ফের রিজার্ভ নামলো ১৯ বিলিয়নের ঘরে

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। কয়েক মাস ধরে রিজার্ভে উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ১৯.৯৩ বিলিয়ন ডলার। একই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী এটি ২৫.২২ বিলিয়ন ডলার।

গত ১৫ জানুয়ারি বিপিএম-৬ মান অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২০.১৩ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে মাত্র ছয় দিনে এটি কমেছে ২০ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ আরও কম, যা আইএমএফকে জানানো হলেও জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভের তিন ধরনের হিসাব রাখে। প্রথমটি হলো বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত বিভিন্ন তহবিলসহ মোট রিজার্ভ। দ্বিতীয়টি আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা হয়। আর তৃতীয়টি হলো ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ, যা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না।

বর্তমান সরকারের সময়ে ডলার বিক্রি বন্ধ থাকলেও রিজার্ভে ধীরে ধীরে উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার যোগ হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিজার্ভ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রবাসীরা ২৬.৮৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে একক বছরে সর্বোচ্চ।

বিশেষত, ডিসেম্বরে প্রবাসী আয়ের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রতি মাসেই দুই বিলিয়নের ঘর অতিক্রম করেছে রেমিট্যান্স, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনার মাধ্যমে রিজার্ভ বাড়ানো হয়।

বর্তমানে সরকার ডলার বিক্রি বন্ধ রেখে বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সংগ্রহ করছে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৬ মাসে রাজস্ব ঘাটতি রেকর্ড ৫৮ হাজার কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ছয়মাস শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রেকর্ড প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। শুধু ঘাটতি নয়, একই সময়ে গত অর্থবছরের চেয়েও রাজস্ব আদায়ে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

গত অর্থবছর একই সময় রাজস্ব আদায় হয় প্রায় এক লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে চলতি অর্থবছর ছয়মাসে আদায় হয়েছে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অস্বাভাবিক লক্ষ্যমাত্রার কারণে ঘাটতি বাড়ছে। এছাড়া জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি কারণে আদায় কমে গেছে।

এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যানের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর এনবিআরকে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছরের প্রথমার্ধের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ১৪ হাজার ১৪৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। যার বিপরীতে আদায় হয়েছে এক লাখ ৫৬ হাজার ৪১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ছয়মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫৭ হাজার ৭২৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস-এই তিন খাতের মধ্যে ভ্যাটের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক।  আয়কর খাতে ছয়মাসে চলতি অর্থবছর লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭৬ হাজার ৬৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। যার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫২ হাজার ১৬২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। যেখানে গত অর্থবছর একই সময় আদায় হয়েছে ৫০ হাজার ৮৪৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এই খাতে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

অপরদিকে কাস্টমস খাতে প্রথমার্ধে ৬১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা। যেখানে গত অর্থবছর একই সময় আদায় হয়েছে ৪৮ হাজার ৭৮৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ।

আর ভ্যাট খাতে ৭৬ হাজার ৩১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৫৫ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। তবে গত অর্থবছর একই সময় আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ৩৬০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অর্থাৎ ভ্যাট খাতে প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাইনাস ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এনবিআরের একাধিক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি, বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থ ছাড় কমে যাওয়াসহ বেশ কয়েকটি কারণে আদায় কমে গেছে। চলতি অর্থবছর আইভাস থেকে রাজস্ব আদায়ের হিসাব নেওয়া হচ্ছে। ফলে মাঠ পর্যায়ের কোন অফিস বাড়তি কোনো রাজস্ব দেখানোর সুযোগ নেই। গত অক্টোবর থেকে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা গতি বেড়েছে এবং সর্বশেষ ডিসেম্বরে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ। তারপরও চলতি অর্থবছরে রাজস্বে বড় ঘাটতি।

চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের বাজেটে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৫ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়। যা জিডিপির ৯.৭ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। আর অন্যান্য উৎস হতে ৬১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর, মুনাফা ও মূলধনের ওপর কর থেকে আসবে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, ভ্যাট থেকে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৮৩ কোটি, সম্পূরক শুল্ক ৬৪ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা, ৪৯ হাজার ৪৬৪ কোটি, রপ্তানি শুল্ক ৭০ কোটি, ৫ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা ও অন্যান্য কর থেকে আসবে ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা।




সংস্কারমুখী বাজেটের প্রয়োজনীয়তা: ড. জাহিদ হোসেনের বিশ্লেষণ

আগামী অর্থবছরে (২০২৬) একটি সংস্কারমুখী বাজেট প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র বড় আকারের বাজেট প্রণয়ন নয়, বরং অর্থনৈতিক খাতের বাস্তব সংস্কারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রাজধানীতে নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. জাহিদ বলেন, “আমাদের আগামী বাজেট একটি অর্থনৈতিক মোড় ঘোরানোর সুযোগ এনে দিতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে সরকার কী ধরনের নীতি গ্রহণ করছে তার ওপর।”

তিনি উল্লেখ করেন, “এ পর্যন্ত প্রণীত বাজেটগুলোতে সংস্কার উদ্যোগের অভাব ছিল। আবারও যদি একই প্রবণতা দেখা যায়, তবে তা হতাশাজনক হবে। এ কারণে, রাজস্ব, আর্থিক এবং কাঠামোগত নীতির মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।”

ড. জাহিদ হোসেন বলেন, গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলেও তারা অত্যন্ত নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এই স্বল্প সময়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটানো কঠিন হলেও সরকারের দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “মূল্যস্ফীতি কমানোর কোনো সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দেখা যাচ্ছে না। বিনিয়োগ পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যেখানে অনিশ্চয়তা দূর করা হবে। এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

আগামী বাজেটের ক্ষেত্রে সামাজিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দরিদ্র ও অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি মোকাবিলায় নগদ সহায়তা এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অতীতের অবহেলার প্রতিকারে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন অপরিহার্য।”

তিনি বলেন, সরকারের নীতিতে বিরাট পরিবর্তনের আশা করা বাস্তবসম্মত নয়, তবে বাজেটে আশা জাগানো আলোর প্রতিফলন থাকা উচিত।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভ্যাট বৃদ্ধির সঙ্গে মহার্ঘ ভাতার কোনো সম্পর্ক নেই: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মহার্ঘ ভাতা বাড়ানোর সঙ্গে ভ্যাট বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, যদি মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হয়, তা আলাদা হিসাব করা হবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ট্যাক্স একটি বিশ্বে সর্বনিম্ন, এমনকি এলডিসি দেশের তুলনায়ও আমাদের ট্যাক্স কম। ভুটান, নেপাল, আইভোরি কোস্ট, বুরকিনা ফাসো থেকে আমাদের ট্যাক্স কম। এত কম ট্যাক্স দিয়ে সবকিছু পাওয়া সম্ভব নয়, এটি আশা করা ঠিক নয়।”

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

তিনি আরও বলেন, “আমরা চশমার উপর ভ্যাট বাড়িয়েছি। ১২৫ টাকায় পৃথিবীর কোন দেশে চশমা পাওয়া যায়? এতে মাত্র ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। খাবারের দাম ৬০০-৭০০ টাকা, সেখানে ২০ টাকা ভ্যাট হবে না?”
অর্থ উপদেষ্টা জানান, ভাতের হোটেলে ভ্যাট জিরো করা হয়েছে, গ্লোরিয়া জিন্সে কফির দামেও সামান্য ভ্যাট বেড়েছে। তিনি বলেন, “যদি আমাদের রেভিনিউ এত কম থাকে, তবে পুরো পরিস্থিতি আপনারা এখনও বুঝতে পারেননি, তবে আশা করাও উচিত নয়।”

এছাড়া, তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ১৩৫ মিলিয়ন ডলারের এলএনজি আমদানির বিল শোধ করা হয়েছে এবং ১ মিলিয়ন ডলারের নতুন পাওনা রয়েছে।”

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, “বর্তমান সময়ের চেয়ে পূর্বে পরিস্থিতি ভালো ছিল না, যারা সমালোচনা করেন, তাদের অনেকেই আমার ছাত্র। তারা বলেন, রাজস্ব বাড়াতে আমরা কোন জায়গায় বাড়াব? আমরা ইতোমধ্যে জায়গাগুলো চিহ্নিত করার কাজ করছি।”

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “আমরা সরকারি ব্যয়ে সাশ্রয়ী হব। অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রয়েছে, যেমন বড় প্রকল্পের ব্যয়, যেগুলোতে বাড়তি খরচ হয়েছে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ: ১০ লাখ টন চাল ও গম আমদানি

খাদ্যপণ্যের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার ১০ লাখ টন চাল ও গম আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চালের দাম কিছুটা কমেছে এবং এটি আরও কমানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠক শেষে আলী ইমাম মজুমদার জানান, ‘বাজারে চাল ও গমের মজুদ পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। তবে, আগামীতে দামের অস্থিরতা রোধে খাদ্য মজুত বা স্টকিংয়ের ওপর সরকারের নজর রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে দেশে চাল ও গমের মজুদ রয়েছে মোট ১৩ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে ৮ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টন গম। এরপরও চাল ও গমের বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ১০ লাখ টন খাদ্যপণ্য আমদানি করা হচ্ছে, যার মধ্যে গমের পরিমাণ ৩ লাখ টন। গম রাশিয়া ও ভারত থেকে এবং চাল ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হবে।’

বর্তমানে চালের দাম কেজি প্রতি প্রায় ৬০ টাকা হলেও, বোরো ফলন কম-বেশির ওপর আমদানির প্রভাব পড়বে বলে খাদ্য উপদেষ্টা জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চালের দাম কমানোর আরও সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্তের জন্য মোটা চালের দামও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিতে টিকে থাকার লড়াই

দেশজুড়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নাগরিক জীবনে সৃষ্টি করছে নাভিশ্বাস। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা আরো কঠিন করে তুলেছে। চাল, ডাল, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ প্রায় সব পণ্যের মূল্য বাড়ায় আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য করতে হিমশিম খাচ্ছেন মানুষ।

শীত মৌসুমেও সবজির দাম তুলনামূলক কম থাকলেও চালের মূল্য বেড়েই চলছে। একসময় প্রতি কেজি চাল পাওয়া যেত ৫০-৬০ টাকায়, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকার ওপরে। তেলের দামও প্রতি লিটারে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণে টিসিবির ট্রাকসেলই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন জানান, প্রতিদিনই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “টিসিবির লাইনে দাঁড়ালে অনেক সময় পরিচিতরা দেখে ফেলে। তাই মাস্ক পরে থাকতে হয়। এত কিছুর পরও চাল বা তেল পাওয়া যায় না।”

একই চিত্র বাসাবো এলাকার আব্দুল হামিদের জীবনে। তার পরিবারে মা-বাবা ও সন্তানের চাহিদা মেটানো তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “চাল-তেল কিনতে গিয়ে মাসের বাজেট শেষ। এখন গরুর মাংস তো বিলাসিতা মনে হয়।”

গরু-মুরগির মাংসের দাম ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় বেশিরভাগ পরিবার খাবারের তালিকা থেকে আমিষ বাদ দিচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মাংস বিক্রেতা সুজন জানান, “আগে যেখানে দিনে দু-তিনটি গরু বিক্রি হতো, এখন তা একটিও শেষ হয় না।”

ফলের বাজারেও দেখা দিয়েছে একই অবস্থা। মগবাজার এলাকার ফল বিক্রেতা আক্তারুজ্জামান বলেন, “আগে প্রতিদিন ফল বিক্রি ভালো হতো। এখন আড়ত থেকে ফল আনতেও ভয় হয়। মানুষ চাল কিনবে, নাকি ফল—এটাই বড় প্রশ্ন।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষ খাবারের মানেও ছাড় দিচ্ছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর হওয়া।”

নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে মানুষের জীবনে টিকে থাকার লড়াই প্রতিনিয়ত কঠিন হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার পাশাপাশি জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চীনা ঋণের সুদ কমানোর প্রস্তাব বাংলাদেশের

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন চীনের ঋণের সুদের হার ২-৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র মধ্যে এক বৈঠকে এ প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়।

বৈঠকের মূল আলোচনা

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রেফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) এবং সরকারি কনসেশনাল ঋণ (জিসিএল) উভয় ক্ষেত্রেই সুদের হার কমানোর প্রস্তাব দেন। এ ছাড়া ঋণের পরিশোধ সময়সীমা ২০ থেকে ৩০ বছর করার অনুরোধ করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ পরিশোধের ইতিহাসের প্রশংসা করেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি সুদের হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে জানান এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেন।

বাংলাদেশের চাওয়া ও চীনের প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য কুনমিংয়ে ৩-৪টি হাসপাতালকে বিশেষায়িত করার আশ্বাস দেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া ঢাকায় একটি বিশেষায়িত চীনা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।

শিক্ষা, রেলপথ, কৃষি, টেকসই জ্বালানি এবং নীল অর্থনীতির মতো খাতে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য বাংলাদেশের অনুরোধকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন চীন।

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর

বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপনের পরিকল্পনা করা হয়। উভয় পক্ষ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর অধীনে প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।

রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে একটি রোডম্যাপ তৈরির প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চীনের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ওয়াং ই।

বৈশ্বিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান

চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের তিনটি বৈশ্বিক উদ্যোগ—জিডিআই, জিএসআই, এবং জিসিআই-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে বাংলাদেশ বিষয়গুলো পরীক্ষা করে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে।

সফরের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে সোমবার বেইজিং সফর শুরু করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সফর শেষে ২৪ জানুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাণিজ্যকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখার দাবি খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের

অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন, তারা প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে বাণিজ্যকে রাজনীতির সাথে মিলাচ্ছেন না। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরে মিয়ানমার থেকে আমদানি করা চাল খালাস কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী এবং এখান থেকে আমদানি খরচ তুলনামূলকভাবে কম, যা আমাদের জন্য উপকারী।

তিনি আরও জানান, মিয়ানমার আমাদের কাছে আরও চাল বিক্রি করতে চাইছে এবং এক লাখ টন চালের জন্য তাদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আসন্ন সময়ে আরও আট থেকে নয় লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির কথা রয়েছে, যার মধ্যে ভারত, মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকেও চাল আসবে। এছাড়াও, ভিয়েতনামের সাথে আলোচনাও চলছে।

চাল মূল্য বৃদ্ধি না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, “দাম বৃদ্ধি এখন বন্ধ, এবং কিছু মোটা চালের দাম তিন থেকে পাঁচ টাকা কমেছে। আমরা আরও চাল আমদানি করতে থাকলে দাম বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না। বরং দাম কমতে থাকবে।”

রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার কার্যক্রম গ্রহণ করছে জানিয়ে খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, “রমজান মাসে খাদ্য মন্ত্রণালয় চাল ও গমের উপর বিশেষ নজর দেবে, এবং টিসিবি অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যবস্থা করবে।” এ সময়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হয়েছে, যেখানে ৫০ লাখ দরিদ্র মানুষ ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাবে।

অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেন আলী ইমাম মজুমদার। তিনি জানান, দেশের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষকদের জন্য গবেষণা চালানো হচ্ছে এবং কৃষি জমির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, “কৃষকরা বেসরকারি খাতে ভালো দাম পাচ্ছে, তবে সরকার দাম নির্ধারণের সময় উৎপাদন খরচ ও কৃষকের লাভ হিসেবেই সিদ্ধান্ত নেয়।”

এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আব্দুল খালেক ও বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এর আগে খাদ্য উপদেষ্টা পতেঙ্গায় নির্মাণাধীন সাইলো পরিদর্শন করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ওএমএস কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা : অর্থ উপদেষ্টা

সরকার সাশ্রয়ী মূল্যে ওপেন মার্কেট সেলের (ওএমএস) চাল, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বিভিন্ন পণ্যের ওপর ভ্যাট-ট্যাক্স আরোপ মূল্য বৃদ্ধিতে তেমন প্রভাব ফেলেনি। তবে, কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ভ্যাট সমন্বয়ের বিষয়ে আগামী বাজেটে নতুন পরিকল্পনা নেয়া হবে।

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে চালের দাম সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু জটিলতার কারণে মাঝে চালের দাম বেড়েছিল। তবে, উৎপাদনের ঘাটতি পূরণে ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার চালসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভোক্তাদের আর্থিক চাপ কমাতে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বিসিক শিল্পনগরীর অবহেলায় শিল্প খাত সংকটে

পটুয়াখালীর উপকূলীয় জেলা শহরের মাঝগ্রাম এলাকায় অবস্থিত বিসিক শিল্পনগরীটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার কবলে রয়েছে। ১৯৮২ সালে সাড়ে ১৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পনগরী উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।

শিল্পনগরীতে মোট ১০২টি প্লটের মধ্যে বর্তমানে ৪৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু রয়েছে। কিন্তু নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো জেটি নির্মাণ করা হয়নি। ফলে নদীপথে পণ্য পরিবহনে উদ্যোক্তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রবেশপথে একটি ছোট খালের উপর কালভার্ট না থাকায় ভারী যানবাহনের প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কারখানাগুলোর ভেতরে পানি প্রবেশ করায় উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। তদুপরি ভাঙাচোরা রাস্তা, গ্যাস সংযোগের অভাব এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিক ও উদ্যোক্তারা ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। রাতে আলোর অভাব এবং মাদকসেবীদের বিচরণের কারণে চুরি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কা লেগেই থাকে।

বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. আল-আমিন জানান, সমস্যাগুলোর সমাধানে তারা আন্তরিক। বরাদ্দ পেলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তহবিল স্বল্পতার কারণে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

উদ্যোক্তারা জানান, শিল্পনগরীর কাঙ্ক্ষিত সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”