সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে যা জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারি কর্মকতা-কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয় বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের ভূমিকা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সব শর্ত মানা হয় না। এজন্যই অনেক সময় বলা হয়, আইএমএফের শর্ত ফেল করেছে বাংলাদেশ। সরকারের আয়ব্যয় ব্যালেন্স করতে হয়।

শিক্ষকদের অনেক দাবি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখছি, আগামী বাজেটে তাদের জন্য কী করা যায়। চেষ্টা করে যাচ্ছি।




পুলিশের ৩০০ গাড়ি পুড়িয়েছে, দিতে হবে ৫০০ কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাজেটের মাধ্যমে ভ্যাট না বাড়িয়ে বছরের শুরুতে বিভিন্ন পণ্যের ভ্যাট বাড়ানোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত তাদের ৩৫ লাখ টাকা করে কয়েকশ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। পুলিশের ৩০০ গাড়ি পুড়িয়েছে সেখানে ৫০০ কোটি টাকা দিতে হবে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্সের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মতবিনিময় সভার আয়োজনে সহযোগিতা করে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর মাধ্যম ‘ট্যাপটপ সেন্ড’।

বাজেটের মাধ্যমে ভ্যাট না বাড়িয়ে বছরের শুরুতে ভ্যাট বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাকে অনেকে টাকা দিতে হয়েছে। যেমন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত তাদের ৩৫ লাখ টাকা করে কয়েকশ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। পুলিশের ৩০০ গাড়ি পুড়িয়েছে সেখানে ৫০০ কোটি টাকা দিতে হবে। এই টাকাগুলো আমি কোথা থেকে দেব। ভ্যাট হলো দ্রুত করা যায়, সেটা আমি করেছি। তারপর অনেকগুলোতে কমিয়ে দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমার রিসোর্স গ্যাপ অনেক বেশি। এজন্য আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি এদের সহায়তা নিতে হয়েছে। আমাদের ঋণশোধ করতে হয়, কোনোদিন ডিফলটার হইনি। আমাদের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা আমাদের সাহায্য করছে।

উপদেষ্টা বলেন, আমরা খড়ের ওপর দিয়ে হাঁটছি। চেষ্টা করছি, বলব না যে আমরা খুব ভালো করছি। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা খারাপ নেই। আমরা মোটামুটি ভালো আছি। অবশ্যই আমরা একটা কল্যাণমুখী, সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র করার চেষ্টা করছি। তবে সেটা অনেক দূরে সেটা পলিটিক্যাল সরকার করবে।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক থেকে অর্থ আনতে অর্থনীতির কতগুলো শর্ত মানতে হবে। আমরা কখনো শর্তে ফেইল করিনি। এই বিষয়ে তাদের সঙ্গে অনেক আলোচনা হয়েছে। তারা বলেন ভ্যাট বাড়াও, ভ্যাট বাড়িয়ে নানা রকম বিপত্তি হয়েছে। এগুলো খুব সেনসিটিভ, এক দুই টাকা বাড়ানো মানে প্রবাসীদের জন্য না, আমাদের এখানে আমদানিকারক আছে, নানা রকম অবলিগেশন আছে। যতকিছু আমদানি করছে সেগুলোর দাম বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, জনগণের এখতিয়ার মানে রাজনৈতিক সার্পোট, আমরা কিন্তু ক্ষমতায় আসিনি, আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। আমরা যেটা করছি কিছু কিছু কারণ আছে, সব কিছু ভেবে চিন্তে করছি। এখানে সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা আছে, এখানে রাজনৈতিক ব্যাপার আছে। তাহলে কীভাবে আমরা রাজস্ব ব্যয় কমাব। এক্ষেত্রে আমি পজিটিভ।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের প্রবাসীরা ব্যবসা করতে চান না। ব্যবসা করা কঠিন। সবকিছুতো আমরা করে দেব না। সরকারের আয়-ব্যয়ে ব্যালেন্স করতে হয়। সেটা সবসময় যুক্তিসংগত হবে তা কিন্তু না। ট্যাক্সের ক্ষেত্রে আপনি দেবেন লাভবান আপনি হবেন। আমরা চাই একেবারেই সাধারণ মানুষ যাতে লাভবান হয়। এখন শিক্ষকদের অনেক ডিমান্ড আছে, সেটা আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে দেখব।

তিনি বলেন, প্রতিদিন যে তারা রাস্তাঘাট আটকে রাখে এটা সত্য যে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পলিটিক্যাল গভর্মেন্টের মতো শক্তিশালী না। এখন যদি মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। তখন দোকানদাররা দোষ দেওয়া শুরু করে। এটা সত্য আমরা অনেক চাপের মধ্যে আছি। ১০০টা চাপের মধ্যে আমরা ১০টা মানি। এ যেমন রেলওয়ের ডিমান্ড, ওভার টাইম দাও, দিলাম। এরপর বলে লিমিট উঠিয়ে দাও, সেটাও উঠিয়ে দিলাম। কয়েক দিন পর বলবে চাকরি থাকবে না বেতন দাও? তখন আমি কি করব। সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।

ভ্যাট বাড়ানোর পর চপ্পলের দাম বেড়েছে সেটা নিয়ে কিছু মেয়েরা প্রতিবাদ করেছেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ  উপদেষ্টা বলেন, ভ্যাটের একটা …. থাকে, সেখানে সস্তা চপ্পলে যদি ভ্যাট থাকে সেটা আমি রিভিউ করব। যেমন ২০০ টাকা দামের উপরে বিস্কুটে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এইচএসকোড থাকে সেখানে অনেকগুলো পণ্য থাকে। সেখানে যদি চপ্পল থাকে তাহলে একটু সমস্যা।

তিনি বলেন, আমি যে এতো টাকা পয়সা আনছি, এডিবি ডিসেম্বর ৫০০ মিলিয়ন ডলার দেবে, জুনে বিশ্বব্যাংক ৫০০ মিলিয়ন দেবে এবং আইএমএফ মার্চে না হয় জুনে ২ বিলিয়ন ডলার দেবে। তাদের কতগুলো শর্ত আছে। যেমন ট্যাক্স, ভ্যাট বাড়ানোর। সেখানে আমি যৌক্তিকভাবে দেখলাম যে আয়কর বাড়ালে সংসদে যেতে হবে।৷ আর যদি ভ্যাট ট্যাক্স বাড়াই তাহলে একটি এসআরও দিয়ে আমি করতে পারব। এখানে কিন্তু বেশি টাকা না। মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। এতে কিছু প্রভাব পড়েছে ঠিক।

বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্যাপটপ সেন্ড-র মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মাহমুদ মনি।




পটুয়াখালী ইপিজেড: অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে নির্মাণ করা হচ্ছে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১৮ একর জমির ওপর এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি সম্পন্ন হলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের অগ্রগতি

২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১,১০৫ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে এবং বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) দেবে ৩৩৮ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো মাটি ভরাটের কাজ শেষ হবে। বর্তমানে ১৩০ একর জমিতে বালু ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫৪টি পরিবারের জন্য আবাসন নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, স্কুলসহ আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

কী থাকছে ইপিজেডে?

৩০৬টি শিল্প প্লট

৩ লাখ মিটার দীর্ঘ রাস্তা

৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা

১০টি অফিস ও আবাসিক ভবন

হেলিপ্যাড ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

ইপিজেডে প্লট বরাদ্দের আগেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের মূল দাবি, জ্বালানি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগ আরও সহজ হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলে পটুয়াখালীর অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয়দের স্বপ্ন ও কর্মসংস্থান

এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা আশাবাদী যে, ইপিজেড চালু হলে বাসাভাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক তরুণ এখনো বেকার। ইপিজেড চালু হলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”

জমিদাতা পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা

প্রকল্পের জমিদাতা ১২৬টি পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ এলাকা নির্মাণ করা হবে, যেখানে থাকবে আধুনিক স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

পটুয়াখালী ইপিজেড শুধুমাত্র একটি শিল্প এলাকা নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার এক বিশাল সুযোগ। বিনিয়োগকারীদের সঠিক সুবিধা দেওয়া হলে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হাব হয়ে উঠতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তেল সংকট বাড়ছে, সামান্য কমেছে চালের দাম

দেশের বাজারে বেশিরভাগ পণ্যের দাম স্বাভাবিক থাকলেও চাল ও সয়াবিন তেলের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। সাম্প্রতিক সময়ে চালের দাম কিছুটা কমলেও সয়াবিন তেলের সংকট আরও বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় ভোক্তারা চড়া দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

তেল সংকটের কারণ কী?

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। কিছু দোকানে তেল থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বড় ডিলাররা তেলের সরবরাহ সীমিত করে ফেলেছে, যার ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।

খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, কোম্পানিগুলো সরাসরি অর্ডার নিচ্ছে না। বরং, কিছু ডিলার বাজার নিয়ন্ত্রণ করে বেশি দামে তেল বিক্রি করছে। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের লাভ হচ্ছে না, আর ভোক্তাদের বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

এক ব্যবসায়ী জানান, অনেক কোম্পানি তেল কেনার জন্য চাপাতা, আটা বা অন্যান্য পণ্যও নিতে বাধ্য করছে। এতে ব্যবসায়ীরা চাপে পড়ছেন, কারণ সব পণ্য বিক্রি করা তাদের জন্য সহজ নয়।

চালের দাম কিছুটা কমেছে

বাজারে চালের দাম কিছুটা কমলেও তা খুচরা পর্যায়ে এখনো পুরোপুরি প্রভাব ফেলেনি। পাইকারি বাজারে মোটা চালের দাম প্রতি কেজিতে ১-২ টাকা কমেছে। খুচরা বাজারে এই প্রভাব পড়তে কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে চালের দাম নিম্নরূপ:

মোটা চাল: ৫৫-৬০ টাকা প্রতি কেজি

মাঝারি চাল: ৬৫-৬৮ টাকা প্রতি কেজি

সরু চাল: ৭২-৮৫ টাকা প্রতি কেজি

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের আমদানি বাড়ার ফলে মোকামে দাম কিছুটা কমছে। তবে গত কয়েক মাসে চালের দাম কেজিপ্রতি ৪-৬ টাকা বেড়েছিল, যা পুরোপুরি কমতে সময় লাগবে।

সবজি ও অন্যান্য পণ্যের বাজার

শীতকালীন সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় বাজারে দাম এখনো স্বাভাবিক রয়েছে। নতুন আলু ২০-২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। বেশিরভাগ সবজি ৩০-৫০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ২০-৩০ টাকা এবং লাউ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজার এখনো চড়া।

ব্রয়লার মুরগি: ১৯০-২০০ টাকা প্রতি কেজি

সোনালী মুরগি: ৩২০-৩৪০ টাকা প্রতি কেজি

ডিম: প্রতি ডজন ১৩০-১৩৫ টাকা

রমজান সামনে রেখে ডাল ও ছোলার দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। মসুর ডাল ১৩০-১৪০ টাকা ও ছোলা ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজানকে কেন্দ্র করে বড় ব্যবসায়ীরা বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সরকার বাজার মনিটরিং বাড়ালে তেলের সংকট এবং চালের দাম আরও কমতে পারে।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দেশে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। ৪ দিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯২৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন দাম ঘোষণা করে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে, এবং বিশ্ববাজারেও স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক আউন্স স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৮৫০ ডলার ছাড়িয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হবে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮১৮ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম হবে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯৯ হাজার ৫২৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি, বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল এবং সে সময় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকা ছিল, যা বর্তমানে ২ হাজার ৯৯ টাকায় বেড়ে গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশ ব্যাংকে গোপন ৩০০ লকারের সন্ধান, যে কোনো সময় অভিযান

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ভল্টে কর্মকর্তাদের অর্থ-সম্পদ জমা রাখার তিন শতাধিক লকারের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যেখানে বর্তমান ও সাবেক ঊর্ধ্বতন ভিআইপি ব্যাংক কর্মকর্তাদের লকার রয়েছে বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আদালত থেকে সাবেক ও বর্তমান ব্যাংক কর্মকর্তাদের লকার খোলার অনুমতিও পেয়েছে সংস্থাটি। চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার খুলতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বিভাগের প্রধান দুদক পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার নামীয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার লকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খোলার অনুমতি পেতে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দাখিলকৃত কাগজপত্রসহ পর্যালোচনা করে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

দুদক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইনভেন্টরি করার জন্য ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন এমন অনুমতি দেন। কমিশনের অনুমতি নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ভল্টে কর্মকর্তাদের অর্থ-সম্পদ জমা রাখার ব্যক্তিগত সব লকার সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গভর্নরকে চিঠি দেয় দুদক। দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান সই করা চিঠিতে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি আদালতের অনুমতি নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অনুসন্ধানের উদ্দেশে গঠিত দুদক টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েন ভল্টে রক্ষিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর সেফ ডিপোজিট তল্লাশি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে তার জমা করা তিনটি সিলগালা কৌটা খুলে ৫৫ হাজার ইউরো, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার, ১০০৫.৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। যা তার নিয়মিত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি। ওই সময় অন্যান্য কিছু কর্মকর্তার সিলগালা করে সেফ ডিপোজিট রেখেছেন। এসব সিলগালা কৌটাতেও অপ্রদর্শিত সম্পদ থাকার অবকাশ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

দুদক জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে দুদক চেয়ারম্যানের ‘দুদক ও সম্পদ পুনরুদ্ধার বিষয়ক’ আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ওই ভল্টে রক্ষিত সম্পদ সাময়িকভাবে ফ্রিজের সম্মতি দিয়েছেন। গভর্নরকে দেওয়া দুদকের চিঠি ও অর্থ উপদেষ্টার সম্মতি থাকায় ভল্টের সব লকারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে এর মালিকরা তাদের লকার থেকে কোনো ধরনের অর্থ-সম্পদ সরিয়ে নিতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সব লকার খোলা ও লকারে থাকা অর্থ-সম্পদের তালিকা তৈরির অনুমতির জন্য আবেদন দেয় দুদক।

সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী লকারে যা পাওয়া যায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক আলোচিত ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর গোপন তিনটি লকারে সোনার চামচ, বোতাম, স্বর্ণালংকার, বান্ডিল বান্ডিল মার্কিন ডলার ও ইউরো মিলেছিল। গত ২৬ জানুয়ারি টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টার অভিযান শেষে দেখা যায়, লকারে ১ কেজি স্বর্ণ, ১ লাখ ৬৯ হাজার মার্কিন ডলার, ৫৫ হাজার ইউরো এবং ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

লকারে যেসব স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে—২৩টি সোনার চেইন যার ওজন ১৭৬.৩ গ্রাম, দুটি টিকলি ২০০৭ গ্রাম, কানের দুল ১২টা ৮৯২ গ্রাম, লকেট ৩টা এক দশমিক ৩ গ্রাম, ছয়টি চুড়ি ১০৭ গ্রাম, দুটি সিতাহার ১২০.৯ গ্রাম, তিনটি আংটি ১৮.৩ গ্রাম, সোনার কয়েন তিনটি ওজন ২৩৯ গ্রাম, সোনার চামচ একটি ওজন ৬ গ্রাম, ১০০ নোলক ৮ গ্রাম, ব্রেসলেট ১৬ গ্রাম, গলার হার তিনটি যার ওজন ৫৭.৩ গ্রাম, মুকুট একটি ওজন ১৫৪ গ্রাম। আরেক লকারে চূড় ২টি ৩২.৯ গ্রাম, চুরি ২টি ২১ গ্রাম, সিতাহার একটি পিস ১১ গ্রাম,  মুকুট ২ পিস ২১.৭ গ্রাম, লকেট ২ পিস ২৬৮ গ্রাম, টিকলি একটি ৬৯ গ্রাম, গলার চেইন ৩টি ওজন ৩৯.৩ গ্রাম, গলার হার ২টি ৩২.৫ গ্রাম, কানের দুল ৮টি ৫৮.৮ গ্রাম ও শার্টের বোতাম (স্বর্ণ) ৪টি ৬২ গ্রাম।

এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এস কে সুরের বাসা থেকে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা জব্দের সময় তার নামে বাংলাদেশ ব্যাংকে ভল্ট থাকার তথ্য পায় দুদক। পরে সংস্থাটি জানতে পারে, সেটি ভল্ট নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যবান সামগ্রী রাখার লকার (সেফ ডিপোজিট)।

এরও আগে, গত ১৪ জানুয়ারি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক নাজমুল হোসাইনের নেতৃত্বে একটি দল এস কে সুরকে গ্রেপ্তার করে। সম্পদের বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে গত ২৩ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

উল্লেখ, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ফিলিপাইনের একটি পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সে সময়ে তৎকালীন গভর্নরের পদত্যাগ ও দুই ডেপুটি গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন আরও দুজন ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। তারা হলেন আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ও এস কে সুর চৌধুরী।

২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের আগস্টে এই পরিবারের সব ধরনের লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয় দুদক।

২০২২ সালের ২৯ মার্চে তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ লুটপাটের ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এসকে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।




বাংলাদেশের রাজধানী থাকছে না ঢাকা: সুপারিশ কি বলছে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চারশ বছরের পুরনো নগর ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বেশ আগে প্রায় ২ কোটি মানুষের চাপে ভারাক্রান্ত এই মেট্রোপলিটন তার বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা, বায়ু দূষণও যানবাহনের গতি সূচকে একদম তলানিতে অবস্থান করছে ঢাকা। তাই ঢাকা থেকে রাজধানী সরানোর সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক কৌশল পুননির্ধারণ টাস্ক ফোর্স। সেই সাথে সহজ শর্তে গাড়ি কেনার সুবিধাও কঠিন করার সুপারিশ দুরূহ করবে মধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন।

বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল পুননির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর টাস্ক ফোর্স গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত ৩০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন, পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সেই প্রতিবেদনে নানাবিধ সুপারিশের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হচ্ছে রাজধানী ঢাকার স্থানান্তর।

বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক, বায়ুদূষণ সূচক, যানবাহনের গতি সূচকসহ আটটি বৈশ্বিক গবেষণা ও সমীক্ষার উদাহরণ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবকটিতেই ঢাকার অবস্থান সবার নিচে কিংবা নিচের দিকে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ মেয়াদে ঢাকা থেকে রাজধানী স্থানান্তরের পরামর্শ দিচ্ছে টাস্কফোর্স কমিটি।

ঢাকার ৮৫% অবকাঠামো অঅনুমোদিত এবং তা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য উপযোগী নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। একই সাথে একে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৭ সালে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতিবেগ ছিল যেখানে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার, ২০১৫ সালে তা ছয় দশমিক সাত কিলোমিটার এসেছে যা এখন আরও কমেছে।

প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত গাড়ি কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে গুরুত্বসহকারে। নগরে একটি সমন্বিত গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয় টাস্কফোর্স কমিটির প্রতিবেদনটিতে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাস রুট, ফ্রাঞ্চাইজি, ট্রাম বিআরটি, অ্যালার্টই বা লাইট রেল ট্রানজিট, মনোরেল, সাব আরবান কমিউটার রেল, মেট্রো রেল ও রাইড শেয়ারিং এর মতো সব ধরনের গণপরিবহন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তির।

প্রতিবেদনের একটি অংশে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়। এর জন্য রাজধানীতে কত গাড়ি চলতে পারবে সেই সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের মতো সড়ক ব্যবহারে গাড়ির জন্য মাসুল ধার্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ বন্ধের সুপারিশ জানিয়ে ট্রেনের মতো টেকসই গণপরিবহনের জন্য উড়াল রেলপথের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনের সুপারিশে।

সড়ক ব্যবহারে গাড়ির জন্য মাসুল ধার্য করার পরামর্শের পাশাপাশি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে গাড়ি কেনার ঋণ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে টাস্ক ফোর্স। এতে করে মধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ খানিকটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গাড়ির অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য জরিমানা বাড়ানো প্রকল্পের অধীনে যাতে বিলাসবহুল গাড়ি না কেনা হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশা লেগুনার মতো যানবাহন চলাচল বন্ধের পরামর্শ দিয়ে বড় দ্বিতল বাস বাড়ানোর কথা বলছে।




রেমিট্যান্সের গতি বেড়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমছে

বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি বাণিজ্য ঘাটতি কমতে শুরু করেছে। গত ৫ আগস্টে নীতিগত পরিবর্তনের পর থেকেই রেমিট্যান্সের গতি বেড়েছে। আগস্ট থেকে প্রতিমাসে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) চলতি হিসাবে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। অথচ আগের অর্থবছরের (২০২৩-২৪) একই সময়ে এই খাতে ঘাটতি ছিল ৩৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

রপ্তানি বাড়লেও বিনিয়োগে ধীরগতি

রপ্তানি আয় বাড়লেও মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি কমে গেছে, যা নতুন বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলার সংকট এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির কারণে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ব্যাংকগুলোও আমদানির ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে ২,২৩২ কোটি ৪ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১১% বেশি। একই সময়ে আমদানি হয়েছে ৩,২০৮ কোটি ৮ লাখ ডলার, ফলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৭৬ কোটি ডলার। তবে আগের বছরের তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি ১০.২২% কমেছে।

রেমিট্যান্স ও লেনদেন ভারসাম্যে ইতিবাচক পরিবর্তন

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে মোট ১৩.৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭.৬% বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ১১৭% হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া, সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে (ওভারঅল ব্যালান্স) গত ডিসেম্বরে ঘাটতির পরিমাণ ২৪৭ কোটি ৩০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩৪৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিক বলেন, “রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। যদিও বিনিয়োগে ধীরগতি রয়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে এটি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হিমাগারে আলুর ভাড়া বেড়ে ৮ টাকা, ক্ষুব্ধ কৃষকরা

বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া প্রতি কেজিতে এক টাকা বাড়িয়ে ৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি, আগে যেখানে এক বস্তায় ৮০ কেজি আলু রাখা যেত, এখন তা ৫০ কেজিতে সীমিত করা হয়েছে। ফলে চাষিরা মনে করছেন, তাদের সংরক্ষণ খরচ দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

হিমাগারে ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব

বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে আলুর দামে অস্থিরতা চলছিল। এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আশাবাদী ছিলেন, কিন্তু হিমাগারের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাদের বিপাকে ফেলেছে। ব্যবসায়ী ও চাষিরা অভিযোগ করছেন, সিন্ডিকেট করে হিমাগারের মালিকরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা সরাসরি বাজারে আলুর দামে প্রভাব ফেলবে।

রাজশাহী আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, “বছরজুড়ে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের জন্য কৃষকদের বেশি খরচ গুনতে হবে। এখন ৫০ কেজির বেশি আলু রাখা যাবে না, ফলে কৃষকদের লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হবে।”

অন্যদিকে, কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী দাবি করেন, “আমরা কৃষকদের অতিরিক্ত আলুর জন্য ভাড়া নিতাম না। এবার ৫০ কেজির বেশি বস্তা রাখার সুযোগ নেই। এতে কৃষকরা মনে করছেন, তাদের ভাড়া বেড়ে গেছে।”

আন্দোলনে নামছেন কৃষকরা

ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজশাহীর মোহনপুরে কৃষকরা সড়কে আলু ফেলে বিক্ষোভ করেন। অনেকে রাস্তায় শুয়ে পড়েন।

এক চাষি বলেন, “এভাবে ভাড়া বাড়ানো হলে আমরা কোথায় যাব? হিমাগারে আলু রাখতে না পারলে, বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হবে, যা আমাদের জন্য ধ্বংসাত্মক হবে।”

সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি

কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এবার দেশে ১ কোটি ১৩ লাখ টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৫০টির বেশি হিমাগারে ৩০ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব।

কৃষক ও ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে দাবি করেছেন, হিমাগারের ভাড়া কমানোর জন্য নীতিগত হস্তক্ষেপ জরুরি, যাতে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজার স্থিতিশীল থাকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রফতানি আয়ে বছরের শুরুতেই বড় বৃদ্ধি

জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের রফতানি আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পণ্য রফতানি থেকে দেশের আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া, তৈরি পোশাক রফতানি আয় গত বছরের তুলনায় ৫.৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল ৩৪৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। তৈরি পোশাক খাতের মধ্যে নিটওয়্যার রফতানি থেকে ১৮৫ কোটি ২ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা ৬.৬২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, ওভেন পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছে ১৮১ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা ৪.৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বছর জানুয়ারিতে কৃষি পণ্যের রফতানি আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি পণ্য থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ডলারে, যা ২১.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে, চামড়া ও চামড়া পণ্যের রফতানি আয় কমেছে ৪.৭৫ শতাংশ। হোম টেক্সটাইলের রফতানি আয় ১.১৭ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

তবে, সামগ্রিকভাবে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি মাসে দেশের রফতানি আয় ১১.৬৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৮৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই সময়ে ২৭ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রফতানি করা হয়েছে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক, ওষুধ এবং চামড়া অন্যতম।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম