ঈদের ছুটিতে ৯ দিন ব্যাংক বন্ধ, ২৮-২৯ মার্চ পোশাকশিল্প এলাকায় খোলা থাকবে ব্যাংক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলো ৯ দিন বন্ধ থাকবে। তবে, তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ এবং রফতানি বিল সংক্রান্ত লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে ২৮ ও ২৯ মার্চ কিছু ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে সোমবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনে জানায়, ঈদের ছুটির সময় ঢাকা মহানগরী, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের পোশাকশিল্প এলাকার নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখা খোলা থাকবে।

ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচি:

  • শুক্রবার (২৮ মার্চ): সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত শাখা খোলা থাকবে। লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।
  • শনিবার (২৯ মার্চ): সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শাখা খোলা থাকবে। লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত।

এছাড়া, সমুদ্র, স্থল এবং বিমানবন্দরের পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায় অবস্থিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও বুথ ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির সময় (২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল) আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, ছুটির দিনে দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




মার্চের ২২ দিনে এল ২৪৩ কোটি ডলার

প্রবাসীদের ঈদকে সামনে রেখে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মার্চের ২২ দিনে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে ২৪৩ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৯ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। প্রতিটি ডলার ১২৩ টাকার ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ কোটি ডলার বা এক হাজার ৩৬২ কোটি টাকা।

রবিবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫২ কোটি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৯ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৭০ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার, এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

এছাড়াও, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার, অক্টোবর ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর ২১৯ কোটি ৯৯ লাখ মার্কিন ডলার, ডিসেম্বর ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার, জানুয়ারিতে ২১৮ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার, এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাবেক প্রতিমন্ত্রী চুমকির ফ্ল্যাট ক্রোক ও ২ কোটি টাকা ফ্রিজ




রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস হবে ভ্যাট ও ইনকাম ট্যাক্স: এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছেন, দেশের রাজস্ব আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে ইনকাম ট্যাক্স এবং ভ্যাট হবে। শনিবার (২২ মার্চ) গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‍্যাপিড ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত রাজস্ব আয়ের ওপর একটি সেমিনারে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এ কথা জানান।

এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স (ভ্যাট) আদায়ের আওতা সম্প্রসারণে এনবিআর কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটে এই পরিবর্তনগুলোর প্রতিফলন হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতের বাজেটগুলো উচ্চাভিলাষী ছিল, যার ফলে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে ট্যাক্স আদায়ে পলিসি স্তরে জোর দেয়া হলেও বাস্তবায়নে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এনবিআর আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমসের অটোমেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি বলেন, এটি বাস্তবায়িত হলে ট্যাক্স সম্পর্কে মানুষের ভীতি কমবে, এবং ভবিষ্যতে আর অফলাইন রিটার্ন নেয়া হবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, যারা ট্যাক্স ফাঁকি দেয়, তাদের তদারকির আওতায় আনা হবে, এবং যারা নিয়মিতভাবে ট্যাক্স দেয়, তাদের হয়রানি করা হবে না।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৮ মাস শেষেও রাজস্ব ঘাটতি ৫৮ হাজার কোটি টাকা

৮ মাস শেষেও রাজস্ব ঘাটতি ৫৮ হাজার কোটি টাকা
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আট মাস (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) শেষে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার বেশি পিছিয়ে আছে রাজস্ব জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১.৭৬ শতাংশ।
চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : এর আগে ৬ মাস শেষেও ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা। এনবিআর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ডলারের মূল্য বৃদ্ধিসহ বেশ কয়েকটি কারণে আদায় কমে গেছে।

এনবিআরের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮০ হাজার ৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৮১৭ কোটি ৯ লাখ টাকা। ওই রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ২৪২ ০কোটি টাকা। ওই একই সময়ে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা।




আগামী বাজেট যুক্তিসঙ্গত হবে : অর্থ উপদেষ্টা




ভোলার গ্যাস পাইপলাইনে প্রথমে আসবে ঢাকায়

দ্বীপজেলা ভোলার গ্যাস এখন রাজধানী ঢাকায় আনা হবে প্রথমে। তারপর অন্য একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে খুলনায় পৌঁছানো হবে। এই নতুন পরিকল্পনা অনুসারে, পেট্রোবাংলা ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইনের প্রাথমিক পরিকল্পনা সংশোধন করেছে। বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকায় গ্যাসের চাহিদা অনেক বেশি, কারণ এখানে শিল্পকারখানাগুলোর সংখ্যা বেশি। সেজন্য ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা অতি জরুরি। ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে এবং বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত একটি পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে, শুধু বরিশাল পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ দিলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব নয় বলে প্রকল্পটির সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত ১০৯ কিলোমিটার পাইপলাইনের পরিকল্পনা করা হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে ২০২৯ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি বিভাগ নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যেখানে প্রথমে ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা হবে এবং পরে খুলনায় পৌঁছানো হবে।

এদিকে, ভোলাতে ইতিমধ্যে দুটি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে এবং এসব ক্ষেত্রে প্রায় ৮ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস মজুত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। গ্যাস উত্তোলন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং ৯টি কূপের মধ্যে ৫টি কূপ থেকে দৈনিক ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে, ভোলার এই গ্যাসের চাহিদা না থাকায়, গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে আরও সময় লাগবে।

দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর মজুত কমে যাওয়ায়, বর্তমানে গ্যাসের উৎপাদন দিনে ১,৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে, যা এক সময় ২,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট ছিল। বিশেষ করে বিবিয়ানার গ্যাসক্ষেত্রের মজুত শেষ হয়ে আসছে, যা দেশের গ্যাসের অর্ধেক জোগান দেয়।

এ কারণে, সরকার ভোলা থেকে গ্যাস এলএনজি আকারে আনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ২০২৬ সাল থেকে সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।




বরিশালে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল শহরের বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতf ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে এসে মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন। তবে, এই আনন্দের মাঝে কিছু অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দাম নিয়ে কিছু ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বুধবার (১৯ মার্চ) বরিশালসহ আশপাশের জেলা শহরের মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষভাবে বরিশালের বিখ্যাত পার্ক মার্ট, টপটেন, চিপস বাজারসহ অন্যান্য মার্কেটগুলোতে মানুষ ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই এসব মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করছেন এবং শিশু, প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষ উপস্থিত হচ্ছেন।

কর্মব্যস্ত শহর বরিশালের এসব মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকেই মানুষ কেনাকাটায় বের হচ্ছে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবে, কিছু ক্রেতা অভিযোগ করছেন যে, এবারের ঈদের পণ্যের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা বেড়ে গেছে, যা তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদ মৌসুমে তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক, জুতা, প্রসাধনী এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে, কিছু ক্রেতা বিশেষত ভারতীয় অরগেনজা, মেঘা, পাকিস্তানি সারারা, গারারা এবং শাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় হতাশ। এছাড়া, বাচ্চাদের পোশাক ও কসমেটিক্সের চাহিদাও বেড়েছে।

সিনিয়র সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাচ্চু (৫২) বলেন, “ঈদ আসলেই পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এখানে আসি। পছন্দের দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করা বেশ ভালো লাগে, তবে দামগুলো একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।” অপরদিকে, ক্রেতা নাজমিন জামান মুক্তি জানান, “বাচ্চাদের জন্য এখানে কেনাকাটা করতে আসি, প্রতিবছর টপটেন ও পার্ক মার্টে কেনাকাটা করি, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”

ক্রেতা আসাদুজ্জামান সোহাগ জানান, “আমি শুধু প্রয়োজনের তাগিদেই কেনাকাটা করতে আসি। তবে এখন দাম বেশিই হয়ে গেছে, আমাদের মতো নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য দামটা সহনীয় নয়।”

মার্কেটের মালিকরা জানান, ঈদ মৌসুমে পণ্যের বিক্রি বেড়েছে, তবে তাদের কাছে কেনা পণ্যের দামও বেড়েছে, যা বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলছে। তাদের দাবি, পোশাকের কোয়ালিটি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়।

বরিশালের কোহিনূর জুতা দোকানের মালিক আজিম হোসেন বলেন, “আমরা নিজেরাই জুতা তৈরি করি, তাই আমাদের জুতার দাম সাশ্রয়ী। তবে, বাটা, লোটো বা সাম্পান থেকে কিছুটা বেশি দাম লাগছে, কারণ পরিবহন খরচ বেড়েছে।”

এছাড়া, আল আমিন হোসেন নামে এক কর্মী জানান, “আমরা যখন দাম বাড়িয়ে পণ্য কিনি, তখন বিক্রিও সেই অনুযায়ী করতে হয়, তবে আমরা সব কিছু ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করি।”

বরিশালের চকবাজার, হেমায়েতউদ্দিন সড়ক, সিটি মার্কেট, ফাতেমা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ছোট-বড় মার্কেটগুলোতে বাচ্চাদের পোশাক, শাড়ি, থ্রি-পিস, গহনাসহ অন্যান্য প্রসাধনীর চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতা হতাশ। শহরের বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ভিড় কম দেখা যাচ্ছে, তবে তরুণ-তরুণীরা শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবির দোকানে ভিড় করছেন।

এখনও পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে, তবে কিছু জায়গায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েও লাভের মুখ দেখছেন। এবারের ঈদে পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় অনেক পরিবারের বাজেট ছাড়িয়ে গেছে। পরিবহন খরচ ও পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণে ক্রেতারা বিকল্প পন্থা গ্রহণ করতে পারছেন না।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বকেয়ায় বন্ধ শেভরনের উন্নয়ন, উৎপাদন ধসের শঙ্কা!

বিল না পাওয়ার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকান কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ, যার ফলে গ্যাস উৎপাদনে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটি বর্তমানে দেশের ৬০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে, কিন্তু তাদের গ্যাস ফিল্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডে কমপ্রেসর বসানোর প্রকল্পটি ঝুলে গেছে, যা গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর আশা করেছিল। তবে, বর্তমানে শেভরনের বকেয়া বিল ১৬০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা তাদের ৪ মাসের গ্যাস বিলের সমান। প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ডলারের গ্যাস সরবরাহের পরেও বিল পরিশোধ করা হয়নি, যার ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের শুরুতে শুরুর কথা ছিল, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ সরকার গত অক্টোবর মাসে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিমাসে ২০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে, এখনো পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি এবং বকেয়া পরিমাণ আরও বাড়তে শুরু করেছে।

শেভরন বাংলাদেশের মিডিয়া এবং কমিউনিকেশন বিভাগের ম্যানেজার শেখ জাহিদুর রহমান জানান, বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত জালালাবাদ গ্যাস প্ল্যান্টে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, শেভরনের পাশাপাশি কাতার সরকারেরও পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা রয়েছে। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪০ কার্গো এলএনজি নিয়ে থাকে, কিন্তু বিল পরিশোধের জন্য উভয় দেশই চাপের মুখে রয়েছে।

এছাড়া, পেট্রোবাংলার কাছেও বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানি এবং বিদ্যুৎ খাতের কাছ থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, যা সমস্যার সৃষ্টি করছে। এসব বকেয়া পরিশোধ না হওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ হারাচ্ছে, ফলে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ : অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, দেশের অর্থনীতি এখন আর সংকটের মধ্যে নেই, বরং ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এক সময় দেশের অর্থনীতি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। তবে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমানে অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও কিছু সমস্যা রয়েছে, তবে সামগ্রিক অবস্থা আশাব্যঞ্জক।”

তিনি জানান, ২০২৬ সালের মধ্যেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি বৈশ্বিক নজর রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ডের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সুসংহত হবে।”

দেশে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের বিষয়ে উপদেষ্টা জানান, “পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে যে জটিলতা ছিল, তা অনেকটাই কমেছে। কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন নিয়মনীতি পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও সরকার বাণিজ্য খাতকে স্বচ্ছ রাখতে কঠোর নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।”

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশ যদি সঠিক নীতিমালা গ্রহণ করে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে আগামী কয়েক বছরে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম