পটুয়াখালীতে ইপিজেড: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর অর্থনীতিতে আসছে নতুন সম্ভাবনা। জেলার সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে নির্মিত হচ্ছে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ৪১৮ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই শিল্প এলাকা ২০২৬ সাল নাগাদ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দিতে শুরু করবে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের আর্থিক বিনিয়োগ ও অগ্রগতি
২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১,১০৫ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ৩৩৮ কোটি টাকা বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) অর্থায়ন করছে। ইতোমধ্যে ১৩০ একর জমিতে বালু ভরাট সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো মাটি ভরাটের কাজ শেষ হবে।

উন্নয়ন কার্যক্রম ও সুযোগ-সুবিধা
প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, “প্রকল্প এলাকায় ১৫৪টি পরিবারের জন্য আবাসন, ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, স্কুলসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৩ লাখ মিটার সড়ক, ৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ১০টি অফিস ও আবাসিক ভবন, হেলিপ্যাড এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারীদের মাঝে প্লট বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা
ইপিজেড বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকার অর্থনীতির চাকা ঘুরবে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। ইতোমধ্যে অনেকে প্লট বরাদ্দের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রকল্পটি সম্পূর্ণরূপে সফল হয়।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না জানান, “২০২৬ সালের শুরুর দিকে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে এবং আগামী এক বছরের মধ্যেই ইপিজেডের কাজ দৃশ্যমান হবে।”

অঞ্চলবাসীর প্রতিক্রিয়া
ইপিজেডের মাধ্যমে এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান এবং ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। আবুল বাসার নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের এলাকায় অনেক তরুণ বেকার। ইপিজেড চালু হলে তারা কর্মসংস্থান পাবে, যা আমাদের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।”

প্রকল্পের আওতায় জমিদাতা ১২৬ পরিবারের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আশ্রয়ণ এলাকা নির্মাণ করা হবে, যেখানে পানির ব্যবস্থা, স্যানিটেশন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকবে। পাশাপাশি কুয়াকাটায় ২.২৫ একর জমিতে একটি বিনিয়োগকারী ক্লাব স্থাপন করা হচ্ছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেবে।

এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পটুয়াখালী অর্থনৈতিকভাবে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে। উদ্যোক্তা ও স্থানীয়রা সবাই তাকিয়ে রয়েছেন ২০২৬ সালের দিকে, যখন প্রকল্পটি পুরোপুরি কার্যকর হবে এবং উপকূলীয় অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী চীনা প্রতিষ্ঠান লংগি

বিশ্বের বৃহত্তম সৌর প্যানেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘লংগি’ বাংলাদেশে অফিস স্থাপন এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে গত ডিসেম্বর মাসে চীনের শীর্ষস্থানীয় সৌর প্যানেল নির্মাতা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ সফর করে। তারা সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করে এবং ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়।

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশকে একটি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চীনা কোম্পানিগুলোকে এখানে কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানান। এরই ধারাবাহিকতায় লংগি বাংলাদেশে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়।

রবিবার (১৬ মার্চ) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সফরকারী চীনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্তত দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তাদের কারখানা ও অফিস স্থাপন করবে, যার মধ্যে অন্যতম লংগি।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আরও জানান, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ছে এবং শিগগিরই একটি বিশেষ চীনা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল চালু হবে।

অধ্যাপক ইউনূস চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং বলেন, “বাংলাদেশ চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান পশ্চিমা দেশে পণ্য রপ্তানি করতে চায়, তাদের জন্য এটি আদর্শ স্থান।”

এছাড়া, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে চীনা হাসপাতাল চেইনগুলোর বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “এখনই চীনা হাসপাতালগুলোর জন্য বাংলাদেশে উন্নতমানের ক্লিনিক ও হাসপাতাল নির্মাণের উপযুক্ত সময়।”

রাষ্ট্রদূত জানান, চীনের কুনমিং শহরের চারটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একদল বাংলাদেশি চিকিৎসা নিতে সেখানে গেছেন।

এদিকে, অধ্যাপক ইউনূসের আসন্ন চীন সফরকে দুই দেশের ৫০ বছরের সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সফরকালে তিনি বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (BFA) সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীন যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“উচ্চমূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের অবস্থা শোচনীয়: সঞ্চয় ভেঙে চলছে জীবন”

উচ্চমূল্যস্ফীতির চাপে দিশাহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সঞ্চয়পত্র ভেঙে কিংবা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা শেয়ার লোকসানে বিক্রি করে, সংসার চালাচ্ছে অনেকে। গত কয়েক বছর ধরে অবস্থা এমনই চলছিল, তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, “মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে বিপুল অর্থ রয়েছে, কিন্তু বৃহত্তর জনগণ দিন দিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। একদিকে উন্নতি হলেও অন্যদিকে বৈষম্য বাড়ছে, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।”

অর্থনীতি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সরকার সফল হতে পারেনি। বিশেষ করে, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। যদিও বাজারে পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ রয়েছে, তবুও দাম বাড়ছে। গত আড়াই বছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আরও বেশি কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে, আশার কিছু সংকেত দেখা যাচ্ছে, কারণ সম্প্রতি মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যমূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

সরকার কিছুটা সাহায্য দিতে চাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের শুল্ক কমিয়েছে, তবে সেসব সুবিধা মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে গেছে। এছাড়া, রোজার আগে পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত আমদানি করা হলেও বাজারের পরিস্থিতি আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, শুল্ক-কর কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল করা যায়নি। বরং রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার।” বাজারের তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে, ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারী অনেকেই এখন তাদের সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসে গ্রাহকরা ২৫ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ভেঙেছেন। এছাড়া, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সঞ্চয়পত্র কেনার হার ২৭ শতাংশ কমে গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তাফা কে মুজেরি বলেন, “এখন অনেকেরই আয় নেই, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে। তাই তারা সঞ্চয় ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে হবে।”

কিন্তু, একদিকে যতই ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে আয় কমছে। সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে এটিই অন্যতম প্রধান কারণ। এখন মানুষকে সুদিনের আশায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তবে এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে তা সময়ই বলে দেবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাকিস্তান থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আসলো

পাকিস্তান থেকে ২৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আতপ চাল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এই চালের নমুনা পরীক্ষা শেষে খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি সম্পাদিত জি টু জি চুক্তির আওতায় এমভি মরিয়ম জাহাজটি পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এর আগে গত ৫ মার্চ পাকিস্তান থেকে চাল নিয়ে ‘এমভি সিবি’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছিল। পাকিস্তানি পতাকাবাহী এই জাহাজটি বন্দরে ভিড়েছিল।

খাদ্য অধিদফতর জানায়, পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানি করা হচ্ছে, এর মধ্যে এমভি সিবি দিয়ে প্রথম চালান এসেছে এবং বাকি চাল শিগগিরই বন্দরে পৌঁছাবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়ায় শিল্পে দুরবস্থা 

বর্তমানে বাংলাদেশে শিল্পখাতে গ্যাসের অপ্রতুল সরবরাহের কারণে উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে, যা শিল্পকারখানাগুলোর জন্য এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে এবং ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) নতুন গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবটি দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত এটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব:

পেট্রোবাংলার প্রস্তাব অনুসারে, নতুন গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের দাম ৩০ থেকে ৩১.৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৫.৭২ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রাহকদের অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারে একই দামে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাব শিল্পের জন্য এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার প্রভাব দেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের উপর পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ:

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বেসরকারি খাতের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অপচয়ও বেশি, বিশেষ করে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম লস ১৩.৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সুতরাং, সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য গ্যাস কোম্পানির দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

শিল্প খাতে বিরূপ প্রভাব:

গ্যাস সংকট এবং জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি শিল্পের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ভালুকা ও নরসিংদী অঞ্চলের শিল্পকারখানায়। সিরামিক ও স্টিল শিল্পের উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশ। এছাড়া, ২০২৩ সালে নতুন গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে খরচের চাপ আরও বেড়েছে, যা বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি:

জ্বালানি খরচ ২০২২ সালে প্রতি গজ কাপড় উৎপাদনে ছিল ১৮ টাকা, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ২৬ টাকা হয়ে গেছে। একইভাবে নিট শিল্পে সুতা উৎপাদনে খরচ ২.৪৫ ডলার প্রতি কেজি দাঁড়িয়েছে, যখন পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নিট কাপড় আমদানি করতে খরচ হচ্ছে ২.১৮ ডলার প্রতি কেজি। এই কারণে ২০২৪ সালে নিট সেক্টরে কাপড় আমদানি ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থান:

এছাড়া, শিল্পের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫৭ শতাংশে নেমে গেছে, এবং বিদেশি বিনিয়োগও ৭১ শতাংশ কমেছে। বেকারত্বের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের শ্রমবাজারের জন্য বড় একটি সংকেত। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এবং গ্যাস সরবরাহের উন্নয়নসহ অপচয় কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব শিল্পের জন্য বিপজ্জনক হবে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”

এখন ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, সরকার গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে শিল্পখাত টিকে থাকতে পারে এবং নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 কমেছে সয়াবিন তেল-ছোলা-চিনির দাম

ঢাকা জেলার ধামরাইয়ে সপ্তাহের ব্যবধানে কমেছে সয়াবিন তেল, ছোলা এবং চিনির দাম। তবে, সবজি ও চালের বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি, তবে কিছুটা বেড়েছে লেবু ও কাঁচামরিচের দাম।

শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে সরেজমিনে ধামরাই উপজেলার কাওয়ালীপাড়া, কালামপুর, ধামরাই, ধানতারা, বারবাড়িয়া, কাওয়াখোলাসহ বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, গত সপ্তাহের তুলনায় সয়াবিন তেল, ছোলা ও চিনির দাম প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে। বর্তমানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকায়। তবে খোলা তেলের সরবরাহ ঠিকঠাক থাকলেও বোতলজাত তেলের সংকট রয়েছে। চিনির দাম এখন ১২০ থেকে ১২২ টাকা প্রতি কেজি, মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা, ছোলা ১০৫ টাকা এবং বেসন ১০০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকলেও কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ১০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, পাতা কপি ১০ থেকে ১৫ টাকা পিস, ছোট লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকা হালি এবং বড় লেবু ১০০-১২০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, মসলার বাজারে হলুদ ৩৩০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩২০ টাকা, জিরা ৬৫০ টাকা, দেশি আদা ও রসুন ১০০ টাকা, লং ১৬০০ টাকা, এলাচ ৫০০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। মসলার দামও গেল সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে গেল কিছু দিন ধরেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সবজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের সমুদ্র সম্ভাবনা বিশাল: ড. ইউনূস

বাংলাদেশের মানুষ ভাগ্যবান, কারণ তাদের একটি সমুদ্র রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার কক্সবাজারের বিআইএএম অডিটোরিয়ামে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “আমাদের দীর্ঘ উপকূলরেখা ও সমুদ্রবন্দর ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারি, তাহলে দেশের অর্থনীতিতে বিপুল পরিবর্তন আসবে।”

ড. ইউনূস বলেন, কক্সবাজার কেবল পর্যটন শহরই নয়, এটি অর্থনীতিরও একটি কেন্দ্র হয়ে উঠছে। এখানকার সমুদ্রতীরের যেকোনো স্থানে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নেপাল ও ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “নেপাল ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কোনো সমুদ্র নেই। পারস্পরিক সুবিধার্থে তাদের জন্য আমাদের সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।”

বাংলাদেশে উৎপাদিত লবণের বৈশ্বিক বাজার নিয়ে তিনি বলেন, “কক্সবাজারের কৃষকদের উৎপাদিত লবণ এখন রপ্তানিযোগ্য মানসম্পন্ন। বিদেশি আমদানিকারকরা এই লবণ কিনতে আগ্রহী কি না, সেটি আমাদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।”

ড. ইউনূস কক্সবাজারে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “সমুদ্রের বাতাসকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। আমরা যদি পাইলট প্রকল্প চালু করতে পারি, তাহলে এটি দেশের টেকসই বিদ্যুৎ খাতের জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে উঠবে।”

তিনি স্থানীয় জনগণের কাছে জানতে চান, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ কক্সবাজারবাসীর ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে এবং তারা কীভাবে ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

সভায় স্থানীয় জনগণ কক্সবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ-গাম্বিয়া বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মামাদৌ টাঙ্গারা সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিশেষ করে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “গাম্বিয়া বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার সমর্থন আমাদের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলক কম। উভয় দেশ রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মামাদৌ টাঙ্গারা বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে পেরে গাম্বিয়ার জনগণ গর্বিত। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে দু’দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ আরও বাড়বে।”

তিনি বাংলাদেশ থেকে সামুদ্রিক হিমায়িত মাছ আমদানির পাশাপাশি গাম্বিয়া থেকে চিনাবাদাম বাংলাদেশে রপ্তানির আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—

  • বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান
  • অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান
  • ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী
  • আয়েশা আক্তার
  • মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ
  • বাংলাদেশে নিযুক্ত গাম্বিয়ার অনাবাসিক হাইকমিশনার মুস্তাফা জাওয়ারা
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যাংক দেবে না নতুন টাকা, চড়া দাম খোলাবাজারে

এবার ঈদুল ফিতরের সময় নতুন টাকার চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে, কিন্তু ব্যাংকগুলো থেকে নতুন টাকা সরবরাহ বন্ধ থাকায় সেই চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। এর ফলে খোলাবাজারে নতুন টাকার দাম বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার নোটের দাম অতিরিক্ত বাড়তি হারে বিক্রি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এক চিঠির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংককে জানিয়ে দেয়, আসন্ন ঈদুল ফিতরের উপলক্ষে নতুন নোট বিনিময়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এতে ব্যাংকগুলো তাদের শাখাগুলোর কাছে থাকা নতুন নোটগুলো বিক্রি না করে সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে নতুন নোটের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হলেও ব্যাংকগুলো থেকে তা সরবরাহ হচ্ছে না, যার কারণে খোলাবাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় নতুন টাকার বাজারে দেখা যায়, অনেক ক্রেতা নতুন টাকা কিনতে এলেও তারা বাড়তি দাম দিয়ে ফিরছেন। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন নোটের সবচেয়ে বেশি চাহিদা ১০ ও ২০ টাকার নোটে। ১০ টাকার এক বান্ডেল (১০০ নোট) যেখানে ১,০০০ টাকায় পাওয়া যেত, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ১,৬০০-১,৬৫০ টাকায়। ২০ টাকার নোটের বান্ডেলও ৬০০-৬৫০ টাকা বেশি দাম হাকাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট ছাড়লেও এবছর তা বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে খোলাবাজারে নতুন টাকার চাহিদা বেড়ে গেছে এবং দামও বেশি হয়ে গেছে। গুলিস্তানে ২০ বছর ধরে নতুন টাকার ব্যবসা করে আসা ব্যবসায়ী শাহিন আহমেদ বলেন, “ব্যাংক থেকে নতুন টাকা সরবরাহ বন্ধ থাকায় আমাদের কাছে আরও বেশি ক্রেতা আসছেন, যার কারণে দাম বেড়েছে।”

ফাতেমা খাতুন নামের এক গৃহকর্ত্রী ঈদের আনন্দে পরিবারের শিশুদের ঈদ সালামি দেয়ার জন্য নতুন টাকা কিনতে এসে কিছুটা হতাশ হয়েছেন। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, “এবার নতুন টাকার দাম অনেক বেড়ে গেছে। ১০ টাকার বান্ডেল নিতে ৫০০ টাকা বেশি দিলেও পাচ্ছি না। বিক্রেতারা ৬০০ টাকার দাবি করছেন।” রুবেল মিয়া নামের আরেক ক্রেতা জানান, “আগেভাগে টাকা কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু ব্যাংক থেকে নতুন টাকা না দেয়ার অজুহাতে দাম বেড়ে গেছে।”

এবার ঈদে নতুন টাকা না পাওয়া ক্রেতাদের জন্য কিছুটা দুর্ভোগ তৈরি করেছে। তবে, গুলিস্তানের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাওয়া না গেলে দাম আরও বাড়তে পারে।


মো: রুহুল আমিন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২০২৫ সালেই ৭টি কূপ খননের পরিকল্পনা পেট্রোবাংলার

দেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদার করতে একশ কূপ খনন প্রকল্প থেকে ৭টি কূপ এগিয়ে এনে ২০২৫ সালেই খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেট্রোবাংলা

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান জানান, ২০২৬-২০২৮ সালের জন্য নির্ধারিত ১০০ কূপ খনন প্রকল্প থেকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ৭টি কূপ ২০২৫ সালেই খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

১০০ কূপ খনন প্রকল্পের কাঠামো:

  • ৬৯টি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ
  • ৩১টি পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার

প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো

বাপেক্স: ৫২টি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ, ৩১টি ওয়ার্কওভার
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি (বিজিএফসিএল): ৯টি অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ, ১২টি ওয়ার্কওভার
সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি (এসজিএফসিএল): ৮টি অনুসন্ধান কূপ, ৩টি ওয়ার্কওভার

প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়ন:

  • মোট বাজেট: ১৯,০৫০ কোটি টাকা
  • গ্যাস উন্নয়ন তহবিল (জিডিএফ) ও কোম্পানির নিজস্ব অর্থায়ন: ৫,৭২২ কোটি টাকা
  • সরকারি তহবিল: ১৩,৩২৮ কোটি টাকা

প্রথম ধাপে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কূপ:

প্রথম পর্যায়ে ৩৫টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেগমগঞ্জ-৫, বেগমগঞ্জ-৬, সুনেত্র-২, চরলক্ষা-১, সেমুতাং-১, সুবর্ণচর-১, নোয়াখালী-১ ও সুন্দলপুর-৫ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বর্তমান কূপ খনন প্রকল্পের অগ্রগতি:

বর্তমানে ৫০ কূপ খনন প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মধ্যে ১০টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে। জামালপুর কূপের কাজ চলমান, শ্রীকাইল-৫, সুন্দলপুর-৪ ও সুন্দলপুর সাউথ-১ শিগগিরই শুরু হবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে গ্যাস সংকটের মূল কারণ অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্থবিরতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যর্থ হলে হাল ছেড়ে দিলে হবে না, কারণ একটি সফল কূপই বিপুল গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, ২৫টি কূপ খননের পরও যদি ২৬তম কূপে গ্যাস পাওয়া যায়, তবে সেটির মূল্য হবে অনেক বেশি, যা পুরো খরচ উঠে আসতে সাহায্য করবে।

পেট্রোবাংলার নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম