২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি বিবেচনায় এনইসি বৈঠক আজ

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদনের লক্ষ্যে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ও এনইসি চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তাবিত এডিপির মধ্যে সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে ৮৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন যোগ হলে সামগ্রিক এডিপির আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭১ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, এবারের খসড়া এডিপির আকার চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বা ৬.৪৮ শতাংশ বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল এডিপি ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা পরে সংশোধিত হয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায়।

নতুন এডিপিতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৯৭৩ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপরে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি (৩২,৩৯২.২৬ কোটি), শিক্ষা (২৮,৫৫৭.৪৩ কোটি), গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা (২২,৭৭৬.৪০ কোটি), ও স্বাস্থ্য খাত (১৮,১৪৮.১৪ কোটি টাকা)। এই পাঁচটি খাত মিলে বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।

শীর্ষ ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • স্থানীয় সরকার বিভাগ: ৩৬,০৯৯ কোটি টাকা
  • সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ: ৩২,৩২৯.৫৭ কোটি টাকা
  • বিদ্যুৎ বিভাগ: ২০,২৮৩.৬২ কোটি টাকা
  • মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ: ১৩,৬২৫.৩ কোটি টাকা
  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: ১২,১৫৪.৫৩ কোটি টাকা
  • স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ: ১১,৬১৭.১৭ কোটি টাকা
  • প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়: ১১,৩৯৮.১৬ কোটি টাকা
  • নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়: ৯,৩৮৭.৬২ কোটি টাকা
  • পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়: ৮,৪৮৯.৮৬ কোটি টাকা
  • রেলপথ মন্ত্রণালয়: ৭,৭১৪.৯৯ কোটি টাকা

নতুন এডিপিতে মোট ১,১৭০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকছে। এর মধ্যে ৯৯২টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ১৯টি সম্ভাব্যতা যাচাই, ৯৯টি কারিগরি সহায়তা এবং ৬০টি সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি পিপিপি পদ্ধতিতে ৭৯টি প্রকল্প এবং জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের আওতায় ২২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এছাড়া, ২৫৪টি প্রকল্পকে আবশ্যিকভাবে সমাপ্ত করার লক্ষ্যও নতুন এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এডিপি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা ভাতা দেওয়ার সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ‘মহার্ঘ ভাতা’ সংস্থানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে গত ডিসেম্বরে সাত সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি পর্যালোচনা শেষে গ্রেডভিত্তিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ ভাতা দেওয়ার সুপারিশ করে। তখন সরকার পিছিয়ে এলে এখন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ভাতা দিলে আগামী অর্থবছরে বাড়তি কত খরচ হবে, সেই হিসাব-নিকাশও কষছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী সপ্তাহে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বৈঠক হবে। সেখানে অর্থ উপদেষ্টা জনপ্রশাসন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান হিসেবে বিষয়টি তুলে ধরবেন। ইতোমধ্যে বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ।

সূত্র বলছে, যদি প্রস্তাব অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা ঘোষণা হয়, তাহলে সরকারি চাকরিজীবীরা বাড়তি ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন না।

জানা গেছে, অর্থ বিভাগের খসড়ায় ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মচারীদের ১০ বা ১৫ শতাংশ হারে ভাতা দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাবও রয়েছে। প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০ শতাংশ দেওয়া হলে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে ১৫ শতাংশ দেওয়া হলে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ ছিল ৮২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত সরকারের আমলে বৈষম্যের শিকার চাকরিজীবীদের কয়েক দফায় পদোন্নতি দেওয়ায় সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বেড়ে ৮৪ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

গত জানুয়ারি থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মহার্ঘ ভাতা কার্যকরের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। সে অনুযায়ী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংকটকালীন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এ উদ্যোগের সামালোচনা করেন অর্থনীতিবিদরা। এমন প্রেক্ষপটে তখন মহার্ঘ ভাতা দেওয়া থেকে সরকার সরে এলেও এখন নতুন করে আবারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৩০ হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর সৌদির




আইএমএফের দুই কিস্তি ছাড়, জুনেই মিলবে ১.৩ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যেই বাংলাদেশকে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির সম্মিলিত অর্থ ছাড় করবে। মোট ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়ের এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে আইএমএফ ও সরকারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা হয়। উভয়পক্ষ রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, মুদ্রা বিনিময় হার, ও অন্যান্য কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর ফলে আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুটি কিস্তির অর্থ একসঙ্গে ছাড় করার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

চতুর্থ রিভিউ উপলক্ষে গত এপ্রিলে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরপর ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ব্যাংক-ফান্ড সভাতেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। উল্লিখিত রিভিউয়ের ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় এখন চূড়ান্তভাবে জুন মাসেই উভয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

শুধু আইএমএফ নয়, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর দিক থেকেও বাংলাদেশ বড় অঙ্কের বাজেট সহায়তা পাচ্ছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ব ব্যাংক, এডিবি (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক), এআইআইবি (এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক), জাপান এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের কাছ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অর্থও জুন মাসের মধ্যেই দেশে আসতে পারে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।

এই বাজেট সহায়তা দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর চাপ কমবে এবং স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে টাকার মান ধরে রাখা এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সহজ হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাজেট সহায়তা পাওয়ার জন্য যেসব সংস্কারমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে প্রণীত এবং সরকারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা এসব ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কারিগরি সহায়তা প্রদান পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ কোনো সংস্কারই বাইরের চাপ নয়, বরং তা দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য গৃহীত নিজস্ব পদক্ষেপ।

সামগ্রিকভাবে আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছ থেকে সহায়তা প্রাপ্তি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিতকে আরও মজবুত করবে। ফলে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশ আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডলারের দাম ঠিক করবে ‘বাজার’: গভর্নর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দুবাই থেকে অনলাইনে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরবলেন,  মার্কিন ডলারের দাম এখন থেকে ‘বাজার’ ঠিক করবে,  ‘আশা করছি, দাম এখনকার দামের আশপাশে থাকবে।’

ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশের দর–কষাকষি চলছিল। মূলত সে কারণে আইএমএফ ঋণের কিস্তি ছাড় করছিল না। এর মধ্যে গতকাল জানা যায়, বাংলাদেশ ডলারের বিনিময় আরও নমনীয় করতে রাজি হয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে চলমান ৪৭০ কোটি ডলারে ঋণের দুটি কিস্তি একসঙ্গে ছাড় করতে রাজি হয়েছে আইএমএফ। এরপর আজ গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডলারের বিনিময় হার এখন থেকে ‘বাজার’ ঠিক করবে।

সংবাদ সম্মেলনে আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার এখন ভালো সময়। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘এখন প্রবাসী আয় ভালো আসছে, রিজার্ভও স্থিতিশীল, উন্নতি হয়েছে লেনদেন ভারসাম্যের। আগামী জুন মাসের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলার আসবে। এতে রিজার্ভ আরও বাড়বে। ফলে বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার এটাই ভালো সময়।’

জানা যায়, আজ সকালে বাংকগুলোকে বাজারভিত্তিক দামে লেনদেন করতে বলা হয়েছে। তবে এখনকার দামের সঙ্গে যেন খুব বেশি পার্থক্য না হয়, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।




দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব অনেক : প্রধান উপদেষ্টা




অধ্যাদেশ জারি, এনবিআর ভেঙে হলো দুই বিভাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করে সংশোধন ছাড়াই বহুল আলোচিত রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ সোমবার রাতে জারি করা হয়েছে। জারি করা অধ্যাদেশে শুধুমাত্র রাজস্ব নীতি বিভাগের কার্যপরিধিতে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রশাসনিক পদগুলোতে অ্যাডমিন ক্যাডার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।

গেজেট জারির পর নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক আয়কর ও কাস্টমস কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায়  বলেন, এ অধ্যাদেশ জারির মধ্য দিয়ে কর ও কাস্টমস ক্যাডারের অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া এ অধ্যাদেশের আরেকটি ভালো দিক হলো- কর ক্যাডার কর্মকর্তারা শাসিত হবেন কর ক্যাডারের দ্বারা এবং শুল্ক ক্যাডার কর্মকর্তারা শাসিত হবেন শুল্ক ক্যাডার কর্মকর্তাদের দ্বারা।

অধ্যাদেশের খসড়া পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রয়োগ ও কর আদায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পরিবীক্ষণ করবে। আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রশাসনিক অনুবিভাগের বিভিন্ন পদ অ্যাডমিন ক্যাডার ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মরত কর্মচারীদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

জারি করা অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, রাজস্ব নীতি বিভাগ কর আইন প্রয়োগ এবং কর আহরণ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। অর্থাৎ ‘পরিবীক্ষণ’ শব্দের পরিবর্তে ‘মূল্যায়ন’ শব্দটি যোগ করা হয়েছে। আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে প্রশাসনিক অনুবিভাগের বিভিন্ন পদ অ্যাডমিন ক্যাডারের পাশাপাশি আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মচারীদের মাধ্যমে পূরণ করা হবে।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনবল রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগে ন্যস্ত হবে। এই জনবল থেকে প্রয়োজনীয় জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে পদায়ন করা যাবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত হয়ে তার জনবল রাজস্ব নীতি বিভাগে ন্যস্ত হবে।

এদিকে এনবিআর বিলুপ্তির প্রতিবাদে সোমবার দিনভর আগারগাঁও রাজস্ব ভবনে বিক্ষোভ করেছে পাঁচ শতাধিক আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং ঢাকার বিভিন্ন কর অঞ্চল, কাস্টমস হাউস ও ভ্যাট কমিশনারেটে কর্মরত তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক করেন বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ‍এতে কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আজ মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে রাজস্ব ভবনের সামনে বিসিএস আয়কর ও কাস্টমস ক্যাডারের কর্মকর্তা, নন-ক্যাডার কর্মকর্তা, তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সমন্বয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে।




ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: বাস্তবায়নে শঙ্কা, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশ্বাস

সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে এবং শিগগিরই রাষ্ট্রপতির অনুমতির পর এটি কার্যকর হবে। নতুন এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমাধান করা, তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু উদ্বেগ এবং শঙ্কা রয়েছে ব্যাংক খাতের মধ্যে।

এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ, অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ, শেয়ার ও সম্পদ হস্তান্তরের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হবে। যদি ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতা ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও থাকবে।

ব্যাংক খাতের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, যদি এই আইনটির অপব্যবহার করা হয়, তবে ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। ব্যাংকগুলোর আশঙ্কা যে, মালিকানা জোর করে নেওয়া হলে পুরো খাত ঝুঁকির মুখে পড়বে, বিশেষত যদি রাজনৈতিক প্রভাব এই আইনের বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করে।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘এটি ব্যাংক খাতের জন্য একটি প্রয়োজনীয় আইন, তবে সঠিক বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।’ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ‘এটি সরকারের উদ্যোগ, তবে প্রয়োগের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি ব্যাংক খাতের উন্নতির জন্য সহায়ক হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা এই আইনের অপব্যবহার প্রতিরোধে সতর্ক থাকবে এবং এটি শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য তৈরি। সুতরাং, শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর জন্য এটি কোন সমস্যা সৃষ্টি করবে না। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ বিভাগ খোলার পরিকল্পনা করেছে এবং ব্যাংক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। সরকারের পাশাপাশি, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক থেকে তহবিল নেয়া হবে, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কাজে লাগানো হবে।

তবে, এই আইনটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি আশা করা হচ্ছে, তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োগের ওপর।

 

আল-আমিন



মে মাসে রেমিট্যান্সে উৎসাহজনক প্রবাহ

২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম দশ দিনেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আশাজাগানিয়া মাত্রায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে এসেছে ৯০ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। দৈনিক গড় হিসেবে দেশে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ৩ লাখ ডলার, যা অর্থনীতির জন্য বেশ ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

রেমিট্যান্সের উৎস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—

  • বিশেষায়িত ব্যাংক থেকে এসেছে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার ডলার,
  • বেসরকারি ব্যাংক থেকে এসেছে ৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার,
  • বিদেশি ব্যাংক থেকে এসেছে ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার,
  • এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক থেকে এসেছে ২৭ কোটি ৯০ হাজার ডলার।

গত এপ্রিল মাসেও দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, যা ছিল ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ ডলার। আর মার্চ মাসে এসেছে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স—৩২৮ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।

প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে মার্চের রেমিট্যান্সের দেশীয় মুদ্রায় পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

 

আল-আমিন

 




স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় রকমের পরিবর্তন এসেছে। সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ১৩৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৩ টাকা।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (১২ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এই নতুন মূল্যহার মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

বাজুসের ভাষ্যমতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল্য পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে।

নতুন তালিকায় দেখা যায়, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৯ টাকা।

তবে মনে রাখতে হবে, বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫% ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬% মজুরি যোগ করতে হবে। গহনার ধরন ও ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি পরিবর্তন হতে পারে।

এর আগেও ১০ মে বাজুস স্বর্ণের মূল্য পুনর্মূল্যায়ন করেছিল, তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬১ টাকা।

 

আল-আমিন