এস কে সুরের দেড় লাখের বেশি ডলার, এক কেজি স্বর্ণালংকার পেল দুদক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের লকারে তল্লাশি চালিয়ে ব্যাংকটির সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর রাখা ৫৫ হাজার ইউরো, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭০ লাখ টাকার এফডিআর ও প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের এক কেজি (প্রায় ৮৬ ভরি) সোনার অলংকার জব্দ করা হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে তল্লাশি করতে যায়। সেই দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান। তিনি বলেন, জব্দকৃত মালামাল বাংলাদেশ ব্যাংকের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

১৪ জানুয়ারি দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরী। ১৯ জানুয়ারি তাঁর ধানমন্ডির বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে দুদক। এ সময় সঞ্চয়পত্র ও বিমার প্রায় চার কোটি টাকার কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। তাঁর তিনটি ফ্ল্যাটেরও সন্ধান পায় দুদক।




সমৃদ্ধ রাজস্ব ভাণ্ডার গঠনে কাস্টমস অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস দেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত ও শক্তিশালী করে সমৃদ্ধ রাজস্ব ভাণ্ডার গঠনে বাংলাদেশ কাস্টমস অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

২৬ জানুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘পরিবর্তিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমি মনে করি বাংলাদেশ কাস্টমস আমদানি-রপ্তানি সহজীকরণ ও পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনবে।’

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি, বাংলাদেশ কাস্টমসের দক্ষ জনবল প্রযুক্তিনির্ভর উপায়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের দ্রুত পরীক্ষণ, শুল্কায়ন ও খালাস নিশ্চিত করবে। ফলে পণ্যের সাপ্লাই চেইন সুসংহত হবে এবং নিশ্চিত হবে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৫ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। ‘কাস্টমস ডেলিভারিং অন ইটস কমিটমেন্ট টু ইফিসিয়েন্সি, সিকিউরিটি এন্ড প্রসপারিটি’ -মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ডব্লিউসিও- ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন-এর সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালন করছে।’

বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবাগ্রহীতা ও অংশীজনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্প ও বাজার সুরক্ষাসহ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ কাস্টমসের অনন্য ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কাস্টমসের দক্ষ জনবল দেশের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশের পরিবেশ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্য আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দেশের জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন সাধন করে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে আমি মনে করি কাস্টমস দিবসের এবছরের প্রতিপাদ্য- ‘কাস্টমস ডেলিভারিং অন ইটস কমিটমেন্ট টু ইফিসিয়েন্সি, সিকিউরিটি এন্ড প্রসপারিটি’- অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ‘আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৫’ এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছেন।




অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী করতে কাস্টমস অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে

বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিতকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে জাতীয় রাজস্ব ভাণ্ডার গঠনে বাংলাদেশ কাস্টমস একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) ‘আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

“কাস্টমস সেবায় প্রতিশ্রুতি, দক্ষতা নিরাপত্তা প্রগতি” স্লোগানে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নতির যাত্রায় কাস্টমস এর ভূমিকা অপরিসীম। আমি বিশ্বাস করি, কাস্টমস সেবার মাধ্যমে আমদানি-রফতানি সহজীকরণ এবং পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের অর্থনীতির গতির চাকা সচল রাখবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কাস্টমসের দক্ষ কর্মীবাহিনী এবং প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত পণ্য পরীক্ষণ, শুল্কায়ন এবং খালাস কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে, পণ্যের সাপ্লাই চেইন আরও সুসংহত হবে, যা দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা বজায় রাখবে।’

প্রফেসর ইউনূস জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৫ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্প ও বাজার সুরক্ষা এবং দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ কাস্টমসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় চুক্তিটি হলো বাংলাদেশের সঙ্গে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে নন-বাইন্ডিং চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশের। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন তরল গ্যাস সরবরাহ করবে।

আর্জেন্ট এলএনজি এ তথ্য জানায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এটি প্রথম বড় মার্কিন এলএনজি সরবরাহ চুক্তি। তাদের মতে, এটি নতুন প্রশাসনের জ্বালানি-বান্ধব নীতির প্রতি শিল্পের আস্থা প্রতিফলিত করে। বাংলাদেশের সঙ্গে আর্জেন্ট এলএনজির চুক্তি প্রমাণ করছে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই খাত সংশ্লিষ্টদের আস্থা রয়েছে।

আর্জেন্ট এলএনজি লুজিয়ানাতে ২৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন পার এনুম (এমটিপিএ) অবকাঠামো তৈরি করছে। যা তাদের সরবরাহ ব্যবস্থাকে অনেক শক্তিশালী করবে।

যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নেই, সেসব দেশে গ্যাস পাঠানোর ক্ষেত্রে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ লাইসেন্স প্রদান স্থগিত করে রেখেছিল। তবে গত সোমবার ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এটি রহিত করেন ট্রাম্প। কারণ তিনি বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে চান। বর্তমানে বিশ্বের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহের পরিমাণ দ্বিগুণ করতে চায়।

লুজিয়ানার পোর্ট ফোরচনে আর্জেন্ট এলএনজির অবকাঠামো তৈরি সম্পন্ন হলে তারা বাংলাদেশের পেট্রোবাংলার কাছে গ্যাসের কার্গো বিক্রি করা শুরু করতে পারবে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী রয়টার্সকে বলেছেন, এই চুক্তি শুধুমাত্র আমাদের বর্ধমান শিল্পের গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করবে না, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি চাহিদার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজছে। এক্ষেত্রে তরলীকৃত গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে সরকার। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর বিশ্বব্যাপী যখন গ্যাসের দাম বেড়ে যায় তখন কম দামি কয়লার দিকে আবারও ঝোঁকা শুরু করে ঢাকা।




বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বাণিজ্যে অচলাবস্থা

রাখাইনের অস্থিরতা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়, তা বর্তমানে প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। রাখাইনের ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত আরাকান আর্মির দখলে যাওয়ার ফলে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী এনামুল হকের মতে, মংডু ও আকিয়াব শহর থেকে নিয়মিত যে পণ্য আমদানি করা হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ইয়াঙ্গুন থেকে পণ্য আনার চেষ্টা হলেও তা যথাসময়ে সম্ভব হচ্ছে না। দেড় মাস পর মিয়ানমার থেকে চারটি পণ্যবাহী জাহাজ আসলেও, আরাকান আর্মি নাফ নদীতে তল্লাশির নামে সেগুলো আটকায়। চারদিন পর তিনটি জাহাজ ছেড়ে দেওয়া হলেও এখনো একটি জাহাজ আটকে রয়েছে।

টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহেতাশামুল হক বাহদুর বলেন, “আরাকান আর্মি কী চায়, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাদের কারণে সীমান্ত বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পণ্য আমদানি-রপ্তানি থেমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লোকসানে পড়ছেন।”

টেকনাফ বন্দরের মহাব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, “রাখাইনের অস্থিরতা শুরু হওয়ার আগে টেকনাফ বন্দর থেকে মাসে কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো। বন্দরের শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীরা এখন অলস সময় পার করছেন। সরকারের রাজস্ব আয়ে এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। আরাকান আর্মির দখলে থাকা জাহাজের সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।”

টেকনাফ বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। সীমান্ত বাণিজ্যের অচলাবস্থা কাটাতে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের এলএনজি চুক্তি

বাংলাদেশ সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানাভিত্তিক আর্জেন্ট এলএনজির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ প্রতি বছর আর্জেন্ট এলএনজির কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করবে। এটি একটি নন-বাইন্ডিং চুক্তি হলেও ভবিষ্যতে এনার্জি সেক্টরে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এনে দিতে পারে।

আর্জেন্ট এলএনজি বর্তমানে লুইজিয়ানায় বার্ষিক ২৫ মিলিয়ন টন এলএনজি উৎপাদনের অবকাঠামো তৈরি করছে। এ চুক্তি শুধুমাত্র জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করবে না বরং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ককেও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। “এটি শিল্প, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে,” তিনি উল্লেখ করেন।

চুক্তির বিষয়ে আর্জেন্ট এলএনজি একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের জ্বালানিবান্ধব নীতির প্রতি শিল্পের আস্থা প্রদর্শন করে।

এলএনজির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। তবে, দেশটি দামের প্রতি সংবেদনশীল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশকে সস্তা কয়লা ব্যবহারের দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এর আগে কাতার এনার্জি ও এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেছে, যার আওতায় তারা ২০২৬ সাল থেকে বছরে ১ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহ করবে।

বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ শিল্প খাতের উন্নয়ন ও জ্বালানি চাহিদা পূরণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ হাসিনার উন্নয়ন প্রবৃদ্ধি ‘ভুয়া’ : রয়টার্সকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল, তা ‘ভুয়া’। তিনি এ দাবির পক্ষে বিশ্ববাসীর দায়ের কথাও উল্লেখ করেন।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনা দাভোসে সবার কাছে তার নেতৃত্বাধীন দেশের সাফল্যের গল্প তুলে ধরেছেন, কিন্তু সেই দাবির সত্যতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি। তিনি বলেন, “এর জন্য পুরো বিশ্ব দায়ী। এটি বিশ্বব্যবস্থার জন্য একটি বড় শিক্ষা।”

ড. ইউনূস শেখ হাসিনার প্রবৃদ্ধির হারকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিলেও এর সপক্ষে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তিনি জোর দেন ব্যাপকভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং সম্পদের বৈষম্য কমানোর ওপর।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই হার প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০০৯ সালে ছিল প্রায় ৫ শতাংশ।

ড. ইউনূসের মতে, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। তবে শেখ হাসিনা ও তার দল এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়া উচিত। বাংলাদেশের মানচিত্র না এঁকে ভারতের মানচিত্র আঁকা সম্ভব নয়।”

ড. ইউনূস তার সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না। তবে অন্তর্ভর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নতুন নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘দরিদ্রের ব্যাংকার’ হিসেবে পরিচিত। গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের ধারণা প্রবর্তন করে তিনি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেন এবং ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারি চাকুরেরা আপাতত পাচ্ছেন না মহার্ঘ ভাতা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত পাচ্ছেন না মহার্ঘ ভাতা। জানুয়ারি থেকেই এ ভাতা কার্যকরের যে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, অর্থনীতির বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে সেখান থেকে সরে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মহার্ঘ ভাতা বাস্তবায়ন হলে রাশ টানা যেত না মূল্যস্ফীতির, সমাজে দেখা দিত বৈষম্য– এমন শঙ্কায় সব মহল থেকে সরকারের এ উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ পটভূমিতে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মহার্ঘ ভাতা থেকে কিছুটা পিছিয়েছে সরকার। তবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে নতুন অর্থবছরের বাজেটে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ঠিক রেখে মহার্ঘ ভাতার অর্থ সংস্থান করা সরকারের জন্য বেশ কঠিন। তবু অন্য খাত থেকে টাকা কাটছাঁট করে ভাতা দেওয়ার খসড়া চূড়ান্ত করেছিল অর্থ বিভাগ। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বিষয়টিতে সায় না দিয়ে মহার্ঘ ভাতার নথি ফেরত পাঠিয়েছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত এ ভাতা দেওয়া সমীচীন হবে না। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিষয়টি ফের বিবেচনা করা যেতে পারে।

সূত্র জানায়, সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীকে মূল বেতনের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার খসড়া প্রস্তুত করেছিল অর্থ বিভাগ। তবে ইতোমধ্যে পাওয়া সরকারি চাকরিজীবীর বাড়তি ৫ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বাদ দেওয়ার সুপারিশও করা হয়। অর্থ বিভাগের হিসাবে এটি বাস্তবায়নে এক অর্থবছরে বাড়তি খরচ হবে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের খসড়া প্রস্তাবে ব্যয় কিছুটা কমাতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। এ ক্ষেত্রে প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে পাঁচ হাজার কোটির কিছু বেশি টাকার প্রয়োজন ছিল। আর ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় আরেকটু বেড়ে দাঁড়াত– প্রায় ৫ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ এ পরিমাণ টাকার সংস্থান করে সংশোধিত বাজেটে তা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করে।




বাংলাদেশের পুনর্গঠনে বিশ্বব্যাংকের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত

বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আন্না বিয়ার্দে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে আন্না বিয়ার্দে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানিয়েছেন, বৈঠকের সময় আন্না বিয়ার্দে বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বব্যাংকের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে যেকোনো সহযোগিতার জন্য প্রস্তুতির আশ্বাস দেন।

আন্না বিয়ার্দে বলেন, “আমি আমাদের সমর্থন প্রকাশ করতে চাই। আপনারা যেকোনো সহায়তার জন্য আমাদের ওপর নির্ভর করতে পারেন।”

তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাংক বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের প্রতি তাদের সমর্থন প্রসারিত করতে আগ্রহী। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ, সংস্কার কর্মসূচি, এবং অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক আরিফুল ইসলাম।

বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রতি এই সমর্থন ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্বব্যাংকের সমর্থনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বার্তা

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পুনর্গঠনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। সংস্থাটির অপারেশনস বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়ার্ড বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ সমর্থন জানান।

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সাক্ষাতের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আনা বিয়ার্ড বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বব্যাংকের সমর্থনের কথা পুনরায় উল্লেখ করে বলেন, “আপনাদের যা কিছু প্রয়োজন, আমাদের ওপর নির্ভর করতে পারেন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।”

সাক্ষাতকালে তাদের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং জুলাই আন্দোলন নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়।

এই সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক আরিফুল ইসলাম। আলোচনায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম