মুদ্রে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আজ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে  যেকোনো প্রজাতির মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় সরকার জেলেদের মাথাপিছু ৭৮ কেজি করে চাল দেবে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, ভোলা জেলায় সমুদ্রগামী জেলেদের সংখ্যা মোট ৬৫ হাজার। এসব জেলে আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিন সমুদ্রে মাছধরা থেকে বিরত থাকবেন। এসময়টাতে সরকার তাদের মাথাপিছু ৭৮ কেজি করে চাল বরাদ্দ করেছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতিবারের মতো এবারও এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর বিধি ৩ এর উপবিধি (১) এর দফা (ক) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, সরকার, বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল হতে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে কোনো প্রজাতির মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।’

 

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সমুদ্রে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও মৎস্য বিভাগের টাস্কফোর্স তাদের টহল কার্যক্রম পরিচালনা করবে।




বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ২১ বিলিয়ন ডলার




৩ হাজার ১শ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষণা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত সামিটে একে একে ৩ হাজার ১শ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। রোববার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “এখন পর্যন্ত সম্মেলন থেকে ৩ হাজার ১শ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। তবে এই সম্মেলনকে বিনিয়োগের সফলতার পেছনের মূল কারণ হিসেবে দেখানো যাবে না। অনেকটা আগের আলোচনা ও প্রস্তুতির ফলস্বরূপ এই বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, সম্মেলনের খরচ প্রায় ৫ কোটি টাকা হলেও, তার মধ্যে সরকারের খরচ ছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তবে, সম্মেলনের সফলতা শুধু খরচের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না।

এবারের সম্মেলনে ৬টি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল। ৫০টি দেশ থেকে ৪১৫ জন বিদেশি ডেলিগেট সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে নির্দেশ করে। বিদেশি অংশগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “এই সামিটের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা। আমাদের দেশের মানুষের সহনশীলতা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উচ্ছ্বসিত।”

উল্লেখ্য, এই সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৩৬ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে ভারতীয় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

ভারত থেকে আরও ৩৬ হাজার ১ শ’ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ফ্রসো নামের একটি জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।বাসস

শনিবার (১২ এপ্রিল) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-৭) ভারত থেকে ৩৬ হাজার ১ শ’ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমভি ফ্রসো কে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরমধ্যে নয়টি প্যাকেজে মোট চার লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তি মোতাবেক তিন লাখ ১৭ হাজার ছয় শ’ ১৯ টন চাল দেশে পৌঁছেছে।

জাহাজে রক্ষিত চালের নমুনা পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।




অল্প সময়ের মধ্যেই পাচার করা সম্পদের জব্দ করা হবে: গভর্নর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ‘ছয় মাসের মধ্যে বিদেশে পাচার করা সম্পদের বড় একটি অংশ জব্দ করা হবে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলছি। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে চিঠি দিচ্ছি। বিদেশি আইনি সংস্থা বা ফার্মের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, এ কাজে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছু সম্পদ যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতাও পাচ্ছি। এই প্রক্রিয়ায় ছয় মাসের মধ্যে বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে।’ কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আজ শুক্রবার এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম ও সমসাময়িক ব্যাংকিং নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ একেবারেই নতুন। এটি দেশের আইনে নয়, বিদেশের আইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে করতে হবে। কোন দেশে কোথায় কী আছে, এ তথ্য আগে আনতে হবে। সম্পদ জব্দ করার পর আদালতের মাধ্যমে বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

দেশে আগে মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে দেখানো হতো জানিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৯-১০ শতাংশ দেখানো হতো। কিন্তু প্রকৃত খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৩-১৪ শতাংশ। গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮-৯ শতাংশে নেমে এসেছে। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে আছে। আগামী বছর মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ বা তার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন গভর্নর।




পাচার হওয়া সম্পদ ছয় মাসে জব্দের ঘোষণা, এক বছরে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য: গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

বিদেশে পাচার হওয়া কয়েক লাখ কোটি টাকার সম্পদ আগামী ছয় মাসের মধ্যে চিহ্নিত ও জব্দ করে এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালীর বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান তিনি।

গভর্নর বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত জব্দ করে দেশে ফিরিয়ে আনা। ইতোমধ্যে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। মিউচুয়াল ও লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি জানান, “চট্টগ্রামের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংক খাত থেকে প্রায় সোয়া এক লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। শুধু বেক্সিমকো গ্রুপই পাচার করেছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা, যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘আউট অব কোর্ট সেটেলমেন্ট’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার পথ খোলা রাখা হবে যদি তথ্য প্রমাণ সুনির্দিষ্ট হয়।”

মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ে গভর্নর জানান, “খাদ্যপণ্যে আগে প্রকৃত মুদ্রাস্ফীতি ছিল ১৩-১৪ শতাংশ। বর্তমানে তা ৮-৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী অর্থবছরে তা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহও ইতিবাচক ধারায় ফিরছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে অকারণে কাউকে বরখাস্ত করা হবে না।”

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন, পরিচালক সালাহ উদ্দীন, আরিফুজ্জামান, আশিকুর রহমান, স্বরূপ কুমার চৌধুরী ও ফাইন্যান্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক আনিসুর রহমান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চীনা পণ্যে ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলেও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে চীন। বরং চীনের বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক বাড়িয়ে এর পরিমাণ ১২৫ শতাংশ করা হয়েছে বলে বুধবার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

কিন্তু বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের একটি নথিতে চীনা পণ্যকে লক্ষ্য করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক আরোপের নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা গেছে, চীনের ওপর ওয়াশিংটন শুল্ক বাড়িয়ে একেবারে ১৪৫ শতাংশ করেছে। হোয়াইট হাউসের নথিতে চীনের বিরুদ্ধে উচ্চ শুল্কের এই তথ্য নিশ্চিত হয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

হোয়াইট হাউসের নথিতে দেখা গেছে, কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৯০ দিনের জন্য পারস্পরিক শুল্ক আরোপের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। তবে চীনের ওপর আরোপিত শুল্ক নতুন করে বৃদ্ধি করেছেন তিনি।




যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে ইউনূসের ধন্যবাদ

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইউনূস এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টকে উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘৯০ দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত করতে আমরা যে অনুরোধ করেছিলাম, তাতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার বাণিজ্য এজেন্ডার সমর্থনে আপনার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখব আমরা।’

এর আগে বুধবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, বিশ্বব্যাপী কিছু দেশে আরোপিত পাল্টা শুল্ক আগামী তিন মাসের জন্য স্থগিত থাকবে। যদিও তিনি স্পষ্ট করে জানান, এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে। তবে চীনের পণ্যের ক্ষেত্রে এই হার বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পণ্যের ওপর আরোপিত ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্কও এই তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে অধ্যাপক ইউনূসের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কূটনৈতিক চিঠির গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

সোমবার ট্রাম্পের বরাবর পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক স্থগিতের অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে তিনি মার্কিন পণ্যের বাংলাদেশে প্রবেশ সহজ করতে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে গ্যাস টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর ও চিকিৎসাসামগ্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন তিনি।

চিঠিতে ইউনূস লেখেন, ‘আমরা আগামী প্রান্তিকে আমাদের পরিকল্পনা অনুসারে কাজ শেষ করব। এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি পরামর্শক সভা আয়োজন করতে চাই। এ জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তার বক্তব্যে ছিল ভবিষ্যতের সহযোগিতার আশাবাদ এবং একটি সুদৃঢ় বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, আপনি আমাদের অনুরোধ রাখবেন।’ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে সেই আশা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান অর্জনের দৌড়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, কৌশল ও সংস্কারকে পুঁজি করে। কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবে এমন মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। তবে একক দেশ হিসেবে এক নম্বরে ওঠার সকল সম্ভাবনা বাংলাদেশের রয়েছে। এজন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ।’

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘টেক্সটাইল ও পোশাক’ বিষয়ক এক সেশনে কিয়াক সুং “বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নীতিগত সহায়তা, এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে হাতে তৈরি সুতা উৎপাদনের সুবিধা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এতে করে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামালের সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারবে এবং উৎপাদন ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই গতি আসবে।

কিয়াক সুং আরও বলেন, ‘বন্ডেড গুদামের সংখ্যা বাড়াতে হবে, যাতে আমদানিকৃত কাঁচামাল দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এতে উৎপাদকরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’

বাণিজ্যনীতিতে সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করে তিনি জানান, ‘ট্রাম্প আমলে আরোপিত শুল্ক নীতির সাময়িক স্থগিতাদেশ বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, যার কৃতিত্ব বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে।’

এসময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি মূল্য সংযোজন ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সস্তা পোশাক উৎপাদন এখন আর একমাত্র ভরসা হতে পারে না। টিকে থাকতে হলে উচ্চমানের পণ্য এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

এই সেশনে বিজিএমইএ-এর প্রশাসক এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও বক্তব্য রাখেন। তিনি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী তিন বহুজাতিক কোম্পানি