ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানালেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাঙলাদেশেসহ ৭৫টিরও বেশি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আর বাংলাদেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর স্থগিত করায় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রধান উপদেষ্টা লিখেছেন, “শুল্ক কার্যকর ৯০ দিন স্থগিত করার আমাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ মিস্টার প্রেসিডেন্ট। আপনার বাণিজ্য এজেন্ডাকে সহায়তা করতে আমরা আপনার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখব।”

এদিকে চীন বাদে যেসব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল সেগুলো ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। বাংলাদেশের ওপর গত সপ্তাহে পারস্পরিক শুল্ক হিসেবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি। বুধবার তিনি এ ঘোষণা দেন।

অন্য দেশগুলোকে ছাড় দিলেও চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্কের পরিমাণ ১০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।




চীন ছাড়া সকল দেশের ওপর নতুন শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চীন বাদে যেসব দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল সেটি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্য দেশগুলোকে ছাড় দিলেও চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্কের পরিমাণ ১০৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বাংলাদেশের ওপর গত সপ্তাহে পারস্পরিক শুল্ক হিসেবে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম ট্রুথে এ ব্যাপারে ট্রাম্প লিখেছেন, “বিশ্ববাজারের প্রতি চীন যে অসম্মান দেখিয়েছে, সেটির ভিত্তিতে আমি চীনের ওপর শুল্কের পরিমাণ ১২৫ শতাংশে উন্নীত করছি। যা এ মুহূর্ত থেকে কার্যকর হবে।”

“একটা সময়ে, আশা করি দ্রুত চীন বুঝতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশকে ‘শোষন’ করার সময় বিষয়টি আর মানা হবে না।”- যোগ করেন ট্রাম্প।

অন্যান্য দেশগুলোর ওপর আরোপ করা পারস্পরিক শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করার বিষয়টি জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “বিপরীতভাবে, ৭৫টিরও বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের বাণিজ্য, বাণিজ্য বাধা, শুল্ক, মুদ্রা জালিয়াতি, অ-আর্থিক শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য ডেকেছে। এবং এই দেশগুলো আমার শক্তিশালী পরামর্শের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো পাল্টা ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের জন্য আমি শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করেছি এবং পারস্পরিক শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। বিষয়টিতে মনযোগ দেওয়ায় আপনাকে ধন্যবাদ।”

তবে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য সরবরাহে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। সেই সুযোগ রাখা হয়নি। বিশ্বের সব দেশকে নূন্যতম ১০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে মার্কিনিদের কাছে পণ্য পাঠাতে হবে। বাংলাদেশি পণ্যে আগে থেকেই গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।




বিশ্বের শীর্ষ ধনী শহরের তালিকায় দুবাই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ব্রিটেনভিত্তিক বিনিয়োগ ও আবাসন বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েলদিয়েস্ট সিটিস রিপোর্ট ২০২৪’ নামে একটি প্রতিবেদেন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের ধনীতম ২০ শহরের মধ্যে দুবাইয়ের অবস্থান ১৮তম।



পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের জন্য ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত




ইসলামী ব্যাংকগুলো একীভূত করা হবে : গভর্নর

 পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে আইনি ও নৈতিক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের জীবন কঠিন করে ফেলা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অর্থ পাচার না করে। সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহায়তা প্রয়োজন কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো একীভূত করে বড় দুটি ইসলামী ব্যাংক গড়ে তোলা হবে। ব্যাংক খাতের সংস্কার চলমান রাখতে রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন। রাজনীতির পালাবদল হলেও এসব সংস্কার চলতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে হবে।

গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংকে অনিয়ম হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে সেসব ব্যাংকের পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে ১১টি ব্যাংক ও এরপর আরও দুই ব্যাংকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আরও একটি ব্যাংক নিজেই পর্ষদে পরিবর্তন এনেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কারা পর্ষদে আসবেন, স্বতন্ত্র পরিচালক কারা হবেন, তাঁদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সমস্যার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকও একটি কারণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালী করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বিভিন্ন চাপ থাকে, সেই সঙ্গে আছে ব্যাংক খাতে দ্বৈত শাসন। স্বায়ত্তশাসন ও তদারকি বাড়াতে কাজ চলছে, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর হয়ে ওঠে। ব্যাংক খাতে যেসব সমস্যা হচ্ছে বা হতে পারে, তা যেন আগেই জানা যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা যাতে তাদের দায়িত্ব পালন করে, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্টিং পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা হবে। সবকিছু অনলাইনের মাধ্যমে জমা নেওয়া হবে।’




চার খাতে জরুরি সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের আহ্বান

বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫-এ আজ প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চারটি খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে এবং লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।বাসস

নতুন বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রাইভেট সেক্টর ডায়াগনস্টিক(সিপিএসডি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপের মাধ্যমে— বাংলাদেশ নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে সহায়তা করে প্রতি বছর ২৩.৭ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, দেশীয় রং এবং ডাই উৎপাদন সম্প্রসারণ করে ৬.৬৪ লাখের বেশি আনুষ্ঠানিক চাকরি সৃষ্টি হতে পারে এবং ডিজিটাল  আর্থিক সেবায় সংস্কারের মাধ্যমে  ৯৬ হাজার থেকে  ৪ লাখ ৬০ হাজার  নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদনে যে চারটি খাতে সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো: পরিবেশবান্ধব সবুজ তৈরি পোশাক (আরএমজি), মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন, রং ও ডাই শিল্প, ডিজিটাল আর্থিক সেবা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- এই খাতগুলোতে বিনিয়োগের পথে বাধা দূর করতে সরকার নিকট ভবিষ্যতে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারলে সেগুলো দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা রাখবে।

আজ রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ তৈরি পোশাক খাতকে পরিবেশ, টেকসই এবং শ্রমমানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর জোর দেয়া হয়।

তারা ডিজিটাল মানচিত্র ও সম্পত্তি নিবন্ধনের জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানায়, যাতে মর্টগেজ বা গৃহঋণের প্রবেশাধিকারে সহায়তা হয় এবং সম্পত্তির মূল্যায়ন পুরোনো ট্যাক্স মূল্যের বদলে বর্তমান বাজারমূল্যে হয়।

রং ও ডাই শিল্পের জন্য আমদানিকৃত কাঁচামালের শুল্ক শ্রেণিবিন্যাস ডিজিটাল করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে শুল্ক কার্যক্রম দ্রুত হয় এবং ব্যবসাগুলো সহজেই শুল্ক নীতিমালা মেনে চলতে পারে।

ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ করতে মোবাইল আর্থিক সেবায় বাণিজ্যিক লেনদেনের সীমা বৃদ্ধি করে ‘মার্চেন্ট ওয়ালেট’ ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সুপারিশ বেসরকারি ভিত্তিক প্রবৃদ্ধির জন্য কার্যকর নীতিমালা ও কৌশল প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার একটি সহায়ক ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি উদীয়মান শিল্পগুলোকে সমর্থন দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা শেষ পর্যন্ত কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে।’

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন বলেন, ‘নতুন এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশে জরুরি এবং রূপান্তরমূলক নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন, যাতে দেশের কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে এবং প্রতিবছর কর্মবাজারে প্রবেশ করা কোটি কোটি তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সিপিএসডি  প্রতিবেদনটি দেশের বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে বাধা দূর করতে নির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ সুপারিশ করেছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে বাংলাদেশ টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে থাকতে পারে।’

আইএফসির  কান্ট্রি ম্যানেজার (বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল) মার্টিন হোল্টমান বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অংশ হিসেবে আইএফসি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি বলেন, সিপিএসডি, প্রতিবেদন একটি কৌশলগত রোডম্যাপ তৈরি করেছে, যা খাতভিত্তিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে এবং বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার নির্দেশ করে। একসঙ্গে কাজ করে আমরা বাংলাদেশের মানুষের জীবিকা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারি।’

বাংলাদেশ সিপিএসডি উদ্বোধনের পর প্রতিবেদনের উপর একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়, যেখানে বক্তব্য রাখেন সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডা চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

এ সময় বেসরকারি খাতের নেতারা—অরুণ মিত্র (হেড অব অপারেশনস, নিপ্পন পেইন্ট), কমল কাদির (সিইডি, বিকাশ), সেলিম আর.এফ. হোসেন (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ব্র্যাক ব্যাংক), শরীফ জাহির (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আনন্ত গ্রুপ), এবং শ্রাবন্তী দত্ত (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এবিসি রিয়েল এস্টেট) উপস্থিত ছিলেন।




মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। (বাসস)

এসময় তারা একটি ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-মার্কিন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং এক্সেলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টা পিটার হাস। প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন মেটা, ভিসা, শেভরন, উবার, মেটলাইফ, মাস্টারকার্ড, বোয়িং এবং ইউএস সোয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা। এক্সেলারেট এনার্জি ইউ.এস চেম্বার অব কমার্সের ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন কোম্পানিগুলো একটি ইতিবাচক এবং গঠনমূলক সম্পর্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যা একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করবে।

পিটার হাস বলেন, ‘মার্কিন কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার রয়েছে-যেটি স্থিতিস্থাপকতা, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে।’

প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের অবস্থানকে স্বাগত জানায়, যা বাণিজ্য ও অ-শুল্ক বাধা নিরসনে সহায়ক হবে।

নিশা দেশাই বিসওয়াল, যিনি আগে ডিএফসির ডেপুটি সিইও এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি বাংলাদেশের মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রস্তাব দেয়, যাতে করে বাংলাদেশ বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এবং আরো মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

চলমান শুল্ক আলোচনা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে রয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ যেন এই আলোচনাগুলোতে নিজেকে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে’।

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button



বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দিলেন প্রধান উপদেষ্টা




বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী ব্রিকসের ব্যাংক, বাড়ছে এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা

ব্রিকসভুক্ত উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাংহাই ভিত্তিক বহুপাক্ষিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)’ চলতি বছর বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

এনডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির কাজবেকভ আজ মঙ্গলবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ঢাকার পানি সরবরাহ খাতে স্থিতিশীলতা আনতে ‘এক্সপ্যান্ডেড ঢাকা সিটি ওয়াটার সাপ্লাই রেজিলিয়েন্ট প্রকল্পে’ ইতোমধ্যে ৩২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনায় চলতি বছর তারা এই সহায়তা তিনগুণের বেশি করতে আগ্রহী।

ভ্লাদিমির কাজবেকভ আরও জানান, বাংলাদেশের গ্যাস খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে বড় আকারের অর্থায়নেও আগ্রহী এনডিবি। পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগ করতে চায় তারা।

এ সময় দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য আবাসনসহ সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে ঋণ সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে এনডিবি বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।

ভ্লাদিমির কাজবেকভ বলেন, এনডিবি এখন বহুমুদ্রাভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম শুরু করেছে, যা বাংলাদেশকে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ে সুবিধা দেবে এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্থিতিশীলতা আনবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এনডিবিকে অনুরোধ জানান, বাংলাদেশে ‘কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজি প্রোগ্রাম’ চালু করার জন্য, যাতে দেশটির উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংগতি রেখে প্রকল্প গ্রহণ করা যায়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দেশের বাজারে সোনার দাম কমলো

দেশের বাজারে ৪ দফা দাম বাড়ানোর পর এবার কমেছে সোনার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ২৪৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬২৪ টাকায়।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬২৪ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ২৮ হাজার ১৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫ হাজার ৬৬৪ টাকা।

এতদিন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ছিল সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকা, যা গত ২৯ মার্চ থেকে কার্যকর ছিল।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বাজুস মোট ১৭ বার সোনার দামের পরিবর্তন এনেছে, যার মধ্যে ১৪ বার দাম বেড়েছে এবং ৩ বার দাম কমেছে। ১৫ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৩ টাকা, যা ২৮ মার্চ এসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৭২ টাকায় পৌঁছায়, যা এ পর্যন্ত দেশের বাজারে সোনার দাম সর্বোচ্চ রেকর্ড।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম