রিটার্ন দাখিল না করা টিআইএনধারীরা নোটিস পাবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার পরও যারা দীর্ঘদিন রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক ‘নীতি সম্মেলনে’ তিনি বলেন, “আমরা কাজ শুরু করেছি। আপনারা এটা টের পাবেন যখন আপনাদের বন্ধু-বান্ধব ট্যাক্সের নোটিস পাবে।

“দীর্ঘদিন ধরে উনার টিআইএন আছে, উনি জীবিত আছেন, উনার ব্যবসা-বাণিজ্য আছে, অথচ উনি রিটার্ন দেন না; আমরা এই জায়গাটায় হাত দিচ্ছি।”

‘খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শিরোনামে এই ‘নীতি সম্মেলন’ (পলিসি কনক্লেভ) আয়োজন করে বণিক বার্তা।

সেখানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের ওপর ক্রমাগত চাপ আসে; নানা চাপ। প্রথম চাপ হচ্ছে আমার দেশের যে আর্থিক প্রয়োজন, সেটা মেটানো।

“বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের যে ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিচের দিকের একটা। আমাদের আশপাশের দেশের তুলনায় এটা অনেক কম।”

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমার ট্যাক্স নেট যত বড় হওয়ার কথা ছিল, ততটা বড় নয়। বিশেষ করে আয়কর; ধনীদের আয়কর দেওয়ার কথা; কিন্তু আমাদের কোষাগার এখনও গরিবের টাকায় পূর্ণ হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট আমরা যখন করি, যখন রেভিনিউ কালেকশন করা হয়, যা আদায় হত তার ৯০ শতাংশ গরিব মানুষের করের টাকা থেকে আসত।

“সেই পরিস্থিতির খুব যে উন্নতি এখনও হয়েছে, তা নয়। এখনও করের দুই তৃতীয়াংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে। আয়কর দেয় মাত্র এক তৃতীয়াংশ লোক।”




রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: বাণিজ্য উপদেষ্টা

আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শীর্ষক নীতি সম্মেলনে রবিবার তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, দেশের আমদানি ব্যবস্থা ও পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। ফলে রমজান মাসে বাজারে কোনো সংকট হবে না। বিশেষ করে তেল, চিনি, ছোলা ও খেজুরের সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকার কথা। তাই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নেই।

বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ট্যারিফ কমিশনের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়িয়ে বাজারকে প্রতিযোগিতামূলক রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, দেশে উৎপাদিত রাইস ব্র্যান অয়েল আগে ভারতে রপ্তানি করা হতো, যা এখন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে এই তেলের রপ্তানির ওপর ২৫ শতাংশ রেগুলেটরি ট্যাক্স আরোপ করেছে। এর ফলে বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়বে এবং দামও সহনীয় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে গত ১৫ বছরে বড় কোনো বিনিয়োগ হয়নি, যার ফলে কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। বিনিয়োগ না হলে ট্যাক্স আদায় বাড়বে না, যা অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশের ব্যাংক খাতের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু ব্যাংককে অপরাধের আখড়ায় পরিণত করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও টিসিবির অনিয়মের কারণে বাজার ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। টিসিবির তালিকায় ৪৩ লাখ ভুয়া উপকারভোগী চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আরও তদন্ত করা দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল ১৯ টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  চলতি মাসের জন্য ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৫৯ টাকা থেকে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৭৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিলিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৯ পয়সা বাড়িয়ে ৬৭ টাকা ৭৪ পয়সায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) নতুন এ দামের ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে জানুয়ারি মাসের শুরুতে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল এলপিজির দাম। তবে গত ১৪ জানুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৪ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫৯ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

এদিকে জানুয়ারি শুরুতে ৩ পয়সা কমিয়ে ৬৬ টাকা ৭৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল অটোগ্যাসের দাম। এরপর গত ১৪ জানুয়ারি অটোগ্যাসের দাম ৪৯ পয়সা বাড়িয়ে ৬৭ টাকা ২৭ পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আর গত ২২ জানুয়ারি ৪২ পয়সা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয় ৬৬ টাকা ৮৫ পয়সা।




তরুণদের স্বপ্ন দেখতে হবে: অধ্যাপক ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আপনারা ৯ম সোশ্যাল বিজনেস ইয়ুথ সামিটে অংশগ্রহণ করেছেন। এটি প্রথম ধাপ। এখন দ্বিতীয় ধাপে নিজেদের আরও উন্নত করতে হবে এবং তৃতীয় ধাপে আরও আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই ধাপগুলো অনুসরণ করলেই হাজার মাইলের যাত্রা সম্পন্ন হবে, এবং আমরা সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারব।”

স্বপ্ন দেখলে তবেই তা বাস্তবে রূপ নেবে

তরুণদের উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আপনারা যদি চিন্তা করেন, স্বপ্ন দেখেন, তাহলে তা ঘটবেই। কিন্তু স্বপ্ন না দেখলে তা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।”

ক্ষুদ্রঋণ থেকে সামাজিক ব্যবসা

নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ডায়রিয়া মহামারির সময় আমরা একটি সহজ ফর্মুলা তৈরি করি, যা মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। ঠিক তেমনই, সামাজিক ব্যবসাও একটি সহজ ধারণা।”

তিনি বলেন, “ব্যবসা মানে কেবল লাভ করা নয়, বরং এমন একটি ব্যবসা হতে পারে যা সামাজিক সমস্যার সমাধান করবে। টাকা উপার্জন আনন্দের হতে পারে, কিন্তু অন্যকে খুশি করাই পরম আনন্দের।”

স্বাস্থ্য খাতে সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব

স্বাস্থ্য খাতকে সামাজিক ব্যবসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প একটি সামাজিক ব্যবসা হওয়া উচিত, কারণ এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।”

তিনি সবাইকে সামাজিক ব্যবসার ধারণাকে নিজেদের চিন্তাভাবনার অংশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষ এটি করবে, কারণ অন্যের সমস্যা সমাধান করাই সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস।”

চ্যারিটি বনাম সামাজিক ব্যবসা

দাতব্য কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “দাতব্য কার্যক্রমের একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র থাকে, কিন্তু সামাজিক ব্যবসার জীবনচক্র অন্তহীন। এটি সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি টাকাকেও বারবার পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যেমন নতুন বাংলাদেশ গড়ছি, তেমনি আমরা একটি নতুন বিশ্ব গড়ার প্রতিশ্রুতি নিচ্ছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




 দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা

জানুয়ারি মাসে তিনবার সোনার দাম বাড়ানোর পর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই ফের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দামে এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নতুন দাম রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৭ হাজার ৪৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, স্বর্ণ বিক্রয়ের সময় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামও রেকর্ড ছুঁয়েছে, এক আউন্স স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো ২ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে এর আগে ২৯ জানুয়ারি দাম বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯১ টাকা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী শহরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট, বাড়ছে দাম

পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের হাতে গোনা কিছু দোকানে এখনো তেল পাওয়া যাচ্ছে, তবে দামও বেশ উচ্চ।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে শহরের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এমন পরিস্থিতির চিত্র দেখা যায়, বিশেষ করে হেতালিয়া বাধঘাট, পুরান বাজার, নতুন বাজার, পৌর নিউমার্কেটসহ অন্যান্য বাজারে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত দেড় মাস ধরে কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে এক দফা সরবরাহ কমিয়ে লিটারপ্রতি দাম ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, আর এবারও রমজানের আগে দাম বাড়ানোর জন্য সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

বিসমিল্লাহ স্টোরের বিক্রেতা আরিফ সিকদার বলেন, “কোম্পানিগুলো ঠিকভাবে তেল দিচ্ছে না, মাঝে মাঝে দু-এক কার্টন তেল দিচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।”

পুরান বাজারের এক ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কোম্পানিগুলো রমজানের আগে আরেক দফা দাম বাড়াতে চায়, তাই সরবরাহ কমিয়েছে। কিছু ব্যবসায়ীও তেল মজুত করছেন।”

এ বিষয়ে একাধিক সরবরাহকারি কোম্পানির কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহ সোয়েব মিয়া বলেন, “বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।” তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গ্যাস সংকটের আশঙ্কা, ২০২৬ সালে বড় বিপর্যয়?

দেশে প্রতিদিনই কমছে গ্যাসের উৎপাদন, যার ফলে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে সংকটের শঙ্কা। জানুয়ারি মাসে গ্যাস উৎপাদন কমেছে ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ১ জানুয়ারি যেখানে মোট উৎপাদন ছিল ১৯২৯ মিলিয়ন ঘনফুট, ৩০ জানুয়ারিতে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯১১ মিলিয়নে। অথচ ২০২০ সালের ১ জানুয়ারিতে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি ৭০৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করলেও ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারিতে এটি নেমে এসেছে ৪৯৯ মিলিয়নে। একই সময়ে বহুজাতিক কোম্পানির অধীনে থাকা ৪টি গ্যাস ফিল্ড থেকে সরবরাহ পাওয়া যেত ১৬৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারিতে কমে দাঁড়িয়েছে ১১৬১ মিলিয়নে।

উৎপাদন হ্রাসের এই প্রবণতা বিদ্যমান থাকলে গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিবিয়ানার দৈনিক উৎপাদন ৯৭২ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও এই মজুদ শেষ হলে দেশীয় উৎসের গ্যাসের পরিমাণ এক লাফে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাবে।

বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ফারাক ক্রমশ বাড়ছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে বিবিয়ানার অবশিষ্ট মজুদ দেখানো হয় ১৩৪ বিসিএফ। এরপর বলা হয়েছিল, বিবিয়ানার মজুদ আরও ১ টিসিএফ বাড়তে পারে। কিন্তু ১৯ মাস কেটে গেলেও মজুদ বেড়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায়নি।

দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রশিদপুর-৭ এবং কৈলাশটিলা-৭ কূপগুলো সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রশিদপুর-৭ কূপের মধ্যম স্তরে বিপুল গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা উত্তোলন করা হলে দৈনিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বাড়তে পারে। একইভাবে কৈলাশটিলা-৭ কূপের ওপরের স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য ওয়ার্কওভার প্রয়োজন।

২০১১ সালে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্লামবার্জার পরিচালিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর সংস্কারের মাধ্যমে দৈনিক ৪০০-৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব, যার জন্য সর্বোচ্চ ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সে অনুযায়ী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের অদূরদর্শী নীতির কারণেই গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান সরকার ছাড়া আর কোনো সরকারই এই খাতে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মকবুল ই এলাহী চৌধুরী। তিনি বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে, যার ফলে দেশ আজ ভয়াবহ সংকটের মুখে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, “গ্যাস উৎপাদন ধরে রাখতে হলে বছরে কমপক্ষে ১০টি নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন করা জরুরি। এলএনজি আমদানি সীমিত রাখা উচিত, কারণ এর ব্যয় আমাদের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে।”

অন্যদিকে ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি ড. এম শামসুল আলম বলেছেন, “বিবিয়ানার মজুদ সংকট নিয়ে বহুবার সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি। এখন জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন ও অনুসন্ধান কূপ খনন ছাড়া বিকল্প নেই।”

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, সম্ভাবনাময় কূপ রশিদপুর-৭, কৈলাশটিলা-৭ এবং সিলেট-৯-এর কাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে ডিপিপি ছাড়াই কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন: ২০২৬ সালের আগেই অন্তত ১০টি নতুন অনুসন্ধান কূপ খনন করতে হবে।

পুরাতন কূপ সংস্কার: রশিদপুর-৭, কৈলাশটিলা-৭ ও অন্যান্য কূপ সংস্কার করে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে হবে।

গ্যাসের অপচয় বন্ধ: সিস্টেম লস কমিয়ে গ্যাস চুরি রোধ করা জরুরি। বর্তমানে প্রতিদিন ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে, যা দেশের জন্য বিশাল ক্ষতি।

এলএনজি আমদানির বিকল্প খোঁজা: বিদেশি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

গ্যাস সংকট মোকাবেলায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি: জনসাধারণের উদ্বেগ

দেশে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি এক টাকা বাড়িয়ে ১০৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে অকটেন ও পেট্রোলের দামও এক টাকা করে বেড়ে যথাক্রমে ১২৬ ও ১২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই মূল্য শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা ও মূল্য সমন্বয়

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করে। সরকার জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে দেশে তেলের দাম সমন্বয় করা হবে।

পূর্ববর্তী মূল্য পরিবর্তন

এর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১ টাকা কমিয়ে ১০৪ টাকা করা হয়েছিল, তবে অকটেন ও পেট্রোলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। ২০২২ সালের ৫ আগস্ট সরকার এক ধাপে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৩৪ টাকা এবং অকটেন ও পেট্রোলের দাম ৪৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ায়, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন।

২০২১ সালের নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। সেই সময়ও পরিবহন ভাড়া প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মূল্য বৃদ্ধির কারণ ও প্রভাব

সরকার জ্বালানি তেলের দামে ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অকটেন ও পেট্রোল মূলত ব্যক্তিগত যানবাহনে ব্যবহৃত হয় বলে এগুলোকে বিলাস দ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই ডিজেলের তুলনায় এগুলোর মূল্য বেশি রাখা হয়।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ নতুন মূল্য বৃদ্ধির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে উন্নয়নসহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশসহ তিন দেশে উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড সরকার। অন্য দুটি দেশ হলো আলবেনিয়া ও জাম্বিয়া। গতকাল বুধবার সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম সুইস ইনফোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক সহায়তার জন্য সুইস সরকার যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছিল, তার চেয়ে কম অর্থ বরাদ্দ করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিন দেশে উন্নয়নসহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইজারল্যান্ডের সরকার।

পার্লামেন্টে আন্তর্জাতিক সহায়তা কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত গত বুধবার সুইজারল্যান্ডের নির্বাহী সংস্থা ফেডারেল কাউন্সিলকে জানানো হয়। এর ফলে সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) ২০২৮ সালের পর বাংলাদেশ, আলবেনিয়া ও জাম্বিয়ায় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন কর্মসূচি বন্ধ করে দেবে।




বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী জেন্ট্রি বিচের

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও হাইগ্রাউন্ড হোল্ডিংসের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেন্ট্রি বিচ।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি জ্বালানি, অর্থনীতি ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে উল্লেখ করে জেন্ট্রি বিচ প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন,
“আপনারা দুর্দান্ত কাজ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন,
“এই দেশে আরও বিনিয়োগ আসার এখনই সময়। আমরা এখানে থাকতে পেরে উচ্ছ্বসিত।”

জেন্ট্রি বিচ প্যারামাউন্ট ইউএসএ-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি জানান, তার কোম্পানি কম খরচের সামাজিক আবাসন, অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বিনিয়োগের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন,
“গুরুত্বপূর্ণ এ সময়ে আপনাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য স্বাগত জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন,
“বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা আমাদের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছি।”

জেন্ট্রি বিচ বলেন,
“মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকদের মজুরি বাড়বে। আমরা বাংলাদেশকে আবারও মহান করে তুলবো।”

প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের গভীর ও অগভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন খাতে আরও মার্কিন বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম