কাগজে-কলমে কমেছে ২০ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ব্যাংকিং খাতে সংস্কার চলছে কিন্তু থেমে নেই কাগজে-কলমে মন্দ ঋণ কমানোর কার্যক্রম। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও সুযোগ নিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল বা নিয়মিত হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাতে ২০ হাজার ৭৩২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চে) পুনঃতফসিল করা হয় ২ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ১০ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৭ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করে নিয়মিত করা হয়েছে।

আলোচিত সময়ে ব্যাংকগুলোতে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এক হাজার ৯২২ কোটি টাকা বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক খাতে ১৮ হাজার ৮১০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল।




রমজানে খাদ্যশস্য বিতরণ সুশৃঙ্খল করতে ডিসিদের নির্দেশ




তিন দেশকে এক অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগ দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পারস্পরিক বাণিজ্য সুবিধা আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটানকে একসঙ্গে এক অর্থনৈতিক অঞ্চলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত বার্ষিক সম্মিলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘শুধু সমুদ্রবন্দর আমরা ব্যবহার করবো তা তো না, আমাদের নিজস্ব একটা অর্থনৈতিক অঞ্চল আছে, সেটি এখনও আমরা খুলতে পারিনি। কিন্তু অঞ্চল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। উত্তরে নেপাল আমাদের অঞ্চল, তাদের দুর্ভাগ্য হলো—সমুদ্রের দেখা তারা পায় না। সমুদ্র দেখতে হলে আমাদের মাঝখান দিয়ে দেখতে হবে। সে পথ আমরা করে দেই, একসঙ্গে যৌথ অর্থনীতি গড়ে দেই। দুই অভাব দুজন একসঙ্গে পূরণ করি। ভুটানেও একই ঘটনা, তারও সমুদ্র দর্শন হয় নাই। তাকে সমুদ্রে আসতে হলে আমাদের পথ দিয়ে আসতে হবে, আমরা স্বাগত জানাই। তেমনই ভারতের পূর্বাঞ্চল সেভেন সিস্টারেরও একই অবস্থা। সমুদ্র দর্শন তার হয় না, হবেও না। তার জন্য আমরা যোগ দেই একসঙ্গে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে। আমাদের সমুদ্রবন্দর তাদের মালামাল আনা নেওয়া করবে, আমাদের মাল আনা নেওয়া করবে, তাদের কাছে যাবে। তাদের অর্থনীতি আমাদের অর্থনীতি একসঙ্গে জাগবে। তারাও খুব কষ্টকর অবস্থায় আছে, ভালো অবস্থায় নাই। এই সুযোগ পেলে তারাও আনন্দিত, রমরমা ব্যবসা হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের উত্তরে সেই বিখ্যাত হিমালয় পর্বতমালা, যেখানে জমে আছে আমাদের জগতীয় শক্তি ‘হাইড্রোপাওয়ার’। কত শক্তি দরকার বাংলাদেশের। এখানে সব জমা আছে, হারিয়ে যাচ্ছে না, শুধু নেওয়ার অপেক্ষায়। শুধু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক করা, যাতে নেপাল এবং বাংলাদেশের মধ্যে যে দূরত্ব আছে, সেটি অতিক্রম করার। নেপাল এক পায়ে দাঁড়ানো , বারবার বলছে নিয়ে যেতে, আমরা এক পায়ে দাঁড়ানো নেওয়ার জন্য, মাঝখানে ওইটুকু পথ অতিক্রমের সুযোগ এখন আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। আশা করি, তাদেরই অর্থনৈতিক কারণে সেটি আমাদের দেবে। এটা সবার মঙ্গলের জন্য। একজনের উপকার আরেকজনের অপকার, এমন কিছু না। যদি আমরা সেই পথ খোলা পাই, বাংলাদেশকে আটকে রাখার ক্ষমতা কারও নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মহাসৌভাগ্যবান একটি জাতি তার অবস্থানের কারণে। সেই জাতির দুঃখ কেন লাগবে, আমি বুঝতে পারি না। এটা কি আমাদের কপালের দোষ নাকি চরিত্রের দোষ, নাকি আমাদের চিন্তার দোষ। যদি থাকে তাহলে সেগুলো থেকে আমরা মুক্ত হই। আমরা তো ত্বরিতগতিতে এগিয়ে যেতে চাই। এটা একটা মহাশক্তিধর অর্থনীতি তৈরি হবে। আজকে কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যে উপকূল ভূমি, সেখানে যদি কাতারে কাতারে নৌবন্দর স্থাপন হয়, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত দুনিয়ার সব জাহাজকে আশ্রয় দিতে পারি, তাদের কাজ করার জন্য সুযোগ সুবিধা দিতে পারি, আমাদের আটকাবে কে? এগুলো বললাম এ জন্য, আমরা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনেক হতাশায় ভুগি, হতাশার তো কারণ নেই, এটা আনন্দের বিষয়, আমাদের যেই অবস্থান, সুযোগ সুবিধা। শুধু সেগুলোকে আহরণ করা, কাজে লাগানো। প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে জোরদার করা, যাতে আমরা এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে পারি।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কাজেই প্রাকৃতিক দিক থেকে আমরা খুবই সৌভাগ্যবান। তার চেয়ে বড় সৌভাগ্য যে আমাদের মস্ত বড় জনসংখ্যা। আগে মনে করতাম বোঝা মনে হয়। এটা সম্পদ, মানবসম্পদ। প্রযুক্তি আসার ফলে দেশের মানুষ আর বোঝা নয়। প্রতিটি মানুষ এখন সম্পদ। আমরা সেই সম্পদে সম্পদশালী। আমরা পৃথিবীর অষ্টম জনসংখ্যার দেশ। বহু দেশে মানুষ এগোতে পারছে না মানুষের অভাবে। আমরা যে মধ্যপ্রাচ্যে লোক পাঠাই, তারা কোন দুঃখে লোক নেয়, তাদের লোক নেই বলে। পৃথিবীর সব দেশ বসে আছে কখন আমাদের থেকে লোক পাবে। চীন যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে, কিছু দিন পরে বোধহয় আমাদের কাছ থেকে লোক চাইবে। এই হলো আমাদের সুযোগ।’




সারা বছর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে : এনবিআর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সারা বছর অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন বলেন, ১৪ লাখ অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন। আর ১৮ লাখ করদাতা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

তিনি বলেন, আয়কর দিবস পরবর্তী সময়েও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সেবাটি বছরব্যাপী চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আয়কর দিবস পরবর্তী সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে আয়কর আইন, ২০২৩ এর ৭৬ ধারা অনুযায়ী বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত এবং কোনোরূপ কর অব্যাহতি পাবেন না।

মো. আল আমিন আরও বলেন, এ ছাড়া কর দিবসে যে পরিমাণ কর অপরিশোধিত থাকবে তার ওপর আয়কর আইন, ২০২৩ এর ১৭৪ ধারা অনুযায়ী মাসিক ২ শতাংশ হারে (সর্বোচ্চ ২৪ মাস) অতিরিক্ত কর আরোপ করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী করদাতাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল ও আয়কর সনদ প্রাপ্তিতে অনলাইন সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করছে।




বাংলাদেশ-ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আর্থিক সহায়তা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র




রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন আজ




ভোলার গ্যাস ঘিরে নতুন আশা সরকারের

ভোলায় রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম গত কয়েক বছরে তিনটি কূপ খনন করেছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোলায় উত্তোলিত গ্যাস সিএনজির বদলে এলএনজিতে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। তবে বর্তমানে ভোলার সঙ্গে সরাসরি কোনো পাইপলাইন না থাকায় এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, ভোলার চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত গ্যাস সঞ্চিত থাকলেও তা কোনো কাজে আসছে না।

জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, “আমরা ভোলা থেকে সিএনজির বদলে এলএনজি করে গ্যাস আনার পরিকল্পনা করছি। এই গ্যাস আশুগঞ্জ দিয়ে জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হবে।”

জ্বালানি খাতের একাধিক সূত্র জানায়, সাবেক সরকারের সময়েও ভোলা থেকে এলএনজি আনার বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু সে সময় তা লাভজনক মনে করা হয়নি। বরং সিএনজির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে গ্যাস আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।

ভোলায় গ্যাজপ্রম তিনটি কূপ খনন করায় এখানকার গ্যাসের মজুত যথেষ্ট। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় ৫ দশমিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য একটি বিস্তারিত সমীক্ষার প্রয়োজন। কারণ, বড় আকারের এলএনজি জাহাজের পরিবর্তে ছোট আকারের জাহাজ আনতে হবে এবং ভোলায় এলএনজিতে রূপান্তরের জন্য একটি প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে। এছাড়া, আশুগঞ্জেও এলএনজিকে রিগ্যাসিফিকেশনের জন্য পৃথক ইউনিট স্থাপন করতে হবে।

এদিকে, সিলেট অঞ্চলের গ্যাস মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং সাগরে নতুন তেল-গ্যাস উত্তোলনের কোনো আশাও আপাতত নেই। কারণ, সর্বশেষ বিডিং রাউন্ডে কোনো দেশই অংশ নেয়নি, যা পরবর্তীতে কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য অন্তত দুই বছরের বেশি সময় লাগতে পারে।

বর্তমানে, দেশে প্রতিদিন ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হয়। বাকিটা দেশের খনি থেকে সরবরাহ করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাথাপিছু আয় কমেছে ৪৬ ডলার




জিডিপি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.২২ শতাংশ : বিবিএস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চূড়ান্তভাবে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। অথচ সাময়িক হিসাবে এই হার ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিবিএস জানিয়েছে, সাময়িকভাবে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপির সাময়িক হিসাব প্রাক্কলন ইতোপূর্বে প্রকাশ করা হয়েছিল। একপর্যায়ে চূড়ান্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ অর্থবছরের জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রাক্কলন করা হয়েছে।

চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী—  সাময়িক হিসাবের তুলনায় চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমেছে। নানা কারণে শিল্পের উৎপাদন প্রবৃদ্ধিও কমেছে। এ অর্থবছরে চূড়ান্তভাবে প্রবৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, দেশের জনসংখ্যা, কৃষি, শিল্প, জনমিতি, অর্থনীতি, আর্থ-সামাজিক বিষয়াদি, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ ইত্যাদি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রণয়ন ও প্রকাশ করে থাকে বিবিএস। তার মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনসহ (জিডিপি) গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক নির্দেশক প্রাক্কলন অন্যতম।




অপরিবর্তিত আছে বেসরকা‌রি ঋণ ও নীতি সুদহার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বেসরকা‌রি ঋণ প্রবৃ‌দ্ধি ও নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন ,২০২৫) মুদ্রানীতি (মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট-এমপিএস) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে এর একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বছরে দুইবার (জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য) মুদ্রানীতি নীতি ঘোষণা করে।

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি আগের মতো রাখা হয়েছে। গত ‌ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৭.২৮ শতাংশ। আগামী জুন পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৯.৮ শতাংশ নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

গত ডি‌সেম্বর পর্যন্ত সরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮.১০ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ১৭.৫০ শতাংশ লক্ষ্য ঠিক ক‌রা হয়েছে। য‌দিও গত ছয় মা‌সে লক্ষ্য ছিল ১৪.২ শতাংশ। অর্থ্যাৎ ব্যাংক খাত থেকে সরকারকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ ক‌মি‌য়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা ছাপিয়ে (রিজার্ভ মানি) মুদ্রার সরবরাহ বাড়াবে না বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

গত জুনে রিজার্ভ মানির প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৯ শতাংশ। ডিসেম্বরে এ প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ২ শতাংশ নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী জু‌ন পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। বিশাল অংকের এ বাজেটের ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৪.৬ শতাংশ।

বাজেটের আয়-ব্যয়ের বিশাল ঘাটতি পূরণে প্রধান ভরসাস্থল হিসাবে ব্যাংক খাত বেছে নেওয়া হয়। ফলে বড় ঘাটতি পূরণে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নেবে বলে লক্ষ্য ঠিক করেছিল বিগত সরকার।

এদি‌কে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিময় হার স্থিতিশীল করা এবং রিজার্ভ বাড়ানোকে প্রধান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় গত বছরের ১৮ জুলাই চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা ছিল বিগত সরকারের শেষ মুদ্রানীতি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেওয়াজ অনুযায়ী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হতো। কিন্তু রেওয়াজ ভেঙে সে সময় নজিরবিহীনভা‌বে কো‌নো সংবাদ সম্মেলন না করে শুধু ওয়েবসাইটে মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্র দেওয়া হয়। ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অ‌নিয়ম জালিয়াতির তথ্য আড়াল করতে তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় এমন পদক্ষেপ নেন।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর ৯ আগস্ট অজ্ঞাত স্থান থেকে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে আত্মগোপনে আছেন সাবেক এ আমলা। নতুন সরকার গঠনের পর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর‌কে গভর্নরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি ধারে ব্যবহৃত রোপোর সুদহার ছিল ৮.৫০ শতাংশ। তিন দফায় ৫০ বেসিস পয়েন্ট করে তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে করে গ্রাহক পর্যায়ে সুদহার বেড়ে এখন ১৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এরপরও মূল্যস্ফীতি না কমায় আরেক দফা নীতি সুদহার বাড়ানোর আলোচনা ছিল। তবে সর্বশেষ হিসাবে জানুয়া‌রি‌তে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। এ কারণে আপাতত নীতি সুদহার বাড়ানো হবে না। অবশ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বিবেচনায় সুদহার না বাড়িয়ে বরং কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতিতে বড় কোনো উন্ন‌তি হয়‌নি; তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিক যে অবনতি হচ্ছিল, তা ঠেকানো গেছে। বিশেষ করে অর্থপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর নীতির কারণে আগের মতো আর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে না। বরং দীর্ঘদিন ধরে তা ২০ বিলিয়ন ডলারে স্থিতিশীল আছে। গত বুধবার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২০.২০ বিলিয়ন ডলারে। বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার আগে গত জুলাই শেষে যা ২০.৩৯ বিলিয়ন ডলার ছিল; ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে যা ওই পর্যায়ে নেমেছিল।

গত ছয় মা‌সে বাংলা‌দেশ ৩৩০ কোটি ডলার আগের বকেয়া পরিশোধ ক‌রে‌ছে। তারপরও রিজার্ভ একই জায়গায় থাকাকে আপাতত স্বস্তি বিবেচনা করা হচ্ছে। আবার ডলারের দর ১২২ থেকে ১২৪ টাকায় স্থিতিশীল আছে। এর মধ্যে স্ব‌স্তির খবর নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.৯৪ শতাংশে নেমেছে। আগের মাস শেষে যা ছিল ১০.৮৯ শতাংশ।

অনুষ্ঠা‌নে ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, গবেষণা বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছি‌লেন।