দোহার আর্থনা সম্মেলনে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার শক্তির কথা শোনালেন অধ্যাপক ইউনূস

ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে কীভাবে দরিদ্র মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে, সেই অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন-২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে তিনি বলেন, “শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে তুলতে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসা একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে কাজ করছে। এটি বৈষম্য কমিয়ে পৃথিবীকে আরও টেকসই করে তুলতে পারে।”

অধ্যাপক ইউনূস আরও উল্লেখ করেন, যুব সমাজ, উদ্যোক্তা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে এই ক্ষেত্রগুলোতে বেশি করে সম্পৃক্ত করলে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বাসসকে বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তব্যে শুধু তাত্ত্বিক কথা বলেননি, বরং বাস্তব জীবনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন, কীভাবে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক উদ্যোগ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।”

এদিকে, একই সফরে এলএনজি আমদানি ব্যয় পরিশোধ নিয়ে সরকারের অগ্রগতির বিষয়েও প্রেস সচিব জানান। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সরকারের আমলে কাতার থেকে আমদানিকৃত এলএনজির বিপরীতে শত শত মিলিয়ন ডলার দেনা পড়ে থাকলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই দেনা পরিশোধে সক্রিয় হয়েছে। এখনো ৩৭ মিলিয়ন ডলার বাকি রয়েছে, যা আগামী ২-১ দিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।”

প্রসঙ্গত, ২২ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে যোগ দিতে অধ্যাপক ইউনূস চার দিনের সফরে বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে হয়ে আন্ত:রেল প্রকল্প স্থগিত ভারতের




মার্কিন ডলারের দরপতন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ডলার গত কয়েক মাস ধরেই শক্তি হারাচ্ছে। গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারের শেষ কর্মদিবসে (১৮ এপ্রিল) ইউএস ডলার ইনডেক্সের মান ছিল ৯৯ দশমিক ২৩। অথচ জানুয়ারি মাসে এই সূচকের মান ছিল ১১০। সেই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, জানুয়ারি মাসের পর ডলার ইনডেক্সের মান কমেছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। ১১ এপ্রিল এই সূচকের মান ২০২৩ সালের জুলাই মাসের পর এই প্রথম ১০০-এর নিচে নেমে যায়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই শুল্ক ঘোষণা ও তারপর স্থগিতের ঘোষণার ফল হয়েছে উল্টো। সেটা হলো, যে ডলার ছিল তার অন্যতম হাতিয়ার, সেই ডলার শক্তি হারাতে শুরু করেছে।

শুধু এপ্রিলের শুরু থেকেই ইউরো, পাউন্ডের সাপেক্ষে ডলারের দরপতন হয়েছে ৫ শতাংশ, ইয়েনের সাপেক্ষে পতন হয়েছে ৬ শতাংশ। ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করার পর দ্রুতগতিতে শক্তি হারাচ্ছে ডলার।

 




মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাব স্থগিত




আধুনিক মৎস্য অবতরণকেন্দ্র নির্মাণে ২৩২ কোটি টাকার প্রকল্প উদ্বোধন

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে মৎস্যজীবীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক মৎস্য অবতরণকেন্দ্র ও পাইকারি মৎস্য বাজার। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা বলেন, “পর্যটন নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সামুদ্রিক মাছ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে অবতরণ ও সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি মাছ বিপণনে গতি আসবে।”

মৎস্যধরা নিষিদ্ধ সময় প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আগে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় প্রতিবেশী দেশের জেলেরা সুবিধা নিত। এখন তা কমিয়ে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে করে অন্য দেশের জেলেরা বাংলাদেশি জলসীমায় ঢুকে মাছ ধরতে না পারে।”

প্রকল্পের আওতায় বাঁকখালী নদীর পশ্চিম তীরে ৩.৭০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে অত্যাধুনিক অবকাঠামো। এই নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএফডিসির চেয়ারম্যান সুরাইয়া আখতার জাহান, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত স্যাইদা শিনিচি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আব্দুর রউফ, জাইকার বাংলাদেশ প্রধান ইচিগুচি টামোহাইদ এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি, মৎস্যজীবী, ব্যবসায়ী ও ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতারাও অংশগ্রহণ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফ্রিজ একাউন্ট থেকে কো‌টি টাকা উত্তোলন, প্রিমিয়ার ব্যাংককে জরিমানা




যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্ব বিরল খনিজ নিয়ে, বাংলাদেশে পাওয়ার সম্ভাবনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চীনা পণ্যে উচ্চহারে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তার পাল্টা হিসেবে চীন  যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া অথবা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল আইফোন তৈরিতে এই ‘বিরল মৃত্তিকা ধাতু’ আমদানি করে চীন থেকে। যদিও চীন থেকে ভবিষ্যতে এই বিরল খনিজ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে ১৩ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চুম্বকসহ বিরল মৌলের রপ্তানি বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর ফলে প্রচুর মৌল জাহাজীকরণের অপেক্ষায় বন্দরে পড়ে আছে।

বিরল খনিজ শুধু আইফোনের মতো মুঠোফোন তৈরি নয়, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক যেকোনো যন্ত্র বা সরঞ্জাম তৈরিতেই তা কাজে লাগে। সামরিক সরঞ্জাম ও আধুনিক অস্ত্র তৈরিতেও এখন ব্যবহার করা হয় বিরল খনিজ। বিশেষ করে বিরল খনিজ লাগে চিপ তৈরিতে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিরল খনিজের লড়াই একুশ শতকের ভূ-অর্থনৈতিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই লড়াইয়ে চীনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট বিকল্প সরবরাহশৃঙ্খল গড়ে তুলতে সক্রিয়।

এদিকে বাংলাদেশে বিরল খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। দেশের গবেষকেরা বলছেন, নদী অববাহিকার বালু, জেগে ওঠা চর, সৈকত বালু এবং কয়লাখনি থেকে বিরল খনিজের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে দেশে সন্ধান পাওয়া এই মূল্যবান খনিজের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কতটুকু, তা পর্যালোচনা করতে হবে।

মো. আহসান হাবিব  বলেন, সাধারণত প্রতি কেজি কয়লায় ১০০ মিলিগ্রাম বিরল খনিজ থাকলে তা অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনযোগ্য। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে প্রাপ্ত কয়লার মধ্যে বিরল খনিজের উপস্থিতি ২০০ মিলিগ্রামের বেশি। এ ছাড়া প্রতি কেজি কয়লা পোড়া ছাইয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিগ্রাম বিরল খনিজের উপস্থিতি রয়েছে। যেখানে ৬০০ মিলিগ্রাম থাকলেই তা বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য ধরা হয়।

তবে দেশে প্রাপ্ত বিরল খনিজের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে আরও বেশি গবেষণা করতে হবে।




যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর




ডাক সেবার সেবায় গতি আনবে ই-বাইক




নতুন উচ্চতায় সম্পর্ককে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ-তুরস্ক

একটি সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ও তুরস্ক।  যার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে। বাসস

আজ আঙ্কারায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের কার্যালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বৈঠকে  বিষয়টি  আলোচনা হয়।  এক সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে একথা  বলা হয়েছে।

বৈঠকের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করা এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে তুরস্ক এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বৈঠকের  ফলে তুরস্ক এবং বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক  আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশকে তুরস্কের  দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিস্তৃত পরিসরে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে, যা সাধারণত তুরস্কের নিকটতম মিত্র দেশগুলোকে দেওয়া হয়।’

এতে বলা হয়েছে, এই অগ্রগতি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি আশাবাদী অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা, পারস্পরিক সহায়তা এবং ভাগাভাগি করে প্রবৃদ্ধির দ্বার উন্মোচন করে।

১১ থেকে ১৩ এপ্রিল তুরস্কের আন্টালিয়ায় তিন দিনব্যাপী আন্টালিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ) ২০২৫-এ যোগ দিতে বর্তমানে  তুরস্ক  সফর করছেন দুই উপদেষ্টা।