বাংলাদেশে ব্যবসা ও উন্নয়ন সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি জাপানের

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করবে জাপান।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এ প্রতিশ্রুতি দেন।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে আমাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। শুধু চালিয়েই যাব না, বরং আরও সম্প্রসারণ করবো।’

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জাপানকে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদার উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাই। কারণ, জাপান আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে একটি এবং প্রধান উন্নয়ন অংশীদার দেশ।’

বর্তমানে বাংলাদেশ-জাপানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। জাপান বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচটি রপ্তানি গন্তব্যের একটি।

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৫০টিরও বেশি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, বাংলাদেশ এখন জাপানসহ সার্ক, আসিয়ান এবং পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ খুঁজছে। তিনি বলেন, ‘এখন ব্যবসা করার সময়।’

রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি জাপানের অর্থায়নে চলমান মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঢাকা মেট্রো রেল এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এছাড়া, অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য জাপানের অব্যাহত সহায়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আগ্রহী তুরস্কের শীর্ষ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী কেওসি হোল্ডিংস

বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী কেওসি হোল্ডিংস। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

তুরস্কের ৬০ বিলিয়ন ডলারের এই কোম্পানির টেকসই ইউনিটের সভাপতি ফাতিহ কামাল এবিক্লিওগ্লু ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। তিনি একটি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।

ফাতিহ কামাল এবিক্লিওগ্লু জানান, কয়েক বছর আগে সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড অধিগ্রহণের পর কোম্পানিটি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে একটি গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করেছে। বাংলাদেশে ব্যবসার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বিনিয়োগের দ্বিতীয় পর্যায়ে আছি। বাংলাদেশে আমাদের জন্য ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’

বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘তুরস্ক, ইউরোপ এবং বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ একটি চমৎকার স্থান হতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সহজেই একটি সামগ্রিক বিনিয়োগ কেন্দ্র হতে পারে। বিশেষ করে হালাল পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে উঠতে পারে।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অ্যালেক্স সোরোস। বুধবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার, ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়।

অ্যালেক্স সোরোস ও ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট বিনাইফার নওরোজির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহীত সংস্কার কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়।

গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে অ্যালেক্স সোরোস বলেন, “ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অর্থনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

তারা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান, আন্দোলনে হতাহতদের জন্য ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সংস্কার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার, সাইবার নিরাপত্তা আইন এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

অ্যালেক্স সোরোস বলেন, “আমরা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত।”

অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও সম্পদ পুনরুদ্ধার

প্রধান উপদেষ্টা শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে পাচার হওয়া ২৩৪ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে আনতে “সম্পদ সনাক্তকরণ” কার্যক্রমে ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের সহায়তা চান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি “বিপর্যস্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত” অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন অভূতপূর্ব স্বাধীনতা উপভোগ করছে, তবে ভুল তথ্য ও অপপ্রচার মোকাবিলার জন্য আরও প্রচেষ্টা দরকার।”

এলডিসি উত্তরণে সহায়তা

ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করে। অধ্যাপক ইউনূস এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান এবং বলেন, “আমাদের নিরবচ্ছিন্ন উত্তরণ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা করতে হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যাংক খাতে চুরি নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার স্পষ্ট বার্তা

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের সহায়তায় পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের ব্যাংক থেকে অর্থ চুরি দুর্ঘটনাজনিত ছিল না। এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সম্ভব হয়েছে।”

গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইন্টিগ্রেটেড অনলাইন অথেনটিকেশন ম্যানেজমেন্ট (অ্যাপোস্টিল কনভেনশন ১৯৬১) বাস্তবায়নের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

কিছু ব্যাংককে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভালো ব্যাংকগুলোকে পরিকল্পিতভাবে খারাপ ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এসব অনিয়ম উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব ছিল না।

নতুন চালু হওয়া অথেনটিকেশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “এটি একটি ছোট পদক্ষেপ, তবে এটি আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। যেখানে দুর্নীতির সুযোগ আছে, সেখানে দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা কঠিন। তাই দুর্নীতি দমনের জন্য আমাদের অবশ্যই এই সুযোগগুলো বন্ধ করতে হবে।”

বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে মন্তব্য

ইতালিতে ৬০,০০০ বাংলাদেশি পাসপোর্ট আটকে থাকার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এটি ডকুমেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতার সমস্যার কারণে হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের একজন দালাল ইতালির একটি সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন পেলেও, প্রতিষ্ঠানটির যথাযথ সক্ষমতা না থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটি দেশের ভাবমূর্তি একদিনে তৈরি হয় না, রাতারাতি নষ্টও হয় না। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় যখন সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রাণ হারান, তখন শুধুমাত্র ইতিবাচক বিবৃতি দিয়ে আমাদের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করতে সাহায্য করে। যেমন, যখন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ট্যাক্সি ড্রাইভার বিদেশে হারানো অর্থ ফেরত দেন, তখন আমাদের সুনাম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যখন একজন সংসদ সদস্য দুর্নীতির দায়ে বিদেশে কারাবন্দি হন, তখন আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বাংলাদেশের বিদেশি মিশনগুলোতে জনবল সংকটের বিষয়ে তিনি কাতারের উদাহরণ টেনে বলেন, “কাতারে প্রতিদিন যদি একটি মিশনকে ৩০০ পাসপোর্ট বিতরণ করতে হয়, তাহলে তারা অন্য কোনো পরিষেবা কীভাবে দেবে?”

তিনি জানান, মিশনগুলোতে জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিষেবাগুলো ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের সিস্টেমকে আধুনিকীকরণ করতে হবে যাতে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের আর মিশনে যেতে না হয়, বরং পাসপোর্ট সেবা যথাযথ নথিপত্রসহ তাদের কাছে পৌঁছে যায়।”

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন, সংস্কার বিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মাহমুদুল হোসেন খান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সালমান এফ রহমানের ভয়াবহ ঋণ কারচুপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বেক্সিমকো গ্রুপের ভয়াবহ ঋণ কারচুপির প্রমাণ পেয়েছে সরকার। এই গ্রুপের অস্তিত্ববিহীন ১৬টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস কোম্পানিগুলোর নামে মাত্র পাঁচ হাজার কোটি টাকা সম্পদ জামানত রেখে এর বিপরীতে ঋণ নিয়েছে ২৮ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। শুধু জনতা ব্যাংক থেকেই ঋণ নিয়েছে ২৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। আর সোনালী ব্যাংক থেকে নিয়েছে ১৪২৪ কোটি। মঙ্গলবার এ শিল্প গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রম ও ব্যবসা পরিস্থিতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের ষষ্ঠ বৈঠকে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ওই বৈঠক শেষে শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির চেয়ে বড় কেলেঙ্কারি করেছে বেক্সিমকো। তিনি জানান, এ প্রতিষ্ঠানকে যেসব ব্যাংক ঋণ দিয়েছে, সেগুলোর তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যব




বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী আবুধাবি পোর্টস ও মাসদার

বাংলাদেশের বন্দর উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, লজিস্টিকস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশাল বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান—আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ এবং মাসদার।

গতকাল (২৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়, আবুধাবি পোর্টস গ্রুপের সিইও আহমাদ ইব্রাহিম আল মুতাওয়া এবং মাসদারের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ প্রধান ফাতিমা আলমাধলুম আলসুওয়াইদি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ বৈঠকে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বিনিয়োগের এ প্রস্তাবকে অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আপনারা আপনার দল নিয়ে আসুন এবং যতগুলো প্ল্যান্ট স্থাপন করতে চান, তার জন্য কাজ শুরু করুন।”

আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। তারা যৌথ উদ্যোগে অর্থায়ন, পরিচালনা এবং মাল্টিপারপাস টার্মিনালসহ প্রস্তাবিত তিনটি বে টার্মিনালের একটি উন্নয়নে কাজ করতে চায়। এছাড়া, তারা বাংলাদেশের বন্দরে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি এবং লজিস্টিকস সুবিধা উন্নত করতে বদ্ধপরিকর।

আবুধাবি পোর্টস গ্রুপ ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার মায়ারস্ক এবং সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের মতো বিশ্বখ্যাত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে।

মাসদার কোম্পানি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে পুনরুদ্ধারকৃত জমিতে ২৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করতে চায়। এ জন্য তারা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। মাসদারের আঞ্চলিক বিনিয়োগ প্রধান ফাতিমা আলমাধলুম আলসুওয়াইদি বলেন, “আমরা বাংলাদেশে নতুন প্রযুক্তি এবং ধারণা প্রদর্শনে আগ্রহী।”

বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলি আলহুমুদি উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশ্ব সরকার সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেক্সিমকোর কর্মীদের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি : শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা

বেক্সিমকোর দুটি প্রতিষ্ঠানের বন্ধকি শেয়ার বিক্রি করে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের পাঁচ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেক্সিমকো বিষয়ক ষষ্ঠ সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

শ্রম উপদেষ্টা জানান, বেক্সিমকো ফার্মা এবং শাহিনপুকুর সিরামিকের বন্ধকি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কর্মীদের বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বেক্সিমকোকে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে রিজার্ভ জালিয়াতির চেয়েও বড় ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করি আমরা।”

ড. সাখাওয়াত আরও জানান, বেক্সিমকো লিমিটেডের মোট ঋণের পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৬টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছে।

বকেয়া বেতন পরিশোধের এই উদ্যোগ কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুর্বল ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত পাবেন: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, দুর্বল ব্যাংকগুলো থেকে পর্যায়ক্রমে তাদের জমা করা টাকা ফেরত পাবেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে বলে আসছি, এস আলম গ্রুপের ব্যাংকগুলোতে টাকা রাখবেন না। তারা বেশি সুদ প্রস্তাব দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করেছে, এবং অনেকেই সেখানে টাকা রেখেছেন। তবে আমি আশ্বস্ত করছি, আপনারা পর্যায়ক্রমে আপনাদের টাকা বা বন্ড ফেরত পাবেন।”

গভর্নর আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছর ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে। বর্তমানে দেশে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ২৪ হাজার শাখা এবং ব্যাংকের প্রায় ২৪ হাজার এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের সংখ্যা ৬০ হাজারে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোবাইল আর্থিক পরিষেবা (এমএফএস) এবং ডিজিটাল ব্যাংকের ক্রমবর্ধমান প্রসার ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এমএফএস প্রদানকারীরা ঋণ বিতরণ ও আমানত সংগ্রহের কাজ করছে, যা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।”

২০২৩-২৪ অর্থবছরে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ৩ লাখ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫.২৬ শতাংশ বেশি বলে গভর্নর জানান।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতি প্রকাশ ১০ ফেব্রুয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি চলতি অর্থবছরের (২০২৪-২৫) দ্বিতীয়ার্ধের জন্য মুদ্রানীতি (এমপিএস) ঘোষণা করতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তারিখটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা ১০ ফেব্রুয়ারি একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছি।’

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য ‘সঙ্কোচনমূলক’ ধরন বজায় রেখে এবং মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমপিএস প্রণয়ন করা হচ্ছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হওয়া ড. আহসান এইচ মনসুর প্রথমবারের মতো মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা বলেন, মুদ্রানীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভেতরের ও বাইরের অংশীজনের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করছে।

তিনি আরও বলেন, তারা বিভিন্ন পক্ষের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের অর্থনীতিবিদদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি নগরীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছে।

সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও দক্ষিণ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং।

২০২৩ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এখনও দ্রব্য মূল্য কমাতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক তখন থেকে নীতি সুদের হার কয়েকবার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে যে হারে ঋণ নেয় তা হলো নীতি সুদের হার।

কিন্তু বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)’র তথ্য মতে সদ্য সমাপ্ত বছরের ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি আগের মাসের ১১.৩৮ শতাংশ থেকে কিছুটা কমে ১০.৮৯ শতাংশে নেমেছে।

গত বছরের ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছর (২৪-২৫) প্রথমার্ধের জন্য সর্বশেষ মুদ্রানীতি প্রকাশ করে।




হাসিনা ঘনিষ্ঠদের অর্থ লোপাট তদন্তে অডিটর নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অর্থ লোপাট তদন্তে ইওয়াই, ডেলোওয়েট এবং কেপিএমজি নামের তিনটি অডিট প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাট হয়েছে সেগুলোতে নিরীক্ষা চালাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ব্যাংক থেকে হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা ১৭ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করেছেন।

সংবাদমাধ্যমটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট এসব লোপাট করা অর্থে কেনা সম্পদ ফিরিয়ে আনা এবং এরসঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে ১১টি যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ইওয়াই এবং ডেলোওয়েট এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। অপরদিকে কেপিএমজির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইম।