কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে কিনলো ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

নিলামের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ঢুকেছে আরও ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে। এই নিলামের ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। কাটঅফ মূল্যও নির্ধারিত হয় একই হিসাবে, যা নিলামের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে।

এর আগে চলতি জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দফায় মোট ৭৯৮ মিলিয়ন বা ৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনাকাটা করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে নিলামের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করে চলেছে। এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মোট কেনা হয়েছে ৩৯৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে, বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মুদ্রা সহজলভ্য হয়।

বৈদেশিক বিনিময় বাজারে নিয়মিত এ ধরনের নিলাম দেশের ব্যবসায়িক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহায়ক। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের মুদ্রানীতি এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শ্রীকাইল গ্যাস প্রকল্প বাতিল, বাড়ছে গ্যাস সংকটের শঙ্কা

শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ধরে রাখতে নেওয়া ‘ওয়েলহেড গ্যাস কম্প্রেসর ক্রয় ও স্থাপন’ প্রকল্পের দরপত্র মাঝপথে বাতিল হওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শ্রীকাইলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কূপের ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চয়তায় পড়বে, তেমনি চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

বাপেক্সের অধীনে শ্রীকাইল ২, ৩, ৪ ও ইস্ট–১ কূপে দীর্ঘদিন গ্যাস উত্তোলনের ফলে কূপমুখের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এর ফলে ট্রান্সমিশন লাইনে প্রয়োজনীয় ইনলেট চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই সমস্যা সমাধান ও উৎপাদন ধস ঠেকাতে প্রতিটি ১০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কম্প্রেসর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল, যা এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতো।

প্রকল্পটির কাজ পায় রোমানিয়ার প্রতিষ্ঠান এসসি ইউরো গ্যাস সিস্টেম এসআরএল। ২০২৪ সালের মার্চে চুক্তি সম্পাদনের পর স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং বিদেশি অংশে প্রায় ৬৫ শতাংশ। এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে বলে অভিযোগ করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি মনিরুল হুদা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিপরীতে আংশিক বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। বিল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তার দাবি, প্রকল্পে বিলম্বের জন্য বাপেক্সই মূলত দায়ী। চুক্তির দুই মাসের মধ্যে এলসি খোলার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়েছে পাঁচ মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে। এক বছরের এলসির মেয়াদ শেষে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পছন্দের কোনো পক্ষকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এ কারণে তারা আদালতে রিট দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক ও বাপেক্সের জিএম হাসানুজ্জামান সিকদার দাবি করেছেন, চুক্তি সরাসরি বাতিল করা হয়নি। টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় নিয়ম অনুযায়ী বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে তারা আর চুক্তির সঙ্গে নেই। সে কারণেই নিয়ম মেনেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এখানে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।

প্রকল্প বাতিল হলে গ্যাস উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নে বাপেক্স কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন, কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে, তবে কম্প্রেসর না বসালে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নতুন করে সমীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। চাহিদা বাড়লেও দেশীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। আগামী দুই বছরে বড় পরিসরে আমদানি বাড়ানোর সুযোগও সীমিত। এমন অবস্থায় শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ব্যাহত হলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিকে শ্রীকাইল থেকে দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হতো। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি সেই উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। এই ধস ঠেকাতেই মূলত কম্প্রেসর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্প বাতিলের আগে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই জরুরি ছিল। অন্যথায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশকে আরও গভীর জ্বালানি সংকটে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের নতুন যুগ শুরু: বিএসইসি-ইউএনডিপির সমঝোতা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব এবং সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে নতুন ধাপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পুঁজিবাজারে থিম্যাটিক বন্ড বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বন্ডের বাজারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বুধবার দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স কোলাবোরেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা, থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুকারীদের ইস্যুর আগে ও পরে কারিগরি সহায়তা, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কাজ করার সুযোগও থাকবে।

এছাড়া ইউএনডিপি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, বন্ড রিপোর্টিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রভাব পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রবর্তন এবং তৃতীয় পক্ষীয় সত্যায়ন ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিন, সোশ্যাল, ক্লাইমেট, এসডিজি ও অন্যান্য থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হবে।

থিম্যাটিক বন্ড হলো একটি বিশেষ ধরনের বন্ড, যার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • গ্রিন বন্ড: পরিবেশবান্ধব প্রকল্প যেমন সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
  • সোশ্যাল বন্ড: স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
  • সাসটেইনেবিলিটি বন্ড: গ্রিন ও সোশ্যাল প্রকল্প উভয়ের জন্য।
  • ক্লাইমেট বন্ড: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন।
  • এসডিজি বন্ড: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমাদের লক্ষ্য বাজার ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন, সুশাসন জোরদার করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করা। থিম্যাটিক বন্ডের বিকাশ পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের মাধ্যমে পরিবেশ ও সামাজিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আহরণের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে, মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।”

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির বাংলাদেশের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. মালিহা মুজাম্মিল, কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারে এবং বিএসইসির কমিশনার মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজম জে চৌধুরীর দাবি: বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের মতামত নিচ্ছে না

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজিওদের সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সরকার কোনো বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করেনি। যেহেতু সরকারে থাকা কর্মকর্তারা এনজিও থেকে এসেছেন, তারা সারাদেশ পরিচালনার জন্য এনজিওগুলোর মাধ্যমেই কাজ করছেন।

আজম জে চৌধুরী আরও বলেন, দেশে আদৌ কোনো সংস্কার হয়েছে কি না তা প্রশ্নবিদ্ধ। জমির মিউটেশন করার প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে যে হয়রানি ও চাঁদাবাজি চলছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। পূর্বে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

সেমিনারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি জানা। তিনি যুক্ত করেন, আইএমএ’র বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, কিন্তু মাইক্রো ও ম্যাক্রো লেভেলে অর্থনৈতিক সংস্কার দেখা যায়নি। বন্দরে মালামাল খালাস প্রক্রিয়া এখনও সময়সাপেক্ষ; অনেক ক্ষেত্রে একদিনের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও দেড় মাস পর্যন্ত মালামাল আটক থাকে।

আজম জে চৌধুরী বলেন, মাইক্রো লেভেলে যে ভোগান্তি ব্যবসায়ীদের হয়, তা ম্যাক্রো লেভেলের অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ নয়। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর নীতি প্রয়োজন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রাইভেট খাতের সঙ্গে সমন্বয় না করায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ সঠিকভাবে হচ্ছে না, কোনো নীতি-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হচ্ছে না।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামালউদ্দিন জসিম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল ইসলাম, ইআরএফের সাবেক প্রেসিডেন্ট শামসুল হক জাহিদ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের সিইও মো. কাজিম উদ্দিন, এবং ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বন্ধ তালিকায় থাকা ৫ এনবিএফআই শেয়ারে বড় দরপতন

দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ৯টি এনবিএফআইকে বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়ায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মঙ্গলবার এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দেওয়া হয় এবং বাকি ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন করে বন্ধের তালিকায় থাকা ছয়টির মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারগুলোতে বুধবার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী বড় দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, তিনটি প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পাওয়ায় সেগুলোর শেয়ার আজ উল্লিখিত সীমায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

চূড়ান্ত বন্ধের তালিকায় থাকা পাঁচটি কোম্পানি হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। আর বন্ধ তালিকা থেকে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পেয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বন্ধ তালিকায় থাকা ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর আজ ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় নেমেছে। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৩ পয়সায়, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ৮ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৭৪ পয়সায়, পিপলস লিজিংয়ের দর ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৬৬ পয়সায় নেমেছে।

এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে আজ খুব সামান্য পরিমাণ হাতবদল হয়েছে। বড় দরপতনের পরও বন্ধ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার কেনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই।

অন্যদিকে, আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পাওয়া তিনটি কোম্পানির শেয়ারও আজ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ১০ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৯০ পয়সা, প্রাইম ফাইন্যান্সে ১০ পয়সা বা প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ টাকা ৪০ পয়সা, এবং বিআইএফসির শেয়ারদর ১০ পয়সা বা প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে। সার্কিট ব্রোকারের নিয়ম অনুযায়ী একদিনে শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি বা পতন হতে পারে।

গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে আগের তালিকায় থাকা ৯টি এনবিএফআই-এর সবগুলোই অবসায়নের পথে যাবে না। তবে কোন প্রতিষ্ঠান অবসায়নের মধ্যে যাবে এবং কোনটি যাবে না, সেই তথ্য সম্পূর্ণ অজানা ছিল। এতে তালিকাভুক্ত ৮টি এনবিএফআই-তে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি মনিটর করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চূড়ান্ত তালিকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও কোম্পানি পরিচালনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারত-ইইউ স্বাক্ষরিত ‘মহাচুক্তি’, ২০০ কোটি মানুষের বাজার যুক্ত

  1. ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইতিহাস সৃষ্টি করেছে নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে। ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তার মধ্যে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। এই চুক্তি প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বাজারকে একত্রিত করেছে এবং যার সম্মিলিত বাজার মূল্য প্রায় ২৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনা ও কয়েকটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেলের ক্রয় নিয়ে চাপের মধ্যে এই সমঝোতা অর্জিত হলো।

নতুন চুক্তির ফলে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হবে। এটি কেবল ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য সুবিধাজনক হবে না, বরং উভয় পক্ষের ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ পরিবেশকেও উন্নত করবে।

চুক্তির আওতায় ভারতের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বিস্তৃত বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। বস্ত্র, ওষুধ, যন্ত্রপাতি, ইস্পাত, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ প্রায় ১৪৪টি উপ-খাতে ভারত বিশেষ সুবিধা পাবে। বিপরীতে, ভারত ইইউ-এর জন্য তাদের আর্থিক সেবা, সমুদ্রবন্দর ও টেলিযোগাযোগ খাতসহ ১০২টি উপ-খাত উন্মুক্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “এই চুক্তি ভারতের উৎপাদন এবং সেবা খাত উভয়কেই চাঙ্গা করবে। এটি ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।”

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ভারত এবং ইইউ ইতিহাস তৈরি করছে। আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি করেছি যা ২০০ কোটি মানুষের জন্য সুযোগ বয়ে আনবে।”

অটোমোবাইল খাতেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরীণ গাড়ি বাজার ইইউ দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত হবে এবং বেশিরভাগ ইউরোপীয় গাড়ির শুল্ক ধাপে ধাপে কমে ৩০–৩৫ শতাংশ হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছর সুরক্ষা নিশ্চিত থাকলেও পরবর্তীতে সীমিত পরিমাণে শুল্কমুক্ত আমদানি অনুমোদিত হবে।

ইইউ পক্ষও উপকৃত হবে। ভারত প্রায় ৯৬ শতাংশ ইউরোপীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার বা কমিয়ে দেবে, যার ফলে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, ওষুধ, অপটিক্যাল এবং বিমান যন্ত্রপাতি খাতসহ প্রায় সব খাতে সুবিধা মিলবে।

ভারতও লাভবান হবে। দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যের ওপর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুল্ক তুলে নেবে। সমুদ্রিক ও মৎস্যজাত পণ্য, রাসায়নিক, প্লাস্টিক, রাবার, চামড়া, বস্ত্র, তৈরি পোশাক, সাধারণ ধাতু, রত্ন ও অলঙ্কার সহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে শুল্ক কমানো হবে।

এই চুক্তি ভারত-ইউ বাণিজ্যের নতুন অধ্যায় শুরু করছে। দুই পক্ষই আশা করছে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য বৃদ্ধির ধারা ইতিবাচক, বিশেষ করে সেবা খাতে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে নীরিক্ষা করছে। হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যেই সমালোচনা করেছে এবং রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছে। তবে ভারত কৌশলগত ধৈর্য বজায় রেখে বাণিজ্যের নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ইউরোপের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা আনবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আরইবিতে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লিমিটেডকে নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও কোম্পানিটি বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুৎ প্রকল্পে মালামাল বিলম্ব এবং দরপত্র শর্ত লঙ্ঘনের কারণে এই কোম্পানির কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বিগ্ন।

এক দরপত্র (প্যাকেজ নং পিবিএসএফ/২৪-২৫/জি-৫৫) অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ৩০ হাজার কাটআউট এবং ৩০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ওরিয়েন্ট কেবল ১৬ হাজার কাটআউট এবং ২১ হাজার ব্যারেল সরবরাহ করেছে। এ কারণে পরিদর্শন টিম কিছু লট বাতিল ঘোষণা করেছে। জানা গেছে, বাতিল হওয়া ব্যারেলগুলো এখনও আরইবিতে নেওয়ার তৎপরতা চলছে, যা মাঠ পর্যায়ের কাজকে জটিল করে তুলতে পারে।

সংবাদ সূত্রে জানানো হয়, ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিক দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের দায় তাদের লোকাল পার্টনারদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে এসেছে। আগের একাধিক দফায় স্থানীয় কোম্পানি এমএম করপোরেশনকে নির্ধারিত সময়ের বাইরে সরবরাহের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হলেও মূল কোম্পানিটি ধরা পড়েনি। এমন আচরণ আরইবিতে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের লোকাল পার্টনার মাহবুব ট্রেডারের মাধ্যমে লাইটিং এরেস্টার সরবরাহের ক্ষেত্রে ৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। তবে ওই সময়ও মূল কোম্পানি ওরিয়েন্টের কারণে বিলম্বিত সরবরাহের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছিল। আরইবির পরিচালক বলেন, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

সংবাদ ও তথ্য অনুসারে, আরইবিতে উপরের স্তরের চাপের কারণে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় এবং বিদেশি কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য ও অনিয়মের বিষয়গুলোও বর্তমানে আলোচনার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফার্নেস অয়েলের দামের গণশুনানি হবে প্রথমবার

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি নিতে যাচ্ছে। আজ (২৯ জানুয়ারি) আইইবি ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে এই শুনানি, যেখানে প্রযোজ্য পক্ষগুলো তাদের মতামত এবং প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

আগের সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্বভাবে ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করত, বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির উপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বিপিসি জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। বিইআরসি শুধু জেট ফুয়েলের গণশুনানি করে মে মাসে সেই দাম ঘোষণা করেছে এবং প্রতিমাসে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে এখনো নির্ধারণ হয়নি।

বিপিসি ২০১২ সালের পর বিইআরসির লাইসেন্স নবায়ন না করায় ফার্নেস অয়েলের দাম ঝুলে ছিল। এখন বিইআরসি গণশুনানি করে লাইসেন্স নবায়ন ও দাম নির্ধারণে এগোচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেশের ডিজেলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রধান ক্রেতা হলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশব্যাপী ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ মে. টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪.৮৭ শতাংশ স্থানীয় পরিশোধন থেকে এবং ৬৫.১৪ শতাংশ আমদানি করা হয়েছে।

২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে বিইআরসি গঠন করা হয়। আইন অনুযায়ী সব ধরণের জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষমতা থাকলেও কার্যত গ্যাস ও বিদ্যুতের দর নির্ধারণে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৩ সালে আগের সরকার আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম সমন্বয়ের সুযোগ যোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত কার্যহীন হয়ে পড়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই সংশোধনী বাতিল করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দর নির্ধারণের একক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছে।

এখনও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করা হয়। তবে ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানির জন্য এখনও প্রবিধানমালা ঝুলে রয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম. শামসুল আলম বলেন, “বিপিসি একই সঙ্গে বিক্রেতা ও দাম নির্ধারক, এতে জবাবদিহিতা নেই। গণশুনানিতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি উঠে আসে, যা ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে সহায়ক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রবিধানমালা না থাকায় অন্যান্য জ্বালানির দাম এখনো সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নীতিগত সমস্যার সৃষ্টি করছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রবাসীদের রেমিটেন্সে রেকর্ড বৃদ্ধি, বিকাশে পাঠানো টাকার আস্থা বেড়েছে

২০২৫ সালে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের প্রিয়জনদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। ৪১ লাখ বিকাশ ব্যবহারকারী এই অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বৈধ ও নিরাপদ পদ্ধতিতে, সঙ্গে সঙ্গে রেমিটেন্স পাঠানোর সুবিধা প্রদান করায় বিকাশ প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে বিশ্বাসের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে।

একই বছরে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি। এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রেমিটেন্সের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিকাশের মতো এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পৌঁছে যাওয়ায়, এটি আরও বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে প্রায় ১৭০টি দেশ থেকে প্রবাসীরা ১৩৫টি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও) ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে রেমিটেন্স পাঠাতে পারছেন। দেশে এসে এই অর্থ ২৭টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে সেটেলমেন্ট হয় এবং প্রতি হাজারে ২৫ টাকার সরকারি প্রণোদনা সমেত তা প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে।

রেমিটেন্সের হিসাব রাখা আরও সহজ করতে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘রেমিটেন্স স্টেটমেন্ট’ সেবা। এর মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা তাদের অ্যাকাউন্টে আসা রেমিটেন্সের বিবরণ দেখতে পারেন এবং প্রয়োজনে স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে পারেন, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক।

বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ শুধুমাত্র মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিং নয়, এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৫০০-এরও বেশি এটিএম বুথ ও স্থানীয় এজেন্ট পয়েন্ট থেকেও সহজে ক্যাশ আউট করা যায়। এটিএম বুথ থেকে প্রায় হাজারে মাত্র ৭ টাকায় গ্রাহকরা এই সুবিধা গ্রহণ করছেন।

এছাড়া, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রাপ্ত রেমিটেন্স দিয়ে তারা ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, শিক্ষা ফি প্রদান এবং দৈনন্দিন কেনাকাটার অর্থনৈতিক লেনদেনও করতে পারছেন, যা প্রবাসী অর্থ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং সহজতর করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৩৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দ্রুত শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে ফিরছে এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের পুলিশ প্লাজায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) আয়োজিত ‘সিস্টেমেটিক এফোর্টস টু আন্ডারস্ট্যান্ড ইকোনমিক পালস: ইমপোর্টেন্স অব পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর জানান, এক সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছালেও পরে তা কমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তার ভাষায়, অতীতে ঋণের অর্থ দিয়ে রিজার্ভ শক্তিশালী দেখানোর প্রবণতা ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অর্থ ছাড়াই বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় রিজার্ভ বাড়ানোর পথে রয়েছে। লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার।

তিনি আরও বলেন, মানি মার্কেট বর্তমানে তুলনামূলকভাবে স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। চলতি জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনেই রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রায় ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারকে স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখা।

পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই নিয়ে গভর্নর বলেন, অর্থনীতির বাস্তব চিত্র বুঝতে রিয়েল টাইম ডাটা অত্যন্ত জরুরি। এই কাজকে অনেক সহজ করেছে পিএমআই সূচক। বাংলাদেশে এটি নতুন হলেও তিনি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার মতে, এই সূচক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার ও ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে আরও বিনিয়োগ বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি বিশ্লেষণে পিএমআই একটি কার্যকর সূচক। বাংলাদেশেও এটি অর্থনীতির সক্ষমতা ও প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং সরকারকে ভবিষ্যৎ নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করছে।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, সূচকের মাধ্যমে যে কোনো দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা সহজে বোঝা যায়। পিএমআইয়ের ডাটা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাচ্ছেন, যা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে সহায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এমসিসিআই ও পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে প্রতি মাসে পিএমআই সূচক প্রকাশ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের সামগ্রিক পিএমআই মান দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ২, যা নভেম্বর মাসে ছিল ৫৪। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে, যদিও গতি তুলনামূলকভাবে মাঝারি।

ডিসেম্বর মাসে কৃষি খাতের পিএমআই সূচক ছিল ৫৯ দশমিক ৬, উৎপাদন খাতে ৫৮ দশমিক ২, সেবা খাতে ৫১ দশমিক ৮। তবে নির্মাণ খাতে সূচক নেমে এসেছে ৪৯ দশমিক ৮-এ, যা খাতটির সাময়িক সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। সূচকের মান ৫০-এর ওপরে থাকলে সম্প্রসারণ এবং ৫০-এর নিচে থাকলে সংকোচন বোঝানো হয়।

সার্বিকভাবে আলোচনায় উঠে আসে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে এবং রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও বিনিয়োগ প্রবাহ ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম