, ঢাকা ট্রিবিউনের স্টাফ রিপোর্টার আলী আসিফ শাওন, ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক (সাবেক প্রেস মিনিস্টার) নাদিম কাদির, ডিবিসি নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব ঘোষ, ডেইলি পিপলস লাইফের (সাবেক বাসস) সম্পাদক মো. আজিজুল হক ভুঁইয়া, বাসসের স্পোর্টস ইনচার্জ স্বপন বসু, ডি‌বিসি নিউজের স্টাফ রিপোর্টার তাহমিদা সাদেক জেসি, চ্যানেল আই এর সিনিয়র রিপোর্টার নিলাদ্রি শেখর কুন্ডু, বাংলা টিভি সাবেক (দেশ টিভি) নজরুল কবীর, গাজী টিভির বার্তা সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান, গ্রিন টিভির সাজু রহমান, বাংলাভিশনের (সাবেক) আমিনুর রশীদ। ‌




নতুন বছরে সোনার দামে রেকর্ড

নতুন বছরের শুরুতেই দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও রেকর্ড ছুঁয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ ভরিতে এক হাজার ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে।

বাজুসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে সোনার দাম বাড়ানো হয়। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দেশীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম বৃদ্ধির কারণে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের সোনার দাম হবে প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি ভরি দাম ৯৩ হাজার ৬৭৪ টাকা।

এছাড়া, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

গত ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করেছিল, তখন ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ২৮৮ টাকা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছাগল–কাণ্ডে’ আলোচিত মতিউর ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ‘ছাগল–কাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমান ও তাঁর প্রথম স্ত্রী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি–মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মতিউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী লায়লা কানিজকে রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

এই দম্পতির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে।