স্টক সূচকে টানা ঊর্ধ্বগতি, বিনিয়োগে ভরসা বাড়ছে

দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে আজও সূচকের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে, যা বাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ১৯.৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৯২২ পয়েন্টে, যেখানে গতকাল এটি ছিল ৪,৯০২ পয়েন্ট। তবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কিছুটা কমেছে। আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংক খাতে (২১.৯%), এরপর রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড (১৩.৬%) এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত (১০.৮%)। শেয়ার দরের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মিউচুয়াল ফান্ড (৩.৬%), সাধারণ বীমা (৩.৪%) এবং ব্যাংক (১.৩%) খাতে।

তবে সব খাতেই শেয়ার বাড়েনি। পাট (১.১%), সেবা (০.৯%), এবং সিরামিক (০.৭%) খাতে শেয়ারের দাম কিছুটা কমেছে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টির দর বেড়েছে, ১৫৮টির কমেছে, আর ৫০টির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সিএসই সিলেকটিভ ক্যাটাগরি ইনডেক্স (সিএসসিএক্স) বেড়েছে ১৪.৪ পয়েন্ট, এবং অল শেয়ার প্রাইস ইনডেক্স (সিএএসপিআই) বেড়েছে ১৯.২ পয়েন্ট

 

আল-আমিন



ব্যাংক পরিচালকদের বেনামি ঋণ আসবে হিসাবের আওতায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং ঋণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়াতে সম্প্রতি নতুন এই নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের ব্যাংকগুলোর পরিচালকদের বেনামি ঋণ হিসাবের আওতায় আনতে হবে। শুধু তাই নয়, বিশেষ নজরদারিসহ ব্যাংক পরিচালকদের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ব্যাংকের পরিচালকদের ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের হিসাব প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে বলেও নীতিমালায় বলা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংক পরিচালকদের ঋণের পরিমাণ ওই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের ৫০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। তবে এক কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। ব্যাংক পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বেনামি ঋণও এই নীতিমালার আওতায় আসবে।




ঝালকাঠিতে তিল চাষে সাফল্যের পথে চাষিরা

ঝালকাঠির চাষিরা এখন আশাবাদী—তিল চাষ বাড়িয়ে বদলে দেবেন নিজেদের ভাগ্য। কম খরচ, কম রোগবালাই এবং কম পরিচর্যার ফসল হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে তিল চাষে। লাভ বেশি হওয়ায় এ কৃষি খাতে ফিরছে নতুন প্রাণ।

চলতি ২০২৫ মৌসুমে ঝালকাঠিতে ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে কাঠালিয়া উপজেলায় তিল চাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর, নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর, রাজাপুরে ১১০ হেক্টর এবং কাঠালিয়ায় সর্বোচ্চ ১৬৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, দেশি জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ জাতের তিল আবাদ করে তারা সফল হয়েছেন। ফসল বপনের তিন মাসের মধ্যেই চাষিরা তিল ঘরে তুলতে পারেন। তিল চাষে অধিক লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি রোগবালাই খুব কম হয়, ফলে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এতে উৎপাদন খরচও অনেক কমে আসে।

নলছিটি উপজেলার চাষি মো. ফারুক হোসেন বলেন, “তিল চাষে পরিশ্রম কম, আবার লাভ অনেক বেশি। প্রতিবছর আবাদ বাড়াচ্ছি। আশাবাদী, তিলই আমাদের নতুন ভরসা হয়ে উঠবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “তিল চাষ সম্প্রসারণ হলে দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

তিল চাষকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির চাষিরা এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। সহজ চাষাবাদ এবং বাজারে ভালো দামের কারণে এ ফসল হতে পারে আগামী দিনের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সয়াবিন কিনতে গিয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর, ছিনতাই ৩ লাখের বেশি

বরিশালের হিজলা উপজেলায় এক সয়াবিন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মারধর করে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে গৌরাব্দী ইউনিয়নের মান্দ্রা তরকুশুরিয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী রহিম মাঝি জানান, বুধবার সকালে সয়াবিন ক্রয়ের উদ্দেশ্যে তিনি ইউসুফ হাওলাদারের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে মনির পাটোয়ারীর বাড়ির সামনে পৌঁছালে আনোয়ার পাটোয়ারী, শরীফ পাটোয়ারীসহ আরও কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে মারধর করে তার হাতে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে মোট ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা ছিল বলে দাবি করেন রহিম মাঝি। এ বিষয়ে তিনি ৭ মে দিবাগত রাতে হিজলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হিজলা থানার নবনিযুক্ত ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত আনোয়ার পাটোয়ারী ছিনতাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করলেও মারধরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এটা আমার এলাকা। এখানে সয়াবিন কিনতে হলে প্রতি মণ ৫০ টাকা আমাকে দিতে হবে। নতুবা কেউ এখানে সয়াবিন কিনতে পারবে না।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




রিজার্ভ ২২ বিলিয়ন ডলার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ বর্তমানে ২ হাজার ৭৪১ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকৃত রিজার্ভ বা বৈদেশিক মুদ্রার মজুত হিসাব করতে ৫৩৬ কোটি ডলার বাদ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী দে‌শে বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত রিজার্ভ এখন ২ হাজার ২০৪ কোটি ৭৮ লাখ বা ২২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার উঠেছে l

বুধবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব‌্যাং‌কের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।




জিডিপির আকারের নবম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপির আকার এখন ৪৫০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৫০ কোটি ডলার। এটি ২০২৪ সালের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়। ফলে এশিয়ার মধ্যে নবম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হলো বাংলাদেশ।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সম্প্রতি এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের পরিসংখ্যান ২০২৫ বেসিক স্ট্যাটিসটিকস নামে পরিচিত। সেখানে বাংলাদেশের এই চিত্র পাওয়া গেছে। ৪৬টি দেশের জিডিপির আকারের হিসাব দিয়েছে এডিবি। তবে সেই তালিকায় জাপান নেই।

এডিবির পরিসংখ্যান অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ায় এখন ভারতের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বড়। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।




আর্থিক স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশ : অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজের অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থার শর্ত মেনে আর কোনো ঋণ নেওয়ার পক্ষপাতী নয় সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাজেট সহায়তার অর্থ সাধারণত পাঁচ বছরের মধ্যে ফেরত দিতে হয়, যেখানে প্রকল্প সহায়তার মেয়াদ তুলনামূলক দীর্ঘ। তাই ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে সরকার সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার ভাষায়, ডলার বিনিময় হারের ওঠানামা ঋণের প্রকৃত পরিশোধযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। ৩ বিলিয়নের ঋণ ৫ বিলিয়নে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। সেই কারণেই বাংলাদেশের আর আগের মতো ঋণনির্ভর নীতিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফের কাছ থেকে গত নয় মাসে কোনো অর্থ পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, “আমরাই শক্ত পদক্ষেপ নেব। ওদের চাকরি আছে, কিন্তু আমাদের দেশের অর্থনীতি নিয়ে দায়িত্ব আমাদের। ইন্দোনেশিয়ার মতো উদাহরণ আমাদের সামনে রয়েছে, যেখানে ঋণ দিতে না পারায় চাকরি গেছে অনেকের।”

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আর আগের মতো তাদের ওপর নির্ভরশীল না। বিশ্বব্যাংক কিছু প্রকল্প সহায়তা চালু রাখবে বলে জানিয়েছে, তবে আইএমএফের প্রতিটি শর্ত মানা হবে না। তাদের কিছু কর সংক্রান্ত প্রস্তাব বা এনবিআর আলাদা করার প্রস্তাবেও সরকার পুরোপুরি একমত নয়। ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট একেবারে ওপেন না করলেও ধাপে ধাপে সংস্কার চলছে।”

বর্তমান সরকারের আমলে আইএমএফ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ ছাড়াই বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ও রিজার্ভ স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা প্রমাণ করেছি যে শর্ত ছাড়াই অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনা সম্ভব। আইএমএফ বিষয়টি বুঝেছে এবং আমাদের সাথে আলোচনায় মনোযোগী হয়েছে।”

প্রকল্প সহায়তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি, এনডিবি ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান, তবে সেখানেও সরকারের নিজস্ব কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শর্ত প্রসঙ্গে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “আমরা স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে ১ বিলিয়ন ডলার চেয়েছি, তারা দিতে চায় ৫০০ মিলিয়ন। আমরা চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেব। সব কিছু মিলিয়ে বলতেই পারি, হতাশার কোনো কারণ নেই।”

তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য কেবল অর্থ সংগ্রহ নয়, বরং নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা। এবারের সফরে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এআইআইবি, আইওএম, আইএফসি, ওপেক ফান্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সাথে সফল বৈঠক হয়েছে।”

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নিয়েও কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এখন অনেক দেশ বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক অর্থনীতি নতুন পথে হাঁটছে।

সবশেষে অর্থের সংস্থান নিয়ে উপদেষ্টা জানান, ওপেক ফান্ডের সঙ্গে ১০০ মিলিয়ন ডলারের এবং আইএফসির সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে, যা দেশের বেসরকারি খাতে অর্থ প্রবাহ নিশ্চিত করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালী ইপিজেডে শিল্প স্থাপনে প্রস্তুতি, দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের আশা

উপকূলীয় অর্থনীতিতে বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছে পটুয়াখালী রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। প্রায় ১ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্প আগামী এক বছরের মধ্যেই শিল্প স্থাপনের জন্য প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না।

বালু ভরাট ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলমান। ইতোমধ্যে ৪১৮ একর জমির মধ্যে ১৩০ একর জমিতে বালু ভরাট সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় বেকারত্ব হ্রাস পাবে এবং দুই লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় অর্থনীতিতে আসবে গতি।

উন্নয়নের স্বপ্ন: স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ইপিজেডের কাজ সম্পন্ন হলে আর শহরে চাকরির জন্য যেতে হবে না। নিজেদের এলাকাতেই তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ। ব্যবসা-বাণিজ্য, ঘরভাড়া, পরিবহনসহ নানা খাতে আসবে অর্থনৈতিক বিপ্লব।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝে পর্যায়ক্রমে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। জমিদাতা ১২৬ পরিবারের জন্য নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক আবাসন, পুকুর, মসজিদসহ নানা সুবিধা।

মেগা অবকাঠামো:

  • ৩১৫ কিলোমিটার রাস্তা
  • ৩০ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা
  • চারটি ৬ তলা কারখানা ভবন
  • তিনটি ১০ তলা অফিস ভবন
  • ৩৩ কেভি সাবস্টেশন ও ১৫ কিলোমিটার হাই-টেনশন লাইন

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ:
ইপিজেডের শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে আধুনিক সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। একইসাথে, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের জন্য কুয়াকাটায় ২ দশমিক ২৫ একর জমিতে একটি অত্যাধুনিক ক্লাবও নির্মিত হচ্ছে।

২০২৬ সালের শুরুতেই বিনিয়োগকারীদের মাঝে প্লট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৮% পূর্বাভাস




দুবাইয়ে ৭০ বাংলাদেশি ভিআইপির অর্থপাচারের তথ্য প্রকাশ, এনবিআরকে দুদকের চিঠি

বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থে দুবাইয়ে অভিজাত এলাকায় সম্পদ গড়ে তুলেছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ৪৫৯ জন বাংলাদেশি সেখানে ৯৭২টি সম্পত্তি কিনেছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ৭০ জন ভিআইপিকে চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপপরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডলের সই করা চিঠিতে এদের কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন), আয়কর রিটার্নসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, এসব সম্পদ কেনা হয়েছে সুইস ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থপাচারের মাধ্যমে।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই ৭০ জনের মধ্যে রাজনীতি, ব্যবসা ও প্রভাবশালী মহলের সদস্যরাও রয়েছেন। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট পদ-পদবি বা পরিচয় চিঠিতে প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ’ এবং ইউরোপীয় সংগঠন ‘ইইউ ট্যাক্স অবজারভেটরি’র তথ্য অনুসারে, ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৫৯ জন বাংলাদেশি দুবাইয়ে ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মালিক হয়েছেন। তবে এই পরিসংখ্যানের বাইরেও প্রকৃত বিনিয়োগ আরও বেশি বলে সন্দেহ করছে সংস্থাগুলো।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তারা প্রয়োজনে যেকোনো ধরনের তথ্য চাইতে পারেন এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরও এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক এবং বিভিন্ন দফতরে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টও ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে এই বিষয়ের তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল।

বিশ্ব অর্থনীতির চাপে যখন বিভিন্ন দেশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের বিপুল অঙ্কের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে সম্পদে রূপ নেওয়ার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

মো:আল-আমিন